০২. কথাটা বেশ নাড়া দিল

কথাটা বেশ নাড়া দিল অর্জুনকে। সত্যি তো, বেশি বয়সের রবীন্দ্রনাথকে দাড়ি কামানো অবস্থায় দেখলে কি চেনা যেত? বিদ্যাসাগর মশাইয়ের মাথায় হঠাৎ চুল গজিয়ে গেলে অথবা মাইকেল মধুসূদন দত্তের মাথায় ইয়া বড়া টাক গজালে এবং মুখে দাঁড়ি না থাকলে কী কাণ্ডই না হত। অনেক দিন ধরে কোনও মানুষকে যেভাবে আমরা দেখে এসেছি, তার সামান্য ব্যতিক্রম ঘটলে হিসেব পাল্টে যায়। গোয়েন্দারা যে ছদ্মবেশ ধরেন তা অপরাধীকে ভুল ভাবানোর জন্য, কিন্তু সেটা শুধুই ছদ্মবেশ। কিন্তু কারও চেহারা একটু হেরফেরে আপনা-আপনি যে আমূল পালটে যেতে পারে, তা তো মাথায় আসেনি। এই যেমন মেজর। মোটাসোটা, কুঁড়িওয়ালা চেহারায় সবসময় মুখভর্তি দাড়ি আর হাতে পাইপ, ওঁকে যদি ধুতি-পাঞ্জাবি পরিয়ে দাড়ি কেটে দেওয়া যায়, তাহলে উনি সম্ভবত নিজেকেই চিনতে পারবেন না।

অমলদার বাড়ি থেকে বেরিয়ে অর্জুন তার লাল মোটর বাইক চালিয়ে বাবুপাড়ার দিকে যেতে যেতে এইসব কথা ভেবে নিজের মনেই হেসে ফেলল। কোনও কুখ্যাত অপরাধী ছদ্মবেশের সাহায্য না নিয়ে দাড়ি কামিয়ে টাক গজিয়েও নিজেকে নিশ্চিন্ত আড়ালে রাখতে পারে। টাকে চুল গজাবার ওষুধ এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি, কিন্তু মাথা ভর্তি চুল খসিয়ে টাক ফেলতে তো কোনও অসুবিধে নেই।

করলা ব্রিজ পার হওয়ার সময় সে লোকটাকে দেখতে পেল। দুটো খাঁচায় পাখি ভর্তি করে বাঁশে ঝুলিয়ে কাঁধে নিয়ে চলেছে। এখন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পাখি-শিকার এবং তা নিয়ে ব্যবসা করা সম্পূর্ণ বেআইনি। লোকটা হাঁটছে হনহনিয়ে। অর্জুন একেবারে সামনে নিয়ে বাইকটাকে দাঁড় করাতেই লোকটা রেগে গেল, কী ব্যাপার?

পাখি বিক্রি করবে?

তা তো নিশ্চয়ই। নইলে এত কষ্ট করে আসতে যাব কেন?

কী কী পাখি আছে?

আপনি পাখি চেনেন? ময়না টিয়া আমি বিক্রি করি না।

অর্জুন সেটা লক্ষ করেছে। লোকটার খাঁচায় কোনও চেনা পাখি নেই। সে জিজ্ঞেস করল, তোমার খাঁচার পাখিগুলো বেশ নতুন। আগে কখনও দেখিনি। কোখেকে ধরেছ?

লোকটা অসহিষ্ণু গলায় বলল, বাবু, আমাকে ছেড়ে দিন। গল্প করার সময় আমার নেই। এমনিতেই খুব দেরি হয়ে গিয়েছে।

কিন্তু ভাই, তোমাকে যে আমার সঙ্গে থানায় যেতে হবে। অর্জুন গভীর গলায় বলল।

কেন ঝামেলা করছেন? থানায় নিয়ে গেলে আমি দুদিন পরে ছাড়া পেয়ে যাব কিন্তু এই পাখিগুলো বাঁচবে না। এরা কী খায় তা পুলিশ জানে না, জানলেও যত্ন করে খাওয়ানোর সময় কোথায় তাদের? আপনি যদি এদের মেরে ফেলতে চান, তা হলে থানায় নিয়ে চলুন।

লোকটার কথা বলার মুনশিয়ানা চমকপ্রদ। অর্জুন বুঝল কথাগুলোয় যুক্তির অভাব নেই। সে বলল, তুমি অন্যায় করছ, ফের ভয়ও দেখাচ্ছ?

না বাবু, আমি তো কোনও ভয় দেখাইনি।

তুমি কোথায় বিক্রি করবে এদের?

একজন স্টেশনের সামনে আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে। তাকে জিম্মা করে দিলেই সে আমাকে দাম মিটিয়ে দেবে। এর বেশি কিছু জানিনা আমি।

সেই লোকটি পাইকার হলে কাকে বিক্রি করছে সে?

সে-খবর আমাকে বলবে কেন?

পাখিগুলো ধরেছ কোথায়?

নীলগিরি জঙ্গলে। বাবু এবার চলি।

নীলগিরির জঙ্গল তো অনেকদূর। ওখানে পাখি ধরে তুমি এতটা পথ। হেঁটে আসছ?

পাগল। এতটা পথ কি হাঁটা যায়। লরির মাথায় চেপে এসেছি। বাইপাসের কাছে নেমে গিয়ে শহরে ঢুকেছি। জলপাই মোড়ে নামলে হাঁটতে কম হত কিন্তু ওখানে পুলিশ থাকে। আচ্ছা, নমস্কার। লোকটি পাশ কাটিয়ে হনহন করে চলতে লাগল পাখির খাঁচা লটকানো বাঁশ কাঁধে নিয়ে।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন চালু হবার পরও ড়ুয়ার্সের মানুষ পাখিকে বন্যপ্রাণী বলে মনে করে না। বাঘ গণ্ডার হরিণ শিকার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। চোরাশিকারিদের সঙ্গে বনবিভাগের সংঘাত হয় অবশ্য কিন্তু ইদানীং কালেভদ্রে তেমন ঘটনা ঘটে। কিন্তু পাখি অথবা ক্ষুদ্র প্রাণীদের যেমন খরগোশ অথবা সাপকে বন্যপ্রাণী হিসেবে ড়ুয়ার্সের মানুষ এখনও ভাবে না। জানতে পারলে বনবিভাগ বাধা দেয়, কিন্তু সেটা তেমন জোরালো নয়।

অর্জুনের মনে হল লোকটাকে অনুসরণ করলে ওর পাইকারকে ধরা যেত। ওই লোকটা ওইরকম অচেনা পাখি কাকে বিক্রি করে তা জানলে বনবিভাগ উপকৃত হত। কিন্তু সে বাবুপাড়ায় এসেছে যে কাজের জন্য, তা অনেক জরুরি।

জলপাইগুড়ি শহরের যে কোনও মানুষ এস.পি.রায়ের বাড়ি চেনে। এই মানুষটি দীর্ঘকাল ধরে শহরের মানুষের নানা উপকারে সময় এবং অর্থ দিয়েছেন। বাল্যকালে অর্জুন তাঁকে দেখেছিল। রায় সাহেব মারা যাওয়ার পর ওঁর ছেলে এপি একই রকম জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। চা-শিল্পের সঙ্গে জড়িত রায়-পরিবার প্রভূত বিত্তশালী কিন্তু তাঁদের বাড়িঘরের চেহারায় যে আটপৌরে ভাব তা শহরের মানুষকে বিস্মিত করে। বাইক থেকে নেমে অর্জুন দেখল এপিদা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে সন্তুদের সঙ্গে গল্প করছেন। ওকে দেখতে পেয়ে এপিদা হাত তুললেন, এসো অর্জুন।

এপিদার বয়স মধ্য পঞ্চাশ। স্বাস্থ্য ভাল। সকালবেলায় সুট টাই পরে দাঁড়িয়ে আছেন। অর্জুন তাঁকে বলল, অমলদা গতকাল ফিরে এসেছেন। উনি আমাকে আপনার কাছে পাঠালেন।

ও তাই নাকি? অমলবাবু ফিরে এলেন শেষ পর্যন্ত। ভাল খবর। তা কী ব্যাপার?

উনি কয়েকদিনের জন্য হাসিমারা অঞ্চলে থাকতে চান। আপনাদের তো চা বাগান আছে ওদিকে। যদি অসুবিধে না হয়।

কিসের অসুবিধে? উনি যাবেন, এটা তো আমাদের গর্বের বিষয়। কিন্তু ভাই, আমার নিয়ন্ত্রণে যে বাগানগুলো, তা এদিকে। ঠিক আছে, সন্তু কথা বলে রাখবে। ওপারে মধুবাগান আছে, আমার ভাইয়ের, অসুবিধে হবে না কোনও। হ্যামিলটনেও ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আমি এখনই বাগডোগরায় যাচ্ছি কলকাতার প্লেন ধরব বলে, না গেলে সঙ্গে যেতাম। সন্তু, তুমি সব ব্যবস্থা করে দিয়ো। এ পি রায় ঘড়ি দেখলেন।

সন্তুদা মাথা নাড়লেন, কোনও চিন্তা নেই, ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

 

কথাবার্তা পাকা করে অর্জুন বাড়ি ফিরছিল, হঠাৎ সেই পাখিওয়ালার কথা মনে এল। সে বাইক ঘুরিয়ে দুমিনিটের মধ্যে স্টেশনে চলে এল। ইদানীং তিস্তা-তোস ট্রেনের দৌলতে জলপাইগুড়ি স্টেশনের চেহারা সামান্য ফিরেছে। রোড স্টেশন হয়ে যাওয়ার পর অবহেলার ছাপ প্রকট হচ্ছিল। ঝুপড়ি দোকান, রিকশার ভিড় সত্ত্বেও দেখতে অসুবিধে হচ্ছিল না অর্জুনের। কিন্তু পাখিওয়ালা বা তার খাঁচা-দুটোকে দেখতে পেল না। লোকটা এত তাড়াতাড়ি হাওয়া হয়ে গেল? সে বাইক নিয়ে দুবার পাক দিতেই একটা চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে লোকটাকে বসে থাকতে দেখল। বাইক থেকে নেমে দোকানে ঢোকার সময় সে লক্ষ করল খাঁচা দুটো নেই।

গেলাসের চায়ে বিস্কুট ভিজিয়ে রাম করে খাচ্ছিল লোকটা, অর্জুন গিয়ে পাশে বসতেই চমকে উঠল। অর্জুন জিজ্ঞেস করল, বিক্রি হয়ে গিয়েছে?

বাধ্য হয়ে স্বীকার করল লোকটা, হ্যাঁ।

কে কিনল?

আমি কি সব খদ্দেরের নাম জেনে বসে আছি।

যে খদ্দের তোমাকে এখানে পাখি নিয়ে আসতে বলেছে, তার নাম জানবে না!

হঠাৎ লোকটা সোজা হয়ে বলল, আপনার মতলব কী বলুন তো বাবু?

অর্জুন হাসল, তুমি যে পাখি ধরে এনেছ, তা কেউ বাড়িতে পোষে না। যে কিনেছে তার উদ্দেশ্য কী, সেটা আমি জানতে চাইছি।

জেনে কী করবেন? আপনি কি পুলিশ?

না। তবে পুলিশের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভাল। তুমি জানো পাখি ধরে নিয়ে এসে বিক্রি করা বেআইনি। আর ওই সব বিরল জাতের পাখি যদি তুমি ধরে শেষ করে দাও, তার জন্য কী শাস্তি হতে পারে তা নিশ্চয়ই জানো।

অর্জুন গম্ভীর হল।

লোকটা চা শেষ করে বিড়ি ধরাল, এর মধ্যে চার বার থানায় রাত কাটিয়েছি আমি। কোনও বার অবশ্য জেল হয়নি। পাখি ধরার কেস তৈরি করতে পুলিশ সময় পায়নি।

বাঃ, চমৎকার। অর্জুন না বলে পারল না।

লোকটি মাথা নাড়ল, আপনারা শহরের বাবুরা আমাদের পেটের জ্বালা বুঝবেন না। আমি জঙ্গলের ধারে থাকি। সেখানে কোনও কাজকর্ম নেই। আমার বউ-বাচ্চাকে দু বেলা ভাত দিতে পারি না। জঙ্গলের গাছ কাটা নিষেধ, তো কাটা হয় না। একমাত্র পাখি ধরার কায়দাটাই ভাল জানি। তাই ধরে আনলে যদি ওদের দু বেলা ভাতের ব্যবস্থা হয়, তাহলে জেলে গেলেও সেটা আমাকে করতে হবে বাবু।

অর্জুন বলল, তুমি অন্যায় করে সাফাই গাইছ। অন্য কাজকর্ম করো না কেন? ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট তো ক্যাজুয়াল লোক নেয়। শ্রমিকের কাজও তো করতে পারো।

ঠিক আছে, আপনি আমাকে ফরেস্ট ডিপার্টের কাজ পাইয়ে দিন, আমি এসব করব না।

অর্জুন ভাবল। এই চেষ্টাই করা যেতে পারে। এই জেলার ফরেষ্ট অফিসারের সঙ্গে তার পরিচয় আছে। ভদ্রলোককে অনুরোধ করলে উনি নিশ্চয়ই রেঞ্জারকে বলে দেবেন একে একটা কাজ দিতে। সে জিজ্ঞাসা করল, তোমার নাম কী?

সুন্দর রায়।

সুন্দর! বাঃ, চমৎকার নাম। এত সুন্দর নামের মানুষ কখনও পাখি ধরে?

কথাটা শোনামাত্র লোকটার মুখ কীরকম হয়ে গেল। চোখ বন্ধ করে গাঢ় গলায় বলল, বিশ্বাস করুন বাবু, একটুও ইচ্ছে হয় না। পাখিগুলো ধরা পড়ার পর যখন ডানা ঝাপটায়, তখন বুকের ভেতরটা কীরকম করে।

তবু তোমাকে ধরতে হচ্ছে?

হ্যাঁ বাবু। টাকার লোভ বড় মারাত্মক। একটা টিয়া কিংবা ময়নার বাচ্চা ধরলে দশ পাওয়া যায়। কিন্তু এই পাখিগুলোর জন্য তিরিশ পাই। আজ প্রায় কুড়িটা এনেছি। ছয়শো পেয়েছি নগদ। মাসে দুবার। পেটে ভাত পড়লে বুকের কষ্ট মনে থাকে না।

কিন্তু এই পাখিগুলোর দাম বেশি কেন?

জানি না বাবু। দিব্যি দিয়ে বলছি। তবে শুনেছি, এদের মাংস সেদ্ধ করে খেলে কলজের জোর বাড়ে, বাতের ব্যথা কমে যায়।

তার মানে ওই পাখিগুলোর প্রত্যেকটাকে মেরে ফেলা হবে।

লোকটা ঠোট কামড়াল। মাথা নিচু করল।

সুন্দর, তোমার বাড়ি কোথায়?

জলদাপাড়া ফরেস্ট ছাড়িয়ে সুহাসিনী বাগানের দিকে যেতে যে জঙ্গলটা, তার গায়ে। ওখানে পার্বতী দিদিমণি আছেন—যিনি হাতি পোষ মানান। তিনি আমাকে চেনেন।

তোমাকে আবার কবে এখানে পাখি নিয়ে আসতে বলা হয়েছে?

সামনের অমাবস্যা। পূর্ণিমা আর অমাবস্যায় আসতে হয়।

তুমি চাকরি পেলে এসব ছেড়ে দেবে তো?

জল্পেশ্বরের দিব্যি, কক্ষনো করব না।

তুমি আমার সঙ্গে চলো।

জলপাইগুড়ির ডি এফ ও অফিসে গিয়ে বড়কর্তার দেখা পেল অর্জুন। ভদ্রলোক প্রবীণ এবং সহজ মানুষ। অর্জুন সুন্দরের পরিচয় দিল, এই লোকটা পাখি চুরি করে বিক্রি করে পেটের তাগিদে, আপনি যদি ওকে মাঝে মাঝে আপনার ডিপার্টমেন্টের ঠিকে কাজ দেন, তাহলে চুরিটা বন্ধ হয়—ওর পরিবারও বাঁচে।

পাখি চুরি করে বিক্রি করে? এ তো কালপ্রিট।

ঠিকই। কিন্তু এখনও শাস্তি হয়নি বলে ওকে যদি সুযোগ দেন।

কী বলছেন? জেনেশুনে একজন চোরকে কেউ আর ঢোকায়?

ওকে একটা সুযোগ দিন, দেখবেন ও পালটে যাবে।

ডি এফ ও যেন বাধ্য হয়ে বললেন, ঠিক আছে, ওকে রেঞ্জারের সঙ্গে দেখা করতে বলবেন। তিনি যদি উপযুক্ত মনে করেন, তা হলে আমার আপত্তি নেই।

বাইরে বেরিয়ে এসে সুন্দর বলল, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ বাবু, কিন্তু আমাকে ওরা কাজ দেবে না। এ পৃথিবীতে একবার খারাপ হলে আর ভাল হবার সুযোগ পাওয়া যায় না। আমার কপালে যা লেখা আছে—তা কে খণ্ডাবে।

তবু তুমি রেঞ্জার সাহেবের কাছে যাও। আচ্ছা, দাঁড়াও, আমরা কাল বাদে পরশু তোমার ওদিকেই যাচ্ছি। তখন আমি তোমাকে নিয়ে রেঞ্জারের কাছে যাব। কিন্তু তুমি কথা দাও, তার আগে আর পাখি ধরবে না। অর্জুন বলল।

সুন্দর বলল, জল্পেশ্বরের দিব্যি দিয়েছি, কথার খেলাপ হবে না। আমি যদি সৎ পথে বেঁচে থাকতে পারি, তা হলে চুরিচামারি করতে যাব কেন?

 

সন্তুদা বলেছিলেন, দরকার হলে গাড়ি দিতে পারেন চা বাগানে যাওয়ার জন্য। ড়ুয়ার্সে এখন প্রচুর মিনিবাস এবং বাস চালু হলেও নিজস্ব গাড়ি থাকলে সময় কম লাগে। অমল সোম বললেন, আমরা বাসে যাব।

বাস! মেজর আঁতকে উঠলেন, গাড়ি যখন পাওয়া যাচ্ছে, তখন বাসে কেন? এখানকার বাসে তো দাঁড়ালেও সোজা হয়ে থাকা যায় না।

অমলদা হাসলেন, ওই অভিজ্ঞতাটুকু আপনার হোক। পৃথিবীর অনেক বিরল জিনিস আপনি দেখেছেন, কিন্তু পশ্চিমবাংলার মানুষ কী কসরত করে বাসে যাতায়াত করেন তা নিশ্চয়ই জানেন না। অবশ্য ইচ্ছে হলে আপনি

অর্জুনের বাইকে চেপে যেতে পারেন, আমি বাসে যাব।

অর্জুন শুনছিল, আমি বাইক নেব?

অবশ্যই। কখন ওটা কী প্রয়োজনে লাগবে, কে জানে?

মেজর ঠিক করলেন তিনি বাইকেই যাবেন। চা বাগানগুলোর গেস্ট হাউসে সবই পাওয়া যায় অতএব লাগেজ বেশি নিতে হবে না। কিন্তু অমলদা বাসে যাবেন শোনার পর অস্বস্তি হচ্ছিল অর্জুনের। অমলদা সেটা পরিষ্কার করলেন, গাড়ি করে যেতে চাই না কারণ ওখানকার মানুষ ভাববে আমরা বেশ দরের লোক। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ওপর নজর পড়বে। এটা আমি চাই না।

মেজরের বিপুল শরীর নিয়ে তার বাইক কতদূর ঠিকঠাক যেতে পারবে, তাই ভেবে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল অর্জুন।