৫. জাতিকে আমি কী দিতে পারি?

৫. জাতিকে আমি কী দিতে পারি?

স্বপ্নই জাতিকে উন্নীত করে

দেশকে আমি কী দিতে পারি? অন্যান্য দেশের মধ্যে আমার দেশকে সম্মান এবং শ্রদ্ধা দিতে পারি। আমার একলক্ষ কোটি দেশবাসী ভাই-বোনের মুখে হাসি ফোটাতে পারি। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার মাধ্যমে তা সম্ভব। আত্মসম্মান অর্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষা হল সর্বপ্রধান। নিবেদনের অভ্যাসের বদ্ধমূল সংস্কার উন্নয়নের মূলস্রোতে আমাদের দেশবাসীকে নিয়ে আসবে।

স্বাধীনতা দিবস এবং প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে ভারতের রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবার সম্মান লাভ করেন। এই দুই উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্দিষ্ট পর্বে দেশের উন্নয়ন এবং উন্নয়নকালীন পর্বে যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয় তা জ্ঞাপন করেন।

অভিভাষণ প্রথমে ইংরেজিতে দেওয়া হয়, তারপর হিন্দিতে। ব্যতিক্রম হিসেবে আমি অভিভাষণের শুরুতে শুভেচ্ছা জানাতাম এবং বক্তৃতার একটা সংক্ষিপ্তসার হিন্দিতে বলতাম।

আমি যখন রাষ্ট্রপতি হলাম তখন হিন্দি ভাষায় আমার জ্ঞান খুব সামান্য ছিল। যদিও আমি উপলব্ধি করতাম হিন্দি ভাষায় প্রারম্ভিক জ্ঞানের সাহায্যে বৃহদাংশ শ্রোতার কাছে অন্ততপক্ষে ভাষণের সৌরভ তো পৌঁছনো সম্ভব।

প্রজাতন্ত্র দিবসের ভাষণের একটা নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু থাকে। সাধারণত এর প্রস্তুতি বেশ কিছুদিন আগে থেকে নেওয়া হয়। প্রথমে আমরা বিষয় নির্বাচন করি তারপর বিভিন্ন বিভাগ থেকে তথ্যসংগ্রহ এবং ওই বিষয়ে আন্তর্জাতিক চিত্রটা বোঝার চেষ্টা করি। আমরা বিশেষজ্ঞদের কাজে এক-একটা প্রশ্নাবলি পাঠিয়ে তারপর তথ্যগুলো একত্রিত করতাম। ভাষণের অসংখ্য খসড়া তৈরি হত, দশটা বা তার বেশি খসড়া কোনও অসম্ভব ঘটনা ছিল না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০০৪ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের বিষয় ছিল-‘একশো কোটি মানুষের মুখে হাসি’-এর প্রায় দশটা খসড়া হয়েছিল। মূল্যবোধ ছিল এর উদ্দেশ্য। ২০০৫-এর ১৪ অগস্টের বিষয়বস্তু ছিল শক্তিক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা। পনেরোটি খসড়ার মধ্যে দিয়ে ভাষণটি তৈরি হয়েছিল। সর্বাধিকসংখ্যক খসড়া তৈরি হয়েছিল ২০০৭ সালের ২৫ এপ্রিল ইউরোপীয় পার্লামেন্টে আমার ভাষণ তৈরি করতে গিয়ে। ৩১টি খসড়ার মধ্য দিয়ে এ ভাষণ তৈরি হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি মেয়াদকালীন আমি দশটা ভাষণ দিয়েছি। প্রতিটি ভাষণের বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেগুলো ছিল স্বপ্নকে লক্ষ্যে রূপান্তর করার বক্তৃতা। আরও অনেক বিষয়বস্তু ছিল যার জন্য আমাদের মনে রাখা উচিত: মানবজীবনে আত্মসম্মানের জন্য শিক্ষা; কর্মনিয়োগ সংঘটনে এক কর্মপ্রক্রিয়া পরিকল্পনা; একশো কোটি দেশবাসী: এক দর্শন; জাতীয় জাগরণ এবং আমি আমার দেশকে কী দিতে পারি। সমস্ত বিষয়গুলি ভারতবর্ষকে এক উন্নত দেশে রূপান্তরিত করার সাধারণ ভাবনা থেকে উদ্ভূত হয়েছে। এই বার্তা দেশের নাগরিক ও পেশাদারদের কাছে ছড়িয়ে গিয়ে নিজেদের ক্ষেত্রে বিতর্ক তুলেছে এবং সক্রিয় করেছে। উদাহরণস্বরূপ বলা চলে, কর্মনিয়োগ সৃষ্টি করতে যখন জাত্রোফা কার্কাস-এর বাগিচাশিল্পের কথা আমি বলেছিলাম, বহুসংখ্যক রাজ্য একে লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিল। এবং আজকের দিনে লক্ষ লক্ষ হেক্টর জমি এই শিল্পে ব্যবহৃত হয়। উপরন্তু, জাত্রোফা চাষ সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞরা আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলিতে আমাদের কৃষকদের সহযোগিতায় এই বাগিচাশিল্পের উন্নয়ন ঘটান, যাতে জৈব-জ্বালানি উৎপাদনে তারা এই গাছের ব্যবহার করতে পারে। জাত্রোফা পতিত জমিতে উৎপাদিত হতে পারে। একবার গাছ রোপণ করলে পঞ্চাশ বছর অবধি বাঁচে এবং প্রতি বছর ফল দেয়, যার বীজ থেকে তেল নিঃসৃত হয় এবং ডিজেলের সঙ্গে মেশানো যায়।

শিক্ষা প্রাঙ্গণে, বাৎসরিক পরীক্ষার ভীতিপ্রদ পরিবেশ ব্যতিরেকে নানা ধরনের ছাত্র মূল্যায়ন সংক্রান্ত ভাবনা জেগে উঠেছিল। CBSE বা সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন নম্বর প্রথার পরিবর্তে গ্রেড প্রথার প্রচলন ঘটাল। তার ফলে নম্বর নিয়ে ছাত্রদের মনে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাপূর্ণ মনোভাব গড়ে উঠল।

দেশকে ২০৩০-র মধ্যে তার লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করার জন্য শক্তি স্বনির্ভরতার বিষয়ে, আমি সৌরশক্তির মাধ্যমে ৫৫,০০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষম বিদ্যুৎ নির্মাণকেন্দ্র স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছিলাম। ভারতবর্ষের শক্তির রূপরেখার প্রতি এক পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন। ভারতের কয়লার চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ পূর্ণ করা সম্ভব, যেখানে শক্তির চাহিদা ৫ শতাংশের বেশি হারে প্রতিবছর বাড়ছে, কয়লা উৎপাদন বাড়ছে খুব বেশি হলে ১ শতাংশ। আমাদের দেশের অনেক রাজ্যে দিনে আট ঘণ্টারও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকে। ফলে বিকল্প শক্তি সম্পদ উন্নয়ন অত্যাবশ্যকীয় হয়ে উঠেছে।

পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য আমাদের কয়লা, প্রাকৃতিক তেল ও গ্যাস নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। জোর দিতে হবে দূষণমুক্ত শক্তি উৎপাদনের ওপর-যা সৌর, বায়ু, পারমাণবিক এবং জল থেকে উৎপাদিত হতে পারে। সরকার ২০২০ সালের মধ্যে ২০,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরশক্তি উৎপাদন নয়া মাত্রা ঘোষণা করেছে। সৌরশক্তির উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে অন্যান্য অনেক বিষয় সম্পৃক্ত। যেমন, উপযুক্ত মাধ্যমের বাছাইয়ের দ্বারা ফোটোভোলটেয়িক সেল এফিশিয়েন্সি বর্তমান ১৫ শতাংশ থেকে অন্ততপক্ষে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক আকারে গবেষণা প্রয়োজন। দিনের বেলা সৌরশক্তির ব্যবহার এবং রাতের বেলা জৈব-জ্বালানি ব্যবহার করে যাতে বিদ্যুৎশক্তি ধারাবাহিকভাবে পাওয়া যায় সেজন্য উন্নয়নমূলক গবেষণার প্রয়োজন। গুজরাতে এক বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরশক্তি উৎপাদনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন ৩০ লক্ষ ইউনিট উৎপন্ন করা হয় এবং রাজ্য সরকার প্রতি ইউনিট পিছু পনেরো টাকা হারে কেনেন।

আজ ভারতবর্ষকে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার জন্য রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার উভয়েরই লক্ষ্য একই, যা দেশের উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব— পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত নাগরিকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।

এইসমস্ত উদাহরণের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে দেশের নাগরিকের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যোগাযোগ রক্ষা এবং দেশের পক্ষে লাভজনক প্রভাব বিস্তার করায় রাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণভাবে সক্ষম।

জাতির উদ্দেশে আমার অভিভাষণ ছাড়াও সাংসদদের উদ্দেশে আমার ভাষণও সমানভাবে চলত। ১৯৯৯, ২০০০, ২০০১ এবং ২০০২ সালের অসাধারণ কৃতিত্বের অধিকারী সাংসদদের সম্মান প্রদান উপলক্ষে ২০০৫ সালের ২১ মার্চ আমার অভিভাষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।

আমি বলেছিলাম, স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র বরাবরই ভারতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। প্রকৃতপক্ষে এর ইতিহাস আমরা প্রাচীনকালেও খুঁজে পাই। আজকের জনপ্রিয় প্রতিনিধিত্বমূলক সংগঠনগুলোর সম্পাদিত একই ধরনের কার্যকলাপ প্রাচীনকালে ‘সভা’ এবং ‘সমিতি’ নামক সম্মানীয় গ্রামীণ প্রজাতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পাদিত করত। স্বাধীনতা অর্জনে আমাদের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা ফলত: ভাবসত্তার স্বতঃচলমান ধারাবাহিকতা যা সর্বদা ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিদ্যমান। বহু ধর্ম, বহু ভাষা, বহু সংস্কৃতি সমন্বিত পৃথিবীর বৃহত্তম সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতবর্ষের অতুলনীয় বৈশিষ্ট্যের জন্য আমরা গর্বিত। ভারতীয় ভোটদাতাদের বিচক্ষণতা এবং পরিণত মানসিকতা বিশ্বকে হয়তো বিস্মিত করেছে। ভারতবাসী সবসময় সচেতনভাবে মতদান করার চেষ্টা করে এবং আমাদের সংবিধানের দ্রষ্টা অনুযায়ী নিজেকে প্রমাণিত করে তারা সার্বভৌম এবং তাদের মধ্যে ক্ষমতার উৎস নিহিত আছে। মানুষের এক উন্নত ভারতে বাস করার অধিকার আছে, তাই উন্নয়নমূলক রাজনীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনীতির দুটো মাত্রা আছে। এক হল রাজনৈতিক দলগুলির পরিচিত জগৎ যা স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অতএব, আজকের ভারতবর্ষের কী চাই? যেখানে দারিদ্র্যসীমার নীচে ২৬০ মিলিয়ন বা ২৬ কোটি মানুষ বাস করে এবং অশিক্ষার হার ৩৪ শতাংশ, আর ৩৬ মিলিয়ন বা ৩ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি মানুষ কর্মপ্রার্থী। আমাদের লক্ষ্য হল দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও কর্মহীনতার অন্ধকার থেকে মুক্ত এক উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে ভারতবর্ষকে গড়ে তোলা। এই পরিস্থিতি উন্নয়নমূলক রাজনীতিকে অপরিহার্য করে তোলে।

আমাদের দেশের উন্নয়নমূলক রাজনৈতিক পরিবেশে আমি রাজনৈতিক দলকে এমন এক পরিস্থিতিতে দেখতে আগ্রহী যেখানে তারা একে অপরকে ছাপিয়ে উন্নতির লক্ষ্যে নিজের নিজের ইস্তাহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি জ্ঞাপন করবে। কয়েকটা দৃষ্টান্তমূলক রূপরেখার দ্বারা বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করা যাক—

১. ধরে নেওয়া যাক ক পার্টি বলল পনেরো বছরের মধ্যে আমরা ভারতবর্ষকে এক উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার পথে নিয়ে যাব এবং প্রতি ৫ বছরের জন্য উন্নয়মুখী বিকাশ পরিকল্পনা করব এবং তাকে বাস্তবে রূপদান করব।

খ পার্টি বলে, আমরা এক স্বচ্ছ কর্ম প্রক্রিয়ার দ্বারা ১২ বছরের মধ্যে ভারতবর্ষকে এক উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করব।

গ পার্টি হয়তো ভিন্ন নির্দেশক-সহ জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের উন্মোচন করতে পারে এবং বিশ্ব রঙ্গমঞ্চে আমাদের ভূমিকা সম্পর্কিত ধারণায় অসাধারণ বুত্পত্তি দেখাল। এটা হয়তো ভারতবর্ষের নির্দিষ্ট সময়ের (X) মধ্যে ইউনাইটেড নেশনের সিকিউরিটি কাউন্সিলের আজীবন সদস্য হওয়া আশ্বাসদানের পথনির্দেশ হতে পারে।

২. আমার রূপরেখার দ্বিতীয় দৃশ্যে-ক পার্টি বলল যে তারা এমন এক রাষ্ট্র স্থাপন করবে যেখানে কোনও বেকারত্ব নেই। এ কারণে তারা এমন এক সুসংগঠিত কর্মপ্রক্রিয়া প্রচলন করতে চায় যেখানে কর্মপ্রার্থীর তুলনায় নিয়োগকর্তার সংখ্যা অধিক হবে।

খ পার্টি বলবে তারা এমন এক পরিবেশ এবং সুসংগঠিত কর্মপ্রক্রিয়া দান করবে যেখানে আদালতে কোনও মামলা অমীমাংসিত থাকবে না এবং আইনশৃঙ্খলা সমস্যা ভীষণভাবে কমে যাবে ও দেশের নাগরিক এক সুখশান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করবে।

গ পার্টি বলে যে, কোনও ভারতীয়কে ক্ষুধা নিয়ে রাত্রিযাপন করতে হবে না। এদের একটা লক্ষ্য আছে যা নিশ্চিত করবে যে, বিশ্বকে বাস করার পক্ষে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং সুন্দর করার জন্য ভারতবর্ষের প্রাজ্ঞ নেতৃত্বের দিকে সমগ্র বিশ্ব তাকিয়ে আছে। ভারতের লক্ষ্য হবে বিশ্বশান্তি।

৩. তৃতীয় রূপরেখা—ক পার্টি বলবে, তারা আশ্বাসদান করছে যে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে সীমান্তবর্তী সংঘর্ষ দশ বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

খ পার্টি বলবে তারা পাঁচ বছরের মধ্যে সমস্তরকম সীমান্তবর্তী সংঘর্ষর সমাধান করবে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের সঙ্গে এক সুসমন্বিত সম্পর্ক গড়ে তুলবে।

গ পার্টি বলবে তাদের উদ্যোগে সীমান্তবর্তী বাণিজ্য কোনওরকম সীমান্ত অনুশাসন মানবে না। বাণিজ্যে সমৃদ্ধি আসবে, সমৃদ্ধি আনবে শান্তি।

যখন বিশেষ কোনও দলকে জনগণ উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা প্রয়োগের সুযোগ দেয় এবং অন্যান্য সদস্যদের সমর্থনে সেটা বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্র ও জনগণ সংসদীয় সদস্যর মহৎ ক্রিয়ার দ্বারা আশীর্বাদধন্য হয়। গণতন্ত্র প্রত্যেককে একটা সুযোগ দেয় যাতে সে কর্মের দ্বারা প্রমাণ করতে পারে রাষ্ট্রের লক্ষ্যকে সে কতটা ভালভাবে উপলব্ধি করেছে।

দারিদ্র্য সম্পূর্ণ দূরীভূত করার প্রয়োজনীয়তা, তীব্র প্রতিযোগিতামূলক এবং জ্ঞানভিত্তিক বিশ্বে সকলকে সুযোগ দান করার প্রয়োজনীয়তা ও আজকের জটিল দুনিয়ায় দেশ এবং জাতিকে সুরক্ষা দান করার প্রয়োজনীয়তা-এই বহুবিধ প্রয়োজনীয়তাগুলো দেশকে ‘রাজনীতির স্বার্থে রাজনীতি’ থেকে আমাদের জানা উন্নয়নমূলক রাজনীতির দিকে ধীরে ধীরে উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তা মেটাবে।

সংসদের অনুসরণীয় এমন অনেক জাতীয় বিষয় আছে যা দলগত আদর্শের ঊর্ধ্বে। এইসব বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি দেশকে এক উন্নত রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে চলে, যেমন— বিশুদ্ধ জলের সংস্থান, অবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসংযোগ, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের আশ্রয়ের সংস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কম্পিউটার ব্যবহার পরিকল্পনা ও জাতীয় সুরক্ষা। সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লক্ষ্যের দিকে তাকিয়ে আলোচনা ও তর্কালোচনা দ্বারা ঐকমত্য স্থাপিত হয় যা ভারতবর্ষকে উন্নত অবস্থায় দ্রুতগতিতে পৌঁছনোর রাস্তায় নিয়ে যাবে। অতএব দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য সংসদ তার ক্ষমতাকে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবে ব্যবহার করা উচিত।

সুতরাং বলা যেতে পারে সাংসদদের ভূমিকা তাই ভীষণ তাৎপর্যময় হয়ে ওঠে এবং এটা খুবই প্রয়োজনীয় যে প্রতিটি সদস্যর আকাঙ্ক্ষা এবং আদর্শ এমন একটা উন্নীত স্তরে আনবেন যার জন্য তাকে নির্বাচিত করা হয়েছে।

এ সত্ত্বেও আমি যেমন সংসদ সদস্যদের বলেছিলাম এমন কিছু উলঙ্গ সত্য আছে যা আমরা স্বীকার করতে চাই না। সেগুলো নিয়ে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে আমার কোনও দ্বিধা নেই, আমি বলেছিলাম, কারণ আমি আপনাদেরই একজন। আপনারা যেমন সংসদের সদস্য, আমিও তেমনি। আপনাদের মতো আমিও সংসদীয় ব্যবস্থার সাফল্য সম্পর্কে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। আমাদের ভোট পদ্ধতি পরবর্তীকালে অত্যন্ত চাপযুক্ত হয়েছে। আসুন, আমরা নিজেদের প্রতি সৎ হই। আসনসংখ্যা বৃদ্ধির বাধ্যবাধকতা এবং নির্দিষ্ট কিছু বিধানমণ্ডলের আসনের তথাকথিত বাণিজ্যিকতা, যা হয়তো সন্দেহপূর্ণ এবং অগণতান্ত্রিক উপায়ে অধিকৃত হয়েছে তা জনগণের মনে আমাদের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার প্রতি সন্দেহ তৈরি করেছে। যখন রাজনীতি নিজেই রাজনৈতিক হঠকারী হয় তখন রাষ্ট্র বিধ্বংসী পথে অবশ্যম্ভাবী আকস্মিক দুর্ঘটনা এবং ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়। এই ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়। ভারতবর্ষ যাতে পরিণত, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, প্রাণোচ্ছল, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে টিকে থাকে এবং আমাদের সংবিধানের রচয়িতাদের দ্বারা যে আশা-আকাঙ্ক্ষা অভিনিবেশ সহকারে এবং কার্যকরভাবে সংরক্ষিত— সেই আশা পূরণে নিজেদের উন্নীত করার এবং আমাদের আত্মপরীক্ষার সময় এসেছে।

ভারতীয় সংস্কৃতির ভাবসত্তা, মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষিত করে যে জীবনযাপন পদ্ধতি মানুষ তা ব্যাকুলভাবে কামনা করে। সঠিক নীতি প্রয়োগ, আইন এবং সমাজ সংক্রান্ত রূপান্তরের মাধ্যমে সংসদ তাদের মুখে হাসি ফিরিয়ে আনতে পারে। আমরা এমন কিছু নীতি এবং পদ্ধতি নিয়ে কাজ করে থাকি যার বেশিরভাগ অবিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। যার ফলে প্রণোদনা এবং সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত ও অবদমিত হয়, অথচ ভারতের নাগরিক নির্ভরযোগ্য এবং কর্ম-অনুকূল পরিবেশে অতুলনীয় সাফল্য প্রদর্শন করেছে।

উন্নয়নকেন্দ্রিক অর্থনীতির বিকাশের পথে যে-যে জটিল পুরনো আইন ও শাসনব্যবস্থামূলক কার্যপ্রণালী আছে সেগুলো শনাক্ত করা ও অপ্রয়োজনীয় বলে বাতিল করার লক্ষ্যে সংসদের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এর দরুন সমাজের এক বৃহদাংশ যারা সৎ তাদের মনে কুসুমিত ও বিকশিত হওয়ার সুযোগ ও আশা জাগায়। আমি তাঁদের প্রণোদিত করেছিলাম যে ভারতবর্ষ অবশ্যই বিশ্বাসনির্ভর সুষ্ঠু প্রণালীর দিকে এগোবে এবং ওই মহান সংসদের সদস্যরাই একমাত্র সেই পরিবর্তন আনতে পারেন।

আমাদের লক্ষ্যে সাফল্য পেতে গেলে একত্রীভূত কাজের জন্য ভারতবর্ষের পাঁচটি মূল ক্ষেত্রে কেন্দ্রীভূত সামর্থ্য আছে— ১. কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ২. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা, ৩. পরিকাঠামো: বিশ্বাসযোগ্য এবং গুণগত বিদ্যুৎশক্তি, ভাল সড়ক ব্যবস্থা এবং দেশের সমস্ত প্রান্তের জন্য অন্যান্য পরিকাঠামো, ৪. তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি, ৫. জটিল প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা।

এই পাঁচটি ক্ষেত্র ঘনিষ্ঠভাবে আন্তঃসম্পর্কিত, এবং সমন্বয় সাধনের দ্বারা যদি এদের উন্নত করা যায় তা হলে খাদ্য, আর্থিক এবং জাতীয় সুরক্ষার দিকে পথনির্দেশ করবে।

এই পাঁচটি ক্ষেত্রের মধ্যেকার মূল লক্ষ্যগুলির অন্যতম হল PURA-দ্বারা নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য আনার জন্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন ঘটানো। এই উন্নয়নের জন্য প্রাকৃতিক, বৈদ্যুতিন এবং জ্ঞান এই তিনের সংযোগসাধন প্রয়োজন, যা অর্থনৈতিক সংযোগসাধনের পথ প্রদর্শন করে, হিসাবমতো সমগ্র রাষ্ট্রে এই PURA গুচ্ছ সংখ্যায় প্রায় ১০০০।

যখন আমাদের অর্থনীতি ক্রমবর্ধমান অবস্থায় রয়েছে এবং আমাদের জিডিপি (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট) বা মোট অন্তর্দেশীয় উৎপাদন বাৎসরিক ৯ শতাংশ হারে বাড়ছে, তখন এটা সত্য যে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি সংখ্যাধিক্য মানুষের জীবনযাপনের মানে সামগ্রিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। বিশেষত গ্রামীণ অঞ্চলে তো অবশ্যই এমনকী শহরাঞ্চলেও। ফলে, আমরা NPI বা জাতীয় সমৃদ্ধি সূচকের উদ্ভব ঘটিয়েছি, যা প্রকৃতপক্ষে যোগফল ক. জিডিপি-র বাৎসরিক বৃদ্ধি হার খ. মানুষের জীবনযাত্রায় গুণগত মানের উন্নতি, বিশেষত যারা দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাস করে এবং গ. জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের সভ্যতাজনিত ঐতিহ্য থেকে আমরা যে মূল্যবোধ ব্যবস্থা আত্মীকরণ করি, যা এককভাবে ভারতের বৈশিষ্ট্য। অতএব ক + খ + গ বিশেষত ‘খ’ হল গৃহ, শুদ্ধজল, পুষ্টি, সুষ্ঠু নির্মলীকরণ, উৎকৃষ্ট শিক্ষা, উৎকৃষ্ট স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সম্ভাব্য কর্মসংস্থান এবং ‘গ’ হল যৌথ পরিবার ব্যবস্থা, একত্রে কাজ করার মানসিকতা স্থাপন, জীবনের সঠিক দিশায় পথপ্রদর্শন, সামাজিক অসাম্য মোচন এবং সর্বোপরি দ্বন্দ্ববিহীন সুসামঞ্জস্যপূর্ণ সমাজের গঠনক্রিয়া। এসমস্ত কিছু সূচিত হয় সম্প্রদায় এবং পরিবারের মধ্যে শান্তি, দুর্নীতি সূচকের নিম্নগমন, আদালতে মামলার সংখ্যার হ্রাসপ্রাপ্ত রূপ, শিশু এবং নারীর প্রতি হিংস্রতার দূরীকরণ এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা নিশ্চিহ্ন করা দ্বারা। দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে ২০২০ সালের মধ্যে শূন্যে পরিণত হওয়া উচিত। সবসময় জাতীয় অর্থনৈতিক ক্রিয়ার উন্নতির জন্য আমাদের প্রচেষ্টা রাষ্ট্রের জাতীয় সমৃদ্ধিসূচক বা NPI দ্বারা পথ প্রদর্শিত হওয়া উচিত।

আমরা কীভাবে এই লক্ষ্য উপলব্ধি করব? লক্ষ্যকে উপলব্ধি করার জন্য তাত্ক্ষণিক কী কী পদক্ষেপ আমাদের গ্রহণ করা উচিত?

আপনাদের অনেকের সঙ্গে আমার আলাপচারিতা, নানা ধরনের কেন্দ্র এবং রাজ্যের কার্যক্রম, সরকারি এবং বেসরকারি সংগঠনের প্রাথমিক পদক্ষেপ ছাড়াও জাতীয় উন্নয়নে দেশের নাগরিকদের অংশগ্রহণের অপ্রতিরোধ্য আকাঙ্ক্ষা আমার মনে এই বিশ্বাস জাগায় যে, সমাজ এই লক্ষ্যের জন্য কাজ করতে প্রস্তুত। দুটো প্রধান কর্মসূচি প্রস্তুত করার জন্য আপনাদের একত্রে কাজ করতে আমি দুটো পরামর্শ দিতে পারি:

১. শক্তি স্বনির্ভর বিল: শক্তি সম্পদের প্রতি নির্মল পরিবেশ সহায়ক ত্রিমাত্রিক অগ্রগমন।

২. ভিশন ২০২০: ২০২০ সালের পূর্বে জাতীয় সমৃদ্ধিসূচক NPI মাপকাঠি ধরে নিয়ে সুরক্ষিত, সমৃদ্ধ, সুখী এবং অর্থনৈতিক উন্নত রাষ্ট্রে ভারতবর্ষকে রূপান্তরিত করার অঙ্গীকার গ্রহণ।

নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই বিলকে বাস্তবে রূপায়িত করার গুরুত্ব সম্বন্ধে আপনারা নিশ্চয় সহমত হবেন।

এই বিষয়গুলো আমি এতই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করি যে আমার বইয়ের পরের দিকে এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

রাষ্ট্রপতি ভবনে আমার এক অভিনব অভিজ্ঞতা হয়েছিল। যখনই কোনও বিশেষ রাজ্য বা সরকারি বিভাগ বা মন্ত্রকের কোনও বিশেষ প্রতিষ্ঠান, পরিকল্পনা কমিশন বা রাজ্য সরকার থেকে কোনও নির্ভুল সর্বশেষ তথ্য প্রয়োজন হত সংশ্লিষ্ট এজেন্সি রাষ্ট্রপতির সচিবালয় থেকে কোনও তাগিদ ছাড়াই পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রেরণ করত। জাতি, সংসদ এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা, সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে অভিভাষণ রচনায় এই তথ্যসমূহ আমার পক্ষে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। এই প্রক্রিয়াগত সুবিধা পূর্বে কখনও এইভাবে কাজে লাগানো হয়নি।

আমরা রাষ্ট্রপতি ভবনে আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ কর্মদক্ষতা তৈরি করতে পেরেছিলাম। কার্যত অধিবেশন এবং বৈঠকের সুবিধা ব্যবস্থা করার ফলে দূরতম অঞ্চলের বিভিন্ন সংগঠনের খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আমরা চিন্তাউদ্রেককারী আদানপ্রদান করতে সক্ষম হতাম। রাষ্ট্রপতি মেয়াদকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে আমি বারোটা রাজ্য বিধানসভার উদ্দেশে অভিভাষণ দিয়েছিলাম এবং রাজ্যের সমৃদ্ধির লক্ষ্যের কথা বলেছিলাম—তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, সংশ্লেষ, তথ্য নিবেশ, চিন্তাদায়ী আলোচনা দ্বারা সমৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিতে পনেরো দিন থেকে একমাস লেগে যেত। এই প্রস্তুতির জন্য ভিডিও অধিবেশন রাষ্ট্রপতি ভবনের মাল্টিমিডিয়া বন্দোবস্ত থেকে সাধারণত রাত আটটা থেকে মাঝরাত অবধি চলত যখন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শদানের জন্য সাধারণভাবে পাওয়ার আশা করা যেত। এই ব্যবস্থায় যেসমস্ত রাজ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল তা হল: জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, গোয়া, কর্নাটক, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, মিজোরাম, মেঘালয়, সিকিম এবং পুদুচেরি।

সমৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজ্য নির্বাচনের জন্য কিছু মাপকাঠি তার সামাজিক-অর্থনৈতিক রূপরেখা অধ্যয়ন করে স্থির করা হয়েছিল। যেমন, মাথাপিছু রোজগার, শিক্ষাহার, দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা, বেকারত্বের হার, শিশুমৃত্যু হার, প্রসূতি-মৃত্যু হার এবং সে রাজ্যের কৃষি, শিল্প এবং সেবামূলক পরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে। উদাহরণ হিসেবে বলা চলে, বিহারের ক্ষেত্রে মিশন বা লক্ষ্য চিহ্নিত করেছিল— ১. কৃষি এবং পশুপালন উৎপাদনে মূল্য সংযোজন, ২. শিক্ষা ও শিল্পোদ্যোগ, ৩. মানবসম্পদ, ৪. নালন্দা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়, ৫. স্বাস্থ্য পরিষেবা লক্ষ্য, ৬. বন্যা ব্যবস্থাপন, ৭. পর্যটন, ৮. পরিকাঠামো, ৯. বিশেষ অর্থনৈতিক ক্ষেত্র, ১০. ই-গভর্ন্যান্স।

২০১০ সালের মধ্যে বিহারের মাথাপিছু উপার্জন ৬৩০০.০০ টাকা (২০০৫-০৬) থেকে বাড়িয়ে ৩৫,০০০.০০ করার জন্য এবং এছাড়াও, ২০০৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ১ কোটি বা ১০ মিলিয়ন বেকার-আধা বেকারের বৃহদাকারে রোজগারের উপায়ের পথপ্রদর্শনে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য দশটি লক্ষ্যের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। ২০১৫-র মধ্যে ১০০ শতাংশ শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্য বিহারকে নির্দিষ্ট অভিমুখে এগোতে হবে। সরকার অনেক প্রকল্প গ্রহণ করেছে এবং আমি সন্তুষ্ট যে বিহার আজকের দিনে দেশের দ্রুততম উন্নয়নশীল রাজ্য। উপরন্তু, উপার্জনের জন্য বহির্রাজ্য অভিমুখী মানুষের সংখ্যা অনেক কমে এসেছে। এর দ্বারা সুস্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে বিহারে বৃহদায়তন মূল্যযুক্ত কর্মসংস্থান সৃজন শুরু হয়েছে।

বিধায়কবৃন্দের কাছ থেকে সু-সহযোগিতা ছিল। প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে রাজ্যে অনেক ক্রিয়া-কেন্দ্রিক কার্যসূচির প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। বিধানসভায় অভিভাষণ দেওয়ার পর আমি রাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের উদ্দেশে এবং একই বিষয়ে বণিকসভার উদ্দেশে অভিভাষণ দিয়েছি।

কেরলে ‘মালয়লা মনোরমা’ পত্রিকা কেরলের সমৃদ্ধি লক্ষ্য মালয়লাম ভাষায় অনুবাদ করেছিল। জেলাভিত্তিক কর্মশালার আয়োজন করেছিল এবং কোন পদ্ধতিতে মিশন বা লক্ষ্য সাফল্যের সঙ্গে প্রয়োগ করা সম্ভব সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞের মতামত চাওয়া হয়েছিল এবং সে সুপারিশগুলো বিধানমণ্ডলে প্রেরণ করা হয়েছিল। অন্যান্য রাজ্যেও প্রচারমাধ্যম এই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল এবং আমি বিভিন্ন রাজ্য সংগঠন থেকে অজস্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলাম।

.

আমার স্বপ্ন লক্ষ কোটি মানুষ সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের সাধারণ সূত্রে গ্রন্থিত হোক। আমাদের মহান মহাকাব্যগুলো আমাদের গৌরবময় অতীতের কথা স্মরণ করায় এবং সুন্দর ভবিষ্যতের আশা পোষণ করে।

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *