হত্যার অন্তরালে – ১৪

১৪

আজ ৯ মার্চ, বৃহস্পতিবার। বেলা এখন দশটা বাজে। হোটেলের পাওনাগণ্ডা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবারে আমরা শিলিগুড়ি রওনা হব। কলকাতার ফ্লাইট দুটো পঁয়তাল্লিশে। শিলিগুড়িতে একটার মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছি। সেখানে সত্যপ্রকাশ চৌধুরির হোটেলে দুপুরের খাওয়া চুকিয়ে বাগডোগরায় গিয়ে ফ্লাইট ধরব, এইরকমের কথা হয়েছে। খানিক আগেই ভাদুড়িমশাই সত্যপ্রকাশকে ফোন করেছিলেন।

কাল রাত্তিরে আর আজ সকালে যা যা ঘটেছে, এই ফাঁকে সেটা জানিয়ে রাখি। মিঃ দোর্জির বাড়ি থেকে বেরিয়ে আমরা হোটেল তাসিতে যাই। যাবার পথে প্যালেসটা পড়ে না। তবু যে ঘুরপথে গিয়ে সেটা একবার চাক্ষুষ করে আসতে হল, তার কারণ, যেমন সদানন্দবাবুর তেমন আমারও—ডেসমন্ড ডোইগের ছবিতে ছাড়া—এর আগে ওটা দেখা হয়নি। গ্যাংটকে তো এই প্রথম এলুম, আবার কবে আসব কে জানে। দু’জনে মিলে তাই ঠিক করলুম যে, সুযোগ যখন একটা পাওয়াই গেছে, তখন ওটা দেখে নেওয়াই ভাল।

হোটেল তাসিতে ফিরে বোসমশাইকে বলা হল যে, রাত্তিরটা আমরা গ্যাংটকে থাকছি না, একটু বাদেই নামচি রওনা হয়ে যাব। কিন্তু এত সকাল-সকাল ডিনার খেয়ে আমাদের অভ্যেস নেই, আবার নামচিতে ফিরে ডিনার পাওয়া যাবে কি না সেটাও অনিশ্চিত, সুতরাং পথে খাওয়ার জন্যে কিছু স্যান্ডুইচ আর ফলমূল তিনি যদি প্যাক করে আমাদের সঙ্গে দিয়ে দেন তো বড্ডই ভাল হয়। বোসমশাই চারটে ডিনার-প্যাকেটের সঙ্গে গরম কফি ভর্তি বড় একটা ফ্লাস্ক আর চারটে গ্লাসও আমাদের গাড়িতে তুলে দেবার ব্যবস্থা করলেন। ওগুলো কী করে ফেরত দেব জিজ্ঞেস করতে বললেন, “নামচিতে আপনারা তো সানরাইজ হোটেলে উঠেছেন, ওখানকার ম্যানেজারের কাছে জমা দিয়ে দেবেন, আমাদের লোকজন প্রায়ই নামচিতে যায়, তারা ওখান থেকে কালেক্ট করে নেবে।”

বোসমশাইয়ের হোটেল থেকে আমরা সাড়ে সাতটায় বেরিয়ে পড়ি। পথে রানিপুলের কাছাকাছি এসে ভাদুড়িমশাই বললেন, “তেজবাহাদুরের সঙ্গে আর-একবার কথা বলা দরকার। …ওহে ইন্দ্র, সকালে যে-বাড়িটায় গিয়েছিলুম, সেখানে একটু নিয়ে চলো।”

মেন রাস্তা থেকে ডাইনে গাড়ি ঘুরিয়ে ইন্দ্রবাহাদুর যে অপরিসর পথটা ধরল, সকালেও সেই পথে আমরা একবার এসেছি। খানিক বাদেই আমরা কৃষ্ণকুমার গুড়ুংয়ের বাড়ির সামনে পৌঁছে গেলুম।

চাঁদের আলোয় বাড়িটাকে বড় রহস্যময় লাগছিল। সকালে যখন বাড়িটা দেখি, তখন এই রহস্যটা ছিল না। এত বড় কম্পাউন্ড, তার মধ্যে বিশাল একটা বাড়ি। অথচ এই বাড়িতে লোকজনের কোনও কোলাহল নেই, বাসিন্দা বলতে মাত্র একজন মানুষ। সদানন্দবাবু চাপা গলায় বললেন, “এ বাড়িতে একা থাকতে হলে তো আমি ভূতের ভয়েই মরে যেতুম মশাই।”

কম্পাউন্ড পেরিয়ে সিঁড়ি বেয়ে ফের বারান্দায় উঠে এলুম আমরা। ভাদুড়িমশাই ডোর-বেল বাজালেন। কিছুক্ষণ কোনও সাড়া পাওয়া গেল না। দ্বিতীয়বার বেল বাজিয়ে ভাদুড়িমশাই বললেন, “মাত্র সওয়া আটটা বাজে, এরই মধ্যে তেজবাহাদুর ঘুমিয়ে পড়ল নাকি?”

ভিতরে পায়ের শব্দ পাওয়া গেল মিনিট খানেক পরে। বারান্দা এতক্ষণ অন্ধকার ছিল। এবারে আলো জ্বলে উঠল। কিন্তু যে এসে দরজা খুলে দিল, সে তেজবাহাদুর নয়, একটা মেয়ে। পাহাড়িয়া মেয়ে। পরনে চোলি আর ঘাগরা। বয়েস কুড়ি হতে পারে, আবার তিরিশ হওয়াও বিচিত্র নয়। চেহারায় চটক আছে। চোখে পুরু করে কাজল লেপা। গা থেকে উগ্র গন্ধ বেরোচ্ছিল, সেটা যে দিশি কোনও মদ আর শস্তা কোনও সেন্টের, তা বুঝতে কারও অসুবিধে হবার কথা নয়। দরজার একটা পাল্লায় ঠেস দিয়ে যে-ভাবে আমাদের দিকে তাকাল মেয়েটি, তাতে বুঝলুম, যেমন দাঁড়িয়ে থাকতে, তেমন চোখ দুটোকে খোলা রাখতেও তার কষ্ট হচ্ছে। কাকে চাই, জিজ্ঞেস করতে ভাদুড়িমশাই বললেন, তেজবাহাদুরকে।

মেয়েটি বলল, “কিন্তু সে তো এখন আসতে পারবে না।”

যে-রকমের স্খলিত গলায় বলল, তাতে আন্দাজ করা গেল, মেয়েটিও আসতে পারছিল না, ঠেলেঠুলে তাকে পাঠানো হয়েছে। যে পাঠিয়েছে, তারও অবস্থা এখন সম্ভবত এরই মতো, কিংবা হয়তো এর চেয়েও খারাপ।

এর পরে আর দাঁড়িয়ে থাকার কোনও মানে হয় না। দরজা থেকেই আমরা ফিরে আসি। পথে চাঁদের আলো ছিল, কিন্তু রাত্তিরবেলায় পাহাড়িয়া পথে গাড়ি চালাবার সময় স্পিড বেশি বাড়ানো যে বিপজ্জনক হতে পারে, ইন্দ্রবাহাদুরকে ভাদুড়িমশাই সে-কথা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, তা ছাড়া তাড়াহুড়ো করার কোনও দরকারও আমাদের ছিল না, ফলে নামচিতে ফিরতে-ফিরতে রাত বারোটা বেজে যায়। প্যাকেটের স্যান্ডুইচ আর ফ্লাস্কের কফি খাবার জন্যে পথের মধ্যে এক জায়গায় আধ ঘণ্টার জন্যে একবার থামতে হয়েছিল। নইলে নিশ্চয় সাড়ে এগারোটার মধ্যেই পৌঁছে যেতুম।

ঘুম থেকে আজ একটু দেরি করে উঠলেও হত। কিন্তু হোটেলওয়ালাকে কথা দেওয়া আছে যে, ন’তারিখ সকালেই আমরা ঘর ছেড়ে দেব। ফলে বারোটায় ঘুমিয়েও সেই সকালে ছ’টাতেই বিছানা ছেড়ে উঠে পড়তে হল। দাড়ি কামিয়ে, গরম জলে স্নান সেরে, ব্রেকফাস্ট খেয়ে সাড়ে সাতটার মধ্যেই আমরা রেডি। ইন্দ্রবাহাদুরও ইতিমধ্যে গাড়িতে তেল ভরে এনেছিল। কিন্তু তক্ষুনি যে আমরা শিলিগুড়ি যাত্রা করলুম, তা নয়। কাল রাত্তিরেই ভাদুড়িমশাই বলেছিলেন যে, শিলিগুড়ি রওনা হবার আগে একবার গঙ্গাধর চামলিনের সঙ্গে দেখা করতে হবে, তাই পরশু যে-পথে গিয়েছিলুম, হোটেলের রিসেপশন-কাউন্টারে আমাদের হ্যান্ডব্যাগ, থার্মোফ্লাস্ক আর গেলাশ চারটে জমা রেখে সেই চড়াইয়ের পথেই আমরা আবার নামচির উঁচু এলাকায় উঠে এলুম।

গঙ্গাধর চামলিন তাঁর বাড়ির সামনের বাগানে বসে চা খেতে-খেতে রোদ পোহাচ্ছিলেন। রাস্তার ধারে গাড়ি রেখে আমরা গিয়ে তাঁর বাড়ির হাতায় ঢুকতেই তিনি একগাল হেসে বললেন, “আসুন। চা হবে তো?” বলে আমাদের উত্তরের জন্যে অপেক্ষা না করে গলা চড়িয়ে হাঁক ছাড়লেন,”ওরে, আর-এক পট চা দিয়ে যা। আগের বারের মতো ঠাণ্ডা দিস না যেন।”

টেবিল পাতা-ই রয়েছে। ভিতর থেকে একজন লোক একটা ট্রে-তে করে চায়ের পট আর গুটিকয় কাপ নিয়ে এসে সেই টেবিলের উপরে সাজিয়ে রাখল। তারপর ট্রে’র উপরে আগের দেওয়া খালি পট আর কাপ-প্লেট গুছিয়ে তুলে ভিতরে চলে যেতে, নতুন করে কাপে কাপে চা ঢালতে ঢালতে গঙ্গাধর চামলিন বললেন, “তেজবাহাদুরের সঙ্গে দেখা হল?”

“তা হল।” নিজের পেয়ালাটা তুলে নিয়ে চায়ে চুমুক দিয়ে ভাদুড়িমশাই বললেন, “কথাও হল দু’-একটা। কিন্তু লোকটি যে কেমন, তা ঠিক বোঝা গেল না।”

“সেইটে বোঝার জন্যে ফের আমার কাছে এলেন, কেমন?”

হাত থেকে চায়ের পেয়ালা প্লেটের উপরে নামিয়ে রেখে ভাদুড়িমশাই বললেন, “মিঃ চামলিন, আর-একটা দিন নামচিতে থেকে যেতে পারলে ভাল হত। কিন্তু সেটা পারছি না। এখানে যে ফেস্টিভ্যাল আজ থেকে শুরু হচ্ছে, তার জন্যে হোটেলগুলো একেবারে পুরোপুরি বুক্ড, অন্য কোথাও যে দুটো ঘর পাওয়া যাবে, তারও ভরসা নেই। তা ছাড়া প্লেনের রিজার্ভেশনও কনফার্মড হয়ে আছে, বাগডোগরা থেকে দুটো পঁয়তাল্লিশের ফ্লাইট ধরে আমরা কলকাতায় ফিরে যাচ্ছি। হাতে সুতরাং সময় খুবই কম। তারই মধ্যে কয়েকটা কথা আমাকে জেনে নিতে হবে।”

মিঃ চামলিন হেসে বললেন, “হোটেলে ঘর নেই, সেটা আমাকে বললেন না কেন? এখানে আমার একটা গেস্ট-হাউস রয়েছে, সেটাই ছেড়ে দিতুম। তবে হ্যাঁ, কলকাতায় ফেরার তাড়া থাকলে সেটা আলাদা কথা।”

“তাড়া আছে, মিঃ চামলিন। তা নইলে রিটার্ন ফ্লাইটটা আমরা কনফার্ম করে আসতুম না।” শুনে এক মুহূর্ত চুপ করে রইলেন গঙ্গাধর চামলিন। তারপর বললেন, “ঠিক আছে, কী জানতে চান বলুন। তবে কিনা আপনার সব প্রশ্নেরই উত্তর যে আমি দেব কিংবা দিতে পারব তা কিন্তু আমি বলছি না।”

“খুব বেশি প্রশ্ন আমি করবও না। আমার শুধু তেজবাহাদুর সম্পর্কে দু-একটা কথা জানা দরকার। আমার ধারণা, আপনি বলতে পারবেন।”

“এমন ধারণা হঠাৎ আপনার হল কেন?”

“হঠাৎ হয়নি। পরশু রাত্তিরে প্রথম যখন আপনার কাছে আসি, তখন রূপকুমারীর নেওয়া দত্তক ছেলে সম্পর্কে আপনি বলেছিলেন, তার নাম ‘যদ্দুর মনে পড়ছে’ তেজবাহাদুর। কিন্তু তখনই আমার মনে হয়েছিল যে, এটা ‘যদ্দুর মনে পড়ছে’র ব্যাপার নয়। আসলে নামটা আপনি ভালই জানেন; এমনকি লোকটা কেমন, সে কাদের সঙ্গে মেশে, কী করে, সবকিছুরই খবর রাখেন আপনি। … কী, আপনি হাসছেন কেন, আমি কি ভুল বলছি?”

হাসতে-হাসতেই গঙ্গাধর চামলিন বললেন, “না না, ভুল বলবেন কেন, আপনি ঠিকই বলছেন। তা ওই স্কাউড্রেলটার সম্পর্কে আপনি কী জানতে চান?”

“ওকে স্কাউড্রেল বলছেন কেন?”

“ওর চেয়ে খারাপ কোনও কথা এক্ষুনি আমার মনে পড়ছে না, তাই।” গঙ্গাধর চামলিন তাঁর মুখের হাসিটাকে মিলিয়ে যেতে দিলেন না, সেটাকে ধরে রেখেই বললেন, “জানেন, জেঙ্কিস অ্যান্ড জেঙ্কিসের ডিস্টিলারিটা যেখানে হয়েছে, সেটা ওর জমি না হোক, ওর মাসির জমি তো বটে। কম্প্যানির লোকদের সেইটে বলে ওর জন্যে একটা চাকরির ব্যবস্থাও ওখানে বছর পনেরো আগে করে দেওয়া হয়েছিল।”

“সেটা ও রাখতে পারেনি, কেমন?”

কী করে রাখবে! একে তো মুখের কোনও আড় নেই, যাকে যা নয় তা-ই বলে বসত, তার উপরে অফিসেও যেত কালেভদ্রে। কিন্তু তাও ছেড়ে দিচ্ছি, ওখানে তো অনেক মেয়েও কাজ করে, তাদের নিয়েও যদি টানাটানি শুরু করে দেয়, আর তা-ই নিয়ে যদি ক্রমাগত হাঙ্গামা বাধতে থাকে, তো আপনারাই বলুন অফিস সেটা কতদিন সহ্য করবে?”

“কতদিন সহ্য করেছিল?”

“দু’বছর। তার মধ্যে বারকয়েক ওয়ার্ন করে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। এদিকে কৃষ্ণকুমার গুড়ুং যদিও অনেক আগেই মারা গিয়েছিলেন, তবু সেই বিখ্যাত মানুষটিরই নাতি তো, তার উপরে আবার ফুলকুমারী ঘোষের দিদির অ্যাডপটেড সন, তেজবাহাদুরকে তাই ঘাড়ধাক্কা দিয়ে তাড়ানোও যাচ্ছিল না। ফলে কম্প্যানি থেকে এমন একটা ব্যবস্থা করতে হল, যাতে…ওই যে আপনারা বাঙালিরা কী বলেন…”

সদানন্দবাবু বললেন, “যাতে সাপও মরে, লাঠিও না ভাঙে?”

গঙ্গাধর বললেন, “রাইট। যাতে সাপটা মরবে, কিন্তু লকড়িটা ভাঙবে না। ডিস্টিলারির ম্যানেজার তেজবাহাদুরকে ডেকে বললেন, তোমাকে আর কাজ করতে হবে না, সির্ফ বাড়িতে বসে থাকো, আমরা তোমার তখাটা মাস-মাস বাড়িতে পাঠিয়ে দেব।”

ভাদুড়িমশাই বললেন, “এখনও পাঠায়?”

“পুরো তিন বছর পাঠিয়েছিল। শুধু তখা নয়, তার সঙ্গে ফোর বস অভ দেয়ার প্রিমিয়াম হুইস্কি। মাসের পর মাস।”

“তারপর?”

“তারপর রূপকুমারী মারা গেল; বাস্, তখা পাঠানোও বন্ধ হয়ে গেল। দ্য সাপ্লাই অভ ফ্রি হুইস্কি ওয়জ অলসো স্টড।”

“এখন তা হলে ওর চলে কীসে?”

“গত দশ বছর যে-ভাবে চলেছে।” গঙ্গাধর বললেন, “প্রথমে জমিজায়গা বিক্রি করে, তারপর বাড়ির ফার্নিচার আর বাসন-কোসন বিক্রি করে। না করে উপায় কী? স্কাউভেলটার রোজগার নেই এক পয়সাও, কিন্তু খৰ্চা তো তাই বলে কমেনি।”

বললুম, “একটাই তো মানুষ, তা হলে এত খৰ্চা হয় কীসে?”

“বাঃ, ওকে তো আপনারা দেখে এলেন, তবু আন্দাজ করতে পারলেন না? মদ আছে, জুয়া আছে, কোন্‌টা নেই? আগে মেয়েমানুষ ছিল না, রূপকুমারী মারা যাবার পরে সেটাও এসেছে। খর্চার কি শেষ আছে নাকি?”

ভাদুড়িমশাই বললেন, “রূপকুমারী ওকে কবে অ্যাডপ্‌ট করেন?”

“নাইনটিন ফিফটিনাইনে। শুনেছি কলকাতার একটা অর্ফানেজ থেকে ওকে নিয়ে এসেছিলেন। তবে আবার বলছি, এটা শোনা কথা। কলকাতা না-হয়ে ওটা দার্জিলিংও হতে পারে। বাচ্চাটার বয়েস তখন কত আর হবে, এই ধরুন বছর ছ’সাত।”

“রূপকুমারী নিজে কেন বিয়ে করলেন না?”

“তা তো বলতে পারব না।” গঙ্গাধর চামলিন মৃদু হেসে বললেন, “তার সম্পর্কে আমি শুধু একটা কথাই বলতে পারি। রূপকুমারী তার বোনের মতো সুন্দরী ছিল না, বোনের মতো বুদ্ধিমতীও না, বাট দেন শি ওয়জ আ রিমার্কেব্ল লেডি। …আর কিছু জিজ্ঞেস করার আছে?”

আর-কিছু জিজ্ঞেস করার ছিল না। গঙ্গাধর চামলিনকে ধন্যবাদ জানিয়ে, বাগানের পথ ধরে আমরা রাস্তায় নেমে গাড়িতে উঠে পড়লুম।

ভাদুড়িমশাই বললেন, “এবারে হোটেলে ফিরে, বিল মিটিয়ে শিলিগুড়ি রওনা হতে হবে। ঘণ্টা তিনেকের মধ্যেই পৌঁছে যাব।”

হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলুম, পৌনে দশটা বাজে।