তওরাত-এর পঞ্চপুস্তক

তওরাত-এর পঞ্চপুস্তক

‘তওরাত’ শব্দটি সেমেটিক। গ্রীক ভাষায় ‘তাওরাত’ বলতে যা বোঝায় তা ই ইংরেজিতে এসে হয়েছে পেন্টাটেক। এই শব্দটি মূলত গ্রীক। এর দ্বারা তাওরাতের প্রথম পাঁচটি পুস্তককে বোঝায়, যথা–(বাংলা বাইবেল অনুসারে) আদিপুস্তক, যাত্রাপুস্তক, লেবিয় পুস্তক, গণনাপুস্তক এবং দ্বিতীয় বিবরণ। উনচল্লিশটি খণ্ডে সংকলিত বাইবেলের পুরাতন নিয়মের প্রথম পাঁচ খণ্ডে এই পুস্তক পাঁচটি স্থান পেয়েছে।

বিশ্বসৃষ্টির আদি থেকে শুরু করে মিসরে ইহুদীদের নির্বাসনশেষে প্রতিভূমি কেনানে প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত আরো সোজাকথায়, হযরত মুসার (আঃ) মৃত্যুপর্যন্ত যাবতীয় ঘটনার বিবরণ স্থান পেয়েছে এসব পুস্তকে। এসব বিবরণে ইহুদীদের সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি ও নিয়মকানুন তুলে ধরা হয়েছে। এজন্য, এই গ্রন্থের নামকরণ হয়েছে তাওরাত বা আইনগ্রন্থ।

ইহুদী ও খ্রিস্টানরা বহু শতাব্দী যাবত বিশ্বাস করে আসছেন যে, তাওরাতের লেখক হচ্ছেন স্বয়ং হযরত মুসা (আঃ)। এই বিশ্বাসের পেছনে সম্ভবত তাওরাতের সেইসব বাণী কাজ করছিল, যেসব বাণীতে হযরত মুসার (আঃ) নিজ হাতে লিখার প্রসঙ্গ বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন (যাত্রাপুস্তক ১৭, ১৪) : “এই কথা (আমালেকের পরাজয়) স্মরণার্থে পুস্তক লিখ।” ইহুদীদের মিসর থেকে যাত্রা প্রসঙ্গে অন্য স্থানে বলা হয়েছে : “মোশি (হযরত মুসা) সেই উত্তরণস্থানগুলোর বিবরণ লিখলেন।” (গণনাপুস্তক : ৩৩, ২) এবং সর্বশেষ : “পরে মোশি এ ব্যবস্থা লিখলেন।” (দ্বিতীয় বিবরণ ৩১, ৯) হযরত মুসা যে তাওরাতের এই পাঁচটি খণ্ড রচনা করেছিলেন, খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর পূর্বপর্যন্ত সেই ধারণা সঠিক বলে প্রমাণ করার প্রয়াস অব্যাহত ছিল। ফ্লাভিয়াস জোসেফাস এবং আলেকজান্দ্রিয়ার ফিলো ছিলেন এই ধারণার সমর্থক।

একালে এ ধারণা সম্পূর্ণভাবে পরিত্যক্ত হয়েছে এবং তাওরাত যে হযরত মুসার রচনা নয়, এ বিষয়ে এখন আর কারো কোনো দ্বিমত নেই। এদিকে বাইবেলের নতুন নিয়মে (অর্থাৎ ইঞ্জিলে) পুরাতন নিয়মের, বিশেষত তাওরাতের লেখক হিসেবে হযরত মুসার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রোমিওদের কাছে। লিখিত একপত্রে (১০, ৫) লেবিয় পুস্তকের বরাত দিয়ে পৌল বলেছেন, “মোশি লিখেন, যে ব্যক্তি ব্যবস্থামূলক ধার্মিকতার অনুষ্ঠান করে প্রভৃতি। যোহন তার লিখিত সুসমাচারে (বাইবেল, নতুন নিয়ম, ৫, ৪৬-৪৭) স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, হযরত ঈসা (আঃ) বলেছেন, “কারণ যদি তোমরা মোশিকে বিশ্বাস করিতে, তবে আমাকেও বিশ্বাস করিতে, কেননা, আমারই বিষয়ে তিনি লিখেছেন। কিন্তু তাঁর লেখায় যদি বিশ্বাস না কর, তবে আমার কথায় কিরূপে বিশ্বাস করিবে?” এখানেই বাইবেলের বক্তব্য সংশোধন তথা সম্পাদনার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, কেননা, লিখার স্থলে এখানে যে গ্রীক শব্দটি (এপিসটিউট) ব্যবহৃত হয়, তা ছিল মূলগ্রন্থে ব্যবহৃত শব্দের অনুরূপ। কিন্তু তার অর্থ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুতরাং, সুসমাচার রচয়িতা এখানে যীশুর মুখ দিয়ে হযরত মুসার লেখার সমর্থনে যে বক্তব্য পেশ করেছেন, তা সম্পূর্ণ অশুদ্ধ। পরবর্তী আলোচনা থেকেও এর প্রমাণ পাওয়া যাবে।

এই প্রমাণপঞ্জির জন্য ড. মরিস বুকাইলি জেরুজালেমের বাইবেল স্কুলের প্রধান ফাদার ডি ভক্স-এর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ১৯৬২ সালে তিনি জেনেসিস বা বাইবেলের পুরাতন নিয়মের আদিপুস্তকের ফরাসী অনুবাদ প্রকাশ করেছেন। এই অনুবাদগ্রন্থের ভূমিকায় তিনি পেন্টাটেক বা পঞ্চপুস্তকের এক সাধারণ পরিচিতি পেশ করেন। তাঁর এই ভূমিকা-পরিচিতির বক্তব্য বিশেষভাবে যুক্তিসমৃদ্ধ। ফাদার ডি. ভক্স পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, “যীশু এবং তাঁর প্রেরিতগণ (সহচর বা সাহাবা) যে ইহুদী-ঐতিহ্য অনুসরণ করেছিলেন বলে বলা হত, সে বক্তব্য মধ্যযুগের শেষপর্যায় পর্যন্ত নির্বিবাদে মেনে চলা হয়েছে। দ্বাদশ শতাব্দীতে শুধু একজন ব্যক্তি এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। তিনি হলেন, এ্যাবেনেজরা। ষোড়শ শতাব্দীতে এসে কালস্ট্যাডট প্রথম প্রশ্ন উত্থাপন করেন যে, “দ্বিতীয় বিবরণীতে হযরত মুসার মৃত্যুর যে বিবরণ লিপিবদ্ধ রয়েছে (৩৪, ৫-১২), তা হযরত মুসার নিজের পক্ষে রচনা করা আদৌ সম্ভব নয়। এরপর লেখক অন্যান্য সমালোচকের উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেছেন, ওইসব সমালোচক স্বীকার না করে পারেননি যে, তাওরাতের পঞ্চপুস্তকের অন্তত একাংশ হযরত মুসার রচনা নয়। এ প্রসঙ্গে আর একজন প্রাচীন লেখকের বক্তব্য উল্লেখ না করে পারা যায় না। তিনি ছিলেন একজন ধর্মযাজক, নাম রিচার্ড সাইমন। ১৬৭৮ সালে তিনি ‘ক্রিটিক্যাল হিস্ট্রি অব দা ওল্ড টেস্টামেন্ট নামে এক পুস্তক প্রকাশ করে দেখিয়েছেন যে, তাওরাত বা পুরাতন নিয়মের এই পঞ্চপুস্তকের কোথায় কোথায় ঐতিহাসিক তথ্যের বিভ্রান্তিজনিত সমস্যা বিদ্যমান; কোনো কোনো পরিচ্ছেদ পুনরাবৃত্তির দোষে দূষণীয়; কোনো কোনো কাহিনীতে রয়েছে গরমিল; এবং কোনো কোনো রচনায় রয়েছে ভাষাগত স্টাইলের ভিন্নতা। তদানীন্তন সময়ের খ্যাতিমান বাগ্মী রিচার্ড সাইমনের এই পুস্তকখানি প্রকাশের সাথে সাথে চারিদিকে তুমুল হৈচৈ পড়ে যায়। তবে হৈচৈ যতো তুমুল হোক, অষ্টাদশ শতাব্দী পর্যন্ত রিচার্ড সাইমনের এই পুস্তকে প্রদত্ত যুক্তিসমূহ কিন্তু খুব কমই বাইবেলের ইতিহাস পুস্তকগুলোতে স্থান লাভ করে নিতে সমর্থ হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, সেকালে তাওরাতের প্রাচীনত্বের সূত্র টেনে প্রায়শই “হযরত মুসা লিখে গেছেন” বলে ধুয়া ওঠানো হত।

মূলত, যে কথার সত্যতা স্বয়ং যীশুখ্রিস্ট সাব্যস্ত করে গেছেন বলে বাইবেলের নতুন নিয়মে (ইঞ্জিল) উল্লিখিত রয়েছে, সে সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন যে কতোটা কঠিন তা সহজেই অনুমেয়। তবুও এই প্রশ্ন উত্থাপনের ব্যাপারে অন্তত একজনকে পাওয়া যাচ্ছে। তিনি হচ্ছেন পঞ্চদশ লুইয়ের চিকিৎসক জিন অস্ট্রক তিনিই প্রথম এ বিষয়ে তার সিদ্ধান্তমূলক যুক্তি পেশ করে গেছেন।

১৭৫৩ সালে ‘কনজেকচার অন দা অরিজিন্যাল রাইটিংস হুইচ ইট এপিয়ার্স মোজেস ইউজড টু কমপোজ দি বুক অব জেনেসিস’ নামক এক আলোচনায় তিনি তাওরাতের পুস্তকসমূহের একাধিক উৎসের ওপর গুরুত্বসহকারে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। সম্ভবত, এ বিষয়টি আরো অনেকের নজরে পড়ে থাকবে। কিন্তু, জিন অস্ট্রকই প্রথম তাঁর এই পর্যবেক্ষণ সাধারণ্যে প্রকাশের সাহস দেখিয়েছিলেন। এরমধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণটি ছিল এরূপ : বাইবেলের পুরাতন নিয়মের আদিপুস্তকে দুটি আলাদা পাঠ বা রচনা পাশাপাশি স্থান লাভ করেছে। একটিতে আল্লাহকে উল্লেখ করা হয়েছে ‘জোহোভা’ বলে; অপরটিতে ‘ইলোহিম’ বলে। অর্থাৎ এর দ্বারাই প্রমাণ হয় যে, জেনেসিস বা আদিপুস্তক অন্তত দুটি ভিন্ন রচনার সমাহার। এ্যাইহর্ন নামক অপর এক লেখকও তাঁর এক রচনায় (১৭৮০-১৭৮৩) তাওরাতের অপর চারটি পুস্তকের রচনাতেও এ ধরনের ভিন্নতা দেখেছেন বলে উল্লেখ করেন। এরপর ইলজেন (১৭৯৮) নামক অপর এক লেখক তার এক পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন যে, অস্ট্রক বাইবেলের যে পাঠটিকে আলাদা বলে উল্লেখ করে গেছেন, সেখানে। গড-কে বলা হয়েছে ‘ইলোহিম’–সেই পাঠটিও দুটি আলাদা পাঠের সমাহার। মূলত, তাওরাতের পঞ্চপুস্তক শাব্দিক অর্থেই বিচ্ছিন্ন রচনার সমাহার ছাড়া অন্য কিছু নয়।

ঊনবিংশ শতাব্দীতে এসে বাইবেলের পুরাতন নিয়মের মূল উৎস সম্পর্কে আরো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার-বিশ্লেষণ চলে; এবং সুষ্ঠু বিচার-পরিচালনার মাধ্যমে তাওরাত রচনার চারটি প্রধান ধারা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। যথাঃ জেহোভিস্ট ধারা, ইলোহিস্ট ধারা, গণনাপুস্তকের ধারা এবং সেকেরডোটাল বা পুরোহিতদের রচনার ধারা। এমনকি এই গবেষণায় তাওরাতের এই বিভিন্ন ধারার রচনাকাল পর্যন্ত নির্ণয় করা সম্ভব হয়। যথা :

১. জেহোভিস্ট ধারার রচনাকাল খ্রিস্টপূর্ব নবম শতাব্দীতে (জুদাহ্-তে এই ধারার পুস্তকগুলো রচিত)

২. ইলোহিস্ট ধারার পুস্তকগুলো রচিত হয় সম্ভবত এর কিছু পরে (এসব রচিত হয় ইহুদীদের রাজ্যে)।

৩. ডেটারোনমি বা গণনাপুস্তকের রচনাকাল কারো কারো মতে খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দী (ই. জ্যাকোব); আবার কারো কারো মতে যিশাইও নবীর সময় (ফাদার ডি ভক্স)।

৪. বাইবেলের যে অংশ পুরোহিতদের রচনা, সেই সেকেরডোটাল পাঠ বা ভার্সন রচনার সময়কাল ইহুদীদের নির্বাসনকালে কিংবা তৎপরবর্তী খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বাইবেলের পুরাতন নিয়ম বিশেষত তাওরাতের প্রথম পঞ্চপুস্তকের সংকলনকাল কমপক্ষে তিন শতাব্দী ধরে

কিন্তু এখানেই সমস্যার অন্ত নয়। সমস্যা বরং ক্রমান্বয়ে জটিল থেকে জটিলতর হয়ে পড়ছে। ১৯৪১ সালে এ. লডস নামক এক গবেষক বিচার বিশ্লেষণ করে দেখান যে, তাওরাতের জেহোভিস্ট ধারার পুস্তকগুলো কমবেশি তিনজন লেখকের রচনা। অনুরূপভাবে, ইলোহিস্ট ধারার পুস্তক রচয়িতার সংখ্যা চারজন, গণনাপুস্তকের লেখকের সংখ্যা ছয়জন এবং সেকেরডোটাল সংস্করণের পুস্তকসমূহ কমবেশি নয়জন লেখকের রচনার সমষ্টি। ফাদার ডি ভক্স-এর মতে, পূর্বোক্তসংখ্যক লেখক ছাড়াও বাইবেলের এই পঞ্চপুস্তকের রচয়িতা হিসেবে আরো আটজন লেখকের সন্ধান পাওয়া গেছে। তদুপরি, সম্প্রতি গবেষণা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেছে যে, তাওরাতের পঞ্চপুস্তকে যেসব বিধি বিধান ও আইনকানুনের উল্লেখ রয়েছে, এই বাইবেল ছাড়াও সেসব আইন বিধানের অস্তিত্ব অন্যত্রও বিদ্যমান। শুধু তাই নয়, তাওরাতের পুরাতন নিয়মে এইসব আইনকানুন প্রণয়নের যে তারিখ উল্লিখিত রয়েছে, যেসব আইনকানুন প্রণীত হয়েছে আরো বহু আগে। অনুরূপভাবে,

“তাওরাতের পঞ্চপুস্তকের কাহিনীসমূহের পটভূমি শুধু ভিন্ন নয়; যে সূত্র থেকে এসব বাহিনী গ্রহণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, ওইসব সূত্রও বাইবেলের রচনাকালের বহু আগেকার।”

এইসব গবেষণা থেকে এভাবে “বাইবেল রচনার ক্ষেত্রে ঐতিহ্যের ধারা গঠনের প্রশ্নে বাইবেল লেখকদের আরো বেশি আগ্রহ জাগ্রত করার উপাদান” খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। এভাবে যতোই অনুসন্ধান চালানো হয়, দেখা যায়, সমস্যা ক্রমশ জটিলতর হয়ে দাঁড়ায় এবং গবেষকদের পক্ষে তখন “ছেড়ে দে কেঁদে বাঁচি” বলে আর্তনাদ করা ছাড়া উপায় থাকে না।

বাইবেলের এই পুরাতন নিয়মের রচয়িতার সংখ্যা অনেক বেশি বলেই সম্ভবত তাদের বক্তব্যে মিলের চেয়ে গরমিল বেশি। একইবিষয়ে পুনরাবৃত্তিও কম দেখা যায় না। ফাদার ডি ভক্স একের-পর-এক উদাহরণ তুলে ধরে দেখিয়েছেন, কিভাবে ইতিহাসের কাহিনী এলোমলো হয়ে পড়েছে। বিশেষত, মহাপ্লাবনের প্রশ্নে, যোসেফ বা হযরত ইউসুফের চুরির ঘটনায়, মিসরে তার দুঃসাহসিক কার্যাবলীতে এমনকি একই চরিত্রের নামের প্রশ্নেও লেখকদের মতবিরোধ কত তীব্র। শুধু তাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনা সম্পর্কে লেখকবর্গের ভিন্ন ভিন্ন বিবরণী প্রদানের আলোকেও বাইবেলের রচনাবলীর মধ্যকার গরমিল প্রকট হয়ে ধরা পড়ে।

মোদ্দাকথা, তাওরাতের বিভিন্ন পুস্তক সন্দেহাতীতভাবে বিভিন্ন ঐতিহ্যভিত্তিক কাহিনীর সমাহার। অবশ্য, এ কথা মানতে হবে যে, লেখকেরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এসব ঘটনার সমাবেশ ঘটিয়ে গেছেন এবং এসব কাহিনীকে তারা পাশাপাশি সাজিয়ে কখনো-কখনো তাদের মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর জন্যে নানা গল্প-কথা টেনে এনেছেন। এ কারণে তারা এসব পুস্তকে অসম্ভব ও অগ্রহণযোগ্য বহুবিষয়ের অবতারণাও করেছেন। আর এতসব কারণেই আধুনিক গবেষকগণ এসবের সূত্র ও উৎস অনুসন্ধানকল্পে নিরপেক্ষ গবেষণা পরিচালনার জন্য এগিয়ে না এসে পারেননি।

তাওরাতের পঞ্চপুস্তকের পাঠ-সংক্রান্ত সমালোচনার ক্ষেত্রে বলা চলে যে, সম্ভবত এই পুস্তকগুলো মানুষের হাতে ধর্মগ্রন্থ সংশোধিত হওয়ার জলজ্যান্ত উদাহরণ। ইহুদীদের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে লোকমুখে শ্রুত কাহিনী অবলম্বনে এগুলো রচিত হয়েছিল এবং সেই অবস্থায় সেসব রচনার পরবর্তী বংশধরদের নিকট হয়েছিল হস্তান্তরিত। এভাবে খ্রিস্টপূর্ব নবম শতাব্দীর শুরুতে ইহুদীদের ঐতিহ্যগত কাহিনী অবলম্বনে রচিত হয় তাওরাতের জেহোভিস্ট সংস্করণ। সৃষ্টির আদি থেকে বর্ণিত কাহিনী এতে স্থান লাভ করেছেন। মানুষের জন্য বিধাতার যে মহাপরিকল্পনা বিদ্যমান, সেই পরিকল্পনা কার্যকর করার ব্যাপারে ইহুদীদের ভূমিকার গুরুত্ব বর্ণনাই ছিল এসব কাহিনীর মুখ্য উপজীব্য। (ফাদার ডি. ভক্স)

যাহোক, খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে সেকেরডোটাল ভার্সন তথা পুরোহিতদের দ্বারা রচিত কাহিনীর মাধ্যমে তাওরাতের এই পঞ্চপুস্তকের রচনার কাজ সমাপ্ত হয় এবং এই শেষোক্ত রচনায় স্থানে স্থানে সন, তারিখ ও বংশ-তালিকা জুড়ে দিয়ে এই পুস্তককে যতোটা সম্ভব নির্ভুল হিসেবে তুলে ধরার প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়।

এতদসত্ত্বেও আধুনিক বৈজ্ঞানিক তথ্য ও পরিসংখ্যানের নিরিখে পুরোহিতদের রচিত এই সংস্করণটিতে বর্ণনাগত ভ্রান্তি অনেক বেশি। পৃথিবীতে মানুষের প্রথম আবির্ভাবের কাল এবং সৃষ্টির সূচনাকালীন পরিস্থিতিতে মানুষের মর্যাদা-সংক্রান্ত বর্ণনায় এসব ভ্রান্তি সুস্পষ্ট। তাওরাতের মূল গ্রন্থের অদল-বদল ঘটাতে গিয়েই যে এই ভ্রান্তি ঘটেছে, তা বলাই বাহুল্য।

ফাদার ডি ভক্স লিখে গেছেন, “পুরোহিতদের রচিত এই সংস্করণে ইহুদীদের নিজস্ব আইনগত বিধি-বিধানের সমর্থনে বিভিন্ন কাহিনী সংযোজিত হয়েছে। যেমন : বিশ্বসৃষ্টির কর্মকাণ্ড শেষে বিধাতা কর্তৃক শনিবারে বিশ্রামগ্রহণ; হযরত নূহ ও হযরত ইবরাহীমের প্রতি আনুগত্য; ত্বকছেদন এবং ম্যাকপেলা গুহা ক্রয়ের মাধ্যমে ইহুদী যাজকদের কেনানে ভূসম্পত্তি লাভ” ইত্যাদি।

এই আলোচনা প্রসঙ্গে অবশ্যই স্মরণযোগ্য যে, বাইবেলের এই সেকেরডোটাল সংস্করণটির সংকলনকাল ইহুদীদের ব্যাবিলনে নির্বাসন থেকে প্যালেস্টাইনে ফিরে আসা পর্যন্ত। অর্থাৎ খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৮ সাল থেকে এর সূচনা। এ কারণে বাইবেলের এই সংস্করণে নির্ভেজাল রাজনৈতিক সমস্যাও ধর্মীয় বিষয়ের সাথে জড়িয়ে গেছে।

বাইবেলের পুরাতন নিয়মের আদি পুস্তকটি যে তিনজন ভিন্ন লেখকের তিনটি আলাদা রচনার সমাহার, সেই অভিমত এখন সুপ্রতিষ্ঠিত। ফাদার ডি ভক্স তাঁর অনূদিত ফরাসী বাইবেলের মুখবন্ধে এই আদিপুস্তকের কোন কোন পরিচ্ছেদ কার কার রচনা এবং কোন কোন আমলের রচনা, তার একটা তালিকাও তুলে ধরেছেন। আর সেই প্রামাণ্য-দলিলের আলোকে বাইবেলের কোন কোন অধ্যায়ের রচনায় কোন যুগের কোন কোন লেখকের কতোটা অবদান–তাও নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, সৃষ্টিতত্ত্ব-সংক্রান্ত আলোচনা, মহাপ্লাবন এবং তৎপরবর্তী হযরত ইবরাহীমের আমল পর্যন্ত ঘটনাবলীর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। আদিপুস্তকের এগারোটি অধ্যায় জুড়ে এসব কাহিনী বর্ণিত রয়েছে। কিন্তু সম্পূর্ণ বর্ণনার কোন অংশ জেহোভিস্ট আমলের রচনা আর কোন অংশ সেকেডোটাল আমলে রচিত তা রচনাভঙ্গির দ্বারাই সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত। যেমনঃ

বাইবেলের আদিপুস্তকে জেহোভিস্ট ও সেকেডোটাল পাঠের সংমিশ্রণ-এর ছক

বাইবেলের আদিপুস্তকে জেহোভিস্ট ও সেকেডোটাল পাঠের সংমিশ্রণ-এর ছক

দ্রষ্টব্য : প্রথম ও তৃতীয় সংখ্যাটি অধ্যায়সূচক। বন্ধনীর মধ্যকার দ্বিতীয় ও চতুর্থ সংখ্যাটি বাক্য বা বাক্যাংশসূচক। ‘পাঠ’-এর ঘরে ‘জে’ বলতে জেহোভিস্ট পাঠ এবং ‘সে’ বলতে সেকেরডোটাল পাঠ বুঝতে হবে। যেমন : ছকের প্রথম লাইন : আদি পুস্তকের ১নং অধ্যায়ের ১নং বাক্যাংশ থেকে ২ নং অধ্যায়ের ৪-ক বাক্যাংশ পর্যন্ত সেরেডোটাল পাঠ।

দেখা গেছে, বাইবেলের প্রথম এগারোটি অধ্যায়ে ইলোহিস্ট আমলের কোনো রচনা স্থান পায়নি। এক্ষেত্রে, আদিসৃষ্টি থেকে হযরত নূহের আমলের কাহিনীর বর্ণনায় (অর্থাৎ প্রথম পাঁচটি অধ্যায় রচনায়) একটি সাধারণ নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে। প্রথমে জেহোভিস্ট বর্ণনা এবং পরের বর্ণনা সেকেরডোটাল আমলের; এবং এভাবে শুরু থেকে শেষপর্যন্ত গোটা বর্ণনাকেই সাজিয়ে নেয়া হয়েছে। তদুপরি, মহাপ্লাবনের অধ্যায়ে বিশেষত সপ্তম ও অষ্টম অধ্যায়ে এসে একের-পর–এক প্রতিটি আমলের বর্ণনা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। এমন সংক্ষিপ্ত যে, কোনো বর্ণনা একবাক্যেই শেষ হয়ে গেছে। ইংরেজি বাইবেল পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, এই পর্যায়ে কম-বেশি একশত লাইনের মধ্যে একেকটি আমলের রচনা ঘুরেফিরে এসেছে পরপর সতেরো বার। আর তাই, এখন বর্তমান আমলের বাইবেল পড়তে গিয়ে দেখা যায়, গোটা বর্ণনা কিভাবে যতসব অসম্ভব ও পরস্পরবিরোধী কাহিনীতে পূর্ণ।

ঐতিহাসিক পুস্তকাবলী

বাইবেলের পুরাতন নিয়মের ঐতিহাসিক পুস্তকগুলো (বাংলা বাইবেলের দ্বিতীয় বিবরণ-এর পরবর্তী পুস্তকসমূহ দ্রষ্টব্য) মাধমে ইহুদীদের ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়। এই ইতিহাসের বিস্তার প্রতিশ্রুত ভূখণ্ডে তাদের আগমন (খুব সম্ভব খ্রিস্টপূর্ব ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষদিকের ঘটনা) থেকে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে ব্যাবিলনে তাদের নির্বাসন পর্যন্ত।

এই পুস্তকগুলোতে যেসব ঘটনার উপরে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, যে কোনো বিচারে তা ইহুদীদের নিজস্ব জাতীয় ঘটনাবলী” ছাড়া কিছু নয়। কিন্তু এখানে এসব ঘটনা উপস্থাপিত করা হয়েছে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হওয়ার উদাহরণ হিসেবে।

যাহোক, এসব পুস্তকের বর্ণনায় ঐতিহাসিক সত্যতার কোনো ধার ধারা হয়নি। যেমন, এই অধ্যায়ে সন্নিবেশিত ইশাইয়া পুস্তকটি প্রথমত ও প্রধানত সংকলিত হয় ধর্মীয় বিধি-বিধান প্রচারের উদ্দেশ্যে। এই পর্যায়ে এই স্ববিরোধিতাকে সামনে রেখেই ই. জ্যাকোব তাঁর পুস্তকে আরো একটি বৈপরিত্যের উদাহরণ তুলে ধরেছেন। তাহল, জেরিকো এবং আই-এর কল্পিত ধ্বংসের ঘটনা–যারমধ্যে প্রকৃত ঘটনার সাথে বর্ণনার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া দুস্কর।

বাইবেলের পুরাতন নিয়মের বিচারকগণ পুস্তকের প্রধান বিষয়বস্তু হল শত্রু পরিবেষ্টিত মনোনীত ব্যক্তিদের (অর্থাৎ ইহুদীদের) পক্ষ সমর্থন করা; এবং এই মর্মে বক্তব্য রাখা যে, আল্লাহই তাদের সমর্থন দিচ্ছেন। ফাদার এ লেফেভার তার ক্রাম্পন বাইবেলের’ মুখবন্ধে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকেই এই মন্তব্য করেছেন যে, বাইবেলের এই ‘বিচারকগণ পুস্তকটি বেশ কয়েকবার সংশোধন করা হয়েছে। বাইবেলের বিভিন্ন ভূমিকা ও পরিশিষ্ট এর বড় প্রমাণ। রুথের কাহিনীটি যে এই পুস্তকের বর্ণনার সাথে জোড়াতালি দেয়ার মত করে জুড়ে দেয়া হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

‘শ্যামুয়েল পুস্তক’ এবং ‘রাজাবলী পুস্তক’ দুটি মোটের উপর শ্যামুয়েল ও সৌল এবং ডেভিড ও সলোমনের (হযরত দাউদ ও হযরত সোলায়মান) জীবন বৃত্তান্তের সংকলন ছাড়া আর কিছু না। কিন্তু পুস্তকগুলোতে ইতিহাসের সত্যতা কতটা সংরক্ষিত হয়েছে তা বিতর্কের ব্যাপার। ই. জ্যাকোব এসব পুস্তকের বহু ভ্রান্তি নির্দেশ করেছেন। তিনি আরো দেখিয়েছেন যে, কোনো ঘটনার দুটি এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনটি পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে। ইলিয়াস, এলিশা ও ইশাইয়া প্রমুখ নবীর কাহিনীও এই পর্যায়ে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু সে বর্ণনায় ইতিহাস আর উপকথা একসঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। অথচ, এ বিষয়ে অপরাপর ভাষ্যকারদের মতই ফাদার এ. লেফেভারের মন্তব্য, “এইসব পুস্তকের ঐতিহাসিক যে গুরুত্ব তা নাকি একেবারে মৌলিক!”

‘বংশাবলী পুস্তক’–১ ও ২ ‘ইষরা পুস্তক’ এবং ‘নহিমিয় পুস্তক’ কয়টির লেখক কিন্তু একই ব্যক্তি। বংশাবলী-বিশারদ হিসেবে পরিচিত এই লেখক খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে এসব পুস্তক রচনা করেন। তিনি সৃষ্টিতত্ত্বের ইতিহাস থেকে শুরু করে তার সময়কাল পর্যন্ত ইতিহাস রচনা করেছিলেন। অবশ্য, তাঁর রচনায় ইহুদী রাজবংশের তালিকা হযরত দাউদ পর্যন্ত গিয়েই শেষ হয়েছে। মূলত, তিনি তাঁর রচনায় অন্য অনেককিছুর সাথে শ্যামুয়েল পুস্তক ও রাজাবলী পুস্তকে বর্ণিত ঘটনাবলী ব্যবহার করেছেন নির্বিচারে : “তিনি সেসব শুধু নকল করেই গেছেন; সেসবের মধ্যে যে অসঙ্গতি ছিল, তা কিন্তু লক্ষ্য করেননি।” (ই. জ্যাকোব) এতুদসত্ত্বেও একটি কথা স্বীকার করতে হবে যে, এই লেখক তার পুস্তকের বর্ণনা পুরাকীর্তি ও ধ্বংসাবশেষের সাথে মিলিয়ে নিয়ে সেসবের একটি সঠিক রূপ দেয়ার প্রয়াস চালিয়ে গেছেন। অবশ্য, এসব রচনায় ধর্মীয় বিধি বিধান ও আইনকানুনের স্বার্থে ইতিহাসকে সযত্নে সংশোধন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ই. জ্যাকোবের মন্তব্য : “এই লেখক বহুক্ষেত্রে ইতিহাস রচনা করেছেন ধর্মীয় বিধি-বিধানের প্রয়োজন পূরণের জন্য। প্রসঙ্গত, এই লেখক রাজা মনঃশি-র যে কাহিনী বর্ণনা করেছেন, তার সূত্র টেনে ই. জ্যাকোব বলেছেন : “লেখকের বর্ণনামতে, এই রাজা ছিলেন পরম ধার্মিক এবং ন্যায়বিচারক। তাঁর রাজত্বকাল ছিল সুদীর্ঘ ও সমৃদ্ধপূর্ণ। রাজা মনঃশি আসিরিয়ায় অবস্থানকালে স্রষ্টার সাথে কথোপকথন করেছিলেন বলেও লেখক। উল্লেখ করেছেন। (বংশাবলী, ২-৩৩/১১) কিন্তু লেখক যা-ই বলুন না কেন, বাইবেলের অন্যত্র কিংবা বাইবেলের বাইরে অন্যকোনো সূত্রে এই রাজা সম্পর্কে কোথাও কিছু উল্লেখ পাওয়া যায় না।” ইষরা পুস্তক’ এবং নহিমিয় পুস্তক দুটিকেও একইভাবে তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কারণ, আর কিছুই নয়। দুটি পুস্তকেই গুরুত্বহীন বিষয় নিয়ে বাগাড়ম্বর করা হয়েছে এবং এই দুই পুস্তকে যে সময়ের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে (খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দী) সে সময়কার কোনো ঘটনা সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা যায় না। তাছাড়া, বাইবেলের বাইরে এসব ঘটনার প্রামাণ্য দলিলও তেমন কিছু নেই।

একইভাবে টোবিট, জুডিথ ও ইস্টের পুস্তক তিনটিকেও ঐতিহাসিক পুস্তকের পর্যায়ে ফেলা হয়েছে। কিন্তু এসব পুস্তকে ইতিহাসের কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে লেখকেরা স্বেচ্ছাচারিতার চুড়ান্ত করে ছেড়েছেন। ঐতিহাসিক ব্যক্তিবর্গের নাম পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন নতুন ঘটনা ও চরিত্রের আমদানি করা হয়েছে। আর এসব কিছুই করা হয়েছে ধর্মের নামে। প্রকৃতপক্ষে, এসব কাহিনীতে ইতিহাসের নাম করে যতসব অসত্য ও অসম্ভব ঘটনা এমনভাবে ঢোকানো হয়েছে, যেন গল্প পড়ে পাঠক নীতিকথা হিতোপদেশ পেতে পারে।

বাইবেলের ম্যাক্কাবিস পুস্তকখানি অবশ্য সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের। এ পুস্তক খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দীতে সংঘটিত ঘটনাবলী স্থান লাভ করেছে। এসব বর্ণনায় এই সময়ের ইতিহাসের সত্যতা সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রাখার প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। এ কারণে সত্য ঘটনার বৃত্তান্ত হিসেবে এই পুস্তকের গুরুত্ব অনেক।

সুতরাং, দেখা যাচ্ছে বাইবেলে বর্ণিত ঐতিহাসিক পুস্তকাবলী অনেকাংশে ভিত্তিহীন। এসব পুস্তকে ইতিহাস যেমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণের প্রতিদ্বন্দ্বী; তেমনি কোনো কোনো কাহিনী ভাবাবেগের বহিঃপ্রকাশ ছাড়া কিছুই নয়।