জেনিফার – কৌশিক সামন্ত

জেনিফার

“রোজ তো অন্য ফুল আনো, আজ তবে গোলাপ কেন?”

“এতগুলো বছর পরেও কারণটা মুখে বলতে লাগবে জেনি?”

“আজকের দিনটা তাহলে তোমার মনে ছিল বলো?”

“মাঝে মাঝে তুমি খুব বোকার মতো কথা বলে ফেলো জেনি!”

“আমি বোকা? নাকি তোমার এই রোজ রোজ ফুল নিয়ে আমার কাছে এখানে আসা টা…”

“আজকের দিনে এগুলো থাক না জেনি।”

“বেশ তবে থামলাম।”

“আজকের দিনে আমরা কীরকম মজা করতাম মনে আছে? সারা বাড়ি জুড়ে বেলুন দিয়ে সাজাতাম, মিসেস ডিকুইজার বেকারির চকোলেট কেকটা কাটার আগেই কিন্তু রণি…”

“আচ্ছা রনী কেন আসে না আমার কাছে ফ্রান্সিস?”

“জেনিফারের প্রশ্নের কোনো উত্তর আসে না।”

“আমি জানি ও আমাকে এখনও ঘেন্না করে, কিন্তু… কিন্তু আমার তো কিছু করার ছিল না, তোমার কারখানাটায় লক আউট, তুমি বিছানায় পঙ্গু হয়ে পড়ে ছিলে, তোমার মেডিকেল বিল, ফ্ল্যাটের ভাড়া বাকির নোটিশ, রণির ইংলিশ মিডিয়ামের ফিজ, সবমিলিয়ে তুমি তো জানো আমার কী অবস্থা হয়েছিল, তাই তোমার বন্ধু ওই স্কাউনড্রেল মেহেরার সাহায্য নেওয়া ছাড়া আমার উপায় ছিল না, তোমাদের বাঁচাতে আমার ওর টাকার দরকার ছিল…”

“তুমি সেদিনও ভুল বুঝেছিলে আর আজও ভুল করছ জেনি।” জেনিফারকে মাঝপথেই থামিয়ে দেয় ফ্রান্সিস!

“২৭ বছরের সম্পর্কটা, কটা মিথ্যে রাতের স্মৃতিতে ঠুনকো হয়ে যায় না, সেদিন রাতে ওই মাতাল মেহরাটার নেশার ঘোরে কটা কথার জোর যদি এত হয়, তাহলে তো বলতে হয়, তুমি আমাকে বা রণিকে কোনোদিন বোঝইনি, ভালোইবাসোনি …”

“কিন্তু আমি কীভাবে পারতাম, ওই নোংরা লোকটার কথাগুলো রণি শোনার পর ওর সামনে গিয়ে দাঁড়াতে, ওর চোখে চোখ রেখে কথা বলতে, বিশ্বাস করো আমি চেয়েছিলাম তোমাদের আগে জানাতে, কিন্তু আমি পারিনি।”

“আচ্ছা ফ্রান্সিস একটা কথা বলবে আমাকে ছুঁয়ে, তুমি আমাকে সত্যি ক্ষমা করতে পেরেছ আজও?”

“রোজ রোজ তোমার এই এক প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি ক্লান্ত জেনি, আমি আর কাল থেকে আসব না।”

“ওটা তুমি রোজই বল, আবার চলে আসো ফ্রান্সিস।”

“হ্যাঁ আমি রোজই আসি, আর কেন আসি জানো? কারণ আমি তোমাকে ভালোবেসেছিলাম।”

“একটু আগে প্রশ্ন করছিলে না যে রণি কেন আসে না, ঘেন্না নয় জেনি, অভিমানে, তোমার ওপর প্রচণ্ড অভিমান তার।”

“ও কী, চলে যাচ্ছো ফ্রান্সিস?”

“হ্যাঁ জেনি আমি এখন উঠলাম, কাল আবার আসব, তুমি বিশ্রাম নাও এখন…”

.

“রোজ রোজ বুড়োটার নাটক ভালো জমে কী বল মিত্তির?”

“হা হা ভালোই বলেছ ভায়া।”

“একেই বলে বুড়ো বয়সের ভীমরতি বুঝলে কিনা।”

“তাও যদি বউটা সতী হত, শুনেছি মেমসাহেবের নাকি অনেক দোষ ছিল, সুইসাইড কেস।”

“হুঁহ্, তার জন্য আবার ঘটা করে রোজ কবরে ফুল নিয়ে আসা, আমি হলে না শালা ওরম বউয়ের মুখে…

“আহা থাক থাক তুমি আবার মাথা গরম করো না, তোমার আবার হাই ব্লাড প্রেশার, চলো সন্ধ্যে হয়ে আসছে বাড়ি ফিরি, সন্ধ্যের পর এদিকটা আবার ভালো না খুব একটা।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *