এলেক্সা – কৌশিক সামন্ত

এলেক্সা

এলেক্সা প্লে সাম মিউজিক!

এলেক্সা প্লে সাম মিউজিক!

অন্তত চার-পাঁচবার কথাটা বলল ডেভিড, শেষবারটা তো রীতিমতো চিৎকার করে।

কিন্তু নাহ্, নো রেসপন্স।

এতগুলো ডলার দিয়ে কেনা জিনিসটা সবে দুদিন হয়েছে, এর মধ্যেই বিকল! ইরেসপন্সিবল আমাজন, ভালো করে টেস্ট না করে রদ্দি যত মাল দিয়ে ভরিয়ে রেখেছে, কালই রিটার্ন মারব। মনে মনে বলল ডেভিড। বিরক্তিভরে গায়ের চাদরটা টেনে নিয়ে শুয়ে পড়ল সে, অনেকটা রাত হয়ে গেছে।

“ওকে ডেভিড, টু পিসেস অফ স্টেইনলেস স্টিল লাইফ সেট ইজ অন ইটস ওয়ে। ইউ শুড হ্যাভ ইট ইন এ কাপল অফ ডেইজ।”

ধড়মড় করে জেগে উঠল ডেভিড, এলেক্সা-র উজ্জ্বল নীল আলোটা তার চোখে এসে পড়েছে, এলেক্সা কিছু একটা বলল যেন।

“ওকে ডেভিড, টু পিসেস অফ স্টেইনলেস স্টিল নাইফ সেট ইজ অন ইটস ওয়ে। ইউ শড হ্যাভ ইট ইন এ কাপল অফ ডেইজ।” আবার বলে উঠল এলেক্সা।

ছুটে গিয়ে ল্যাপটপ খুলে সে, সোজা আমাজনে লগ ইন। কিন্তু নাহ্ সেখানে তো কোনো ছুরির অর্ডার দেওয়া নেই।

আশ্চর্য, যন্ত্রটা কী পুরোপুরি বিকল হয়ে গেল? নাকি চাইনিজরা হ্যাক-ট্যাক করে নিল তার অ্যাকাউন্ট? কিন্ত তাহলে তো তার অ্যামাজন অ্যাকাউন্টে অর্ডার লিস্ট থাকত। অদ্ভুত তো, গোলগাল যন্ত্রটা হাতে নিয়ে ভাবতে থাকল ডেভিড।

এলেক্সা অবশ্য আগের মতোই নীরব হয়ে গেছে।

মরুক গে, কাল সকালেই কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে নিয়ে যেতে বলবে আপদটাকে, আবার শুয়ে পড়ল ডেভিড।

ঘণ্টাখানেক বোধহয় গেছে….

“ওকে ডেভিড, হাই স্ট্রেন্থ স্ট্রেচেবেল ইলাস্টিক রোপ ইজ অন ইটস ওয়ে। ইউ শুড হ্যাভ ইট ইন এ কাপল অফ ডেজ।”

আবার বলে উঠল এলেক্সা!

অলমোস্ট মাঝরাত্রি, কাল সকালে অফিস যেতে হবে, ইয়ার্কির একটা সীমা আছে। বিছানা থেকে উঠে পড়ল ডেভিড, একঝটকায় খুলে নিল আউটলেট প্লাগটা, এলেক্সা-র নীল চোখটা ধীরে ধীরে কালো হয়ে বুজে গেল।

আপদ গেল, কালই তোর ব্যবস্থা করছি দাঁড়া, দাঁত কড়মড়িয়ে বলে উঠল ডেভিড।

.

।। দুই।।

“কী ডেভিড শরীর খারাপ নাকি? চোখমুখের এরকম হাল কেন?” ডেভিডকে ঘরের দরজা বন্ধ করতে দেখে প্রশ্ন করলেন বাড়ি মালিক মিসেস রেজমন্ড

“গুড মর্নিং মিসেস রেজমন্ড।”

“গুড মর্নিং, তা উইক এন্ডে এত সকালে চললে কোথায়?”

“অফিসে একটা কাজ পড়ে গেছে।” মৃদু হাসে ডেভিড। “তা চোখ-মুখ এরকম কেন? কাল রাতে পার্টিটা একটু বেশি হয়েছিল বুঝি?”

“আরে না না, কাল রাতে একটা সমস্যায় পড়েছিলাম, ঘুম হয়নি খুব একটা।”

“কী সমস্যা?”

“আপনার কাছে এলেক্সা আছে?”

“কী ভুলভাল বলছ ডেভিড, নেশা করেছ নাকি? এলেক্সা আমাদের কাছে কী করে থাকবে?”

“আরে আমাজনের এলেক্সা, কদিন আগেই নিয়েছিলাম, হঠাৎ হঠাৎ নিজের থেকে অন হয়ে ভুলভাল কম্যান্ড নিচ্ছে, দিচ্ছে।”

“ওহ্ আমাজনের এলেক্সা, তাই বলো, কিছু বাগ আছে হয়তো, তা কাস্টমার কেয়ারে রিটার্ন করে দাও।”

“হ্যাঁ আজকেই ফোন করব, আচ্ছা চলি এখন, বাই।”

“বাই।”

ডেভিড চলে গেল।

মিসেস রেজমন্ডের কেমন একটা খটকা লাগল যেন, বাড়ির মালকিন হিসেবে সব বোর্ডারেরই ঘরের একটা এক্সট্রা চাবি ওনার কাছে থাকে। কাজটা অনুচিত, কিন্তু করে ফেললেন মিসেস রেজমন্ড।

দরজাটা খুলে ফেললেন মিসেস রেজমন্ড!

খুলতেই একটা বোঁটকা গন্ধ, কী যেন একটা পচেছে। মেঝের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন জিনিসপত্র, অ্যামাজনের প্যাকেট বাক্স, একগাছা দড়ি, দুটো ছুরি, অবস্থা দেখে তো একদম নতুন বলে মনে হচ্ছে, ইরেসপন্সিবল ছেলে-পুলে, ভাবলেন মিসেস রেজমন্ড

আরে টেবিলের ওপর ওটা কী? চিৎকার করে উঠলেন মিসেস রেজমন্ড।

টেবিলের ওপর পড়ে আছে এলেক্সা।

তবে আমাজনের এলেক্সা নয়…

ডেভিডের পাঁচ বছরের পুরোনো গার্লফ্রেন্ড এলেক্সা-র কাটা মুণ্ডুটা, পোকা ভনভন করছে সেখানে …

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *