জীবনীপঞ্জী

জীবনীপঞ্জী

জন্ম :— ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার আহিরিটোলার মামারবাড়িতে। ভালো নাম রাখা হয় অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়। দাদামশাই নাম রাখেন ‘উত্তম’।

শিক্ষা :— চক্রবেড়িয়া হাইস্কুলে শুরু করে সাউথ সুবার্বণ মেন স্কুল থেকে ১৯৪২ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন। স্কুলে থাকতে ১০ বছর বয়সে প্রথম ‘গয়াসুর’ নাটকে অভিনয় ও মেডেল লাভ। এছাড়া, ইস্কুলেই পড়াকালীন প্রথম বাইরে শখের থিয়েটারে অভিনয় করেন ‘মুকুট’ নাটকে।

উপনয়ন :— ১৯৩৯-এ ১৩ বছর বয়সে।

সঙ্গীতশিক্ষা :— প্রখ্যাত গুণী সঙ্গীতজ্ঞ নিদানবন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ১৯৪২ সালে।

চাকরি :— ১৯৪৪ সালে পোট কমিশনার্স-এ কেরানী হিসেবে যোগদান। গৌরী দেবী (গৌরীরানী গাঙ্গুলি)-র সঙ্গে প্রথম দেখা। এই বছর কিছুদিন চক্রবেড়িয়া (সাউথ) মনোরমা স্কুলে গান শেখান।

প্রথম স্যুটিং :— ১৯৪৭ সালে হিন্দি ‘মায়াডোর’ ছবিতে ভারতলক্ষ্মী স্টুডিওতে। ছবিটি মুক্তি পায়নি।

প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি :— ১৯৪৮ সালে নীতিন বসু পরিচালিত ‘দৃষ্টিদান’ ছবি।

প্রথম নায়ক :— ১৯৪৯-এ মুক্তিপ্রাপ্ত নব্যেন্দুসুন্দর ব্যানার্জি পরিচালিত ‘কামনা’ ছবিতে। নায়িকা ছিলেন ছবি রায়। এই ছবিতে নাম নেন ‘অরুণকুমার’। ১৯৫০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দিগম্বর চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত ‘মর্য্যাদা’ ছবিতে নাম নেন ‘অরূপকুমার’। সম্ভবত, ১৯৫১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত রাজেন চৌধুরি পরিচালিত ‘ওরে যাত্রী’ ছবি থেকে নাম নিলেন— ‘উত্তমকুমার’।

বিবাহ :— ১৯৫০-এর ১ জুন গৌরী দেবীর সঙ্গে বিয়ে। এই বছরেই এম. পি প্রোডাকসন্সের স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে যোগদান। ১৯৫১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পুত্র গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম।

প্রথম সাফল্য :— ১৯৫২ সালে মুক্তি পাওয়া নির্মল দে পরিচালিত ‘বসু পরিবার’ ছবিতে। এই বছর পোর্ট কমিশনার্স-এর চাকরি থেকে ইস্তফা দেন।

সুচিত্রা সেনের সঙ্গে প্রথম ছবি :— ১৯৫৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিতে। প্রথম পেশাদার মঞ্চে অভিনয় করেন ‘স্টার’ থিয়েটারে ‘শ্যামলী’ নাটকে। ১৯৫৩ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে সুদীর্ঘকাল ধরে ১৯৫৫ সালের ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৪৮৪ রাত্রি, এই নাটকে নায়ক অনিলের চরিত্রে অভিনয় করেন। সঙ্গে ছিলেন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, জহর গঙ্গোপাধ্যায়, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, সরযূবালা দেবী, অনুপকুমার প্রমুখ বিশিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রীবর্গ।

—রোম্যান্টিক ‘স্টার’ ইমেজ পান ‘অগ্নিপরীক্ষা’ (১৯৫৪) ছবিতে। নায়িকা ছিলেন সুচিত্রা সেন।

—‘নবজন্ম’ (১৯৫৬) ছবিতে নচিকেতা ঘোষের সুরে ৬ খানি কীর্তনের পদ অভিনয়সহ নিজের গলায় গেয়েছিলেন। রেকর্ডে গানগুলি ছিল না। সম্ভবত, আর কোনো ছবিতে তাঁর গলায় গান শোনা যায় নি।

—‘হারানো সুর’ (১৯৫৭) উত্তমকুমারের প্রথম প্রযোজিত ছবি। পরিচালক ছিলেন অজয় কর। উত্তমকুমারের বিপরীতে নায়িকা ছিলেন সুচিত্রা সেন।

—‘তাসের ঘর’ (১৯৫৭)-এ প্রথম দ্বৈত ভূমিকায় অভিনয়।

—‘পথে হলো দেরী’ (১৯৫৭)-তে প্রথম রঙিন ছবিতে অভিনয়। ছবিটি গেভা কালারে তোলা।

—১৯৫৯ সালের ৭ ডিসেম্বরে পিতৃবিয়োগ।

—‘শুধু একটি বছর’ (১৯৬৬) প্রথম পরিচালিত ছবি হিসেবে মুক্তি পায়।

—‘কাল তুমি আলেয়া’ (১৯৬৬) ছবিতে প্রথম সঙ্গীত পরিচালনা করেন।

—সত্যজিৎ রায়ের ‘নায়ক’-এ অভিনয়সূত্রে তাঁরই সঙ্গে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে যান। এটাই উত্তমকুমারের প্রথম বিদেশযাত্রা।

—১৯৬৭ সালে নিজেরই প্রযোজনায় প্রথম অভিনীত হিন্দি ছবি হিসেবে ‘ছোটি সি মুলাকাত’ ছবিটি মুক্তি পায়। নায়িকা ছিলেন বৈজয়ন্তীমালা।

—১৯৬৭ সালে ভারত সরকার প্রথম চালু করেন ‘ভরত পুরস্কার’। প্রথমবারই, ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেতা’ হিসেবে যথাক্রমে ‘চিড়িয়াখানা’ ও ‘অ্যান্টনী ফিরিঙ্গি’ ছবির জন্য এই পুরস্কার পান উত্তমকুমার।

—‘অভিনেতৃ সংঘ’-এর সভাপতিত্ব ছেড়ে ১৯৬৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠা করলেন ‘শিল্পী সংসদ’। আজীবন সভাপতি ছিলেন এই সংস্থার। বেশকিছু ছবি প্রযোজনা থেকে আরম্ভ করে চলচ্চিত্র জগতের নানারকম উন্নয়নমূলক ও সেবামূলক কাজ করতো এই সংস্থা।

—১৯৬৯ সালের ১৯ জানুয়ারি কলকাতা পুরসভা নাগরিক সংবর্ধনা দেন উত্তমকুমারকে।

—দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের মেয়ে ও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের মা অপর্ণা রায়ের ৭৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক নির্মিত তথ্যচিত্রে ভাষ্যকারের ভূমিকা নিয়েছিলেন উত্তমকুমার।

—চিরপরিচিত ‘মহিষাসুরমর্দিনী’-র জায়গায় ১৯৭৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মহালয়ার ভোরে কলকাতা বেতারে সম্প্রচারিত হয়েছিল ‘দেবীং দুর্গতিহারিণীম’ নামে গীতিআলেখ্য। এই অনুষ্ঠানে অন্যতম ভাষ্যপাঠে ছিলেন উত্তমকুমার।

—১৯৭৮ সালের ১ মার্চ পুত্র গৌতমের বিয়ে।

—১৯৭৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নাতনির জন্ম। দিনটি দুর্গাপূজার নবমীর দিন হওয়াতে, উত্তমকুমার তাঁর নাতনীর নাম দেন ‘নবমীতা’।

—১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই, রাত ৯-৩০ মিনিটে কলকাতার বেলভিউ ক্লিনিকে প্রয়াত হন উত্তমকুমার।

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *