কলিকাতায় নবকুমার – ৫৬

ছাপান্ন

সেট তৈরি হয়ে পড়ে আছে। অথচ শ্যুটিং হচ্ছে না। বড়বাবু স্টুডিওতে আসছেন না, ফোন করলে ধরছেন না। শুধু প্রাোডাকশন ম্যানেজারকে দিয়ে খবর পাঠিয়েছেন, নবকুমার সুস্থ হয়ে না ওঠা পর্যন্ত ছবির শ্যুটিং বন্ধ থাকবে।

নবকুমারকে দেখে স্টুডিওতে ফিরে যেতেই টেকনিশিয়ান্সরা ভিড় করে এল, হিরো কবে থেকে শ্যুটিং করতে পারবে?

গীতিময় তাদের জানালেন, খুব বেশি দেরি হলে দিন সাতেক সময় লাগবে। যেহেতু প্রাোডিউসার সেট ভাঙার কথা বলেননি তাই এই সময়ের ফ্লোর ভাড়া তিনি দেবেন। যারা দৈনিক পেমেন্ট পান তারা সেটা পাবেন। চারধারে খুশির হওয়া বইল। বড়বাবুর নাম ছড়াল। কত বড় হৃদয় হলে একটি তরুণ নবাগতের জন্যে মানুষ এত ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, তা নিয়ে আলোচনা চলল।

একটু হালকা হলে গীতিময় আবার বড়বাবুকে ফোন করলেন। রিং হচ্ছিল। গীতিময় যখন হতাশ হয়ে লাইন কেটে দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বড়বাবুর গলা শুনতে পেলেন। তিনি বেশ উত্তেজিত গলায় বললেন, ‘নবকুমারকে দেখতে গিয়েছিলাম। তেমন কিছু সিরিয়াস নয়। চার-পাঁচ দিনেই সুস্থ হয়ে যাবে।’

‘তাই নাকি?’ বড়বাবুর গলায় কোনও উত্তাপ নেই।

‘হ্যাঁ। আপনি শ্যুটিং বন্ধ রাখতে বলেছেন। কিন্তু ফ্লোরের ভাড়া, রোজের টাকা তো দিতেই হচ্ছে। আমরা তো নবকুমার যেসব দৃশ্যে নেই, সেগুলোর কাজ ওই সেটে করতে পারি।’ গীতিময় প্রস্তাব দিলেন।

‘টাকাটা যখন আমি দিচ্ছি তখন ব্যাপারটা আমাকেই বুঝতে দিন।’

‘ও। হ্যাঁ। নিশ্চয়ই।’ থতমত গলায় বললেন গীতিময়।

‘এখন তো এক সেটে তিনটে ছবি বানানো হচ্ছে। দর্শকরা হলে সেট দেখতে যায় না, ডায়ালগ শুনতে আর অ্যাক্টিং দেখতে যায়। মহাপরিচালকরা যদি এভাবে কাজ করে ছবির খরচ কমাতে পারেন তাহলে আপনি পারবেন না কেন?’

‘আমি…মানে, ঠিক বুঝতে পারলাম না—।’

‘যে সেট বানিয়েছেন সেই সেটে অন্য গল্পের ছবি করা যায় কি না ভেবে দেখুন। কাল ফোন করবেন।’ বড়বাবু রিসিভার নামিয়ে রাখলেন।

গীতিময় হতভম্ব হয়ে চেয়ারে বসে পড়লেন। এই লোকটাকে তিনি একটুও বুঝতে পারেন না। কথাবার্তা আগের সময়ের জমিদারদের মতো, মেজাজও সেইরকম। কিন্তু পরিচালকের কাজে নাক গলান না। অন্য প্রযোজকদের সঙ্গে কাজ করতে গেলে প্রতি মুহূর্তে তাদের উপদেশ গিলতে হয়, বড়বাবুর ক্ষেত্রে তা হয় না। কিন্তু এটা কী বললেন উনি?

টালিগঞ্জে এখন একই সেটে একজন পরিচালক একাধিক ছবি বানাচ্ছেন। ছবিগুলোর গল্পের পটভূমি এক থাকছে শুধু চরিত্র আর নাটক বদলে যাচ্ছে। একই অভিনেত্রী সকালে কৌশল্যা সাজছেন দশরথের পাশে সিংহাসনে বসে, আবার বিকেলে তিনিই গান্ধারী সেজে বসছেন ধৃতরাষ্ট্রের পাশে। রাজদরবারের সেট অটুট থাকছে। দর্শক বোঝার চেষ্টাও করছেন না। বড়জোর সপ্তাহখানেক, তারপরই যখন এই ছবির কাজ শুরু হবে তখন এই সেটে নতুন গল্প ভাবার কথা কেন বললেন বড়বাবু?

গীতিময় এতকাল যেভাবে কাজ করে এসেছেন তা মহাপরিচালকদের কাজের ধারা থেকে একদম আলাদা। বড়বাবুর ফোন পেয়ে তাঁর খুব অস্বস্তি হচ্ছিল। তাঁর পক্ষে এক সেটে দুটো ছবি পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আর এই কথাটা বললেই বড়বাবু নিশ্চয়ই তাঁকে বাতিল করবেন। সেই রাতে ঘুম আনতে দুটো স্লিপিং ট্যাবলেট খেতে হল তাঁকে।

সকালে তাঁর মন্দাক্রান্তার কথা মনে পড়ল। মন্দাক্রান্তার সঙ্গে বড়বাবুর একটা নিকট সম্পর্ক আছে বলে অনেকেই মনে করে। যদিও মন্দাক্রান্তা কখনও শ্যুটিং-এ আসেন না। ওঁর সঙ্গে বড়বাবুই তাঁর পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, মন্দাক্রান্তা তাঁর ফিনান্স করছেন। যে-কোনও বুদ্ধিমান মানুষের মতো বড়বাবুর দেওয়া তথ্য মেনে নিয়েছিলেন গীতিময়। ছবির কাজে কয়েকবার মন্দাক্রান্তার বাড়িতে যেতে হয়েছে তাঁকে। ওই বাড়িতে বড়বাবুর ব্যক্তিত্ব একটু নরম বলে মনে হয়েছিল তাঁর। মন্দাক্রান্তা কিছু বললে বড়বাবু চট করে উড়িয়ে দেন না।

গীতিময়ের মনে হল এ-ব্যাপারে মন্দাক্রান্তার সঙ্গে পরামর্শ করলে একটা রাস্তা খুলে যেতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রেও একটা ঝুঁকি থাকছে। বড়বাবুর কানে যদি কথাটা যায় তাহলে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে। আবার দ্বিধায় পড়লেন গীতিময়। তার পরেই খেয়ালে এল নবকুমারের কথা। যেদিন তিনি নবকুমারকে মন্দাক্রান্তার বাড়িতে দেখেছিলেন সেদিনই মনে হয়েছিল ছেলেটি সম্পর্কে মহিলার মনে দুর্বলতা তৈরি হচ্ছে। এই ব্যাপারটা কাজে লাগানো যেতে পারে।

টেলিফোন করে সকাল সাড়ে-দশটায় মন্দাক্রান্তার বাড়িতে এলেন গীতিময়। আজ মন্দাক্রান্তার পরনে বাসন্তী রঙের শাড়ি এবং ওই রঙের কনুই পর্যন্ত নামা ব্লাউজ। কপালে চন্দনের টিপ। হেসে বললেন, ‘কেমন আছেন?’

‘একদম ভালো নয়।’ গীতিময় সোফায় বসলেন।

কারণ জিজ্ঞাসা না করে তাকালেন মন্দাক্রান্তা উলটোদিকের সোফায় বসে।

‘দেখুন, নতুন ছবি শুরু করতে-না-করতেই গোলমাল শুরু হয়ে গেল। আমি বুঝতে পারছি, নবকুমারের কোনও দোষ ছিল না। কিন্তু ও আহত হয়েছে বলেই তো শ্যুটিং স্থগিত হয়ে গেল। কাজের মধ্যে থাকা অবস্থায় কাজ বন্ধ করতে কারও ভালো লাগে?’

‘না। লাগে না। কিন্তু দুর্ঘটনা তো বলে কয়ে আসে না। তা ছাড়া, বড়বাবু তো মাত্র সাতদিন শ্যুটিং বন্ধ করতে বলেছেন। দুদিন তো হয়েই গেল।’ মন্দাক্রান্তা বললেন।

‘কিন্তু সেটের ভাড়া, টেকনিশিয়ান্সদের টাকা গুণতে হচ্ছে বলে আমি বড়বাবুকে বলেছিলাম, নবকুমার যেসব দৃশ্যে নেই, ওই সেট আছে সেগুলো এই ক’দিনে তুলে ফেলি। কিন্তু—!’ থেমে গেলেন গীতিময়।

‘উনি রাজি হননি?’

‘না।’

‘কী বললেন?’

মুখ তুললেন গীতিময়বাবু, ‘ওঁর কথায় আমি খুব অবাক হয়ে গিয়েছি। বললেন, ওই সেট ঠিক রেখে আমি গল্প ভেবে আজকের মধ্যেই যেন জানিয়ে দিই কবে থেকে নতুন ছবির শ্যুটিং শুরু করব! তার মানে নবকুমারকে নিয়ে যে ছবি করার কথা সেটা আর হবে না।’

গীতিময় ইচ্ছে করেই নবকুমারের নাম উল্লেখ করলেন।

‘আমি তো এসব কিছুই জানি না।’ মন্দাক্রান্তার কপালে ভাঁজ পড়ল।

‘বড়বাবুর সঙ্গে আপনার এ ব্যাপারে তাহলে আলোচনা হয়নি?’

‘না।’

‘এখন সমস্যা হল, আজকের মধ্যে আমি কী করে ওই সেটের সঙ্গে মানানসই গল্প ভাবি! আর গল্প ভাবলেই তো হবে না, চিত্রনাট্য করতে হবে, শিল্পী নির্বাচন—’, মাথা নাড়লেন গীতিময়, ‘হুট করে বললে ভালো শিল্পীরা ডেট দেবেন কেন? অন্তত মাসদেড়েকের প্রস্তুতি দরকার। কথাটা বললে বড়বাবু আমাকে বাতিল করে দেবেন।’

খানিক ভাবলেন মন্দাক্রান্তা। তারপর জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনার ছবির কাজ সাতদিন বন্ধ রাখতে বলেছেন বড়বাবু। কবে বলেছেন?’

‘গতকাল সকালে।’

‘আপনি নবকুমারের কাছে গিয়েছিলেন?’

‘হ্যাঁ। আপনি যে ঠিকানা দিয়েছিলেন সেই বাড়িতেই গিয়েছিলাম।’

‘কেমন দেখলেন?’

‘বলল শরীরে খুব ব্যথা। মুখে হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মনে হয়েছিল দিনসাতেক লাগবে সুস্থ হতে। বড়বাবুকে তাই বলেছিলাম।’

ঘড়ি দেখলেন মন্দাক্রান্তা। তারপর জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনি কীসে এসেছেন?’

‘ট্যাক্সিতে।’

‘আপনি একটা কাজ করুন। আপনার ছবির মেক আপ ম্যানকে ফোন করে ডাকিয়ে নিন। ওকে এখনই ওই ঠিকানায় চলে আসতে বলুন।’

‘মেক-আপ ম্যান?’ গীতিময় হকচকিয়ে গেলেন।

‘হ্যাঁ। আপনার নিশ্চয়ই মোবাইল আছে। ওকে আসতে বলুন। না থাকলে ওই ফোন থেকে কল করুন। আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যে তৈরি হয়ে আসছি।’ মন্দাক্রান্তা দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।

পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে মেক-আপ ম্যানকে ফোন করলেন, ‘তুমি কোথায়?’

‘ট্রাম ডিপোতে। আপনাকে ফোন করতে যাচ্ছিলাম। শ্যুটিং ঠিক কবে শুরু হবে?’

‘কেন?’

‘চুপচাপ বসে আছি। আর-একটা ছবি থেকে ডাকছে। আপনার কাজ এখন না হলে ওটা ধরতে পারি।’ কমল বলল।

‘আমি মরছি নিজের জ্বালায়, আর তুমি আছ ধান্দায়। এখনই মেট্রোয় চেপে আশুতোষ কলেজের সামনে চলে এস। জরুরি দরকার আছে।’

‘এখনই—?’

‘হ্যাঁ। দয়া করে আমাকে ডুবিও না।’ ফোন কেটে দিলেন গীতিময়।

গীতিময় ড্রাইভারের পাশে বসতে যাচ্ছিলেন। মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘আপনি পেছনে বসুন। আপনি ছবির পরিচালক, সম্মানীয় ব্যক্তি।’

গদগদ হলেন গীতিময়। মন্দাক্রান্তা থেকে অনেকটা দূরত্ব রেখে বসে বললেন, ‘ম্যাডাম, একটা কিছু করুন যাতে সব দিক বাঁচে।’

‘কী করলে সেটা সম্ভব?’

‘যে ছবি নিয়ে এতদিন ভেবেছি, সেটাই করতে চাই।’

মাথা নাড়লেন মন্দাক্রান্তা। তারপর জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনার মেক-আপ ম্যান আসছে?’

‘হ্যাঁ। আশুতোষ কলেজের সামনে দাঁড়াবে।’

‘উনি নিশ্চয়ই আমাকে চেনেন না?’

‘না চেনাই স্বাভাবিক।’

‘তাহলে আমি কে, সেটা ওকে বলার দরকার নেই।’

‘কী বলব?’

‘কিছু বলারই দরকার নেই।’ তারপর হাসলেন, ‘বলবেন, আমি ডাক্তার। নার্সিং হোমের।’

আশুতোষ কলেজের সামনে কমল দাঁড়িয়েছিল। তাকে তুলে নিয়ে নবকুমারদের নতুন পাড়ায় চলে এল মন্দাক্রান্তার গাড়ি।

বাড়ির সামনে গাড়ি থেকে নেমে বেল টিপলেন গীতিময়। মুক্তো দরজা খুলল বিরক্ত মুখে। গীতিময় বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমাকে চিনতে পারছেন। সে কেমন আছে?’

‘আজ একটু ভালো।’

গীতিময় ওঁদের ভেতরে ডাকলেন। এখনও ফার্নিচার আসেনি এ-বাড়িতে। মন্দাক্রান্তা মুক্তোকে বললেন, ‘চলুন, আগে আমি ওঁকে দেখে আসি।’

মন্দাক্রান্তা ভেতরে চলে যেতেই কমল জিজ্ঞাসা করল, ‘এই মহিলা কে?’

‘ডাক্তার। নবকুমার যে নার্সিং হোমে ছিল, সেখানকার।’

‘ও। তা আপনি আমাকে আসতে বললেন কেন?’

‘বলছি। এত ব্যস্ত হওয়ার কী আছে?’ গীতিময় প্রশ্নটা এড়াতে চাইলেন।

.

নবকুমার শুয়ে ছিল। মন্দাক্রান্তাকে ঘরে ঢুকতে দেখে সে অবাক, ‘আপনি?’

‘কেমন আছ?’

‘একটু ভালো।’

‘উঠে বসতে পারবে?’

‘পারব। কিন্তু হাঁটতে গেলে কষ্ট হচ্ছে।’

‘কষ্টটা কী শরীরের ভেতরে হচ্ছে না হাড়ে বা নার্ভে?’

‘ঠিক বুঝতে পারছি না।’

‘যদি, ধরো, কাল তোমাকে শ্যুটিং-এ যেতে বলা হয় তাহলে পারবে?’

‘কালই? আমি তো ভালো করে হাঁটতে পারছি না।’

‘পেইন কিলার খেয়ে ব্যথা কমাতে হবে। নবকুমার, এই চ্যালেঞ্জটা তোমাকে নিতেই হবে।’ মন্দাক্রান্তার গলার স্বর গাঢ় হল।

‘আমি করতে না পারলে কি বাদ পড়ে যাব?’ নবকুমার ওঠার চেষ্টা করল।

‘তুমি না পারলে বড়বাবু আর-একটা ছবি শুরু করবেন। বলা বাহুল্য, সেই ছবিতে তুমি থাকবে না। আমি এটা চাই না।’ মন্দাক্রান্তা বললেন।

উঠে বসে চোখ বন্ধ করল নবকুমার। এটুকু করতেই তাকে ব্যথা সামলাতে হচ্ছে। মন্দাক্রান্তা সেটা বুঝতে পেরে বললেন, ‘কাল না হলে পরশু তোমাকে পারতেই হবে।’

মাথা নাড়ল নবকুমার, ‘পারব না। করতে চাইলে খুব খারাপ হবে। বড়বাবুর টাকা নষ্ট হোক আমি চাই না। উনি মহৎ মানুষ, আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন দয়া করে। আমি ওঁর কোনও ক্ষতি করতে চাই না।’

‘তাহলে তুমি আমার ক্ষতি চাও?’

‘মানে?’

‘তুমি যদি রাজি না হও, তাহলে আমার ক্ষতি হয়ে যাবে।’

‘কেন?’

‘সে তুমি বুঝবে না। তোমাকে বোঝাবার সময়ও নেই।’

কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে নবকুমার বলল, ‘বেশ, যা বলবেন তাই করব।’

খুশি হলেন মন্দাক্রান্তা। তারপর দরজায় দাঁড়ানো মুক্তোকে বললেন, গীতিময়দের এ-ঘরে ডেকে নিয়ে আসতে।

নবকুমার মন্দাক্রান্তার দিকে তাকাতে তিনি বললেন, ‘তোমার পরিচালক আর মেক-আপ ম্যান এসেছেন।’

বলতে-না-বলতেই ওঁরা ঘরে ঢুকলেন। গীতিময় হাসলেন, ‘কেমন আছ? বেশ ইমপ্রুভ করেছ বলে মনে হচ্ছে।’

মন্দাক্রান্তা মাথা নাড়লেন, ‘হ্যাঁ। পেইন কিলার খেলে কাজ করতে পারবে। এখন দেখুন ওর হাতমুখের ছড়ে যাওয়া দাগগুলো মেক-আপে ম্যানেজ করতে পারবেন কি না।’

সঙ্গে-সঙ্গে মেক-আপ ম্যানকে ডেকে নিয়ে আসার কারণ বুঝতে পারলেন গীতিময়। তিনি মেকআপ ম্যানকে বললেন, ‘দ্যাখো। ম্যানেজ করতে পারবে?’

মেক আপ ম্যান ঝুঁকে দেখল তারপর মাথা নাড়ল, ‘এখনও কাঁচা আছে। বোঝা যাবেই। তা ছাড়া, সেপটিক হয়ে যেতে পারে।’

‘কী তুমি মেক-আপ করো! এই ত্রুটি ঢাকতে পারবে না?’ ধমকালেন গীতিময়।

‘চেষ্টা করব।’ সঙ্গে-সঙ্গে কথা ঘোরাল লোকটা।

মন্দাক্রান্তা হাসলেন, ‘আপনাদের ছবির গল্প আমি জানি না। আচ্ছা, এমন তো হতে পারে উনি কোনও গোলমালের মধ্যে পড়ে আহত হয়েছেন, তাহলে এই দাগগুলো থাকলে স্বাভাবিক বলে মনে হবে।’

চোখ বন্ধ করলেন গীতিময়। তারপর এক গাল হেসে বললেন, ‘থ্যাঙ্কু ম্যাডাম। দারুণ হবে। গ্রামের ছেলে নবকুমার কলকাতায় এসে—, দারুণ হবে। কিন্তু ম্যাডাম, কাল পরশুর মধ্যে নবকুমার শ্যুটিং করতে পারবে তো?’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *