সাতান্ন
মন্দাক্রান্তা নবকুমারের দিকে তাকালেন, ‘এটা ওর ওপর নির্ভর করছে।’
গীতিময় একটু এগিয়ে গেলেন, ‘নবকুমার, কালকের দিনটা ছেড়ে দাও। পরশু উঠে দাঁড়াতে পারবে না? চেষ্টা করো ভাই। আমি আরও ভালো ডাক্তার নিয়ে আসছি। একটু হাঁটাহাঁটি আর কিছু সংলাপ। প্রথম দিকে, ধরো দু-তিনদিন, আমি এত অল্প কাজ রাখব যাতে তোমার একটুও পরিশ্রম না হয়।’
‘আমি পারব।’
‘গুড। হ্যাঁ, তোমার মুখের যা অবস্থা তাতে এখন দাড়ি কামানোর প্রশ্নই ওঠে না। শ্যুটিং-এও এই দাড়ি কাজে লাগাব। তাতে দর্শকরা তোমার জন্যে কষ্ট পাবে।’
গীতিময় বলামাত্র মেক-আপ ম্যান বলল, ‘কিন্তু দাদা, কন্টিন্যুইটিতে জার্ক হয়ে যাবে। উনি যে শট দিয়েছেন তাতে দাড়ি কামানো ছিল।’
‘জানি। এক মিনিটেরও শট নয়। ওটা ফেলে দিলে কোনও ক্ষতি হবে না। ঠিক আছে, ওকে বিশ্রাম করতে দাও।’ বলেই খেয়াল হল তাঁর। মন্দাক্রান্তার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী বলেন ম্যাডাম?’
মন্দাক্রান্তা মাথা নেড়ে বসার ঘরে চলে আসতে ওঁরা তাঁকে অনুসরণ করলেন। মন্দাক্রান্তা মুক্তোকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘শেফালি-মা কোথায়?’
‘আগের বাড়িতে। দুপুরে এসে দেখা করে যান।’
‘কবে থেকে এখানে পাকাপাকি আসবেন?’
‘বলতে পারছি না। ওই বাড়ি নিয়ে কীসব গোলমাল হয়েছে—, ঠিক বলতে পারব না। আপনি ফোন করে জেনে নেবেন।’ মুক্তো বলল।
‘নবকুমার বাথরুমে একাই যায় না তোমাকে ধরতে হয়?’
‘আজ তো একাই গেল।’
মুক্তোর কথা শুনে খুশি হলেন গীতিময়, ‘বা:, চমৎকার। তাহলে আমরা যদি পরশু সকাল ন’টায় গাড়ি পাঠাই নিশ্চয়ই ওকে তৈরি রাখতে পারবেন?’
‘তৈরি রাখা মানে?’ মুক্তো বুঝতে পারল না।
‘স্নানটান করে শ্যুটিং-এ যাওয়ার জন্যে রেডি থাকবে?’
‘বেশ।’
‘ম্যাডাম, তাহলে চলুন—!’
মন্দাক্রান্তা একটু ইতস্তত করেও নীরবে বেরিয়ে গেলেন। গীতিময় ফুটপাতে দাঁড়িয়ে হাতজোড় করলেন, ‘আর গাড়িতে উঠব না। ম্যাডাম, আপনি শুধু দেখুন—।’ বাকি কথাটা মেক-আপ ম্যান থাকার কারণে বলতে গিয়েও পারলেন না।
‘ঠিক আছে, আমাকে ফোন করবেন’, মন্দাক্রান্তা গাড়িতে উঠতেই ড্রাইভার সেটা চালু করে বেরিয়ে গেল। ঠিক তখনই একটা ট্যাক্সি উলটোদিকের বাড়ির সামনে এসে থামল। গীতিময় মেক-আপ ম্যানকে বললেন, ‘ট্যাক্সিটাকে ধরো।’
মেক-আপ ম্যান এগিয়ে যেতেই উলটোদিকের বাড়ির মেয়েটি দরজা খুলে প্রায় এক ঝটকায় তার শরীরটা ট্যাক্সি থেকে নামাল। তারপর ড্রাইভারকে বলল, ‘ওয়েট করুন।’
গীতিময় দেখলেন মেয়েটি বেল বাজাচ্ছে। টিপেই ছেড়ে না দিয়ে বোতামটায় চাপ দিয়েই চলেছে বলে একটানা আওয়াজ বাইরে থেকেও শোনা যাচ্ছে। লম্বা, সুন্দর ফিগার মুখ-চোখে ঈষৎ পাঞ্জাবি মেয়ের আদল এবং সর্বাঙ্গে স্মার্টনেস থাকায় দেখা মেয়েদের চেয়ে ওকে আলাদা বলে মনে হচ্ছিল। মাথার ভেতর একটা তিরতিরে ইচ্ছে কাজ শুরু করল। ঠিক এইরকম চেহারার একটি চরিত্র তাঁর ছবিতে আছে। টালিগঞ্জের অভিনেত্রীদের মধ্যে যিনি এই চরিত্রের কাছাকাছি যান তাঁর বয়স হয়েছে। কিন্তু বিকল্প না পাওয়ায় তাঁকেই নিতে হচ্ছে। এই মেয়েটি যদি অভিনয় পারে—।
‘ট্যাক্সি ছাড়েনি।’ মেক-আপ ম্যান ফিরে এসে জানাল।
‘চলো।’
হাঁটতে-হাঁটতে মেক-আপ ম্যান বলল, ‘মেয়েটাকে দেখলেন?’
‘হু।’
‘চোয়ালের কাছটা একটু মেরে দিলে ফাটাফাটি দেখাবে।’
‘শোনো, নবকুমারের ক্ষতস্থানগুলো নিয়ে ভাবো। ওগুলোকে ধরে এমন মেক-আপ করো যেন দর্শকের মনে হয়, আহা কী কষ্ট পাচ্ছে বেচারা।’
‘তার মানে ওটাকে না আড়াল করে বাড়াতে বলছেন এখন?’
‘হুম।’
‘চেষ্টা করব।’
‘করতেই হবে।’
‘আচ্ছা, আপনি ওই নার্সিং হোমের ডাক্তার মহিলার সামনেই বললেন বাইরে থেকে আরও ভালো ডাক্তার নিয়ে যাবেন!’
‘তো?’
‘আমি অবাক হয়ে দেখলাম উনি অসন্তুষ্ট হলেন না। আমাদের পাড়ার ডাক্তার যদি শোনে বড় ডাক্তারের কথা ভাবছি তাহলে তার মুখ হাঁড়ি হয়ে যায়।’
‘এটা নির্ভর করে সম্পর্কের ওপর। ওই যে একটা খালি ট্যাক্সি, যাও ওটাকে ধরো।’ কথা ঘোরাতে পেরে স্বস্তি পেলেন গীতিময়।
.
যতই উত্তেজিত হোন, বড়বাবুর সম্মতি ছাড়া শ্যুটিং শুরু করতে সাহসী হচ্ছিলেন না গীতিময়। বড়বাবু যদি বেঁকে বসেন, তাহলে খরচের ধাক্কা তাঁর পক্ষে সামলানো সম্ভব নয়। অথচ স্টুডিওতে ফিরে এসে অন্তত দশবার ফোন করেছেন তিনি। প্রতিবার বড়বাবুর ফোন বলছে, সুইচ অফ। বাড়ির ল্যান্ড লাইনে ফোন করলে শুনতে হচ্ছে, উনি এখন বাড়িতে নেই। যাত্রার গদিতে ফোন করা নিষেধ বলে ইচ্ছে হওয়া সত্বেও ডায়াল করেননি গীতিময়। প্রাোডাকশনের ম্যানেজার এল। লোকটা অতিশয় ধুরন্দর। অথচ একেই পছন্দ করেন বড়বাবু। বলেন, ইনএফিসিয়েন্ট সৎ লোক আমার দরকার নেই। তার চেয়ে এফিসিয়েন্ট অসৎ লোক থাকলে কাজটা হবে।
পান চিবোতে-চিবোতে প্রাোডাকশন ম্যানেজার উলটোদিকের চেয়ারে বসে বলল, ‘নতুন গল্প ভাবলেন? না ভাবলে আমি একটা ফাটাফাটি প্লট দিতে পারি।’
‘তুমি আবার কবে থেকে গল্প লিখতে শুরু করলে?’
‘লিখতে নয় দাদা, ভাবতে। এর মধ্যে দুটো প্লট বিক্রি করেছি।’
‘বড়বাবুর সঙ্গে দেখা হয়েছে?’
‘কথা হয়েছে।’
‘কীভাবে হল? কোন নম্বরে?’
‘আমি তো ফোন করিনি। উনি করেছিলেন।’
‘কী বলেছেন?’
‘দেখুন, আমি এর কথা ওকে বলি না। উনি যখন বলেননি আপনাকে কথাটা বলতে পারি, তখন আপনার জিজ্ঞাসা করা ঠিক নয়। তবে আমাদের বড়বাবুর কপাল ভালো। পুরো টাকা ভাঁড়মে যেত, বেঁচে গেলেন।’ প্রাোডাকশন ম্যানেজার বলল।
‘তাই?’ চোখ বড় করলেন গীতিময়।
সোজা হল লোকটা, ‘একটা গ্রামের ছোকরা, কোনও অভিজ্ঞতা নেই অভিনয়ের, তার ওপর সোনাগাছিতে গুন্ডাগিরি করে, তাকে ধরে নিয়ে এসে সিনেমার হিরো বানিয়ে দিলেন। তার পক্ষে ছবি টানা সম্ভব? আমার তো মনে হয় গ্রামের ব্যাপারটা ভড়কি, ও সোনাগাছিতে জন্মেছিল। মুখে কখনও হাসি দেখেছেন? সবসময় ভয়ে-ভয়ে থাকে। ভাগ্যিস পুলিশ ওকে পেঁদিয়েছিল, তাই ছবি বন্ধ হয়েছে।’
‘আমি ওকে আবিষ্কার করিনি। বড়বাবু ওকে নিয়ে এসেছিলেন।’
‘লাকি লোক। শুরুতেই ভুল সংশোধন করতে পেরেছেন। যাকগে, আমি চারজন বড় শিল্পীর সঙ্গে কথা বলেছি। ডেট ম্যানেজ হয়ে যাবে।’ লোকটা উঠে বেরিয়ে গেল।
বিকেল চারটের সময় গীতিময়ের মোবাইলে বড়বাবুর নম্বর ফুটে উঠল। দ্রুত অন করতেই গলা শুনতে পেলেন, ‘কতদূর এগোলে?’
সাহসী হলেন গীতিময়, ‘নতুন গল্প বেছে আপনার সঙ্গে আলোচনা করে তার ওপর ছবি করার সিদ্ধান্ত নিলে চিত্রনাট্য করাতে অন্তত মাসখানেক লাগবেই। সেইসঙ্গে কাস্টিং ঠিক করে অন্যান্য ব্যবস্থা ঠিক করতে আরও মাসখানেক লাগবেই। আমরা এই ছবিটা নিয়ে কাজ করছি মাসতিনেক আগে থেকে। ততদিন ফ্লোর আটকে রাখা মানে প্রচুর টাকা অকারণে নষ্ট করা। তা ছাড়া—।’
‘তা ছাড়া কী?’
‘নবকুমার তো সুস্থ হয়ে উঠেছে। ইচ্ছে করলে পরশু থেকেই শ্যুটিং করা যেতে পারে। কাগজপত্র তৈরি আছে, অন্যান্য শিল্পীদের ডেটও ধরা আছে। আপনি তো এই ছবি তৈরি করতে আগ্রহী ছিলেন।’ গীতিময় বললেন।
‘নবকুমার পরশু থেকে শ্যুটিং করতে পারবে এই খবরটা তোমায় কে দিল?’
‘আমি আজ ওর ভবানীপুরের বাড়িতে গিয়েছিলাম।’
‘কেন গিয়েছিলে?’
‘ও কতটা ইমপ্রুভ করল তা দেখতে চেয়েছিলাম।’ গীতিময় বললেন, ‘ম্যাডামও সঙ্গে গিয়েছিলেন। উনি আপনাকে এ ব্যাপারে কিছু বলেননি?’
বড়বাবু জবাব না দিয়ে ফোন রেখে দিলেন। কপালে ভাঁজ পড়ল গীতিময়ের। তাঁর মনে হল বড়বাবু শুধু নবকুমারকে অপছন্দ করছেন না, ম্যাডামকেও এড়িয়ে চলছেন। এরপর কোপ পড়বে তাঁর ওপর। টালিগঞ্জে এখন এত পরিচালক, যাদের বেশিরভাগই কাজ না জেনে কথার ফুলঝুরি ছড়ায়, একজন প্রযোজক হাতছাড়া হয়ে গেলে আর-একজনকে পাওয়া প্রায় লটারিতে পুরস্কার পাওয়ার মতো হয়ে যায়। মরিয়া হয়ে মন্দাক্রান্তাকে ফোন করলেন গীতিময়। মন্দাক্রান্তার মোবাইল সুইচ অফ।
.
গতকালই বড়বাবুকে চিঠিটা পাঠিয়ে দিয়েছিলেন শেফালি-মা। খুব ভদ্রভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন, শারীরিক কারণে তাঁর পক্ষে নিয়মিত অভিনয়ের ধকল সম্ভব হবে না বলে তিনি বড়বাবুর প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারছেন না। তবে বড়বাবু যে তাঁকে মনে রেখে এরকম প্রস্তাব দিয়েছেন তাতে তিনি কৃতজ্ঞ বোধ করছেন। সেই চিঠি চিৎপুরের গদির ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। বড়বাবুর প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
আজ সকালে দুর্বারের মেয়েদের আসার কথা ছিল। কবিতারা এসে জানাবে, তারা কবে থেকে এই ফ্ল্যাটের দায়িত্ব নেবে। সোনাগাছিতে খালি ফ্ল্যাট তালাবন্দি রেখে যাওয়া ঠিক হবে না। কেউ জোর করে দখল করে নিলে খালি করতে অনেক ঝামেলায় জড়াতে হবে। সকাল দশটাতেও যখন ওরা এল না, তখন শেফালি-মা ফোন করলেন। কবিতাই ফোন ধরল। চিনতে পেরে বলল, ‘আমি আপনার কাছেই যাচ্ছিলাম। শেফালি-মা, আর ক’টা দিন যদি সময় দেন তাহলে ভালো হয়।’
‘কেন? তোমাদের অসুবিধে হবে এমন কিছু তো আমি করতে বলিনি।’
‘না-না। আমরা চাইছি পুরো বাড়িটা নিতে। ওই বাড়িতে যেসব যৌনকর্মী আছে তাদের অন্য জায়গায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত সেটা সম্ভব নয়। পুরো বাড়িটা পেলে আমরা ওখানে চিকিৎসাকেন্দ্র এবং কিছু পেশেন্টকে রাখতে পারি। এখন এখানে জায়গার সমস্যা হচ্ছে খুব।’ কবিতা বলল।
‘বুঝতে পারলাম। কিন্তু আমি খালি ফ্ল্যাট রেখে যেতে পারছি না। যা করার দিনতিনেকের মধ্যে করো ভাই।’ ফোন রেখে দিলেন শেফালি-মা। তাঁর কাছ থেকে ফ্ল্যাট নেওয়ার পরেও নীচের মেয়েদের সরানোর ব্যবস্থা করতে পারে ওরা!
বেলা এগারোটা নাগাদ দুটো লোক এল দেখা করতে। মুক্তো না থাকায় ইতিকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন শেফালি-মা। জিজ্ঞাসাবাদ করে সে এসে জানাল, ‘দুজন লোক এসেছে। কেন এসেছে তা শুধু আপনাকেই বলতে চাইছে।’
অগত্যা বেরুতে হল। দরজায় যে দুজন দাঁড়িয়ে তার একজনের চেহারা জমিদার মশাইয়ের সরকারের মতো। অন্যজনের মুখচোখ-পোশাকে সোনাগাছির ভাড়াটে মাস্তানের ছাপ স্পষ্ট। শেফালি-মা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘বলুন?’
‘আপনি তো শেফালি-মা?’ সরকারমশাই দু-হাত মাথায় ঠেকিয়ে নমস্কার করে বললেন, ‘ও:। কত যাত্রা দেখেছি আপনার। ভোলা যায় না।’
‘আপনার প্রয়োজনটা বলুন।’ শেফালি-মা বিরক্ত।
‘শুনলাম আপনি বাড়িঘর বিক্রি করে এ-পাড়া থেকে চলে যাচ্ছেন। আপনার মতো নামী মানুষ এতকাল এই নরকে পড়েছিলেন, এটাই তো আশ্চর্যের ব্যাপার। আমি এ-ও শুনলাম এখনও কোনও খদ্দের পাকা হয়নি। তাই নিজেই চলে এলাম আপনাকে সাহায্য করতে। এই দোতালাটা আর একতলার কয়েকটা ঘর। দক্ষিণা কী দিতে হবে বলুন।’ সরকার বেশ বিনয়ের সঙ্গে বললেন।
‘আমি তো এই বাড়ি বিক্রি করছি না।’
‘সে কী? খালি ফেলে রাখবেন? জবরদখল হয়ে যাবে যে!’
‘আমার সঙ্গে দুর্বার সমিতির কথা হয়েছে। ওরা বাড়িটা ব্যবহার করবে।’
নি:শব্দে হাসলেন সরকার। মাথাটা দুপাশে দুলতে লাগল। সেটা থামিয়ে বললেন, ‘ওদের দিন শেষ। গবমেন্ট দিল্লিতে আইন পাস করতে চলেছে। যেসব লোক এই এলাকায় মজা মারতে ঢুকবে তাদের খপ করে ধরে জেলে ভরা হবে। এই এলাকায় যেসব বাড়িওয়ালি মেয়েগুলোকে ঘর ভাড়া দেবে, তাদের সাত বছর জেল আর চার লাখ টাকা জরিমানা হবে। আইনটা চালু হল বলে! হলে এই রেডলাইট এলাকায় কোনও মেয়ে ঘর ভাড়া পাবে না, খদ্দেরও জুটবে না। তখন বাঁচার জন্যে পালাবে এখান থেকে। দুর্বারের কোনও মেম্বারই থাকবে না। মেম্বার না থাকলে ওরা আপনার বাড়িটা নিয়ে কী করবে? পাততাড়ি গুটিয়ে নেবে এখান থেকে।’
‘এরকম আইন পাস হচ্ছে নাকি?’
‘হল বলে। এরকম অশ্লীল ব্যাপার সমাজের বুকে গবমেন্ট চলতে দেবে না। এই পাড়াটা কিছুদিনের মধ্যে একেবারে ভদ্রলোকের পাড়া হয়ে যাবে।’ সরকার মাথা নাড়লেন, ‘দুর্বারের কথা ভুলে যান। বাড়িটার জন্যে কত টাকা চান, বলুন!’
‘আমি তো আপনাকে আগেই বলেছি এই বাড়ি বিক্রি করব না।’ শেফালি-মা বললেন, ‘আপনারা এখন আসতে পারেন।’
হঠাৎ সরকারের সঙ্গী বলে উঠল, ‘কেন নকশা করছেন দিদি? বাবু যখন ইচ্ছে করেছেন, তখন আপনাকে বাড়ি ছাড়তেই হবে। একটা রফা করে ফেলুন।’
‘বাবু মানে?’ শেফালি-মা-র মুখ লাল হয়ে গেল।
সরকার লোকটিকে ধমক দিল, ‘অ্যাই, তোকে কে কথা বলতে বলেছে। কার সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়, তা যখন জানিস না তখন মুখ খুলবি না।’ তারপর শেফালি-মায়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘কিছু মনে করবেন না ওর কথায়। অশিক্ষিত মানুষ। আপনি এই কাগজটা রাখুন। আমার ফোন নম্বর আছে। ডাকলেই চলে আসব। কিন্তু যেহেতু আমিই প্রথম এসেছি তাই আমার সঙ্গে কথা না বলে আর কাউকে বাড়ি বিক্রি করবেন না।’ কাগজটা ইতির হাতে ধরিয়ে দিয়ে সরকার নেমে গেলেন সঙ্গীকে নিয়ে।
শেফালি-মা দ্রুত ঘরে ঢুকে দুর্বারে ফোন করলেন। কবিতার গলা শুনে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আচ্ছা, সরকার কি রেডলাইট এলাকা বন্ধ করতে আইন তৈরি করছেন?’
কবিতা বলল, ‘একরকম তাই। যৌনকর্মীদের বিরুদ্ধে কিছু বলছেন না। শুধু তাদের রোজগার বন্ধ করতে আর সেইসঙ্গে ঘরছাড়া করার পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু আমরা এটা কিছুতেই মেনে নেব না।’
