কলিকাতায় নবকুমার – ৫৫

পঞ্চান্ন

সোজা হয়ে দাঁড়াতে কষ্ট হচ্ছিল নবকুমারকে। মাথা কাজ করছিল না। শেফালি-মা ওর হাত ধরে বললেন, ‘এত ভোরে তো ডাক্তার পাওয়া মুশকিল! কোনও নার্সিং হোমে নিয়ে যেতে হবে।’

‘আগে ওকে নিয়ে গাড়িতে বসি! তুমি হাঁটতে পারবে?’ মন্দাক্রান্তা জিজ্ঞাসা করলেন।

মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল নবকুমার। কিন্তু পা ফেলে বুঝল, বেশ কষ্ট হচ্ছে।

গাড়ির পেছনের সিটে তাকে বসিয়ে দিলেন ওঁরা।

মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘আমি এদিকটা একদম চিনি না। আপনার জানাশোনা নার্সিং হোম—?’

মাথা নাড়লেন শেফালি-মা, ‘না। নেই।’

‘তাহলে ওকে দক্ষিণে নিয়ে যাই। আমার পরিচিত একজন ডাক্তারের নার্সিং হোমে ভরতি করতে অসুবিধে হবে না।’ মন্দাক্রান্তা বললেন।

‘অসুবিধে কেন হবে?’

‘ওর এই অবস্থা পুলিশ করেছে জেনে ভয় পেতে পারে। ঝামেলায় কেউ যেতে চাইবে না।’

‘ও।’ শেফালি-মা মাথা নাড়লেন, ‘বেশ, ওখানেই চলো।’

.

দক্ষিণ কলকাতার নার্সিংহোম। মাঝারি মানে হলেও ভালো ব্যবস্থা আছে। মন্দাক্রান্তার অনুরোধে ওরা ভরতি করে নিল নবকুমারকে। বেলা আটটার মধ্যে ব্যথার জায়গাগুলোর এক্সরে রিপোর্ট পেয়ে গেলেন ডাক্তার। দেখে বললেন, ‘ছেলেটির কপাল ভালো, কোনও হাড় ভাঙেনি। মাথায় যেহেতু চোট লাগেনি তাই এখন পেইন কিলার খেয়ে ক’দিন শুয়ে থাকলে ঠিক হয়ে যাবে। আশঙ্কার কোনও কারণ নেই।’

‘কোনও কমপ্লিকেশন হবে না তো?’ মন্দাক্রান্তা জিজ্ঞাসা করলেন।

‘আগাম বলতে পারব না। না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। হলে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

‘তাহলে—?’ মন্দাক্রান্তা দ্বিধায় পড়লেন।

‘বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেন। এখন শুধু বিশ্রামের প্রয়োজন। ব্যথাটা কয়েকদিনের মধ্যে কমে যাবে।’ ডাক্তার বললেন।

টাকাপয়সা যা লাগল, মন্দাক্রান্তাই দিলেন। তারপর বললেন, ‘আমার ড্রাইভারকে বলি একটা ট্যাক্সি ডেকে দিতে?’

‘কেন?’

‘ফিরবেন তো।’

‘ওখানে চট করে ডাক্তার পাওয়া মুশকিল। ভাবছি, ভবানীপুরের বাড়িতে নিয়ে যাব।’

‘আপনারা কি ওখানে থাকার ব্যবস্থা করেছেন?’

‘না। আর ক’দিন পরে যাব। তবে ওর থাকতে অসুবিধে হবে না।’

‘আমি একটা প্রস্তাব দেব?’

‘বলো।’

‘আপনি যতদিন ভবানীপুরের বাড়িতে উঠে না আসছেন, ততদিন নবকুমার আমার বাড়িতে থাক। আমার ওখানে ওর কোনও অসুবিধে হবে না।’ মন্দাক্রান্তা বললেন।

শেফালি-মা একটু ইতস্তত করলেন। তারপর ম্লান হাসলেন, ‘তুমি যে বললে তাতে আমি খুব খুশি হলাম। কিন্তু ভাই, পরের উপকার করতে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে এনো না। আমি জানি, তোমার কাছে নবকুমার থাকলে বড়বাবু খুশি হবেন না।’

‘কেন?’

‘তার ব্যাখ্যা আমি দিতে পারব না।’

‘আপনি জানলেন কী করে?’

‘আমি বলতে চাইনি। জানতে চাইছ যখন তখন বলি, গতকালই বড়বাবু নবকুমারকে নির্দেশ দিয়েছেন তোমার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখতে।’ শেফালি-মা বললেন।

শোনামাত্র ঠোঁট কামড়ালেন মন্দাক্রান্তা।

শেফালি-মা বললেন, ‘জলে বাস করে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করা যায় না ভাই।’

‘দাঁড়ান।’ ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন বের করে দ্রুত বোতাম টিপলেন মন্দাক্রান্তা, সেটটা কানে চেপে চোখ বন্ধ করলেন। তারপর ওপাশের সাড়া পেয়ে বললেন, ‘আমি বলছি…। না, মর্নিংটা মোটেই ভালো নয়। কাল রাতে অকারণে পুলিশ নবকুমারকে মারধোর করেছে। ভোরবেলায় খবর পেয়ে ওকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নার্সিং হোমে ভরতি করেছিলাম। হাড় ভাঙেনি, কিন্তু শরীরে খুব ব্যথা। ডাক্তার বলছেন নার্সিং হোমে রাখার দরকার নেই। বাড়িতে রেস্ট নিতে হবে। আপনাকে জানিয়ে দিলাম।’

ওপাশের কথা শুরু হতে লাউডস্পিকার অন করে দিলেন মন্দাক্রান্তা।

‘কী বলছ তুমি?’ বড়বাবুর রাগী গলা শোনা গেল, ‘ওকে পুলিশ ধরেছিল, তুমি কেন ছাড়াতে গেলে? কে তোমাকে খবর দিয়েছে? সে?

‘না। পুলিশ এত মেরেছে যে সে কথা বলার মতো অবস্থায় ছিল না। শেফালি-মা আমায় ফোনে জানান।’ মন্দাক্রান্তা জানাল।

‘হু ইজ হি? তোমার কে হয়? একটা দায়িত্বজ্ঞানহীন ছেলে বেশ্যাপাড়ায় পুলিশের সঙ্গে মারপিট করে অ্যারেস্টেড হয়েছে আর তুমি তাকে ছাড়াতে গেলে! হোয়াই?’ বড়বাবুর গলার ঝাঁঝ স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল।

‘আমার মনে হয়েছে নবকুমারকে সাহায্য করা দরকার।’

‘কেন?’

‘প্রথমত ও কখনোই মারপিট করতে পারে না। পুলিশই ভুল করেছে। দ্বিতীয়ত, নবকুমার আপনার ছবির নায়ক। ও জেলে থাকলে ছবির ক্ষতি হয়ে যাবে।’

‘তুমি কি ভেবেছ, এর পরে আমি ওকে নিয়ে ছবি করব? গতকাল মাত্র একটা শট হয়েছে। গীতিময়কে বলছি সেটা ফেলে দিতে। কত ক্ষতি হবে? বড়জোর হাজার টাকা। আমার ড্রাইভার তার চারগুণ মাইনে নেয়। আজ শ্যুটিং বন্ধ থাকবে। কাল থেকে আর-একজনকে নিয়ে কাজ শুরু হবে।’

‘আপনি ওকে বিনা দোষে বাদ দেবেন?’

‘শোনো মন্দাক্রান্তা, আমার এক সামান্য কর্মচারীর জন্যে তোমার এই দুর্বলতা আমি মোটেই পছন্দ করছি না। ওকে বাদ দেওয়ার পেছনে এটাও একটা কারণ।’

‘বেশ। আপনি যা ইচ্ছে তাই করুন। কিন্তু নবকুমার খুব অসুস্থ। ডাক্তার বলছেন, কয়েকদিন সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিতে। আমি ওকে আমার ওখানে নিয়ে যাচ্ছি।’

‘তুমি কি পাগল হয়ে গিয়েছ?’

‘না। পাগল যদি কেউ হয়ে থাকে তাহলে তা আপনি।’

‘মন্দাক্রান্তা, তুমি ওই ছোকরাকে বাড়িতে নিয়ে যাবে না।’

‘আপনি যদি ওর প্রতি একটু সহানুভূতিশীল হতেন, তাহলে আমি আপনার কথার অবাধ্য হতাম না। রাখছি।’

‘না। শোনো, ঠিক আছে। ওর ক’দিন লাগবে সুস্থ হতে?’

‘দিনসাতেক।’

‘বেশ। সাতদিন বাদে শ্যুটিং শুরু করতে বলছি। কিন্তু তুমি ওকে তোমার বাড়িতে নিয়ে যাবে না। মনে থাকে যেন!’

‘বেশ।’

‘গীতিময় ওকে কন্ট্যাক্ট করবে কোথায়? সোনাগাছিতে?’

মন্দাক্রান্তা শেফালি-মায়ের দিকে তাকালেন, ‘আপনার ভবানীপুরের বাড়ির ঠিকানাটা—?’

শেফালি-মা বলতেই সেটা জানিয়ে দিলেন মন্দাক্রান্তা। তিনি মোবাইল বন্ধ করতেই শেফালি-মা বললেন, ‘তোমার ওপর আমার শ্রদ্ধা বেড়ে গেল। তোমার মঙ্গল হোক।’

‘ছি-ছি! এ কী বলছেন? আপনি আমার চেয়ে কত বড়।’

‘কিন্তু তোমার মধ্যে যে আগুন দেখলাম, সেটা ক’টা মেয়ের মধ্যে আছে? সারাজীবন আমি লড়াই করেছি, কিন্তু কখনও জিতিনি। হার না-মানা তো জেতা নয়। যাকগে, নবকুমারকে যদি এখানে একটা বেলা রাখা যেত তাহলে আমি তার মধ্যে ভবানীপুরের বাড়িটা গুছিয়ে নিতে পারতাম। একটু কথা বলবে?’

.

.

শুধু একবেলা নয়, পরেরদিন দুপুর পর্যন্ত একদিনের চার্জের বিনিময়ে নবকুমারকে নার্সিং হোমে রাখার ব্যবস্থা করে ফেললেন মন্দাক্রান্তা।

দুপুরের পর মুক্তোর সঙ্গে বিছানাপত্র এবং কিছু জিনিসপত্র নিয়ে ভবানীপুরের বাড়িতে গিয়েছিলেন শেফালি-মা। বাড়িটা পরিষ্কারই ছিল। মোটামুটি গোছগাছ করার পর মুক্তো জিজ্ঞাসা করল, ‘আমরা কি কাল থেকেই চলে আসব?’

‘হুট করে তো আসা যায় না। ও-বাড়ির ব্যবস্থা তো করতে হবে। দুর্বারের সঙ্গে কথা বলতে হবে। ওরা যদি দু-তিনদিনের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে নেয়, তাহলে চলে আসব।’

‘এই দু-তিনদিন ছেলেটা একা থাকবে কী করে?’

‘একা থাকবে কেন? তুই থাকবি।’

‘সে কী? তুমি ও-বাড়িতে কী করে থাকবে?’

‘ইতিকে বলব সঙ্গে থাকতে।’

‘তার চেয়ে ইতিকে এখানে পাঠিয়ে দাও। ও তো আসতেই চেয়েছে।’

‘তোর মাথাটা গিয়েছে।’

‘কেন?’

‘দুটো অল্পবয়সি ছেলেমেয়েকে এই খালি বাড়িতে রাখব?’

‘না-না। নবকুমার সেরকম ছেলেই না। আর ইতিকেও তো কয়েকদিন দেখলাম। মোটেই ছ্যাবলামি করে না। তুমি মিছিমিছি ভয় পাচ্ছ।’ মুক্তো বলল।

‘আমি ওদের ভয় পাচ্ছি না। যদি কেউ, পাড়ার লোক অথবা পুলিশ এই বাড়িতে ঢুকে জিজ্ঞাসা করে তোমরা কে, কী তোমাদের সম্পর্ক, তাহলে উত্তর শুনে তারা খুশি হবে? তখন আমাকে ছুটে আসতে হবে ওদের রক্ষা করতে।’ শেফালি-মা বললেন।

.

পরদিন দুপুরে শেফালি-মা এবং মুক্তো নবকুমারকে নার্সিং হোম থেকে রিলিজ করে ভবানীপুরের বাড়িতে নিয়ে এলেন। আজ ব্যথা অনেক কম। হাঁটার সময় শুধু কোমরের কাছে লাগছে।

মুক্তোকে বাজারে পাঠিয়ে নবকুমারের বিছানার পাশে গিয়ে শেফালি-মা বুঝলেন, ছেলেটা কাঁদছে। পাশে বসে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আবার ব্যথা হচ্ছে?’

মাথা নাড়ল নবকুমার, ‘না।’

‘তাহলে? ডাক্তার তো বলেছেন ক’দিন বিশ্রাম নিলেই ঠিক হয়ে যাবে।’

‘আমি এখন কী করব? আমাকে একটা চাকরি যেমন করেই হোক জোগাড় করতে হবে। নার্সিং হোমে যে লোকটা আমার পাশের বেডে ছিল সে আমাকে ক’দিন বাদে দেখা করতে বলেছে। আমাকে নিজের নামে একটা পাসপোর্ট বের করতে হবে। হলেই চাকরি।’

‘কী চাকরি?’

‘জানি না। ওর কাছে গেলে তখন বলবে।’

‘তার মানে তুমি সিনেমায় অভিনয় করবে না?’

‘আমার কপালে নেই। না হলে পেয়েও হারাব কেন? বড়বাবু এখন নিশ্চয়ই আমার মুখ দেখতে চাইবেন না। কাল বিকেলেই অন্য কাউকে নিয়ে শ্যুটিং শুরু করে দিয়েছেন।’

শেফালি-মা হাসলেন, ‘এমন তো না-ও হতে পারে। তুমি সুস্থ হয়ে ওঁদের সঙ্গে দেখা করলেই জানতে পারবে। আগে থেকে ভাবছ কেন?’

‘আপনি কবে এখানে আসবেন?’

‘দেখি। দু-তিনদিনের মধ্যেই আসার চেষ্টা করব।’

‘আপনিই কি মন্দাক্রান্তাকে খবর দিয়েছিলেন?’

‘হ্যাঁ।’

‘না দিলেই হত। বড়বাবু জানলে ওঁর অসুবিধে হবে।’

‘আমার একার পক্ষে এই বয়সে থানা-পুলিশ করতে সাহস হয়নি। তা ছাড়া, আমি জানতাম আমার মতনই সে তোমার ভালো চায়।’

‘কিন্তু বড়বাবু—।’

‘আ:। ওঁকে নিয়ে তোমায় ভাবতে হবে না। মন্দাক্রান্তা জানে কীভাবে ওঁকে ঠান্ডা করা যায়। তুমি এসব নিয়ে ভেবো না। হ্যাঁ, আর-একটা কথা, কাল আমি ভেবেছি। আমার পক্ষে আর যাত্রা করা সম্ভব নয়।’ শেফালি-মা বললেন।

‘সে কী?’ উঠে বসতে গিয়েও আবার শুয়ে পড়ল নবকুমার।

‘এখন আর শরীর ধকল নিতে পারবে না। তা ছাড়া, তোমাদের বড়বাবুর আচরণ আমার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।’

‘ওঁকে জানিয়েছেন?’

‘এখনও জানাইনি। তুমি সুস্থ হলে জানাব।’

মুক্তো বাজার নিয়ে ফিরে এলে তাকে সব বুঝিয়ে একটা ট্যাক্সি ডেকে আনতে বললেন শেফালি-মা। ঠিক তখনই গাড়ির শব্দ শোনা গেল। থেমে গেল এই বাড়ির সামনে। বেল বাজলে মুক্তো গেল খুলতে। ফিরে এসে বলল, ‘দুজন ভদ্রলোক এসেছেন, ওর সঙ্গে দেখা করতে।’

‘কারা?’ শেফালি-মা তাকালেন।

‘নাম জিজ্ঞাসা করিনি। বলল, স্টুডিও থেকে এসেছে।’

‘নিয়ে আয় এখানে।’

মুক্তোর সঙ্গে ঘরে ঢুকল গীতিময়বাবু এবং একজন সহকারী পরিচালক। শেফালি-মাকে নমস্কার করে গীতিময়বাবু বললেন, ‘আমি চলচ্চিত্র পরিচালক, গীতিময়। ও কেমন আছে এখন?’

‘আপনারা কথা বলুন।’ শেফালি-মা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।

একটা চেয়ার টেনে বসলেন গীতিময়, ‘হাঁটতে পারছ?’

নবকুমার বলল, ‘হ্যাঁ। তবে লাগছে।’

‘তোমার তো মনে রাখা উচিত ছিল, কত বড় দায়িত্ব নিয়েছ। সমস্ত ঝামেলা থেকে দূরে থাকা উচিত ছিল। পুলিশ কেন তোমাকে মারল?’

‘জানি না। আমি কোনও অন্যায় করিনি।’

‘অন্য কোনও প্রাোডিউসার হলে কালই তোমাকে বাদ দিয়ে দিত। বড়বাবু সাতদিন শ্যুটিং বন্ধ রেখেছেন। তার মধ্যে ভালো হয়ে ওঠো। আচ্ছা, চলি।’

গীতিময়বাবুরা বেরিয়ে গেলে শেফালি-মা ঘরে এলেন, ‘কী, খুশি তো?’

‘অদ্ভুত লাগছে। আমি ভাবতেই পারিনি, বড়বাবু আবার সুযোগ দেবেন।’

শেফালি-মা বললেন, ‘পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে মানুষ ইচ্ছের বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য হয়। বড়বাবু সেরকম বাধ্য হয়েছে।’

‘কী হয়েছিল? কেন বাধ্য হয়েছেন বড়বাবু?’

‘নাইবা শুনলে আমার মুখে। যদি তোমার বোধ থাকে তাহলে ঠিক বুঝতে পারবে? নইলে তুমি আর কীসের মানুষ!’ শেফালি-মা-র কথা শেষ হতেই বাইরে ট্যাক্সির শব্দ শোনা গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *