চুয়ান্ন
গীতিময়বাবুর ঘর থেকে বেরিয়ে এসে চারপাশে তাকাল নবকুমার। স্টুডিও-র আলোগুলো চুপচাপ জ্বলে যাচ্ছে। কোথাও কোনও বিকট শব্দ নেই। একটা গাড়ি ঢুকল ভেতরে, হর্ন না বাজিয়ে ওপাশে চলে গেল।
একটু বাদে বড়বাবুকে গাড়িতে উঠতে দেখল। গাড়িটাও নি:শব্দে বেরিয়ে গেল।
নবকুমার মাথা নাড়ল। তার কিছুই করার নেই। বড়বাবুই তাকে মন্দাক্রান্তার কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। সেই তিনিই বলছেন, এখন থেকে যেন ওঁর সঙ্গে কোনও সম্পর্ক না রাখে! কিন্তু কেন রাখবে না তা স্পষ্ট করে বলেননি। ওঁর বলার ভঙ্গিতে যে ইঙ্গিতটা ছিল তা বুঝতে অসুবিধে হয়নি। আর এখানেই তার আপত্তি! বড়বাবু কী করে ভাবলেন যে সে মন্দাক্রান্তার সঙ্গে প্রেম করছে? কোথায় মন্দাক্রান্তা আর কোথায় সে! তা ছাড়া, মন্দাক্রান্তা তার থেকে বয়সে বেশ কয়েক বছরের বড়। আজ অবধি প্রেম করার চিন্তা তার মাথায় যেমন আসেনি, তেমনি মন্দাক্রান্তাও কখনও তেমন দুর্বলতা দেখাননি। তাহলে?
নবকুমারের কাছে মন্দাক্রান্তার সঙ্গে তার সম্পর্কটা একদম আলাদা। এরকম সম্পর্ক যে হতে পারে তা তার জানা ছিল না। প্রেমিক-প্রেমিকা কখনোই নয়, আবার ভাইবোনও নয়। বন্ধুত্বও বলা যাবে না। মন্দাক্রান্তা তার ভালো চান, সে গেলে খুব খুশি হন। মন্দাক্রান্তার কাছে গেলে তারও মন ভালো হয়ে যায়। সম্পর্ক এইরকম হলে তার নাম কী দেওয়া যায়, তা নবকুমারের জানা নেই।
কিন্তু এসব কথা বড়বাবুকে বলার মতো সাহস ছিল না নবকুমারের। ওই মানুষটির সঙ্গে বিরোধ করলে তার কোনও লাভ হবে না। এই শহরে মফস্বল থেকে বি এ পাশ করা একটি যুবকের কোনও দাম নেই। একটা ভদ্রগোছের চাকরি কেউ তাকে দেবে না। নেহাতই কপাল জোরে সে ছবিতে সুযোগ পেয়েছে। অবাধ্য হলে বড়বাবু মুহূর্তেই তাকে বাতিল করে দিতে পারেন। নিজের অর্থ নষ্ট হলেও সেটা করতে তিনি দ্বিধা করবেন না বলে নবকুমারের বিশ্বাস।
কিন্তু একথা কি বড়বাবু মন্দাক্রান্তাকেও বলেছেন? বললে কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন তিনি? হঠাৎ মনে হল, বড়বাবু নির্বোধ নন। নিশ্চয়ই তিনি মন্দাক্রান্তার সঙ্গে এ-বিষয়ে কোনও কথা বলবেন না। যে বিদ্রোহ নবকুমার করতে পারে না তা করা মন্দাক্রান্তার পক্ষে সম্ভব। তা ছাড়া, বড়বাবু জানেন সে মন্দাক্রান্তার বাড়িতে না গেলে ওদের দেখা না হওয়াই স্বাভাবিক। মন্দাক্রান্তা স্টুডিওতে আসেন না। একমাত্র টেলিফোনে তিনি নবকুমারকে বলতে পারেন বাড়িতে যেতে। কিন্তু নবকুমার যদি টেলিফোন না ধরে তাহলে যোগাযোগের আর কোনও রাস্তা নেই।
ক্রমশ খারাপ লাগাটা বাড়তে লাগল। সে কোনও অন্যায় করেনি, মন্দাক্রান্তাও, তবু বড়বাবুর নির্দেশে তাকে সরে যেতে হবে। হঠাৎ যদি মন্দাক্রান্তার সঙ্গে দেখা হয়ে যায় এবং তিনি জিজ্ঞাসা করেন কেন সে যোগাযোগ করছে না, তাহলে সত্যি কথাটাই বলতে হবে। আর সেটা বলা মানে নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করা।
বাড়ি ফিরে এল নবকুমার। সোনাগাছির মধ্যে দিয়ে হেঁটে এল কিন্তু কোনওদিকে তাকাল না। নিজেকে খুব ছোট লাগছিল। বাড়িতে ঢোকামাত্র মুক্তো বলল, ‘দু-বার ফোন এসেছিল। বাব্বা!’
‘কে করেছিল?’
‘কে আবার? তোমার সে—!’
ঢোক গিলল নবকুমার। মন্দাক্রান্তা এমন অবুঝ হচ্ছেন কেন? শেফালি-মায়ের কাছ থেকে ফোন নম্বর নিয়ে ওকে জানিয়ে দেওয়া উচিত, দয়া করে আমাকে ফোন করবেন না। সে শেফালি-মায়ের দরজার কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘ভেতরে আসব?’
‘এস।’
পরদা সরিয়ে ভেতরে ঢুকল সে। শেফালি-মা বালিশে ঠেস দিয়ে বই পড়ছিলেন। সেটা বন্ধ করে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কাজ হয়েছে?’
‘হ্যাঁ।’ হঠাৎ মনে আসতে সে এগিয়ে গিয়ে প্রণাম করল শেফালি-মাকে।
‘আহা! সফল হও। বসো ওখানে।’
চেয়ারে বসল নবকুমার। শেফালি-মা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘বিকেলে কিছু খেয়েছ?’
মাথা নাড়ল নবকুমার, ‘খিদে পায়নি।’
‘আজ কতক্ষণ শ্যুটিং হল?’
‘একটুখানি। একটা সংলাপ বলতেই শেষ হয়ে গেল।’
‘আজকের দিনটার কথা মনে রেখো। আজ থেকে তোমার নতুন জীবন শুরু হল।’
‘আমি একটুর জন্যে বাদ হওয়া থেকে বেঁচে গিয়েছি।’
‘সেকী? কেন?’
‘আমি গ্রামে গিয়ে খবর দিইনি বলে ওঁরা ধরে নিয়েছিলেন মায়ের কিছু হয়ে গেছে, এখন আমি ফিরতে পারব না, তাই অন্য কাউকে প্রায় ঠিক করে ফেলেছিলেন।’
‘তা তো হওয়ার কথা নয়। তুমি এখান থেকে মন্দাক্রান্তাকে ফোন করে ব্যাপারটা জানিয়েছ, সে ডিরেক্টারের সঙ্গে কথা বলে রিং ব্যাক করেছে। তুমি তো দেরি করে ফেরোনি! মন্দাক্রান্তা কি ওঁদের জানায়নি?’ শেফালি-মা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন।
‘নিশ্চয়ই জানিয়েছিলেন।’
‘তুমি মন্দাক্রান্তাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করো। সে আজও দুবার তোমার খোঁজ নিয়েছে।’
‘শেফালি-মা—!’ নবকুমার থেমে গেল। শেফালি-মা তাকালেন।
‘আমি ওঁকে ফোন করে বলতে চাই যেন আর আপনাকে বিরক্ত না করেন।’
‘হঠাৎ?’
‘মানে?’
‘হঠাৎ একথা মনে এল কেন তোমার?’
‘আমি যখন ছিলাম না তখন বারবার ফোন করেছেন, আজও দুবার। আপনি তো বিরক্ত হতেই পারেন!’ নবকুমারের সত্যি কথাটা বলতে সঙ্কোচ হচ্ছিল।
‘না। আমি তোমাকে বলেছিলাম কারণ, কার মনে কী অভিসন্ধি আছে তা বোঝা মুশকিল। মনে হয় সে বেশ শিক্ষিতা, টাকা-পয়সার অভাব নেই। তুমি খুব সাধারণ পরিবার থেকে এসেছ। তোমাকে সে ব্যবহার করতে চাইছিল কি না বুঝতে পারিনি। ফিরে আসোনি বলে এত তার উদ্বেগ আমার কাছে দৃষ্টিকটু মনে হয়েছিল। কিন্তু তাই বলে তুমি ওকে ফোন করতে নিষেধ করবে, এ কেমন কথা!’ শেফালি-মা বললেন।
‘শেফালি-মা, আজ শ্যুটিং-এর পরে বড়বাবু আমাকে ডেকে বলেছেন, আমি যেন কোনওভাবেই মন্দাক্রান্তার সঙ্গে সম্পর্ক না রাখি।’ নবকুমার বলে ফেলল।
কপালে ভাঁজ পড়ল শেফালি-মায়ের, ‘কেন?’
‘উনি কোনও ব্যাখ্যা করেননি। কিন্তু ওঁর কথার ধরনে বোঝা যাচ্ছিল আমার সঙ্গে ভদ্রমহিলা যে যোগাযোগ রাখছেন তাতে উনি খুব বিরক্ত।’ নবকুমার বলল।
‘উনিই তো আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন।’
‘হ্যাঁ। ওঁর বাড়িতে বড়বাবুই নিয়ে গিয়েছিলেন।’
‘তুমি খোলাখুলি জানতে চাইলে না কেন?’
‘বড়বাবু কৈফিয়ত দেওয়া পছন্দ করেন না।’
‘তাই তুমি মন্দাক্রান্তাকে বলবে কোনও সম্পর্ক না রাখতে!’ হাসলেন শেফালি-মা, ‘কিন্তু ও-তো তোমার সঙ্গে প্রেম করতে চায়নি। প্রেম ছাড়াও বন্ধুত্ব হয় তা তোমার সঙ্গে আলাপ হওয়ার পরে ও বুঝেছিল?’
‘আপনি কী করে জানলেন? নবকুমার হেসে ফেলল।
‘খানিক আগে মন্দাক্রান্তা আমাকে ফোন করেছিল।’
‘আবার?’
‘তোমার শ্যুটিং বেশ ভালো হয়েছে, এই খবরটা আমাকে জানাল। স্টুডিওতে খোঁজ নিয়ে সে জেনেছে। শুনে আমারও ভালো লাগল। তারপর কথা হতে-হতে ও অনেক কিছু বলে ফেলল। আমি মেয়েটাকে যা ভেবেছিলাম, সম্ভবত ও সেরকম নয়। যাকগে, তোমার বড়বাবুর আদেশ তোমাকে পালন করতেই হবে। কিন্তু নিজে থেকে ওকে তুমি কিছু বলবে না। তুমি যদি ফোন না করো বা বাড়িতে থাকলে ফোন রিসিভ না করো তাহলে তো ও বুঝেই যাবে সব।’ শেফালি-মা বললেন।
.
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেল নবকুমারের। হঠাৎ মনে হল সে যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছে। চারধারে চিৎকার, কান্না, ধরধর, মারমার হুঙ্কার শোনা যাচ্ছে। সেইসঙ্গে দরজায়-দরজায় শব্দ। সে নি:শব্দে জানলায় গেল। ওপাশের রাস্তা দিয়ে কয়েকজন পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে ছুটে গেল। তারপর দুটো লরি এসে দাঁড়াতেই লাফিয়ে নামতে লাগল প্রচুর পুলিশ। ওপাশের বাড়ির সদর দরজা ভাঙতে লাগল তাদের কেউ-কেউ।
‘জানলা থেকে সরে এস। তাড়াতাড়ি।’ ফিসফিস করে বলল মুক্তো। কখন সে ঘরে ঢুকেছে টের পায়নি নবকুমার।
‘এসব কী হচ্ছে?’ নবকুমার গলা নামাল।
‘যা হচ্ছে হোক, তোমার কী? তুমি চুপচাপ শুয়ে থাকো।’ মুক্তো চলে যেতে গিয়েও দাঁড়াল, ‘খবরদার আলো জ্বালবে না।’
‘পুলিশগুলো গুন্ডাদের মতো আচরণ করছে কেন?’
‘সোনাগাছিতে এলে পুলিশ আর গুন্ডা এক হয়ে যায়। কোথায় গিয়ে বোম মেরে খুন করে এসে একদল সোনাগাছিতে লুকিয়েছে, তাদের ধরতে বাড়ি-বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে ওরা।’ মুক্তো চলে গেল। এ-বাড়িতে কোনও আলো এই মুহূর্তে জ্বলছে না। কিন্তু রাস্তার আলো অনেক বাধা কাটিয়ে যেটুকু ঢুকছে তাতে আবছা হলেও মানুষের চলাফেরা দেখা যায়।
মিনিটপাঁচেক বাদে শেফালি-মায়ের বাড়ির বন্ধ দরজায় প্রবল শব্দ হল, ‘অ্যাই খোল! খোল দরজা?’ তারপরে গলা চড়ল, ‘স্যার, দরজা খুলছে না।’ ‘ভাঙ তাহলে।’
এবার দরজা প্রবল ধাক্কায় ছিটকে খুলে গেল। তার পরেই চিৎকার চেঁচামেচি। ঘরের দরজা খুলতে বাধ্য করছে পুলিশ। মেয়েরা ভয় পেয়ে কাঁদছে।
‘স্যার, নীচে কেউ নেই।’
‘ওপরটা দ্যাখো।’
বুটজুতোর শব্দ ওপরে উঠে আসতেই শেফালি-মায়ের গলা শুনতে পেল নবকুমার, ‘দাঁড়ান।’
‘সরে যাও, বাড়ি সার্চ করব।’ একজন হুমকি দিল।
‘সার্চ-ওয়ারেন্ট নিয়ে এসেছেন?’
‘অ্যাঁ! সোনাগাছিতে সার্চ করতে ওয়ারেন্ট লাগে না।’
‘লাগে। আপনার অফিসারকে ডাকুন।’
নবকুমার ঘর থেকে বেরিয়ে প্যাসেজের প্রান্তে গিয়ে দাঁড়াল।
‘স্যার, এই মেয়েছেলেটা সার্চ ওয়ারেন্ট দেখতে চাইছে।’ লোকটা চেঁচাল।
একজন অফিসার উঠে এল ওপরে, ‘তুমি কে?’
‘মুক্তো! আলোগুলো জ্বেলে দে।’ শেফালি-মার আদেশমাত্র মুক্তো আলো জ্বালল, ‘তুমি নয়, আপনি। আমি এই বাড়িটি কিনেছি।’
‘অ। বাড়িওয়ালি। শুনুন, এটা ইমাজেন্সি। তিনটি ভয়ঙ্কর খুনি এখানে লুকিয়েছে। আপনার বাড়িতে তারা থাকতেও পারে। আমাদের খুঁজতে দিন।’ অফিসার বললেন।
‘আমার এই ওপরতলায় কেউ লুকোতে আসেনি।’ শেফালি-মা বললেন।
‘স্যার, ওকে সরিয়ে ভেতরে ঢুকব?’ প্রথম লোকটি জিজ্ঞাসা করল।
শেফালি-মা দু-দিকে দুটো হাত প্রসারিত করলেন, ‘তাহলে আমাকে মেরে ঢুকতে হবে।’
অফিসার বললেন, ‘তার মানে আপনি কাউকে লুকোতে চাইছেন।’
এই সময় প্রথম লোকটি নবকুমারের ছায়ামূর্তি দেখতে পেয়ে চিৎকার করে উঠল, ‘ওই যে, ওই যে একটা ছেলে, লুকিয়ে দেখছে।’
শেফালি-মা মুখ ফিরিয়ে নবকুমারকে দেখে বললেন, ‘নবকুমার, এদিকে এস।’
নবকুমার এগিয়ে এলে তিনি বললেন, ‘একে কী আপনাদের সেই খুনি গুন্ডা বলে মনে হচ্ছে? এছাড়া আর কোনও ছেলে দোতলায় নেই।’
‘এ কে? খদ্দের?’ অফিসার জিজ্ঞাসা করলেন।
‘ও আমার ছেলে।’
‘বেশ্যাপাড়ায় কেউ সত্যি কথা বলে না।’ অফিসার হাসল।
অনেকক্ষণ ধরে ভেতরে-ভেতরে ফুঁসছিল নবকুমার। আচমকা সে ফেটে পড়ল, ‘এই যে মুখ সামলে কথা বলবেন, ‘উনি কে আপনি জানেন?’
‘জানি না। জানতে চাই না। তবে আমাকে চোখ রাঙানির জন্যে তোমার কপালে কী আছে তা একটু পরে জানতে পারবে।’ খপ করে নবকুমারের চুলের মুঠি ধরে হ্যাঁচকা টান দিতেই সে বাইরে ছিটকে চলে এল। অফিসার চাপা গলায় বললেন, ‘এটাকে ভ্যানে তোল।’
সঙ্গে-সঙ্গে দুটো পুলিশ নবকুমারের ওপর নির্মম হাতে লাঠির আঘাত করতে-করতে নীচে নিয়ে এল। বাইরে এসে ভ্যানে তুলল। নবকুমারের মনে হচ্ছিল সে মরে যাবে! সর্বাঙ্গে যন্ত্রণা হচ্ছিল। ভ্যানের মেঝেতে বসে তার মনে হচ্ছিল, শরীরের সবক’টা হাড় টুকরো হয়ে গিয়েছে। সে জোরে-জোরে শ্বাস নিচ্ছিল। এই সময় ভ্যানে আরও কয়েকজনকে ঢুকিয়ে দেওয়া হল। তারপর নিস্তব্ধ রাতের কলকাতা কাঁপিয়ে ভ্যান চলে এল থানায়। টেনে হিঁচড়ে ভ্যান থেকে নামিয়ে ওদের একটা ছোট্ট খাঁচায় ঠাসাঠাসি করে ঢুকিয়ে দেওয়া হল।
.
সকাল হতে-না-হতেই একটি সেপাই চেঁচিয়ে ডাকল, ‘নবকুমার কে আছেন?’
চোখ খুলল নবকুমার। লোকটা আবার চেঁচাল, ‘এই নামে কেউ নেই?’
নবকুমার উঠে দাঁড়াল। দাঁড়াতেই কোমরে ব্যথা জানান দিল।
‘আপনি?’ দরজার তালা খুলে লোকটা বলল, ‘আসুন।’
খুঁড়িয়ে হেঁটে লোকটার পেছন-পেছন সে যে ঘরে ঢুকল, সেখানে একজন অফিসারের উলটোদিকের চেয়ারে বসে আছেন শেফালি-মা এবং মন্দাক্রান্তা। অবাক হয়ে গেল সে। মন্দাক্রান্তাকে এই থানায় সে দেখতে পাবে কল্পনাতেও ছিল না।
শেফালি-মা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘খুব কষ্ট হচ্ছে?’
নবকুমার হাসার চেষ্টা করল। সেটা নীরক্ত দেখাল।
অফিসার বললেন, ‘কাল গভীর রাতে আনা হয়েছিল বলে এখনও খাতায় নাম তোলা হয়নি। ওয়েল, আমি দু:খিত ছাড়া এই মুহূর্তে আর কী বলতে পারি!’
শেফালি-মা বললেন, ‘পুলিশ কি কোনওদিন মানবিক হতে পারবে না?’
‘আমরা চেষ্টা করছি।’ ভদ্রলোক মাথা নাড়লেন, ‘ওকে নিয়ে যেতে পারেন।’
ওরা থানার বাইরে বেরিয়ে এল। এবং এই প্রথমবার মন্দাক্রান্তা বললেন, ‘ওকে এখনই ডাক্তার দেখানো দরকার।’
