কলিকাতায় নবকুমার – ৫২

বাহান্ন

নবকুমার বাবার সামনে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল, ‘কী হয়েছে?’

হাত সরাল মানুষটা, ‘তোর এই দুর্মতি হল কেন? আমরা গরিব, গাঁয়ের মানুষ। আমাদের কি ওসব মানায়? তুই সিনেমায় নামবি, লোকে তোকে মাথায় করে নাচবে যদি ভালো করিস। ভিড় করে আসবে তোকে দেখতে। তোর চৌদ্দপুরুষকে কেউ দেখতে এসেছিল? তখন তোর অন্য জীবন হয়ে যাবে। ঠাঁট-বাঁট, গাড়ি-বাড়ি, মদ-মেয়েমানুষে ডুবে থাকবি। যারা তোর পাশে সবসময় থাকবে তারা আমাদের ঝি-চাকর ভাববে। না পারবি তুই সম্পর্ক রাখতে, না পারব আমরা। তুই আমাদের থেকে বহুদূরে চলে যাবি রে নব। মরার আগে এই দেখে যেতে হবে আমাকে?’

‘আশ্চর্য! এখনও রাম জন্মাল না আর তুমি রামায়ণ গাইছ।’

বাবা মুখ তুলল, ‘তার মানে?’

‘যারা সিনেমায় অভিনয় করে তাদের সবাই বাবা-মাকে ত্যাগ করে দিয়েছে?’

‘তারা শহরের বাবা-মা, আদবকায়দা বোঝে!’ বাবা কাতর গলায় বলল।

‘ও:। শোনো, আমি একটা সিনেমায় সুযোগ পেয়েছি মানে এই নয় যে সারাজীবন সিনেমায় সুযোগ পাব। মানুষের যদি ভালো না লাগে তাহলে এই শুরুতেই শেষ হয়ে যাবে। ধরো, আমি যদি বড় চাকরি করতাম, বা ব্যাবসা করে কোটিপতি হয়ে যেতাম তাহলে কি তোমাদের মনে হত আমি তোমাদের কাছ থেকে দূরে সরে যাব?’

‘না হত না। কারণ, তোকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ব্যাবসা করতে হত। তোকে দেখার জন্যে লোক ভিড় জমাত না। তা ছাড়া বড় চাকরি, বড় ব্যাবসা তুই কখনও করতে পারতিস না। আমাদের এই সমাজের কেউ পারেনি। তাই বলি, নব, তুই সিনেমায় নামিস না!’ বাবা বলল।

‘এখন না বলব কী করে? আমি ওদের চুক্তিতে সই করেছি।’ মাথা নাড়ল নবকুমার, ‘তা ছাড়া, আমি বলছি তুমি খুব ভুল ভাবছ। অনেক নীচুতলার মানুষ খুব বড় হয়ে গিয়েও তার মাটিকে ভুলে যায়নি। এই যে তুমি মায়ের অসুখের মিথ্যে খবর দিয়ে টাকা চাইলে আমি তো সঙ্গে-সঙ্গে তা পাঠিয়ে দিয়েছি।’ বলেই ঢোঁক গিলল নবকুমার। কথাটা মিথ্যে। শেফালি-মা নিজে থেকে না পাঠালে সে হয়তো ধার-ধোর করে দু-তিন হাজার টাকা নিয়ে এখানে আসত, অত টাকা টিএমও করত না।

‘আমার এক হাজার টাকা ধার ছিল। খুব চাপ দিচ্ছিল ধার শোধ করতে। তোর পাঠানো টাকা থেকে শোধ করে দিয়েছি। বাকিটা আছে, তুই নিয়ে যা।’

‘বারে! মায়ের চিকিৎসার জন্যে পাঠানো টাকা আমি নেব কেন?’

‘কী হবে চিকিৎসা করে? সবাইকে তো একদিন মরতে হবে। চিকিৎসা না করালে তোর মা না হয় একটু আগে মরবে। নিয়ে যা টাকাগুলো।’

‘তুমি বাচ্চাদের মতো কথা বলছ!’ বাবার পাশে বসল নবকুমার, ‘আচ্ছা, একটা কথা বলি তোমাকে। আমি এমন কিছু লোককে জানি যারা সামান্য পিওনের চাকরি করে। বিয়ের পর বউকে শহরে নিয়ে গিয়ে বাপ-মাকে ভুলে গিয়েছে। টাকা পাঠানো দূরের কথা, একটা খবরও নেয় না। আমি তো সেরকম হয়ে যেতে পারি। তখনও তো তোমাদের কষ্ট হবে, তাই না? কিন্তু সিনেমায় অভিনয় করে আমি যদি নাম করি, তোমরা কষ্ট না পাও এমন কাজ যদি না করি তাহলে তো তোমরা খুশিতে থাকবে! কী বলো?’

‘পাথরবাটি কি সোনার হয় বাবা।’

‘না, হয় না। কিন্তু তেমন হলে সোনার বাটি ব্যবহার করতে দোষ কী?’

বাবা হেসে ফেলল, ‘সোনার বাটি? আমি জীবনে দেখিনি।’

এই সময় মায়ের গলা কানে এল, ‘খোকা, বাবাকে নিয়ে খেতে আয়। রাত অনেক হয়ে গিয়েছে। কাল সকালে তো আমাকে হাসপাতালে যেতে হবে।’

.

সাতসকালে বেরিয়েছিল ওরা। প্রথম বাস সদরে যায় ভোর সাড়ে-পাঁচটায়। সেখানে ট্রেন লাইন নেই। সাড়ে-সাতটায় পৌঁছে গিয়েছিল। বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশায় হাসপাতালে। দুটো রিকশা নিতে হয়েছিল। বাবা মায়ের পাশে বসেনি। নেমে বলেছিল, ‘মিছিমিছি রিকশা ভাড়া দিতে হল। এটুকু রাস্তা হেঁটেই আসা যেত।’

নবকুমার রেগে গেল, ‘মাকে নিয়ে এক মাইল হাঁটতে? মা কি সুস্থ?’

বাবা কিছু বলল না। সে চেয়েছিল বাবা মাকে নিয়ে সদরের ডাক্তারকে দেখিয়ে আসুক। কাল রাতে খাওয়ার পর মা বলেছিল, ‘আমি তোর বাবার সঙ্গে যাব না।’

‘কেন?’

‘তাহলে আমার ডাক্তার দেখানো হবে না। ও কিছুই জানে না।’

বাবা উদাস গলায় বলেছিল, ‘কী করে জানব! আমি কি কখনও হাসপাতালে গিয়েছি?’

‘আমিও তো যাইনি।’ নবকুমার বিরক্ত হয়েছিল।

‘তুই তো বড় শহরে আছিস। কথা বলতে পারিস।’ বাবা বলেছিল।

খোঁজখবর নিয়ে কার্ড করিয়ে ডাক্তারের কাছে পৌঁছতে এগারোটা বেজে গেল। এর মধ্যে চা-বিস্কুট খেয়েছিল ওরা। মায়ের পেটে চিনচিনে ব্যথা শুরু হয়েছিল। ডাক্তার পরীক্ষা করে বললেন, ‘লিখে দিয়েছি। টাকা জমা দিয়ে রিপোর্ট নিয়ে আসুন।’

‘কোথায় যাব?’

‘প্যাথলজি ডিপার্টমেন্ট।’

অনেক ছুটোছুটি করতে হল নবকুমারকে। আল্টা সোনোগ্রাম করিয়ে জানা গেল, তখনই রিপোর্ট পাওয়া যাবে না। পরদিন আসতে হবে, তারা যে দু-ঘণ্টা বাসে চেপে এসেছে, আবার কাল এলে মায়ের কষ্ট হবে বলেও যখন গলানো গেল না, তখন অসহায় বোধ করল নবকুমার।

যে নার্স-মহিলা দায়িত্বে ছিলেন তাকে সে বলল, ‘আমাকে পরশু সকালে কলিকাতায় পৌঁছতেই হবে। নইলে একটা বড় সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে।’

‘কীসের সুযোগ?’ নার্সমহিলা নির্লিপ্ত।

‘সিনেমায় অভিনয় করার।’

চমকে তাকালেন ভদ্রমহিলা, ‘আপনি সিনেমায় অভিনয় করবেন?’

‘আজ্ঞে হ্যাঁ।’

‘কী চরিত্র?’

‘নায়কের চরিত্র।’

‘আচ্ছা! সিনেমার নাম কী?’

‘এখনও নামকরণ হয়নি। পরশু থেকে শ্যুটিং আরম্ভ।’ ‘নায়িকা কে?’

নামটা বলল নবকুমার। শুনে নার্স বললেন, ‘এই প্রথম আমি একজন সিনেমার আর্টিস্টকে চোখে দেখলাম। দিন, রসিদটা দিন, দেখছি, কী করা যায়।’

তিনটের মধ্যে রিপোর্ট পেয়ে গেল নবকুমার। নার্সমহিলা বললেন, ‘শুধু আপনার জন্যে আউট অফ টার্ন রিপোর্টটা বের করে দিলাম। যখন সবাই আপনাকে দেখেই চিনবে তখন যেন আমাকে ভুলে না যান। চলুন, আমি আপনার সঙ্গে ডাক্তারবাবুর কাছে যাচ্ছি।’

ডাক্তারের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। তিনি যখন উঠছেন তখন নবকুমার তাঁকে রিপোর্ট দেখাল। ডাক্তার প্রথমে বলেছিলেন পরের দিন আসতে। কিন্তু নার্সমহিলা তাঁকে নীচু গলায় কিছু বলতে তিনি রিপোর্ট নিলেন। চোখ বুলিয়ে ডাক্তার বললেন, ‘পেশেন্ট কোথায়?’

‘বাইরে আছে।’

‘আপনি নিজেই ওকে ভরতি করে দিন। প্রেসক্রিপশনটা দেখি।’

নবকুমার পকেট থেকে বের করে সেটা এগিয়ে দিলে তার ওপর কিছু লিখলেন ডাক্তার, ‘সব ঠিক থাকলে কাল সকালেই অপারেশন করব।’

‘অপারেশন?’ ঘাবড়ে গেল নবকুমার।

ডাক্তার বললেন, ‘মেজর কিছু নয়। ওঁর অ্যাপেডিক্স বাদ দিতে হবে। ব্যথা তো আজই হয়নি। বহুদিন ধরে কষ্ট সহ্য করেছিলেন। আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, ওঁকে আজ নিয়ে না এলে যে-কোনও মুহূর্তে মারাত্মক কিছু হয়ে যেতে পারত।’ ডাক্তার চলে গেলেন।

বাইরে বেরিয়ে এসে নবকুমার দেখল বাবার কিনে নিয়ে আসা সিঙাড়া খাচ্ছে মা। বাবা ঠোঙা এগিয়ে দিয়ে বলল, ‘খেয়ে নে, গরম আছে।’

নবকুমার বলল, ‘মা, চলো।’

বাবা জিজ্ঞাসা করল, ‘আবার কাল আসতে হবে?’

‘না। মাকে আজই ভরতি করতে হবে এখানে।’

‘ভরতি?’ বাবা প্রায় চেঁচিয়ে উঠল, ‘কেন?’

‘অপারেশন করবে। না করলে মা মারা যাবে।’

‘উরেব্বাবা।’ বাবা মাথা নাড়ল, ‘সর্বনাশ। অপারেশন না করে ওষুধ দিলে হয় না?’

‘না, হয় না। আজ ভরতি না করলে মা মারা যাবে। চলো।’

মা চুপচাপ ভরতি হয়ে গেল।

শুধু রাত্রে শোওয়ার জন্যে গ্রামে যাওয়ার কোনও মানে হয় না। সদরের খুব সস্তার হোটেলে রাত কাটাল ওরা। সকালে দু-হাজার টাকা জমা দিতে হল হাসপাতালে। দশটা নাগাদ মাকে নিয়ে গেল অপারেশন থিয়েটারে।

চল্লিশ মিনিট পরে যখন বেডে ফিরিয়ে দিল তখনও মায়ের জ্ঞান আসেনি। ডাক্তার জানালেন খুব ভালো অপারেশন হয়েছে। তাঁরা অবাক হয়েছেন অ্যাপেন্ডিক্সের চেহারা দেখে। যে-কোনও মুহূর্তে ফেটে যেতে পারত ওটা। মা যে কী করে যন্ত্রণা সহ্য করেছিলেন, তা তাঁরা ভেবে পাচ্ছেন না। তিনদিনের মধ্যে মাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

বাবা বলল, ‘তুই এলি বলে এসব হল। আমি একা পারতাম না। তুই দূরে সরে গেলে কার ওপর ভরসা করব বল?’

এই প্রথম নবকুমারের মনে হল তার বাবা খুব অসহায়।

এখন তার আর কিছু করার নেই। দু-বেলা গিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা বলা আর প্রয়োজন হলে ওষুধ কিনে দেওয়া ছাড়া কী-বা করার আছে। তাকে আজই ফিরতে হবে। বাবা প্রথমে রাজি হচ্ছিল না। নবকুমার চলে গেলে অসহায় হয়ে পড়বে। অনেক বুঝিয়ে, হাসপাতালের লোকদের সঙ্গে কথা বলিয়ে শেষপর্যন্ত রাজি করাতে পারল নবকুমার। সমস্ত খরচ মিটিয়ে দেওয়ার পরেও বাবার হাতে টাকা থাকবে।

বিকেলের বাস ধরে কাছাকাছি ট্রেন-স্টেশনে যেতে হবে। সেখান থেকে আবার ট্রেন। বিদায় নেওয়ার সময় বাবার চোখে জল পড়ল। নবকুমার বলল, ‘আমি যদি একটু দাঁড়িয়ে যাই তাহলে তোমাদের আমার কাছে নিয়ে যাব।’

‘না-না। আমি গ্রাম ছেড়ে কোথাও গিয়ে শান্তি পাব না রে!’

.

খারাপ লাগছিল খুব। মাকে বাড়িতে ফিরিয়ে না নিয়ে গিয়ে চলে আসতে হচ্ছে, কীরকম অপরাধী বলে মনে হচ্ছিল নিজেকে। হঠাৎ মনে পড়ল। তার ফোন করার কথা ছিল। বাস থেকে নেমে ট্রেন স্টেশনের কাছে গিয়ে টেলিফোন বুথ দেখতে পেল নবকুমার। বুথের লোকটিকে বলল, ‘কলিকাতায় ফোন করব।’

‘নম্বর বলুন।’

মন্দাক্রান্তার নম্বর বলতে গিয়ে হোঁচট খেল সে। সরি বলে সরে এল বুথের কাছ থেকে। না:, মন্দাক্রান্তার নম্বর এখন থেকে মুখস্ত করে রাখতে হবে।

কলকাতায় ট্রেনটা পৌঁছল ভোরবেলায়। রাস্তা ফাঁকা-ফাঁকা, বেশি লোকজন নেই, দোকানপাট খোলেনি। এই কলকাতার চেহারা বড় মনোরম। দোতলা বাসে চেপে বিডন স্ট্রিটে নেমে নবকুমার যখন সোনাগাছিতে ঢুকল, তখন সূর্য উঠব-উঠব করছে।

চট করে মনে হবে পাড়াটা মৃত। মানুষজন বাড়িঘর ছেড়ে অন্য কোথাও চলে গিয়েছে। সোনাগাছি এখন ঘুমোচ্ছে। এমন কি শেফালি-মায়ের বাড়ির মূল দরজাও খোলেনি? শব্দ করে-করে শেষপর্যন্ত নীচের মেয়েদের ঘুম ভাঙিয়ে দরজা খোলাতে হল। যে মেয়েটি ঘুম চোখে দরজা খুলেছিল সে বিরক্ত হয়ে কিছু বলতে গিয়েও সামলে নিল নবকুমারকে দেখে। তারপর সেই রাগটা প্রকাশ করতে শরীরের পশ্চাৎভাগ প্রবলভাবে দুলিয়ে চলে গেল নিজের ঘরে।

দোতলায় উঠল নবকুমার। উঠেই অবাক হয়ে গেল। দরজায় শেফালি-মা দাঁড়িয়ে আছেন।

‘কেমন আছেন তোমার মা?’

‘গতকাল অপারেশন হয়েছে। ডাক্তার বলেছেন ভয়ের কিছু নেই।’

‘কী হয়েছিল।’

‘অ্যাপেন্ডিসাইটিস। অ্যাপেন্ডিক্স কেটে বাদ দিতে হয়েছে।’

‘কবে ছাড়বে?’

‘তিনদিন রাখবে।’

‘ও। তুমি চলে এলে কেন?’

‘আমার তো কাজ শুরু হচ্ছে!’

গম্ভীর হলেন শেফালি-মা। বললেন, ‘রাত জেগে ট্রেন জার্নি করে এসেছ। ঘরে গিয়ে বিশ্রাম নাও। পরে তোমার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে।’

‘আপনি এখনও বলতে পারেন। আমি একটুও টায়ার্ড নই।’ নবকুমার বলল।

শেফালি-মা বললেন, ‘ওই মন্দাক্রান্তা মেয়েটির সঙ্গে তোমার কেমন সম্পর্ক?’

‘সম্পর্ক? আমি ঠিক জানি না।’

‘তুমি জানো না, অথচ সে গত দু-দিনে অন্তত ছয়বার ফোন করে জানতে চেয়েছে তুমি গ্রামে ঠিকঠাক পৌঁছেছ কি না? তোমার মায়ের শরীর এখন কেমন? তুমি গিয়ে অবধি ওকে একটাও ফোন করোনি। ফোন তো তুমি আমাকেও করোনি। কিন্তু আমি তো ফোনের জন্যে ওর মতো ব্যাকুল হইনি! মা-মাসি-দিদিরা ধৈর্য রাখতে জানে। উদ্বিগ্ন হলেও একটা সময় পর্যন্ত তা নিজের মধ্যে রাখে। অন্য সম্পর্ক হলে মেয়েরা অল্পেই বাস্তবজ্ঞান হারিয়ে ফেলে। মন্দাক্রান্তা তো তোমার থেকে বয়েসে বড়?’ শেফালি-মা অন্যদিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন।

‘হ্যাঁ।’

‘কলকাতার মানুষ যা মেনে নেয় তা গ্রামের মানুষের পক্ষে গ্রহণ করা অসম্ভব। তোমার বাবা-মায়ের কথা মনে রেখো। যাও।’

শেফালি-মা নিজের ঘরে ঢুকে গেলেন। ঘরে এসে খাটের ওপর কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল নবকুমার। মন্দাক্রান্তা কেন এতবার ফোন করেছেন? আজকের মধ্যে না ফিরলে ফোন করে জানতে চাইতে পারত। শেফালি-মা যে রুষ্ট হয়েছেন তাতে কোনও সন্দেহ নেই। সম্পর্কের কথা জিজ্ঞাসা করলেন উনি। মন্দাক্রান্তার সঙ্গে তার কী সম্পর্ক? ভাই-দিদির? বন্ধুর? কোনওটাই নয়। বন্ধু হতে হলে সমান-সমান হওয়া উচিত। শেফালি-মা যে ইঙ্গিত দিয়েছেন সেটা ভেবে সে নিজের মনেই বলে উঠল, ‘ধ্যেৎ।’

.

বেলা বারোটা নাগাদ স্টুডিওতে চলে এল নবকুমার। গীতিময়দার অফিস ফাঁকা। একটা পিওন গোছের লোক বলল, ‘শ্যুটিং শুরু হয়ে গিয়েছে। ডানদিকের ফ্লোরে চলে যান।’

ঠিক তখনই গাড়িটা এসে থামল সামনে। ড্রাইভার নেমে দরজা খুলে দিতে বড়বাবু বেরিয়ে এলেন। নবকুমারকে দেখে বিরক্ত গলায় জিজ্ঞাসা করলেন, ‘একী! তুমি এখানে?’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *