একান্ন
উত্তেজিত ননদের দিকে তাকিয়ে সুমিতা বলল, ‘তুই ঠিক বলছিস?’
‘ঠিক।’ মাথা নাড়ল তরুণী।
সুমিতা তাকাল নবকুমারের দিকে, ‘তুমি কী এখনও এই গ্রামে থাকো?’
‘কেন?’ নবকুমার জিজ্ঞাসা করল। অস্বস্তি শুরু হয়ে গিয়েছে তার।
‘তোমার মতো দেখতে, তোমার নামেই নাম একজনের ছবি ও গতকাল কাগজে দেখেছে। তুমি তো এই গ্রামের ছেলে, তোমার ছবি নিশ্চয়ই নয়। আমরা শুনতাম, একইরকম দেখতে দুটো মানুষ পৃথিবীর দুটো প্রান্তে নাকি থাকে। কিন্তু কলকাতা তো এখান থেকে খুব দূরে নয়। আর-একজনের জন্যে তোমাকে বেশ সমস্যায় পড়তে হবে। আচ্ছা, চলি।’
সুমিতা তার ননদের হাত ধরে যাওয়ার জন্যে পা বাড়াতেই মাস্টার বলল, ‘নব এখন কলকাতায় থাকে।’
‘তাই? কী করো তুমি?’ সুমিতা জিজ্ঞাসা করল।
কন্ডাক্টর বলল, ‘চাকরি। হেভি মাইনে। কিন্তু চাকরিটা কী জিজ্ঞাসা কোরো না, বলা নিষেধ।’
‘এমন কী চাকরি যা কাউকে বলা যাবে না?’ সুমিতা জিজ্ঞাসা করল।
কন্ডাক্টর বলল, ‘এখন টেম্পোরারি তো তাই।’
নবকুমার উসখুস করছিল। মেয়েটা যদি ভুল না করে তাহলে—! কিন্তু কেউ তো তার ছবি তোলেনি। অন্তত তাকে জানিয়ে নয়। যেদিন অডিশন দিয়েছিল সেদিন অবশ্য ভিডিওতে ছবি তোলা হয়েছিল, এমনি ক্যামেরাও ছিল। কোন কাগজে মেয়েটি দেখেছে তা জানা গেলে যাচাই করে নেওয়া যেত।
কপালে ভাঁজ পড়েছিল সুমিতার। অত্যন্ত অবিশ্বাস নিয়ে সে জিজ্ঞাসা করল, ‘তোমার সঙ্গে কি সিনেমার লোকদের পরিচয় আছে?’
‘আপনি এসব প্রশ্ন করছেন কেন বুঝতে পারছি না।’ নবকুমার বলল।
মাস্টার বলল, ‘অ্যাই, তুই ওকে আপনি বলছিস কেন?’
‘দীর্ঘদিন দেখিনি। তোরা না বললে চিনতে-ই পারতাম না। তাই।’
সুমিতা চোখ বড় করে শুনল কথাগুলো। তারপর বলল, ‘আই অ্যাম সরি। ও এমন পাগলামি করল—! তোমার, মানে আপনার মতো দেখতে একজন যার নামও নবকুমার, একটা সিনেমায়, নায়কের ভূমিকায় নেমেছে—।’
‘এখনও শ্যুটিং আরম্ভ হয়নি।’ পাশ থেকে ননদ শুধরে দিল।
‘না হোক, তাই প্রশ্ন করেছিলাম।’ সুমিতা শেষ করল। মাস্টার বলল, ‘কী রে নব—!’
‘ছয়মাস আগে আমি কিছু বলব না।’
তরুণী বলল, ‘ছবির নামকরণ এখনও হয়নি। প্রাোডাকশন নম্বর ওয়ান। পরিচালকের নাম গীতিময়। তাই না?’
‘আপনি আমাকে কাগজটা দেখাতে পারেন?’
‘হ্যাঁ। বাড়িতে আছে।’ মেয়েটি মাথা নাড়ল।
‘কোন বাড়িতে?’ সুমিতা জিজ্ঞাসা করল।
‘তোমাদের এখানে। কালকে আসার সময় কিনেছিলাম।’
‘যা:। ওটা দিয়ে আবর্জনা মুড়ে আজ মাসি বাইরে ফেলে দিয়ে এসেছে।’
‘এম্মা!’ মেয়েটার মুখ ছোট হয়ে গেল।
বেকার বন্ধুদের একজন বলল, ‘আমি দেখছি।’
গাছের গায়ে হেলান দিয়ে রাখা সাইকেলে উঠে সে ছুটল। মেয়েটি জিজ্ঞাসা করল, ‘উনি কোথায় গেলেন?’
কন্ডাক্টর বলল, ‘নতুন নিয়ম হয়েছে গ্রামের সব জঞ্জাল জড়ো করে নদীর ধারে রাখা হবে। রবিবার সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে ফেলবে পঞ্চায়েতের লোকজন।’
মেয়েটা বলল, ‘চলো না বউদি, আমরা ওখানে যাই।’
মাস্টার বলল, ‘পারবেন না। দুর্গন্ধে দাঁড়াতে পারবেন না।’
সুমিতা বলল, ‘সন্ধ্যা হয়ে আসছে, এবার বাড়ি চল।’
মাস্টার বলল, ‘নব, তোর না হয় বলা বারণ, শুধু একটা কথা বল, তোকে যদি কেউ সিনেমায় নামার কথা না বলে তাহলে তোর ছবি ছাপা হল কী করে?’
‘ওটা যে আমার ছবি, তা না দেখে কী করে বলব?’
সুমিতা ঝাঁঝিয়ে উঠল, ‘আচ্ছা মানুষ তো! খোলসা করে বলতে পারছেন না যে সিনেমায় অভিনয় করছেন কি না!’
‘কী করে বলব? নিষেধ আছে।’
‘এই যে শুনলাম, কী চাকরি করেন তা বলা নিষেধ। অভিনয় কি চাকরি?’ সুমিতা তার বিরক্তি চেপে রাখতে পারল না।
মাস্টার মাথা নাড়ল, ‘বইতে পড়েছি আগে এমন হত। নিউ থিয়েটার্সের ছবিতে যাঁরা অভিনয় করতেন তাঁরা মাস মাইনের চাকুরে ছিলেন। উত্তমকুমারও একসময় মাইনে পেতেন। কিন্তু নবকুমারকে চাকরিটা দেবে কেন? ও তো কখনও অভিনয় করেনি।’
‘কখনও করিনি বলিস না। কলেজ থিয়েটারে করেছি।’
‘আর তার জন্যে কোটি-কোটি ছেলেকে বাদ দিয়ে তোকে অভিনয়ের চাকরি দেবে কেন?’
এই সময় ওদের বেকার বন্ধু ফিরে এল। সাইকেল থেকে নেমে ওটাকে গাছের গায়ে হেলান দিয়ে রেখে বলল, ‘একটা কাগজ পেয়েছি। কিন্তু ভিজে গিয়েছে। কিছুটা ছিঁড়েছেও। এই কাগজটা কি?’
তরুণীকে কাগজটা দেখাল ছেলেটা। তরুণী চেঁচিয়ে উঠল, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ। ওই পেপার।’
বেকার বন্ধু চেষ্টা করল কাগজটা খুলতে। কিন্তু ভিজে গলে গিয়ে এ-ওর গায়ে এমনভাবে লেপটে রয়েছে যে খোলা অসম্ভব। দ্বিতীয় বেকার ছেলেটি কাগজটা সন্তর্পণে তুলে নিয়ে ছুটল নিবারণের কাছে। একটা সাঁড়াশি দিয়ে কাগজটা ধরে কয়লার উনুনের ওপর আগুন বাঁচিয়ে রাখল। যেমন করে রুটি সেঁকা হয় তেমনি করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কাগজটা সেঁকল কিছুক্ষণ ধরে।
তারপর বন্ধুদের কাছে ওটাকে নিয়ে এসে বলল, ‘কোন পাতায়?’
তরুণী সোৎসাহে বলল, ‘শেষের আগের পাতায়।’
‘শেষ পাতার অর্ধেক উড়ে গিয়েছে। কেউ হেল্প করো।’
মাস্টার এগিয়ে গেল। সন্তর্পণে শেষ পাতা তুলতে যেতেই সেটা হাতে উঠে এল। জল শুকোলেও পাতাটা নেতিয়ে ছিল। শেষের আগের পাতা উলটে ধরতেই মাস্টার চেঁচিয়ে উঠল, ‘আরে! তাই তো!’
বুক ঢিপঢিপ করতে লাগল নবকুমারের। সবাই যখন কাগজটার ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়েছে তখন তার পা নড়ল না। মাস্টার একটু কষ্ট করে চেঁচিয়ে পড়ল, ‘গীতিময়ের আগামী ছবির পরিকল্পনা শেষ। শ্যুটিং শুরু হচ্ছে এই মাসেই। টপ হিট নায়িকার বিপরীতে নায়কের চরিত্রে অভিনয় করার জন্যে নির্বাচিত হয়েছে নবাগত নবকুমার।’ পড়া শেষ করে মাস্টার কাগজটা নিয়ে ছুটে এল, ‘তুই দেখিসনি আগে?’
‘না।’ নবকুমার তাকাল। তারই ছবি। ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছে। এটা নিশ্চয়ই সেই অডিশন নেওয়ার সময় তোলা।
কন্ডাক্টর বলল, ‘গুরু, তুই এখন সিনেমায় হিরো। কয়েক মাসের মধ্যে তুই তো ওখানে গিয়ে কামাল করে দিলি!’
‘একথাটা আমাদের কাছে চেপে যাচ্ছিলি?’ মাস্টার বলল।
‘কী করব! আমাকে বলা হয়েছিল কাউকে যেন না বলি!’ নবকুমার বলল।
‘কিন্তু ছয় হাজার টাকা মাইনে দেবে তোকে?’
কন্ডাক্টর বলল, ‘ওটা মিথ্যে কথা। হিন্দি ছবির হিরোরা কোটি-কোটি টাকা পায়। একটা আইটেম ড্যান্সের জন্যে মল্লিকা নব্বুই লাখ পেয়েছে জানিস? বাংলাতে কম টাকা। অন্তত লাখপাঁচেক দেবে।’
‘পাঁ-পাঁ—।’ বলে থেমে গেল প্রথম বেকারবন্ধু।
সুমিতা বলল, ‘অভিনন্দন। এখন সবাইকে গর্ব করে বলতে পারব আমাদের গাঁয়ের ছেলে সিনেমার হিরো হয়েছে। তখন ওরকম বলেছিলাম বলে কিছু মনে করবেন না।’
‘না-না। ঠিক আছে।’ হাসল নবকুমার।
‘আমাকে একটা অটোগ্রাফ দেবেন?’ তরুণী বলল।
‘এখনই? এখনও শ্যুটিং হয়নি।’
‘হওয়ার পরে আমি তো আপনার নাগাল পাব না!’
সুমিতা তার ব্যাগ খুলে কাগজ ও কলম বের করে দিল।’ আপনি এই ব্যাগটার ওপর রেখে লিখুন।
জীবনের প্রথম অটোগ্রাফটা সই করল নবকুমার।
.
বাতাসের চেয়ে দ্রুত খবরটা ছড়িয়ে পড়ল গ্রামে। আমাদের ছেলে নবকুমার সিনেমার নায়ক হয়েছে। সন্ধের পর বাড়িতে ভিড়। মা-বাবা নাস্তানাবুদ। সবাই দেখতে চায় নবকুমারকে। খবরটা পেয়ে গিয়েছিল সে। বন্ধুদের সঙ্গে নদীর ধারে চলে গিয়েছিল ভিড় এড়াতে। দুটো সাইকেলে চারজন।’
‘তুই স্টুডিওতে গিয়েছিলি?’ কন্ডাক্টর জিজ্ঞাসা করল।
‘কতবার?’
ঋতুপর্ণাকে দেখেছিস?’
‘দেখব না? এখনও আলাপ হয়নি। হয়ে যাবে।’
মাস্টার জিজ্ঞাসা করল, ‘ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবিতে অভিনয় করতে বিপাশা বসু এসেছিল। সামনাসামনি দেখেছিস?’
‘এই তোকে যেমন দেখছি ঠিক তেমনি।’
‘সত্যি? কীরকম দেখতে রে সামনাসামনি?’
‘ফাটাফাটি।’
‘কলকাতায় গেলে আমার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিবি?’
‘তখন কি ও কলকাতায় থাকবে?’
‘আচ্ছা! হ্যাঁরে, তোর নায়িকার সঙ্গে প্রেমের সিন আছে?’
‘না থাকলে লোকে পয়সা দিয়ে টিকিট কিনবে কেন?’
‘তুই কী করে জড়িয়ে ধরবি?’ জীবনে তো কোনও মেয়ের সঙ্গে প্রেম করিসনি। হাত-পা কাঁপবে না?’
‘তার আগে রিহার্সাল করতে হবে।’ গম্ভীর গলায় বলল নবকুমার।
‘অ্যা! রিহার্সাল? তাহলে তো বহুবার জড়াতে হবে।’ মাস্টার চিন্তিত।
‘কিসিং সিন আছে?’ কন্ডাক্টর জিজ্ঞাসা করল।
‘জানি না। এখনও পুরো স্ক্রিপ্ট পড়িনি।’
.
রাত দশটার পর যখন নবকুমার বাড়ির খিড়কি দরজা দিয়ে ঢুকল, তখন বাইরের কেউ অপেক্ষায় নেই। তাকে দেখামাত্র মা চিৎকার করে কাঁদতে-কাঁদতে ছুটে এল।
দু-হাতে নবকুমারকে জড়িয়ে ধরে স্থির হয়ে থাকল কিছুক্ষণ। যদিও ফোঁপানি থামছিল না। নবকুমার বেশ ঘাবড়ে গিয়ে বলল, ‘কী হয়েছে?’
বারান্দা থেকে বাবা বেশ কঠিন গলায় বলল, ‘সারা গ্রাম এ-বাড়িতে এসে জুটেছিল তোমাকে দেখতে। তুমি নাকি কলিকাতায় গিয়ে সিনেমার হিরো হয়ে গিয়েছ!’
নবকুমার জবাব দিল না। বাবা আবার বলল, ‘তুমি যে এত বড় মিথ্যেবাদী, তা আমি জানতাম না। চাকরি করছ, মায়ের অসুখের চিঠি পেয়ে ধার করে টাকা পাঠিয়েছ চিকিৎসার জন্যে—এই সব মিথ্যে আমাদের বলার কী দরকার ছিল?’
‘আমি মিথ্যে বলিনি।’ মায়ের হাতের বাঁধনে তখনও আটকে ছিল নবকুমার।
‘আবার মিথ্যে। না:, কলিকাতায় গিয়ে তুমি উচ্ছন্নে গিয়েছ। সিনেমার নায়ক কত টাকা রোজগার করে তা একটু আগে গ্রামের লোকজন বলে গেল। আমরা এখানে তোমার মুখ চেয়ে বসে আছি আর তুমি হাজার-হাজার টাকা রোজগার করে মহা ফূর্তিতে আছ। মাস গেলে দয়া করে এঁটোকাটা ছুড়ে দিচ্ছ। ছি-ছি নবকুমার, তোমার এত অধ:পতন হয়েছে?’ বাবার গলায় হাহাকার। দু-হাতে মাথা চেপে ধরল বাবা।
‘হ্যাঁ বাবা, তুই এখনও সিনেমার মেয়েমানুষের ছলাকলায় ভুলিসনি তো?’
‘মা’, কোনও মতে নিজেকে ছাড়াল নবকুমার, ‘তোমরা ভুল শুনে কল্পনা করে নিচ্ছ। আমি একটা যাত্রাদলের প্রম্পটারের চাকরি করতাম। যাত্রার মালিক একটা সিনেমা বানাচ্ছেন। তিনি আমাকে নায়ক হওয়ার প্রস্তাব দেন। আমার মতো গ্রামের ছেলে তাঁর দরকার। আমাকে ওঁরা পরীক্ষা করেছেন। কিন্তু কিছুই ফাইনাল হয়নি এখনও।’
‘কত টাকা দেবে?’ বাবা জিজ্ঞাসা করল।
‘কত আর। বড়জোর দশ হাজার। তা-ও অনেকদিন কাজ করার পরে।’
‘এত কম? বিশ্বাস করি না। ওরা বলল দু-তিন লাখ—!’
‘তাহলে তুমি আমার সঙ্গে চলো। নিজের কানে শুনে আসবে।’
‘সিনেমায় যারা নামে তাদের চরিত্র ভালো থাকে না।’
‘আমি তো নামছি না। যদি ওরা সুযোগ দেয়, তাহলে এই একটার পর আর কেউ আমাকে ছবির নায়ক করবে না। অতএব আমাকে চাকরি করতে হবে।’
‘তুই থাকিস কোথায়? পোস্ট অফিসের মধুসূদনবাবু বলছিল তোকে যে ঠিকানায় চিঠি পাঠিয়েছি সেই চিৎপুর নাকি বেশ্যাপাড়ার গায়ে।’
শ্বাস ফেলল নবকুমার, ‘আমি ভবানীপুরে থাকি। এসে দেখে যেও।’
মা বলল, ‘হ্যাঁ রে, কোনও মেয়েমানুষের সঙ্গে তোর কি আলাপ হয়েছে?’
‘উ:!’ মায়ের দিকে তাকাল নবকুমার, ‘তুমি বিয়ের পরে ক’টা সিনেমা দেখেছ?’
‘একটাও না।’ মা মাথা নাড়ল, ‘তোর বাবা নিয়ে যায়নি।’
‘আমার বন্ধু মাস্টারের বাড়িতে টিভি আছে। একদিন দুপুরে গিয়ে বাংলা সিনেমা দেখে এসো। তোমার ভুল ভাঙবে। এসব কথা ছেড়ে এখন খেতে দেবে?’
মা ছুটল রান্নাঘরে। বাবা বলল, ‘যদি ছবিতে তোমাকে দেখে লোকের ভালো লাগে? তারপর যদি অনেকে অনুরোধ করে?’
হঠাৎ খেপে গেল নবকুমার, ‘আমি যদিতে বিশ্বাস করি না বাবা। যখন যা হবে তখন পরিস্থিতি বুঝে পা ফেলব। এই যে তুমি সারাজীবন অন্যকে দিয়ে চাষ করিয়ে কোনওরকমে বেঁচে আছ, এটা কি সুস্থ জীবন? যারা চাকরি করে, তাদের মনিবের মন বুঝে চলতে হয়। যাদের তুমি বেশ্যা বলছ তাদেরও পরিশ্রম করে টাকা পেতে হয়। আমি যদি সিনেমায় অভিনয় করি তাহলে সেটা ভালোভাবে করতে চেষ্টা করব। যেমন রোজগার হবে তেমন টাকা পাঠাব। সেই টাকা যদি তোমাদের নিতে ইচ্ছে না করে নিও না।’
কথা শেষ করে নবকুমার দেখল, বাবার মাথা যেন অনেকটা নুয়ে পড়েছে।
