ওল্ড র‍্যামন – ৮

আট

পাহাড়গুলোকে রাতের আঁধারে ঘনকালো, গোলাকার স্ফীতির মত লাগছে। ওগুলোর প্রান্তে বিক্ষিপ্তভাবে গজিয়ে উঠেছে ঘাস, আর ছোট্ট একটা ঝর্না খিলখিল হাসিতে ভেঙে পড়ছে খুদে একটা ডোবায়। ভেড়ার পালটার জন্যে রাতের আস্তানা গাড়া হয়েছে এখানে। প্রান্তরটির বিপুল বিশালতার মাঝে নিভন্ত আগুনটা যেন প্রাণের একমাত্র সাক্ষী। . ব্ল্যাঙ্কেট মুড়ি দিয়ে ওটার কাছে বসে, ফিকে হয়ে আসতে দেখছে বুড়ো র‍্যামন আগুনের উজ্জ্বলতা। ক’ফিট তফাতে নিজের ব্ল্যাঙ্কেটে, একটা আকৃতিবিহীন স্তূপের মত পড়ে আছে ছেলেটি।

নড়েচড়ে উঠে বসল এবার ও, ব্ল্যাঙ্কেটটা আচ্ছামত গায়ে জড়িয়ে।

‘এত রাত হলো,’ বলল, ‘তবু ঘুম আসছে না। কেন হচ্ছে এমন?’

‘সারাদিন ধকল গেলে প্রায়ই এইরকম হয়,’ বলল বুড়ো র‍্যামন। ‘লোকে তখন এত বেশি ক্লান্ত থাকে যে চোখ বুজলেই ঘুম আসে না। মাথা ভর্তি থাকে সারাদিনের নানা ঘটনায় আর পেশী থাকে শক্ত হয়ে। তার তখন চুপচাপ বসে থেকে আড়ষ্টতা কাটানো দরকার, তারপর কখন চোখের পাতা লেগে এসেছে নিজেও টের পাবে না।

নিস্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো গড়িয়ে চলেছে, এমনিসময় ভেড়ার পালটার পেছন দিক থেকে একটা দীর্ঘ, নিচু গর্জন চিরে দিল রাতের নিস্তব্ধতা। চিৎকারটা চড়া মাত্রায় পৌঁছে ছোট ছোট তীক্ষ্ণ আর্তনাদে শেষ হলো। ছেলেটি তড়াক করে আরও সিধে হয়ে বসে, প্যাকে ঠেস দিয়ে রাখা রাইফেলটার দিকে চকিতে চাইল।

‘রাইফেলের দরকার হবে না,’ বলল বুড়ো র‍্যামন। ‘ওইটা একটা কয়োট। আমার মনে হয় আমাদের সম্পর্কে কথা বলছে ও, ওর ওয়াটার হোল ব্যবহার করেছি কিনা, তাই। মনে হয় না সুনাম গাইছে আমাদের। তবে দলের ক্ষতি করতে পারবে না। পেদ্রো আছে।’

আর্তচিৎকারটা ভেসে এল আবার, শোকাকুল এবং প্রলম্বিত। ওটা মিলিয়ে গেলে পালের কাছ থেকে একটা কুকুরের ডাক উঠল- ক্রুদ্ধ কণ্ঠস্বরটিতে চ্যালেঞ্জের সুর।

‘স্যাঞ্চো, বলল বুড়ো র‍্যামন। ‘বয়স কম, রক্ত গরম। পাল্টি দিচ্ছে। কিন্তু এর কোন দরকার পড়ে না। কয়োট এইটাই চায়, কুকুরদের খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে খেপিয়ে তুলতে। এইটাই ওর খেলা এখন। একটা ভেড়াকেও বাগে পাওয়ার আশা থাকলে টু শব্দটাও করত না, নীরবে কাজ সারত। চেষ্টা করে পারে নাই, জানে পারবেও না, পেদ্রো পাহারায় আছে।’

এসময় গর্জনটা আবার উঠে, ছোট ছোট অনেকগুলো তীক্ষ্ণ অংশে ভাগ হয়ে হারিয়ে গেল। মনে হলো বিভিন্ন জায়গা থেকে যেন ভেসে এল অনেক ক’টা কণ্ঠের সম্মিলিত হুঙ্কার।

আবার সিধে হয়ে বসল ছেলেটি।

‘অনেকগুলো এসে জুটেছে!’

খলখল করে ব্যঙ্গের হাসি হাসল বুড়ো ব্যামন, নিস্তব্ধ রাতে শব্দটা আশ্বাসের বাণী শোনাল যেন।

‘একটাই ওইখানে। আহ্, বুদ্ধি আছে ব্যাটা ডন কয়োটের। একটা পাঁয়তারা খাটাল আরকি। এমনভাবে ডাকছে যাতে মনে হয় একটা না অনেকগুলা। আমার মনে হয় ওর লেজে যত লোম তত কিচ্ছা আছে ওকে নিয়ে। পাহাড়ে আস্তানা গাড়ার পর কয়েকটা শোনাব তোমাকে…আই, ওইটা যেমন দিকদার তেমন বড় চোট্টা আর ভাল কুকুরদের সেইরকম অপমানও করতে জানে। তবে ও একটা ডন কয়োট। এরা সবাই মারা পড়লে খুব দুঃখ পাবে র‍্যামন। রাতের বেলায় বিরান এলাকায় ওর গলা শুনতে পেলে ভাল লাগে : আই, আই, খুব চালু মাল। দেখতে বড়সড় কিছু না কিন্তু পেটে পেটে শয়তানি। দিনের আলোয় চুরি করে ভেড়াদের মধ্যে ঢুকে পড়ে। কোন বুদ্ধ ভেড়া ওকে কুকুর বলে ভুল করলে পোয়াবারো, ক্যাক করে পশম কামড়ে ধরে টেনে হিঁচড়ে বহুদূর নিয়ে যায় যাতে শিকারের আওয়াজ কেউ শুনতে না পায়। কুঁড়ে একটা কুকুর হয়তো কাছেই পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে তখন…শয়তানটা রাইফেল-বন্দুকও চেনে, এমনকি বেল্টে রাখা পিস্তলও। অস্ত্র নিয়ে লোকে যখন চলাফেরা করে, কয়োট তাকে ঠিকই লক্ষ করে কিন্তু সে কখনোই কয়োটকে দেখতে পায় না। আর অস্ত্র না থাকলে ডন কয়োট বড় জোর রাস্তা থেকে সরে থাকে, তাও যদি কুকুর থাকে তাড়া দেয়ার জন্যে তাহলেই। আই.. পাকা বদমাশ ওইটা। কিন্তু আমার পেদ্রো ওদের সবাইকে হাড়ে হাড়ে চেনে…’

গর্জনটা শোনা গেল আবার, দূরে সরে সরে মিলিয়ে যাচ্ছে, এবং তারপর রাতের মোলায়েম শীতল নীরবতা ছাড়া আর কিছুর অস্তিত্ব রইল না। ব্ল্যাঙ্কেটে একটু নড়ে চড়ে বসল ছেলেটি।

‘র‍্যামন, ভেড়া চরাতে মাঝেমধ্যে খুব একাকী লাগে, তাই না?’

‘কিছু লোকের লাগে বোধহয়,’ ধীরে বলল বুড়ো র‍্যামন। ‘যারা শহরের হৈ-হট্টগোলে অভ্যস্ত। র‍্যামনের কখনও এমন মনে হয় নাই। রাখালি যার রক্তে, জাত রাখাল যেই লোক তার কখনও এইটা মনে হতে পারে না…আমি এই ব্যাপারে অনেক ভেবেছি। বিষয়টা নির্ভর করে মানুষটার অন্তরের ওপর, অন্তরে মানুষটা কেমন তার ওপর। আমি মনে করি একা থাকা আর নিঃসঙ্গ থাকা সম্পূর্ণটাই আলাদা ব্যাপার। শহরে চারপাশে বহুত লোক তারপরেও নিজেকে একাকী লেগেছে আমার। তার কারণ মনে হয় অচেনা শহর, অপরিচিত মানুষ- জন। কিন্তু ভেড়ার পাল নিয়ে যখন বহুদূরের কোন পাহাড়ী উপত্যকায় আছি আশপাশে অনেক মাইলের মধ্যে জনমনিষ্যি নাই তখনও কিন্তু নিজেকে নিঃসঙ্গ বা একা বোধ হয় নাই আমার। মনে হয় এর কারণ আমি চিনি এই সব অঞ্চল, চিনি এইখানকার বুনো বাসিন্দাদের এবং এইখানকার কোন কিছুই অচেনা লাগে না আমার কাছে…মহান খোদার দুনিয়া চারধারে যখন খোলা তখন মানুষের একা লাগে কি করে বুঝি না বাপু, দিনের বেলায় আলো বিলিয়ে যায় সূর্য, রাতে দেখা দেয় চান- তারা, বাতাস বয়, পাহাড়গুলি সব কিছু নিশ্চুপে চেয়ে চেয়ে দেখে, ঘাস জন্মায়, ভেড়াদের দেখাশোনার জন্যে তাকে যখন দরকার আর দুই দুইটা কুকুর আছে তাকে সাহায্য করার জন্যে, ডন কয়োট আছে যখন তাকে গালি গালাজ করতে, আড়ালে বসে পেঁচারা যখন নানা প্রশ্ন করে…’

‘মনে হয়,’ বলল ছেলেটি বাধা দিয়ে, ‘বাবা ঠিকই বলেছে। বহু কিছু আছে যেগুলো বইতে পাওয়া যায় না।’ পেছনে কনুইয়ে ভর দিয়ে শুয়ে জোড়া হাতে মাথা রাখল ও। আচ্ছা, র‍্যামন, তুমি কি চিরটাকালই ভেড়া পেলেছ?’

‘না, বলল বুড়ো র‍্যামন। ‘একটা সময় পালি নাই। আর সেটা ছিল আমার জীবনের সবচাইতে খারাপ সময়।’

‘বলো না শুনি।’

‘তোমার বাবার সব কথা ঠিক না,’ বলল বুড়ো র‍্যামন। ‘আমিও ভেড়া হারিয়েছি…’ নিভে যাওয়া ছাইয়ের ছোট্ট গাদাটার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে রইল ও, মুখে কথা নেই।

‘তুমি আমার বই,’ বলল ছেলেটি, ‘আমাকে বলবে না?’

‘এরজন্যে দায়ী হচ্ছে মদ,’ বলল বুড়ো র‍্যামন। ‘আই, ওয়াইন…সব টাকা উড়িয়ে যখন ফিরে আসলাম ক্যালিফোর্নিয়া থেকে, *তোমার দাদার তখন অনেক ভেড়া। তার চাকরি শুরু করলাম আমি। ভাল কাজ করতাম আমি, হ্যাঁ, ভাল কাজ। ভেড়াদের নাড়ি-নক্ষত্র সবসময় জানা ছিল আমার। দুইজনেরই তখন জোয়ান্তিকাল, মোজেভের ঝড়, রোদের অত্যাচার, পানির অভাব কোন কিছুকেই পরোয়া করি নাই আমরা। কিন্তু এখন সে আমার মালিক আর আমি তার অনেক কর্মচারীদের একজন। বিরাট মনের মানুষ ছিল সে। আর আমি জান দিয়ে কাজও করতাম। তোমার মনে রাখতে হবে কথাটা। ‘কিন্তু মজুরি একবার পকেটে ঢুকতে পারলে আর কাজ হয় না আমাকে দিয়ে। তখন টাকা খালি চুলকায়। আর টাকা ফুরিয়ে গেলে তার কাছে আবারও গিয়ে ধর্না দিতাম। সবসময় একটাই কথা বলত সে। ‘র‍্যামন, আমার যদ্দিন ভেড়া আছে তোমারও ভেড়ার পাল আছে।’ এভাবে চলল কয়েক বছর। একবার প্রসবের মরসুমে, ভেড়ার দল নিয়ে আমরা বের হব তার আগে, বড় করালে রাতের পাহারা দিতে হবে আমাকে, আর আমার চাচাতো ভাই পাবলো বাড়ি যাওয়ার পথে দুই বোতল ওয়াইন নিয়ে এসে হাজির। ওকে পটিয়ে পাটিয়ে একটা রেখে দিলাম নিজের জন্যে। আই. তারপর কি হলো আর বলার দরকার পড়ে না। ভেড়ি আর তাদের বাচ্চাদের সম্বন্ধে জানা থাকতে হবে তোমার। অনেক ভেড়ি আছে জন্ম দেওয়ার পর নিজের বাচ্চাদের চিনতে পারে না, তখন তাকে দিয়ে বাচ্চাদের যত্ন নেওয়াতে হয় যাতে মা তার সন্তানদের চিনে নিতে পারে। কোন কোনটার যমজ বাচ্চা হয়, মানে একসঙ্গে দুইটা, এবং তারা হয়তো খালি একটাকেই নিজের সন্তান মানল তখন পাহারাদারের কাজ হচ্ছে দুই নম্বরটাকেও মায়ের আপন করিয়ে দেওয়া। আর দুধের বাচ্চাগুলিকে অন্যদের কাছ থেকে আলাদা রাখতে হয় যাতে ভেড়ারা কোন কারণে ভয় পেয়ে ছোটাছুটি করলে ছানাগুলি পায়ের চাপে মারা না পড়ে…

‘আই, গলা পর্যন্ত মদ গিলে মরা কাঠের মতন পড়ে থাকলাম আমি, আর ভোরে উঠে দেখি মাথা নাড়তে পারি না ব্যথায়, আর সাত সাতটা ভেড়ার বাচ্চা এইদিকে ওইদিকে মরে পড়ে আছে। শরমে মরে গেলাম। মুখ তুলে তাকাতে পারলাম না তোমার বাপের বাপের দিকে। নিজেকে বললাম এতগুলি বছর ভেড়াদের সঙ্গে থেকে থেকে আমি নিজেও ওদের মতন বোকা জানোয়ার হয়ে গেছি। দেরি না করে বহু দূরে চলে গেলাম আর ফিরলাম না। এইদিকে যাই ওইদিকে যাই এর কাজ করি তার কাজ করি এভাবে কত কিছুই না করলাম। আহ্, হ্যাঁ, র‍্যামন তখন অনেক কাজ করতে পারত। ঘোড়া চালাতে পারত, ক্যাটল চরাতে পারত। বড় ফ্রেইট ওয়াগনে খচ্চর জুড়ে চালাতে পারত। সারাদিন রোদে পুড়ে বাড়ির দেওয়াল তুলতে পারত। মদ খেয়ে অন্য লোকেদের সঙ্গে লড়াই করতে পারত আর পাহাড়ী সিংহের থাবার মতন ধারাল ছোরা চালাতে পারত। কিন্তু ওই শরমের ভূতটা কিছুতেই তাড়াতে পারত না মাথা থেকে। সবসময় তার মনে পড়ত বাচ্চা ভেড়া সাতটার কথা।…আর বন্ধুর চোখের সামনে থেকে দৌড়ে পালানোর ছবি…’

ছাইয়ের ছোট্ট স্তূপটার দিকে নীরবে চেয়ে বুড়ো র‍্যামন। ‘তারপর কি হলো?’ মৃদু কণ্ঠে শুধাল ছেলেটি।

‘তারপর একদিন অন্যদের সঙ্গে স্টেজকোচের রাস্তা তৈরি করছি তখন শুনলাম ওইটা। এক পাল ভেড়া পাশ দিয়ে যাচ্ছিল তাদের ফুঁয়ের শব্দ কানে গেল। দলটাকে চলতে দেখলাম, রাখাল আর তার কুকুরটাকে দেখলাম, ভেড়াদের গায়ের সুবাস আর তাদের খুরের চাপে বাতাসে ভেসে ওঠা ধুলার গন্ধ টের পেলাম। হাতে একটা বেলচা ছিল আমার। ওইটা মাটিতে নামিয়ে রেখে সিধা হাঁটা ধরলাম। চারদিন পর এসে পৌঁছালাম তোমার দাদার বসতবাড়িতে। বিল্ডিং আর করালগুলায় তখন সাজ সাজ রব। পাহাড়ে চরাতে নিয়ে যাওয়া হবে ভেড়ার পাল। আর একটা লোক সবাইকে হুকুম করছিল যাকে আগে কখনও দেখি নাই। সে আমাকে বলল আমার মনিব, তোমার বাপের বাপ, দুই মাস আগে ঘোড়া থেকে পড়ে গেছিল আর ঘোড়াটা চাপা দেয় তাকে আর তার তিন দিন পর সে মারা যায়…আই…আই…আমি মনের দুঃখে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নিজের ব্যর্থতার কথা ভাবছিলাম, আর ওই লোকটা খেপে উঠল আমার ওপর। আমাকে দূর হয়ে যেতে বলল ওইখান থেকে। আর আমি দেখতে পেলাম বাসা থেকে একজন জোয়ান ছেলে বের হচ্ছে, বয়স খুবই অল্প, ছেলেমানুষই বলা যায়, কিন্তু তোমার দাদার মতনই পাতলা-সাতলা, শক্তপোক্ত। চার বছর কেটে গেছে যদিও তাকে ঠিকই চিনতে পারলাম। আমাকেও চিনতে পারল সে। আমাকে এক হাতে জড়িয়ে ধরে সে ওই লোকটাকে বলল:

‘এ হচ্ছে র‍্যামন যে আমার বাবাকে মোজেভের ওপারে নিয়ে গেছিল যখন ওইখানে কোন ট্রেইল ছিল না আর যেই বছর খুব খরা চলছিল।’ তখন ওই লোকটা বলল: ‘তাতে কি? আমি শুনেছি এর কথা। পাঁড় মাতাল লোক। কথায় কথায় ছোরা চালায় আর ভেড়ার বাচ্চা মারে।’ আর সেই ছেলেটা যে এখন তোমার বাবা সে সত্যিকারের মনিবের মতন গর্বভরে বলল, ‘বাখোয়াজ বন্ধ করো। ভেড়ার বাচ্চার কি দাম আছে? কিচ্ছুই না। আমার বাবা বাসায় একটা চিরকুট লিখে রেখে গেছে। ওইটায় লিখেছে যতদিন আমার পরিবারে ভেড়া থাকবে ততদিন র‍্যামনেরও ভেড়ার পাল থাকবে।’

‘আই,’ বলল বুড়ো র‍্যামন। ‘তোমার বাবার এখন মস্ত কারবার। শহরে বেশিরভাগ সময় কাটায় সে। কিন্তু সে-ও একটা সাচ্চা মরদ। আর র‍্যামন কি করতে পারে তার মতন মনিবের জন্যে? সে আর কোন ভেড়ার বাচ্চা খোয়াতে পারে না আর তার পালটাকে গায়ে গতরে মোটা তাজা করে ভাল করে পশম জন্মিয়ে চরিয়ে আনতে পারে। আর সে মনে রাখতে পারে…’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *