১৯৭১ : ভেতরে বাইরে – এ কে খন্দকার
১৯৭১ : ভেতরে বাইরে – এ কে খন্দকার
প্রথমা প্রকাশন
প্রথম প্রকাশ : আগস্ট ২০১৪
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ : কাইয়ুম চৌধুরী
সহযোগী শিল্পী : অশোক কর্মকার
[প্রুফরীড + ফরম্যাটিং – Zahid Hasan]
1971 : Bhetore Baire by A K Khandaker
Published in Bangladesh by Prothoma Prokashan
[গ্রুপ ক্যাপ্টেন (পরে এয়ার ভাইস মার্শাল) এ কে খন্দকার বীর উত্তম মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং প্রধান সেনাপতি কর্নেল এম এ জি ওসমানীর সার্বক্ষণিক সহকারী ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়া চাকরিরত বাঙালি সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন জ্যেষ্ঠ। যুদ্ধের প্রায় সব নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। খুব কাছে থেকে যুদ্ধের সফলতা ও ব্যর্থতাগুলো অবলোকন করেন তিনি। যুদ্ধ পরিচালনায় মাঠপর্যায় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত কী কী সীমাবদ্ধতা ছিল, তা-ও তিনি জানতেন। তিনি যে অবস্থানে থেকে যুদ্ধকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, তা অন্য অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়নি। সে অভিজ্ঞতার আলোকেই লিখেছেন ১৯৭১: ভেতরে বাইরে।
বইটি মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাক্রমের বর্ণনা নয়, এতে পাওয়া যাবে যুদ্ধের নীতিনির্ধারণী বিষয় এবং তার সফলতা, ব্যর্থতা ও সীমাবদ্ধতা-সম্পর্কিত বেশ কিছু মূল্যবান তথ্য। প্রচলিত মত ও আবেগের ঊর্ধ্বে থেকে বাস্তবতা আর নথিপত্রের ভিত্তিতে বিষয়গুলোকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছেন লেখক। এমন কিছু বিষয়েরও উল্লেখ আছে বইটিতে, যা নিয়ে এর আগে বিশেষ কেউ আলোচনা করেননি। লেখকের নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নথিপত্রের সমর্থন বইটির নির্ভরযোগ্যতা বাড়িয়েছে।]
.
উৎসর্গ
মনি
তামলু
মিতুল
খোকনকে
.
ভূমিকা
১৯৭১ সালের মার্চ মাস থেকে স্পষ্ট হতে থাকে যে আমরা স্বাধীন হতে যাচ্ছি। আমরা পাকিস্তানি শাসনের নাগপাশে থাকতে আর রাজি নই। আমরা আমাদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হয়েছি, স্বাধীনতার কমে আমরা আর সন্তুষ্ট নই। পাকিস্তানিরা অত্যাচার ও পীড়নের মাধ্যমে যতই আমাদের দমনের চেষ্টা করতে থাকে, আমরা ততই আন্দোলনমুখী হতে থাকি। আমি উপলব্ধি করি, সহসাই ইতিহাস সৃষ্টি হতে যাচ্ছে আর আমিও এই ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছি।
আমি রাজনীতিবিদ ছিলাম না, বরং কুড়ি বছর পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে নিষ্ঠার সঙ্গে চাকরি করেছি। তার পরও দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে আমি সিদ্ধান্ত নিতে একটুও ভুল করিনি। যথাসময়ে আমি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিই এবং যুদ্ধ শেষে বিজয়ীর বেশে দেশে ফিরে আসি। মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়া কর্মরত সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে আমিই ছিলাম সর্বজ্যেষ্ঠ। তাই মুক্তিযুদ্ধে আমাকে অনেক গুরুদায়িত্ব পালন করতে হয়েছে, পাশাপাশি অনেক নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্তও আমাকে নিতে হয়েছে। আমি মুক্তিযুদ্ধের অনেক ঐতিহাসিক ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছি। এসব কারণে মুক্তিযুদ্ধের অনেক ইতিহাসই আমার জানা আছে, যা অনেকেই জানেন না বা তাঁদের জানার সুযোগ ছিল না।
মুক্তযুদ্ধে যোগ দেওয়ার পর থেকেই আমি প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নোট রাখতে শুরু করি, যাতে পরবর্তী সময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিকথা লিখতে পারি। লেখার উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এই নোটগুলো আমি সযত্নে আগলে রাখি। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ১৯৭৫ সালের পর রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আমাকে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকতে হয়। দেশ ত্যাগের আগে সকল মূল্যবান কাগজপত্রের সঙ্গে আমার মুক্তিযুদ্ধকালে লেখা আমার নোটগুলো এক আত্মীয়ের বাসায় রেখে যাই। প্রায় ১২ বছর পর দেশে ফিরে আমি সেই নোটগুলো আর ফেরত পাইনি। সঠিক সংরক্ষণের অভাব ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আমার মূল্যবান কাগজপত্রের সঙ্গে সঙ্গে নোটগুলোও নষ্ট হয়ে যায়।
মাঝেমধ্যে স্মৃতির ওপর নির্ভর করে আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়ের স্মৃতিকথা লেখার চিন্তা করলেও তা আর হয়ে ওঠেনি। সম্প্রতি আমি বুঝতে পারছিলাম যে, স্মৃতিকথা লেখার জন্য আমার হাতে আর খুব বেশি সময় নেই। এ ছাড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই আমি অনেক কিছু বিস্মৃত হয়ে যাচ্ছি। এ উপলব্ধি থেকে গত বছর আমি আমার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা লেখার উদ্যোগ নিই। আমার বয়স, একাগ্রতা, ধৈর্য ইত্যাদি সবই মুক্তিযুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিকথা লেখার অনুকূলে নয়, তাই আমি মুক্তিযুদ্ধের কয়েকটি মাত্র গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আমার স্মৃতি থেকে লিখে ফেলতে সক্ষম হই। এ জন্য আমি অবশ্যই ধন্যবাদ জানাই তরুণ গবেষক গাজী মিজানুর রহমানকে। তাঁর সাহায্য না পেলে এ বয়সে এসে এই বই শেষ করা খুবই দুরূহ হয়ে পড়ত।
আমি স্মৃতিকথার জন্য যে বিষয়গুলো বেছে নিয়েছি, তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ অথচ তথ্যের অভাবে কম প্রচারিত বা আলোচিত, অথবা ভুলভাবে প্রচারিত। মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে এ ধরনের বেশ কিছু বিশ্বাস আমাদের মধ্যে প্রচলিত আছে, যা প্রকৃত ঘটনার সঠিক চিত্র নয়। এ ধরনের বিশ্বাস সাধারণত জন্ম নেয় তথ্যের অপর্যাপ্ততা বা অভাব থেকে, আবার অনেক সময় কোনো ব্যক্তি বা সমষ্টি ইচ্ছা করেই তাঁদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এ ধরনের ভুল তথ্য প্রচার করে থাকেন।
আমি মূলত আমার স্মৃতিকথা ১৯৭১ সালের মধ্যে সীমিত রেখেছি। শুধু বীরত্বসূচক খেতাবের বিষয়টি ১৯৭১-এ শুরু হলেও শেষ হয়েছিল ১৯৭৩ সালে।
মুক্তিযুদ্ধের প্রায় ৪২ বছর পর আমি বইটি লিখছি। তাই বইটিতে তথ্য উপস্থাপনার ক্ষেত্রে আমাকে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে। আমার তথ্যগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য আমাকে বেশ কিছু বই পড়তে হয়েছে, এর মধ্যে নিচের বইগুলো উল্লেখযোগ্য:
১. বাংলাদেশ সরকার প্রকাশিত স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্র,
২. বাংলাদেশ সরকার প্রকাশিত বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ সেক্টরভিত্তিক ইতিহাস,
৩. জে এফ আর জেকবের সারেন্ডার অ্যাট ঢাকা : বার্থ অব এ নেশন,
৪. মঈদুল হাসানের মূলধারা ৭১,
৫. মঈদুল হাসান, এস আর মীর্জা ও আমার কথোপকথনের ভিত্তিতে রচিত মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর : কথোপকথন ও
৬. আহমেদ রেজার লেখা একাত্তরের স্মৃতিচারণ,
৭. এ কাইয়ুম খানের বিটার সুইট ভিক্টরি,
৮. পিভিএস জাগান মোহন ও সমির চোপরার ইগল ওভার বাংলাদেশ,
৯. এস এস উবানের ফ্যান্টমস অব চিটাগাং,
১০. কমান্ডো মো. খলিলুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধে নৌ কমান্ডো অভিযান ইত্যাদি।
আমার বক্তব্যের পক্ষে আমি বিভিন্ন বই থেকে কিছু উদ্ধৃতি দিয়েছি। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও আমার বইয়ে উল্লেখিত তথ্য ও মতামতকে বোঝার সুবিধার্থে বেশ কিছু দলিলও যুক্ত করেছি। বইটি তথ্যনির্ভর, বস্তুনিষ্ঠ ও সমৃদ্ধ করতে অনেকেই আমাকে বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত ও দলিল এবং মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন; বিশেষ করে মঈদুল হাসান, মুহাম্মদ লুৎফুল হক, রাশেদুর রহমান, হাফিজুর রহমানের নাম উল্লেখযোগ্য। তাঁদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমার স্মৃতিকথা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ায় আমি প্রথমা প্রকাশনকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
সত্য কথা লিখতে হলে নির্মোহ হতে হয় এবং আবেগের ঊর্ধ্বে উঠতে হয়। আবেগতাড়িত হলে বা কারও প্রতি আনুকূল্য দেখাতে গেলে অতি অবশ্যই আমাকে হয় সত্য এড়িয়ে যেতে হবে, নতুবা মিথ্যার আশ্রয় নিতে হবে। আমি এর কোনোটাতেই বিশ্বাসী নই। তাই কখনো কখনো রূঢ় সত্য প্রকাশে ব্যক্তিবিশেষ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার বাইরে আমি কিছু মন্তব্য করেছি বা প্রমাণ তুলে ধরেছি। আমি মনে করি, সত্যের স্বার্থে এটির প্রয়োজন ছিল। তবে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করতে চাই, আমি যা কিছুই এই বইয়ে উপস্থিত করেছি, তা কাউকে খাটো করা বা কারও ওপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া বা কারও ছিদ্র অনুসন্ধান করার জন্য নয়, নেহাতই সত্য প্রকাশের জন্য এটি করেছি।
আমি এই বই লেখার জন্য উদ্বুদ্ধ হয়েছি মূলত তরুণ প্রজন্মের ইতিহাস জানার আগ্রহ থেকে। তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে চায়, অথচ সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে তারা বিভ্রান্তিতে পড়ে যাচ্ছে। সত্য ও মিথ্যাকে তারা আলাদা করতে পারছে না। আমার এই বই তাদের জন্য। তারা সত্যটি জেনে উপকৃত হলে আমি সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হব। এ ছাড়া আমার বিশ্বাস, আমার বইয়ে দেওয়া তথ্য হয়তো আগামী দিনের ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের সামান্য হলেও সাহায্য করবে। তবে আমি মনে করিয়ে দিতে চাই, আমার কথাগুলোই শেষ কথা নয়। আগামী দিনের ইতিহাসবিদ ও গবেষকেরা আরও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে পূর্ণাঙ্গতা দেবেন।
.
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা
আমার লেখা ১৯৭১: ভেতরে বাইরে বইটি প্রকাশের চার দিনের মধ্যে নিঃশেষিত হয়েছে। বইটির প্রতি এই আগ্রহের জন্য পাঠকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। এখন বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ ছাপা হচ্ছে।
বইয়ের ৩২ পৃষ্ঠার দ্বিতীয় স্তবকে আমি লিখেছিলাম, “এই ভাষণের শেষ শব্দ ছিল ‘জয় পাকিস্তান’।” আসলে তা হবে, “এই ভাষণের শেষ শব্দগুলো ছিল ‘জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান’।”
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান একটি ত্রুটির ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। অসাবধানতাবশত আমি ‘এমএলএ’ লিখেছি। আসলে তা হবে ‘এমপিএ’ (মেম্বার অব প্রভিনশিয়াল অ্যাসেমব্লি)। অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
দ্বিতীয় সংস্করণের সুযোগে এই সংশোধন করা সম্ভব হলো। সহৃদয় পাঠক এই বইয়ে অন্য কোনো ধরনের ত্রুটি আমার নজরে আনলে বাধিত হব।
এ কে খন্দকার
ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪
.
এ কে খন্দকার
জন্ম ১৯৩০ সালে, বাবার কর্মস্থল রংপুরে। আদি নিবাস পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা গ্রামে। ম্যাট্রিকুলেশন ১৯৪৭ সালে এবং ১৯৪৯-এ ইন্টারমিডিয়েট। ১৯৫২ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বিমানবাহিনীর প্রধান ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হলে এর প্রতিবাদে তিনি বিমানবাহিনীর প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া এবং ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ভারতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ১৯৯৮ ও ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ এবং ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদান রাখার জন্য এ কে খন্দকার ১৯৭৩ সালে বীর উত্তম খেতাব এবং ২০১১ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
প্রচ্ছদ : কাইয়ুম চৌধুরী
আলোকচিত্র : খালেদ সরকার
এ বইয়ে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অজানা, কম জানা কিংবা স্বল্প প্রচারিত বেশ কিছু বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছেন সশস্ত্র যুদ্ধের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার। ওই পর্যায়ের আর কোনো সামরিক কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোনো বই রচনা করেননি। সেদিক থেকেও বইটির একটি আলাদা গুরুত্ব আছে।





সৈনিক জীবন : গৌরবের একাত্তর রক্তাক্ত পঁচাত্তর
by মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম…..
দয়া করে এই বইটি দিবেন।