টু-টু-টুনটুনি চু-চু-ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
টু-টু-টুনটুনি চু-চু-ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
প্রকাশক – শাহীদ হাসান তরফদার জ্ঞানকোষ প্রকাশনী
প্রচ্ছদ – মেহেদী হক
উৎসর্গ
একটা বইয়ের উৎসর্গ সাধারণত দুই-তিনটি শব্দ দিয়ে লেখা হয়—কখনো কখনো বড়োজোর একটি কিংবা দুটি বাক্য। দেখাই যাচ্ছে এই উৎসর্গটি অনেক বড়ো, কারণ আমি শুধু বইটি উৎসর্গ করে শেষ করে দিতে চাই না, কেন এভাবে উৎসর্গ করেছি সেটি বলতেও চাই।
বেশ কিছুদিন আগে আমরা দিনাজপুরে একটি এলাকায় একটা স্কুলে বেড়াতে গিয়েছিলাম। স্কুলের বাচ্চারা আমাদেরকে পেয়ে খুব খুশি—সন্ধ্যার পর তারা আমাদের জন্য একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। একটা স্কুলে সন্ধ্যাবেলা অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে সেটা রাত নয়টা, বড়োজোর দশটা পর্যন্ত হতে পারে কিন্তু আমি অবাক হয়ে দেখলাম, যখন রাত একটা বাজে তখনও স্কুলের সব ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক- শিক্ষিকা এবং অন্য সবাই মহা আনন্দে অনুষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছে। তারা সবাই ক্যাম্পাসের ভেতরে হোস্টেলে থাকে, কাজেই যত রাতই হোক তাদের কোনো চিন্তা নেই, হোস্টেলে চলে যাবে।
আমাকে স্বীকার করতেই হবে অনুষ্ঠানটি ছিল অসাধারণ, কখনো গান, কখনো নাচ, কখনো অভিনয়। ঢাকা শহরের বড়ো অনুষ্ঠানেও আমি খুব বেশি ভরতনাট্যম দেখিনি—এই স্কুলের একটি মেয়ে সেটি দেখিয়ে আমাদের তাক লাগিয়ে দিলো। একটি মেয়ে একক নাট্যাভিনয় করল, এত সুন্দর অভিনয় দেখে আমাদের সবার চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠল।
আমার জন্য অনেক রকম চমক ছিল, তার একটি হচ্ছে সঞ্চালক দুজন। ছোটো বাচ্চা একটি মেয়ে গোল গোল লেন্সের চশমা পরে টুনি সেজেছে—উঁচু ক্লাসের একটি ছেলে হয়েছে ছোটাচ্চু। পুরো অনুষ্ঠানটি চলার সময় মাঝেমাঝে তারা এসে সঞ্চালনার পাশে একটি হারিয়ে যাওয়া পেইন্টিং খুঁজে বেড়িয়েছে—অনুষ্ঠান শেষে রহস্য ভেদ করে পেইন্টিংটা খুঁজে পেয়েছে। পেইন্টিংটা আসলে আমার জন্য তাদের উপহার!
স্কুলটি তৈরি করেছেন স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়া যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এম. আমজাদ হোসেন—তার বাবা এবং মায়ের নামে স্কুলটির নাম আমেনা বাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল। একটা ভালো স্কুলে যা যা থাকার কথা, এই স্কুলে তার সবকিছু আছে।
আমার প্রতি স্কুলের এই বাচ্চাদের ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়—এই উৎসর্গটি শুধু তাদেরকে জানানোর জন্য যে, এই বাচ্চাগুলোর জন্যেও আমার রয়েছে গভীর ভালোবাসা।





Leave a Reply