• Skip to main content
  • Skip to header right navigation
  • Skip to site footer

Bangla Library

Read Bengali Books Online (বাংলা বই পড়ুন)

  • Login/Register
  • Account

সেই ফুলের দল – অভীক মুখোপাধ্যায়

লাইব্রেরি » অভীক মুখোপাধ্যায় » সেই ফুলের দল – অভীক মুখোপাধ্যায়
সেই ফুলের দল
লেখক: অভীক মুখোপাধ্যায়বইয়ের ধরন: ইতিহাস ও সংস্কৃতি

সেই ফুলের দল – অভীক মুখোপাধ্যায়

সেই ফুলের দল – অভীক মুখোপাধ্যায়
Sei Phuler Dol – Avik Mukhopadhyay – Non-fiction

প্ৰথম প্ৰকাশ – জানুয়ারি ২০২৩
প্রচ্ছদ – স্বর্ণাভ বেরা

.

আদরের ঋতন্যাকে,
যার দৌরাত্ম্য না সামলাতে হলে
এই বইয়ের কাজ হয়তো আরও একটু আগে শেষ করতে পারতাম।

.

কিছু কথা ছিল মনে

২০২০ সালের জুলাই মাস চলছিল। দ্য কাফে টেবল-এর পক্ষ থেকে অভিষেকদা (আইচ) ফোন করে বলল, ‘ভাই, আমাদের একটা ওয়েবসাইট আসছে। নাম নিউজ আওয়ার। তোমায় কিছু একটা ধারাবাহিকভাবে লিখতে হবে।’ হাতের কাছে সেভাবে কিছুই তৈরি ছিল না, যা ধারাবাহিক হিসেবে প্রকাশিত হতে পারে। আমি জানতে চাইলাম, ‘রাজনীতি নিয়ে লিখলে চলবে?’ অভিষেকদা বলেছিল, ‘কোনও দলের হয়ে প্রচার শুরু করে দেবে না তো লিখতে গিয়ে?’ আমি আশ্বস্ত করেছিলাম—‘যা লিখব, তা হবে নিখাদ ইতিহাস। তবে গল্পের আকারে লিখব, তাতে লোকে পড়তে মজা পাবে।’ ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ আমার কথায় ভরসা রেখে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছিল।

১৫ই আগস্ট ‘নিউজ আওয়ার’ ভূমিষ্ঠ হল। প্রথম সপ্তাহে আমার লেখাটা প্রকাশিত হয়নি। আরম্ভ হল এক সপ্তাহ পর থেকে। মোটামুটি শুক্রবার রাতে কিংবা শনিবার সারাদিনের মধ্যে লেখাটা আপলোড হয়ে যেত। মোট ৫১ খানা পর্ব লিখেছিলাম। যারা পড়েছেন, তাঁরা জানেন কোন শিরোনামে আসত সেটা। যারা পড়েননি, তাঁরা আজ জানছেন এই বইয়েরই প্রাথমিক খসড়ার জন্ম হয়েছিল নিউজ আওয়ারের বুকে। নাম ছিল ‘সেই ফুলের দল’।

‘কোন’ ফুলের দল?

আজ্ঞে, পদ্মফুলের।

প্রশ্ন ভেসে আসতে পারে, আপনি কি ভারতীয় জনতা পার্টি(ভাজপা)র কথা বলছেন?

সবিনয়ে জানাই, হ্যাঁ।

আপনি কি প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছেন?

কৈফিয়ত দিলেও বিশ্বাস করবেন কি? তার চেয়ে পড়ে দেখুন না, মশাই। আচ্ছা, ঠিক আছে। তা ভাজপাকেই বাছলেন কেন?

আমার মনে হয়েছে, কেন্দ্রের নিরিখে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা একটি

দলের এক বা একাধিক চরিত্রকে নিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাসের কাজ করাটা বেশ রোমাঞ্চকর হতে পারে।

তা কী লিখেছেন?

যা সবাই জানে। যা পাবলিক ডোমেইনে আছে তা-ই।

সবাই জানলে লেখার কী দরকার?

ওমা, অমুক জমিটা অমুকের নামে সবাই জানলেও দলিল লাগে না বুঝি? তা ঠিক। লাগে।

আমি দলিল লিখেছি।

মোদিজির গুণগান করেছেন?

যে পর্ব নিয়ে লিখেছি, তার বেশিরভাগ সময়টাতে মোদিজি কেন্দ্রের রাজনীতিতে আসেনি।

তাহলে?

ধের, মশাই। আমি না লেখক? আমাকে একটু ফুটেজ খেতে দিন না? অ। বলুন, কী বলার আছে।

২০১৪ সালে ভাজপা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কেন্দ্রে সরকার গড়েছিল। হ্যাঁ কি না?

হ্যাঁ।

২০১৯ সালে আবার ভাজপা এভাবে ফিরবে ভেবেছিলেন?

না। ভাবিনি।

কেন?

এগজিট পোলগুলোতে বলছিল।

সব সার্ভে এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল, তাই না?

হুম।

এই কাল্পনিক কথোপকথনের পরে আমি আবার সোলো গাইতে ফিরে এলাম, সুধী পাঠক। ভোট, এগজিট পোল এসবের জিগির না-তুললে আমার কথা পাড়া যাবে না। উপরিলিখিত এই দীর্ঘ ন্যাকা ন্যাকা গৌরচন্দ্রিকার জন্যে আগাম ক্ষমা চাইছি। যাক গে, আসল কথায় ঢুকি এবারে।

ভারতে লোকসভা নির্বাচন হল সবচেয়ে বড় উৎসব। বলা ভালো, সবথেকে বড় সেকুলার উৎসব। সবথেকে বেশি উৎসাহ, উদ্দীপনার উৎসব। এমন এক উৎসব, যেখানে জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, বয়েস, ভাষা, প্রান্ত, ধনী, দরিদ্র, চিন্তাধারা ইত্যাদির কোনও প্রভাব থাকার কথা নয়। কোনও ভেদাভেদের প্রশ্ন থাকার অবকাশ নেই সেখানে। কিন্তু হায় মোর দুর্ভাগা দেশ! যে যে ফ্যাক্টরগুলোর কথা লিখলাম, সেগুলোর ভিত্তিতেই আমাদের দেশে ভোট হয়ে থাকে। ভাষার নামে, অর্থের নামে, জাতির নামে, ধর্মের নামে। আবার এটাও উল্লেখনীয় যে, এইসব ইস্যুতে ভেদাভেদ করে জিতে যাওয়ার পরেও নেতারা কিন্তু দেশটাকে আর ভাগ করতে পারেন না। নির্বাচন মিটলে পরে পার্লামেন্টের প্যাটার্ন মেনেই এই দেশের জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে চলে।

ছোট থেকেই দেখে আসছি ভোটের আগের রাতে পাড়ায় রাস্তার মাথায় ক্রিস ক্রস করে টাঙানো হতো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতীকওয়ালা কাগজ। পোস্টে বাঁধা হতো দলীয় ঝান্ডা। স্থানীয় বড়-মেজো-সেজো-ছোটো নেতাদের মুখে রাজনৈতিক স্লোগান। শ্লেষ দিয়ে বাঁধা গান। দেওয়ালে রাজনৈতিক ছড়া। মজা লাগত। তখন থেকেই ভাবতাম, এসবের প্রপার ডকুমেন্টেশন প্রয়োজন। রাজনৈতিক খুনোখুনি, দুর্নীতি এসব চিরকালই ছিল। পরেও থাকবে। সেসবে ঢুকব না। কারণ আমি নিজে রাজনীতি করি না। রাজনীতি নিয়ে পড়ি। রাজনীতির অরাজনৈতিক গল্পগুলো লিখি, আর পাঠকদের ভাবানোর চেষ্টা করি একটু ভিন্ন আঙ্গিকে।

১৯৪৭ সালে ইংরেজ বাহাদুর যখন এই দেশ ভেঙে দিয়ে চলে গেল, তখন তারা ভেবেছিল, ‘আনকালচার্ড ইন্ডিয়ান’গুলো কি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেশ চালাতে পারবে?

বলুন, আমরা কি পারিনি?

ইংরেজরা থাকাকালীন এদেশের সবাইকে ভোটাধিকার পর্যন্ত দেয়নি। কিন্তু তাতে কি এই বিশ্বের ভারতের বৃহত্তম গণতন্ত্র হয়ে ওঠাটা আটকে গেছে?

যার যেখানে যতরকমের ভুল চাওয়া-পাওয়া থাকে, তার উত্তর দেয় ভারতের ভোটাররা। যখন ‘ইন্দিরা ইজ ইন্ডিয়া’ বলা হয়েছে, তখনও দিয়েছে। যখন ‘শাইনিং ইন্ডিয়া’ বলা হয়েছে, তখনও দিয়েছে। জনতা যখন চেয়েছে, তখন ঘোর বাম আর ডানকে একঘাটে জল খাইয়ে ‘রামো-বামো’ সরকার গঠন করিয়েছে।

এই এতকিছুর মধ্যে থেকে ভাজপা বা ভাজপার চরিত্রদেরই কেন বেছে নিলাম লেখার জন্যে তার উত্তরে এবার আসছি। ২ জন সাংসদ থেকে আরম্ভ করে ২৮২-তে পৌঁছনোটা কি কম রোমাঞ্চকর? অটলবিহারী বাজপেয়ীর পক্ষে যাওয়া চব্বিশটি দলের জোট হোক বা নরেন্দ্র মোদী বিরোধী মহাজোট, প্রত্যেক নির্বাচনের নিজস্ব রূপ-রস-গন্ধ রয়েছে। ৪১৪ জন সাংসদের দলটিকে ৪৪ জন সাংসদের দলে পরিণত করার ইতিহাসটা কি সত্যিই নথিবদ্ধ করা উচিত নয়?

আমার এই আখ্যান লিখতে বসার পিছনে কিন্তু কোনও রাজনৈতিক বন্দনা নেই। এখানে একটাই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে— যে ব্যাক্তি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না, ইতিহাস তাকে ক্ষমা করে না। যখন আপনি বংশানুক্রমে দেশ শাসনের পর নিজেকে সর্বেসর্বা মনে করতে আরম্ভ করেন; ভাবেন, এসবই আমার জন্মগত অধিকার— তখনই আপনার হাতে হ্যারিকেন ধরিয়ে দেয়

এ-দেশের জনগণ।

ভারতের মানুষকে ভারতের রাজনীতিকেরা বোকা বানান বটে, কিন্তু আপনি এই দেশের যে কোনও রাজ্যের যে কোনও চৌমাথার চায়ের দোকানে যান, চুল কাটার দোকানে গিয়ে বসুন, দেখবেন অসংখ্য সেফোলজিস্ট, অগুণতি রাজনৈতিক পণ্ডিত, চৌখস চাণক্যের দল। তাঁরাই ঠিক করে দেন কোন বারে দিল্লির দশ জনপথ থেকে খেলা হবে, আর কোন বারে নাগপুরের হাতে রিমোট কন্ট্রোল থাকবে। সব গল্পের নায়ক কিন্তু এঁরাই—জনতা জনার্দন।

আমি যখন ভারতীয় জনতা পার্টিকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে লিখব বলে ঠিক করি, তখন মনে হয়েছিল, ‘এ তো এই সেদিনের একটা দল। এর ইতিহাসে আর এমন কী থাকবে? চরিত্রগুলোও খুব চেনা।

অটলবিহারী আর আডবানি। হাতের পাঁচ।’ কিন্তু লিখতে বসে মনে হল কিছুই তো জানি না। একটা দল এমনি এমনি বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়নি। নিজস্ব নিষ্ঠা, নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাপরায়ণতা, রাজনৈতিক পাঠক্রমকে পদে পদে অনুসরণ করেই সেদিনের ভারতীয় জনতা পার্টি আজকের ‘বিজেপি’ হতে পেরেছে। বাজপেয়ীবাদ থেকে মোদিত্বে উন্নীত হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টির ইতিহাসের একটার পর একটা পরত খুলতে খুলতে অবাক হয়েছি। একটা সময়ে এই দল যে বিন্দুতে অনড়, অটল থেকেছে, আজ আর সেখানে থমকে নেই। তা ভালো নাকি খারাপ, ভুল নাকি ঠিক এ নিয়ে বিচার করার ক্ষমতা আমি রাখি না। আমি শুধু তথ্য পরিবেশন করতে পারি। Change is the only constant-এ বিশ্বাসীরা বলবেন এটাই তো নিয়ম যে, নিয়ম বলে কিছুই নেই। বাজপেয়ীজি একদা সংসদে বলেছিলেন, ‘পার্টি তোড়কর সত্তা কে লিয়ে নয়া গঠবন্ধন করকে অগর সত্তা হাথ মেঁ আতি হ্যাঁয় তো ম্যায় অ্যায়সি সত্তা কো চিমটে সে ভি ছুনা পসন্দ নহিঁ করুঙ্গা। ন ভীতো মরণাদস্মি কেবলম্ দূষিতো যশঃ… ভগবান রাম নে কহা থা কি ম্যায় মৃত্যু সে নহিঁ ডরতা। অগর ডরতা হুঁ তো বদনামি সে ডরতা হুঁ, লোকোপবাদ সে ডরতা হুঁ। হমারি নিয়ত পর শক্ নহিঁ হোনা চাহিয়ে।’ আজ হয়তো এই মত বদলেছে। বাজপেয়ীজি দীর্ঘ চল্লিশ বছরের বেশি বিপক্ষের নেতা হয়ে থেকেছেন, কিন্তু আজ এই ভাবনা প্রায় অলীক কল্পনাই। বাজপেয়ী-আডবানি যুগলবন্দির যুগ থেকে আজকের মোদি-শাহ জুটির সময়কাল, ন্যায়-নীতির খাতায় হিসেব বদলে গেছে। একে সাদা-কালোয় মেলে ধরাটা সহজ কাজ নয়। দীর্ঘ সময়ের ইতিহাস একবারে লিখতে বসলে গুলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই ঠিক করেছি ভাগে ভাগে লিখব। তারই প্রথম ভাগের নাম ‘সেই ফুলের দল’।

বলা হয়, ভারতীয় রাজনীতিতে একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে কোনও সমীকরণ কাজ করে না। তিনি হলেন মাননীয় নরেন্দ্র মোদিজি। তিনি হলেন ‘দ্য গ্রেট ডিসরাপ্টর।’ শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীকে বলা হয় দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রী। স্বর্গত রাজীব গান্ধী ছিলেন ভারতের সবচেয়ে হ্যান্ডসাম প্রাইম মিনিস্টার। আর অটলবিহারী? এ-দেশের জনপ্রিয়তম প্রধানমন্ত্রী। ভারতীয় জনতা পার্টিকে অক্ষে রেখে ভারতের ইতিহাসের এই পর্বটা লিখতে বসে তাই আমি দেশের জনপ্রিয়তম প্রধানমন্ত্রীর চরিত্রটাকেই আমার কাহিনির কেন্দ্রীয় চরিত্র করে ফেললাম। এই প্রসঙ্গে একটা বিবৃতি দিয়ে রাখি, লেখার গতিশীলতা রক্ষা করতে গিয়ে দেশের দিগগজ রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের শুধুমাত্র নাম বা পদবীর ব্যবহার করা হলেও তাকে অপমানসূচক মনে করবেন না। প্রতিটি নাম বা পদবীর শেষে অদৃশ্য ‘জি’, ‘বাবু’, ‘সাহেব’ ইত্যাদি আছে ধরে নিয়েই পড়বেন। কাউকে অসম্মান করা আমার উদ্দেশ্য নয়।

অটলবিহারীকে যখন দেখেছি, তখন তিনি বয়োবৃদ্ধ। দেখলে পরে পরিবারের বয়স্ক মাথা বলে মনে হতো। তাঁর জীবন যে এত রঙিন হতে পারে, তা তাঁর সাদা ধুতি দেখলে ধরাই যেত না। তাঁর জীবনে যে উত্থানের থেকে বেশি পতনের অধ্যায় রয়েছে, তা তাঁর পদ দেখে বোঝাই যায়নি। তাঁর প্রেম নিয়ে অনেক গল্প চলে, তিনি তা নিয়ে কখনও লুকোচুরি করেননি। ওল্ড স্কুল হয়েও তিনিও প্রগতিশীল। তিনি বুঝেছেন যে, জনতা অসন্তুষ্ট হলে সরকার পড়ে না। জনতা অসন্তুষ্ট এবং অখুশি হলেও সরকার পড়ে না। কিন্তু জনতা যদি অসন্তুষ্ট, অখুশি হয়ে মনে করে এই সরকারের বিদায় নেওয়ার প্রয়োজন, তাহলে সরকার বিদায় নেবেই। অবশ্য পরাজয় নিয়ে তিনি ভীত ছিলেন না।

ছোটবেলায় একটা গল্প শুনেছিলাম। সত্য মিথ্যা জানা নেই। একবার চল্লিশজন তীর্থযাত্রীর একটি দল কেদারনাথ যাচ্ছিল। পথে প্রচণ্ড ঝড়-জল শুরু হয়। বাজ পড়ছিল ভীষণ। মাথা গোঁজার মতো একটা জায়গা পেয়ে তারা সেখানে আশ্রয় নিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল, কতক্ষণে ঝড়- জল কমবে। কিন্তু কমা তো দূরের কথা, তা বেড়েই চলল। তখন যাত্রীদের মধ্যে একজন বলে উঠল, আমাদের মধ্যে নিশ্চয়ই এমন কোনও পাপী আছে, যার জন্য আমাদের এমন বিপদের মুখে পড়তে হয়েছে। ভগবান তার ওপরে রুষ্ট হয়ে এসব করছেন। ঠিক হল, সেই পাপীকে চিহ্নিত করার জন্য একজন-একজন করে যাত্রী আশ্রয়স্থল থেকে বেরিয়ে পঞ্চাশ মিটার দূরের একটি গাছকে স্পর্শ করে আবার ফিরে আসবে। যদি কেউ পাপী হয় তাহলে গাছ স্পর্শ করতেই তার মাথায় বাজ পড়বে, এবং অন্যরা বেঁচে যাবে। যেমনি বলা, তেমনি করা শুরু হল। একজন-একজন করে গাছ ছুঁয়ে ফিরে আসে, আর এমন হাবভাব দেখায় যেন সে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির। ঊনচল্লিশ জন এভাবে গাছ ছুঁয়ে ফেরার পর পড়ে রইলেন একজন বৃদ্ধ মানুষ। সবাই তখন চেঁচাচ্ছে, তোমার জন্যেই আমরা বিপদের মুখে পড়েছি। সেই বুড়ো মানুষটাকে সকলে মিলে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিল। বৃদ্ধ কাঁপতে কাঁপতে গিয়ে গাছটা ধরে যেই না দাঁড়াল, অমনি বাজ পড়ল। তবে বৃদ্ধের মাথায় বাজটা পড়েনি, পড়ল আড়ালে মাথা গোঁজা ওই ঊনচল্লিশ জন যাত্রীর ওপর। কেন জানি না, ২০০৪ সালের নির্বাচনে পরাজিত বাজপেয়ীকে দেখে আমার সেই বৃদ্ধের কথা মনে হয়েছিল। এমন এক মহাপ্রাজ্ঞ রাজনীতিককে কেন্দ্রে রেখে তাঁর রাজনৈতিক দল তথা ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসের এই তমসুক আপনাদের মনে কতটা ধরে সেটাই এবার দেখার বিষয়।

এত কৈফিয়ত দেওয়ার তালে একটা কথা তো বলতে ভুলেই গেলাম, কবি অটলবিহারীও কিন্তু থাকবেন আমার লেখার ছত্রে ছত্রে। হিন্দি কবিতার অটল পুরুষকে ভুলে গেলে পাপ হবে যে। তাঁর লেখা একটা কবিতার অংশ তুলেই এই ভূমিকায় ইতি টানলাম। সময়োপযোগী কিনা আপনারাই বিচার করুন—

কুছ কাঁটোঁ সে সজ্জিত জীবন,
প্রখর পেয়ার সে বঞ্চিত যৌবন,
নীরবতা সে মুখরিত মধুবন,
পরহিত অর্পিত অপনা তন-মন,
জীবন কো শত-শত আহুতি মেঁ,
জ্বলনা হোগা, গলনা হোগা
কদম মিলাকর চলনা হোগা।

-অভীক মুখোপাধ্যায়
পাকুড়, হুগলি

.

তথ্যঋণ:

বইপত্র

  • বিজেপি কল, আজ অউর কল / বিজয় ত্রিবেদী
  • সঙ্ঘম্ শরণম্ গচ্ছামি / বিজয় ত্রিবেদী
  • হার নহিঁ মানুঙ্গা / বিজয় ত্রিবেদী
  • অটলবিহারী বাজপেয়ী: আ ম্যান ফর অল সিজনস্ / কিংশুক নাগ
  • অটলবিহারী বাজপেয়ী / সাগরিকা ঘোষ
  • দ্য আনটোল্ড বাজপেয়ী / উল্লেখ এন পি যুগলবন্দি / বিনয় সীতাপতি
  • দ্য লাইফ অ্যান্ড টাইমস অব জর্জ ফার্নান্ডেজ / রাহুল রামাগুণ্ডম
  • গান্ধী পরিবার (অস্সি কে দশক কা ভারত) / প্রবীণ কুমার ঝা
  • জেপি (নায়ক সে লোকনায়ক) / প্রবীণ কুমার ঝা
  • দ্য ড্রিম অব রেভোলিউশন: আ বায়োগ্রাফি অব জয়প্রকাশ নারায়ণ / বিমল প্রসাদ অ্যান্ড সুজাতা প্ৰসাদ
  • এমারজেন্সি ক্রনিকলস: ইন্দিরা গান্ধী অ্যান্ড এমারজেন্সি’স টার্নিং পয়েন্ট / জ্ঞান প্রকাশ
  • দ্য এমারজেন্সি: আ পার্সোনাল হিস্ট্রি / কৃমি কপূর
  • ইন দ্য নেম অব ডেমোক্রেসি: জেপি মুভমেন্ট অ্যান্ড দ্য এমারজেন্সি / বিপান চন্দ্ৰ
  • দরবার / তভলীন সিং
  • সাভারকর: একোজ ফ্রম আ ফরগটেন পাস্ট / বিক্রম সম্প‍
  • সাভারকর: আ কনটেস্টেড লেগ্যাসি (১৯২৪-১৯৬৬) / বিক্রম সম্পৎ
  • মাই কান্ট্রি মাই লাইফ / লালকৃষ্ণ আডবানি
  • লাইন অব ফায়ার / পারভেজ মুশারফ
  • অযোধ্যা: দ্য ডার্ক নাইট / কৃষ্ণা ঝা অ্যান্ড ধীরেন্দ্র কে ঝা
  • রিলেন্টলেস / যশবন্ত সিনহা
  • অন্তরীপ পত্রিকা পৌষ পার্বণ ১৪২৬ সংখ্যা (বিশেষ গুপ্তচরবৃত্তি সংখ্যা)
  • https:blogs.timesofisrael.com/the-jewish-warriors-of-maratha-empire/

ডকুমেন্টারি ও ভিডিও

  • প্রধানমন্ত্রী সিরিজ ওয়ান / এবিপি নিউজ
  • লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর ভাষণ
  • দ্য প্রিন্ট চ্যানেলের শেখর গুপ্তার ‘কাট দ্য ক্লাটার’-এর একাধিক ভিডিও এপিসোড

বিশেষ ঋণ স্বীকার

  • শ্রী অভিষেক আইচ, শ্রী সপ্তর্ষি চ্যাটার্জি, শ্রী অভিষেক কর্মকার, শ্রী কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় (বঙ্গদেশ অনলাইন পোর্টাল), এবং শ্রী প্রীতম চট্টোপাধ্যায়

Book Content

সেই ফুলের দল – ১
সেই ফুলের দল – ২
সেই ফুলের দল – ৩
সেই ফুলের দল – ৪
সেই ফুলের দল – ৫
সেই ফুলের দল – ৬
সেই ফুলের দল – ৭
সেই ফুলের দল – ৮
সেই ফুলের দল – ৯
সেই ফুলের দল – ১০
সেই ফুলের দল – ১১
সেই ফুলের দল – ১২
সেই ফুলের দল – ১৩
সেই ফুলের দল – ১৪
সেই ফুলের দল – ১৫
সেই ফুলের দল – ১৬
সেই ফুলের দল – ১৭
সেই ফুলের দল – ১৮
সেই ফুলের দল – ১৯
সেই ফুলের দল – ২০
সেই ফুলের দল – ২১
সেই ফুলের দল – ২২
সেই ফুলের দল – ২৩
সেই ফুলের দল – ২৪
হ্যারেৎজ - অভীক মুখোপাধ্যায়, চন্দ্ৰনাথ সেন

হ্যারেৎজ – অভীক মুখোপাধ্যায়, চন্দ্ৰনাথ সেন

সূর্য বিনোদিনী অভীক মুখোপাধ্যায়

সূর্য বিনোদিনী – অভীক মুখোপাধ্যায়

Reader Interactions

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক

সিরিজ

বইয়ের ধরণ

বাংলা ডিকশনারি

বাংলা জোক্স

বাংলা লিরিক্স

বাংলা রেসিপি

বিবিধ রচনা

বাংলা হেলথ টিপস

Download PDF


My Account

Facebook

top↑

Login
Accessing this book requires a login. Please enter your credentials below!

Continue with Google
Lost Your Password?
এভারগ্রিন বাংলা লোগো
Register
Don't have an account? Register one!
Register an Account

Continue with Google

Registration confirmation will be emailed to you.