ভৌতিক অলৌ কিক – অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
প্রথম প্রকাশ – জানুয়ারি ২০১৫
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ -সুদীপ্ত মণ্ডল
.
আমার বাবা
স্বর্গীয় অজিতকুমার রায়চৌধুরীকে
আমার দিদি
দেবযানী ঘোষকে
.
ভৌতিক ও অলৌকিক দুটোই একই সূত্রে গাঁথা। দুটোকেই সাধারণ বুদ্ধিতে বোঝা যায় না। বোঝানো যায় না। একইসঙ্গে এরা হল আমাদের বড় কৌতূহল-এর জায়গা। ভূত নিয়ে লেখার একটা মজা হল—ভূত নিয়ে কোনও বিতর্ক হয় না। পাঠকরাও চুলচেরা বিচার করে গল্পে ভুল খোঁজে না।
কেউ ভূতে বিশ্বাস করে, কেউ বা করে না। এই দুই শ্রেণির লোকই কিন্তু ভূতের গল্প পেলে অন্য কোনও গল্প পড়ে না। নিজে দ্বিতীয় শ্রেণির লোক হওয়া সত্বেও লিখে গেছি। তেনাদের নিয়ে খেয়ালখুশিমতো গল্প লিখেছি। উপযুক্ত সম্মান না দিয়ে হাস্য-কৌতুক করেছি। তাই আমার ভৌতিক গল্পের সামান্য জনপ্রিয়তা যে আমাকে ভূতেদের কাছে আদৌ জনপ্রিয় করে তোলেনি, সেটা দু-মাস আগেও টের পাইনি। আমার দুই প্রিয় লেখক অনীশদা ও ত্রিদিবদার পরে আমিও আমার ভৌতিক ও অলৌকিক গল্পের সংকলন করার কথা ভেবেছিলাম। আর তখনই ঘটনার শুরু।
আমার ইংল্যান্ডের ওয়েলস-এর বাড়ির বাগানে রোজ যেন কার যাতায়াত শুরু হল। ঠিক রাত ন’টায়। কার যেন পায়ে হাঁটার শব্দ। অথচ বাগানের দরজা খুললেই ভেতরে শুধু ঢুকে আসে কনকনে ঠান্ডা বাতাস। বাইরে কারুর দেখা পাই না। কিন্তু উপস্থিতি টের পাই। কিন্তু সংকলন তো আর বন্ধ করা যায় না। তবু তেনাদের শ্রদ্ধা জানিয়ে শেষের ঘটনাকে গল্পাকারে রাখলাম। গল্পের নাম ‘৩৮ বিচউড স্ট্রিট’।
এসবের পরেও যে পত্র ভারতী এই বইটি প্রকাশ করছে, তার জন্যে ধন্যবাদ জানাই ত্রিদিবদাকে তাঁর সাহসের জন্য। ধন্যবাদ জানাই পত্র ভারতীর সকল কর্মীদের এই প্রচেষ্টায় সঙ্গে থাকার জন্য। আর বিশেষ করে ধন্যবাদ জানাই ‘তেনাদের’, যারা অযাচিত উপস্থিতির মাধ্যমে আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন।
আর তোমাদের অপরাধী বলব, চিরকাল আমার লেখা এধরনের গল্প অবিশ্বাস করে এসেছো। আর কোরো না। ভুল করে বইটা কিনে ফেললেও, রাতে পড়ো না। ভালো থেকো।
অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
ওয়েলস, ইংল্যান্ড
১৭ নভেম্বর ২০১৪


ভালো