পৃথিবীর ইতিহাস : দ্বিতীয় খণ্ড – সুসান ওয়াইজ বাউয়ার
(মহাপ্লাবন থেকে রোম সাম্রাজ্যের পতন)
অনুবাদ – ইশতিয়াক খান
প্রথম প্রকাশ – ফেব্রুয়ারি ২০২৪
প্রকাশক দিব্যপ্রকাশ
প্রচ্ছদ – ধ্রুব এষ
উৎসর্গ
আমার দুই মেয়ে
মিশেল ও মিরান্ডা
আশা করি বড় হয়ে তোমরা একদিন
এই বইটা হাতে নিয়ে অবাক হয়ে বলবে,
‘বাবা এতো কিছু লিখল কবে?’
.
মুখবন্ধ
প্রাচীন ইতিহাস, বা প্রাক-ইতিহাসের কথা বলতে গেলেই সঙ্গে চলে আসে কাল্পনিক কাহিনি, পুরাণ বা মিথলজি। এটা মিশরীয় বা গ্রিক সব ধরনের সভ্যতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
পৃথিবীর ইতিহাস : মহাপ্লাবন থেকে রোম সাম্রাজ্যের পতন বইটির প্রথম খণ্ডের ভূমিকা শুরু হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ১৭৭০ সালে ইউফ্রেতিস নদীর তীরে অবস্থিত মারি শহরের রাজা জিমরি লিম ও তার মেয়েদের খানিকটা কাল্পনিক, খানিকটা অনুমিত ইতিহাসের বর্ণনায়
তবে বইটার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক ছিল ‘মহাপ্লাবনের’ ইতিহাস। অবাক করা ব্যাপার হলো, প্রাচীন যুগের প্রায় প্রতিটি সভ্যতা (এবং পরবর্তী যুগে, ধর্মবিশ্বাসে) এক ‘মহাপ্লাবনের’ কথা বলা হয়েছে। মোটা দাগে, এই প্লাবন ছিল প্রাচীন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দুর্যোগ এবং এই দুর্যোগের পর মানব ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় শুরু। এখান থেকেই এই বইয়ের বর্ণনা শুরু, এবং শিরোনামের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে, রোম সাম্রাজ্যের শেষ দিনগুলো পর্যন্ত এগিয়েছে এর বর্ণনা
পাঠকদের মনে শুরুতেই প্রশ্ন আসতে পারে—কে এই সুসান ওয়াইজ বাউয়ার? পেশায় একজন যাজক, শিক্ষাবিদ ও ইতিহাসবিদ, সুসান ওয়াইজ বাউয়ার-এর (৫৫) মতে, একজন ইতিহাসবিদের উদ্দেশ্য শুধু ‘মানুষ কী করে সেটা ব্যাখ্যা করা নয়, বরং ‘কেন’ এবং ‘কীভাবে করে’, সেটাও বোঝানো
প্রাক-ইতিহাস খুবই ধোয়াশাচ্ছন্ন; মানুষ কীভাবে লিখতে শুরু করলো, প্রাচীন যুগের রাজা-বাদশা, বীরপুরুষ এবং সাধারণ মানুষের গল্পগুলো লিখতে গেলে অনেকটাই কল্পকথার মতো শোনায়।
এই বইয়ের প্রথম খণ্ডে প্রাক-ইতিহাস থেকে শুরু করে গ্রিস, অ্যাসিরীয়া, মেসোপটেমিয়া, মিশর ও চীনের মতো বড় বড় প্রাচীন সাম্রাজ্যের শুরু দিকের কথাগুলো বলা হয়েছে। আমরা অনেকেই এই ইতিহাসের সঙ্গে খুব বেশি পরিচিত নই। বইয়ের মোট ৮৫ অধ্যায়ের প্রথম ২৯টি প্রথম খণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। দ্বিতীয় খণ্ডে বাকি অধ্যায়গুলো যোগ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় খণ্ডে চীন সাম্রাজ্যের উত্থান থেকে শুরু করে গ্রিস, ভারত, মিশরসহ আরও বেশ কিছু প্রাচীন সভ্যতার উত্থান-পতনের কথা বলা হয়েছে। শেষ হয়েছে রোমের উপাখ্যানের মাধ্যমে।
মজার বিষয় হল, এই ইতিহাসের অনেকটুকু আমাদের জানা আছে। এখানে বড় বড় রাজাদের পাশাপাশি ধর্মপ্রচারকদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পড়তে পড়তে পাঠক নতুন অনেক কিছু যেমন জানবেন, তেমনই জানবেন পরিচিত স্থান, কাল ও পাত্র সম্পর্কে নতুন ও চিত্তাকর্ষক তথ্য।
মূল বইটিকে রেফারেন্স বই বললে কম বলা হবে না। কিন্তু বাংলা অনুবাদের ক্ষেত্রে অনুবাদককে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে।
মূল লেখক সুসান বলেছেন, প্রাক-ইতিহাসের কাহিনিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে কিছু পৌরাণিক গল্পগাথা বা মিথ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সতর্কতাও অবলম্বন করা হয়েছে।
প্রাচীন ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকা অনেক চরিত্রই মানুষ ও দেবতার সংমিশ্রণে তৈরি। সে সময়ের রাজারা হাজার হাজার বছর ধরে রাজত্ব করতেন, এবং বীরেরা ঈগলের ডানায় চড়ে স্বর্গে আরোহণ করতেন অহরহ। পাশ্চাত্যের ইতিহাসবিদরা ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ থেকেই এ ধরনের উপাখ্যানকে সন্দেহের চোখে দেখে এসেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষায় দীক্ষিত ইতিহাসবিদরাও উপযুক্ত তথ্য প্রমাণবিহীন যেকোনো ইতিহাসকে বর্জন করতে শুরু করেছেন।
এই বই পড়ার সময় পাঠকের মনে রাখতে হবে যে প্রাচীন ইতিহাসের একটি বড় অংশই অনুমাননির্ভর। এবং পুরনো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নির্ভর অনুমান, মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হওয়া গল্পগাথার ভিত্তিতে তৈরি ইতিহাস অনুমানের চেয়ে বেশী নির্ভরযোগ্য—এমনটাও বলা যায় না।
তবে দ্বিতীয় খণ্ডে জল্পনাকল্পনা বা পুরাণের বদলে প্রকৃত সত্যকেই বেশি জোর দেয়া হয়।
এই খণ্ডে এসে আমরা আলেকজান্ডার, গৌতম বুদ্ধ, জারক্সিস, লিওনাইডাস, অশোক, যিশু, জুলিয়াস সিজার, টলেমির মতো চেনা মুখদের সঙ্গে আরও ভালো করে পরিচিত হব।
আসুন, নেমে পড়া যাক ইতিহাসের পাতায়। যাত্রা শুভ হোক সবার।



I want download this book