পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ – আহমদ ছফা
পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ – আহমদ ছফা
প্রথম প্রকাশ : ১৯৯৬
[‘পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ’ আহমদ ছফার লেখা একটি অনন্য আত্মজৈবনিক উপন্যাস, যেখানে লেখক প্রকৃতি, গাছ-পালা, ফুল, পাখি এবং মানুষের মানসজগতের আন্তঃসম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরেছেন।
এ উপন্যাসের পটভূমি লেখকের নিজস্ব জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি, বিশেষ করে শহরের ছাদে পালিত তুলসী ও নয়নতারার গাছ এবং পোষা পাখিকে ঘিরে আবর্তিত। এখানে গাছ, ফুল ও পাখির প্রতি লেখকের গভীর মমত্ব, প্রাণের স্পর্শ ও দার্শনিক ভাবনা ফুটে উঠেছে। উপন্যাসে ছফার পালক ছেলে ‘সুশীল’র যত্নে মৃতপ্রায় চারাগুলোর কীভাবে পুনর্জন্ম, দ্রবীভূত মর্যাদা ও পরিপূর্ণতা লাভ করে, তার বর্ণনা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও মানবিক ছোঁয়ায় পরিপূর্ণ।
উপন্যাসের মূল বার্তা— প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধ এবং একে অপরের প্রতি নির্ভরশীলতা। এখানে তুলসী ও নয়নতারা গাছ এবং পাখি জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত, আনন্দ-বেদনা ও আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এগুলো লেখকের একাকীত্ব, শূন্যতা ও জীবনের কঠিন মুহূর্তে আশার আলো জাগায়, নতুন বিশ্বাসের জন্ম দেয়। বিহঙ্গের (পাখির) স্বাধীনতা ও প্রকৃতির ছন্দ মানুষের মুক্তি ও শুদ্ধতার এক নিবিড় রূপকেরূপে উপস্থাপিত।
সামগ্রিকভাবে, ‘পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ’ আত্মবিশ্লেষণ, জীবনবোধ, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের বন্ধুর প্রতি ভালোবাসার, এবং আত্মায়নের এক অনন্য সাহিত্যকর্ম, যা বাংলা সাহিত্যের প্রকৃতি-নির্ভর রচনার ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।]





Leave a Reply