একজন আলি কেনানের উত্থান-পতন – আহমদ ছফা
একজন আলি কেনানের উত্থান-পতন – উপন্যাস – আহমদ ছফা
উৎসর্গ – শ্ৰী চিত্তরঞ্জন সাহা
***
[আহমদ ছফার উপন্যাস ‘একজন আলী কেনানের উত্থান পতন’ বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি এবং মাজার সংস্কৃতির পটভূমিতে লেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম। উনিসত্তর থেকে পঁচাত্তর সাল পর্যন্ত সময়কাল নিয়ে নির্মিত এ উপন্যাসের মূল চরিত্র আলি কেনান—একজন চতুর, কৌতূকপ্রিয়, এবং ধুরন্ধর ব্যক্তি, যার জীবন ভিক্ষাবৃত্তি দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে নানা নাটকীয়তা ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ভেতর দিয়ে উত্থান-পতনের পথ পাড়ি দেয়।
প্রথমদিকে গ্রামীণ পরিবেশে আলি কেনান চর দখল ও নানা কৌশলে স্থানীয় প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। পরে একবার এক গভর্নরকে জনরোষ থেকে উদ্ধার করার সুবাদে তার জীবনে ঘটে বড় বাঁক। গভর্নরের প্রিয় পিয়ন হিসেবে সে প্রভাব-প্রতিপত্তি অর্জন করে এবং সেই সুযোগে পরিবারের ও নিজের স্বার্থে ক্ষমতা ব্যবহার করে। সমাজে এই ধরনের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার উপন্যাসে রূপকের মতোই উঠে এসেছে—যেখানে শাসক বা ক্ষমতাবানদের পৃষ্ঠপোষকতায় অনেকেই মুহূর্তে প্রতাপশালী হয়ে ওঠে, আবার মুহূর্তেই পতন ঘটে।
স্বাধীনতা যুদ্ধ, পাকিস্তানের সামরিক শাসক থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামল পর্যন্ত ঘটনাক্রমে আলি কেনানের উত্থান ও পতনকে লেখক গূঢ় বোধ ও রূপকতার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। সম্পর্কে মাজার ব্যবসা, ব্যক্তিগত ক্ষমতার লালসা, দ্বৈত নৈতিকতা—সবকিছু ফুটে ওঠে আলি কেনানের চরিত্রে। শেষ পর্যন্ত প্রেমে হতাশ হয়ে, রাজনীতির পালাবদলে—বিশেষত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মৃত্যু এবং সেই সাথে নিজের সবকিছু হারিয়ে আলি কেনান একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এতে লেখক দেখিয়েছেন—ক্ষমতা, প্রতিপত্তির দম্ভ চিরস্থায়ী নয়; মানুষের অবধারিত পতন ঘটবেই।
সবমিলিয়ে, আলি কেনানের উত্থান ও পতন আমাদের সমাজ-রাজনীতির পঙ্কিলতা, শাসনব্যবস্থার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি এবং ক্ষমতা নির্ভর ব্যবস্থা কত দ্রুত উল্টে যেতে পারে—তা গোটা উপন্যাসে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটে তুলেছেন আহমদ ছফা।]






Free book porte chai