• Skip to main content
  • Skip to header right navigation
  • Skip to site footer

Bangla Library

Read Bengali Books Online (বাংলা বই পড়ুন)

  • Login/Register
  • Account

ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

লাইব্রেরি » দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার » ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ঠাকুরমার ঝুলি - দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
লেখক: দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারবইয়ের ধরন: কিশোর সাহিত্য

ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

.

ভূমিকা

ঠাকুরমার ঝুলিটির মত এত বড় স্বদেশী জিনিস আমাদের দেশে আর কি আছে? কিন্তু হায় এই মোহন ঝুলিটিও ইদানীং ম্যাঞ্চেস্টারের কল হইতে তৈরী হইয়া আসিতেছিল। এখনকার কালে বিলাতের “Fairy Tales” আমাদের ছেলেদের একমাত্র গতি হইয়া উঠিবার উপক্রম করিয়াছে। স্বদেশের দিদিমা কোম্পানী একেবারে দেউলে’। তাঁদের ঝুলি ঝাড়া দিলে কোন কোন স্থলে মার্টিনের এথিকস এবং বার্কের ফরাসী বিপ্লবের নোটবই বাহির হইয়া পড়িতে পারে, কিন্তুু কোথায় গেল-রাজপুত্র পাত্তরের পুত্র, কোথায় বেঙ্গমা-বেঙ্গমী, কোথায়-সাত সমুদ্র তেরো নদী পারের সাত রাজার ধন মাণিক!

পাল পার্বণ যাত্রা গান কথকতা এ সমস্তও ক্রমে মরানদীর মত শুকাইয়া আসাতে, বাংলাদেশের পল্লীগ্রামে যেখানে রসের প্রবাহ নানা শাখায় বহিত, যেখানে শুস্ক বালু বাহির হইয়া পড়িয়াছে। ইহাতে বয়স্কলোকদের মন কঠিন স্বার্থপর এবং বিকৃত হইবার উপক্রম হইতেছে। তাহাদের সায়ংকালীন শয্যাতল এমন নীরব কেন? তাহাদের পড়াঘরের কেরোসিন্-দীপ্ত টেবিলের ধারে যে গুঞ্জনধ্বনি শুনা যায় তাহাতে কেবল বিলাতী বানান-বহির বিভীষিকা। মাতৃদুগ্ধ একেবারে ছাড়াইয়া লইয়া কেবলি ছোলার ছাতু খাওয়াইয়া মানুস করিলে ছেলে কি বাচেঁ!

কেবলি বইয়ে কথা! স্নেহময়ীদের মুখের কথা কোথায় গেল! দেশলক্ষ্মীর বুকের কথা কোথায়!

এই যে আমাদের দেশের রূপকথা বহুযুগের বাঙ্গালিবালকের চিত্তেেত্রর উপর দিয়া অশ্রান্ত বহিয়া কত বিপ্লব, কত রাজ্য পরিবর্তনের মাঝখান দিয়া অুণ্ন চলিয়া আসিয়াছে, ইহার উৎস সমস্ত বাংলাদেশের মাতৃস্নেহের মধ্যে। যে স্নেহ দেশের রাজ্যেশ্বর রাজা হইতে দীনতম কৃষককে পর্যন্ত বুকে করিয়া মানুষ করিয়াছে, সকলকেই শুক সন্ধ্যায় আকাশে চাঁদ দেখাইয়া ভুলাইয়াছে এবং ঘুমপাড়ানি গানে শান্ত করিয়াছে, নিখিল রঙ্গদেশের সেই চির পুরাতন গভীরতম স্নেহ হইতে এই রূপকথা উৎসারিত।

অতএব বাঙ্গালির ছেলে যখন রূপকথা শোনে কেবল যে গল্প শুনিয়া সুখী হয়, তাহা নহে-সমস্ত বাংলাদেশের চিরন্তন স্নেহের সুরটি তাহার তরুণ চিত্তের মধ্যে প্রবেশ করিয়া, তাহাকে যেন বাঙলার রসে রসাইয়া লয়।

দক্ষিণারঞ্জনবাবুর ঠাকুরমার ঝুলি বইখানি পাইয়া, তাহা খুলিতে ভয় হইতেছিল। আমার সন্দেহ ছিল, আধুনিক বাংলার কড়া ইস্পাতের মুখে এ সুরটা পাছে বাদ পড়ে। এখনকার কেতাবী ভাষায় এ সুরটি বজায় রাখা বড় শক্ত। আমি হইলে ত এ কাজ সাহসই করিতাম না। ইতঃপূর্বে কোন কোন গল্পকুশলা অথচ শিক্ষিতা মেয়েকে দিয়া আমি রূপকথা লিখাইয়া লইবার চেষ্টা করিয়াছি- কিন্তু হউক মেয়েলি হাত, তবুও বিলাতী কলমের যাদুতে রুপকথায় কথাটুকু থাকিলেও সেই রুপটি ঠিক থাকে না; সেই চিরকালের সামগ্রী এখনকার কালের হইয়া উঠে।

কিন্তু দক্ষিণাবাবুকে ধন্য। তিনি ঠাকুরমা’র মুখের কথাকে ছাপার অরে তুলিয়া পুঁতিয়াছেন তবু তাহার পাতাগুলি প্রায় তেমনি সবুজ, তেমনি তাজাই রহিয়াছে; রূপকথার সেই বিশেষ ভাষা, বিশেষ রীতি, তাহার সেই প্রাচীন সরলতাটুকু তিনি যে এতটা দূর রা করিতে পারিয়াছেন, ইহাতে তাহার সূক্ষ্ম রসবোধ ও স্বাভাবিক কলানৈপুন্য প্রকাশ পাইয়াছে।

এক্ষণে আমার প্রস্তাব এই যে, বাংলাদেশের আধুনিক দিদিমাদের জন্য অবিলম্বে একটা স্কুল খোলা হউক এবং দক্ষিণাবাবুর এই বইখানি অবলম্বন করিয়া শিশু-শয়ন রাজ্যে পুর্নবার তাঁহার নিজেদের গৌরবের স্থান অধিকার করিয়া বিরাজ করিতে থাকুন।

শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
বোলপুর, ২০ ভাদ্র, ১৩১৪

.

গ্রন্থকারের নিবেদন

একদিনের কথা মনে পড়ে, দেবালয়ে আরতির বাজনা বাজিয়া বাজিয়া থামিয়া গিয়াছে, মা’র আঁচলখানির উপর শুইয়া রুপকথা শুনিতেছিলাম।

“জ্যোচ্ছনা ফুল ফুটেছে”*; মা’র মুখের এক একটি কথায় সেই আকাশনিখিল ভরা জ্যোৎস্নার রাজ্যে, জ্যোৎস্নার সেই নির্মল শুভ্র পটখানির উপর পলে পলে কত বিশাল “রাজ-রাজত্ব”, কত “অছিন্ অভিন্” রাজপুরী, কত চিরসুন্দর রাজপুত্র রাজকন্যার অবর্ণনীয় ছবি আমার শৈশব চুর সামনে সত্য কারটির মত হইয়া ফুটিয়া উঠিয়াছিল।

সে যেন কেমন- কতই সুন্দর! পড়ার বইখানি হাতে নিতে নিতে ঘুম পাইত; কিন্তু সেই রুপকথা তারপর তারপর তারপর করিয়া কত রাত জাগাইয়াছে! তারপর শুনিতে শুনিতে শুনিতে শুনিতে চোখ বুজিয়া আসিত;- সেই অজানা রাজ্যের সেই অচেনা রাজপুত্র সেই সাতসমুদ্র তের নদীর ঢেউ ক্ষুদ্র বুকখানির মধ্যে স্বপ্নের ঘোরে খেলিয়া বেড়াইত, আমার মত দুরন্ত শিশু!- শান্ত হইয়া ঘুমাইয়া পড়িতাম।

বাঙ্গালার শ্যামপল্লীর কোণে কোণে এমনি আনন্দ ছিল, এমনি আবেশ ছিল। মা আমার অফুরণ রুপকথা বলিতেন।-জানিতেন বলিলে ভুল হয়, ঘর-কন্নায় রুপকথা যেন জাড়ানো ছিল; এমন গৃহিনী ছিলেন না যিনি রুপকথা জানিতেন না,- না জানিলে যেন লজ্জার কথা ছিল। কিন্ত এত শীঘ্র সেই সোনা-রূপার কাঠি কে নিল, আজ মনে হয়, আর ঘরের শিশু তেমন করিয়া জাগে না তেমন করিয়া ঘুম পাড়ে না!

বঙ্গীয় সাহিত্য-পরিষদ বাঙ্গালিকে এক অতি মহাব্রতে দীতি করিয়াছেন; হারানো সুরের মনিরত্ন মাতৃভাষার ভান্ডারে উপহার দিবার যে অতুল প্রেরণা, তাহা মূল ঝরনা হইতেই জাগরিত হইয়া উঠিয়াছে দেশজননীর স্নেহধারা-এই-বাঙ্গালার রুপকথা।

মা’র মখের অমৃত-কথার শুধু রেশগুলি মনে ভাসিত; পরে কয়েকটি পল্লীগ্রামের বৃদ্ধার মুখে আবার যাহা শুনিতে শুনিতে শিশুর মত হইতে হইয়াছিল, সে সব ক্ষীণ বিচ্ছিন্ন কঙ্কালের উপরে প্রায় এক যুগের শ্রমের ভূমিতে এই

ফুলমন্দির রচিত। বুকের ভাষার কচি পাপড়িতে সুরের গন্ধের আসন : কেমন হইয়াছে বলিতে পারি না।

অবশেষে বসিয়া বসিয়া ছবিগুলি আঁকিয়াছি। যাঁদের কাছে দিতেছি, তাঁহারা ছবি দেখিয়া হাসিলে, জানিলাম আঁকা ঠিক হইয়াছে।

শরতের ভোরে ঝুলিটি আমি সোনার হাটের মাঝখানে আনিয়া দিলাম।

আমার মা’র মতন মা বাঙ্গালার ঘরে ঘরে আবার দেখিতে পাই! যাদের কাজ তাঁরা আবার আপন হাতে তুলিয়া নেন।

যেমন চাহিয়াছিলাম, হয়তো হয় নাই; কিন্ত বই যে সত্বরে প্রকাশিত হইল, ইহার ব্যবস্থায় “বঙ্গভাষা ও সাহিত্য”র আমার অগ্রজ-প্রতিম সুহৃদ্বর শ্রদ্ধেয় শ্রীযুক্ত দীনেশচন্দ্র সেন মহাশয়ই অগ্রনী। তাঁহার আদরের ‘ঝুলি’ তাঁহার ঋণ শোধ করিতে পারিবে না।

আমার ছোট বোন্টি অনেক খুঁটিনাটিতে সাহয্য করিয়াছে। প্রিয় বন্ধু শ্রীযুক্ত বিমলাকান্ত সেন মুদ্রণাদিতে প্রাণপাতে আমার জন্য খাটিয়াছেন। তাঁহার নিকট কৃতজ্ঞতার, ভাষা নাই।

জ্যোৎস্নাবিধৌত স্নিগ্ধ সন্ধ্যায় আরতির বাদ্য বাজিয়াছে। এ সুলগ্নে যাঁদের ঝুলি, তাঁদের কাছে দিয়া-বিদায় লইলাম।

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
কলকাতা, প্রথম সংস্করণ, ১৩১৪ বাং

.

*এটি শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয়ের কথা; আমি শুনিয়াছিলাম, ‘জ্যোৎস্না ভিণ ফুটেছে,’ কোনো একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির নিকট শুনিয়াছি ‘জ্যো’স্না ফিনিক ফুটছে’। কোথাও কোথাও শুনিয়াছি, ‘জ্যোছনা ফটিক ফুটছে’।

***

.

উৎসর্গ

নীল আকাশে সূয্যিমামা ঝলক দিয়েছে,
সবুজ মাঠে নতুন পাতা গজিয়ে উঠেছে,
পালিয়ে ছিল সোনার টিয়ে ফিরে এসেছে;
ক্ষীর নদীটির পারে খোকন হাসতে লেগেছে,
হাসতে লেগেছে রে খোকন, নাচতে লেগেছে,
মায়ের কোলে চাঁদের হাট ভেঙে পড়েছে।
লাল টুকটুক সোনার হাতে কে নিয়েছে তুলি
 ছেঁড়া নাতা পুরোনো কাঁথার—

.

 ঠাকুরমার ঝুলি!

—বাংলা মা-র বুক জোড়া ধন—
এত কি ছিল ব্যাকুল মন!

*** 
—ওগো!
ঠাকুরমার বুকের মাণিক, আদরের ‘খোকা খুকি’!
চাঁদমুখে হেসে, নেচে নেচে এসে, ঝুলির মাঝে দে উঁকি!
ওগো!
সুশীল সুবোধ, চারু হারু বিনু, লীলা শশী সুকুমারি!
দ্যাখ তো রে এসে, খোঁচাখুঁচি দিয়ে ঝুলিটারে
 নাড়ি চাড়ি।

 —ওগো!
বড়ো বউ, ছোটো বউ! আবার এসেছে ফিরে
সেকালের সেই রূপকথাগুলো, তোমারি আঁচল ঘিরে!
ফুলে ফুলে বয় হাওয়া, ঘুমে ঘুমে চোখ ঢুলে,
কাজগুলো সব লুটুপুটি খায় আপন কথার ভুলে।
এমন সময় খুঁটে লুটে এনে হাজার যুগের ধূলি
চাঁদের হাটের মাঝখানে, মা! ধুপুস করা—
ঝুলি!!

হাজার যুগের রাজপুত্র রাজকন্যা সবে
রূপসাগরে সাঁতার দিয়ে আবার এল কবে!
হাঁউ মাউ কাঁউ শব্দ শুনি রাক্ষসেরি পুর—
না জানি সে কোন দেশে না জানি কোন দূর!
নতুন বউ! হাঁড়ি ঢাকো, শিয়াল পন্ডিত ডাকে;—
হেঁটে কাঁটা উপরে কাঁটা কোন রানিদের পাপে?
তোমাদেরি হারাধন তোমাদেরি ঝুলি
আবার এনে ঝেড়ে দিলাম সোনার হাতে তুলি!
ছেলে নিয়ে মেয়ে নিয়ে কাজে কাজে এলা—
সোনার শুকের সঙ্গে কথা দুপুর সন্ধ্যা বেলা,
দুপুর সন্ধ্যা বেলা লক্ষ্মী! ঘুম যে আসে ভুলি!
ঘুম ঘুম ঘুম,
—সুবাস কুম কুম—
ঘুমের রাজ্যে ছড়িয়ে দিয়ো
ঠাকুরমার
এ
ঝুলি!

গাছের আগায় চিকমিক
আমার খোকন হাসে ফিক-ফিক!
নীলাম্বরিখান গায়ে দিয়ে, খোকার—মাসি এসেছে!
নদীর জলে খোকার হাসি ঢলে পড়েছে!

আয় রে আমার কাজলা বুধি, আয় রে আমার হুমো,—
গাছের আড়ে থামল রে চাঁদ, আমার সোনার মুখে চুমো!
ঘরে ঘরে লক্ষ্মীমণির পিদিম জ্বলেছে,
দেবতার দুয়ারে কাঁসর বেজে উঠেছে—
নাচবে খোকা, নিবে প্রসাদ খোকন আমার গঙ্গাপ্রসাদ
কোন স্বর্গের ছবি খোকন মর্ত্যে এনেছে?

ও খোকন, খোকন রে!
আর নেচো না, আর নেচো না, নাচন ভেঙে পড়েছে!—
দেখসে’ আঙিনায় তোর কে এসেছে!
আঙিনেয় এল চাঁদের মা, দেখসে’ খোকন দেখে যা,
ঝুলির ভেতর চাঁদের নাচন ভরে এনেছে।
ঝুলির মুখ খোলা,—খোকার হাসি তোলা—তোলা—
ঠাকুরমার কোলটি জুড়ে কে রে বসেছে?

.

দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের জন্ম ঢাকা (বাংলাদেশ) জেলার সাভারের কাছে উলাইল গ্রামে ২ বৈশাখ ১২৮৪ বঙ্গাব্দে (১৮৭৭)। পিতা রমদারঞ্জন, মাতা কুসুমময়ী। তিনি পিতামাতার একমাত্র সন্তান। নয় বছর বয়সে তাঁর মাতৃবিয়োগ হয়। ময়মনসিংহ (বাংলাদেশ) জেলায় তাঁর পিসি রাজলক্ষ্মী চৌধুরানীর কাছে এরপর থেকে অনেকটা সময় অতিবাহিত হয়। তিনি পিসির মুখে শুনতেন তখন পল্লি অঞ্চলের অনেক রূপকথা, গীতিকথা। এই ঘটনাই দক্ষিণারঞ্জনকে ভবিষ্যতে লোকসাহিত্য সংগ্রাহকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে উদ্দীপিত করে।

২১ বছর বয়সে দক্ষিণারঞ্জন পিতার কর্মস্থল মুর্শিদাবাদে আসেন। এখানেই শুরু হয় তাঁর সাহিত্যজীবন। লিখতে থাকেন প্রদীপ, সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা ইত্যাদিতে। এখানে সুধা (১৯০১) নামে একটি মাসিক পত্রিকাও সম্পাদনা করেন। এটি চার বছর চলেছিল। বাবার মৃত্যু হলে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। তিনি ময়মনসিংহে ফিরে পিসিমার জমিদারির কাজকর্ম দেখাশোনা করতে শুরু করেন। এই কাজে ঢাকা-ময়মনসিংহ জেলার পল্লি অঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে তিনি পূর্ণ উদ্যমে সংগ্রহ করতে শুরু করেন বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৌখিক ‘কথাসাহিত্য’। দীনেশচন্দ্র সেনের সহায়তায় ও পরামর্শে সেগুলি তিনি ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ (১৯০৭), ‘ঠাকুরদাদার ঝুলি’ (১৯০৮), ‘ঠানদিদির থলে’ (৩য় সংস্করণ ১৯৪৫) ও ‘দাদামশায়ের থলে’ (১৯১৩) গ্রন্থে মুদ্রিত আকারে প্রকাশ করেন। এই বইগুলির জন্যই দক্ষিণারঞ্জন আজও আপামর বাঙালির হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন। বিশেষ করে ‘ঠাকুরমার ঝুলি’-র জন্য।

দক্ষিণারঞ্জন কলকাতাবাসী হন ১৯০৫ সালে এবং আমৃত্যু (১৯৫৭) কলকাতাতেই থাকেন। জমিদারি দেখাশোনা ছাড়াও তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা কর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের তিনি সহসভাপতি ছিলেন (১৯৩০-৩৩)। সুধা ছাড়াও সারথি নামে আর একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন (১৯০৮)। এটি ছিল প্রবন্ধধর্মী পত্রিকা। বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদের মুখপত্র পথ-এর সম্পাদনা করেছেন। এই পরিষদের বৈজ্ঞানিক পরিভাষা সমিতির সভাপতিরূপে বাংলায় বিজ্ঞানের পরিভাষা নির্মাণ তাঁর অন্যতম কীর্তি। শিশু সাহিত্যের জন্য তাঁকে ‘ভূবনেশ্বরী’ পদকে ভূষিত করা হয় (১৯৫০)।

তাঁর রচিত আরও গ্রন্থ: ‘খোকা-খুকুর খেলা’ (১৯০৯), ‘চারু ও হারু’ (১৯১২), ‘রজতজয়ন্তী’ (১৯১৩), ‘পূজার কথা’ (১৯১৮), ‘আমাল বই’ (৩য় সং ১৯৩৭), ‘আমার দেশ’ (১৯৪৮), ‘উৎপল ও রবি’ (১৯৩৮), ‘কিশোরদের মন’ (১৯৩০), ‘পৃথিবীর রূপকথা’ (অনুবাদ-১৯৪০), ‘ফার্স্ট বয়’ (২য় সংস্করণ, ১৯৩৮), ‘বাংলার সোনার ছেলে’ (১৯৩৫), ‘লাস্ট বয়’, ‘সবুজ লেখা’ (মৌলিক রূপকথা-১৯৩৮) ইত্যাদি।

৮০ বছর বয়সে ৩০ মার্চ, ১৯৫৭ সালে দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার কলকাতায় তাঁর মনোহর পুকুর রোডের বাসভবনে প্রয়াত হন।

Book Content

দুধের সাগর
দুধের সাগর
কলাবতী রাজকন্যা
ঘুমন্ত পুরী
কাঁকণমালা, কাঞ্চনমালা
সাত ভাই চম্পা
শীত বসন্ত
কিরণমালা
রূপ-তরাসী
রূপ-তরাসী
নীলকমল আর লালকমল
ডালিম কুমার
পাতাল কন্যা মণিমালা
সোনার কাঠি রূপার কাঠি
চ্যাং ব্যাং
চ্যাং ব্যাং
শিয়াল পণ্ডিত
সুখু আর দুখু
ব্রাহ্মণ-ব্রাহ্মণী
দেড় আঙুলে
আম-সন্দেশ
আম-সন্দেশ

Reader Interactions

Comments

  1. Tulika Paul

    April 4, 2025 at 8:55 pm

    এখানে কার্তিক ঘোষের “সেরা রূপকথার গল্প” বইটি নেই কেনো ? এই বইটিতেও খুব সুন্দর সুন্দর অনেক গল্প আছে, যা বাচ্চা থেকে বয়স্ক সবারই ভালো লাগবে।

    Reply
    • বাংলা লাইব্রেরি

      April 5, 2025 at 10:55 am

      সব বই তো দেয়া সম্ভব নয়। আবার এমন অনেক বই আছে, আমরা হয়তো নামই জানি না। আপনারা বললে আমরা খুঁজে পেলে দেয়ার চেষ্টা করি। এই বইটাও খুঁজে দেখব। ধন্যবাদ।

      Reply
      • অরুনিমা

        September 10, 2025 at 5:41 am

        যদি সম্ভব হয় আবুল খায়ের মুসলেহ উদ্দিনের “কিশোর রচনা সমগ্র” দেবেন।

        Reply
        • Ruban Poddar

          March 29, 2026 at 1:34 pm

          আপনারা স্মরনজিত চক্রবর্তীর পঞ্চাশটি গল্প, অদম্য -৪, বাউলসুতো, ছটি গল্প, শুন্য পথের মল্লিকা এই বইগুলো আপলোড করুন

          Reply
      • Ranjana Chakraborty

        March 17, 2026 at 2:54 am

        আলোর ফুলকি বইটি দিলে খুব ভালো হয়

        Reply
  2. Dipannita Sarkar

    December 28, 2025 at 3:16 pm

    পুরানো ঠাকুমার ঝুলি হয়তো অনেক আগের প্রকাশনা,,আমি পড়েছিলাম ২০০৫ সালে এক প্রতিবেশীর বাড়ির থেকে চেয়ে এনে,,সেখানে লালকমল নীলকমল,কেশবতী কন্যে এসব গল্প ছিল।আমি জানিনা কি প্রকাশনা সংস্থা, কিন্তু আমার মনে আছে পেজ গুলো অয়েলি,,আর ছবি গুলো সাদা কালো অনেক টা চারকোল এফেক্ট এর ছবির মত।আমি অনেক খুজেছি,,পাইনি।

    Reply
  3. Levi

    January 16, 2026 at 6:01 pm

    Avik dutta er baaj series + biswas ghatoker sandhane + operation blue wings ana hok please

    Reply
    • Swattik Roy

      March 7, 2026 at 4:16 am

      Akdom

      Reply
  4. Masum Billah

    March 6, 2026 at 10:49 pm

    অসাধারণ। তবে অনেক কাহিনী বাদ পড়ে গেছে

    Reply
  5. A R Khairuzzaman Rabbani

    March 6, 2026 at 11:28 pm

    বইটি সম্পূর্ণ করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

    Reply
  6. Shalmali Chakraborty

    March 7, 2026 at 8:03 am

    Thakurdar jhuli boita please upload korben.

    Reply
  7. Surjo

    March 7, 2026 at 12:33 pm

    অভীক দত্তের বইগুলো দিলে খুবই উপকৃত হবো

    Reply

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক

সিরিজ

বইয়ের ধরণ

বাংলা ডিকশনারি

বাংলা জোক্স

বাংলা লিরিক্স

বাংলা রেসিপি

বিবিধ রচনা

বাংলা হেলথ টিপস

Download PDF


My Account

Facebook

top↑

Login
Accessing this book requires a login. Please enter your credentials below!

Continue with Google
Lost Your Password?
এভারগ্রিন বাংলা লোগো
Register
Don't have an account? Register one!
Register an Account

Continue with Google

Registration confirmation will be emailed to you.