কুষাণ সম্রাট কণিষ্ক – অমরজ্যোতি মুখোপাধ্যায়
কুষাণ সম্রাট কণিষ্ক – অমরজ্যোতি মুখোপাধ্যায়
আনন্দ প্রকাশন ১৩৮/৭, বি. সি. রোড (বেহালা), কলকাতা : ৭০০ ০৩৪ ফোন : ২৪০৪-৩৩৭৩, ৬৪৫১-১৩২২, মোবাইল : ৯৪৩৩৯-৫৪৫৮৭
Kushan Samrat Kanishka
By
Amarjyoti Mukhopadhyay
Published by Ananda Prakashan
প্রকাশক : কৃষ্ণা মণ্ডল
প্রথম প্রকাশ : কলকাতা বইমেলা, ২০১০
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ : সুব্রত মাজি
.
সুবলচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
ও
নদীয়া জেলার
ধর্মদা সেবাব্রতী সঙ্ঘ গ্রামীণ গ্রন্থাগারের পাঠকবৃন্দকে
.
ভূমিকা
কালস্রোতে ভেসে গেছেন কত রাজা-মহারাজা-সম্রাট। তবু তাঁদের মধ্যে মাথা উঁচু করে লুব্ধক নক্ষত্রের মতোই জ্বলজ্বল করছেন ভারতবর্ষের দু’জন সম্রাট—মৌর্য অশোক ও কুষাণ কণিষ্ক। ইতিহাসের পাতায় রয়েছেন রক্তলোলুপ হুণরাজ এটিলা এবং তাঁরই সমগোত্রীয় আলেকজাণ্ডার, চেঙ্গিস খাঁ প্রভৃতি অনেকেই। সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি, তলোয়ারের শক্তি এবং নৃশংসতার কাছে মানুষ শ্রদ্ধায় মাথা নত করে না। মাথা সেখানেই আপনা থেকে নত হয়ে আসে যেখানে রাজা-মহারাজা-সম্রাটেরা মানবকুলের অগ্রগতির জন্য—উত্তরণের জন্য সচেষ্ট হয়েছেন।
সম্রাট কণিষ্ক হয়তো সম্রাট অশোকের মতো গভীর মননের অধিকারী ছিলেন না। কিন্তু বর্বর ইউ-চি তথা কুষাণ রক্ত সমৃদ্ধ এই সম্রাটের যে রূপান্তর ঘটেছিল, তা বিস্ময়কর। তাঁর তরবারি বহন করা হাত বুদ্ধের প্রতি প্রণাম জানাবার জন্য জোড়বদ্ধ হয়েছিল। সম্রাট অশোকের মতোই তিনি তাঁর বিশাল স্কন্ধে তুলে নিয়েছিলেন বুদ্ধের ধর্ম এবং বাণীকে সার্বজনীন করে তোলার গুরুদায়িত্ব। তাঁরই প্রচেষ্টায় রূপ পেয়েছে বুদ্ধের মূর্তি। তাঁরই প্রচেষ্টায় ভারতবর্ষের বাইরে, দেশ-দেশান্তরে ছুটে গিয়েছিলেন বৌদ্ধ-শ্রমণেরা। চিন, মঙ্গোলিয়া, জাপান, কোরিয়া ও এশিয়ার অন্যান্য দেশে তাদের অশ্রুতপূর্ব বুদ্ধের ললিত বাণী ছড়িয়ে পড়েছিল—যা আজও বৃহৎ মানবগোষ্ঠীর অন্তঃস্থল জুড়ে বিরাজ করছে। শুধু এইটুকুই নয়। তিনি পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন দু’টি শিল্পকলার—গান্ধার ও মথুরা শিল্প। তিনি বৌদ্ধধর্মের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মীমাংসা করিয়ে মহাযানী মতকে প্রতিষ্ঠিত করান। গান্ধার শিল্পীরা সৃষ্টি করেন প্রথম বুদ্ধমূর্তি।
পুরুষপুরে (অধুনা পেশোয়ার) কণিষ্ক নির্মিত সুউচ্চ স্তুপের (প্রায় সাতশ ফুট) শুধুমাত্র ভিত্তিটুকুরই অবশিষ্ট আছে। আর পাওয়া গেছে গান্ধার শিল্পীদের নির্মিত ক্ষুদ্র পেটিকাটি, যার মধ্যে ছিল বুদ্ধের কিছু জাগতিক স্মৃতিচিহ্ন। পেটিকাটির গায়ে খচিত ছিল কয়েকটি ক্ষুদ্র মূর্তি এবং অ্যাপেলোর আকারে প্রথম অসিদ্ধ-বুদ্ধমূর্তি! পেটিকাটি স্তুপের মধ্যে প্রোথিত করা হয়েছিল। তাঁর অনন্য কীর্তি—ভারত ও বহির্ভারত মিলিয়ে এক সাম্রাজ্য যা কিনা মোটামুটি পশ্চিমে ইউফ্রেটিস নদী, খোরাশান থেকে পূর্বে মথুরা, উত্তরে খোটান, কাশগড়, ইয়ারকন্দ থেকে দক্ষিণে কংকন উপকূল পর্যন্ত প্রসারিত!
দুঃখের বিষয়, প্রাচীন যুগে যে সমস্ত জাতি ভারতে প্রবেশ করে এই দেশের সঙ্গেই একাত্ম হয়ে গিয়েছিল তাদের ইতিহাসও ধূসরাচ্ছন্ন। পণ্ডিতেরা নিরলস পরিশ্রম করে কিছু কিছু তথ্য উদ্ধার করে সাজিয়েছেন। কিন্তু তার মধ্যেও রয়ে গেছে বহু বিতর্কিত বিষয়। তাই এই উপন্যাস লেখার সময় আমাকে স্বীকৃত মূল তথ্যগুলিকে আশ্রয় করে যুক্তিযুক্তভাবে কল্পনাকে ব্যবহার করে কাহিনিটিকে বিধৃত করতে হয়েছে। আমার কখনই বিস্মৃত হবার সুযোগ ছিল না যে আমি ইতিহাসকার নই—এক উপন্যাসকার মাত্র! পাঠকেরা ইতিহাসের সৌরভ পছন্দ করবেন—আবিলতা নয়।
এই উপন্যাস রচনায় আমি বন্ধুবর ভাস্কর রাহা (ভাস্করদা), অনীশ দেব, অশোক রায়, ড. সুব্রত চট্টোপাধ্যায়, শ্রীমান জ্যোতির্ময় মুখোপাধ্যায় ও অন্যান্যদের কাছে সাহায্য-ঋদ্ধ। পরিশেষে আমাকে সবিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাতে হয় লেখক শ্রী রাহুল দাশগুপ্ত ও দিশা সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক শ্রী অনিন্দ্য রায়কে। তাঁরা তাঁদের শারদীয় দিশা পত্রিকায় (১৪১৬ বঙ্গাব্দ) আমার এই উপন্যাসটি প্রকাশ করে আমাকে গৌরবান্বিত করেছেন।
অমরজ্যোতি মুখোপাধ্যায়
৪, কার্তিক, ১৪১৬ কলকাতা।


Bengali books