কাচের সর্বনাম – শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
kacher sarbonam
A collection of poems by Subhro Bandopadhyay
রচনাকালঃ ২০১০-২০১৩
প্রথম প্রকাশঃ জানুয়ারি ২০১৪
© শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
পূর্বপ্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ
চিতাবাঘ শহর (২০০৯)
বৌদ্ধ লেখমালা ও অন্যান্য শ্রমণ (২০১২)
উৎসর্গ
অনিমিখ পাত্র, অরিত্র সান্যাল, সঙ্ঘমিত্রা হালদার, হিমালয় জানা
কৃতজ্ঞতা
আংখেল গিন্দা, আর্যনীল মুখোপাধ্যায়, সুব্রত সরকার, মাহবুব মোরশেদ, সুদেষ্ণা মজুমদার, সব্যসাচী সান্যাল, অনুপম রায়, সোমনাথ সেন, সাহিত্য কাফে, নতুন কবিতা, যাপনচিত্র, Carmina in minima re, পরিবিষয়ী ব্লগ
ধাতব কবিতা
চিরকাল ডিসেম্বরতাড়িত আমি ফেলে এসেছি ধারালো সুরের মধ্যে মাথা ও নির্ধারণ
কোথায় সনেট থাকে? শান্তিপূর্ণ দূরত্ব ভাষার শরীরে কি আমাদের বসবাস ছিল
?
রাস্তা জড়িয়ে যায় বালিকার ধূসর ফিতে ইশকুল ফেরত মাথা নামিয়ে রেখেছে
এপাড়া তোর ছিল কোনওদিন? এই গলি আশ্রয়প্রবণ শক্ত ভিত
এগিয়ে যাই মগ্ন দেহমন্ত্র জুড়ে উচ্চারণ করি বশ, লালা,
অগভীর নাভির পাশে
এইসব রবিবার সারি সারি সাদা বাড়ি ঘিরে নিয়েছে রাস্তার দৃষ্টি
এরপর পোশাক মেলবি তুই সব ছাদে, কোনও দিন তুলবেনা কেউ
প্রস্তুতি নিয়ে
নিজে কি প্রস্তুত আছো এই ভাঙন সংক্রান্তে
এই শীত ও পাহাড়কামী মানুষের কোন বনিবনার সূত্র
ধরে তুমি এখানে এসেছো
তোমার লেখার ভাষায় জড়িয়ে
ফিকে হয়ে আসা আঙুলের দাগ
বইয়ের পাতাগুলোয়
পুরনো পেজমার্ক ধরে এগিয়ে আসা কোনও আকস্মিক দিনেতিহাস
তিন বা চার মাত্রিক ছবি নয় আসলে ধ্রুপদী রীতির গায়ে দুমাত্রা লেগে থাকে
তোমার ঠেলে বেরিয়ে আসতে চাওয়া পিছনের টান
অথচ নুন ছাড়া আর কিছু নেই ছাল উঠে যাওয়া আঙুলে
অথচ শুধু মাথা নীচু করে বসে থাকা ছাড়া আর কোনও শব্দ নেই পাশে
তবু এই ধাক্কা
ওই তো দূরে কেউ মেলার কথা বলল বলে
শিরা থেকে ১৫ বছর খসিয়ে দেওয়া সহজ, বলো
প্রশ্ন কোথায় নিয়ে যাবে তোমায়?
উত্তর কোথায় নিয়ে ফেলবে এই ওঠাপড়ার বাজারে?
শুধু অভিযোগের আর না-ভালো লাগার কাহনে
তুমি কেন বারবার হাঁটু ধরে ঝুঁকে নিশ্বাস নিচ্ছ দৌড় ?
কে বা কারা এখানে শুধু ভারি বুটের আওয়াজ দিনেরাতে
এখানে শুধু লাল ট্র্যাক ঘিরে থাকে সমস্ত রাস্তা
প্রতিটা মোড়ে লোকে কাউকে না চেনার গায়ে লিখে রাখছে সংখ্যা
যেসব চলাকে তুমি হালকা ভাবো তাদের শরীরে সংখ্যা
কার্ড ও যৌনতাবাহী মেয়েদের দিকে ঘুরে আসে বারবার
অথচ তোমার শুধু ছাল উঠে যাওয়ার গতরে নুন
তোমার হাতে কোনও বই নেই
মেট্রো স্টেশনের ফাঁকা বুকশপের গায়ে শুধু সংখ্যা ও কুহক কাপ
ছেলেমেয়েরা আসে
ছাত্রছাত্রী
সংখ্যা
অভিযোগ তুমি চেটে দেখেছো বলো?
কথা থেমে গেলেও কোনও তাপ আসেনা
শব্দ চটে যাওয়া পুরনো পাতা তুমি কীইবা দিতে পারো?
এখানে অক্ষর মানে ভাঙা কিছু যতিচিহ্ন
শুধু উজ্জ্বল সংখ্যার কাছে মাথা নামিয়ে বসে থাকো
তুমি কি প্রস্তুত ছিলে না
কেনই বা ছিলেনা
অভিযোগ ছাড়া আর কিই বা থাকতে পারে তোমার সংখ্যাহীনতার বিরুদ্ধে?
মাথা নীচু করে দেখ বিশ্বাসী বইয়ের পাতা থেকে কীভাবে
উঁচু হয়ে ওঠে বুনো কুকুর
তাদের শিকার
ভাঙা স্তব্ধতার কাচ গায়ে লাগিয়ে নিয়েছে শীত
আর তুমি কি জানতেনা এই রাস্তাটা চমকপ্রদ নয়
বাতাসকাটা
কাচ ও পাথরকাটা
কুয়াশার শরীরে উঁচু হয়ে থাকা দুর্গ
অপ্রত্যাশিত আক্রমণে বারবার সামলাতে থাকা
চোয়াল নেমে আসবেই
দাগ ও আঁচড়
সেই কবে থেকে জাগারাতের পিঁপড়ে
এসে জানান দিয়ে গেছে মাংসলতা
মাংস ও নুনের পাহাড়ে গাঁথা ব্লেড
আসলে জানা ও বোঝার মাঝখানে থাকে একটা পায়ে চলা রাস্তা
এলোপায়ে ভুকে যাওয়া পেরেককে কি বলে?
কথা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার মাঝখানে
শুধু দাঁড়িয়ে থাকে বছরগুচ্ছ
যারা এখন মেলার মাঠ থেকে বাড়ি ঢুকলো
পুরনো বন্ধুরা যারা মদ খুলে বসেছে
কিম্বা যে ব্যস্ততার গায়ে সংখ্যা লিখে রেখেছে
তাদের একজনও কেউ দাঁড়িয়ে নেই এখানে
তোমার ভিতরে কেউ মরে যেতেও আসেনা
অথচ লেখার শরীরে ফিরে আসা থাকে
লেখা কী
বিষণ্ণতার চিঠিপত্র নাকি দুটো শরতের মাঝখানে
কুয়াশায় দাঁড়িয়ে থাকা একাকী লোকটা?
ধাতব কবিতা
নিজেকে বলি আরও হিংস্র হয়ে ওঠো
গতবছর যাদের সঙ্গে খারাপ ছিলে
এবছর যাদের সঙ্গে আরেকটু নিম্নগামী স্বেদ
জিভে ব্লেড কে রেখেছে?
প্রতিদিন পায়ে জড়িয়ে উঠেছে লতানে রোদ
মাথা নামানো সকাল নয় বরং ঝকঝকে দুপুরগুলো
সারিবদ্ধ কীটনাশকের সামনে মেলে রেখেছে বই
পাতার পর পাতা শুধু বন্ধুদের না লেখা অনুপস্থিতি
তুমি কি অন্য দিকে যাবে?
পছন্দ মত বাসের পাশে অনায়াস নেমে যাওয়া স্টপ
আরেকটু গেলেই গলি গ্রীষ্ম আসার আগে কুকুর ধরার গাড়ি
আর্তনাদ খালি করে চলে গেছে
তুমি দেখ বেঁচে যাওয়া সন্ত্রস্ত জানোয়ার
তার কম্পন
প্রতিদিন বাবার কথা মনে হয়?
আয়নার সামনে অফিস যাওয়ার অনিচ্ছা
না দেখার অভ্যেসে বুড়িয়ে গেল
বিয়োগফল
রুখে দেওয়ার কথা কি ঝাপসা হয়ে গেছে?
নিজে বসেছো স্বর্ণাভ পাথরে
সামান্য রক্তের ছাপ
মধ্যযুগের গায়ে কারা উপুড় করে দিয়ে গেছে দারিদ্র্য
কোথায় থাকবে তুমি ডিসেম্বরতাড়িত?
সামনে কেউ অযথা মুখ খুললে কি তোমার নৈশঃব্দ্য
তার চোয়াল তুবড়ে দিতে পারে আজও?
নিজের শরীরে দাগ, ক্ষত বরাবর উঠেছে বিশ্রামরেখা
কতদূর ভিজে ও শুকনো পাতা ঢেকে দিয়ে গেছে ঘুম
কতদূর চোখ নামানোর মত ভঙ্গি দিয়ে গোপন করেছো
কবুল করা ভুল সমর্পণ
এবং তোমার যোগ ছিঁড়ে গেছে
রক্ত শিরা তন্তুর সঙ্গে
আকুল জ্যোৎস্নার পথে থকথকে জামরুল পাতার
প্রগাঢ় সবুজের সঙ্গে
কী আছে এখন এই দীর্ঘ দুপুরের দেশে?
শুধু কাচ ভেঙ্গে রাস্তা রক্ত হবে
পাথর ছোঁড় না?
অনন্য চামড়া
১
কাচে কাটা পা দিয়ে চলাচল, যেদিকে রেখেছি শীর্ষ তীক্ষ্ণ মেধা ও তার যাবতীয়
ক্ষতচেতনার গায়ে গুমরে ওঠা নতুন অবস্থান, সেখানেই ফিরে আসি
কতদিন বলো পতাকা রাখবো সন্তানের শরীরে কামনার শরীরে রাতে
পর্দা লোপাট করা হাওয়া দেয় এই অক্টোবর এই ফিসফিস নীল
এই উড়োজাহাজের ছায়াহীনতা একে কিসে অনুবাদ করবো পাথর
বা টিলার ভাষা পাশে বসেছে কন্যা তার অক্ষর পিছলোন নিরবতা
২
সাদা শরীরের দিকে দেখা ভিজে গন্ধ শোঁকার আগে মসৃণতা এই কুমারী বাহু এই গমে
ঢাকা নাভিমূল আমি পাথরে লিখি মরুভূমির পাথর আকাশপাথর ও তার আঁচড় না
লাগাতে পারাকে আমি নিরীক্ষা বলি এই গূঢ় মাংসল ব্লেডের সামনে কেন বারবার নামিয়ে রেখছি
নখর ও অন্যান্য উগ্রতা কেন চিরে দিতে পারিনি অনন্য চামড়া এই দেশটাও কি আমাদের?
চৈত্র ও চালতার মোহ
বাগানের কোনও দুপুর নেই
নতমাথা বালকের গ্রীষ্মের শরীর থেকে
ফিনফিনে জামাটুকু যতটা সাদা
পাতার ঘণ সন্নিবদ্ধতা থেকে
ফাটল শিকার করে ততটা আলোক
এই বিকেলের মুখে এসে জিভ রেখেছে
আর কোনও নিরুপায় নেই
শুধু একখণ্ড আলো আর নিস্তব্ধ
জমাট পুকুরে একটা চালতা পড়ল
একইভাবে কাফেতেরিয়ার গায়ে বসি
ধসে পড়েছে কথা বলার ঢং
সামনে শ্রমণ ও তার অবিশ্বাস্য রূপান্তরী অক্ষর
তৃতীয় প্রজন্মে এসে মোহদেশ গেছে মোহপাথর
কোনদিন বদলে যাবেনা ভাবা পাথুরে শহর…
দখল কতটা পারে জানা নেই
তাহলে কি ব্লেডের অপরাহ্নগুচ্ছ ভোলার
জন্য মাধুকরী?
অথচ এখানে বিকেল বলে কিছু নেই
সকাল ও সন্ধে নেই
শুধু ঝাঁঝালো হলুদ সামিয়ানা টানটান
কখনও হাওয়া দিলে সামান্য কম্পন হয়
শরীর এখানেই ঝাঁকড়া হয়ে দাঁড়ায়
মৃতদার পুরুষের ভাষা জানা নেই
শুধু স্টিলের ছায়ায় ভাবি স্পার্টাকাস এক স্থায়িত্ব
একটা পালিশ করা কাঠের গাছ
একটানা বারান্দার বিভাবে জারিত
অভ্যেস ও দেহ
টুকরো করে লেখা হলে আমাদের প্রবণতা
ভেসে ওঠে দুপুরের পুকুরে লাশ
বালকের একক চোখের সামনে
তখনও তিরতির করে কাঁপছে
প্রজাপতি তার আদুড় পিঠে ধরে রাখা কঞ্চিতে
একটাই প্রশ্ন বারবার ফিরিয়ে দেয়
আমাদের এই যে স্নিগ্ধহীন এতদূর নিয়ে এল
এই চৈত্র ও চালতার মোহ
তা কি ধূসরবিরোধী নয়?
ধাপে ধাপে চলে আসি ব্যবহৃত শরীরে
মেদসাদা গ্রীষ্মদুপুরের গায়ে
পুকুরফেরত ভেজা নগ্নতা
পায়ে চলা রাস্তায় কী ব্যাপিত করে ?
এইভাবে আয়নাগুলো ক্ষয়
ধূসর বিম্বের পাশে রোগা গাছ
পুকুর বা জলজ উপস্থিতি বলে কিছু নেই
জ্যোৎস্নায় যেভাবে মগ্ন হাওয়া আমাদের বিচ্যুত
করেছে, সেইভাবে করুণাবিহীন আসা
কল্পনা কোথায় ছিল ভাবি
কেন এইভাবে ছেড়ে আসা
কোথাও কি সুর ছিল
গান তো আসলে স্মৃতি
কেউ কেউ শুনতে গিয়ে নিজেকে গুঁজে দেয়
গানের শরীরে, যেভাবে কাঁচা সিমেন্টের ফুটপাথে
অমোঘ পায়ের ছাপ, শিশু
একটানা পরপর
ফসল কেটে নেওয়া দীর্ঘ মাঠে সূর্যাস্ত তাড়া করেছিল কাল
সিগন্যালে চোখ বুজলে এইসব মনে হয়
প্রশ্ন বা সাধারণ বাক্য নয়
শুধু অসম্পূর্ণতা ভর করে এই মগ্নতারহিত দৃশ্যে
সেই মাঠটাই লম্বালম্বি
একটা বড় খয়েরি দেয়াল জুড়ে
ভাঙা পেরেক আটকে দিয়েছে কেউ
একটা দুটো বেলুনের দেহ
পাথুরে উড়াল
বিশ্বাসই তো বেরিয়ে পড়া
পুরনো সন্ন্যাস অথবা
আমি স্থির ফাতনার অপরে রাখি এই বেরং দুপুর
ভাসমান মজনুর টিলায়
সেই কবে চিনে সেনার তাড়া খেয়ে বেরিয়ে
পড়েছিলেন এই বৃদ্ধ সন্ন্যাসী সুদূর তিব্বত থেকে
পাওয়া কি গেল কিছু?
একটানা চলতে গিয়ে হাতের গায়ে বেড়া লেগেছে
পায়ের দেহে ফাটল বরাবর দীর্ঘ চলনবীজ
শুকিয়ে রয়েছে
রঙিন কেউ কি দিল?
রিবন যেখানে রোদ
একটু পরে অ্যাসফল্ট ধূসর রাশি
পাথুরে পাখি
কে তোমায় নেবে বলো
এখানকার কোনও খেলা বিকেলের স্নিগ্ধতা জানেনা
শ্বাসাঘাতপ্রিয় কবিতা
পাবো এই বিশ্বাসটা থেকেই তো বেরিয়ে পড়া
দীর্ঘ শ্বাসাঘাতপ্রিয় এই প্রস্তরতা ঘিরে
কখনও পুড়ে যাওয়া অফিসবাড়িতে না মেলা মেয়ের মায়ের
ঘুরে বেড়ানো রেলস্টেশান
কখনও সিদ্ধার্থ বা শ্রীচৈতন্য
এরপর তীক্ষ্ণ আমিষ স্টিলের চাদর কে আকাশ বলে ডেকে উঠলে
রিভেট থেকে পেরেকের ঠিকরে ওঠা
উত্তাপের বশম্বদ কালো পাখি
নীল ধ্যাবড়া শিখার তাড়না পেয়ে কোথায় যে যায়!
আমাদের এইসব হ্রস্বদেহী সুরের খোলস
এদের কি গান বলা যাবে?
এরপরই একধরণের ভাষাহীনতার শব্দ ওঠে
পুরনো সমুদ্র থেকে যারা জ্বরের জাহাজে
ফিরে এসেছিল সঙ্গে ভারি ফল
রোগা মেয়েদের দীর্ঘশ্বাস
তাদেরই শরীরে আজ ধাতব আকাশ
একটানা রোদ লেগে ঝলসে উঠছে
পুরনো পাড়া নতুন তৈরি হওয়া চলাচল
এভাবেই বিকেলবিহীন দিন সিল্ক পুড়িয়ে চলে
আসলে বুকের ভিতরে একটা ব্লেড
দেবদূতের ফেলে যাওয়া পালক
অথচ তোমার রংচটা কোবাল্ট নীল
সাইকেল কোথাও চড়া সুর ধরে
একটানা বিলাবল বাঁধা থাকে বিকেল পর্যন্ত
এই যে উত্তাপ এই যে দ্বায়িত্ব পালন
লম্বা বৃষ্টিহীন মাঠে আঠালো সোনালি পর্দার ওপর
যে লোকটা দাঁড়িয়ে রইল তাকে কী বলবে?
ফেরত যাবার কথা
নির্মাণ করে নিয়েছি চলন
উদাসীনতার ফাঁকে ইলেকট্রনিক গান
দমকা টিয়াপাখি
কখনও কি স্পষ্ট হাওয়া দেয়?
দিক নির্দেশক কোনও ধুলো?
এইসব রাস্তাগুলো দিয়ে চিন্তা নিয়ে হাঁটা যায় না
অবরোহন বিঁধে থাকে পায়ে
চকিতে ফেরার পর মনে হয় খেলাগুলো আর নেই
ডাঙায় ফেলে রাখা নৌকা তারা
তাহলে কী বাকি আছে?
একটানা শব্দগুচ্ছ ক্ষয়াটে সাক্ষ্য দেয়
এইসব রাস্তা কি আমি চিনি?
বাড়ি তো সহজ উপমা
তবু চলন্ত ট্রেনে মাছি দেখলে
একধরণের কষ্ট হয়, চাক চিনে ফিরতে পারবে তো?
কেই বা পারে? এলোমেলো ধুলো ঝাড়তে গিয়ে
ফেরত যাওয়ার ব্যাগ তৈরি হয়ে যায়,
মাটি ও বীজহীনতা টানটান প্রস্তুত
এই ছিলার গায়ে ফেরা তো হলুদ কোনও সার্বজনিক ফুল
বিনীত সংঘাতে যাবে,
তার আগে ট্রেনে ঘুমন্ত মাথা লেখে
নেমে যেন বৃষ্টি হয়
উৎসবের নিভৃতি
এইভাবে কবিতাগুলো প্রতিদিন সবুজ ডেলা হয়ে উঠতে চায়
প্রবল মেঘলা ভোরে নিভৃত বেড়াল এসে শুঁকে দেখবে
অথচ আমি তো শুকনো জঙ্গলের সামনে এখন
পাতায় পিছলে যায় রোদ রৌদ্র
কীটহীন ডালের অণ্বয়ে কোনও মাংসলতা নেই
আমাকে নতুন কোনও দেশ দেবে
এই উৎসবের নৈঃশব্দ্য?
শুষ্কতা কি নিঃশব্দ হয়?
ক্রমশ ধুলোর কাছে কর্কশ ব্যকরণ
হাতে পায়ে শুকনো কাটার দাগ
টুকরো রক্ত আমাকে কীকরে দেবে
সদ্য কলেজে যাওয়া মেয়েদের
চুলে খুশকি রোধক শ্যাম্পুর খোলামেলা ভাষা?
চলমানতা
পুরনো সজলতা আসলে পেপার ওয়েটে বন্দি গাছপালা
তীব্রভাবে ভেঙে ফেললেও তাদের স্পর্শ করা যায়না
ভাঙা কাচে মোড়া বিকেলগুলো পল্লবিত শিরায়
নতুন শহরে শীতল পাথর?
এখানে রাস্তাগুলো এলোমেলো হয়না কখনও
সামান্য স্খলনহেতু নিজে ছিন্ন হয়ে গেলে
রক্তাক্ত তালুর গায়ে বয়সের সন্ধি মুছে যায়
এ হাত কি চলন চায়?
চলমানতা কাকে বলব
ছোট দৃশ্যে আটকে থাকা গ্রীষ্মকালীন
সকালের খাঁ খাঁ পার্ক?
নাকি স্পেস চিহ্নের গা বেয়ে
লেখায় চুঁইয়ে ঢোকা
শিখ তরুণের প্রভাতি চুল বাঁধা?
গ্রন্থিবদ্ধ ব্যাংক
অথচ বরাবর আমি পেরিয়ে যাবার কথা লিখেছি
ইনডেন্ট ছাড়িয়ে গেলে পরের লাইনে ভেঙে দিয়েছি দীর্ঘ
কাচ ও স্টিলের গ্রন্থিবদ্ধ ব্যাংক
জাতি-বহুজাতি- দুনিয়ার সত্য স্থির
জলে ভেসে থাকা ফাতনা
এত লঘু নাকি পৃথিবীর ভর
দুপায়ে ছড়াতে না পেরে যে মেয়েটি
দ্রুত চলাচল ছড়িয়ে রাখছে
কোলে শিশু ময়লা পোশাক ও ভিক্ষা
চায়না এদেশ আর
বিবর্তন ও শ্রমবিভাজনের অংকে
ধাতব শব্দটা রোদ্দুর
অর্ধ অণ্বয়
এভাবে নরম পেয়ে কথোপকথনজীবি ব্যাকরণ
আমাদের শরীরে ব্লেড চোরা বা গোপ্তা নয়
যোজন আসলে চোখ বুজলে পুরনো কোনও মাঠ নয়
মাংস খোবলানো ফাঁকা ঘর আর চারদিকে ছড়িয়ে আছে
ছেড়ে যাবার ঠিক আগের বিক্ষিপ্ত অণ্বয় অর্ধ উচ্চারণের
রাগ ও বিভক্তিসমূহ
চোখেমুখে ঝাপটা
কুয়াশার ব্লেডরংবিলাসী জল
ধাতব কবিতা
এইসব কথা নিজের সঙ্গেই গেঁথে রাখা
নিজের ভিতরে ক্রমাগত জ্যোৎস্নায় পতনশীল
ব্লেড ও মৃদু ধাতব আওয়াজের পাশে কান
কতদূর নিয়ে যায়?
হয়ত এভাবেই সময় প্রবাহকে ঘটনা
ভাষাকে ব্যাকরণ দিয়ে তৈরি
নমনীয়তা
বুলেট ঢুকে যাওয়া কাঁচকে
টুকরো হয়ে যেতে দেবার আগে
হাত দিয়ে মৃদু স্পর্শ করি
তপতপে স্পন্দন সেতো অনেক আগের
তাহলে কি ভাষাও ভাঙে?
চামড়ায় বিঁধে থাকে মাতৃভাষার ক্ষত?
অস্বস্তি সূচিত
নিশপিশ করে ওঠে বন্ধুত্ব ভাঙা কাচ
স্তব্ধ মিনারের দিকে সহজ ঔজ্জ্বল্য
আমরা ভেদ করতে পারিনা
অনচ্ছ হলুদ আভা ছন্দ ঠিকরে
ধেবড়ে গেছে ভাষার দেয়ালে – অথচ কত সহজে লিখে ফেলা যেত
কেমিস্ট্রি বইয়ের ফাঁকে লাল পাতা
শুকনো ঝরা ব্লেড
সম্ভাবনাময় শিরা
আমিতো এড়িয়ে গেছি, বলো,
কতদিন তোমাদের সঙ্গে নিশ্চিন্তে বসে
বারান্দায় পরিব্যাপ্ত কফি
মাথা নামিয়ে বসে থাকা পার্কে কোথায় যায়?
এইসব সরু লাইন নিভৃত কুকুর হয়ে
নীলিমা ঔদাস্যে কাকে চায়?
এই দীর্ঘ দুপুর, ভিজে বালিতে গা ডুবিয়ে থাকা?
অতুলপ্রসাদ সেন
এভাবেই বাংলা আসে
পরিচিত মাংসের দোকানের রাস্তায়
আমরা অস্থির হয়ে উঠি বৃষ্টি
অথচ জোরালোভাবে বলিনা কলকাতার রান্নাঘরে
জলের ছাট আসছে জানলা বন্ধ করতে গিয়ে
মা কী যেন ভাবে, ভাবে কি?
গতবছরের রঙে এবছরের শ্যাওলা
গতবছরের রাস্তায় এবছরের খনন
পানযোগ্য করে তোলা একটুকরো বসবাস
এইসবের মধ্যে কী থাকে?
আমার এই নতুন শহরে বর্ষা কম
শুকনো রাস্তায় জল ছড়ালে কি আশ্বিন দুপুর
বাবার অতুলপ্রসাদী শোনার মত ভঙ্গুর হয়ে ওঠে?
অরুণ মিত্র
অথচ লেখাগুলোর নরম হওয়ার কথা ছিলনা
এই সময়ের রোদ সে তো টানটান প্রতিশ্রুতি
– ছাদে লেপ উত্তাপে দিচ্ছে মা
–
ডিসেম্বর তো জড়ানো থাকে মজ্জার স্টিলে
অনুতরঙ্গের সবুজ সময় উচ্ছ্বাসে
তারপর কী?
মরুটিলার ওপর
আক্রমণ করে বেঁটে স্পোর্টসকারের ঝাঁক?
কাঁকড়া বিছে ডুবে যায় বালিতে?
বালি তো শরীর, জেদি লাল পাথর কতদিন
জাগিয়ে রাখে প্রতিরোধ?
পাখির শিকারি ঠোঁট থেকে ঠিকরে পড়ে মাংস
থ্যাঁতলানো লেখা, ম্লান রক্তিম
মুখ ঘুরিয়ে নেবে বলো, ঠিক যেভাবে
বৃদ্ধ মানুষের বিকেলের পার্কে বসে থাকা?
বেরোনর আগের দিন
ফিরে এলে মিথ্যা ও অসীমের মাঝে আর্তনাদের
রেশের মত জেগে আছে পাড়াটা
তখনও কাঁপছে চামড়া, নির্গত শব্দগুচ্ছ
ফিরবেনা জেনে নির্মিত হয়েছে
একটা পার্ক, কেন্দ্রে
কুকুরদিন
এভাবে নিজেদের কী ফিসফিস করি?
শাসকদল নিস্পৃহ মৃতদেহ ফেলে গেলে
শহুরে বন্ধুরা বিশ্বাস করেনা?
জমাট হাওয়ার পাশে শীতল তো আমি চাইনি
শুধু হাড় আঙুলে নিজস্ব বাঁক নিলে
হাত নিজে থেকে কিছু আঁকড়াতে চায়…
সামনে প্রস্তর নির্মাণে একটানা ক্ষয়
বুকের ভিতরে শুকনো রাস্তা আঁচড়ে
কুকুরদিন কী পায়?
হয়ত
সেই প্রস্তরতা খুঁজি এখন কোথাও
শীতের গায়ে জমাট পালকের স্তূপ হয়ে আছে
দূরের শহর… হয়ত শব্দটাকেই প্রিয় ঋতু মনে হয়
প্রিয়তা কোথায় যায়? এখন এই অক্টোবরে
ভেসে যাওয়া দেশে পুরনো গান শুনে
কেই বা রোদ্দুর?
প্রস্তরতা
তবুও সেইসব রাস্তাগুলো সহজে ভেঙে দিতে পারোনা
পাশ কাটানো নোংরায় দাঁড়াতে বলিনা, সামঞ্জস্যপূর্ণ, যখনকার যেমন, পার্কে পেশাদার মালির মধ্যেই তো ছায়া!
ঢুকে যাও, প্যাকেটের মশলা কৌটোয় স্বাভাবিক।
এইসব আয়নায় পারদ ওঠেনা
কেউ কি বলল?
অথচ পাথর ছিল
সমুদ্রের নুন লেগে পিছল মাতৃভাষা
একবারই মুখ থুবড়ে রক্ত শ্যাওলা মাখামাখি
উঠে এসেছিলে ঘরে, পতনকালে কি
আঁকড়ানো পাথরটা ছেড়ে দিতে পারতে?
শিথিলতা ঘষটে সহজেই এসে যেত
শ্রুতি-দর্শ-স্পর্শহীনতা
কে ছিল তখন?
আঁচড় ছাড়া রাতই কি প্রস্তরতা?
ঠিক কি কারণে ফিরেছিলে?
এই বালি ধর্ম ব্লেডের ওপরে
অতিদ্রুত চলে যাওয়া শোণিত ধারালো সাপ
কেন চেনোনা?
কীটনাশকতা
চকিত শরীর থেকে দূরে গিয়ে দেখো
শব্দগুলো জড়ো হয়ে আছে
খাতার পিছনে ভাঙা অভ্যেসের জড়তামাখা
ম্লান গাভী, কুয়াশার কাচ একটানা বয়সের দিকে চেয়ে
তোমারই বয়সী শব্দ নষ্ট কোষ
নগ্ন কলা পেরেকের ঝকঝকে বুননে
নির্মাণ হয়েছে পথ ঔজ্জ্বল্য উদাসে
অথচ সেইসব বইয়ের দোকানে দামি বই
না-ঘুম রাত পার করে অপেক্ষা করত
শহর ফাঁকা হয়ে কোনও হঠাৎ গানের রোববার
মেয়েরাও তো দাঁড়াতো বলো,
এখন ক্যালেন্ডারের পাতা দ্রুত পড়তে থাকে
এই পাতিলেবু বিকেলে, সময়টা ভোগ্য
তার অবিন্যাসে সঁপে দেওয়া
নিজের কীটনাশক স্নায়ুকে তুমি
কতটা দোষ দিতে পারো?
এখন কিসে বিশ্বাস করো?
রেকর্ড-প্লেয়ার-গ্রুভ বাবার দুপুর?
ছড়ানো বাড়িটা থেকে দূরে বসে
সতীনাথ মুখার্জি ভালো লাগে কেন?
কমে আসা স্পেস চিহ্ন, ঘন সন্নবাঁধা
ডাক্তারি রিপোর্ট ছাড়া না কাঁপা স্পন্দন নিয়ে
লেখা কোন দিকে চলেছে?
প্র্যাম
চোখের প্রিয় ধড়ফড় থেমে গেলে কি
একটা উত্তর ভারতীয় গ্রীষ্মকাল শান দেয়?
রাস্তা কুকুরবিহীন ছন্দ ও আঁচড় মেলে
তুমি তো ব্যালকনিতে দাঁড়াও
নীচে ঋতুহীন লোকজন
রঙিন ও যাপন নিয়ে কিছুদূর প্যারাম্বুলেটার পার্ক
স্তব্ধতার স্যাঁতসেঁতে বুক
সচ্ছলতা সবকিছু পারে
বহুদিন বলতে পারছোনা তুমি
পাকিয়ে ওঠা দলা গিলে
কাদাটে ইচ্ছের গায়ে ব্লেড ওই ফেরার মেট্রো
এতগুলো উৎসব হারানো নিয়ে কোথাও
নির্দিষ্ট ঠিকানা
নিরাপত্তা বলয়
শরীর বইছো? গর্ভিনী নিরাপত্তাকর্মীদের ভিড় ঠেলে
এই যে গোঙানি, রাস্তা ৪৮ ঘন্টা গানহীন কাটানো গেল কীভাবে?
পথগুলো ঘুরে আসে জানো, তুমি আবিষ্কার করো
পুরনো ট্যাক্সিওলাদের সঙ্গে দেখা হয়না অনেকদিন আগে চেনা স্ট্যান্ডে
বাঁক ও জটিল মোড়ে মুখ ভাঁজ হয়ে থাকে?
কষ্ট? চকিতে দেখার মধ্যে কাকে খোঁজো? কিছুতেই এড়ানো যায়না
অক্ষরজাত জটিলতা, সারা রাস্তা অন্ধ কবির ঘ্রাণ নেওয়া গোলাপের রঙ
কী দেখতে চাও তুমি? দীর্ঘ একটা পার্কে নির্ভরতা গড়ে তোলা
বৃদ্ধ মুখগুলো? আরবার নভেম্বর ফাঁকা করে দিয়ে যায় বেনচ
সামনে পাতা বরফের ভিজে কুয়াশা হতোনা জানো
সামান্য হাঁটার পর সুপারবাজার পাঁউরুটি বিস্কুট
শুধু টাকা জমাতাম কীভাবে লিখব গাঢ় চ্যালেনজের পাশে যে পাথর
তার আড়ালে অনুভূতিহীন নাচ আমরা দেখেছি
শরীর কি সুর হতে পারে? গিটার কি ফ্লামেংকো নাকি সুর
আঙুলে রক্ত? লতিয়ে নামা সাপ ও বিশ্বাস? দিনে একবার ট্রেন
আসা স্টেশনে পাতা জমছেনা কেন
ধারালো ফল
ভেবেছিলে অবিশ্বাসী এতদিনের রূপান্তর ঘটে যাবে
শরীরে ধারালো ফল খোঁচা লেগে ছিন্নভিন্ন
আমাদের মাথার ভিতরে নামা ভারি ডেলা
থেঁতলানো স্বপ্নজ প্রবীণ স্নায়ু
পোড় খেয়ে স্থিরতা পেলো কি?
আসলে প্রবণতাগুলো তীক্ষ্ণ
বারবার চিরে দেয় আমাদের চলাচল
পাথুরে গলির শেষে চাবেলা বার্গাস
“কাঁদার ইচ্ছে হলে আমার কথা ভেবো”
ছায়াভোঁতা শব্দের নির্মাণ
প্রতিবার মাংসল ইচ্ছে মাথা নামায়
পুরনো হাতের স্পর্শ মগ্ন দুপুরের গায়ে উড়তে থাকা
ঘুড়ির মিনার আমরা ফেলে আসি
ক্রমশ ন্যুব্জ মাথা ও লবনাক্ত স্রোত নিয়ে
উঁচু হয়ে ওঠে রোজ না বোঝা চিহ্নের ঘণ্টা
ঘড়ির কাঁটার ফাঁকে ঘাপটি মেরে বসে থাকা
ধুলো কি স্তম্ভন দেবে ভাবি আমরা
যোগাযোগবিহীন….
এই ধরো যোগাযোগ
যোগাযোগ হয় রাস্তাগুলোর সঙ্গে? এলোমেলো ছড়িয়ে
কতদূর কালোপাথর মিশে আছে ফিকে লাল গলির শরীরে?
কেন আসিস তুই এভাবে মাথা নামানো চওড়া কোমরের চলন?
শরীরে ছড়িয়েছি গম, গমন, আর বাবা মায়ের অফিস যাবার পর
খুলে গেছে বেড়ার মুখ
সাদা সাপের ওপর সামান্য অ্যালুমিনিয়াম প্রতিরোধ
কাঁধ থেকে খসিয়ে দিয়েছে আঙুল
পাখির চোখের চঞ্চলতা ছড়িয়ে রাখা শিহরন
কী থাকে ছোট শহরের নভেম্বরে? কিশোরের খাতা
নোনতা অনুভূতি ধরতে পারে কি?
হিন্দি গানের গায়ে কাঁটাতার রাখা আছে…
না স্পর্শ দুপুর কোথাও কি লেখা যায়
এভাবে পেরিয়ে আসা হয়, মুখ নামিয়ে অভিমুখ বদলের সামনে
পরের বন্ধুদের নিমন্ত্রণ… দেখিয়ে দেবার পোড়া গির্জা
গণসঙ্গীতের জেদ কোথায় কাজে লাগে!
রোগা লোকগুলোর হাঁটা কুয়াশায় কি চোরকাঁটা লেগে আছে আজও?
এই তো গান
জিভে জড়িয়েছিলো তো বেড়া মৃদু অক্টোবর ঠেলে
বেরিয়েছিল দুপুর, সাইকেল ও অন্যান্য সজাগ থাকা
তখন তো নদীর পাশে প্রকৃতির ফেলে রাখা কাচ ও তাঁবু
কারা এসেছিল দূর থেকে? কেন যেন ভেবে রাখা ছিল
গান শুনিয়ে চমকে দেওয়া যাবে… গাইছ ভাবলে এখনও
গতির বেগ বেড়ে যায়… নদীর অদূরে বর্ডার
অথচ কাফেতেরিয়া তখন জীবনে ছিলনা
অনেক পরে কোত দি ভোয়া থেকে নিয়াঙ্গো এসেছিল
গিটার সমেত সেই একই ঋতুর গায়ে বিদেশি শব্দের জোর বেড়েছে
এলোপাথাড়ি রান্নায় কি সত্তার অযাচিত অন্ধকার থাকে?
আমরা তো শুধুই দুঃখকে রূপান্তরিত করতে চাই
আফ্রিকী বন্ধুর লিরিকে বালিকে গান শোনানোর কথা
বেড়া টপকাবে বলে দীর্ঘ সাহারা পাড়ি
আমাদের কোথায় যাওয়া
অন্ধ হয়ে আসে চিহ্নের ব্যবহার
ছেদ যতিহীন কাহিনি বিন্যাসে একটা লোক
শক্ত রুকস্যাক ও কিছু সার্টিফিকেট নিয়ে
লতিয়ে নেমেছে তারবাদ্যে
দুপুর কালো পাথুরে পায়ে চলা গলি
ব্লেডের কথা
সকালের হিমেল এসে ভিজিয়েছে ব্লেড
জটিল ধাক্কার মধ্যে তুমি তো চলেছিলে বলো
এই যে মাটি না পাথর নাকি বোঝা যায়না লালে
তোমার নিয়মিত পদচ্ছাপ
কথা আলাদা হয়ে আসে শরীর থেকে
ছোট শহর ঘিরে রাখা গ্রাম ও অবিন্যাস
কী দিতে পারে তোমাদের?
জিভে জড়ানো ধুলোই তো কিছুদিন আগেকার ভদ্রমহোদয়
তা সত্তেও স্মৃতি নেই শুধু যুগের দাগ হয়ত
চেটে নিতে পারে ভূতাত্ত্বিক
প্রশ্ন করি কয়েক দশক আগেও যে দুবার মৃতদার প্রৌঢ়
তৃতীয় বিবাহ করার আগে নতুন বউয়ের
আত্মার প্রতীকে একটা পায়রা মারতেন
তিনিও কি এই ভিড়ে আছেন
শুধু সংখ্যা বেড়ে যায়
আর আমরা সামান্য গঠনে জুড়ে থাকি,এই চাকা বালিতে
তারপরেই বলি সামান্য চলন টুকু ছোট ডানাতেই থাকে
তাহলে এই যে কম্পন, তা কি শুধুই যন্ত্রণা?
নাকি না উত্তর দেওয়া দীর্ঘায়িত বিবাহ প্রস্তাব
শস্য বা বীজের দোহাই দিয়ে ভাঙা বিয়ে
বিকেলের অ্যালুমিনিয়ামে মেশা শিষে রঙের শাড়ি
প্রাইমারি ইশকুল থেকে ফেরে আজ ২৫ বছর?
আসলে হেরে যাওয়াই তো চক্র বা অন্যান্য জ্যামিতি
আর সেইসব আকারকে পোষ মানাই
কয়েকটা বিশেষ দিনে আর তাও যদি অপারগ হই
তখন এই রিবন পথেরা কোন দিকে যায়
?
উপন্যাস
বহন তো করছই তাকে এইভাবে কেন তাহলে
বারবার নুন ফেলে যাও টেবিলে?
গোগ্রাসে না মন্থরভাবে খাওয়া কী যে
পছন্দ করো – শুধু ছটফট থাকে আর পছন্দবিলাসটুকু রেখে দিতে চেয়েছো
অথচ তোমার কোনও শহর নেই
সর্বত্র অসাড় হয়ে পড়ে থাকে অন্যদের অক্ষর তোমার দিকে – তুমি তো মাড়িয়ে চলতে চাও – কিন্তু ঠেকে যাও ধাতব শব্দগুচ্ছে পা আটকে পড়ার পর
নাকে ঠোঁটে রক্তগন্ধ! তাতেও কি কিছু যায় আসে?
শীতের আওয়াজ হয়ে প্রলম্বিত শ্বাসাঘাত…
তুমি উঠে পড়ো হাতে ব্লেডরংপ্রিয় খাতাগুলো নিয়ে
ফের কেন ত্রস্ত ঋজুতা?
ইতস্তত
এগিয়েছি কুয়াশা রাস্তায় যেদিকে সহজ
ইতস্তত হেডলাইট ছাই
যদিও ভিতরে জানি ব্লেড রাখা
আমি কি আজ তাকে বাইরে রাখব?
ভিজে উঠবে ধাতব নরম তোর ঠোঁট নাড়া
অধর তো ঝাঁকড়া একটা গাছ
ব্যাকরণহীন পাতা বারবার মোচনে
শরীর নাড়ায় তোর
অথচ সেকথা আমি লিখতে পারিনা
পত্রমোচনের ঋতু তো শ্রী রাগ
সে কি দূর বলে মনে হয়
যেভাবে শ্রমিকবউ এই রুক্ষ দেশে
কার্তিক এলেও ভাবতে চায়না শীত
শুধু তাঁবু পড়ছে জানিস, অস্থায়ী আবাসে জুড়ে
এলোমেলো পোয়াতি যুবতিদের চলা
সিমেন্ট ও নতুন বাড়ি
যদিও তাদের মুখ উজ্জ্বল ঘোমটায় ঢাকা
হিমেল কি তাদের মুখ ফেরানোয় আরও জটিল হয়েছে?
প্রচল ভাষা
ন্যাড়া গাছটাকে লক্ষ দেখো তুমি
মার্চমাস পাথরে জড়িয়ে
এভাবে চলার পর বারবার কাচ আসে
ভাঙা শ্বাস কথাগুলো
প্রচলিত
লোকেদের দেখে।
নিঃসঙ্গতা কি আসলে একটা ব্লেডে ভারি পালক?
ধাতব উপস্থিতির পাশে শান্ত পড়ে থাকা
তোবড়ানো লোকটার পায়ে
চলন?
তার ধাতুহীন তামাটে মুখের দাগ হতে পারো কিনা
ভাবো
কখন এসেছো তুমি কীভাবে কোথায়
মিশেছো জঞ্জাল হিসেবে
পাতার ভিতরে কিছু বিত্ত চিরকুটে
হাতের লেখায়
বাজারের দিকে
অথচ তুমি কি নেই?
মজ্জাগত প্রচলনে দূরত্বজ্ঞাপক
একটা রোদ্দুরের ছক তৈরি হয়
কাটাকুটি ফাঁদ ও শরীর
মুহূর্তের স্ফটিক জটিলে
লোকটার হাতে কি মাটির ভাঁজ
জনক রাজার দাগ কোদাল ও খনন লেগে আছে?
অথচ সীতার নামে বারবার ইঁট ওঠে
ভাঁটা থেকে কিছু দূরে আমাদের
পোষ মানা নরমে মিনারে
জলের দাগ লতিয়ে ওঠা একঘেয়ে বিশ্বাস
ব্যাকরণ
বড় বেশি করে ভেবেছো আর্দ্র নভেম্বরের কথা
পেঁচিয়ে গেছে জানুয়ারির কাচের গাছে
ভিজে মাটিতে কি শীত লতিয়ে চলে?
ঋজু পাতায় জলজ ব্যাকরণময়
একটা শব্দ – বাসস্থান – বারবার ঝাঁপিয়ে পড়ে
ছত্রখান করে দিয়েছে চলন
তুমি ফিরতে পারোনা বলে নিজের
অতি সাধারণ চামড়ার দিকে দেখো
সামনের নির্মীয়মান বাড়ির দিকে
মিস্তিরির বউ কি লজ্জা পায়?
সকালের স্নানের সময়ে হঠাৎ বমি পেলো
গমখেতে হলে এমন হত?
এই সিমেন্ট ও ইঁটের পাশে একটুকরো চালাঘর
শাশুড়িও তরুণী কিন্তু ঘোমটা দেয়না
শশুরের তক্তাপোশ থেকে গোঙানির শব্দ
এখনো সপ্তাহে তিনদিন
মেঝের জলদি সোহাগ সে তো গ্রাম বা মেলা নয়
সন্তানের অভ্যাস
বাচ্চা ছেলেমেয়ে দিয়ে ভরে গেছে
সপ্তাহান্ত প্র্যাম কুকুর ও প্রাচুর্য
শুধু কখনই স্নিগ্ধতা না জানা খেলা ঘিরে রাখছে তাদের
তুমি কি এসব থেকে ছিটকে যাও?
শুধু খেলা থেকে ছিটকে আসে রুক্ষ চলন
রাস্তার বাঁকে একটা ভেজা জারুল
পেতেও বুঝি কেউকেটা হতে হয় দূরের শহরে
ভারি পুকরের সত্তা
হাওয়া নীচু হয় আর তুমি দেখো কীভাবে ছাই হাত
রুটি তুলে নেয় এই অস্থায়ী চুল্লিশিবির থেকে
কারা বেরিয়ে আসে? দূর থেকে বাতিল মাঠের গায়ে চেয়ে
কতদিন ভেবেছো এখানে কিছু সত্যি নয়
দূরের শহরে বুঝি সন্ধে হল বাজার ও ঘামের পাশে সত্যি মানুষের
চলাচল, কেন চলে আসে বলো এত লোক বাতিল পেরেকের অতিরিক্ততায়
রিক্ত লেগে আছে চিরকাল রাতের দেহে যেমন অনিবার্য
ভারি পুকুরের সত্তা… অথচ আসা থাকে
বারবার অপরিচিত জানুয়ারি কুয়াশায় ভিজে গেলে দূরে কোথাও
চেনা গান মুদির দোকান ফেরত মায়ের হাতে লতিয়ে ওঠে
বাবার ফাঁকা ঘরের সামনে কি দাঁড়ায় একটু আজকাল?
সামনে ব্লেডের পাতাওলা গাছ সমেত
জ্যোৎস্নার ধাতব ছায়ায় বাড়িটা কি ঝাঁকড়া হয়ে উঠেছে?
আর কেউ রাত করে বাড়ি ফিরবেনা বলে সন্ধেবেলা তালা পড়ে
শুধুই টিভির শব্দে শিহরিত হয়ে থাকে কথোপকথন
চেনা দুর্গ
শহরপিণ্ডটা একটা পিঁপড়ের মত ঢুকে আসে শিরায়
আলো নেভা সামান্য ছটফটসহ…
অথচ শব্দটার সঙ্গে অপরিচয় ছিলনা
ভাষা যে একধরণের প্রকাশ্যে স্তন্যদানের বাধ্যতা – তাকে আবডাল দিতে চাইছো তুমি!
চেনা দুর্গ প্রতিরোধ বা অন্যান্য কাচের পাশে
দেখো তুমি তাড়া লেগে – কেউ ডাকবে উঠে যেতে হবে – শব্দের উৎসে যেভাবে অকস্মাত রক্ষণীয় কবিতা রাখো
মেঘহীন শহরে তুমি বাড়ি বদলাচ্ছো
দেয়ালে ব্লেডের দাগ চেনা পিঁপড়ে
তোবড়ানো গানই কি একটা স্মৃতিমুক্তি নয়?
দশকে ডুবে থাকা বাবা এলোমেলো লং প্লে
রেকর্ডের স্তূপে বারবার সতীনাথ মুখোপাধ্যায় খুঁজছে কেন?
ধাপ ও বিন্যাসে
অথচ তুমি তো সন্ধানে এসেছো
কাচে জিভে ব্যবহৃত ট্যাক্সির পাশে জেলা ও সংলগ্ন শুখা
ধাপ ও বিন্যাস জুড়ে কাকে ডাকে?
শিকড় বা ওই জাতীয় কোনও এবড়ো খেবড়ো পরিভাষা নয়
তোমার যাবার পথে বিশ্বস্ত কুকুরের নমনীয়তায় কিছু
পুজো সারা হয় গ্রাম্য পুরোহিতের বিশ্বাস সমেত
তারপর কোথায় লুকিয়ে করোরেখা
রুগ্ন জমি আবাদবিহীন ফেরিওলা আক্রমণ শানায়
শহর জুড়ে উন্মুক্ত চোরা ও গোপ্তার পাশে ব্লেডঋতু
সর্বনামে দ্রুতি
জন্মদিনের লেখা
এভাবে সহজ ভেঙে পড়াগুলো লক্ষ করো
দুলাইন ফাঁকা রেখে সামাজিকতার গন্ডি কতদূর নিয়ে যাবে?
সামাজিকতার কাচ সামাজিকতার মত বিশ্বস্ত বাক্য উদ্বোধন
ক্রমশ লতিয়ে ওঠে তোমাকে ঘিরে, লেখা ঘিরে
পেঁচিয়ে যায় অকস্মাত জন্মদিনে গরম হাওয়া দেখে নেওয়া
ইসমত চুঘতাই মাথা একা গল্প
অথচ তুমি কোনও উত্তর পাওনা, কেন ভাষা নেই
কতদিন এইসব বাসনকোসনের অণ্বয়
আর পাথুরে রাস্তার গায়ে ছায়াহীন শীতবস্ত্রের কথা…
দেশ থেকে দূর আসে, গান বা সহজ নয়
নিজেকে উপহার দাও বাড়ি ফেরার মুখ
নতুন মিস্ত্রির দল, তাদের গোপন নারী
স্তূপাকার গ্রামীণ উৎসব
উপস্থিতি বিষয়ক
ভাস্বতীকে
১
ভাঙা নয় তবু কাচে ঢাকা ভিজে ঘাসের রাস্তায়
হাঁটছি আমরা, কেন মুড়ে রাখতে হয়
প্রশ্নচিহ্ন কমে আসা
বিকেলের গায়ে জমা হিমেল…
শব্দহীন গিয়েছিস তুই
তোর জায়গা নিয়েছে শান্ত
আর তোর নাম নেই কোথাও
শুধুই উপস্থিতি
২
নামে ঢুকিয়ে দিয়েছি আয়নার ভাঙা টুকরো
আর কোনও সন্ধান নেই
উত্তর বা দিকনির্দেশ
এ পাথর কি যথেষ্ট নিজের জন্য?
শুধু গ্রাহক তুমি
উপস্থিতির না থাকা…
৩
তোর মুহূর্ত জমে আছে বাকি সময়ের গায়ে বাষ্প
বছরের বাইরে শুষ্কতা বা জুলাই
কিছুই নয় সামান্য পুরনো খাঁচা
বের করার আগে শ্যাওলা তুলেছিলাম আমরা
স্বাদ নয় খাদ্য আহরণ করি
অকস্মাত বড় পশুর আগমণে
পাখির ঝাঁকের বিক্ষিপ্ততায়
রাস্তায় আয়না বহন করছে লোকে
শুধুই শোনার জন্য বেরিয়েছিস
৪
যদিও আতঙ্কটা তোর নিজের
চোখ কেবল বিম্ব চেনে
দৃষ্টিভঙ্গি তো স্বাভাবিকভাবে অন্ধ
তোর চোখে নিজের বিম্বহীনতা দেখার ইচ্ছে
লতিয়ে উঠছে লোহায়
ব্লেডলিখিত
ক
আস্থা বা সহজাত ছিঁড়ে এসেছি
মাকড়সার জালে রোদ ও ভিজে শিউলি
কুড়োতে গিয়ে হাতে লেগে যাওয়া
কয়লার গোলার দাগ কোনওভাবে
ফিরবেনা জেনে নিজেকে ছেড়ে দিচ্ছি
বাক্যে
নির্ভার দাঁতে দাঁত কল্পনাবিহীন দিন
সামান্য স্টিলের নখ বেঁধানোর কথা ভেবে দিন যায়
নিজেরই পুরনো রক্ত সামাজিক মানুষের সাদা টিসু কাগজে
খ
প্রাত্যহিক পাথর ও আমার টানটান ছিলা
কুয়াশা বস্তুত নরম কালো শরীর কোঁদা
যোনিতে আমি জিভ নামানোর ছলে লালা দিই
ব্যাকরণই আসলে লেহন
এই করতলহীন হাতে ভিক্ষার সামগ্রীও নেই
সামনে শুধু তীব্র হলুদের মোহে
নিভাঁজ চৌখুপ্পি নির্মাণ হলে তাকে দুপুর বলি
তার গায়ে শুকনো গ্রীষ্মের দিনে
একাকী হিংস্র পশুর চলন বসাই
গ
ভারি কলমে চাপ দিয়ে লিখি ‘হিংস্র’
আসলে ফোটেনা
শিশুর হাতে টুকরো হয়ে যাওয়া পতঙ্গ
অথবা যন্ত্রণাকাতর মেরুদণ্ডে চিত হয়ে লেখার খেলা
বসতে না পারার মধ্যে যে দাঁতে দাঁত ঘসা
পরপর তৈরি আকার যাদের দিন বলে ডাকলে
একটা অভ্যেস জুড়ে যায়
জিভে ঠোঁট নিজের লালা
শরীর বাঁকিয়ে যে হাত নিজেরই লিঙ্গের কাঠিন্যে ঘোরে
সেখানে করতল পাতি শব্দ!
বীর্যপতনের ঝাঁকুনির সামনে
শুধু পরপর কালো আকার হারানো মেয়েশরীর
আর তাদের শ্বতাঙ্গ রমণ
ঘ
একটা মাংসল সন্ধে চাইছি
ক্রমাগত লালা ও জিভের মধ্যে জাগিয়ে রাখা
না সামাজিকতা – অথচ বারবার ফসকে যাচ্ছে
গঠিত হচ্ছে সুড়ঙ্গ ও একান্ত
পরপর আয়নায় ঢেকে যাওয়া দুপুরের পর
অনায়াসে শিথিল বিকেল
অথচ যে জোরের সঙ্গে আঁকড়ে ধরছি কলম
যেভার নেমে আসা উচিত ছিল স্বাভাবিক কামড়ে
স্তনে বৃন্তের খেলে যাওয়া কুঞ্চনে
সেগুলোর প্রতিশব্দ নরম এই ন্যাকা ভাষায়
বারবার লেখা ও না লেখার মাঝখানে
একটা ন্যাড়া পার্ক তৈরি হয়
সামাজিক মানুষের সিঁড়ি দিয়ে চলে যাওয়া
নিভৃত বেড়াল এই বাক্যবিন্যাস
আদতে কয়েকটা পাতা মাড়ানোর
পিকনিক শেষের ভিজে ডিসেম্বর বিকেল
বস্তুত
কিস্যু না করতে পারার গায়ে থেমে থাকা
বাবার ছবির দিকে
ঙ
অক্ষরের গায়ে লিখি হাঁস
তারপর মধ্যরাত ও যাবতীয় ফ্লাইওভারের অঙ্কে
ট্যাক্সি ও সঙ্কেতবাহী শরীর কে আটকে রাখে?
যাবতীয় না যাওয়ার মধ্যে একটা কাগজ থাকে
বাক্যের ভারী গঠন সচেতন করে দেওয়া বদ্ধতা
সীমার গায়ে সুরক্ষা এঁটেছে কেউ
এই করতলবিহীন হাত কাকে ছোঁবে?
স্পর্শ তো আসলে একটা ভয় পাওয়ার পরের উষ্ণতা!
একটু পরে চলে যাবে বাবা-মা যাবতীয় শৌখিন কাচ
সামনে গেলেই উঁচু গাছ উপরের দিকেই
শুধু বরফের রজনী গন্ধ
পরক্ষণের কারুর সঙে কথা বলা,
সামান্য খিস্তির লঘু চলনে ভেসে আছে
ফাতনা ও থাকার টান
বন্ধু ও যুদ্ধ বিধ্বস্ত কোনও দেশের কথা
চটপট উত্তর লেখার চিঠি সব দূরে…
কে আসবে সেতুতে?
চ
যতটা কাঠিন্যে ট্রিগারে হাত সেটা আমাদের ধাতে নেই
যে বন্ধু গুয়াতেমালা থেকে ইমেইল এ লিখল
“আমাদের ৮০% পরিবারে কেউ না কেউ গৃহযুদ্ধে মরেছে”
তার জবাবের ভাষা নমনীয়
যোগ্য অভিধানহীনতায়
আমি তার ভাষায় উচ্চারণ করি গেররা
মাঝের ‘র’ এ জোর দিয়ে শ্বাদন্ত চেপে
তারপর বলি যুদ্ধ
জীবনে না দেখার ফলে জোর পাইনা
সারা যাতায়াত শুধু দস্তানা পরা লোকের হাতে কারনেশান ধরা
শুধু আয়না/ স্নান করবার ছল
দেখেছি ব্যর্থতা আমাদের গৃহকর্ম নিপুণ করে তোলে
অনুপস্থিতির দিকে
আমাদের বৃষ্টি শক্ত হয়
কথা বলি বীজ ভিজিয়ে তোলার বাইরে
ভাষা জিরোনর দিকে
তোমাদের দিকে বেড়ে ওঠা প্রতিদিন আমি বেরোতে চাইছি
বলতে চাইছি এই থাকাটা একটা বিজ্ঞাপন বিরতি হোক
এই প্রাত্যহিকতায় আঁতকে ওঠা শহর
এখন আর পালক নেই
ঘাসের ওপর গড়িয়ে যাচ্ছে ধাতব বল
আমি তোমার সঙ্গে বলছি
তোমার নিটোল সন্ধে আমি না বুঝে বিষিয়ে দিয়েছি
অথচ তুমি শুনছো চুপ
তোমার গানগুলো ভেঙে দিচ্ছি
সন্ধের শরীরে বেড়ে উঠেছে ভাঙা লং প্লে
সুরের একটা ভ্রান্ত খোল আমার ভিতিরে ঢুকে এসেছে
কিছু নোটপত্তর তোমার সঙ্গে তবু ছড়িয়ে থাকছে নৈঃশব্দ্য
আদতে কথা মানে কি প্রজন্ম? নিজের সময়ের দিকে আগল খুলে দেওয়া
বিকেল বন্ধুর বাড়ি শিরদাঁড়ায় ম্লান হয়ে থাকা কোনও আলগা রসিকতা?
আমি বুঝিনা কেন তোমার সময়ের দিকে একটা বই ভেসে থাকে
আর আমাদের বাড়ি ফেরাগুলো ঘিরে থাকা ভেজা পাখি
পরপর না জোড়া রাস্তা অযথা যুক্তাক্ষরজ্ঞান
ভায়োলেন্সগাছ ভায়োলেন্স পান্থশালা
তোমার শোনার কথা মনে করি
পরপর ফিসফিস ভাবি পুরনো কাগজ ছিঁড়ে
পেজমার্ক করে রাখা কোনও সামাজিক বই
তার সামনে তোমার মাথা নাড়া
পরপর তৈরি হওয়া স্বরলিপির বাক্স
বাতিল সুরের দিকে ভেঙে আসা দিন
পুরনো হলুদ পাতা হাতে নিয়ে তুমি কী ভাবতে?
এভাবেই লাউসবুজের মধ্যে দিয়ে এসেছি
উপনীত শব্দটাকে পুরনো সংস্কার থেকে দূরে রেখে
আনত গানের হারানো ইপি রেকর্ড বা দোতারা সমেত
ভিক্ষাজীবি
এই দুপুরই তো সত্তা বারবার নম্র নির্মাণের পথে ফেলেছে শীত
নস্যি চাদর গায়ে দেওয়া বাবার জন্য বিকেল ৩টের চায়ে
গীতা দত্ত কতটুকু উদ্বেলতা?
আর খুঁজিনা। ভিন দেশজ গ্রীষ্মহেতু খসে গেছে যাবতীয় শীতকাঁটা
শুধু সামাজিকতার লোভ একটা ফ্লুরোসেন্ট ফিতে রাখে
রাতে বাড়ি ফেরায় কে দেখে চলার কথা ফেলে রাখত আলগোছে
এই বেরনো এই নিঃশব্দ ছুরি চলা ধৈর্য তো আসলে আনাজপাতি
বর্ষা এলে মেলে দেবে বছর দশেক শ্বাসাঘাত
স্বর জোড়বার আগেকার বর্ণ বা লিপি
তোমার ক্যাসেটের ফিতের রঙের বিকেল এই আকারহীন ছাতে
আমি মাথা তুলি, তোমার সঙ্গেই তো সহজে কথা বলা যায়
এই যে ভারি সুর চুপ করে সান্নিধ্যযাপন কোনও বর্ষার সন্ধেবেলা
আমি তো তোমাকে ফিরিয়েই দিয়েছি
অপেক্ষা করেছি কখন তুমি ঘর থেকে বেরোবে
তুমি কি বুঝেছিলে বৃত্ত সম্পূর্ণ হয়েছে
বাতিল শব্দটার ওপর ঘষে দিয়েছিলে আব্বাসুদ্দিন আহমেদ
মনে হয় বেরিয়ে আসাই শ্রেয়
একটা করে মাংসপিণ্ড স্পর্শ করি আর
ঠিকরে আসার রাস্তাটা হারিয়ে যায়
এখানেই চোরাপথ ধর্মে যায়
তুমি বলে উঠতে হয়ত
তোমার মাথায় একটা বীজক্ষেত কাজ করত
বাড়ি ফেরার পথে একফালি কর্ষণ যোগ্যতা
তারপরেই তো জট ছিল তাইনা?
তাহলে ওভাবে মাথা নাড়তে কেন?
কেন আবহাওয়ার খবর এত মন দিয়ে শুনতে?
ক্যালেন্ডারে শতক বদলানো সহজ বলো
বিশেষত যেসব বছরের পাতায় শ্বাপদের ছবি থাকে?
অথচ আমার ঘুমে শুধু একটা ভারি যন্ত্র
চিন্তাশক্তির পিছনে একটা শুকনো লাঠি
আয়নাওলা বিরাট ঘর
দূর থেকে কথা ঝাপসা একটা ভাষা
কোঁকড়ানো চুলে আঙুল খেলার প্রজাপতি
এরপর তো বইহীনতা
সপ্তাহ দিয়ে ঠেসে রাখা একটা সুড়ঙ্গ
নিজেকে ছাড়ছি অথচ ফিরে আসছি
শুকনো দৃষ্টি দিয়ে ভরা থলি হাতে – কোথাও সময় নেই কোনও
আমার ক্রমাগত বেশি কাচে ঢেকে যাওয়া
ঘড়িতে জল দেখছি
রক্তে একধরণের বেতের ঘুনি
খিচুড়ির হলুদে মিশে থাকছে জাগরণ গল্পমালা
আমি কি জানিনা চিন্তাশীলতার পিছনে কোথায় সুর?
কিন্তু তোমার সঙ্গে কথার সময়
শুধু ময়লাটে সাদা জামায় অভ্যস্ত মুখ
ভাঙা ক্ষয় না কর্ষণ বুঝিনা
দীর্ঘ একটা দুপুরস্তম্ভ এই আস্ত মাঠ
কাদা লেপটানো ফুটবলের গন্ধে তৈরি হওয়া বুঁদ একটাই দিকে যায়
তোমার দাগিয়ে পড়া কিছু বই
যা তোমায় চালাক হতে দিলনা
ভূগোল তো আসলে তোমার পাখি বা খাঁচার প্রচলন
দেবব্রত বিশ্বাস চৈত্রপবন কিন্তু শব্দহীন সাদা
কিছু সমবয়সীর ঘরের কংক্রিট অথবা নিবিড়তায়
স্পন্দিত হচ্ছে অন্ধকার সুন্দরবন
সন্ধের মুখে কেউ খবর দিল বুঝি নৌকা নিয়ে কারা ফেরেনি
এই ধুলোর গাছ এই কাচের কাটা ডালপালায় নির্মিত
অসুখহীনতায় তুমি কি গ্রাম খালি করা দেখেছিলে?
কয়েকটা ঘরকে বাসস্থান বলে বুঝি রক্তের দাগ দেখে – সমসময় কী?
আমি দেখি কয়েকটা বাক্সের মধ্যে নির্মীয়মাণ ভাষা
কয়েকটা বিধেয়হীন ক্রিয়াপদ তীক্ষ্ণ মাত্রায় আটকানো
শেষ আর্তনাদ থামার পর গলিতে তখনও গুঞ্জণ
একেই কি থমথমে বলে? কোথাও সেতু ভাঙেনি
তাই সুর অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ
নিরবিচ্ছিন্ন আমাদের বিশেষণ প্রবণতা
আমার ভাষা কি সমবয়সী পুরুষটির সন্তানের দিকে চেয়ে
চোয়াল শক্ত হওয়া ধরতে পারে?
সন্ধান ছিল চৌপর্ণ এলাচ পাতার দীর্ঘ বৃষ্টির জাঙাল পেরিয়ে
সদ্য গজানো বাঁশের তেড় পায়ে ছড়ে যাওয়া হাতে লাল ছোপ
তবু একধরণের বিশ্বাস – হাতে পায়ে মাখা দুপুর আমি তোমাকে দিতে চেয়েছি
আমি শিশু, বালক, আমি কিশোর অব্দি – বহুদিন না দেখার পর
যেভাবে প্রথম বীর্যপতনের কথা অপ্রাসঙ্গিকভাবে
তখনই তো শুরু বধিরপর্ব
শর্টওয়েভ তখন শুধুই প্রাচীর পতনের কথা বলেনা
আমরা পেরিয়ে আসছিলাম লালচে প্রদেশ
আমি পেরিয়ে আসছিলাম তোমার নির্মিত চৌখুপ্পি
দারুচিনির গন্ধে ভরে ছিল সমস্ত রঙ
এলাচ রঙের বাড়ি ফেরাগুলোয় এখন আর গন্ধ নেই
শুধুমাত্র অনেক মানুষের নিশ্বাস নেবার জায়গাকেই
নিরাপদ মনে হয়, ছটফট করে উঠি নৈঃশব্দ্যের চেয়ে
কম ট্র্যাজিক কিছু পাবার জন্য
ভিডিওর নারী শরীরের চেয়ে কিছু বেশি
দাঁতে দাঁত হস্ত মৈথুনের চেয়ে
এরপর লিখব ভাষার একটা নৈশঃব্দ্য থাকা দরকার
আর এখানেই মনে হয় ব্যাকরণ আসলে একটা দরকারি সমাধিক্ষেত্র
প্রতিনিয়ত কথা আর এই অচেনা বর্ণমালা
ধাতুজনিত ক্ষয় লেগে এই যে আকারহীনতা
সর্বব্যাপ্ত আচ্ছাদন
মাথার পাশেই পড়ে রয়েছে শিমূল
দরজার সামনে গজিয়ে উঠছে ঘাস তবু কেউ মাড়াচ্ছিনা
একটানা দৃশ্য নির্মাণের মধ্যে একটা অনুজ্জ্বল রঙের পাড়া
অথচ আমরা শুধু ভারি জুতোয় পিষে দিচ্ছি সর্বনাম
শুধু বিশেষ্য আর বিশেষণে ভরে থাকছে বিনিময়
এটাও কি তোমার ছিল?
কোথাও কি দমকা একটা ডিসেম্বর এসেছিল
পাথুরে রাস্তার পাশে একটা সাইকেল
হারিয়ে যাচ্ছে তীব্র ইয়েলো অকারের মধ্যে
অথচ তাকে কিছুতেই ফেরানো যাচ্ছেনা প্রিয় পাতার দেশে
পরিচিত গানগুলো কি আসলে সংস্কার?
কেন তাহলে পিচবোর্ডে ঢেকে যাচ্ছে শ্রবণপথ?
আর কেউ কি হাঁটবে না শিশির ও নভেমবর ক্রমাগত
স্পন্দন বলবে মিথ্যে
পাথরের গায়ে
আমার মস্তিষ্ক
ফ্যাকাশে হাতের মাংস কাচে চাপা সাদা দুপুর!
তোমার সামনে চৈত্র ছিল দলবদ্ধ ভক্তি
বা কারুর আপনমনে সন্ন্যাস নেওয়া
দুপুর একটা পর্দাঢাকা গাড়ি
গরম আটকাতে সব জানলা বন্ধ
কেউ কোথাও বালকের সামনে নিজেকে উন্মুক্ত করছে
বালক তার স্ত্রী লিঙ্গ স্পর্শ করছে
বালকমাথা তার সম্পূর্ণ দেহ দেখতে চাইছে কেন কোনও ব্যাখ্যা পাচ্ছেনা
ধু ধু মার্চ মাস সুরের ভিতরে আসছে একটানা রেওয়াজ
একটা কাচের ঘর স্নান ফেরত মায়ের বয়সী স্ত্রীশরীরের সামনে
ফের বালক, ফের তার বাতাসকে ভয় পাওয়ানো চোখহীন মুখোশ
এই আস্ত প্লাইউড দুপুর
পরতে পরতে ফাঁকা খেত…
শেষবারের মত কেটে নেওয়া
মাথা তুলি
আর কোনও বড় দৃশ্য নেই
চকিত শব্দের ঘোরে পায়রা উড়ে যাওয়া নেই
পরপর কংক্রিট পড়ছে শিশিরে
পরপর ইঁট এই বৃষ্টির ওপর
কিশোর ও আশ্বিন
সকালটা উপহারে পাও
এই ট্রেন এই খল বাক্স ভেঙে বেরিয়ে
এক কিশোরের দিকে যাওয়া সামান্য বিশ্রামে
সে তোমার স্বামীর জন্য নির্বাচিত বিষের কৌটো দেবে
সেটাই স্মারক
তারপর ভেসে থাকা না বৃষ্টি ছাতিম জুড়ে বিকেল বিছোনো
নম্র উঠোনের দিকে নিয়ে যাবে সে তোমাকে
পরিচিত নদী বা পাথরের সঙ্গে কিছুতেই আকাশ মেলানো যাবেনা
শুধু তাস পড়ে থাকবে কেউ খেলতে জানবেনা
এ কেবল অন্ধত্ব
বাতাসের ফিনফিনে স্পর্শহেতু
প্রথমবার এতদিন বাদে তুমি একতারা দেখছো
নীল শুকনো কুয়ো সিমেন্ট বাঁধানো পায়ে চলা
শরীরের প্যাঁচ দেখছো তুমি
যে সব কথা বস্তুত বলা যাবেনা
তারা আসলে অসুস্থ পাখি পালক সারাক্ষণ ভিজে
কী আপ্রাণ রোদে শুকনোর চেষ্টা
তুমি কি এবারও মাতৃভাষাহীন আশ্বিন লিখবে?
*
কাচের সর্বনাম
সর্বনামে বেঁচে থাকা…
পেদ্রো সালিনাস
১.
এপ্রিলের গায়ে বিঁধে রয়েছিস, ভাঙা গান
সহর্ষ কাচ এই সকালের পতনশীল প্রস্তরতা
তোকে মুক্ত করে গন্ধ যা আসলে ভাত ফোটা
এর ফাঁকে বিস্তৃত সূর্যোদয়ের দাগ বরাবর
সুর তৈরি হয় বেঁকে ধাতব বিন্যাস জাগলে ন্যাড়া গাছে
চিবুকের ছায়া মাংসখণ্ড ছুঁড়ে দেয় কার দিকে?
কেন বারবার অস্থায়ী শিবির লক্ষ করে ব্লেডের পালক ওড়ে
বিলাবলে তীব্র হলুদের গায়ে বাঁধা থাকে…
জানিয়ে দিস পুরনো গানগুলো কি আজ
একলা পড়ার চিঠি হতে পারলো?
২
অথচ এইভাবে তুই নীল একটুকরো বকুল হতে পারতিস
প্রাচীন তীর্থের পাশে ম্লান একটা কাপড়ের দিকে
তোর ওই নির্মিত চলনগুচ্ছ – বারবার কাচের মেঘে মিলিয়ে যায়
দৃশ্যত রঙিন
পুরনো ভাষা মালতি স্তব্ধতায়
যে বিকেল ভেসে রইল সে কি একটা নিক্কণ মাত্র?
গড়ানো উপত্যকায়
ভেড়ার চলনে পাওয়া গোল ঘন্টাধ্বনিই কি এই অপেক্ষা?
এপ্রিলের গায়ে বিঁধে রয়েছিস, ভাঙা গান
৩
তোর গানের কাচ জমে ওঠে বাতাসে শুষ্ক বীজ
নদীর সহজ ধাপে নেমে গেছি পুরনো ভাষার দিকে
যেভাবে অবগাহন
অশ্রুত শব্দকে আমরা বৃষ্টি বলি এশহরে
বাদামী আলোয় পুঞ্জ হয়ে থাকে বাড়ি ফেরা
ধুলোয় জমাট পিয়ানোর ধ্বনি
না শোনার দীর্ঘদিন স্তম্ভ করে রেখেছে সুর
লং প্লে বসন্ত মানে তো নরম শচীনদেব
সুরে পরিচয় একটু দূরে ভ্রষ্ট করে দিবি
অথচ এইভাবে তুই নীল একটুকরো বকুল হতে পারতিস
৪
তোর পাশে ভাষার স্খলন রাখি
জিভে জড়িয়েছে স্থানীয় দমনগুলো
পাথুরে বিন্যাস
বারবার ধাতব পাপড়িগুচ্ছ ফিরে আসে অপেক্ষায়
সকাল গভীর হলে লক্ষ করি শুকনো আঁশ
পড়ে আছে হাওয়ার শরীরে
অথচ সাক্ষাত মানে আবেগ না লিখতে পারা
অন্যভাষা ভিন শব্দ ঘিরে ধরা যাতায়াত
তালুর মাঝখান জুড়ে কতবার ছড়িয়ে থেকেছি
না দেখা আগুনে
তোর গানের কাচ জমে ওঠে – বাতাসে শুষ্ক বীজ
৫
আসলে পুরনো কয়েকটা কথা পুঁতে রাখছিস
নুন বা সমুদ্র নয়, হলদেটে নীলের এই দেশে
সামান্য বাষ্পও নেই – ন্যাড়া এপ্রিলের গায়ে
দেশ কেন বা কোথায় যায় সেই নিয়ে কথা
গুঁড়ো হয়ে পড়ে থাকছে ছেড়ে আসা কফির টেবিলে
অথচ এখনও তার স্বাদ মিষ্টি
অথচ কিছু সন্ধে বলাই যাচ্ছেনা এই অচেনা ভাষায়
জমে ওঠা পুরনো রাস্তার পাশে একই সাইকেল যায় কি এখনও?
বন্ধুরা যাবার পর সহজ বিকেল গলা
রবারের ম্লান গন্ধ ঘিরে নেয় আমাদের
চুপ করে থাকা
তোর পাশে ভাষার স্খলন রাখি
৬
অথচ আসিস না তুই নিমে নীড়ে মুহূর্ত
শিকারি
পাখির শরীরে ব্লেড বেড়ে ওঠে আকাশ প্রতীকে
চেরা সবুজ, ব্যবহৃত পশু এই কৃত্রিম বাগানে
সাজানো অপেক্ষা তো একটা আয়না
উন্মুক্ত প্রান্তরে তাকে বসানো হয়েছে
সামনে মাটি শক্ত নাকি?
রংহীন ধাতব শ্বাসাঘাতে
আসলে পুরনো কয়েকটা কথা পুঁতে রাখছিস
৭
লাফিয়ে উঠেছে পুরনো পাথর ঘিরে বাঁচা
স্পর্শে কোনও অচেনা শব্দের বশ
আমাদের তুক করে, যদিও আমার
এই ভাষাগত নীল কিছুতেই অজানা নয়
বরং দৃশ্যমান মাছের জ্যোৎস্না
দূরত্বজ্ঞাপক কোনও ব্যাকরণ ফেলে রাখে
ছককাটা কথাবার্তা বেশিদূর এগোতে পারেনা
রোজকার খাবারে জিভ যতটা নন্দিত
অথবা চলনে শরীর মিশিয়ে রাখা, অন্য জিভে কাচ লালা
বারবার উন্মোচিত হয়ে যায় পরিচিত পোশাক ও স্খলন
অথচ আসিসনা তুই নিমে নীড়ে মুহূর্ত শিকারি
৮
গন্ধ ঘিরে নেয় দৃশ্য অব্যর্থ শক্তিতে
মৃদু স্পর্শে উন্মোচনের কথা ভাবি
কীভাবে ছোঁয়াবো হাত ধাতব গোলাপে?
আরেকটু এগোলে কাচ বারবার
অস্পষ্ট করছে তোর শরীর
তার বিকেলের হলুদ রং পাথুরে বিন্যাস
কেন ডুবে যায় নিভৃত পায়ের ছাপ
এই ন্যাড়া গাছের পার্কে
কিছুতেই কেন তোকে বসাতে পারিনা
এই নরম হয়ে আসা হর্ষে
পরিচিত গানের পাশে
এখানকার নীল তো তোর নিজস্ব বাগান
লাফিয়ে উঠেছে পুরনো পাথর ঘিরে বাঁচা
৯
তুই আসিসনি বিশ্বস্ত কাচের রাস্তায়
সামান্য উপহারের নাচ ছিল
না থামা শরীর ঘিরে মৃদু কম্পনের
ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা স্বরক্ষেপ…
আরেকটু পরেই তুই মেলে দিবি
নরম হীরকখণ্ড এই সকাল
তোর আইনি সংসারে
আইনসিদ্ধ দেহ চকিতে মুড়লো কাচে
দ্রুতগামী রাস্তার বাহুতে নাচ
সঙ্গী লিওনার্ড কোহেন টেক দিস ওয়ালজ
গন্ধ ঘিরে নেয় দৃশ্য অব্যর্থ শক্তিতে
১০
ব্যস্ত রইলি নিজস্ব হীরকে
স্পষ্ট আঙুলের চাপে যতটা ধাতব তার
ততটাই সুর ও পৃথিবী ঘোরালি
দুনিয়া সর্বস্ব আলো ঝাপসা পাখি স্পর্ধিত উড়ান
সবকিছু নিজের গানের গায়ে খেয়ালি সকাল
শুধু দৃষ্টিপথ বরাবর হেঁটে গেলি এর বেশি নয়
কোনও দ্বিধা নেই
ছোট হোঁচটগুলো মুছে দিস
দাঁতে খোলা গিঁট
সেই জল ভর্তি দিনে
আর কোনও ভুল নেই
আমারই ভিতরে একটা তেতো নদী পাড় ভাঙছিল
গিটার বা অন্যান্য কোনও খামখেয়াল নয়
তোর সামান্যই পা বেঁধা ছিল সেই পলি চূর্ণ বেলায়
আসিসনি কাচের বিশ্বস্ত রাস্তায়
১১
সকাল একটা অ্যালুমিনিয়ামের কাটা ডানা হয়ে পড়ে রইল
নিঃশব্দ কান্নার কাঁধ বরাবর জড়ো হল আমাদের নাচ
কী অসম্ভব অজানা ভাষার নাচ
আবরণ খুলে আসা স্পর্শ
ক্রমশ শিথিল হওয়া আয়নার পারা
উপড়ে আসা দুর্বল গাছ
শুধু চেনা সুরের লোভে মেলে দিচ্ছি তোর দিকে
নদীমাতৃক কাচ, পাথুরে পাড়ের বাঁকে
মধ্যযুগের সেতু আর বিকেল জড়ানো এপ্রিল
ক্রমশ হলুদ
তুই ব্যস্ত রইলি নিজস্ব হীরকে
১২
একটা ছোট্ট ডাকে জড়ো হতে পারত এইসব
যাবতীয় চকিত , ব্যবহৃত মানচিত্র পরিচিত পার্কের ছায়া
ভাষার চলন অবতরণের বেলায় তো ডেকেছিল ভিনদেশী সুর
থিয়োদোরাকিস তেতো নদী না গাওয়া শব্দের বাষ্প
জমে উঠছিলো গির্জামুখী গাড়ির কাচে
আহ বড্ড বেশি বিশেষ্য চতুর্দিকে
বিশেষণে কাঁটা হয়ে আছে আইনি জীবন
অথচ কতই সহজ ছিল সর্বনামে বাঁচা
সকাল একটা অ্যালুমিনিয়ামের কাটা ডানা হয়ে পড়ে রইল
১৩
পোশাক ঘিরেছে সুগন্ধের প্রতিধ্বনি
প্রতিটা দৈনন্দিন টুকরো উধাও
না বন্ধ করিসনা দরজা
খোলা থাক রৌদ্র রোদ্দুর নরম রুক্ষতায়
এই বিন্যাস যাতে দেখা যায়
সর্বনামে ভেসে থাকা দিন স্থির মিনিট
স্তব্ধ অবতরণের পশু
ঘন্টাধ্বনি গড়িয়ে নামা উপত্যকায়
আমাদেরও অবতরণ থাক
গোছানো আয়নার মিনারে
খুলে যাক হলুদ শাঁসালো ফল
একমাত্র প্রতিবিম্ব সুগঠিত কেলাস স্পর্শ নীচুস্বরে শ্বাসাঘাত
একটা ছোট্ট ডাকে জড়ো হতে পারত এইসব যাবতীয় চকিত
১৪
ছড়িয়ে যাচ্ছে সময় বিচ্ছিন্ন জাগতিক ঘন্টায়
লোকে মেপেছে ক্যালেন্ডার
ভরে উঠেছে প্রেক্ষাগৃহ একে একে
বেরোনোর সময় ফাঁকা নিয়মমাফিক
যদিও বলেছিলি ব্যাকরণ মেনে
তবুও তারিখটাকে বড় করতে ইচ্ছে হয়
অনেক উঁচু থেকে দেখলে
সমুদ্রে ছড়িয়ে থাকা আপ্রাণ চেষ্টায় বাড়া দ্বীপের কিনার…
রাস্তা বাড়ি জোড় বিজোড় সংখ্যা
সবকিছু যতিচিহ্ন মানে
শুধু সুড়ঙ্গ, স্বাভাবিক মাছের ঝাঁক স্বচ্ছ জলে যেমন জ্যামিতিক
তেমনই থেকেছি আমরা কাচে চাপা যৌথ চলাচলে
পোশাক ঘিরেছে সুগন্ধের প্রতিধ্বনি
১৫
একটা ভয় তৈরি হয় তোকে ঘিরে
যেভাবে হীরকে মুড়েও তুই নিজে থেকে যাস
তুই এবং তোর নাম বিশেষণ বেড়ে ওঠে গুণিতকে
ধাপে বেড়ে ওঠে তোর নিজস্ব অপর
যাকে টের পাই বলে মনে হয়
তোর স্ফটিকে, না উন্মোচনে
ধাতব নরম করতলে
কিন্তু সেই দূরতরে আমার পক্ষে কি বাঁচা সম্ভব?
ফলের রসের মৃদু স্পন্দমান হলুদে
তোর তীব্রতর দিনে?
আমিও তো প্রস্তুতি নিচ্ছি
চেনা ব্যাকরণ
বারবার ধ্বস্ত হচ্ছে, খুলে রাখছি পরিচিত অভ্যেস বদল…
মাংসল উদগ্র নয়, সদ্য জন্মানো একটা নদীর ফ্যাকাশে
ঘিরে নিচ্ছে ন্যাড়া গ্রীষ্ম
বাড়ি ফেরার না ইচ্ছে
রুক্ষ ভাষায় কেন বারবার
ছড়িয়ে যাচ্ছে সময় বিচ্ছিন্ন জাগতিক ঘন্টায়?
১৬
তোর ছড়িয়ে থাকার কথা ছিলোনা শুকনো কাচে
জমাট সুড়ঙ্গ বা চকিত ডানায় কাটা স্ফটিক বিন্যাস
আমাকে অপেক্ষমান পরম করেছে
একটু পরে বৃক্ষের নিবিড় শীর্ষে যাওয়া
আমি তো যেতেই চাইছি
পাথর ও সম্মান পথে দীর্ঘ বিকেলের বুক
ও খাদের প্রতীক্ষিত অক্ষরে
কিছু ফাঁকা বসবার জায়গাও কি নেই?
এভাবে বিন্যাস আসে
নদী ও তার খাত
তুই ও শরীর তোর
দীর্ঘতর ব্যবচ্ছেদে কেন বারবার এত বেশি
গুঁড়ো হয়ে থাকা
একটা ভয় তৈরি হয় তোকে ঘিরে
১৭
ভাঙা কাচের বাক্য নির্মাণে কেটেছে তোর দিন
কে কোথায় পোড়া বেহালা ফেলে দেশান্তরে এসেছিলো
আশ্চর্য মোড়ের গায়ে গেঁথা ডানা
একই শব্দ তারহীন বাদ্যযন্ত্র
আমি নীচু হয়েছি কনসার্টের সামনে
একটানা নিঃশব্দ পিয়ানোপুঞ্জ
দীর্ঘ এক ব্যালকনি সারিবদ্ধ ক্লাসরুম
এই সেই দেশ যেখানে কোনওদিন আসব না আমরা
অথচ সে তার সুরের ছাই উড়িয়ে চলেছে
এই পাখিস্তব্ধতার বুকে
তোর ছড়িয়ে থাকার কথা ছিলোনা শুকনো কাচে
১৮
এভাবে সহজে আমরা পুরনো পাতার মধ্যে ঢুকেছি কতবার
আস্ত বই নির্মিত হয়ে গেছে
ব্লেড দিয়ে কেটে নেওয়া পৃষ্ঠা সংখ্যা
সব রাস্তা অন্ধ হয়ে বানিয়েছে আমাদের শহর
অথচ লৌকিকতা ফেঁসে থাকে ছেঁড়া নম্বরে
রাস্তা ও টেলিফোনে আসা অশিক্ষিত অক্ষর বিন্যাস
সব মোড়ে পড়ে আছে না হওয়া বইয়ের পাতা
খোলা ফর্মা মায়ের লেখা চিঠি
দশক বুঝিসনি তুই শুকনো দুপুরের গায়ে ভিজে আকৃতিতে
মেতে ছিলনা কি আর্থসামাজিকতার দায়
যে সব গাছ ও যে সব ফেলে আসায় ছুরির পাতা ধরল
তাদের পাশ দিয়ে ছেলেমেয়েদের এই অক্টোবর
বিনম্র বাজারের দিকে যাওয়া
… তবুও আওয়াজ নেই
বোমা নিষ্কাশনের গাড়ি, বন্ধ স্টেশনের মুখে উৎসাহ
একটানে কোথায় চলেছে?
আওয়াজ কোথায় যায়? পুরনো মিছিল ও দশক?
চতুর্দিকে শব্দ নিরোধক রূপালি কাগজের মণ্ড পড়ে আছে
চুষে নেওয়া ধ্বনির টুকরো মাংসশীর দাঁতে
ভাঙা কাচের বাক্য নির্মাণে কেটেছে তোর দিন
মিশেল, গত বারো বছরে আমি চোদ্দটা শহরে থেকেছি, একুশটা বাড়িতে।
মানুষের সমষ্টি যদি সমাজ হয়, সত্যি আমার কোনও সমাজ ছিলোনা, আজও নেই।
প্রকৃত সমাজ নেই বলে আমি সবরকম গদ্য লেখা ও পড়া শেষ করেছি।
মিশেল, যাদের গোলাঘর নেই বা গোলাবন্দুক আর্যনীল মুখোপাধ্যায়
এই সমস্ত কবিতা লেখার সময় ওয়াং চা ওয়ে (Wong Kar-wai) পরিচালিত ২০৪৬, উইম ওয়েনডাস (Wim Wenders)পরিচালিত প্যারিস টেক্সাস নামক সিনেমাদুটি সক্রিয় অনুঘটকের ভূমিকা নিয়েছে।
১৯
এইভাবে অনিঃশেষ বেড়ালের দিকে আসিস
শব্দহীন থাবা ও পলায়ন
যা কিছু তুমুল স্বাভাবিক এই ভাঙা ধাতুর ওপর চলাচল
দুপুর এক জমাট নির্মিত বাক্স
গড়তে গিয়ে লৌহ সেতু ভেঙে যায় দু পাড়ের পাথুরে বুনোটে
ক্রমাগত অক্ষমতা কি আসলে একটা আঙ্গিক?
মাথা নীচু করে লেখা, ছিঁড়ে ফেলা সমস্ত পাড়ায়
উড়তে থাকে না লেখার কাগজ
আমাদের সামাজিকতার ইচ্ছে
রক্তবিন্দু হয়ে ওঠে বাক্যবিন্যাসে
তীব্র ভারে কি কাগজ ফেঁসে যায়?
তুলোট লেখায় থাকে কার্তুজ
ও রাতের মাংস নখ ফিল্ম রেশমা বিন্যাস
?
এভাবে সহজে আমরা পুরনো পাতার মধ্যে ঢুকেছি কতবার
২০
তোর সহজ ঘরের কাচ স্তব্ধতার গায়ে গান মগ্নতাসমূহ
একত্র করার কথা বারবার বলেছি
সেই ঘর পুব দিক জানলা সমাসবদ্ধতায়
সন্ধের বন্ধুত্ব অপূর্ণ টুকরো খেলা
সুড়ঙ্গ তৈরি হয়েছে ভিড় কথা অজানা ভাষার অণ্বয়
আমাদের ব্যাকরণ বোধ জড়ো করি
এই চলা প্রাত্যহিক শুদ্ধতা রাখার দায় ও বাজার
জড়িয়ে ওঠে ফোনের শব্দ ক্ষুরের আওয়াজ
মসৃণ গালের অক্ষর ছাঁদ
আমি তো ভাঙাগুলো নিয়ে একটা কবরের আকার চাই
বহুতলার কোয়ার্টারে সিঁড়ি দিয়ে নার্সদের ওঠানামা
সাদা একটানা পাথুরে রাগের দেশ
আমি ধাক্কা দিই নিজের অচলে
প্রতিরোধ হয়না জানিস এইসব বাতিল হয়ে যায়
শুধু দূরে থাকার দায়ে বারবার বেড়া ও মাটির গন্ধ
আমাকে মাংসল স্তরে ছেড়ে দেয়
গানের গায়ে লতিয়ে দাঁড়ায় উপন্যাস
আমাদের অস্থিরতা
তবুও দুপুর থাকে
ফাতনার গায়ে নয় কিলবিলে মাকড়ের চলনে
দুপুর কি আসলে একটা শুকনো নদীখাতে
পড়ে থাকা অজস্র ভাঙা আয়না?
এইভাবে অনিঃশেষ বেড়ালের দিকে আসিস
২১
সহজে ভেবেছি তোকে কারখানার শহর থেকে
আনা নরম ভাষার ব্যাকরণ
আসলে কি কৃষিকাজ চায়? ঈশ্বর বাবদ কিছু কাচ এসে
চশমার নীচে পলিমাতৃক
বারবার ভুলে গেছি মাংসলতার কথা
জলজ সংকেতে কেন দীর্ঘস্থায়ী লোকগুলো
ছিটকে কীর্তনের বেসুরে গ্রামীণ ঢঙে
বাড়ি ফিরতে চায়না ফাল্গুনে?
কেই বা ফেরে? আজকাল সহজ বিবাগী
বাহনের মানে পাইনা বোধহয়
টিকিট জমাই শুধু
আস্ত অথচ বারবার খাদে ফেলে দেওয়া শহরের বাক্স
জমে রাস্তা হয় জানিস, ব্যাপিত জল পুরনো দেওয়ালে
তোর সহজ ঘরের কাচ স্তব্ধতার গায়ে গান মগ্নতাসমূহ
২২
সাদা পাতার কাচে তোকে ভাষাহীন ব্যাকরণ ভেবেছি
কেন কথা বেশি হয়
আদিম শরীর পেলে সুস্থ হবো বলে ভাবি
বেরিয়েছি স্থির সঙ্গে ছাই
-মাটি-ভিজে গন্ধ
অজানা নামের শহর
আরেকটু গেলেই স্বর লিপির ভিতরে ঢুকে ভাষা দেবে
এটুকুই ভাবি… গ্রীষ্মতাড়নার গায়ে স্তম্ভন দিচ্ছে বিকেল
ঘরের ভাঙা অংশ অতিব্যবহৃত বাক্য জড়ো হতে থাকে দেখ
অক্ষর যেসব বাড়ি দখল করে সেখানে কি শুধুই নুন
সহজে ভেবেছি তোকে কারখানার শহর থেকে
আনা নরম ভাষার ব্যাকরণ
২৩
পাথুরে নম্ভেম্বরের দিকে যেতে চেয়েছি
স্তব্ধতার সামনে দমকা বাতাসের উন্মোচন
তোকে সঙ্গে নিয়ে নয়, আহত শরীর কি কাউকে পায়?
ক্রমশ শুকনো পাতার ভিড়ে একটা প্রথাগত অজানা আসে
অন্যমনস্ক অণ্বয় ও বিন্যাস ঘিরে কাচ পড়ে
ফাঁদ ও ব্যাধের নির্ভরতা
দেহ ও ব্যাধির
ক্রমাগত ধাতবতা জড়িয়ে নিয়েছে যে কান
নীচু মাথা ক্রমাগত একটা মানচিত্র খোঁজে
বৃষ্টির সন্ধের বাড়ি বন্দি থেকে গান শোনা ক্রমাগত
বাঁকের পলিতে সাইকেল নাকি পাইনের স্তম্ভ সেটা বোঝা যায়না
সাদা পাতার কাচে তোকে ভাষাহীন ব্যাকরণ ভেবেছি
২৪
গায়ে কবিতার কাচ দেখতে পাইনা
টের পাওয়া যায়না তাই এই নম্র জীবিকার পাশে
লৌকিকতা থেকে রোজ বাঁচিয়ে রাখি বিবর্তন
যেসব কথা নষ্ট হয়ে গেছে বহুধা বছরে
সেসব গানের শরীর ফুঁড়ে বিকেল ছিল
বেরিয়ে যাবার পরেও একটা সন্তান দায় ছিল
সুর ও স্মৃতি নষ্ট শহরের দিকে যায়
তোকে ফিরতে বারণ করে
নিজের হাতে লেখা চিঠিতে
পাথুরে নম্ভেম্বরের দিকে যেতে চেয়েছি
২৫
তোকে বলিনি বিকেল আসলে
পিতৃহীনতায় জন্মানো একটা বাগান
জানলার জ্যামিতি গেলা একটা সময় এসে
বন্ধুদের বসিয়ে গেলে আমার বেরিয়ে পড়া
নিশ্চিত নদী ও পাড়ের বারংবারে
কাদায় কিছুতে ছাপ একা হয়না
পায়ের পর পায়ে জমে ওঠে
নরম ভাঙা কাচের প্রতিফলন
শক্ত করে ফেলা নিজের মুষ্টি
তবুও বসে পড়া হয়না সেখানে
তারপর পেরিয়ে আসা বাগানে হাওয়ার দাগ
দীর্ঘ পাড়ি দেওয়াগুলো
কেন তোর দিকে যেতে পারেনা?
জড়ো হতে থাকে কাগজের ফুলে ওঠা বাড়ি
ভিতরে হলুদ আলো
আমাদের পৌনঃপুনিক চলন
ভবিষ্যতের কোনও বছরের দিকে…
গায়ে কবিতার কাচ দেখতে পাইনা
২৬
তুই আমাকে পুরনো ছবির ফোল্ডারে পাবি
বিলুপ্ত অ্যালবামে বাঁকে বারবার না ঢোকা
কোনও সিনেমা হলের সামনে মৃদু শিস
অঘ্রান রাতের ফেরা
আজকাল বিখ্যাত বাঙালিদের কাজ এড়িয়ে চলি
প্রতিটা সামাজিক হবার আয়না
আমাকে বিরাট একটা বদ্ধ বাক্সে ঢুকিয়ে যাচ্ছে
প্রতিফলনহীন কাচে শুধুই হরিণ শাবকের ভয় ফোটানো চোখ
সুরহীন দুপুরবেলা গলা অব্দি চড়ে যাচ্ছে
তোদের সমস্ত সমাজ ও তাদের হিট
অথচ আমাদের বেরিয়ে পড়াগুলোর
কোনও দাগ থাকছেনা
বিচ্যুত সন্তানকে তোর কাছে পৌঁছে দিচ্ছি
তুই স্নেহ কাচ ও আলিঙ্গন
সামনে আমার যাওয়া কাদার ভিতরে
তোকে বলিনি বিকেল আসলে
পিতৃহীনতায় জন্মানো একটা বাগান
২৭
তোকে গ্রাস করার কোনও সংক্রাম জানা নেই
দরজা থেকে ফিরে আসি
খোলা পিঠ দাঁতের মধ্যে গৃহবধূ
নিশপিশ করে চেনা গলি
ইশকুল ফেরত স্তম্ভন দেওয়া দুপুর মানে
তো শোধ নেওয়া গেলো!
কবিতায় আস্থা পাইনা জানিস, তবু
অসামাজিকতার কোনও অন্যরূপ নেই
থাকলেও সে আমাকে নেবে কেন?
অকস্মাত দেখে ফেলা সদ্য রেলে কাটা লাশ
সামাজিক লোভ ফিরে আসে
মাথা নামিয়ে মুষ্টি বন্ধ
রামপ্রসাদ সেনই তো আসলে দুপুর শেষ বাগান
নামক পিতৃহীনতার আশ্রয়
অষ্টাদশ শতক সহজ আধ্যাত্ম
তুই আমাকে পুরনো ছবির ফোল্ডারে পাবি
২৮
রঙিন চকচকে কাগজের ঠোঙায় মৃত মথ উপহারে পেয়েছি
মোটা বস্তা দিয়ে ঢেকে বরফের চাঙড় বেচার সামনে
এগিয়ে দিয়েছি দুপুর
চোরাগোপ্তা পরপর বাড়ি তৈরি হয়ে গেছে
চিঠি দিয়ে তৈরি দেয়াল তাতে স্পষ্ট মানচিত্র
পরিচিত কবির আমৃত্যু চলার
তোকে বলেছি বেঁচে থাকার ৪টে শহর
মানে ৪রকমের সামাজিকতায় আমি ঠিকরে এসেছি
তোকে লিখেছি প্রতিদিন সামনে একটা ভারি কাচের জানলা
গিঁথে যেতে দেখি এই নতুন শহরে
আস্তে আস্তে যে দুপুর গড়ে উঠল শরীরে
তাকে কোন ব্যাকরণে লিখব?
শুকনো নদী রেলব্রিজ এইসব ছাড়িয়ে
আসলে লকলক করে গ্রীষ্মকাল হলুদ ও সোনালি সুড়ঙ্গ
যাকে ফুঁড়ে সন্ধের ফুলের নীরবতায়
কোনও একটা ট্রেন যায় বহুদূর বছরের দিকে
তোকে গ্রাস করার কোনও সংক্রাম জানা নেই
২৯
তাকিয়েছি স্বাভাবিক আলোর দিকে
মাছের আঁশের রঙ
যেহেতু তোর কাছ থেকে আসছে না তাই একটাই ধরণের বিকেল
পেঁচিয়ে রাখছে সব গিটার
উচ্ছাস নেই
শুধু রাস্তাটার দিকে যেভাবে শরীর যায়
প্রাত্যহিকতার মোড়ে জমায়েতে তার থেকে এলানো দূরত্বে
কিছু গুঁড়ো কাচ রক্তে নিয়ে চঞ্চলতা
তবু একটা স্বাদ ভালো লাগা থাকে
ধুলো মুখ এই ঝাঁকড়া নিম অপেক্ষায়
থমথমে ফাতনা ও দুপুর…
রঙিন চকচকে কাগজের ঠোঙায় মৃত মথ উপহারে পেয়েছি
৩০
সন্ধের মুখ এক আশ্চর্য আচমন
মৃদু অন্ধকারে তুই ত্বকের নরম সরিয়ে রইলি
আর আমাদের সামনে একটা ভোরের কাচ তৈরি হল
যেন আর উঠে আসবনা আমরা
আমাদের বুক এত ছোট তাতে কোনও শ্বাস বেঁচে নেই
শুধু কাচ ও তার সর্বনাম বাক্যের জোড়নে লেগে
এক প্রাচীর দীর্ঘ ঠাণ্ডা সময়
কোনও দীর্ঘকার প্রাণী তাকে বারবার ঝাঁকিয়েছে
একে স্বপ্ন বলে ডাকলে ঘুম ভাঙবে প্রাত্যহিকে
আর কোনও পথ প্রচলিত অণ্বয়ে ফ্ল্যাটের বাইরে যাবেনা
তাকিয়েছি স্বাভাবিক আলোর দিকে
মাছের আঁশের রঙ
শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, জন্ম ১৯৭৮, কলকাতা। প্রকাশিত কবিতার বই ৫টি। বৌদ্ধলেখমালা ও অন্যান্য শ্রমণ কাব্যগ্রন্থের জন্য সাহিত্য আকাদেমির যুব পুরস্কার, পেয়েছেন মল্লিকা সেনগুপ্ত পুরস্কারও। স্পেনীয় সরকারের দেওয়া আন্তোনিও মাচাদো কবিতাবৃত্তি পেয়েছেন ২০০৮ সালে। পোয়েতাস দে ওত্রোস মুন্দোস সম্মাননা ২০১৪। স্পেনে চারটি কবিতার বই প্রকাশ পেয়েছে। ডাক পেয়েছেন মেদেইয়িন আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসব ও এক্সপোয়েসিয়া, জয়পুর লিটেরারি মিট সহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবে। অংশ নিয়েছেন Poetry connections India-Wales প্রকল্পে। দক্ষিণ আফ্রিকার কবি আরি সিটাস, ও স্পেনের কবি ফেরমিন এররেরোর সঙ্গে লিখেছেন যৌথ কাব্যগ্রন্থ। বর্তমানে দিল্লির ইন্সতিতুতো সেরবান্তেস এ স্পেনীয় ভাষার শিক্ষক।



Leave a Reply