• Skip to main content
  • Skip to header right navigation
  • Skip to site footer

Bangla Library

Read Bengali Books Online (বাংলা বই পড়ুন)

  • Login/Register
  • Account

ঋতু দ্বিপ্রহর – শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

লাইব্রেরি » শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায় » ঋতু দ্বিপ্রহর – শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ঋতু দ্বিপ্রহর - শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
লেখক: শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়বইয়ের ধরন: কাব্যগ্রন্থ / কবিতা

সূচিপত্র

  1. ঋতু দ্বিপ্রহর – শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. পর্ব ১
  3. পর্ব ২
  4. পর্ব ৩
  5. পর্ব ৪
  6. পর্ব ৫

ঋতু দ্বিপ্রহর – শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

ঋতু দ্বিপ্রহর – শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রচ্ছদে ব্যবহৃত ছবি ও লেখকের ছবিঃ ভাস্বতী ঠাকুরতা
প্রচ্ছদ রূপায়ণঃ শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

তুতুনকে

কৃতজ্ঞতা
আর্যনীল মুখোপাধ্যায়, সব্যসাচী সান্যাল, সোমনাথ সেন, বারীন ঘোষাল, সুদেষ্ণা মজুমদার, নীলাব্জ চক্রবর্তী, হিমালয় জানা, রাকা দাশগুপ্ত, সায়ন কুমার দে, দোলনচাঁপা চক্রবর্তী, বিকাশ গণচৌধুরী, প্রসূন মজুমদার, শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, 
আংখেল গিন্দা, দাবিদ ফ্রান্সিস্কো
সূচি

 
রচনাকাল
মার্চ ২০১৪ – মে ২০১৬

পর্ব ১

এত তাড়াতাড়ি শূন্য ফুটে উঠবে?
এই যে বুনোরাস্তা এলো পা আসার আগে
চৈত্র পেতে রাখা  দুপুরে শুধু খসখস শব্দের মোহে
জেগে থাকা ছিল…
আমি পেরিয়ে এসেছি সব মিথ্যে ভেবে আশ্বস্ত হই

শুধু শুষ্ক মাটি পায়ে চলায় পোঁতা রইলাম
অথচ সারা শরীর ঢেকে রইল প্রচল পোশাক
ক্রমাগত রঙ জড়ো করে চেটে চলেছি
আর সামনে ভরে উঠছে কাটা শিকড়ের ফ্যাকাশে
একেও কি সত্য বলব?
এই যে ছিন্ন হয়ে পড়ছি ক্রমাগত
মৃত শব্দটির বাইরে যে সব রাস্তা
তারা কি নিরবচ্ছিন্ন জলাশয়ে যায়?
বহুদিন পা না পড়া জাঙালে আমারই পা বিঁধছে কেন?
ছড়িয়ে যাচ্ছে এতদিনের ধারক বই অক্ষর ও বিন্যাস
অস্তিত্বই সমস্ত কাগজ শুষে দাঁড়াতে চায়… 

ক্ষয়াটে আমার দিকে কেন শীর্ণ সঙ্গীতমালা? 

কেন বাড়ি ফেরার রাস্তায় ভেজা পায়ের ছাপ?
দুপুর শেষের স্থিরতা… ভাবি হংসধ্বনির নাম হোক স্বাধীনতা
নিজের অবিন্যাস আমি এক উঁচু হয়ে থাকা শিকড়ের কাছে রাখি
হে বৃক্ষ, স্নায়ুহীনতার মিনার 

হে স্নিগ্ধতা পুরনো অভ্যাস

কোনওদিন তেমন কিছু লিখতে পারব না ভাবি
এই দুর্বল ভাষায় এই কুঁকড়ে থাকা ক্রমাগত
একটা বেলুন ক্রমশ গ্যাসে ভরে উঠছে
আমার সময় গুলিয়ে আসছে প্রতিদিন
রাত ও খাবার
প্রাত্যহিকের গায়ে কি একটা জলছাপও পারব?
অভ্যস্ত স্বীকারোক্তিগুলো নিজের সঙ্গে ভয়
অভ্যস্ত  কিছুতেই ফিরতে না চাওয়া রাস্তাগুলো

বাড়ি হয়ে উঠছে কীভাবে?
রাস্তাগুলো ফাঁকা হয়ে এসেছে শুধু লতানে দুপুর
ক্রমশ পাকিয়ে উঠছে অথচ ভাটিয়ারে বাঁধা থাকছে চলন
এইভাবে লিখে রাখা ১ সেই তো শূন্যরোধী
অথচ আমার দেহে জড়িয়ে থাকছে স্থিরতা
আয়োজন সর্বস্ব হয়ে লক্ষ করছি
অমলতাস খসখসে হলুদ… 

যদিও তেমন কিছু বলার নেই ক্রমশ শীর্ণ হয়ে ওঠা আঙুলে
পরপর কাগজের টুকরো ভেসে থাকছে যোগাযোগহীন
পরপর ঘড়ির কাঁটা ছিন্নভিন্ন খুঁজে পাচ্ছি পাতার বা ঘাসের শুষ্কতায়

আমি ক্রমাগত  বেরিয়ে পড়ার দিকে জোর দিচ্ছি

সামনে স্তম্ভ হচ্ছে সংস্কার
ভয় শব্দটাকে কখনও কি বাগে আনা যাবে?
অথচ সঙ্গ তো আসলে একটা প্রতীক্ষা শিবির
শুধু আলো জ্বলে থাকছে, ফাঁপা কাগজের বেলুন
কথা হচ্ছে অজানা ভাষায় কিন্তু বার্তা আসছে না
এই যে একটা ফেঁপে ওঠা দুপুর… 

বিকেল মিছিলে যাবে দাবিপত্র বোঝা যাবে না। 

কয়েকটা নম্র আত্মীয়তা আমাকে ঘিরে ধরবে,
 সারসার কল্পনাবিচ্ছিন্নতা,
 বিক্ষিপ্ত ঘাস… পতঙ্গহীনতায় কেউ হাওয়াই চপ্পল ফেলে চলে গেছে
কথাশূন্য রাস্তাগুলো বাড়ি ফিরতে পারছে কি?
কেবলই পাকিয়ে উঠছে বৃষ্টিপ্রকাশ
এই যে বিকেল আচমকা পুরনো ঢঙে গাওয়া আজ কি তাহার বারতা
বাক্যহীন ঘরগুলোয় ফেরার অপেক্ষা। 

ঘন মানুষের ঘ্রাণে রান্না চাপছে ফোড়নের ঝাঁঝে কেউ বুঝি সচকিত
দরজায় শব্দ  হল কি?

বাবা, আমার কোন নামাজ আদায় হয়নি। 

শিলাবৃষ্টিজনিত নীল ক্ষতের আম ও স্তব্ধ পরবর্তী
দুপুরগুলো কেবলই এক শিশু পুরুষের দিকে চলে যাচ্ছে
বারবার  না ঘুম ছোট শহর পাকে পরতে খুলে যাচ্ছে নালন্দায়
রাজগৃহে
 
স্পষ্ট করে বলতে পারি না
জীর্ণ কতগুলো ভাষাহীন আবর্তকে ডাকছি সন্ধে
বন্ধুরা আসবে না ভেবে আর কোনও মর্ষপান নেই
একটা পুকুর দেখছি,
 শুকনো পাড়ে  শুধু
অব্যবহার, দিনগুলো জড়ো হচ্ছে
দিনের টুকরো শুধু মিশে থাকছে পুরনো কথায়
আমি একটা করে জানলা খুলছি সন্ধে ভাসা
সবুজ ফ্রেম কেউ কি দাঁড়িয়ে রইল
দীর্ঘ প্রতীক্ষার একমেটে প্রতিমা জমাট বাঁধল
তাকে সময় বলব?
আমাদের এই আর্দ্র স্মৃতিহীন দেশে সে তো একটা ডেলা
পরপর আগের দশকে লেখা চিঠিগুলো হারিয়ে যাচ্ছে
আমরা উঠে যাচ্ছি কোনও এক উচ্চতায়
একটা শহর গুঁড়ো কাচ ঢুকে এসেছে
পুরনো বই পুরনো পাতার দুপুরে

আমরা ছোট হয়ে আসছিলাম
আমাদের ছেলেমেয়েরা কাগজের
আমাদের অক্ষরগুলো ভেজা মৃত গুঁড়িতে শ্যাওলা
যারাই দূর থেকে এসেছে
আমরা বিশ্বাস করেছি
স্বাভাবিকতার ঝোপে বড় হয়ে উঠেছিল কিছু নিয়ম
একটা ভেসে থাকা মুখ ও মানুষজ্ঞান
বারবার বিচ্ছিন্ন করেছে আমাদের
একটা স্তম্ভ বেড়ে উঠেছে
একটা দুপুর বেড়ে উঠেছে  ছাই

পরপর মোমের ঘাস
ঢেকে দিয়েছে এই বিচ্ছিন্নতা নরমে
আমরা নৌকার কথা ভেবেছি
বাতিল জলযানের ম্লানিমা চোখে
আমরা ক্রমশ ভরে নিয়েছি সমস্ত যাত্রা

এ রাস্তা ক্রমশ মাটি উই বা পিঁপড়ের
জলস্রোত  খেয়ে গেছে

এখন চৈত্র শুধু একটা ম্লান পিতলের গন্ধ
ক্রমশ নীচে ডাকছে একধরণের যাওয়া
কেউ কি গলুই জুড়ে প্রদীপ রাখার কথা ভাবত?
একটার পর একটা মোমের সারস তৈরি হচ্ছে
পাড় বরাবর কোনও সাবোটাজ রাখা নেই
একটা দীর্ঘ ঘোড়া ফড়িঙের গ্রীবা
যে রং দিয়েছে তাকে পেরেকে সাজাই
ছায়াহীন এই জলযান ক্রমশ
পুরুষ ভাষা থেকে দূরে যাচ্ছে
যে নদীর সামনে এসেছি তাতে শক্ত করে বাঁধা
পাড় বা সংকেত নয় পরপর নরম কাদায়
পদচ্ছাপ মিলিয়েছে ভাঙা ঘাট বিচ্ছিন্ন বিকেল
আসলে অভিন্ন স্তম্ভ – আমি স্থির ডুবে যাওয়া নিয়ে
জাগিয়ে রেখেছি নিজের মাংস – আর কোনও দিন কাজে লাগবে না!
রোদের গায়ে তারপর গলা ঘিয়ের ছিটে
কাদা ও অন্যান্য ভিজে ম্লান
বুকের পাশে শুধু দাঁতে দাঁত ইচ্ছে রইল
বলা হল না আমি ছাড়তে চাইছি
কোনওদিন বেরোতে পারলাম না
ভয় একটা পিচ্ছিল রাস্তা
বারবার সব ঘাট নৌকাহীন করে রাখল
ক্রমশ সম্বলহীন আঁচড় মাটির দুপুরে নিমপাতা পুঁতছে কেন?

এসেছি এই প্রান্তে নতুন জৈষ্ঠ্যের ঘোরে
ক্রমশ খয়েরি গাঢ় এই রং কি চামড়া
নাকি রাস্তা খন্দ হয়ে আছে শুধু ভাষাহীনতার
কোথাও কি মাটি পোড়াবার গন্ধ?
শক্ত হয়ে উঠছে পাত্র – ভাবি আর কি কাঠিন্য হবে
সদ্য নোয়ানো নরম মৃত্তিকা ভাণ্ড
তার বিনীত ফ্যাকাশে আমি ছেঁকে নিই
এরপর বাণিজ্য সম্ভাবনাগুলো জারুল খুঁজবে
কাঠ তার অবগাহনশূন্যতা নিয়ে উপহার দেবে সুদূর
সিঁদুরদানের ছোট আয়নায় প্রতিবিম্বিত রাস্তা
বাড়ি ফিরবে তো? 

শব্দ কমে আসছে আর বেড়ে উঠছে অবান্তর রৌদ্রস্তম্ভ
নিশানা শব্দটাকে ভুলে গেছ তুমি
সামনে শুধু লক্ষ্য, অব্যবহৃত অক্ষর
একটা ন্যাড়া সময়ে কে বলছে
পানসির ম্লানিমায় লুকিয়ে থাকা সরীসৃপের কথা?
যাকে বোঝা যাচ্ছে না সামনে শুধু দূরত্ব জ্ঞাপক
প্রবেশহীন একটা দীর্ঘ রাস্তা শুকনো বোঁদ
মৃত কাঠরঙা দুপুর
দুদিকে বাগান নিয়ে লকলকে ক্রমশ
অথচ স্পর্শহীন গ্রন্থসর্বস্বতা জ্বলে যাচ্ছে না

কতবার তোমাকে দেখেছি এই বালির জেলখানায়
নামহীন বন্দী অনির্দিষ্ট গতিপথ
বাবা, তুমি হারিয়ে ফেলছ চিরকুট
কিছু ক্ষয়াটে অক্ষর লুকিয়ে রাখছ
রঙচটা দুপুরে তুমি খুঁজে চলেছো লং প্লে রেকর্ড
বেরোবার চেষ্টায় তোমার কাতর ছবি
পরিবার, ছুটির দিন, তোমার মত বাংলায়
কিছু নদী তার পোস্টাল স্ট্যাম্প লাগা
যাতায়াত নিয়ে তোমাকে আক্রমণ করছে 


 
রাস্তাগুলো সরু হয়ে আসছিল
দুদিকে চাপা হাঁফ ধরানো দৌড়
অথচ তাড়া ছিল না
বদল সহজ হবে ভেবে গেছি প্রতিরাত্রে
ঘরে আসা সুরস্তম্ভ আমাকে ফেলে রেখে গেছে
সাদা দেয়ালে ব্যাপিত গত বছরের দাগে
মাটির শব্দ জোঁকের রুপোলি ম্লান
বারবার চলে গেছে ঘসটানোর চিহ্ন নিয়ে
আমার দূরে তোমাদের মনে পড়লেও
উচ্চতা ফেঁপে ওঠে
পরপর বেলুন ছাড়ছে কেউ
ফ্যাকাশে বুদবুদ ক্রমাগত কোণঠাসা করছে
আর তো কথা নেই শুধু অরিন্দমকে ডেকে
কিছু রহস্য করতে ইচ্ছে হয়
তার প্রতিদিন তামাটে হয়ে আসা আঙুলে
কতদিন স্পষ্ট কোনও অক্ষর ফোটেনি
শুধু দীর্ঘ হয়ে উঠেছে স্টেশন
বৃষ্টিতে আচমকা নেমে বাড়ি ফেরবার কথা তো ছিল না
চতুর্দিকে শুধু শুধু ধাতব শব্দে অক্ষর
বারিত্রাস নৌকা নিয়ে কতদূর চলে গেছে …
উপড়ে আসছে ছোট গাছ
ভাঙা আয়নার কাচে ধাঁধিয়ে আছে তার মুহূর্ত


 
পরপর পাথর দেখলে ভাবি বাড়িগুলো শীর্ণ হয়ে উঠছে কি?
কোথায় গিয়েছো তোমরা, কবে থেকে বন্ধ পড়ে সব?
সমস্ত রাস্তা জলকামী গলি ঘেরা জৈষ্ঠ্যে
এইভাবে তোমাদের বাক্যহীনতা আমায় একটা দেয়ালের সামনে
দাঁড় করাচ্ছে আবছা সাদা– বাকিটা বাষ্পের অভাবে
একটু করে ভঙ্গুরতা উশকে উঠছে – আমি কি তার প্রতিবিম্ব চাইছি?
স্বর তো এটাই সর্বত্র টুকরো আগুন
জোড়া লাগানো সন্ধে বা স্পষ্টতার ভাষা
পুরনো বইগুলোর মধ্যে পতঙ্গের ডানা ফেলে গেছে
ভাবি পরিচিত রাস্তাগুলো ঘাসে ঢাকা
একটু করে উঁচু হয়ে উঠছে
বন্দরের পাটাতন – মৃত কাঠ বিকেলের রঙে
আমারই পায়ে বারবার কাঁটা ফুটছে কেন?


 
আসলে এই রাস্তাটা অনেকদিন নষ্ট হয়ে গেছে
ঘরে পৌঁছনোর আগে খুঁড়ে রাখা
একটু করে দীর্ঘ তপ্ত সামিয়ানা এই দুপুর
আমি তো ছায়ার সঙ্গেই থাকব
তবে কেন ত্যক্ত নৌকার খোল দেখে
ব্যবহৃত গর্ভাশয় মনে হল?
আমাদের চামড়ার দাগে যে স্বর তৈরি হল
তার লিপি কোথায়?
একটু করে আগুন লাগছে পরিচিত শুকনোয়
থাবাদীর্ঘ গ্রন্থাকাঙ্খা – আকস্মিক রাত্রিডাকে বেরিয়ে আসার পর
উঠোন জুড়ে এত গাঢ় খয়েরি ভোর – পোড়াতে পারবে কি?


 
আরেকটু দূরে যাবার সময় ভাবছি রাস্তা
কেন এত রঙিন ফিতে ফেলে রাখছে
সামান্য রঙের পর সেই তো একই পুরনো পাথরের মধ্যে দিয়ে
চলে আসব প্রাচীন যুদ্ধের গায়ে, একই তো ছিল
আমাদের দুর্গ দূত অছিলা সমেত
একটা আস্ত বৃষ্টি সম্ভাবনা লিখে রাখছি
থেমে যাওয়ার ঠিক আগের সময়টা এসে দাঁড়ায় প্রাত্যহিক
আধোপরিচিত মুখ পাশা খেলবার মত প্রায়োগিক ত্রুটি নয়
শুধু দিন খেলা, রাত খেলা – বারবার কিছু বিচ্ছিন্ন শুকনো গাঢ় বাদামি
লেগে থাকছে সাদায়, পরিচিত ব্যবহারে
                                তোলা যাচ্ছে না

তাহলে কি এখনও জলীয়তাহীন কাঠ আছে?
পরপর লোকে কী জ্বালাচ্ছে?
কেন বারবার গ্রন্থসর্বস্বতা ঘিরে পাথুরে রাস্তা দুর্গের দিকে যেতে চাইছে? 

তুই পাণ্ডুলিপি পাঠাবি আবার ভাবি
এই না বিকেল আলোটুকু যতক্ষণ আলতো লেগে
আরেকটু দূরেই কেউ ত্রস্ত ছুটছে গতকালকের দিকে,
খাদ্য চিৎকার শনাক্তকরণহীন দেহ
         সামান্য
গেলেই বাঁক, একই মশাল
স্পর্শ করালেই হলুদ ব্যাপ্ত গিলে নেবে
নালন্দা বা কুরুক্ষেত্র  অন্যান্য অছিলা


এই যে অবান্তর একটা রঙের সামনে
একটানা মল্লিকার্জুন মনসুর
         বাবা, তুমি থাকলে কি কথা হত?

একটা কাগজ উড়ছে ললিত মাখা
এই তোমার সকাল
চামড়ায় বেঁধানো নখ আর আয়না ছাড়া
একমাত্র বেঁচে থাকার প্রমাণ
এই উঠোন আর আমার না বলতে পারার প্রতিদিন
বেলুন দরজাহীন বাড়িগুলোর সামনে
একটা চলনঋতুর নাম দিচ্ছি পার্ক
বিশ্রামগুলোর গায়ে শীতভাব আনতে পারছি না 


শুধু কথা থেকে গেল এই বন্ধ বাক্স আর অ্যালুমিনিয়াম বিকেল
কোথাও তোমার শব্দ কাঁপল না
মাথা জুড়ে নদী ও অন্যান্য শীতল কল্পনা
পরপর দেবতা মূর্তি ভেসে যাচ্ছে
চকচকে জরি আর অকারণ জানলা খুলে দেওয়া
তুমি কী জীবন ভাবতে? 

নীচে ভাঙা পিচবোর্ডে মোড়া আছে ঘাসের উঠোন
তালু পূর্ণ অপরিচয়ে
তুমি পুরনো বই খুলছো
কম ঘুম ভোর গুলো আর মোচড়ানো কাগজ মনে হচ্ছে না
পরপর মোমের পাতাগুলো ভিজে ওঠে
কী নাদ্য এই ফুল তার আকস্মিতার শীতকাঁটা
বাবা তোমার সঙ্গে কথা বলা মানে
দানিয়ুব দিয়ে ভাঙা লেনিনের মূর্তি চলে যাওয়া
তুমিও তো দেখেছিলে – প্রতিদিন লাফিয়ে ওঠা
শ্যাওলা কীভাবে গানের গলায়
কীভাবে এই রাস্তা প্রাণপণ তোমাকে দীর্ঘ বিস্তারের
শুদ্ধ কল্যাণের দিকে ঠেলে দিয়েছিল
শুদ্ধ সন্ধ্যা – তুমি না হওয়া সময়টার দিকে চলে যাচ্ছিলে
বেরনো শব্দটায় জোর, সেই পুরনো পাড়া
আফিম ও হলুদ নিয়ে জ্বলে থাকা জানলাগুলো
কে খুলে দিচ্ছিল এই বাড়ি দিয়ে ঘেরা পার্কে
তুমি কুঁকড়ে যাচ্ছিলে
কিছুতেই বাড়ি না ফিরতে চাওয়ার নাম নভেম্বর
তোমার সামনে লাফিয়ে ওঠা ১৯৮৯
আমার অপেক্ষা রাগান্তরে
বিস্তারিত রাস্তা একটা সাদা চাদর মোড়া বন্দিশালায়
এনে ফেলে, আমি বুঝতে পারছি না কেন এত জল চারদিকে
জানি না জ্যান্ত সন্ধের রঙে ঝকঝক করছে জলযান
তুমি মনে করাচ্ছো  দূরগামী নৌকার উপযোগী

কাঠের অভাবে আমাদের উপনিবেশ ছিল না 


আমি কি পরিচিত ছেড়ে দূরে যাচ্ছি, ভাবি,
কতটা শরীর থাকলে চেনা লাগে?
পুরনো ছাপের শহরে পাক খাচ্ছে নতুন বাস
নাকি দুম করে নেমে পড়া স্টপ থেকে কিছুটা আড়ালে থাকা অন্য গলি
আমাকে উন্মুক্ত করল অন্য ধাপে
কাকে চেনা বলব, ভাবি, পারিবারিকের মুখে
নীচুস্বরী সাংকেতিকতা
                                   লোভ হয়,
 বাড়ি ভেবে আচমকা সন্ধের মুখে লেগে থাকা
সংলগ্নতার লালা
লোভ
আর কিছু নেই একটা কাঠের সিঁড়ি উঠে যাচ্ছে বালি ভেঙে
বাড়ি বলে চিহ্নিত করা যাচ্ছে কিনা ভাবি এই উঠে যাওয়া
এই স্তব্ধতা বা একটা অচেনা পায়ের শব্দ থেমে থাকে…
বারংবার আঁশটে গন্ধের বাদামী দাগ লাগা জামায়
আমি কোথায় চলেছি?


 
দুদিক থেকে ক্ষয়ে এসেছে রাস্তা
আর কিছু নেই শুধু এই ঘর আর দরজার বাইরে একটা
দৃপ্ত চলার ছায়া, চাবির শব্দ
এইভাবে সইয়ে নেবার নাম দিচ্ছি ফেরা
মনে করছি ভয় নেই
ক্রমশ বাক্স হয়ে উঠছে গান গাওয়ার বিকেল
ফেলে দেওয়া পিচবোর্ড খয়েরিতে শুষে নেওয়া সুর
নেমে আসা মাথা ও কয়েকটা ছেঁড়া চিরকুট
তিনতলার বারান্দা থেকে
           ভারি স্টিল
ম্লানিমার নাম  বিকেল

আমার চলে যাবার কথা
এই খাঁ খাঁ গলির 
দরজাহীন বাড়িগুলো থেকে
কথা বলার শব্দ আসছে কেন?


 
এই যে ধরো নির্মাণ প্রবণতা আমাকে ক্রমাগত নিয়ে ফেলছে সুড়ঙ্গে
কথা বলার আগে জড়িয়ে থাকছে লালা
ভিজে বাক্য বিন্যাসে আমি বলতে চাইছি
অথচ এক প্লাস্টিকের স্নানঘর আমাকে ঘিরে রাখছে
ফেঁসে যাচ্ছে সকাল পুরনো গরদ রঙ ওঠেনি
বেরনোর বন্ধ রাস্তায় কে মিষ্টি রাখছে
অমন স্বাদ আমি কি পারি ?
রাস্তা পারি? ক্রমাগত পুকুরের দিকে যাওয়া 

চৈত্র শেষের মাছ বোদ ছাড়ছে
ওঁত পেতে থাকা… পারি?
এইভাবে ভিতরে তৈরি হচ্ছে একটা মিথ্যে কাগজ
ওষুধের খালি পাতা ভাঙা নেমপ্লেট
রাস্তায় শুধু বিকেল তৈরি হচ্ছে
আর সারবদ্ধ ফ্ল্যাটগুলো জানলা খুলছে না


 
বাড়িগুলো কী চিহ্ন বহন করছে বুঝতে পারছি না
শুধু কেটে যাচ্ছে চামড়া বারবার চৌকাঠ পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসছি
নিজেকে কতটা জানি ভাবতে ভয় করে
সমস্ত কাগজের টুকরো পশমের ডেলা
মাটি চাপা দেবার আয়োজন সম্পূর্ণ করেও দাঁড়িয়ে আছি
এই পার্ক এই সর্বস্ব উজাড় করা ছিন্ন বাক্য
প্রতিদিন সরু হয়ে কল্পনারেখা ও বালির টিলার মধ্যে   

একটা স্টিলের দেহ, একটা কাচে ঢাকা হাত
আর কোনওদিন সত্যি দেখব না ভেবে ভাল লাগা জন্মায়  

আমি তটরেখা ফেলে আসছি আর ক্রমশ দুর্বোধ্য হয়ে উঠছে এই ক্রমাগত কাচ ফোটা তালু – আচমকা সিঁড়ির তলায় ওঁত পেতে থাকা সাইকেল – কাগজের মেঘ অকস্মাত, পরপর ক্যালেন্ডারের পাতা উড়ে বেড়াচ্ছে … এই হা হা অমলতাস মাংস 
বুলিয়ে দিচ্ছে…  সব দরজা বন্ধ
– জানলাহীন বারান্দায় কেন শিস দিচ্ছে দুপুর?
একা থাকার বিকেলগুলো কি সরু হয়ে আসে?
পাতলা একটা আবরণের মধ্যে দিয়ে
চুঁইয়ে আসা সময়ের দিকে কীভাবে তাকানো যায়?
ভাঙা কাচের টুকরো দিয়ে কেন বারবার দিগন্ত আচ্ছন্ন হচ্ছে? 

এইভাবে স্তম্ভ হয়ে উঠছে একটা দুপুর
তার একপ্রান্তে ছায়াহীন দীর্ঘায়িত হচ্ছি
শূন্য থেকে কিছু দূরে – যেভাবে টান আমাকে
           আজও ক্রমাগত খেতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে
– নদীর ঘাত ও বিকেল নামক জলে বসে আছি
– আর কেউ নয় – বস্তুত বাক্স নামক ঘর, ছককাটা আলো ছেড়ে 

ভাবছি আর কতদিন এই ধারালো অথচ জংধরা অস্ত্রের দাগ
থেকে যাবে স্বাদে ঘ্রাণে… আরেকটু গেলেই বাদামী ফোঁটা
হয়ত মাটি ভিজিয়ে দেবে – রোগা শেয়ালের রোঁয়া জাগা সন্ধে
 আমাকে কীভাবে নেবে
লতানে সমুদ্র ঝোপ যেভাবে বালিকে নেয়
অতখানি আলগা শিকড় নিয়ে বেঁচে থাকা যাবে?
স্থিরতার মধ্যে মাথা নীচু, রোঁয়া ওঠা হলুদের এই নভেম্বর
বিকেলের কোন একটা শব্দ বুঝিয়ে দিচ্ছে আমরা পরিচিত জগতে এসেছি
নিশ্চিত সময় গিয়ে চুল বাঁধবার কথা জানিয়ে আসছে
কখন গিয়ে ধীর লয়ে পুঞ্জবাক্য জমে যাচ্ছে
বলা হচ্ছে না
শুধু পরপর যাতায়াত কমে যাচ্ছে
পায়ে চলা রাস্তায় ঘাস উপচে আসছে 

সামনে একটা চিৎকারের মত রুক্ষ বাড়ি
আমাদের অস্থিরতা যাকে দেখতে দিচ্ছে না

অক্ষর বলে আসলে কিছু হয় না
কয়েকটা শুকনো ফাটল – এই লাল রুক্ষ ভাষা চরাচরে
– মাটি কুয়াশা শুষছে দেখো
যেন কিছু করার নেই, মারা যেতে বসা বাবার সামনে
অস্ফুট মা কী যেন ভাবছে 

এই নভেম্বর সেখানে কুয়াশা রাখতে পারছে না।
এই তোমার আমার ভারি জুতো, কথা না বলার প্রস্তুতি সহ
লক্ষ করছি পিঁপড়ে আসছে… 
ভাষানদীখাত খেয়ে নিচ্ছে
বাসা ডিম সামান্য কামড় নিয়ে আমারা কোথায় থাকছি?
রুক্ষ খোবলানো প্যাঁচা তাকে বাসা চেনাবার কথা ভাবছি
ক্রমশ খন্দের বশে টানটান রাস্তা
চিৎকার করা লোক আমাকে মাংসল তার সামনে ফেলেছে
আমি ফিসফিস করেছি
ভিতু ও নিচু মাথার লোক আমি, চেরণদাঁতি,
হাতে মাটি লাগে কি?
ঠোঁটে আটকে থাকছে মাংস সদ্য ঝলসে যাওয়া
পাখি গন্ধ, ক্রমশ সাদা বিষ্ঠায় ভরে থাকা
এই চলনের সামনে যে ঋতু বিস্তৃত তাকে ভাষা বলি
আর কোনও পছন্দ নেই
ঢিল ছোঁড়া মানুষে ভরে থাকা
কুয়াশা ও মৃদু সঙ্গীত ভাসা এই
সাদা টুকরোর নাম দিচ্ছি বিকেল

এ রাস্তা কুয়াশা দংষ্ট্র এবড়ো খেবড়ো
যে দিকে দাঁড়িয়ে থাকছি ভাঙা শব্দ ফেলে
রাখা আয়নার পারদে
আর কোনও বাড়ি ফেরা নেই
কোনও কৈফেয়তের গায়ে ঠোঁটে দাঁত আশঁটে নোনতা
বিক্ষিপ্ত কয়েকটা কাঠের প্যাঁচা
বিশ্রামে ছড়ানো রয়েছে
কিছুই নয়, প্রতিক্রিয়াহীন একটা নিশ্বাস
তার সঙ্গে উঠে আসা সামান্য কাচের গুঁড়ো
আঁশটে গন্ধে ভরে দিয়েছে স্মৃতি
আহ একটু থেমে থাকার মত বিকেল
বানিয়ে তোলা রাস্তায় একটা চুপচাপের স্তম্ভ
বেরনোর পথ যে সরু তা জানতাম না কি?

আমি মাথা তুলছি আর
একধরণের কামনার কাচ ভরে যাচ্ছে চারপাশে
যেভাবে সহজ হলে কথা হত
এই ভিজে পাতা ভরা পিচের গলি দিয়ে
ছড়িয়ে রাখা যেত অপরিচিত ভাষার কাগজ 

এই ফাঁকাকে গিলে নিতে পারত কি?
এমনকি আলোর উল্টোদিকে ঠেস দেওয়া সাইকেল
বেরোতে চাইছে কি?
নাকি শুধু দেয়ালে নিজেরই রং 
পুড়ে যাচ্ছে 


 কোথাও কি চাবিগুলো ফেলে আসতে চাইছো?
 কোথাও কি চাবিগুলো ফেলে আসতে চাইছো?
একটানা পিঁপড়ে ঢাকা চলাচল দূরবর্তী কাচের বয়ামে…
দরজা ভরা ছেড়ে আসাগুলো আটকে রাখছে কে?
এভাবে বিরাট একটা বাক্স তৈরি হয়ে যাচ্ছে
প্রতিহিংসাপরায়ণ আলো ঢুকছে
আমাদের মাথার নিজস্ব শিয়রচাঁদা
থেঁতলানো কাঠবেড়ালিতে থমথমে কথা
নির্মিত হাঁটার গোলার্ধ…
দিকজ্ঞান বিছানায় পড়ে থাকছে বর্ণমালা
অপঠন পদ্ধতির দীর্ঘ পাঠ্যক্রম

উদাত্ত বলে কিছু নেই
ঠিকরে উঠেও না বেরিয়ে যাওয়াকে অভ্যেস
মিত শব্দ চালান করে দেওয়া শুকনো ঘাসকে হৃৎপিণ্ড
এই তো সামান্য অভিধান!
একপ্রস্থ থকথকে স্তব্ধতা তারিয়ে দেখছি
বাল্ব ও শীত, আহিরিটোলার দিকে এবছরও যাওয়া হলনা
গঙ্গা শব্দটা শুধু আদি বা শ্রাদ্ধের সঙ্গে এঁটে
যেখানে নিশ্বাস নিচ্ছি সেখানে শুধু ভেজা পাখিতে ভরে থাকা পার্ক
এই যে ভাঙন মানতে চলে আসা
একঝলক কাঁঠালের গন্ধে জ্যৈষ্ঠ শব্দটি টলটলে
হাতপাখার মৃদু নীল পাড়া
ছাত বন্ধুত্বকামী সন্ধে ও উজাড়
তুমি চেয়ে রয়েছো
হলুদ কাগজ টানটান
হালকা বাতাসের এই বিকেল আসলে অপেক্ষা মোড়া পাতা
আচমকা হাত রাখা কি আসলে তালুর ফাটল দেখে?
বলি তুমি তো যুদ্ধ জান না
খবর কাগজ থেকে দূরে যে ঋতুদাগ গড়ে উঠল তার পাশে
একটা ফ্যাকাশে হাড় রঙের পায়ে চলা
একে রাস্তা বলো আরেকটু গেলেই বালকেরা যে মনস্তম্ভ গড়ল
তাতে কালো দোতারা পুঁতে রাখল কে?
ক্রমাগত গ্রীষ্ম শব্দটি
কাদের বাড়ির ভাঙা বিয়ের বাল্বগুঁড়ো হয়ে উঠছে


 
শুধু একটা টুকরো দেখি
কমলা হলুদ সামিয়ানা হতে চেয়ে যে সময় ভেসে থাকল
চোখ বুজলে ত্রস্ত মাঠ বিন্যস্ত খেলা
ক্রমশ শুকনো একটা নদী খাতে টেনে নিচ্ছে
ত্যক্ত নৌকার কাঠে তখনও
তিরতির করে কাঁপছে আঁশটে খয়েরি
সেটাই বিকেল
কী প্রাণ দৌড়নো তোর
প্রথম বীজ তৈরি হচ্ছে
আয়নাহীন ভাষার

আমি তো সহজে কোনও দরিয়ার কথা বলতে পারিনা
একটা নম্র বিকেল যেখানে প্রতিদিন নামিয়ে এনেছে
ট্রেন না যাওয়া ট্র্যাক বড় ঘাস বন্ধুত্বহীনতাগুলো
পরপর ফেরত আসছে শুকনো অক্ষরের খোল
একেই তো কথা বলে ডাকছি
এই জান্তব বিশ্রাম কামনা থেকে দূরে
ভেসে থাকছে তোমাদের যাতায়াত
হাওয়া ফাঁপিয়ে তুলছে ঋতু অভ্যস্ত ধাতব গাছ
তোমরা ফিরছ কিনা বোঝা যাচ্ছে না
শুধু বইগুলোয় পতঙ্গ হয়ে থেঁতলে থাকছে বাংলা
আচমকা দূর জনপদে আসি
আয়নাহীন বড় মাঠ  ঝাঁকড়া আখ গোত্রের ঘাস

কয়েকটা গঙ্গা ফড়িঙের সাবোতাজ় সবুজে  মাথা নামাই

যুদ্ধ স্মৃতি বলতে শুধু 
গবাদী পশুর ফেরার ধুলো ওড়া
একটা সামান্য চাঞ্চল্য
তখনও এই সময়ের কোনও নাম নেই
কয়েকটা আদুড় গা লোকের পিঠে
লকলক করছে বাড়ি আসা  এই আসন্ন চৈত্রে

আমি কি এই রুপদস্তা বর্ম বিকেলের নাম দেব মাতৃভাষা?
কী অসীম আয়োজন চলছে
সদ্য ছেড়ে আসা কোনও খোলস দিকে সাপের শরীর ভাবি
যদি এড়িয়েও যাই যা কিছু আমাদের দূরত্বজ্ঞাপক
তেমন যাবার কোনও দিক নেই
নিজেকে দিনের দেহে তপতপে ধাতু মনে হয়  


 
 একটা  দেয়ালের সামনে বসি

দ্রুতচলা ফুসফুস ক্রমশ স্বাভাবিক গন্ধে টানটান
নিকনো রুক্ষতাগুলো পিত্তি রং
স্তম্ভ হয়ে থাকা অচলনে
এভাবে চৈত্র কি ক্রমাগত বোলতা-হলুদ হয়ে উঠছে?
তবে কেন শিখাগুলো লিখে ফেলতে পারছি না আমরা?

এলোমেলো মাংস ছড়িয়ে থাকত
কাপড় ঢাকা স্পর্শহীন
হাসি কি ছিল না ভাবি
কথাগুলো কেন ভিজে হাওয়ায় বেঁকে যেত না
যদিও বাড়ি তৈরি হয়ে যাচ্ছিল একে একে
বোলতা-হলুদ এক ধরণের বিশ্বাস চারিয়ে যেত সন্ধে হলে
কোন গ্রন্থন ছিল না কি ভাবি
কেন এই পুনরাবৃত্ত ছিটকে যাওয়া
এই সুড়ঙ্গ থেকে দূরে কোথাও একটা অস্পষ্টতা তৈরি হচ্ছে
ছাই নদী ক্রমশ বিশ্বাসহীন
যে মেয়েটা লাজুক হাসি মাখিয়ে দিচ্ছে ফোনে
উল্টোদিকে প্রেমিক থাকছে কি?
অসম্ভব আঁচড় বসাচ্ছি শরীরে
ছিঁড়ে ফেলতে চাইছি বহুদিন কাগজে মুড়ে রাখা মাংস
যা রাস্তা শিথিল পুকুরধারে গেল
সেখানে কেন ভিজে পায়ের ছাপ দেখা যাচ্ছে না দুপুরে?
তবুও বালি নয় গাভিন না হওয়া নিয়ে চিন্তিত কেউ
মৃদু কথা ফেলে রাখছে অন্য স্ত্রীলোকের কানে
আর দুপুর শুরুর রং চিরতা ফুল
বারবার চকের গুঁড়োর গন্ধ ভরে উঠছে 

এভাবে পালানো যায় বলো?
ধীর লয়ে সাদা মৌমাছি ঘিরে নেবে সময়
মোম নয় ঝলস ওগরানো এই স্থিরতার মধ্যে
কাচের ঋতু, এই জলভাব আমাদের কি বারবার
সদ্য দোলের পড়ে থাকা রঙের দিকে ডেকে নেবে?

 
মাথা নামিয়ে আনছি আর পায়ের তলার অংশে জমে উঠছে রঙ আমার বলার শব্দ নিশি ধরণের জাগা বা উচ্ছন্ন নিয়ে বলার লোক নেই ভাবি অথচ এই এই চলা বা না চলার মধ্যে যেভাবে হাতে জমে উঠেছে প্যাকেট আমার ভয় আমার ক্রমাগত না বলা জমে একটা শীর্ণ কাগজ তৈরি হচ্ছে অক্ষর জমাট বাঁধা অথচ আমার বিশ্বাস লিখে রাখা যাচ্ছে না আমি শুধু বাবার সঙ্গে কথা বলতে চাইছি এই চৈত্র বা মাছরাঙা আকাশ নয় বরং সঙ ও চড়কের কথা বল এই মন্দির গন্ধের ভাষাটায় মৃত শব্দটির কোনও না-ধর্ম পরিভাষা নেই কী ডাকে তোমার সঙ্গে বেরোব ভাবি এই ধুলো কাচপ্রবণ বাক্যবিন্যাসে শুধু প্রচলন আমার নিয়মের দাসখত দেওয়া রাস্তা তোমাকে কি টানবে? শুধু লোক যাচ্ছে কেবলই ধুলো গুঁড়ো হয়ে থাকা কোনও মৃত কবির জন্মদিন মিশে থাকছে ঠোঁট নাড়ছি আসলে কোনও কাল নেই কোনও আজ বা বিগত নেই এই ন্যাড়া থেমে থাকার গায়ে একটা কমলা বেড়াল ক্রমাগত ঝরাপাতায় হারিয়ে যাচ্ছে

 
এভাবে উশকে ওঠা গলি
স্তব্ধ পড়ে থাকাগুলো – জামরুলের ফ্যাকাশে
থেঁতলে দিয়ে যে মিনার গড়ে উঠল
 সেই তো বিকেল – বাড়ি ফেরা মানে কিছু প্লাস্টার না করা দেয়াল
খয়েরি ছোপ লাগা সাদা পালকের আঁশটে
আমি কেন বারবার নিজের কথা শুনতে চাইছি
কেন বারবার হাসি দিয়ে ঢেকে দিচ্ছি রুমাল? 


বিবাহবার্ষিকীহীন পুরুষের হ্রস্ব ছায়া ঘুরে
কিছু কুঁচকে যাওয়া মুখ, রঙচটা পলেস্তারা খসা
ভাষার শরীরে ঢুকে পচিয়ে দিয়েছে রাস্তা
 আমাদের না দেখা – কেন কথাগুলো জুড়ে ঢোলকলমি পেঁচিয়ে থাকছে
বহুদিন না বেরনো রিক্সাগুলো ভরে দিচ্ছে লেখা
কোথায় পালাবো ভাবি – নির্মাণের সহজে?
যে চৈত্র দুপুর খুঁড়ছে সেই কি স্থবিরতা?

পর্ব ২

প্রতিদিন যেভাবে রূপোলি কিছু ফিতে
ঘিরে থাকে খোবলানো পুকুরের চিহ্ন দেওয়া দিক
আমাদের নিয়ে যায় নির্মাণশৈলীর বাঁকে
 আমাদের ফাঁকি – কেন দেখতে পাচ্ছে না ফোঁপানো, প্রতিদিন চুপিস্বরে কথা
কেন থেঁতলানো অক্ষরে জীর্ণ পাতাগুলো আঁশটে বাদামি রেখায় ভরে উঠছে
কেন বাড়ি দিয়ে ঢেকে দিতে পারছি না থাকা?

সময় সহজ ফুলে কাচ মেখে উঠেছিল দিন
ক্ষীণ ছায়া আসলে নরম কিছু পাথুরে দুপুর
ঢুকে এসেছিল মেধা
ক্যানভাসে ইঁদুর আটকানো দিন কীভাবে ছাড়াবো
কেন একা ফেরাগুলো কাগজ হয়ে উঠছে
দীর্ঘ বিরতিচূর্ণ কেন দিন ছিঁড়ে নিচ্ছে না ক্যালেন্ডার থেকে
পাকানো রাস্তায় পড়ে থাকছে বাড়ি এক পরিত্যক্ত শিখা
যে আশ্রয় পড়ে রইল আয়নাহীন সেই তো চৈত্র
শুধু তুই শুষে নিয়েছিস প্রাণ বা সহজ ধাপ
দেয়ালে জলের দাগ খসা পলেস্তারার হাড়
দাঁতে একটা টুনটুনি ছিঁড়ে ফেলে দাঁড়িয়ে রয়েছি
এলোমেলো জ্বর এই বিকেলের স্টিল
ঠোঁটে কাগজের অক্ষরগুলো হাত চাইছে
উপড়ে ফেলতে চাইছে সিঁড়ি
কেন বারবার রাস্তায় মিলিয়ে যাচ্ছে ফেরা?

মেধার শরীরে কিছু টুকরো পাথর
নরম কাদার দেহ উল্লম্ব দাঁড়িয়ে অক্ষহীন
ধসে যাচ্ছে কিনা ভাবি
রোদের সুড়ঙ্গে ঠাসা তারিখে
কেন অবান্তর লিখছি
রাস্তা আঁচড়ে চলে যাওয়া কুকুরের দ্রুতি
 কেন মিশিয়ে দিচ্ছি চামড়ায়
তোকে লিখছি না মূর্তিহীন নদীপাড়
মেধাগাছ স্টিল দিয়ে বাঁধা
এই কাগুজে বিকেল মতান্তরের ফ্যাকাশে
শিরা দিয়ে যাবে ভেবে জাগিয়ে রেখেছি বাধা
জিভে শ্যাওলার স্বাদ
তোকেই সিদ্ধান্ত ভাবছি
যেখানে হাতড়ানো শেষ চৈত্র শুরু
সেখানেই নিহিত সাদা কাগজ পুঁতে আসছি
মাতৃভাষাহীন পার্কে

আমরা নেমে এসেছিলাম যে রাস্তায়
তার পাশে  শুধু ভাঙা
কয়েকটা দরজার ফ্রেম, আমাদের প্রতিদিনের নেমে আসা মাথা
বস্তুত উত্তর না পাওয়া গুলো
ঢেকে যাচ্ছিল মেয়েদের উন্মাদ হাসিতে

 
এভাবে আসলে নিজের চামড়ার বাইরে বারবার
ভেবেছি প্রেম তো আঙুলের খোলস আর নড়াচড়া জমিয়ে রাখে
ফেলে দেয়  না
-বোঝা স্বাদের মধ্যে কর্কশ ভাষাদাত্রী – তারপর অপেক্ষা লেখা কাগজটাকে কুটিকুটি করে ভাসানো
যেভাবে হাসির শব্দ হালকা বৃষ্টির মধ্যে মিলিয়ে গিয়েছিল

পর্ব ৩

শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, প্রসূন মজুমদার বন্ধুবরেষু

মিথ্যেকথার পাশে যে পায়ে চলা আমাকে ক্রমাগত জলাশয়ের দিকে ইশারা করছে – আমি তেমন ভ্রান্ত নই এখনও – শুধু আসঙ্গলিপ্সা যেভাবে বধির করে রেখেছে এই দুপুর তার গ্রীষ্মপ্রধান হলুদ পরিখায় থাবা ছড়িয়ে শুকনো মাটি আঁচড়ে খুঁজে নিচ্ছে গভীরতর পিঁপড়ের বাসা – আমি তাকেই বহন করছি আয়না থেকে আয়নায় – শুধু পুরনো বাক্যের গরদগন্ধ লুকিয়ে থাকছে – লোকে বলছে নৈঃশব্দ্য কেবল আমাকেই ঘিরে থাকে আরেক নিঃশ্বাসের মত

আর এভাবে মাথা নামানো নয়, জিভ ভূগর্ভে নামিয়ে পাথুরে যোনির স্যাঁতসেঁতে গন্ধে নুন ও রক্তের মত পুরনো অস্তিত্বের ছটফটানি নয় – ভাবি কীভাবে পতঙ্গের উড়ান মিশে গেছে শ্বাপদের ছায়ায় – কীভাবে বারবার কাতর দাঁড়াতে চাওয়াগুলো হাতড়ে পাওয়া অন্ধকার সিঁড়ির গায়ে খুঁজে পেয়েছে গড়ানো বোতলের শব্দ – শক্ত অথচ অপারগ চোয়ালের পেশি যা লিখতে চেয়েছে সবই ঢুকে এসেছে অবান্তরতার সামনে – স্বপ্নপোশাকে যে লৌকিক আমার সামনে ছদ্ম সে-ই আমার বিবিমা – আমিই কাঠ কুঁদে পেঁচা সাজিয়ে রাখছি সন্ধে নামক ঝাঁকড়া গাছে

আসলে সমস্ত কথাই জড়ানো – বারবার বালির বিন্যাসে জাগা স্বর এভাবেই বাক্য ও মিথ্যার মাঝখানে যে বাঁকা পায়েচলা সেখানে পুকুর সাজানো থাকে – ভাঙা শানের ঘাটে কেউ বাসন ভিজিয়ে গেলে মাছ আসে – মোটা হলুদ দুপুর শেষের কণা খুঁটে যে সময় জলজ হল তাকেই প্রতীক্ষা বলি – খানিকক্ষণ পা ডুবিয়ে বসতে চাইলে কি টুকরো হয়ে যাবে?

আর কিছু জানা নেই এই মাটি তার গায়ে কুমোরের হাত না পড়া স্তব্ধতাতেই জন্ম, এই ভেবে মুখ ডোবাচ্ছি – জাগিয়ে রাখা সময়গুলো, এই নির্মিত তার হলুদ ডেলা হয়ে থাকা ঘুম ভাঙা আমাকে আবার কান পাততে বাধ্য করছে – এই বধ্য কাগজের ঘোড়াগুলোকে নিয়ে যাচ্ছে মূর্তিগড়াদের গ্রামে – ভাবি এই কাগজকেই তো দূরত্ব ভেবেছি, এখন তার ওপর আক্রমণ শানাচ্ছে অক্ষর – আমি ক্রমাগত ভারি শব্দটার গুরুত্ব বুঝতে গিয়ে দীর্ঘদিন জলে না যাওয়া নৌকার কাঠের ম্লান মেলে দিচ্ছি ছাদে
আর কোনও কথা নেই – শুধু দেখা – এক বাগান যাকে আঁখিপল্লবের সংযোগস্থলের মত ছায়ারেখা ঘিরে রেখেছে সেখানেই মরশুমের প্রথম বৃষ্টির মধ্যে মিশে থাকবি তোরা – দূর থেকে, যেখানে আসলে প্রতিটা মূহুর্তই দুপুর – দৃষ্টি একটা মোটা রোদের দেয়াল –  আয়োজন সর্বস্ব রাস্তা,
মেঝের ফ্যাকাশে এক হয়ে কী যেন ইঙ্গিত করে আমায়, অভ্যস্ত শরীরে দীর্ঘদিন বাদে ফেরা যৌনতায় যেভাবে সমাধি থাকে, কল্পনার সান্ধ্যফুল ও তার ব্যাপ্তি একধরণের নিঃশ্বাস, সেখানেই তো ফেরা! আচমকা ভাঙা ভাষা, ছেঁড়া ক্যাসেটের ফিতে ভরা এই রাস্তা আমাকে কোন দিকে টানছে?

শুধু বাড়ির কথা ভাবছি – এই যে দুপুর একধরণের ঘোলাটে আয়না চারপাশে – জানলা ও অমলতাস – হাত বাড়ালে নিজেরই আলিঙ্গন – কতদূর দৌড়? তোদের সঙ্গে তর্ক করব এই রক্তক্ষয় তো আসলে আমাদের – নদী থেকে মাথা তুললে যদিও কোনও প্রিয়দর্শি শিলালিপি পাইনি – এভাবেই প্রতিনিয়ত যে প্রতীক্ষা ও না কথার মণ্ড তার নাম দিচ্ছি সান্ধ্য – আমি ভুলে যাচ্ছি অকস্মাত রাতের বৃষ্টিতে ভেজা পাখিদের ডানার শব্দ – আমি বাংলা অক্ষরগুলোকে শ্বাসমূল ছুঁইয়ে রেখে আসছি শুকনো 
জাঙালে

তোরা বলবি নদী থেকে বাষ্প নিয়ে ফুলে উঠেছিল বর্ণমালা – আমাদের আষাঢ় মাসের পাড় বরাবর কেউ মেলে দিচ্ছিল সদ্য লেখা চরিতকাব্য যার সন্ধানে ব্যাপৃত ছিল কাল! এই বর্ষাকল্প ও তীব্র দুপুরের মাঝখানে উদ্বিগ্ন আমি দাঁড়িয়ে রইলাম – সন্দেহভাজন শুষ্ক বাতাস এসে আমাকে ছন্ন করে দিল চিরতরে – ধুলো থেকে নিস্তার নেই কোনও ভাষার – ক্রমশ কর্কশ বাক্যবিন্যাস নিয়ে কথা বলতে লাগলাম দুনিয়ার সঙ্গে – জলজ ভষ্ম আমাকে আগুনের হলুদ নৈঃশব্দ্যে নিক্ষেপ করতে লাগল – এত ঔজ্জ্বল্যের কথা চরিতকাব্য জানত কি?

বৃষ্টিতে না জন্মাতে পারা দুপুরে যে জেগে ওঠে সে আসলে ছোট নদীতীরের শ্মশান – নিস্পৃহ কুকুরদের নেমে যাওয়া পাঁক ও বিন্যাসহীনতার দিকে – সেখানে আমি আগুনের দেয়াল বসাই, আমার বেলেপাথরের চোখ, ক্রমশ শক্ত হয়ে আসা মাংসপেশি – লোভ দেখাই – অথচ আমার তো এখন মাঝবয়সী বাবার মত তুচ্ছ জিনিসে মন দেবার কথা – আমার শরীরটা ক্রমশ দেহ হয়ে ওঠার মাঝখানে এই যে অখণ্ড অবসর একেই তো দ্বিপ্রহর বলে – অবগাহনরহিত আমি কোনওদিন প্রকৃত স্পর্শ, মাংস ছিঁড়ে আনা চুম্বন জানিনি – এভাবে শ্বাপদের সামনে জলাভূমির ঘাস ও ভারি নিশ্বাস আমাকে ফাঁপিয়ে তুলছে
এখানেই নগ্ন প্রাকার তার হলুদ মোটা নিশ্বাস নিয়ে অপেক্ষায় – ধুলোর বাতাসে শিখা আর কোনো আস্ত বাক্য নেই – মানতের সুতো বেঁধে রাখা ঝলসানো গাছ – দুর্বলতাকেই তো গিঁট দিয়ে শক্ত করে তোলা – এই যে একটানা এস্রাজের অনুষঙ্গে ভেসে থাকা, শেষ করতে চাওয়া – ঋতু ও তার অমোঘ শাখায় স্পর্শ করাচ্ছি জল, তপ্ত লৌহশলাকার আওয়াজে সচকিত হয়ে থাকছে দিন – আমি ইতিহাস  নামক বিষাক্ত
অভ্যেসের দিকে পালিয়ে চলেছি

তোদের সঙ্গে দেখা হবে খুব চেনা কালচে নদীতটে আচমকা ধারালো ভারি আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া দুপুরের ঘাসের জঙ্গল জুড়ে তখন পুরনো একটা বর্ষা না খাওয়া আশ্বিন – গোপন কয়েকটা সাপ জিভে বেঁধা কাঁটা নিয়ে চলে যাচ্ছে মসৃণতার দিকে – এই বাতাসকেই বলি মসলিন 
– আমি যেখানে কেবলই একটা না হওয়া প্রার্থনা – মাথা নেমে আসছে আর তার ভারে মাটি একটু করে নরম হচ্ছে – ইতিহাস ভূগোলহীন ঘড়ির কাঁটা কুড়িয়ে নিচ্ছি সেখান থেকে
পৌঁছেছি সেই সময়খণ্ডে যেখানে পাপড়ি পোড়া গন্ধ আমাদের নিয়ে যাচ্ছে এতদিনে হারিয়ে ফেলা শরীরের দিকে – আর কোনও গতি নেই – শুধু মুলতানি মাটি ও সুরের রঙে এই যে দুপুর শেষ তাতে কেন ঘোলাটে নদীর চর – গন্তব্যহীন কিছু চলাচলে ঠাসা নৌকা, অহেতুক না যাওয়া স্মৃতি – ভঙ্গুরতা ছোবল বসিয়ে গেছে কাগজে – ছড়িয়ে দিয়েছে ছায়া বা না ছায়ার মাঝে এক উত্তল রাস্তা – আমি যথারীতি বিষ এই পাথর চাটতে গিয়ে লক্ষ করছি আমাদের চোখ এখনও অস্বস্তিকর কিছু স্ফুলিঙ্গ দেখতে চাইছে

এভাবেই ঢুকে এসেছিল দুপুর আচমকা যেভাবে তালার ধাতব খিল লেগে যায় দরজা থেকে ফ্রেমে – আওয়াজ ও চোয়াল শক্ত – আমার শরীরে এসে বাসা বাঁধে, নিশ্চিন্ত পোকার খোলস ও ঔজ্জ্বল্য নিয়ে – দাঁড়, রগড় – আমাদের জেনেসিস ক্রমশ শিরশিরে পাতলা সুতোর ফ্যাকাশে – বছরভর পুষে রাখা ঘা থেকে দুর্গন্ধ নেয় – পাক খায়, ওড়ার মাটি থেকে নির্বাচিত ক্ষয় অব্দি আমাদের যে লুকিয়ে রাখা – একটা কুয়ো তৈরি হয় গোপনের – ছায়াহীন সময়ের কোবাল্ট নীল জলে গুলছে – নক্ষত্রখচিত হবে একটু পরে – আমার শরীর থেকে জন্তুটা যৌনতাহীন আশ্রয় পর্যন্ত গিয়ে নুন চাটবে – জানলা সর্বস্ব এই থাকাটুকু সন্তান কামনা থেকে কিছু দূরে বিশ্রাম
এই সময়ে স্বাদ আসলে একটা ভাঙা বাক্যবিন্যাস – সম্ভাবনা উশকে দেওয়া এলোমেলো ট্যাক্সি চড়া – আমি প্রশ্নগুলো হাতিয়ে ফেলছিলাম ঘাস পোড়ানোর ছলে – স্বাদ আসলে একটা ব্যাকরণজনিত ফাঁদ – দুপুরের তপ্তপ্র ধাতুর ওপর মুহূর্তের বাষ্পবিন্যাস ধহরে জেগে থাকা সকাতর – এভাবেই যে আসতে চেয়েছিলি তার কোনও সঠিক প্রমাণ নেই – এভাবেই যে থেকে যাওয়া যাবে – বারবার চলাচলহীন ঘাট প নৌকার ব্যবধানে ভেসে থাকবে মৃত সাপের ফ্যাকাশে – বহুদিন ভাসান হয় না এমন সময়টা জমাট বাঁধলে তাকে দ্বিপ্রাহরিক বলে, হিংস্র মানুষের সুচারু হাতে সাজিয়ে নেব বাড়ি ফেরাগুলো

ধুলো কাঁপা হলুদ পর্দা ও তার ক্রমশ বাষ্পহীনতা নেমে আসছিল শূন্যে তোলা অসতর্ক পদক্ষেপ – কোথায় দিকচিহ্ন কোথায় বাক্যবিন্যাসের শাঁস জেগে থাকবে এই ব্যবহারহীন সময়ে – ভাবি শরীর ক্রমশ দূরত্বজ্ঞাপক কেন – এই কাগজফুল ও পেঁয়াজের খোসার বেগুনি চিরে পড়ে থাকা অস্থিরঙের প্রবেশ আমাকেই টানছে – এই যে বারবার মাথা ঠোকা আমাকে কি কোনও বরফের দেশে নেবে – পাথর ও জিজ্ঞাসাপূর্ণ সম্মোহিত ধূসর গলার তোতা আমাদের আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে থাকে – প্রতিনিয়ত নামক অভ্যাস বস্তুত কথোপকথন থেকে আরেকটু বেশি প্রস্তরিত মেঘে সরে যায়
এইভাবে বাষ্পঘেরা গেলাসের স্বপ্ন – নিয়ত সহকর্মীর শ্লেষ, ক্রমশ শিথিলতা মানে স্নেহ ও উত্থান – আমাদের বাধা দেয় ক্রমশ পাথুরে রাস্তার দিকে উঠে থাকা শুকনো প্রাগৈতিহাসিক বৃক্ষজাতি শুষ্ক গিরিখাতে – সেই তো দেখা – দৃষ্টি আসলে একটা উজ্জ্বল হলুদ লেগে অন্ধ শহর – পরপর উৎখাত হওয়া কৃষি আসছে – উৎখাত হওয়া না লেখা ব্যাকরণের উল্লাস – আমরা তো আগুন চাইছি – দীর্ঘাঙ্গী মেয়েদের ছায়ায় যে পিঁপড়ের দল জল ভেবে ভিড় করল, সেখানেই তো বারবার শরীর পেতেছি – প্রতিশব্দহীন যন্ত্রাংশ প হাঁফানো শ্বাপদের আওয়াজে মিশিয়ে দিয়েছি শ্বাসকষ্ট মাংসল কামড় 


পুরো দুনিয়াটা একটা দুপুরখণ্ড – এবড়ো খেবড়ো হলদে পাড়ের জলাশয়ে লেগে থাকা নারকোল গাছের ছায়া – আমাদের গাঙ্গেয়তা নিয়ে পালিয়ে যাওয়া মূর্তিসমূহ – এই দীর্ঘ চেয়ে থাকা বা এভাবে নয় বলতে চাওয়া – বারবার কেউ সরে গিয়ে অমরত্বের ধারণাকে টাল খাওয়ায় – এই দিন আমি ধরে রাখছি বাষ্পহীনতায় – আচমকা ওঠা ধুলো ঝড়ের গায়ে আটকে দিচ্ছি জৈষ্ঠ্য – ক্রমশ কালো হয়ে ওঠা এই চিঠি না লেখাকে বলছি জল, আমাদের না থাকা, আমাদের দীর্ঘশ্বাসের দুনিয়ার মধ্যে গিঁথে রয়েছে ঋতু – আর কোনওদিন কথা বলবার ছুতো খুঁজবে না

বারবার নিজের ভয়ের ধাতব স্তম্ভে মুখ থ্যাঁতলানো – এই উচ্ছিষ্ট সকাল তেতো দৃষ্টি – এই যে স্বাদ সামনে – তোর আঙুল স্পর্শ করে অমলতাসে মিশিয়ে দিচ্ছি কাঠবিড়ালি – সেও সকাল – নিহিত চিৎকারগুলো ধানখেতে জন্মানো তেচোখো মাছের পলায়নে ছড়িয়ে দেবার ছলে ছুঁয়ে আসব ভাষা – শুধু মাংসপিণ্ড জাগিয়ে রাখব জোয়ার আসার মোহে – যা কিছু নিজের ভিতরে মরে – প্লাস্টিক পোড়া গন্ধে সচকিত হয়ে থাকা দুপুর আসার প্রেক্ষিত – সেটুকুই অধিকার – ব্যবহৃত বাক্যাংশগুলো কুঁদে আসব জেদ নামক পাথরের গাছে – আক্রমণে

পর্ব ৪

রঞ্জিত হসকোটে কে
মা ও তার কন্যারা বেরিয়ে আসবে,
হাতে হাত রেখে, প্রকাশ্য দিবালোকে, অচেনা পুরুষের সঙ্গে
৩৬ নং কবিতা      লাল
দিয়েদ (চতুর্দশ শতকের কাশ্মিরী শৈব সাধিকা-কবি)

১
আমি কি আচমকা কোনও কাগজের স্তূপ থেকে দূরের শহর খুঁজে পাবো? যেখানে শহর বলে আসলে কিছু নেই শুধু মেরুদণ্ড-শীতল রাস্তার চিহ্ন ঘাম বেয়ে শুধু জিভ ও আমার স্বাদ অভ্যস্ত শরীর ঘেঁসে সেরে ওঠা বিয়েদের গন্ধ খোঁটে
শুনতে পাওয়া বলতে শুধু ধুলো – এতকাল আওয়াজ শুধু ঝলসে উঠতো দিনের বেলা –  কাল বলে যে জড়তার মধ্যে থাকি, সেখানেই সঞ্চারের ডানা – বন্ধুকে খুঁজে বের করার ছলে শব্দ ধরে বেড়ানোর খেলা – অজানা ভাষার কাছে মাথা রেখে শুধু কুকুরের ডাকে সচকিত আবিষ্কার করে নেওয়া এক তালা খোলা দরজা – এই ঠিকানাই তো ছিল শেষ চিঠিতে – কীকরে এসেছিলে এই অসাড় জিভের ভাষায়?
২
এভাবে যদি কবিতাকে এনে ফেলো এই নষ্টের মধ্যে এই রাস্তা এই ক্রমাগত ধারালো সভ্যতায় – তুমি অপেক্ষার গায়ে ফোটা দীর্ঘ বৃষ্টিবাষ্পের দিকে দেখো, তেমন কিছু নয় অথচ অন্য কেউ বুঝে নেবে বলেই তো এই দাঁড়ানো –  এইসব ভঙ্গি  ও
চলমানতার ঢঙে বিস্তার করে রাখা বিরক্তি রঙের মাটি – আর কিছু নয় এই নিহত স্বরে একধরণের আক্রোশ ছররা গুলির সামনে পেতে দিচ্ছে সকালের ফ্যাকাশে অগাস্ট – যেখানে শরীর বলে কিছু নেই ক্রমাগত নিঃশ্বাসে ফেঁপে ওঠা ছাপা অক্ষরগুলো কতদূর যায়?
৩
আর যেখানে শরীর বলে কিছু কিছু নেই স্পষ্টতা মানে এই রাস্তা, আমি আচমকা আবিষ্কার করছি আমার এই মৃত সংখ্যা পতঙ্গের ছোট উড়ানে ভরে আছে – সন্ধান বা বাড়ির নম্বর নেই শুধু এই দীর্ঘ এক সন্তানকামনাহীন নদীপথ, বাঁকে কিছু তন্দ্রা লেগে থাকা
৪
নদী ও শুষ্কতাজাত কিছু ফল পাথরে সাজাই – এই যে নিরবচ্ছিন্ন ধ্বংস, দীর্ঘ বালি, তুষারপথ, জিভ, মাটি ও নিজস্ব কিছু তোতলামি সহ বীজ ছড়িয়ে রেখেছি শ্বাসকষ্টে, বাড়ি নেই – শ্বাসাঘাতপ্রিয় কিছু  ধ্বনি প্রতীক্ষার সময় জুড়ে
জেগে থাকা আলস্যের দীর্ঘতম অর্গল ভেদ করা এই চেয়ে থাকা ভারি বুটের দলবদ্ধ অচেনা আওয়াজের কাছে ঋণ রাখে – আমার নিজস্ব তেমন কোনও শবদেহ অভিজ্ঞতা নেই শুধু এই স্থিত ঊর্ধ্বগামী রাস্তা ধারালো স্প্রিং – কিছুদূর যেতে গিয়ে নিঃশ্বাস হারায়
৫
তাহলে জেগে ওঠা মুহূর্তের? ধুলো ও বরফে মোড়া দুনিয়া কি আসলে পাথর? আমার চাওয়া ও তোমার অচেনা শরীর ঘেঁসে সামান্য যে প্রতিরোধ ছিল সেও তো জাগরণ! জিভের রঙে ফ্যাকাশে ছড়িয়ে এই যে যাওয়া সে তো দিকনির্দেশহীন – না-জন্ম ঘেঁসা আমাদের ক্রমাগত কামড় গুছিয়ে  রাখা
সন্ধেগুলো জ্বর সাজাতে কেটে যায়

৬

যে নিজে আচমকা ক্রোধে বুঝেছে মাংস ছিঁড়ে নেওয়া
রাস্তা বা সহজ কোনও শীতবোধ নয়
শুধু বেঁচে থাকবার জন্য যে ধন্যবাদ দেওয়া
তার সামনে পড়ে থাকছে পুরনো শব্দের খেলা
দূতের ফুসফুস জুড়ে ছড়িয়ে থাকা যোগাযোগ বাতাস
৭
এ ঘরে তেমন কিছু নেই শুধু দীর্ঘ উত্তাপের ডানা যখন দখল নিচ্ছে শহর ও বৃষ্টিপাতহীনতার ছাই জুড়ে জেগে উঠছে আমার বর্ণনাহীন অতীত, ইতিহাসস্পৃষ্ট পশ্চিম আমি বারবার পরাজয়গুলোর মাপ নিতে গিয়ে তালুর জলে দেখে নিচ্ছি অবয়বের শ্রান্ত চোখ, তখন কতটা দূরে তোমরা? কতটা বিশ্রাম থাকবে এই নিরক্ত অক্ষরে? এখনও লিখিনি ঠিক কীভাবে আমরা তুষারহীন হিমাঙ্কের নীচে থাকা পাথর স্পর্শ করে ফিরেছি, শুধু এভাবেই বারুদ ও অন্যান্য বাক্য ভেঙে দেওয়া গন্ধকে সজীব রাখতে বলছি!

পর্ব ৫

মাকে

১

সে এক মেঘলা না থাকা
কোথাও না যাওয়া রাস্তাগুলো দিয়ে
টানা তিনদিন বৃষ্টির পরে রোদ
ক্রমশ নিমের মধুর রং জলে
তুমি ছাদে উঠেছিলে বালতি ও কাপড়
সাবান জলের মধ্যে সূর্য
তোমার রান্নাঘরের দেয়ালে ঠাণ্ডা হয়ে আসা চাটু
এসব দুপুরগুলো মিনার হয়ে ওঠে
শুধু একটানা বালকের মার্বেল পাথর নিয়ে ক্রিকেট
পরতে পরতে বৃষ্টির গরদে মিশে
ঝাপটা আসছে বিবিধ ভারতি
অথচ তোমার গ্যাস ক্রমশ নীল
ধাতব একটা চাকতি পাঠাচ্ছে মাথায়
হাঁড়ির গোল মুখ দিয়ে
আচ্ছন্ন সূর্যের হলুদ দেখা যাবে কি এবার
শুধু পুঁটি মাছ ভাজা ও বেগুনির
খয়েরিতে মিলিয়ে যাচ্ছে দুপুর দেড়টা
তোমার না কাঁপা হাত
বালকের মাথায় লেগে থাকা ছাই ঝাড়ছে
২
এত ছাই কেন ছিল বাতাসে?
আসলে তো নিম্নচাপের বৃষ্টি ধরার পর গোটা দুনিয়াটা একটা
শামুকের খোলে কাটা পা 
ইঞ্জেকশানের পরে আসা জ্বর
এইভাবে দেশ শব্দটাকে বশ করি
কখন যে বাড়ির অসম্পূর্ণ অংশটা
বালক অচেনা মহাদেশ
চন্ডিচরণে ক্রমাগত স্কুল না যাওয়া সোমবার
শ্বাসকষ্ট বহুদিন পা না পড়া বাঁশপাতার জাঙালে
কিছু সাপ নড়ছে
তুমি জানতে অনুজ্বল দিন বা পশুতে ভয় নেই
যা কিছু নিজের মত বেড়ে উঠত তাই তো তোমার দুপুর
ফেরিওলাহীন মেঘে কি আহ্বান ছিল?
তোমার পিঠ ঠেকার দেয়ালের রং  সাদা
৩
ধরো এই বাড়িতে যারা এল তাদের আমি চিনি না
আমার ক্রমশ বাধা ছিন্ন হতে গিয়ে
বেরিয়ে এসেছে তার অভিপ্রায়
জলজ মিনার
আমি কিন্তু সরে আসছি
মেলে রাখা গতকালের ছাতার নিচে
একধরণের বসবাস আমি সানন্দে নিজেকে রক্ষা করছি
মাথার উপর ধাতব ডালপালা
কী অসীম দূরত্ব ও মাঝের রঙিন ছোপ
পুষ্প ও জঙ্গল  পালিয়ে যাবার কথা
মৃত পোষ্যের মুখ বেড়ে উঠছে ক্রমশ
অব্যবহারের ছাদে চারা গাছ
অথচ বেরিয়ে আসা থাকে
ঘরভর্তি না বোঝা বাক্যের দিকে চোখ থাকে
ক্রমশ বৃষ্টিতে মিলিয়ে যাওয়া পাতা ও রঙিন ব্যাকরণ
স্পর্শ করে আমার চুল
৪
ধরে নিলাম মাঠটায় কিছু নেই
দুপুর একধরণের জৈষ্ঠ্য
বিন্যস্ত ধুলোর ধাপে বাবর ও সৈন্যদল
একধরণের আত্মরক্ষার মত জমাট
আমি তো তোমাকে বলিনি
যে জাহাজ ছেড়েছিল গোপনে
থকথকে জল এসে রেখে গেছে তার
কাগজের মাস্তুল রোদে পুরনো ঘিয়ের ছিটে
এভাবেই ঋতু ও বদলের দাগ
ক্রমশ শেষ-কে তুমি বশ করেছো ময়দার সাদায়
যেভাবে অজানা ভাষার টিভি অনুষ্ঠান
সাদা কালোর গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়েছিল
একটু পরেই হাত স্পর্শ চাইবে
খিদে পেরনোর ছলে রাত
ঘোড়ার ক্ষুরের শব্দ রাখবে চুলে 


সামনে শুধু বিকেল নামক একটা গোলক
কিছু সবুজ কাগজ খুব নীচু দিয়ে ওড়ার সময়
বিক্ষিপ্ত ছায়া রেখে গেল
আসলে শরীর যেভাবে বেড়ে উঠেছে তা বন্ধু পাবে না
যেভাবে ঘাসের গায়ে চামড়া রেখে বলেছি আহ ঠান্ডা
সেভাবে কিছু কথা স্বাভাবিক রেখে দিতে চাইছি মাটির খয়েরিতে
পুরনো ভাঙা বাসন ফেলে দিয়ে যেভাবে অপেক্ষা করছি পতঙ্গহীন

***

শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, জন্ম ১৯৭৮, কলকাতা। প্রকাশিত কবিতার বই ৫টি। বৌদ্ধলেখমালা ও অন্যান্য শ্রমণ কাব্যগ্রন্থের জন্য সাহিত্য আকাদেমির যুব পুরস্কার, পেয়েছেন মল্লিকা সেনগুপ্ত পুরস্কারও। স্পেনীয় সরকারের দেওয়া আন্তোনিও মাচাদো কবিতাবৃত্তি পেয়েছেন ২০০৮ সালে। পোয়েতাস দে ওত্রোস মুন্দোস সম্মাননা ২০১৪। স্পেনে চারটি কবিতার বই প্রকাশ পেয়েছে। ডাক পেয়েছেন মেদেইয়িন আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসব ও এক্সপোয়েসিয়া, জয়পুর লিটেরারি মিট সহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবে। অংশ নিয়েছেন Poetry connections India-Wales প্রকল্পে। দক্ষিণ আফ্রিকার কবি আরি সিটাস, ও স্পেনের কবি ফেরমিন এররেরোর সঙ্গে লিখেছেন যৌথ কাব্যগ্রন্থ। বর্তমানে দিল্লির ইন্সতিতুতো সেরবান্তেস এ স্পেনীয় ভাষার শিক্ষক।

কাচের সর্বনাম - শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

কাচের সর্বনাম – শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

Reader Interactions

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক

সিরিজ

বইয়ের ধরণ

বাংলা ডিকশনারি

বাংলা জোক্স

বাংলা লিরিক্স

বাংলা রেসিপি

বিবিধ রচনা

বাংলা হেলথ টিপস

Download PDF


My Account

Facebook

top↑

Login
Accessing this book requires a login. Please enter your credentials below!

Continue with Google
Lost Your Password?
এভারগ্রিন বাংলা লোগো
Register
Don't have an account? Register one!
Register an Account

Continue with Google

Registration confirmation will be emailed to you.