ইতিহাস পুরাণ : মিথ ও মিথ্যা – ইমানুল হক
ইতিহাস পুরাণ : মিথ ও মিথ্যা – ইমানুল হক
প্রথম প্রকাশ জানুয়ারি ২০২৪
ITIHAS PURAN : MYTH O MITHYA
A Dissecting View of Indian History & Mythology
by Emanul Haque
.
ভূমিকার বদলে
মানুষের চিন্তা তার পরিচয়। পোশাক জাত ধর্ম কিংবা পদ নয়।
মানুষের মৃত্যু হলেও মানুষের চিন্তন চিরন্তন আকাঙ্ক্ষায় বেঁচে থাকে।
কিন্তু আজকাল অনেকেই মানুষ নয়, লোক হয়ে যেতে আগ্রহী। মেধাহীন মননহীন প্রশ্নহীন রোবটের মতো হতে প্রবল বাসনা।
একসময় যে বাংলা সারা ভারতকে পথ দেখিয়েছে, সেখানে আজ প্রগতি নয়, প্রতিক্রিয়াশীলতার বাড়বাড়ন্ত। বিশেষ করে ডিগ্রিপ্রাপ্ত মহলে।
মেরুদণ্ড হয়ে যাচ্ছে প্ল্যাস্টিকের। প্ল্যাস্টিক মানি, প্ল্যাস্টিক মন এবং প্ল্যাস্টিক মেরুদণ্ড।
আমাদের পড়াশোনা অসম্ভব কমে যাচ্ছে। শুননেওয়ালা লোকের বাড়বাড়ন্ত, পড়নেওয়ালা বা জাননেওয়ালা নয়।
তাই অনেক মিথ্যাকেই মিথ বলে গেলানো হচ্ছে। গিলছিও গোগ্রাসে। হোয়াটসঅ্যাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। নারীবিদ্বেষ, গরিববিদ্বেষ বাড়ছে। জাতি ধর্ম বিদ্বেষের কথা না-হয় বাদই দেওয়া গেল।
আজকাল অনেকেই নিজেকে বিজ্ঞানকর্মী বলেন, প্রগতিশীল বলেন, কিন্তু দাসত্ব করছেন মিথ্যার।
বুদ্ধদেবকে তাঁর বাবা শুদ্ধোদন দেখেন, রাস্তায় রাস্তায় মাধুকরী তথা ভিক্ষা করতে। কষ্ট পান। ছেলেকে বলেন, ফিরতে। রাজত্ব করতে। ছেলে রাজি হননি। শুধু একবার নিজের বাসভূমিতে ফিরবেন, এই কথা দেন।
যেদিন এলেন, রাজা শুদ্ধোদন প্রজাদের বললেন, ঘরে ঘরে দীপ জ্বালাও। শুরু হল দীপাবলি।
কিন্তু বুদ্ধদেব তো বাইরের আলোতে নয়, অন্তরের আলোতেই বিশ্বাসী। আত্মদীপো ভব।
এক বিশেষ ব্যক্তিকে ঘিরেই সবকিছু এখন আবর্তিত দেশে।
অথচ তাঁকে নিয়ে লেখা মূল বইটি কেউ পড়ছেন না।
দীপাবলির কথা মূল রামায়ণে নেই, দুর্গার অকালবোধন মূল রামায়ণে অনুপস্থিত।
রামচন্দ্র নিজে নিরামিষাশী ছিলেন না।
আর্যদের যাগযজ্ঞ মানেই পশুবলি মাংসাহার।
রামচন্দ্র বনবাসে গিয়ে প্রথম দিন কী কী মাংস খেয়েছিলেন বা মুনির আশ্রমে পৌঁছালে তাঁকে কোন মাংস দিয়ে আপ্যায়িত করা হয়েছিল—জানলেই হয়।
কিন্তু জানবে কে? আর জানাবেই বা কে? বাঙালির অভ্যাস দুর্গাপূজার নবমীতে খাসি বা পাঁঠার মাংস খাওয়ার। দিল্লিতে বলা হয়েছে, নবমীতে মাংস খাওয়া যাবে না।
আরে, আমাদের কালীঘাটে মা কালীর আরাধনায় পাঁঠার মাংস লাগে, তারাপীঠে মা তারাকে শোলমাছের অর্ঘ্য দেওয়ার রীতি প্রচলিত।
একাকার হওয়া ভালো, কিন্তু এক বা একক হওয়া ভালো নয়।
মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি ছিলেন মানসিংহ। রাজপুত। নিজে রাজপুত হয়ে আরেক রাজপুত প্রতাপ সিংহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যাচ্ছেন পূজাপাঠ করে। আর প্রতাপ সিংহের আফগান সেনাপতি হাকিম শূর আকবরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যাচ্ছেন নামাজ পড়ে।
শিবাজি আওরঙ্গজেবের বন্দিত্ব থেকে মুক্ত হচ্ছেন তাঁর দেহরক্ষীর প্রচেষ্টায়। যিনি জন্মসূত্রে মুসলিম। মাদানি মেহতর।
লড়াইটা ছিল, ক্ষমতার! ধর্মের নয়।
তাই কাশ্মীরের হিন্দু রাজা হর্ষ হিন্দু মন্দির ভাঙেন, আওরঙ্গজেবকে ভাঙতে হয় মুসলমান মসজিদও।
বেশি কথা নয়, ‘ইতিহাস পুরাণ : মিথ ও মিথ্যা’ বহু মিথ্যার আবরণ উন্মোচন করতে উদ্যোগী হতে চায়।
গত ১০ বছরে, অর্থাৎ ২০১৪-র পর বারাণসীতে ৩৬০টি মন্দির ধ্বংস করা হয়েছে, গুজরাটে ধ্বংস করা হয়েছে ৬৫০-এর বেশি মন্দির।
সে-নিয়ে কথা নেই।
কারণ, মিডিয়া আপনাকে এ-সব বলছে না, গেলাচ্ছে না।
খবর এবং খাবার দুটোই গেলার নয়, চর্বণের বিষয়।
ভাবুন। ভাবান, চিন্তার শরিক হোন। অন্যের ইচ্ছা ও ক্ষমতার ক্রীতদাস হবেন না।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে গোটা দুনিয়ার স্থিতাবস্থা ধ্বংস হয়ে যায়। দেশে মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক ও দক্ষিণপন্থী শক্তির বাড়বাড়ন্ত শুরু হয়।
এই বই প্রকাশের জন্য পত্রভারতী-র কর্ণধার দাদা ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় নিরন্তর তাগাদা দিয়েছেন। প্রিয় দিদি চুমকি চট্টোপাধ্যায়, কন্যাসমা এষাকেও ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন। পড়ুন। সমালোচনা করুন।
ভালো থাকার প্রথম ও শেষ শর্ত অন্যকে, অপরকে জানা চেনা ভালোবাসা ও ভালো রাখা। জয় হিন্দ। জয় বাংলা।
ইমানুল হক



It’s very good books