ইউনিভার্সিটির ক্যান্টিনে
মূল. মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আরিফীপ্রভাষক, কিং সউদ ইউনিভার্সিটি, রিয়াদ, সৌদিআরব
ভাষান্তরমাওলানা মাহমুদুল হাসান
প্রকাশকাল – নভেম্বর ২০১৫
প্রচ্ছদ – শাহ ইফতেখার তারিক
সৌজন্যে – ইসলামিক ইপাব ও মোবি ক্রিয়েটর টিম
আল্লাহর নামে শুরু করছি; যিনি অতিশয় দয়ালু ও মেহেরবান
.
অমূল্য উপহার
বইটির লেখক আরব বিশ্বের খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব, বহুগ্রন্থ প্রণেতা, সুবক্তা, সুসাহিত্যিক, বিজ্ঞ আলেম ড. মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী।
তার সরস-সরল, প্রাঞ্জল, ব্যতিক্রমী লেখনী আরব বিশ্বে ব্যাপক সমাদৃত। হুদহুদ প্রকাশন এই জীবন্ত কিংবদন্তীর সবকটি রচনা মূল আরবী থেকে প্রমিত বাংলায় অনুবাদের উদ্যোগ নিয়েছে। ‘বিশুদ্ধ ধর্মীয় বইয়ের নতুন দিগন্ত’ উন্মোচনের প্রত্যয় নিয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে হুদহুদ প্রকাশন তার গন্তব্য পানে এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে গতানুগতিক ধারার সীমানা ডিঙ্গিয়ে হুদহুদ কর্তৃক প্রকাশিত সবকটি বই পাঠককূলের অব্যক্ত ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছে। নতুন বিষয়, ভিন্ন আঙ্গিক, পর্যাপ্ত উপকরণের একটি ভারসাম্য মিশেল হুদহুদের প্রতিটি বই জুড়ে ছড়িয়ে থাকে। বক্ষমাণ বইটিও এর ব্যতিক্রম নয়।
صرخةفي مطعم الجامعة নামে লিখিত এর মূল আরবী বইটি লক্ষাধিক কপি বিক্রির রেকর্ড গড়েছে। বইটিতে উপভোগ্য ভঙ্গিতে পর্দার আদ্যোপান্ত ও মা-বোনদের মুখাবয়ব ঢেকে রাখার আবশ্যিকতার বিষয়টি শরিয়তের অকাট্য প্রমাণাদি ও শিক্ষণীয় ঘটনার বর্ণনাসহ তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ইসলামের সঠিক দিকনির্দেশনাও উল্লেখ করা হয়েছে। শব্দের চাতুর্যসিক বাহুল্য নয়, হৃদয়গ্রাহী ও গতিময় গদ্যে উপস্থাপিত হয়েছে রচনার প্রতিটি ছত্র। হুদহুদ প্রকাশনের পক্ষ থেকে হালের তরুণ-তরুণীদের জন্য এটি এক অমূল্য উপহার।
.
বর্তমান আরব জাহানের বিশিষ্ট দাঈ ডক্টর মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী। খুব কম বয়সেই তিনি বক্তৃতা ও লেখার মাধ্যমে আরব-অনারব সর্বত্র সাড়া ফেলে দিয়েছেন। পশ্চিমা দুনিয়ায়ও তিনি এখন এক নামে পরিচিত।
ডক্টর আরিফীর জন্ম ১৯৭০ সালের ১৬ জুলাই। বংশ পরিচয়ে তিনি ইসলামের বিখ্যাত সেনাপতি খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ রাযিয়াল্লাহু আনহু’র উত্তরসূরী। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন দাম্মামে। এরপর সৌদী আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর পড়াশুনা করেন এবং রিয়াদের বাদশা সউদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার পিএইচডি’র বিষয় ছিল– The Views of Shaykh al-Islam Ibn Taymiyyah on Sufism – a Compilation and Study.
মুহাম্মাদ আরিফীর শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিখ্যাত হাদীস বিশারদ শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল, শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে কুউদ, শায়খ আবদুর রহমান ইবনে নাসের আল-বাররাক প্রমুখ। তিনি ইলমে ফেকাহ ও ইলমে তাফসীর শিক্ষা করেন শায়খ আবদুল আযীয ইবনে বায রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে। ইবনে বায রাহিমাহুল্লাহ-এর সোহবতে তিনি প্রায় পনেরো/ষোলো বছর থাকার সৌভাগ্য লাভ করেন।
ডক্টর আরিফী জীবনের মূল কাজ হিসেবে বেছে নিয়েছেন ‘দাওয়াত ইলাল্লাহ’কে। এই লক্ষে তিনি বিভিন্ন স্থানে বক্তৃতা করে থাকেন। এর পরও তিনি রাজধানী রিয়াদের বাদশা সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এবং আল-বাওয়ারদী জামে মসজিদের খতীব। শুক্রবার জুমার সময় তাঁর মসজিদে তিল ধারণের ঠায় থাকে না।
ডক্টর আরিফী দাওয়াহ বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য। একইভাবে তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইসলামী অর্গানাইজেশনেরও মেম্বার। এসুত্রে রাবেতা আলমে ইসলামী ও বিশ্ব মুসলিম উলামা ঐক্য পরিষদে তার সদস্যপদ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
সুসাহিত্যিক ডক্টর আরিফী একজন সুবক্তা। তার বক্তৃতার কয়েক ডজন অডিও-ভিডিও ক্যাসেট বাজারে পাওয়া যায় এবং সেগুলো থেকে মুসলিম সমাজ অনেক উপকৃত হচ্ছে।
মাত্র চুয়াল্লিশ বছর বয়স্ক এই বিজ্ঞ আলেম প্রায় বিশ/পঁচিশটি পুস্তক রচনা করেছেন। সেগুলোর প্রত্যেকটি বিক্রির বেলায় রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। তবে বক্ষমাণ পুস্তকটি তার অন্যান্য বইয়ের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। দুনিয়ার অনেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে এই বইটি।
আমরা তার নেক হায়াত কামনা করছি।
.
অনুবাদক পরিচিতি
মাহমুদুল হাসান।
জন্ম ২৩ জুন ১৯৮২। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার অন্তর্গত শাহরাস্তি থানার দেবকরা গ্রামে। পিতা মো. আবুল হোসেন ছিলেন সেনাবাহিনীর লোক; সেই সূত্রে এক যাযাবর জীবন। শৈশব কেটেছে নানা জায়গায়। যেখানেই গেছেন লেফট-রাইট আর দড়াম আওয়াজের স্যালুট তার পিছু পিছু ছুটেছে। পরিবারে অন্যান্য সদস্যদের ইচ্ছে ছিল তাকে সেনা অফিসার বানানোর। কিন্তু নাতিকে হাফেয বানানোর অসিয়ত ছিল মরহুম দাদা ওসমান গণির। মা ফেরদৌস বেগমের আশাও ছিল তাই। সুতরাং রাইফেল-উর্দির স্বপ্নকে চিরতরে বিদায় দিয়ে তাকে যেতে হয়েছিল হিফজখানায়। ভর্তি হতে হয়েছিল ঢাকা জেলার শেষ প্রান্তে সাভারের সবচেয়ে পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা– জামেয়া মাদানিয়া রাজফুলবাড়িয়ায়। হিফজ শেষ করে কিতাব বিভাগের প্রথম ক্লাশে পড়া অবস্থায় দীর্ঘ এক বন্ধ কেটেছিল দূর সম্পর্কের এক মামার বাড়িতে। সে বাড়ির বুক সেলফ থেকে প্রথমে নানা রকম বই পড়ার সুযোগ হয়েছিল তার। চেতনার উন্মেষ ঘটিয়ে দিয়েছিল বুক সেলফের সেই বইগুলো। পরে নজরুল ইসলাম পথিক নামের নিভৃতচারী এক সাহিত্যিক সুহৃদের মাধ্যমে লেখালেখির হাতেখড়ি ও প্রাথমিক কসরতটা হয়েছিল।
উপরি উক্ত মাদরাসা থেকেই তিনি ২০০৫ সালে দাওরায়ে হাদিস পাস করেছেন। শিক্ষকতাও করেছেন সেই মাদরাসায়। এখনো নিয়োজিত আছেন একই পেশায়।
মুহাম্মদ দিলাওয়ার হুসাইনপরিচালক, হুদহুদ প্রকাশন





Leave a Reply