আমি চঞ্চল হে – বুদ্ধদেব বসু
আমি চঞ্চল হে – বুদ্ধদেব বসু
গ্রন্থপরিচয় – আমি চঞ্চল হে
আমি চঞ্চল হে (রচনাকাল : ১৯৩৫-৩৬)। প্রথম প্রকাশ : শ্রাবণ ১৩৪৩, আগস্ট ১৯৩৭। প্রকাশক : শ্রীগোপালচন্দ্র মজুমদার, ডি. এম্. লাইব্রেরি; ৪২, কর্নওয়ালিশ স্ট্রিট, কলিকাতা। পৃ. [৪] + ১০৮। দাম : এক টাকা চার আনা।
১৯৩৪ ১৯ জুলাই রানু সোম-এর সঙ্গে বিবাহের পর নবেম্বর/কার্তিক মাসে বুদ্ধদেব সস্ত্রীক ভুবনেশ্বর, পুরী, কোনারক ও চিল্কা ভ্রমণ করেন। বিবাহের কয়েক মাস আগে কলকাতার ৪৬/১ রমেশ মিত্র রোড, ভবানীপুর, কলকাতা থেকে ৩১ মার্চ ১৯৩৪ তারিখে রাণু সোমকে একটি চিঠিতে (দ্র. বুদ্ধদেব বসু ৯০ স্মারকপত্র পৃ. ৩২-৩৩) বুদ্ধদেব তাঁর পুরীর সমুদ্রের প্রতি গভীর আকর্ষণের কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর কয়েকজন আত্মীয় ও বন্ধুর একটি দলকে পুরীর পথে হাওড়া স্টেশনে তুলে দেওয়ার খবর জানিয়ে লিখেছিলেন:
‘… হাওড়াতে লোক তুলে দিতে-দিতেই আমার জীবন কাটলো। যারা যাচ্ছে, তাদের চাইতে উৎসাহ যেন আমারই বেশি। সমুদ্র সকালে কেমন দেখায়, দুপুরে কেমন দেখায়, জ্যোছনায়, অন্ধকারে কেমন দেখায়; কী ক’রে নাইতে হয়, কী করে শুয়ে থাকতে হয় বালির উপর; সমুদ্রের মাছ খেতে কেমন, নৌকোয় বেড়াতে কেমন এ-সব বিষয়ে দু-দিন এমন বক্তৃতা করেছিলুম যে গলাই ভেঙে গিয়েছিলো। দলের প্রত্যেকে প্রথমবার সমুদ্র দেখবে; ওরা জানে না, এক মিনিট আগেও ভাবতে পারবে না কী ভয়ংকর আশ্চর্য ব্যাপার এই সমুদ্র। ওরা ঠিক পূর্ণিমার মুখে গেলো : কী ভালো যে ওদের লাগছে তা এখানে ব’সে আমি বেশ বুঝতে পারছি। আর ঈর্ষায় থেকে-থেকে নীল হ’য়ে উঠছি। ভীষণ লোভ হচ্ছিলো ওদের সঙ্গে যেতে, মরিয়া হ’য়ে চেষ্টা করলে যেতে পারতুমও। কিন্তু লোভ সংবরণ করে এই তো একা বাড়িতে বসে চুপচাপ দিন কাটাচ্ছি—আর মাঝে-মাঝে চোখের সামনে দেখছি সমুদ্র। এ-সময়ে পুরী ভালো নয়, এ-কথা কিন্তু ঠিক নয়। পুজো থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত সমস্ত সময়টাই খুব ভালো। জানেন তো, সমুদ্রের ধারে গরম কি শীত নেই। যদি অনুমতি করেন একটুখানি হাওয়া-আপিশের কথা বলতে পারি—পুরী এখন কলকাতার চাইতে অনেকটা ঠাণ্ডা আর শীতকালে অনেকটা গরম। বারো মাস সেখানে দক্ষিণের হাওয়া, প্রায় একই রকম টেম্পারেচার। শীত নয়, খুব গরমও নয়—ঐ রকমই আমার সব চেয়ে ভালো লাগে।’
আমি চঞ্চল হে ভ্ৰমণ-কথার রচনাকাল ১৯৩৫-৩৬, কিন্তু দশটি অধ্যায়ে বিভক্ত আলোচ্য গ্রন্থের মোট দশটি অধ্যায়ের মধ্যে পাঁচটি অধ্যায়ে একটি করে কবিতা সংযুক্ত হয়েছে। সেগুলির একটি করে ভুবনেশ্বরে ও পুরীতে লেখা, বাকি তিনটির রচনাস্থান চিল্কা। শেষতম ‘চিল্কায় সকাল’ কবিতা পত্রিকার প্রথম বর্ষের প্রথম সংখ্যায় (আশ্বিন ১৩৪২, পৃ. ৪-৫) প্রকাশের পর অত্যন্ত জনপ্ৰিয় হয়। বুদ্ধদেব পরিণত বয়সে (১৯৭৩) কবিতাটির রচনাকালীন অভিজ্ঞতার কথায় জানিয়েছিলেন (দ্র. ‘কবিতা ও আমার জীবন’, কবিতার শত্রু ও মিত্র, বুদ্ধদেব বসু, আগস্ট ১৯৭৪ শ্রাবণ ১৩৮১, এম. সি. সরকার অ্যান্ড সন্স প্রা. লি., কলকাতা ১২, পৃ. ৪৮) :
‘চলতি মুহূর্তের কবিতা বলতে কী বুঝি, তার একটা উদাহরণ দিই। “চিল্কায় সকাল” কবিতাটি সত্যি চিক্কার ধারে ব’সেই লিখেছিলাম, সত্যি এক সকালবেলায়—আমার জীবনের নিবিড় এক আনন্দের মুহূর্তে। যেন মুহূর্তটিকে হাতে-হাতে গ্রেপ্তার করে ফেলেছিলাম, তার সব সবুজ গন্ধ আর সজলতা সুদ্ধু—তাকে শুকিয়ে যাবার সময় না-দিয়ে, নিজেকে অন্য কোনো দিকে ফিরে তাকাবার সময় না-দিয়ে।’
কবিতা পত্রিকার প্রথম বর্ষের তৃতীয় সংখ্যায় (চৈত্র ১৩৪২ পৃ. ২১-২৯) ‘যায় নাই, যায় নাই/নব-নব যাত্রী মাঝে রয়েছে সদাই’ শিরোনামের অধীনে ‘ভুবনেশ্বরের প্রার্থনা’, ‘সমুদ্র-স্নান’ এবং ‘হ্রদের ধারে শান্তি’ কবিতা তিনটি প্রকাশিত হয়।
যে পাঁচটি কবিতা আলোচ্য গ্রন্থে সংগ্রথিত হয়েছে সেগুলির অধ্যায়ক্রমের উল্লেখ, শিরোনাম-সহ রচনাকাল জানানো হচ্ছে (দ্র. কবিতা সংগ্রহ, প্রথম খণ্ড বুদ্ধদেব বসু, স. নরেশ গুহ, অগ্রহায়ণ ১৩৮৭, নভেম্বর ১৯৮০, দে’জ পাবলিশিং কলকাতা ৭০০ ০৭৩, পৃ. ২৩৭-২৪৪ ) :
| অধ্যায় | শিরোনাম | প্রথম পঙক্তি | রচনাকাল/স্থান |
|---|---|---|---|
| ৪ | ‘ভুবনেশ্বরে প্রার্থনা’ | বৃষ্টি কেটে গেছে | ৩ নবেম্বর ১৯৩৪, ভুবনেশ্বর |
| ৫ | ‘সমুদ্র স্নান’ | দ্যাখো না সমুদ্র তোমার কী করে | ৭ নবেম্বর ১৯৩৪, পুরী |
| ৭ | ‘হ্রদের ধারে শাস্তি’ | এখানে এই সবুজ হ্রদের ধারে | ১০ নবেম্বর ১৯৩৪, চিল্কা |
| ৮ | ‘চিল্কায় সকাল’ | কী ভালো, আমার লাগলো | ১১ নবেম্বর ১৯৩৪, চিক্কা |
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য দ্বিতীয় অধ্যায়ে সংযুক্ত কবিতার প্রথম পঙক্তি : ‘এসো বন্ধু, তাদের করুণা করি’।






Leave a Reply