অ্যালগোরিদম বনাম অন্তর – মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
অ্যালগোরিদম বনাম অন্তর – মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
উৎসর্গপত্র
তাদের প্রতি,
যারা বিশ্বাস করে প্রযুক্তি কেবল যন্ত্র নয়—
তা হতে পারে সহানুভূতির বাহন,
বুদ্ধিমত্তা আর হৃদয়ের বন্ধন।
তাদের প্রতি,
যারা স্ক্রিনের আড়ালে খুঁজে পায় গল্প,
চিপসেটের নিচে খুঁজে ফেরে চেতনার স্পন্দন।
শিক্ষার্থীদের প্রতি,
যারা কোড শেখে শুধু চাকরির জন্য নয়,
জানতে চায়—মানুষ কীভাবে ভালোবাসে।
আর ICT-এর সেই সব নির্মাতা, ব্যবহারকারী ও স্বপ্নদ্রষ্টাদের প্রতি,
যারা প্রযুক্তিকে গড়ে তোলে মানুষের জন্য,
নিয়ন্ত্রণের জন্য নয়—সহযোগিতার জন্য।
.
ভূমিকা
তথ্যপ্রযুক্তি যখন আমাদের প্রতিদিনের জীবনের গভীরে ঢুকে পড়ছে, তখন একটি প্রশ্ন ক্রমাগত জোরে উচ্চারিত হচ্ছে—মানুষ কী সত্যিই নিজের মতো করে বাঁচছে? নাকি বেঁচে থাকা, অনুভব করা, ভালোবাসা—এসবই হয়ে উঠছে একেকটা প্রোগ্রামড প্রতিক্রিয়া?
এই উপন্যাসের জন্ম সেই প্রশ্ন থেকে।
শিক্ষা, যা একসময় ছিল মানুষের সবচেয়ে মানবিক অর্জনের প্রতিফলন, আজ তা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে অ্যালগোরিদমের হাতে। শিক্ষকতা, যা এক সময় হৃদয়ের মাধ্যমে জ্ঞান বিতরণের নাম ছিল, তা কি আজ রোবোটিক আচরণে সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে?
“অ্যালগোরিদম বনাম অন্তর” কেবল একটি বিজ্ঞানকল্প উপন্যাস নয়—
এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ এবং অনুভূতিহীনতার বিপদের বিরুদ্ধে এক শিল্পময় প্রতিবাদ।
এই কাহিনির প্রতিটি অধ্যায় একটি প্রশ্ন তুলে ধরে,
একটি দ্বন্দ্ব উন্মোচন করে—
একদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিখুঁত যুক্তি,
অন্যদিকে মানুষের অপূর্ণ, তবু গভীর অনুভূতি।
মূল চরিত্রেরা—রিয়া, নীল, রেভা, এমনকি রোবট মিস্টার জেড—প্রতিটি চরিত্র যেন একেকটি রূপক।
তারা আমাদের শেখায়:
কোড দিয়ে হয়তো নিয়ম তৈরি করা যায়,
কিন্তু ভালোবাসা তৈরি করা যায় না।
এই উপন্যাস আজকের এবং আগামীর প্রজন্মকে আহ্বান জানায়—
তারা যেন কেবল প্রযুক্তির ব্যবহারকারী না হয়ে ওঠে,
বরং হয়ে ওঠে প্রযুক্তি ও মানবতার সংযুক্ত সেতুবন্ধন।
লেখক হিসেবে আমার স্বপ্ন ছিল একটি কাহিনির মাধ্যমে এই সময়ের সবচেয়ে জরুরি সংকটটিকে তুলে ধরা—
“আমরা কীভাবে মানুষ থাকবো, যখন আমাদের চারপাশ ঘিরে থাকবে নিখুঁত যন্ত্র?”
যদি এই বই পাঠকের মনে সামান্য এক প্রশ্নের জন্ম দেয়,
তবে এই লেখার উদ্দেশ্য সফল।
.
লেখক পরিচিতি
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ ১৯৮০ সালের এপ্রিলের ১১ তারিখে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শাহাবৃদ্ধি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৯০ সালে চট্রগ্রামের নিউঝাউতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম, ১৯৯৬ সালে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মজিদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এসসি এবং ১৯৯৮ সালে অধ্যাপক আব্দুল মজিদ কলেজ থেকে স্টার মার্কসহ এইচ এস সি পাস করেন। ২০০২ সালে বাউবি থেকে বি.এজি.এড এবং ২০২২ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স পাস করেন। ২০০৭ সালে মালয়শিয়া গমন করেন। মালয়শিয়ার স্মৃতিচারণমুলক তাঁর বিখ্যাত বই ‘জীবনযুদ্ধে মালয়েশিয়ে ভ্রমণ’। ২০১০ সালে বাতাকান্দি সরকার সাহেব আলি আবুল হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃষি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে। ২০১৫ সালে বিট্রিশ কাউন্সিলের কানেক্টটিং ক্লাশরোম প্রজেক্টের আওতায় যুক্তরাজ্যের লিংকন ইউনিভার্সিটিসহ একাধিক বিদ্যালয় পরিদর্শণ করে। ২০১৭ সালে ভারত সফর করেন। বিলেতের স্মৃতিচারণমুলক তাঁর বিখ্যাত বই ‘শ্রেণিকক্ষের খোঁজে বিলেত ভ্রমণ’। তিনি ‘শিক্ষক’,শিক্ষককতার করোনাকালীন দিনলিপি, শিক্ষকতার ঝুড়ি, শিক্ষকের তিলক, জুলাই আগস্ট ’২৪, জীবন পুতুল খেলার গল্প, রূপবৈচিত্র বাংলাদেশ, কৃষি কবিতা, অস্পর্শিত মন প্রভৃতি বইয়ের লেখক।






Excellent book. I read it