• Skip to main content
  • Skip to header right navigation
  • Skip to site footer

Bangla Library

Read Bengali Books Online (বাংলা বই পড়ুন)

  • Login/Register
  • Account

অলৌকিক নয়, লৌকিক – ২ (দ্বিতীয় খণ্ড) – প্রবীর ঘোষ

লাইব্রেরি » প্রবীর ঘোষ » অলৌকিক নয়, লৌকিক – ২ (দ্বিতীয় খণ্ড) – প্রবীর ঘোষ
অলৌকিক নয়, লৌকিক - ২
লেখক: প্রবীর ঘোষবইয়ের ধরন: Editor's Choice, প্রবন্ধ ও গবেষণা

অলৌকিক নয়, লৌকিক – ২ (দ্বিতীয় খণ্ড) – প্রবীর ঘোষ

অলৌকিক নয়, লৌকিক – ২ (দ্বিতীয় খণ্ড) – প্রবীর ঘোষ
প্রকাশক: সুধাংশুশেখর দে, দে’জ পাবলিশিং
প্রথম প্রকাশ: জানুয়ারি ১৯৯১, মাঘ ১৩৮৭
প্রচ্ছদ: দেবদত্ত নন্দী

.

সহযোদ্ধা শ্রীঅশোক দাশগুপ্তকে
সংগ্রামী অভিনন্দন ও শ্রদ্ধাসহ

.

প্রবীর ঘোষ ‘ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক এবং যুক্তিবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ। তাঁর নেতৃত্বেই ‘যুক্তিবাদী-চিন্তা’ আজ ব্যক্তি গণ্ডি অতিক্রম করে আন্দোলনের রূপ পেয়েছে। আন্দোলিত হয়েছেন সমাজের লক্ষ-কোটি মানুষ, আন্দোলিত হয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, নাট্য-সংস্থা, বিজ্ঞান-ক্লাব সহ বহু সংগঠন; এরা অংশ নিয়েছে যুক্তিবাদী-চিত্তার বাতাবরণ সৃষ্টিতে।

আন্দোলিত হয়েছে সমাজের দর্পণ সাহিত্য, নাটক ইত্যাদি। আজ বহু জনপ্রিয় লেখকের গল্প-উপন্যাস-নাটকে বিরাজ করে প্রবীরের আদলে গড়া একটি চরিত্র, অথবা হাজির হয় বুজরুকি ফাঁসের কাহিনী। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধে, কি সম্পাদকীয়তে বার বার ঘুরে ফিরে যে ভাবে ‘যুক্তিবাদী’ শব্দটি ব্যবহৃত হচ্ছে, মাত্র কয়েক বছর আগেও তা ছিল অকল্পনীয়। যুক্তিবাদী-চিন্তার এই সার্বজনীনতার পিছনে রয়েছে প্রবীরের জনগণকে আন্দোলনে শামিল করার দক্ষতা, আপসহীন লড়াই, দৃষ্টিভঙ্গির স্বচ্ছতা, বলিষ্ঠ লেখনী এবং চ্যালেঞ্জ, প্রলোভন ও মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে নিরবচ্ছিন্ন জয়।

এ-সবই তাঁকে করেছে জীবন্ত কিংবদন্তি। তাঁর সৃষ্টি ‘অলৌকিক নয়, লৌকিক’, একটি দর্শন, অন্ধকার থেকে আলোয় উত্তরণের দর্শন।

.

ভূমিকা

বিজ্ঞান লেখক মাত্রেই বিজ্ঞানমনস্ক, সমাজমনস্ক নন। এঁরা অনেকেই তাগা-তাবিজ ধারণ করেন, কুসংস্কারের কাছে ব্যক্তিজীবনে নতজানু হয়েও লেখনিতে হাজির করেন কুসংস্কারের বিরুদ্ধে কঠিন-কঠোর শব্দরাজি। বিজ্ঞানমনস্কতা, সমাজমনস্কতা, শুধুমাত্র কলমের ডগার বা জিভের আগায় কথার ফুলঝুরি জ্বেলে অর্জন করা যায় না, এটা বেঁচে থাকার শ্বাস-প্রশ্বাস ও ভাত-রুটির মতোই জীবনের প্রতি মুহূর্তের কাজ-কর্মের মধ্যে প্রতিফলিত হওয়ার ব্যাপার। প্রবীর ঘোষ লেখনিতে, কথায় ও জীবনচর্চায় একাত্ম এক বিরল ব্যক্তিত্ব, জীবন্ত কিংবদন্তি। সুদীর্ঘ বছর নিজেকে মগ্ন রেখেছেন সাধারণ মানুষকে বিজ্ঞানমনস্ক, সমাজমনস্ক করে গড়ে তোলার কাজে। সুকঠিন এই কাজকে বাস্তবাতয়িত করতে একি সঙ্গে তুলে নিয়েছেন কলম, ছুটে যাচ্ছেন গ্রামে-গ্রামে, শহরে-শহরে, বক্তব্য রাখছেন, হাতে-কলমে বিভিন্ন জিজ্ঞাসার ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, গড়ে তুলছেন আন্দোলন, মুখোমুখি হচ্ছেন চ্যালেঞ্জের, প্রলোভনের এবং অবশ্যই মৃত্যুর। যে দেশে সাংসদ বিক্রি হয় গরু-ছাগলের মতোই, যে দেশের শাসকদল নির্বাচনের খরচ চালাতে, দলের সম্পত্তি বাড়াতে প্রতিনিয়ত শোষকদের কাছে বিক্রি হয়, যে দেশের শাসক দলের চুনো মস্তানরাও চাকরি-ব্যবসা না করেই গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়ে যায়, সে দেশেরই একজন প্রবীর ঘোষ একটা প্রবন্ধ না লেখার জন্য পনেরো লক্ষ টাকার প্রস্তাব পেয়েও পরম অবহেলায় ও ঔদাসিন্যের সঙ্গে প্রস্তাবের মাথার পদাঘাত করেন। বিনিময়ে মেনে নেন জীবনের ঝুঁকি। তাঁর এই নির্লোভি সাহসিকতা বহুজনকে অবশ্যই প্রেরণা দিয়েছে এবং দেবে। বহুর মধ্যে জাগিয়ে তুলেছে এবং তুলবে জীবনের মূল্যবোধ।

 প্রবীর ঘোষের ‘অলৌকিক নয়, লৌকিক’ বইটির দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হল এমন এক বিশেষ এতিহাসিক মুহূর্তে যখন ধর্মের উন্মাদনা ও সম্প্রদায়গত উন্মাদনা দেশের শ্রমজীবী মানুষদের সংগ্রামী প্রতিবাদী চেতনাকে বিশাল অজগরের মতোই একটু একটু করে গ্রাস করে চলেছে। আমরা একবিংশ শতাব্দীতে যখন পা দিতে চলেছি তখন শাসকশ্রেণি তাদের একান্ত স্বার্থে আমাদের চেতনাকে ফিরিয়ে নিয়ে চলেছে পঞ্চদশ বা ষোড়শ শতকে। জাত-পাতের নামে, ধর্মের নামে লড়তে নেমেছে নিপীড়িত মানুষের বিরুদ্ধে নিপীড়িত মানুষ। বঞ্চিত, নিরন্ন এই মানুষগুলোকে ‘মুরগি লড়াই’তে নামিয়েছে শাসক ও শোষক শ্রেণি এবং তাদের কৃপায় পালিতেরা। ভাবাবেগে অথবা নিপুণ কৌশলী প্রচারের ব্যাপকতায় যুক্তি আমাদের গুলিয়ে যায়। আমরা বিস্মৃত হই—যে কোনও ধর্মের, যে কোনও জাতের, যে কোনও ভাষাভাষী কালোবাজারি এবং শোষণকারী সাধারণ মানুষের শত্রু এবং শোষক, আর যে কোনও ধর্মের, যে কোনও জাতের, যে কোনও ভাষাভাষী গরিব শ্রমিক-কৃষক গরিবই এবং শোষিত। শোষিত, নির্যাতিত মানুষের নিজেদের মধ্যে ধর্ম নিয়ে ভাষা নিয়ে, জাত-পাত নিয়ে অনৈক্য সংঘর্ষ শোষক শ্রেণির সুবিধেই করে। তাই শোষক শ্রেণি প্রয়োজনে বার বার শোষিত শ্রেণির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে ধর্ম-ভিত্তিক, ভাষা-ভিত্তিক, জাত-পাত ভিত্তিক উত্তেজনা ও উন্মাদনার সৃষ্টি করে। সংরক্ষণবাদের তকমা এঁটে যাঁরা নিপীড়িত জনগণের মুক্তির কথা বলেন, তাঁরা বিভেদকামী, মিথ্যাচারী, ধান্দাবাজ ও শোষকশ্রেণির দালাল ছাড়া কিছু নয়। নিপীড়িত শ্রমিক-কৃষকের মুক্তি সংরক্ষণের হাত ধরে কোনও দেশে কখনও আসেনি, আসতে পারে না। বর্তমানে এদেশে সাম্প্রদায়িকতার যে বিপুল উত্থান ঘটেছে, তার কারণ সাম্প্রদায়িকতাবাদ ধর্মকে অবলম্বন করে এমনই এক রাজনৈতিক দর্শন, যে দর্শন অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই দর্শনকে পুষ্টি জোগাচ্ছে শোষক শ্রেণির প্রতিনিধি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এই কঠিন সময়ে একান্তভাবে প্রয়োজন এক দীর্ঘস্থায়ী সুপরিকল্পিত মতাদর্শগত সংগ্রামের। আর তারই প্রয়োজনে একান্ত কাম্য সাধারণের চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, কুসংস্কারমুক্ত, সমাজ সচেতন নতুন এক সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি করা। এমনই এক প্রয়োজনের কথা মনে রেখেই বিজ্ঞান আন্দোলনের নেতা, বিশিষ্ট সমাজসেবী প্রবীর ঘোষ সংস্কারমুক্ত নতুন সমাজ গড়তে লেখনি তুলে নিয়েছেন। ধর্মান্ধতা বিরোধী, সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী এবং সংস্কারমুক্ত সুস্থ সমাজ গঠনে ভূমিকা গ্রহণকারীদের কাছে এই বইটি অবশ্যই একটি জোরালো হাতিয়ার হিসেবে গণ্য হবে।

 গ্রন্থটির লেখকপ্রবীর ঘোষ—’ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতি’র প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান সম্পাদক, যে প্রতিষ্ঠান কুসংস্কার মুক্তির আন্দোলনে সন্দেহাতীতভাবে সঠিক, বলিষ্ঠ ও আন্তরিক ভূমিকা গ্রহণ করে চলেছে। ‘অলৌকিক নয়, লৌকিক’ বইটির নামকরণের মধ্যেই রয়েছে বিষয়বস্তুর নির্দেশ। বস্তুত অলৌকিকতার প্রশ্নটি তিনি সমাজ, সাংস্কৃতিক, আর্থ সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি বিভিন্ন দিক থেকে বিচার করার চেষ্টা করেছেন, তাঁর জ্ঞানের স্বচ্ছ আলোকে আমাদের আলোকিত করতে চেয়েছেন। আমাদের দেশে এই ধরনের ব্যাপক কাজ হয়নি বললে বোধহয় ভুল বলা হবে না।

 গ্রন্থে আটটি অধ্যায়। অধ্যায় শুরুর আগে রয়েছে লেখকের ‘যুক্তিবাদী প্রসঙ্গ’-এ লেখা ‘কিছু কথা’। ‘কিছু কথা’য় রয়েছে যুক্তিবাদ নিয়ে বহু যুক্তির অবতারণার পাশাপাশি আমাদের দেশের বিজ্ঞান আন্দোলনের বিভিন্ন ধারা নিয়ে আলোচনা। এসেছে মুখোশধারী বিশিষ্ট বিজ্ঞান লেখক, বিজ্ঞান আন্দোলনের নেতা, বস্তুবাদী রাজনৈতিক নেতা ও বিজ্ঞান সংস্থার কথা। উচ্চারিত হয়েছে বিজ্ঞান আন্দোলনের স্বার্থে এদের চিহ্নিত করা এবং এদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ঘোষণার কথা। কারণ, এইসব মুখোশধারীরা চিরকালই আমাদের পরিচিত শত্রুদের চেয়ে বহুগুণ বেশ ভয়াবহ। পাশাপাশি বিজ্ঞান আন্দোলনকর্মীদের দিশা দেওয়া হয়েছে কীভাবে তাঁরা নিজেদের শিক্ষিত করে তুলে প্রত্যেকে এক একজন সংগঠক, যোদ্ধা হয়ে উঠবেন, কী ভাবে মানুষকে সাথে নিয়ে এগোবেন।

 পরবর্তী বিভিন্ন অধ্যায়ে এসেছে ভূতে ভর, ডাইনির ভর, ঈশ্বরে ভরের নানা বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা এবং সে-সব আলোচনায় উদাহরণের সূত্র ধরে বহু অসাধারণ আকর্ষণীয় সত্যি ঘটনা—যার অনেকগুলিই মুখোমুখি হওয়ার রোমাঞ্চকর বহু কাহিনি। এ-সব কাহিনির নায়ক-নায়িকারা অনেকেই আক্ষরিক অর্থেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রভূত খ্যাতির অধিকারী। এঁদের রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা প্রবীর ঘোষের আগে অনেকেই করেছেন এবং ব্যর্থ হয়েছেন। ব্যর্থ চেষ্টাকারীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বহু ব্যক্তি ও সংবাদমাধ্যম। প্রবীর ঘোষের নিরবচ্ছিন্ন জয় আমাদের মতো সম-মতাবলম্বীদের ভবিষ্যতের উজ্জ্বল স্বপ্ন দেখার, লড়াই করার শক্তি জোগায়, যখন শোষক শ্রেণি আমাদের বিরুদ্ধে তিনটে ফ্রণ্ট খুলে যুদ্ধ চালিয়ে যায় (এক: অবতার ও জ্যোতিষী, দুই: মুখোশধারী আন্দোলনকারী, তিন: ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দের আড়ালে থেকে প্রচার মাধ্যমকে ও গণ-মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে গণ-ধর্মোন্মাদনা সৃষ্টি করে আমাদের কাছ থেকে জনগণকে সরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।) তখন অনেক সময়ই আমরা অন্ধকারাচ্ছন্ন বর্তমান দেশে নৈরাশ্যপীড়িত হই, ভুলে যাই ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে, আর তাইতেই সামনের দীর্ঘস্থায়ী লড়াইকে বড় বেশি ভারী মনে হয়। এই সময় বড় বেশি প্রয়োজন স্বপ্ন দেখানোর। এই স্বপ্নই আন্দোলনকারীদের উদ্বুদ্ধ করবে জনগণকে সংগঠিত করতে। প্রবীর ঘোষের ধারাবাহিক সাফল্য আমাদের স্বপ্ন দেখায়।

 গ্রন্থটিতে ডাইনি সমস্যার আলোচনার পাশাপাশি এসেছে তার সমাধানের সম্ভাব্য উপায়। আলোচনায় এসেছে তুক-তাক, ঝাড়-ফুঁক, বাটি চালান, কঞ্চি-চালান, থালা-পড়া, কুলো-পড়া, চাল-পড়ার মতো নানা বিষয় ও তার গোপন রহস্য। বিস্ময়কর শিশু প্রতিভা তৈরি করা যায়, বাড়ানো যায় স্মৃতি—এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এসে পড়েছে মানুষের ওপর প্রাকৃতিক, আর্থ-সামাজিক ও সমাজ-সাংস্কৃতিক পরিবেশের প্রভাব প্রসঙ্গ। আলোচনার এই অংশে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বিজ্ঞান আন্দোলনকর্মী এবং পাঠক-পাঠিকাদের ধন্যবাদ কুড়োবেন—এই প্রত্যাশা রাখি। এই অংশে আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন বহু বিস্ময়কর শিশু ও কিশোর প্রতিভার। বোঝাতে চেয়েছেন এদের প্রতিভা বিকাশের কার্য-কারণ সম্পর্কে, প্রমাণ করতে চেয়েছেন এরা কেউই অলৌকিকতার প্রতীক নয়।

 অসামান্য পাণ্ডিত্য ও মনীষায় লেখক বিচরণ করেছেন আটটি অধ্যায়ে, কিন্তু তাঁর পাণ্ডিত্য ও মনীধা কখনই সাধারণ পাঠক-পাঠিকাদের কাছে বাধার পাঁচিল হয়ে দাঁড়ায়নি।

 প্রবীর ঘোষ দেশের মানুষকে জানতে, তাদের মনস্তত্ত্বকে জানতে, ইতিহাস, নৃতত্ত্ব, সমাজনীতি, রাজনীতি বিষয়ক জানতে পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত করতে প্রচলিত শিক্ষা-ব্যবস্থা থেকে যে সাহায্য পেয়েছেন, তার চেয়ে বহুগুণ তিনি অর্জন করেছেন অধ্যয়ন করে, যাযাবরের মতো ঘুরে, মানুষের সঙ্গে আপনজনের মতো মিশে। তার ফলে ‘অলৌকিক নয়, লৌকিক’ শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক বিপ্লবের হাতিয়ার নয়, তার চেয়েও কিছু বেশি—যুক্তিবাদীদের ‘গাইড, ফ্রেণ্ড অ্যাণ্ড ফিলোজফার’।

আত্তুর মথুস্বামী
প্রেসিডেণ্ট
ইরাডিকেশন অফ হোয়াইট শাড়ি
উইডো রিহ্যাবিলিটেশন মুভমেণ্ট
পেট্রন সায়েন্স অ্যাণ্ড র‍্যাশনালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইণ্ডিয়া
আত্তুর টাউন
তামিলনাড়ু

.

‘অলৌকিক নয়, লৌকিক’ বইটির নামকরণের মধ্যেই রয়েছে বিষয়বস্তুর নির্দেশ। বস্তুত অলৌকিকতার প্রশ্নটি লেখক আর্থ-সামাজিক, সমাজ-সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক, মনোস্তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ইত্যাদি বিভিন্ন দিক থেকে বিচার করেছেন। গ্রন্থের শুরুতে বিজ্ঞান আন্দোলনকর্মীদের দিশা দেওয়া হয়েছে—কি ভাবে তারা নিজেদের শিক্ষিত করে তুলে প্রত্যেকে এক একজন সংগঠক, যোদ্ধা হয়ে উঠবেন, মানুষদের সাথে নিয়ে এগুবেন। বিজ্ঞান আন্দোলনের স্বার্থে চিহ্নিত করেছেন মুখোশধারী আন্দোলনকারীদের। বিভিন্ন অধ্যায়ে এসেছে ভূতে ভর, ডাইনির ভর, ঈশ্বরের ভরের নানা বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা এবং উদাহরণের সূত্র ধরে বহু আকর্ষণীয় সত্যি ঘটনা। এসেছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নানা চ্যালেঞ্জারদের মধোমুখি হওয়ার রোমাঞ্চকর বহু কাহিনী। লেখকের নিরবিচ্ছিন্ন জয় আমাদের নৈরাশ্য থেকে তুলে এনে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখায়। আলোচনায় এসেছে অজস্র তুক্-তাক, ঝাড়-ফুঁক, বাটি চালান, কঞ্চি চালান, থালা পড়া, কুলো পড়া চাল পড়া, ডাইনি ধরা, ভোলায় ধরার মত নানা বিষয় ও তার গোপন রহস্য এবং তারই সূত্র ধরে অনেক গা ছমছম্ ঘটনা। এসেছে শিশু প্রতিভা তৈরি প্রসঙ্গে অমূল্য এক আলোচনা ও অনেক ‘প্রডিজি’ পরিচয়। লেখকের অসাধারণ পাণ্ডিত্ব ও মনীষা কখনই সাধারণ পাঠকদের কাছে বাধার পাচিল হয়ে দাড়ায়নি, বরং গ্রন্থটি হয়ে উঠেছে যুক্তিবাদীদের ‘গাইড, ফ্রেণ্ড অ্যাণ্ড ফিজফার।’

Book Content

কিছু কথা – যুক্তিবাদ প্রসঙ্গ
অধ্যায় এক: ভূতের ভর
অধ্যায় দুই: পত্র-পত্রিকার খবরে ভূত
অধ্যায় তিন: যে চ্যালেঞ্জের মুখে বিপদে পড়েছিলাম
অধ্যায় চার: ভূতুড়ে চিকিৎসা
অধ্যায় পাঁচ: ভুতুড়ে তান্ত্রিক
অধ্যায় ছয়: ডাইনি ও আদিবাসী সমাজ
অধ্যায় সাত: আদিবাসী সমাজের তুক-তাক, ঝাড়-ফুঁক
অধ্যায় আট: ঈশ্বরের ভর
অধ্যায় নয়: অবাক মেয়ে মৌসুমী’র মধ্যে সরস্বতীর অধিষ্ঠান (?) ও প্রডিজি প্রসঙ্গ
অধ্যায় দশ: অলৌকিকে বিশ্বাস থাকলে কোনও দিনই সত্যানুসন্ধান সম্ভব নয়
আমি কেন ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না - প্রবীর ঘোষ

আমি কেন ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না – প্রবীর ঘোষ

অলৌকিক নয়, লৌকিক - চতুর্থ খণ্ড - (জাতিস্মর, আত্মা, অধ্যাত্মবাদ) - প্রবীর ঘোষ

অলৌকিক নয়, লৌকিক – 8র্থ খণ্ড – (জাতিস্মর, আত্মা, অধ্যাত্মবাদ) – প্রবীর ঘোষ

অলৌকিক নয়, লৌকিক ১

অলৌকিক নয়, লৌকিক – ১ (প্রথম খণ্ড) – প্রবীর ঘোষ

Reader Interactions

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক

সিরিজ

বইয়ের ধরণ

বাংলা ডিকশনারি

বাংলা জোক্স

বাংলা লিরিক্স

বাংলা রেসিপি

বিবিধ রচনা

বাংলা হেলথ টিপস

Download PDF


My Account

Facebook

top↑

Login
Accessing this book requires a login. Please enter your credentials below!

Continue with Google
Lost Your Password?
এভারগ্রিন বাংলা লোগো
Register
Don't have an account? Register one!
Register an Account

Continue with Google

Registration confirmation will be emailed to you.