অভিরামায়ণ – অধ্যাপক প্রভাসচন্দ্র ধর
অভিরামায়ণ
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে বিংশ শতাব্দীর সত্তর দশক থেকে বসবাসকারী
কাল্পনিক এক সাধারণ মানুষ অভিরাম-এর
জীবন ও চরিত্র-চতুর্দশপদী কবিতায়
বিবৃত কাহিনী।
.
মঙ্গলাচরণম
রামচন্দ্ররা যখন বনে চলে যান,
অথবা শ্রীকৃষ্ণ চলে যান মথুরায়,
অশোক চালান যদি কলিঙ্গ অভিযান,
মন্ত্রী যান যদি দিল্লি তেলিয়ামুড়ায়,
সব লেখা হয় রামায়ণ ভাগবতে
অথবা বিস্তারে দৈনিক সংবাদপত্রে।
রামা যদি গোসা করে বাড়ি ছেড়ে যায়,
কেষ্টা যদি অনাহারে মরে গো বেঘোরে,
তাদের জন্য বলো কেবা সময় পায়,
কোন ব্যাস বাল্মীকি কালি খরচ করে?
আমার সময় আছে বেঘোরে ঘুরতে,
পড়ুক তারা যাদের সময় আছে হাতে।
এই কাহিনি দেবে না স্বর্গ ব্রহ্ম মুক্তি,
সবারে শয্যায় দেবে পরম সুষুপ্তি,
অভিরাম নায়ক নয় ভাদাম্যা মাত্র,
তার কথা শোনো সবে হয়ে দায় মুক্ত।
অতএব পড়ো সবে দিয়া মন বুদ্ধি,
সোচ্চারে বলতে পারি হবে চিত্ত শুদ্ধি।
বৌদ্ধ নাস্তিক বা জৈন ও মুসলমান,
হিন্দু ইসাই বাহাই সকলে সমান,
অভিরাময়ণ পড়ে লভিবে মহত্ত্ব,
চলে যাওয়া সম্পদ পাবে মনুষ্যত্ব।
আর্তের তরে ফেলো যদি অশ্রুর ফোঁটা,
তবে আশ্চর্যের কথা নয় কি গো সেটা?
ভোটারের নামে সবে জয়ধ্বনি দাও,
দুষ্প্রাপ্য ধন শান্তি অনায়াসে পাও।
বিরানব্বই সালে গো বিংশ শতাব্দীর,
পরিবেশ প্রভাবে মন ছিল অস্থির,
তখন মন স্থির হয়েছিল লেখায়,
অভিরামায়ণ লেখা হয়েছে তখন,
চিত্তের সন্তোষে লেখা সামান্য কথন,
কাব্য এটি তবে আছে হেথায় ব্যত্যয়,
চরিত্র সাধারণ সব রাজা মন্ত্রী নয়,
স্তবক একশো দশ আশ্চর্য একথা,
প্রতিটি একটি চতুর্দশপদী কবিতা,
একটি অভিক্রিয়া এটি সত্যি বিস্ময়,
পড়ে দেখবেন সবে কিবা মনে লয়,
এই লেখা দেখবেন সত্যিই অনন্য,
ভালো বা মন্দ হোক সাধারণের জন্য।
এখানে ব্যবহার করেছি নাম যত,
নরের নারীর বা স্থানের অভিধায়,
সবই মনে হবে সবার পরিচিত,
ওকে চিনি আমি, গিয়েছি ওই জায়গায়।
মনে হবে সবার কিন্তু ঠিক নয় তা,
ফিকশান এটি ইতিহাস নয় এটা।
মনে রাখবেন দয়া করে সদা কথাটা,
যদি কোথাও কেউ মিল খুঁজে পান তা,
নেহাৎই কাকতালীয় বলে ভাববেন,
অনিচ্ছার ত্রুটির জন্য ক্ষমা দেবেন।





Leave a Reply