অনুষ্ঠান প্রচারে বিঘ্ন ঘটায় দুঃখিত – শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
একটি গুরুচণ্ডা৯ প্রকাশনা বাংলা চটি সিরিজের বই
নব্বই দশকের সেই সব অনামী কবি, সাহিত্যিক
কলকাতা দূরদর্শনের শিল্পীদের,
যাঁরা লোকচক্ষুর অন্তরালে চুপিচুপি একা একা মরে গেছেন
এবং
বইটির সমস্ত আর্থিক দায়িত্ব বহন করে দত্তক নিয়েছেন,
অভিষেক কর্মকার
অয়ন ঘোষ
এবং আরও একজন
যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
.
ভূমিকা
– যে কোনও ঐতিহাসিক মুহূর্তকে চিনবার, বুঝবার একটি উপায় হল সেই সময়ে উৎপন্ন শব্দের সঙ্গে কিছুকাল কাটানো একা নয়, শব্দগুলিকে বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয় বিভিন্ন পরিসরে নানা মানুষের মাঝে। পরখ করে দেখতে হয় কাদের পালে পড়লে সে শব্দ আরও বাঙ্ময় হয়ে ওঠে, কোথায়ই বা সে লুকোতে চায় আর সব শব্দের ভিড়ে। খেয়াল রাখতে হয় কখন তার গায়ে সেঁটে যায় নতুন অর্থের ঝলমলে সাজ আর ঠিক কোন অছিলায় সে ত্যাগ করে জীর্ণ পুরাতন সম্পর্কের বসন। হিসেবি চোখে মেপে নেওয়া দরকার গিঁট বাঁধা, ছেঁড়া ফাটা, তালিমারা সে অর্থের পাড় ছিঁড়ে সে পুঁটুলিতে জমায় কি না! অর্থহীন অনর্থের বসন যে তার গায়ে ওঠে না তা নয়, বেখেয়ালে নিত্য নতুন ফাগুনের রঙে মাতোয়ারা হলেপরে গায়ে কাদা মাখে সে অনায়াসে, অনাড়ম্বরের খোলসে ঢুকে তাকে ঘিরে পাল্টা এক প্রতিস্পর্ধী বয়ান রচিত হবে এই অপেক্ষায় থাকে স্বাভাবিক চলনে অভ্যস্ত অর্থহীনতার আস্তরণ ভেদ করে মানবের ঠোঁট, জিভ, মুখ, চোখের সঙ্গে তার এই গূঢ় আত্মীয়তাকে কেউ একঢালা অর্থের নিরিখ অতিক্রম করে ছুঁয়ে ছেনে দেখতে বুঝতে পারে কি না শুধু সেটুকুই জানবার জন্য। আর কিছু নয়। –
– বেখেয়ালে কি শব্দের ঘাড়ে নতুন অর্থ জুড়ে দেওয়া সম্ভব? ইতিবাচক উত্তরের পেছনে ফেউ হয়ে ঘুরবে আরেকটি প্রশ্ন তবে সে বেখেয়াল আসলে কেমন খেয়ালহীনতা, মগজ কি একেবারেই নিষ্ক্রিয় ছিল যখন অনুষ্ঠান প্রচারে বিঘ্ন ঘটায় বার্তা সম্পাদক তো বটেই, গোটা দেশবাসী হঠাৎই শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়লেন? চিত্রহার থেমে গেল, শ্রীকান্তের স্কোয়ার ড্রাইভের কী হল বোঝা গেল না, নিরমার কচি মেয়েটি পাক মেরে ঘোরার কালে কি তার…? যে শব্দগুলো তাদের গায়ে লেপটানো আমাদের জীবনের বহু বহু অসীম সম্ভাবনাময় অর্থের লেবেল সাঁটা অবস্থাতেই তামাদি হয়ে গেল, তারা কি আমাদের জীবনে তৈরি ফাঁকা জায়গাগুলোর মানেও বদলে দিল নাকি? অর্থাৎ, পেছন ফিরে তাকালে কি আমরা আগে নতুন অর্থ খুঁজে বের করে তারপর নতুন শব্দে ইতিহাস রচনা করি? শাক্যজিৎ উলটে পালটে যাওয়া একাধিক যাতায়াতের পথ আবিষ্কার করেছে একটি আখ্যানের পরিত্যক্ত দেহ জুটিয়ে – নাকি একটি বলাটা গর্হিত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে পাঠ সম্পন্ন হলে, আর অপরাধের অর্থও অপরাধীর নিকট অধরা থেকে যাবে বরাবর যেমন ছিল, কে জানে! সে দেহের মৃত অংশগুলি কথা বলে, পাগলের কৌতুক আর অট্টহাস্যে তার খানিক প্রকাশ, নিরমা সাবানের মেয়েটির মতই কারুকার্যখচিত দশ নয়ার শরীরে জমতে থাকে কারখানার গায়ে লেগে থাকা মৃত জনপদের গন্ধ, ডিভান পরিষ্কার করতে গিয়ে রাশি রাশি আনন্দমেলা মিলে মিশে যাবে পিপলস ওয়ার গ্রুপের ছোট ছোট কয়েকটা সংখ্যার সাথে আর মাথায় থেকে যাবে দাদার সাবধানবাণী খুব সাবধানে রাখিস। গোপন ও ষড়যন্ত্রমূলক বই সব –
শাক্যজিৎ আর কী কী সাবধানে রেখেছিল তার খোঁজ আমরা পাইনা। অসাবধানে পরের ডিভান ঘাঁটার একটা কাহিনি আমাদের আচ্ছন্ন করে— একটি ডিভানের মালিকানার বিষয়ে তার সন্দেহ নেই মোটেও। আমাদের শংকা হয়, খানিকটা সন্দেহও। একের পর এক বন্ধ কারখানা আর জোরালো ট্রেড ইউনিয়ন মুভমেন্ট না থাকা সন্ধ্যেয় ঝুপ করে অন্ধকার নেমে এলে যার অস্বস্তি হয়, উশখুশ করতে থাকে কেবল, সে কি মনে রাখবে ডিভানের মালিকানা বর্তেছিল তার ঘাড়ে একদিন? নাকি এটা অছিলা মাত্র? ওই যে সুশীলার বুকে হাত দিয়ে ভয়ে কাঠ মেরে যাওয়া আর শরীরে অদ্ভুত শিরশিরানি, সেটাও কি ওই অন্ধকারে আসলে সম্ভব? নাকি আমাদের শরীরে শব্দেরা একান্তে ঘর বাঁধে – যতই তাদের টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে চাই নে কেন অপরের শরীরে,বহু যুগ যাবৎ আমার ব্যক্তিগত ইতিহাসে তারা প্রোথিত হয়ে আছেই, নিজেকে সুশীলাদের শরীর, কারখানা, ট্রেড ইউনিয়ন, জ্যোতি বসুর সরকার গড়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ফুঁসতে থাকা বাবাদের উষ্মা, ইত্যাদি কিছুতেই লুকিয়ে ফেলার উপায় নেই। এই নিরুপায় মানুষের গল্প বলেছে শাক্যজিৎ। তার পথ ধরে আমরাও হাঁটি – আমি তো ওর বর্ণিত রেসিডেন্ট পাগলদের চিনি। প্রত্যেককে। আমার গল্পটাই বলে শাক্যজিৎ – শুধু যে শব্দগুলো ব্যবহার করে সে, তার অর্থগুলো বদলে গেছে, মমতা কুলকার্ণিকে আমি দেখেছি আলগোছে।





অভিক সরকারের নতুন বইগুলোর পিডিএফ দিন
শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যের ‘নৈশ অপেরা’, ‘একানড়ে’, ‘বীরেশ্বর সামন্তর হত্যা রহস্য’ বই গুলো আপলোড করুন