অথ রম্যকথা – অনন্যা পাল
Atho Ramyakatha By Ananya Pal
প্রথম প্রকাশ: জানুয়ারি ২০২০
প্রকাশক – অরুণাভ চট্টোপাধ্যায়, আত্মজা পাবলিশার্স
“ভালোর ভালো বলে এই দুনিয়ায় কিছুই তো নাই।
মন্দের ভালোই সত্যিকারের ভালো।
তাই নিয়েই খুশি থাকতে হয়।”
শিবরাম চক্রবর্তী
এই বইটি, প্রবাদপ্রতিম হাস্যরসিক ও
সাহিত্যিক শিবরাম চক্রবর্তীকে আমার শ্রদ্ধার্ঘ।
.
বইটি সম্পর্কে দু-চার কথা
সভ্যতার অগ্রগতির সাথে স্বভাবতই আমাদের জীবনযাত্রা হয়ে পড়েছে ব্যস্ততাময় ও জটিল; সহজ সরল প্রাণখোলা হাসির অবকাশ সেখানে কম। কিন্তু ভালো থাকার পেছনে এই হাসির অবদান একবাক্যে স্বীকার করবেন সকলেই; সমাজে যখন ডিপ্রেশান এক গভীর ও দ্রুত বিস্তার প্রাপ্ত ব্যাধি, হাসির প্রয়োজন সেক্ষেত্রে বেড়েছে বই কমে নি। হাসির গল্প বা রম্য রচনার আঙ্গিক অনেকরকম হতে পারে, তবে নিজেকে নিয়ে হাসতে পারা আমার ব্যক্তিগত পছন্দের, হয়তো এতেই আমি সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ। সেকারণেই, এই বইয়ের প্রথম আঠেরোটি গল্প আমার নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন, তা সে নিজের দেশে, অথবা বিদেশে থাকাকালীন বা কোথাও বেড়াতে গিয়েই হোক। আশা রাখি আমার মত আর পাঁচজন সাধারণ বাঙালীও গল্প গুলির সাথে একাত্ম বোধ করবেন। বইয়ের প্রথম (কণিষ্ক), পঞ্চম (কুল না ফুল), ষষ্ঠ (রাগে অনুরাগে) ও বিংশতম (আলাপচারিতা) গল্পগুলি আমার ঢাকায় থাকাকালীন ওখানকার বিখ্যাত ‘প্রথম আলো’ দৈনিকপত্রিকায় বেরিয়েছিল।
বইয়ের বেশ কয়েকটি গল্প আমার বেড়ানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা; যেমন ‘বাহারে সমুদ্রবিহার’, ‘জঙ্গল সাফারি ও গদাযুদ্ধ’, ‘মাসাইয়ের জঙ্গলে’, ‘দাঁড়ে দাঁড়ে দুম্’, ‘কিমোনো কথা’ ও ‘হরিণে হরিল হৃদি’। এই গল্পগুলি রম্যরচনার গণ্ডী পেরিয়ে ভ্রমণগদ্যও বটে, হয়তো ভ্রমণপ্রিয় পাঠকেরা এগুলিতে সেই অতিরিক্ত স্বাদ পাবেন।
বইয়ের শেষ গল্প ‘দশ এক্কে দশ’ দশটি পরস্পর জড়িত গল্পের সমাহার, যেখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিফলন ঘটেছে। খানিকটা পরীক্ষামূলক ভাবেই এর প্রথম তিনটি গল্প লিখেছিলাম, যা নবকল্লোলএ ডিসেম্বর ২০১৮ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়; পরে বাকি সাতটি গল্প তার সাথে জুড়ে একটি ঘটনাবৃত্তকে সম্পূর্ণ করি।
চিত্রাঙ্কণ যোগে গল্পগুলি অন্য মাত্রা পেয়েছে বলেই আমার বিশ্বাস; আমার এই ভাবনা কে সযত্নে বাস্তবায়িত করেছেন প্রকাশক ও অঙ্কণ শিল্পী, তাঁদের কাছে এর জন্যে আমি বিশেষ কৃতজ্ঞ।
আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এই বইটির পাঠকমণ্ডলীর কাছেও, তাঁদের উৎসাহেই ভবিষ্যতে আরো এগিয়ে যাবার স্পর্ধা রাখি।
অনন্যা পাল



Leave a Reply