আদর্শ মানব মুহাম্মদ (সা)

অধ্যায় ০১ : আইয়ামে জাহিলিয়াত

আদম (আ) থেকে শুরু করে বহু নবীর কর্মক্ষেত্রে ছিলো আরব দেশ। কালক্রমে আরবের লোকেরা নবীদের শেকানো জীবন বিধান ভূরে যায়। তাদের আকীদা বিশ্বাসে ঢুকে পড়ে বিকৃতি। তারা আল্লাহকে সব চাইতে বড় খোদা বলে স্বীকার করতো। কিন্তু বাস্তব জীবনে তারা নিজেদের মনগড়া ছোটখাটো খোদাগুলোর পূজা...

অধ্যায় ০২ : বাল্যকাল ও হিলফুল ফুজুল

মুহাম্মাদ (সা) এলেন দুনিয়ায় ঈসায়ী ৫৭১ সনের এপ্রিল মাসে তথা রবিউল আউয়াল মাসে মুহাম্মাদ (স) কাবার মুতাওয়াল্লী আবদুল মুত্তালিবের বাস গৃহে ভূমিষ্ট হন। তাঁর আব্বা আবদুল্লাহ ইতিপূর্বে মারা যান। আম্মা আমিনা শিশুপুত্রকে নিয়ে শ্বশুর আবদুল মুত্তালিবের ঘরে বসবাস করতে থাকেন।...

অধ্যায় ০৩ : যৌবনকাল

ব্যবসায়ী মুহাম্মাদের (সা) মুহাম্মাদের (সা) চাচা আবু তালিব একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। কিশোর মুহাম্মাদের (সা) চাচার সাথে ব্যবসা উপলক্ষে সিরিয়া সফর করেন। যৌবনে তিনি নিজে ব্যবসা শুরু করেন। লোকেরা তাঁর সততায় মুদ্ধ ছিলো। অনেকেই মূলধন দিয়ে তাঁর সাথে ব্যবসায় শরীক হতে লাগলো।...

অধ্যায় ০৪ : সবার আগে যারা ইসলাম গ্রহণ করলেন

প্রথম ওহী প্রাপ্তি মুহাম্মাদ (সা) বয়স তখন চল্লিশ বছর। তিনি হিরা গুহায় বসে ভাবতেন। মাহে রমদানের শেষ ভাগ। একদিন এক ফিরিশতা এসে হাজির হলো তাঁর সামনে। এই ফিরশতার নাম জিবরাঈল। এই ফিরিশতার মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুহাম্মাদ (সা) এর নিকট পৌঁছালেন এই বাণী- পড় তোমার...

অধ্যায় ০৫ : প্রকাশ্য আহবান ও জুলুম নির্যাতন

প্রকাশ্য আহবান কেটে গেলো তিনটি বছর। নবীর নেতৃত্বে গড়ে উঠলো একটি ছোট সংগঠন। এবার আল্লাহ নির্দেশ দিলেন- যেই বিষয়ে তুমি আদিষ্ট হচ্ছো তা প্রকাশ্য উচ্চ কন্ঠে ঘোষণা কর। (সূরা আল-হিজর:৯৪) মুহাম্মাদ (সা) কাবার নিকটবর্তী সাফা পাহাড়ে উঠে জোরে আওয়াজ দিলেনইয়াসাবা-হাহ। কোন বিপদ...

অধ্যায় ০৬ : ইসলাম গ্রহণ : হামযা ও উমর , শিয়াবে আবু তালিব, তায়েফ গমন

হামজার ইসলাম গ্রহণ ইসলাম প্রচারের ৬ষ্ঠ বছর। মুসলিমদের উপর অত্যাচারের মাত্রা আরো বেড়ে গেছে। একদিন আবু জাহেল আল্লাহর রাসূলের (সা) সংগে দুর্ব্যবহার করে। সেই সময় হামজা ছিলেন শিকারে। শিকার থেকে ফিরে এসে তিনি এই ঘটনা শুনতে পান। মুহাম্মাদের (সা) প্রতি দুর্ব্যবহার। এটা তিনি...

অধ্যায় ০৭ : জ্বীনের ইসলাম গ্রহণ ও চাঁদ বিদারন

একদল জিনের ইসলাম গ্রহণ উকাজের মেলা। বহু লোক জামায়েত হয়েছে। সেখানে। মুহাম্মাদ (সা) ছুটে গেলেন ইসলামের আহবান পৌঁছাতে। পথের একটি স্থান নাখলা। রাত কাটালেন তিনি সেখানে। ছালাতুল ফাজর আদায় করলেন সংগের কয়েকজন মুসলিমকে নিয়ে। তিনি সালাতে আল কুরআন পড়ছিলেন। একদল জিন থমকে দাঁড়ায়।...

অধ্যায় ০৮ : মদীনায় হিজরত ও রাসুল সা: কে হত্যার ষড়যন্ত্র

ইয়াসরিবে ইসলাম ইসলাম প্রচারের দশম বছর। হাজ উপলক্ষে আরবের বিভিন্ন অঞ্চলের লোক এসেছে মক্কায়। ইয়াসরিব থেকেও এসেছে একদল লোক। মুহাম্মাদ (সা) মিনার আকাবা নামক স্থানে ইয়াসরিবাসীদের সাথে মিলিত হন। তাদের নিকট তিনি ইসলামের দাওয়াত পেশ করেন। ছয়জন ইয়াসরিববাসী সেখানে ছিলেন। তাঁরা...

অধ্যায় ০৯ : মদীনা সনদ , কিবলা পরিবর্তন, রোজার হুকুম, বনু-কাইনুকার বিরুদ্ধে অভিযান

মদীনা সনদ মদীনার ইয়াহুদী ও মুসলিমদের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। এই চুক্তি মাদীনার সনদ নামে খ্যাত। এই সনদে লিখা ছিলো- মুসলিম ও ইয়াহুদীগণ এক রাষ্ট্র জাতিতে পরিণত হবে। হত্যার বিনিময়ে নিহত ব্যক্তির আত্মীয়কে অর্থদান প্রথা বহাল থাকবে। ইয়াহুদীদের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা...

অধ্যায় ১০ : উহুদ যুদ্ধ, উত্তরাধিকার আইন, আহযাব যুদ্ধ, বনু কুরাইজা

উহুদ যুদ্ধ হিজরী তৃতীয় সন। শাওয়াল মাস। কুরাইশ মুশরিকরা বদরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যে মদীনার দিকে অগ্রসর হয়। মদীনার প্রায় চার মাইল দূরে উহুদ পাহাড়। কুরাইশ বাহিনী উহুদ পাহাড়ের পাদদেশে তাদের ছাউনী ফেলে। তাদের যোদ্ধার একটি বাহিনী উহুদের দিকে রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে...

অধ্যায় ১১ : হুদাইবিয়ার সন্ধি

হুদাইবিয়ার সন্ধি হিজরী ষষ্ঠ সন। আল্লাহর রাসূল (সা) কাবা যিয়ারতের সিদ্ধান্ত নেন। চৌদ্দশত মুসলিম রাসূলের (সা) সংগী হন। মুসলিমদের কোন সামরিক উদ্দেশ্যে ছিলো না। প্রত্যেকের সংগে ছিলো মাত্র একখানি কোষবদ্ধ তলোয়ার। আল্লাহর রাসূল (সা) হুদাইবিয়া নামক স্থানে এসে পৌঁছেন। এদিকে...

অধ্যায় ১২ : রাসূলুল্লাহর (সা) চিঠি

রোম সম্রাট হিরক্লিয়াসকে আল্লাহর রাসূল (সা) লিখেন- বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আল্লাহর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে রোমের শাসক হিরাক্লিয়াসের নামে। যেই ব্যক্তি সত্যপথ অনুসরণ করে তার প্রতি বর্ষিত হোক শান্তি। অতপর আমি তোমাকে ইসলামের দিকে আহবান জানাচ্ছি। আল্লাহর...

অধ্যায় ১৩ : ব্যভিচার , চুরি , মিথ্যা অপবাদের শাস্তি , পর্দা ও হারাম-হালাল খাবার

ব্যভিচারের শাস্তি বিধান হিজরী ষষ্ঠ সন। ইসলামী রাষ্ট্রে তখন অনেক সুসংহত। পাপ ও অশ্লীলতার দ্বারগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরিবেশ এখন পবিত্র। এই পবিত্র পরিবেশ বিনাশ করতে পারে এমন কিছুকে আর প্রশয় দেয়া যায় না। এই সময় আল্লাহ ব্যভিচারের শাস্তি সংক্রান্ত নির্দেশ নাযিল করেন-...

অধ্যায় ১৪ : খাইবার যুদ্ধ

খাইবার যুদ্ধ হিজরী সপ্তম সন। মুহরারাম মাস। রাসূল (সা) এবার ষড়যন্ত্রের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র খাইবারের দিকে দৃষ্টি দেন। ষোল শত যোদ্ধা নিয়ে তিনি খাইবার এসে পৌঁছেন। খাইবার ছিলো ৬টি দুর্গ। এই সব দুর্গ ছিলো ২০ হাজার ইয়াহুদী যোদ্ধা। ইয়াহুদীরা কোনরূপ সন্ধি করতে রাজী হলো না।...

অধ্যায় ১৫ : মক্কা বিজয়

মক্কা বিজয় মুসলিমদের মিত্র গোত্র বানু খুজায়ার লোকদের হত্যাকান্ডে কুরাইশরা অংশ নেয়। এমনকি কাবা ঘরে আশ্রয় নিয়েও বানু খুজায়ার কোন লোক প্রাণ বাঁচাতে পারেনি। এইভাবে কুরাইশরা হুদাইবিয়ার চুক্তি ভঙ্গ করে আল্লাহর রাসূল (সা) এবার মুশরিক কুরাইশরদেরকে সমুচিত শিক্ষা দেবার...

অধ্যায় ১৬ : হুনাইন ও মূতার যুদ্ধ

হুনাইন যুদ্ধ হিজরী অস্টম সন। শাওয়াল মাস। বারো হাজার সৈন্য নিয়ে আল্লাহর রাসূল (সা) হুনাইনের দিকে অগ্রসর হন। এই এলাকায় হাওয়াজিন ও সাকীফ গোত্র মালিক ইবনু আউফ নাযারীকে রাজা বানিয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। হুনাইন মক্কা ও তাইফের মধ্যবর্তী একটি উপত্যকা।...

অধ্যায় ১৭ : তাবুক যুদ্ধ

তাবুক যুদ্ধ হিজরী নবম সন। রজব মাস। রোম-সম্রাট আবার সিরিয়া সীমান্তে সৈন্য মোতায়ন করেন। খবর পেয়ে আল্লাহর রাসূল (সা) যুদ্ধাভিযানের প্রস্তুতি শরু করেন। গ্রীষ্মকাল। প্রচন্ড গরম। দেশে খাদ্যাভাব। ফসল সবেমাত্র পাকতে শুরু করেন। দূরত্ব ছিলো অনেক। মুকাবিলা ছিলো বিশাল বাহিনীর...

অধ্যায় ১৮ : সুদ ও যাকাত

সুদ নির্মূল করণ খাইবার যুদ্ধের আগেই সুদ নিষিদ্ধ হয় সূরা আলে ইমরানের একটি আয়াতের মাধ্যমে। হিজরী অষ্ঠম সনে এই মর্মে নিন্মোক্ত বাণী নাযিল হয়। যারা সুদ খায় তাদের অবস্থা হয় সেই ব্যক্তির মতো যাকে শয়তান তার ছোঁয়া লাগিয়ে পাগলের মতো করে ফেলেছে। তাদের অবস্থা এমন এই জন্য যে তারা...

অধ্যায় ১৯ : বিদায় হজ্জ্ব ও ভাষণ

আল্লাহর রাসূলের হাজ্ব হিজরী দশম সন। রাসূলুল্লাহ (সা) হাজ্জ পালনের জন্যে তারা মক্কায় আসেন। এই হাজ্জে লক্ষ্যাধিক মুসলিম সমবেদ হন। অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা পালন করে তিনি আরাফাত প্রান্তরে পৌঁছেন। আরাফাতের বুকে দাঁড়িয়ে আছে জাবালুর রাহমাত বা রাহমাতের পাহাড়। এই পাহাড়ের গায়ে...