অনুবাদ কবিতা

অদৃষ্টের হাতে লেখা

অদৃষ্টের হাতে লেখা সূক্ষ্ম এক রেখা, সেই পথ বয়ে সবে হয় অগ্রসর। কত শত ভাগ্যহীন ঘুরে মরে সারাদিন প্রেম পাইবার আগে মৃত্যু দেয় দেখা, এত দূরে আছে তার প্রাণের দোসর! কখন বা তার চেয়ে ভাগ্য নিরদয়, প্রণয়ী মিলিল যদি–অতি অসময়! “হৃদয়টি?’ “দিয়াছি তা!’...

আঁখি পানে যবে আঁখি তুলি

আঁখি পানে যবে আঁখি তুলি দুখ জ্বালা সব যাই ভুলি। অধরে অধরে পরশিয়া প্রাণমন উঠে হরষিয়া। মাথা রাখি যবে ওই বুকে ডুবে যাই আমি মহা সুখে। যবে বল তুমি, “ভালবাসি’, শুনে শুধু আঁখিজলে ভাসি। Heinrich...

আবার আবার কেন রে আমার

আবার আবার কেন রে আমার সেই ছেলেবেলা আসে নি ফিরে, হরষে কেমন আবার তা হলে, সাঁতারিয়ে ভাসি সাগরের জলে, খেলিয়ে বেড়াই শিখরী শিরে! স্বাধীন হৃদয়ে ভালো নাহি লাগে, ঘোরঘটাময় সমাজধারা, না, না, আমি রে যাব সেই স্থানে, ভীষণ ভূধর বিরাজে যেখানে, তরঙ্গ মাতিছে পাগল পারা! অয়ি লক্ষ্মী,...

কষ্টের জীবন (মানুষ কাঁদিয়া হাসে)

মানুষ কাঁদিয়া হাসে, পুনরায় কাঁদে গো হাসিয়া। পাদপ শুকায়ে গেলে, তবুও সে না হয় পতিত, তরণী ভাঙিয়া গেলে তবু ধীরে যায় সে ভাসিয়া, ছাদ যদি পড়ে যায়, দাঁড়াইয়া রহে তবু ভিত। বন্দী চলে যায় বটে, তবুও তো রহে কারাগার, মেঘে ঢাকিলেও সূর্য কোনোমতে দিন অস্ত হয়, তেমনি হৃদয় যদি ভেঙেচুরে হয়...

কোরো না ছলনা, কোরো না ছলনা

“কোরো না ছলনা, কোরো না ছলনা যেয়ো না ফেলিয়া মোরে! এতই যাতনা দুখিনী আমারে দিতেছ কেমন করে? গাঁথিয়া রেখেছি পরাতে মালিকা তোমার গলার-‘পরে, কোরো না ছলনা, কোরো না ছলনা, যেয়ো না ফেলিয়া মোরে! এতই যাতনা দুখিনী-বালারে দিতেছ কেমন করে? যে শপথ তুমি বলেছ আমারে মনে করে...

গভীর গভীরতম হৃদয়প্রদেশে

১ গভীর গভীরতম হৃদয়প্রদেশে, নিভৃত নিরালা ঠাঁই, লেশমাত্র আলো নাই, লুকানো এ প্রেমসাধ গোপনে নিবসে, শুদ্ধ যবে ভালোবাসা নয়নে তোমার, ঈষৎ প্রদীপ্ত হয়, উচ্ছ্বসয়ে এ-হৃদয়, ভয়ে ভয়ে জড়সড় তখনি আবার। ২ শূন্য এই মরমের সমাধি-গহ্বরে, জ্বলিছে এ প্রেমশিখা চিরকাল-তরে, কেহ না দেখিতে পায়,...

গানগুলি মোর বিষে ঢালা

গানগুলি মোর বিষে ঢালা কী হবে আর তাহা বই? ফুটন্ত এ প্রাণের মাঝে বিষ ঢেলেছে বিষময়ী! গানগুলি মোর বিষেঢালা, কী হবে আর তাহা বই? বুকের মধ্যে সর্প আছে, তুমিও সেথা আছে অয়ি! Heinrich...

গিয়াছে যে দিন, সে দিন হৃদয়

গিয়াছে যে দিন, সে দিন হৃদয় রূপের মোহনে আছিল মাতি, প্রাণের স্বপন আছিল যখন প্রেম প্রেম শুধু দিবস রাতি! শান্ত আশা এ হৃদয়ে আমার এখন ফুটিতে পারে, সুবিমলতর দিবস আমার এখন উঠিতে পারে। বালক কালের প্রেমের স্বপন– মধুর যেমন উজল যেমন তেমন কিছুই আসিবে না, তেমন কিছুই আসিবে না!...

চপলারে আমি অনেক ভাবিয়া

চপলারে আমি অনেক ভাবিয়া দূরেতে রাখিয়া এলেম তারে, রূপ-ফাঁদ হতে পালাইতে তার, প্রণয়ে ডুবাতে মদিরা-ধারে। এত দূরে এসে বুঝিনু এখন এখনো ঘুচে নি প্রণয়-ঘোর, মাথায় যদিও চড়েছে মদিরা প্রণয় রয়েছে হৃদয়ে মোর। যুবতীর শেষে লইনু শরণ মাগিনু সহায় তার, অনেক ভাবি সে কহিল তখন “চপলা...

জাগি রহে চাঁদ (জাগি রহে চাঁদ আকাশে যখন)

বেহাগ জাগি রহে চাঁদ আকাশে যখন সারাটি রজনী! শ্রান্ত জগত ঘুমে অচেতন সারাটি রজনী! অতি ধীরে ধীরে হৃদে কী লাগিয়া মধুময় ভাব উঠে গো জাগিয়া সারাটি রজনী! ঘুমায়ে তোমারি দেখি গো স্বপন সারাটি রজনী! জাগিয়া তোমারি দেখি গো বদন সারাটি রজনী! ত্যজিবে যখন দেহ ধূলিময় তখনি কি সখি তোমার...

জীবন উৎসর্গ (এসো এসো এই বুকে নিবাসে তোমার)

এসো এসো এই বুকে নিবাসে তোমার, যূথভ্রষ্ট বাণবিদ্ধ হরিণী আমার, এইখানে বিরাজিছে সেই চির হাসি, আঁধারিতে পারিবে না তাহা মেঘরাশি। এই হস্ত এ হৃদয় চিরকাল মতো তোমার, তোমারি কাজে রহিবে গো রত! কিসের সে চিরস্থায়ী ভালোবাসা তবে, গৌরবে কলঙ্কে যাহা সমান না রবে? জানি না, জানিতে আমি...

জীবন মরণ (ওরা যায়, এরা করে বাস)

ওরা যায়, এরা করে বাস; অন্ধকার উত্তর বাতাস বহিয়া কত-না হা-হুতাশ ধূলি আর মানুষের প্রাণ উড়াইয়া করিছে প্রয়াণ। আঁধারেতে রয়েছি বসিয়া; একই বায়ু যেতেছে শ্বসিয়া মানুষের মাথার উপরে, অরণ্যের পল্লবের স্তরে। যে থাকে সে গেলদের কয়, “অভাগা, কোথায় পেলি লয়। আর না শুনিবি তুই কথা,...

তুমি একটি ফুলের মতো মণি

তুমি একটি ফুলের মতো মণি এম্‌নি মিষ্টি, এম্‌নি সুন্দর! মুখের পানে তাকাই যখনি ব্যথায় কেন কাঁদায় অন্তর! শিরে তোমার হস্ত দুটি রাখি পড়ি এই আশীষ মন্তর, বিধি তোরে রাখুন চিরকাল এমনি মিষ্টি, এম্‌নি সুন্দর! Heinrich...

দামিনীর আঁখি কিবা

দামিনীর আঁখি কিবা ধরে জ্বল’ জ্বল’ বিভা কার তরে জ্বলিতেছে কেবা তাহা জানিবে? চারি দিকে খর ধার বাণ ছুটিতেছে তার কার-‘পরে লক্ষ্য তার কেবা অনুমানিবে? তার চেয়ে নলিনীর আঁখিপানে চাহিতে কত ভালো লাগে তাহা কে পারিবে কহিতে? সদা তার আঁখি দুটি নিচু পাতে আছে ফুটি,...

দিন রাত্রি নাহি মানি

দিন রাত্রি নাহি মানি, আয় তোরা আয় রে, চির সুখ-রসে রত আমরা হেথায় রে। বসন্তে মলয় বায় একটি মিলায়ে যায়, আরেকটি আসে পুনঃ মধুময় তেমনি, প্রেমের স্বপন হায় একটি যেমনি যায় আরেকটি সুস্বপন জাগি উঠে অমনি। নন্দন কানন যদি এ মরতে চাই রে তবে তা ইহাই রে! তবে তা ইহাই রে। প্রেমের নিশ্বাস...

নলিনী (লীলাময়ী নলিনী)

লীলাময়ী নলিনী, চপলিনী নলিনী, শুধালে আদর করে ভালো সে কি বাসে মোরে, কচি দুটি হাত দিয়ে ধরে গলা জড়াইয়ে, হেসে হেসে একেবারে ঢলে পড়ে পাগলিনী! ভালো বাসে কি না, তবু বলিতে চাহে না কভু নিরদয়া নলিনী! যবে হৃদি তার কাছে, প্রেমের নিশ্বাস যাচে চায় সে এমন করে বিপাকে ফেলিতে মোরে, হাসে...

নীল বায়লেট নয়ন দুটি করিতেছে ঢলঢল

নীল বায়লেট নয়ন দুটি করিতেছে ঢলঢল রাঙা গোলাপ গাল দুখানি, সুধায় মাখা সুকোমল। শুভ্র বিমল করকমল ফুটে আছে চিরদিন! হৃদয়টুকু শুষ্ক শুধু পাষাণসম সুকঠিন! Heinrich...

পাতায় পাতায় দুলিছে শিশির

পূরবী পাতায় পাতায় দুলিছে শিশির গাহিছে বিহগগণ, ফুলবন হতে সুরভি হরিয়া বহিতেছে সমীরণ সাঁঝের আকাশ মাঝারে এখনো মৃদুল কিরণ জ্বলে। নলিনীর সাথে বসিয়া তখন কত-না হরষে কাটাইনু ক্ষণ, কে জানিত তবে বালিকা নিদয় রেখেছিল ঢাকি কপট-হৃদয় সরল হাসির তলে! এই তো সেথায় ভ্রমি, গো, যেথায় থাকিত...

প্রথমে আশাহত হয়েছিনু

প্রথমে আশাহত হয়েছিনু ভেবেছিনু সবে না এ বেদনা; তবু তো কোনোমতে সয়েছিনু, কী করে যে সে কথা শুধায়ো না। Heinrich...

প্রেমতত্ত্ব (নিঝর মিশেছে তটিনীর সাথে)

নিঝর মিশেছে তটিনীর সাথে তটিনী মিশেছে সাগর-‘পরে, পবনের সাথে মিশিছে পবন চির-সুমধুর প্রণয়-ভরে! জগতে কেহই নাইকো একেলা, সকলি বিধির নিয়ম-গুণে, একের সহিত মিশিছে অপরে আমি বা কেন না তোমার সনে? দেখো, গিরি ওই চুমিছে আকাশে, ঢেউ-‘পরে ঢেউ পড়িছে ঢলি, সে কুলবালারে কে বা...