॥ ১০ ॥
চোখ খুলতেই যখন দেখলাম ফেলুদা যোগ ব্যায়াম করছে, তখন বুঝলাম সূর্য উঠতে এখনও অনেক দেরি। অথচ এটা জানি যে ও অনেক রাত পর্যন্ত ল্যাম্প জ্বালিয়ে কাজ করেছে।
একটা শব্দ শুনে বারান্দার দিকের জানালাটার দিকে চাইতে দেখি, লালমোহনবাবুও এরই মধ্যে উঠে পড়ে টুথব্রাশে ওঁর প্রিয় লাল সাদা ডোরাকাটা সিগন্যাল টুথপেস্ট লাগাচ্ছেন। বুঝলাম, আমাদের দুজনের মনের একই অবস্থা।
ফেলুদা ব্যায়াম শেষ করে বলল, ‘চা খেয়েই বেরিয়ে পড়ব।’
‘কোথাও যাবার আছে বুঝি?’
‘মাথাটা পরিষ্কার করা দরকার। বিশালত্বের সামনে পড়লে সেটা সময় সময় হয়। ভোরের সমুদ্রের দিকে চাইলেই একটা টনিকের কাজ দেয়।’
বেরোবার আগে শ্যামলাল বারিকের ঘরে গিয়ে ফেলুদা বলল, ‘শুনুন, কয়েকটা ব্যাপার আছে। নেপালে একটা কল বুক করতে হবে, এই নিন নম্বর। আর মহাপাত্রের কাছ থেকে কোনও মেসেজ এলে রেখে দেবেন। আর, হ্যাঁ—এখানে খুব ভাল অ্যালোপ্যাথিক ডাক্তার কে আছে?’
‘কটা চাই? আপনি কি ভাবছেন অজ পাড়াগাঁয়ে এসে পড়েছেন?’
‘বুড়ো হাবড়া হলে চলবে না। ইয়াং চৌকস ডাক্তার চাই।’
‘বেশ তো, ডাঃ সেনাপতি আছেন। গ্র্যান্ড রোডে উৎকল কেমিস্টে চেম্বার আছে। সকালে দশটার পর গেলেই দেখা পাবেন।’
আমরা বেরিয়ে পড়লাম।
সমুদ্রের ধারে স্নানের লোক এখনও কেউ আসেনি, শুধু নুলিয়া ছাড়া আর কোনও মানুষ দেখা যাচ্ছে না। পুবের আকাশ ফিকে লাল, ছাই রঙের মেঘের টুকরোগুলোর নীচের দিকটা গোলাপি হয়ে আসছে। সমুদ্র কালচে নীল, শুধু তীরে এসে ভাঙা ঢেউয়ের মাথাগুলো সাদা।
প্রথমদিন এসে যে তিনটে নুলিয়া ছেলেকে তীরে বসে খেলতে দেখেছিলাম, কাঁকড়া সম্বন্ধে তাদের ভীষণ কৌতূহল। ওই কাঁকড়াই হল লালমোহনবাবুর মতে পুরীর সমুদ্রতটের একমাত্র মাইনাস পয়েন্ট।
‘কী নাম রে তোর?’
তিনটে নুলিয়া ছেলের একটার মাথায় পাগড়ির মতো করে বাঁধা লাল কাপড় ; সে ফেলুদার প্রশ্নে দাঁত বার করে হেসে বলল, ‘রামাই, বাবু।’
আমরা এগিয়ে চললাম। লালমোহনবাবুর কবিত্বভাব জেগে উঠেছে, বললেন, ‘এই উন্মুক্ত উদার পরিবেশে রক্তপাত! ভাবা যায় না মশাই।’
‘হু—ব্লান্ট ইন্সট্রুমেন্ট…’ অন্যমনস্কভাবে বলল ফেলুদা। আমি জানি অস্ত্র দিয়ে খুনটা সাধারণত তিন রকমের হয়। এক হল আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে—যেমন রিভলভার পিস্তল ; দুই : শার্প ইন্সট্রুমেন্ট, যেমন ছোরা-ছুরি-চাকু ইত্যাদি ; তিন হল ব্লান্ট ইন্সট্রুমেন্ট বা ভোঁতা হাতিয়ার, যেমন ডাণ্ডা জাতীয় কিছু। বেশ বুঝতে পারলাম ফেলুদা কাল রাত্রে ওর মাথায় বাড়ি লাগার কথাটা ভাবছে। সত্যি, ভাবলে রক্ত জল হয়ে যায়। ভাগ্যে আঘাতটা মোক্ষম হয়নি।
‘ফুটপ্রিন্টস…’ ফেলুদা বলে উঠল।
একটু এগিয়ে গিয়েই দেখতে পেলাম টাটকা পায়ের ছাপ। জুতো, আর সেই সঙ্গে বাঁ হাতে ধরা লাঠি।
‘বিলাসবাবু খুব আলি রাইজার বলে মনে হচ্ছে,’ মন্তব্য করলেন লালমোহনবাবু।
‘বিলাসবাবু? বিলাসবাবু বলে মনে হচ্ছে কি? দেখুন তো ভাল করে’—দূরে সামনের দিকে দেখিয়ে বলল ফেলুদা।
এত দূর থেকেও বুঝতে পারলাম, যিনি বালিতে দাগ ফেলতে ফেলতে এগিয়ে চলেছেন তিনি মোটেই বিলাসবাবু নন।
‘তাই তো!’ বললেন লালমোহনবাবু, ‘ইনি তো দেখছি আমাদের সেনসেশন্যাল সেন সাহেব!’
‘ঠিক ধরেছেন। দুর্গাগতি সেন।’
‘কিন্তু তা হলে গেঁটে বাত?’
‘সেইখানেই তো ভেল্কি! লক্ষ্মণ ভট্টাচার্যের ওষুধের গুণ বোধহয়!’
মনে ধাঁধাটে ভাব নিয়ে আবার হাঁটা শুরু করলাম। রহস্যের পর রহস্য যেন ঢেউয়ের পর ঢেউ।
বাঁয়ে রেলওয়ে হোটেল দেখা যাচ্ছে। ডাইনে গোটা পাঁচেক নুলিয়া আর সুইমিং ট্রাঙ্কস পরা তিনজন সাহেব। তার মধ্যে একজন ফেলুদার দিকে হাত তুললেন।
‘গুড মর্নিং!’
আন্দাজে বুঝলাম ইনিই কালকের সেই পুলিশকে ফোন করা আমেরিকান।
আমরা এগিয়ে গেলাম। ওই যে হিঙ্গোরানি আসছেন, কাঁধে তোয়ালে। ভারী অপ্রসন্ন মনে হচ্ছে ভদ্রলোককে। আমাদের দিকে দেখলেনই না।
আমার মন কেন জানি বলছে ফেলুদা সাগরিকায় যাচ্ছে, কারণ ও সমুদ্রের ধারের বালি ছেড়ে বাঁয়ে চড়াইয়ে উঠতে শুরু করেছে। সূর্যের আধখানা কিন্তু এর মধ্যেই উঠে বসে আছে। ফেলুদার মাথা বিশালত্বের সামনে পড়ে পরিষ্কার হয়েছে কি?
‘প্রাতঃপ্রণাম!’
গণৎকার মশাই এগিয়ে এসেছেন বালির উপর দিয়ে, লুঙ্গিটা খাটো করে পরা, কাঁধে তোয়ালে, হাতে নিমের দাঁতন।
‘কাল কোথায় ছিলেন?’ ফেলুদা জিজ্ঞেস করল।
‘কখন?’
‘সন্ধেবেলা ; আপনার খোঁজ করেছিলাম।’
‘ওহো। কাল গেসলাম কের্তন শুনতে। মংগলাঘাট রোডে একটা কের্তনের দল আছে ; মাঝে-মধ্যে যাই।’
‘কখন গিয়েছিলেন?’
‘আমার তো ছটার আগে ছুটি নেই। তারপরেই গেসলাম।’
‘আপনি তো ও বাড়ির বাসিন্দা, তাই ভাবছিলাম চুরির ব্যাপারে যদি কোনও আলোকপাত করতে পারেন। আপনার ঘর থেকে পশ্চিমের গলিটা তো দেখা যায়।’
‘তা তো যায়ই, তবে পশ্চিমের গলিতে যা দেখেছি তাতে খুব অবাক হইনি,’ বললেন লক্ষ্মণ ভট্টাচার্য। ‘নিশীথবাবুকে দেখলাম তল্পিতল্পা নিয়ে বেরুতে। তা উনি যে কলকাতায় যাবেন সেটা তো কদিন থেকেই ঠিক ছিল।’
‘তাই বুঝি?’
‘ওঁর মা-র যে এখন-তখন অবস্থা। টেলিগ্রাম এসেছিল কদিন আগে।’
‘বটে? আপনি দেখেছিলেন সে টেলিগ্রাম?’
‘শুধু আমি কেন? সেন মশাইও দেখেছিলেন।’
ফেলুদা অবাক।
‘আশ্চর্য! সেন মশাই তো সে কথা বললেন না।’
‘সে আর কী বলব বলুন! উনি মানুষটা কী রকম সেটা তো আপনারাও দেখলেন। দুর্ভোগ আছে আর কী। কপালের লিখন খণ্ডায় কার সাধ্যি বলুন!’
‘আপনি মিঃ সেনেরও ভাগ্য গণনা করেছেন নাকি?’ ভারী ব্যস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন লালমোহনবাবু।
‘এ তল্লাটে কার করিনি? কিন্তু করলে কী হবে? সবাইকে তো আর সব কথা বলা যায় না। অবিশ্যি ব্যারাম-ট্যারামের লক্ষণ দেখলে বলি ; তাই বলে, আপনি খুন করবেন, আপনার জেল হবে, ফাঁসি হবে, অপঘাতে মৃত্যু আছে আপনার—এ সব কি বলা যায়? তা হলে আর কেউ আসবে না মশাই। আসলে লোকে ভালটাই শুনতে চায়। তাই অনেক হিসেব করে ঢেকে-ঢুকে বলতে হয়।’
লক্ষ্মণ ভট্টাচার্য বিদায় জানিয়ে সমুদ্রের দিকে চলে গেলেন। আমরা এগিয়ে চললাম সাগরিকার দিকে। সকালের রোদ পড়ে বাড়িটাকে সত্যিই সুন্দর দেখাচ্ছে।
‘হত্যাপুরী’, বললেন লালমোহনবাবু।
‘সে কী মশাই,’ প্রতিবাদের সুরে বলল ফেলুদা, ‘হত্যা কোথায় হল যে হত্যাপুরী বলছেন? বরং চুরিপুরী বলতে পারেন।’
‘নট সাগরিকা,’ বললেন লালমোহনবাবু।—‘আমি এ দিকের বাড়িটার কথা বলছি।’
সাগরিকা থেকে আন্দাজ ত্রিশ গজ এই দিকে বালিতে বসে যাওয়া এই বাড়িটার কথা আগেই বলেছি। লালমোহনবাবু খুব ভুল বলেননি। এমনিতেই পোড়া নোনাধরা বাড়ি দেখলে কেমন গা ছমছম করে, এটার আবার তলার দিকের হাত-পাঁচেক বালিতে বসে যাওয়াতে, আর কাছাকাছি অন্য কোনও বাড়ি না থাকাতে সত্যিই বেশ ভূতুড়ে মনে হচ্ছিল। দিনের বেলাতেই এই, রাত্রে না জানি কী রকম হবে।
অন্যান্য দিন বাড়িটাকে পাশ কাটিয়ে যাই, আজ একটু কাছ থেকে দেখার লোভ সামলাতে পারল না বোধহয় ফেলুদা। ফটকের থামগুলো এখনও রয়েছে, তার একটার গায়ে কালসিটে মেরে যাওয়া শ্বেতপাথরের ফলকে লেখা ‘ভুজঙ্গ নিবাস’। বালি আর এক হাত উঠলেই ফলকটা ঢাকা পড়ে যাবে। ফটক পেরিয়ে বোধহয় এককালে একটা ছোট্ট বাগান ছিল, তারপরেই সিঁড়ি উঠে গিয়ে বারান্দা। সিঁড়ির শুধু ওপরের দুটো ধাপ বেরিয়ে আছে, বাকিগুলো বালির নীচে। বারান্দার রেলিং ক্ষয়ে গেছে, ছাত যে কেন ধসে পড়েনি জানি না। বারান্দার পরে যে ঘর, সেটা নিশ্চয়ই বৈঠকখানা ছিল।
‘একেবারে পরিত্যক্ত বলে তো মনে হচ্ছে না,’ ফেলুদা মন্তব্য করল। করার কারণটা স্পষ্ট। লোকের যাতায়াত আছে, সেটা বারান্দার বালির উপর পায়ের ছাপ থেকে বোঝা যায়।
‘আর দেশলাইয়ের কাঠি, ফেলুদা।’
একটা নয়, তিন-চারটে। সিঁড়ি উঠেই বারান্দার বাঁদিকের থামটার পাশে।
‘সমুদ্রের হাওয়ায় সিগারেট ধরাতে গেলে কাঠি খরচা একটু বেশি হবেই।’
আমরা ফটকের মধ্যে ঢুকলাম। সাংঘাতিক কৌতূহল হচ্ছে বাড়িটার ভিতরে ঢোকার। দরজা নিশ্চয়ই খোলা যায়, কারণ দমকা বাতাসে সেটা খটখট করে নড়ছে ; একেবারে যে খুলছে না, সেটা ঘরের মেঝেতে জমে থাকা বালিতে বাধা পাওয়ার জন্য।
পায়ের ছাপগুলো ফেলুদা খুব মন দিয়ে দেখল। প্রায় দেখা যায় না বললেই চলে, কারণ ক্রমাগতই হাওয়ার সঙ্গে বালি এসে তার উপর জমা হচ্ছে।
কিন্তু জুতোর ছাপ তাতে সন্দেহ নেই।
এ ছাড়াও আর একটা জিনিস আছে সেটা পা দিয়ে খানিকটা বালি সরাতেই বেরিয়ে পড়ল।
আমার মনে হল পানের পিক, যদিও লালমোহনবাবুর মতে নিঃসন্দেহে ব্লাড।
লালমোহনবাবু একবার মৃদুস্বরে ‘ব্রেকফাস্ট’ কথাটা বলাতে বুঝলাম ওঁর আর এগোতে সাহস হচ্ছে না। আমারও বুক ঢিপঢিপ করছে, কিন্তু ফেলুদা নির্বিকার।
‘তা হলে হত্যাপুরীতে একবার প্রবেশ করতে হয়।’
এটা জানাই ছিল। এতদূর এসে পায়ের ছাপটাপ দেখে ফেলুদা চট করে পিছিয়ে যাবে না।
ক্যাঁ—চ শব্দে দরজার দুটো পাল্লাই খুলে গেল ফেলুদার দু হাতের চাপে।
বাদুড়ে গন্ধ। বাইরে থেকে ভিতরের কিছুই দেখা যায় না, কারণ ভিতরে জানালা থেকে থাকলেও তা নিশ্চয়ই বন্ধ। আর দরজা দিয়ে যে আলো ঢুকবে তার পথ আপাতত আমরাই বন্ধ করে রেখেছি।
ফেলুদা চৌকাঠ পেরোল। আমি জানি ঘুটঘুটে রাত্তির হলেও ও দ্বিধা করত না, তফাত হত এই যে ওর সঙ্গে তখন হয়তো ওর কোল্ট রিভলভারটা থাকত।
‘আসুন ভিতরে।’
আমি ঢুকে গেছি, কিন্তু লালমোহনবাবু এখনও চৌকাঠের বাইরে। —‘অল ক্লিয়ার কি?’ অস্বাভাবিক রকম চড়া গলায় জিজ্ঞেস করলেন ভদ্রলোক।
‘ক্লিয়ার তো বটেই। আরও ক্লিয়ার হবে ক্রমে ক্রমে। এসে দেখুন না কী আছে ঘরের মধ্যে।’
আমি অবিশ্যি এর মধ্যেই দেখে নিয়েছি।
প্রথমেই চোখে পড়েছে একটা টিনের ট্রাঙ্ক আর শতরঞ্চিতে মোড়া একটা বেডিং। ঘরের এক পাশে দেয়ালের সামনে যেমন-তেমন করে ফেলে রাখা হয়েছে সে দুটো।
‘পুলিশের পণ্ডশ্রম,’ বলল ফেলুদা, ‘নিশীথবাবু যাননি’।
‘তবে কোথায় গেলেন ভদ্রলোক?’ লালমোহনবাবু অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন। ফেলুদা কথাটা গ্রাহ্য করল না।
‘হুঁ—ভেরি ইন্টারেস্টিং।’
ঘরের এক কোণে স্তূপ করে রাখা রয়েছে সরু আর লম্বা-করে কাটা কাঠ, আর পাশেই ফিতেয় মোড়া দিস্তা দিস্তা ফিকে হলদে রঙের সস্তা কাগজ।
‘বলুন তো এ থেকে কী বোঝা যায়,’ ফেলুদা জিজ্ঞেস করল।
‘ও তো পুঁথির কাঠ বলে মনে হচ্ছে। আর ওই, ইয়ে—’
লালমোহনবাবু এত সময় নিচ্ছেন কেন জানি না। আমি বললাম, ‘মনে হচ্ছে নিশীথবাবু একেবারে ব্যবসা খুলে বসেছিলেন—ডামি পুঁথি তৈরি করার। সাইজমাফিক কাগজ কেটে দুদিকে কাঠ চাপা দিয়ে শালুতে মুড়ে দিলে বাইরে থেকে ঠিক পুঁথি।’
‘এগজ্যাক্টলি,’ বলল ফেলুদা—‘আমার বিশ্বাস, সেন মশাইয়ের সব পুঁথিগুলো বার করে খুললে দেখা যাবে তার অনেকগুলোই কেবল সাদা কাগজ। আসলগুলো পাচার হয়ে গেছে হিঙ্গোরানি সম্প্রদায়ের লোকদের কাছে।’
‘ও হো হো!’—লালমোহনবাবু চেঁচিয়ে উঠলেন—‘সাপ, সাপ! সেদিন একটা কাগজের ফালি দেখেছিলাম সাগরিকার গলিতে—সে তা হলে এই কাগজ!’
‘নিঃসন্দেহে,’ বলল ফেলুদা।
এর পরে যে ঘটনাটা ঘটল সেটা লিখতে আমার হাত না কাঁপলেও, বুক কাঁপছে।
বৈঠকখানায় ঢুকেই ডাইনে-বাঁয়ে মুখোমুখি দুটো দরজা রয়েছে পাশের দুটো ঘরে যাবার জন্য। লালমোহনবাবু ডানদিকের দরজাটার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমরা সামনের দরজা খুলে ঢোকাতে সেটা দিয়ে শোঁ শোঁ শব্দে সমুদ্রের বাতাস ঢুকছিল। একটা দমকা হাওয়ার ফলে হঠাৎ ডাইনের দরজাটা প্রচণ্ড শব্দে খুলে গেল, লালমোহনবাবু চমকে উঠে খোলা দরজাটার দিকে চাইলেন, আর চাইতেই তাঁর চোখ কপালে উঠে গেল। ভদ্রলোক পড়েই যেতেন যদি না ফেলুদা এক লাফে গিয়ে ওঁকে জাপটে ধরে ফেলত।
এগিয়ে গিয়ে দেখি একটা লোক চোখ উলটে মরে পড়ে আছে পাশের ঘরের মেঝেতে। তার মাথা থেকে বেরোনো রক্ত চাপ বেঁধে আছে মেঝের উপর।
লোকটাকে চিনতে কোনওই অসুবিধা হল না।
ইনি দুর্গাগতি সেনের সেক্রেটারি নিশীথ বোস।
