পাত্রিসিয়া কর্তেজ
Patricia Cortez
১৯৬৭ সালে গুয়াতেমালায় জন্ম। গুয়াতেমালার সান কার্লোস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডাক্তারি ডিগ্রী। অ্যানথ্রোপলজি এবং পাবলিক হেলথ্ নিয়ে বিশেষজ্ঞ। কথক এবং কবি।
গুয়াতেমালার বিভিন্ন পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন অ্যান্থোলজিতে তাঁর কবিতা সংকলিত হয়েছে। যেমন ‘দেসদে লা কাসা দেল কুয়েন্তো’। প্রকাশ করেছেন ‘এদিতোরিয়াল সে কুলতুরাল দে গুয়াতেমালা’।
তাঁর গল্পের বই ‘মাল দে ওখো’ ২০০৪ এবং উপন্যাস ‘গুয়াতেমালা’ ১৯৯৬ ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়। এই বইয়ের ইলেকট্রনিক সংস্করণ আছে।
.
হলুদ পাতাগুলি
Paginas Amarillas
বেরিয়ে এল ব্যাঙ্ক থেকে। খুব তাড়াতাড়ি। মাথাটা নিচু, যাতে কারও সঙ্গে চোখাচোখি না হয়। কেউ তার সঙ্গে কথা বলবে, এটা ভাবলেই তার হাত-পা কেমন যেন ঠাণ্ডা হয়ে আসে। এই ব্যাপারটায় তার কিছুই করার নেই।নিজের ওপর নিজেরই রাগ হয়। এটা ঠিকই অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা তার অক্ষমতা। সে পারেই না।
যখন ক্যাশিয়ার তাকে জিজ্ঞেস করল যে কোন কোন ধরণের টাকা সে চায়, সে চুপ করেই রইল। সে মেয়েটির চোখের মধ্যে দেখতে পেয়েছে আর উপলব্ধি করেছে, যে প্রতিটি মুহূর্তে মেয়েটির ভয় কিভাবে বেড়ে যাচ্ছে। সে ঝপ করে চোখটা নামিয়ে নিল, আর তাড়াতাড়ি টাকার একটা নোট এগিয়ে দিল।
হাঁটতে হাঁটতে সে অবাক হয়ে ভাবছিল, তার অসুবিধাটা কোথায়। অন্যের সাথে কথা না বলার জন্য তার হাতে প্রচুর সময় আছে। তাছাড়া কয়েকদিন হল সে ফোনটাও বন্ধ করে দিয়েছে। বিশেষত সেই দিনই, যে দিন তার কাছে একটা ফোন এসেছিল কোন একটা ভুল নম্বর থেকে।
অথচ গলার স্বর মোটেও উগ্র ছিল না। কিন্তু তার মনে হল কানে যেন কে গরম সীসে ঢেলে দিয়েছে। যন্ত্রটা ভেঙ্গে ফেলতে ইচ্ছা করছিল।
রাস্তার কোণের দিকে পৌঁছে সে ভিখারিটার তাকানো অনুভব করল। বুঝতেই পারছে তার শরীর ক্রমশ কাঠের মত শক্ত হয়ে যাচ্ছে টেনশনে। তার ওপর সে দেখল ভিখারিটা তার দিকেই খোঁড়াতে খোঁড়াতে আসছে। আর সেই সঙ্গে চোখ পিটপিট করছে।
সে চট করে দুপাশে চেয়ে দেখল, কোন দিকটা ফাঁকা আছে, যেদিক দিয়ে ওর মুখোমুখি না হয়ে পালানো যায়। তারপর দুটো গাড়ির ফাঁক দিয়ে বেরোতে গিয়ে দেখে ওপাশে দেওয়াল। সে আটকে পড়েছে।
সে জোর করে ঠোঁট দুটো টিপে রইল। যদিও তার ভেতর থেকে চিৎকার করার প্রবল ইচ্ছা কাজ করছিল। সে মাথা নিচু করে, বেরিয়ে আসার চেষ্টা করল কিন্তু লোকটা ওর পথ আটকে রেখেছে।
সে প্রায় নিজের মনেই হেসে ফেলল যে সে কি রকম একটা হাস্যকর নাচ করছে একজন অপরিচিত লোকের সামনে যে তাকে ফাঁদে ফেলেছে। খুব তাড়াতাড়ি চিন্তা করতে হবে। অন্ততঃ মানুষটা খেয়াল করার আঙ্গুল তুলে তার দিকে দেখিয়ে হাসা শুরু করার আগে।
এ সহ্য করা যায় না।
মানুষটা তাকে কোনরকমে আক্রমণের চেষ্টাই করল না। বরং তাকে একটা জীর্ণ, প্রায় ছেঁড়াখোঁড়া বই দেখিয়ে বলল – আমি এটা খুব সস্তায় বিক্রি করি – এবার তার তাকানোটা খুবই কঠোর – এর পাতাগুলি হলুদ – সে বলল কথাগুলো প্রায় তার কানে মুখ ডুবিয়ে।তার বুকটা ফেটে যাবার মত হল। যখন সে তার একমাত্র নোটটা লোকটার দিকে ছুঁড়ে দিল।
সে চাইল লোকটা চলে যাক। তাকে মুক্তি দিক। লোকটা টাকাটা মাটি থেকে কুড়িয়ে নিয়ে বইটা মাটিতে রেখে পালিয়ে গেল।
সে তো নড়তেই পারছে না। গভীর ভাবে শ্বাস নিতে চেষ্টা করছে আর বাইরে শান্ত ভাব দেখানোর চেষ্টা করছে।সে চাইছে না কোন রকম কেউ তার কাছে এসে কথা বলুক। আর লোকেরাও তাকে লক্ষ্য করা শুরু করেছে।
সে তাড়াতাড়ি বইটা তুলে নিয়ে পাশের একটা গলিতে ঢুকে গিয়ে,তার কান্না উজাড় করে দিল। তার কাছে এটাই শেষ টাকা ছিল। আর এই একটা বাজে বই এর জন্য সেটাও তাকে হারাতে হলো।
তার মর্যাদা অটুট রেখে, বইটা হাতে নিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করল।
ঘরটা তাকে আহ্বান জানাল বাসি এবং শক্তিশালী মূত্রের গন্ধ দিয়ে। কোন একটা সময়ে অ্যাপার্টমেন্টটা ভালোই ছিল। ভেলভেটের পর্দার রংটা আর বোঝা যায় না। কারণ তাতে এমন ধুলো আর ছাতা পড়েছে, যে আসল রংটাই হারিয়ে গেছে। দুটো ঘর আর রান্নাঘর।সাজানো ছিল আর্ট ডেকো স্টাইলে। বাথরুমে ছিল ভেনেসিয়ান টাইল। শহরের মাঝামাঝি সুবিধাজনক জায়গায়। যেখান থেকে যেকোন জায়গায় যাওয়া খুবই সহজ। মহিলাতো এটা সব সময় বলত। বলার মধ্যে একটা খোঁচাও থাকতো। কিন্তু সে ও তো আজ বহুদিন ধরে, বলা ভাল, বহু বছর ধরেই আসছে না।
সে একটা সোফাতে বসল। তারপর সে তার কেনা বস্তুটা, মানে বইটা পরীক্ষা করতে লাগল – সবচাইতে বোকার মত কাজ করেছি – সে পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখল, ওটা একটা পুরনো ‘ইয়েলো পেজ’ ডাইরেক্টরি। যেখানে হাজার বিজ্ঞাপনের ঝলক আছে। এইসব বিজ্ঞাপন হাজার গণ্ডা আজেবাজে জিনিসের খবর দেয়। কয়েকটা নাম আবার লাল কালি দিয়ে দাগানো। সে পড়তে পড়তে ঘরোয়া খাবারের বিজ্ঞাপনে থামলো। এই সময়েই তার খিদে পেল। ঠিক। তার মনে পড়লো তার কাছে টাকাও নেই আর টেলিফোন ও নেই।
নম্বরগুলো হাইলাইট করা হয়েছে, মনে হচ্ছে। কি আর করে। তর্জনী দিয়ে তার ওপর বোলানো শুরু করে দিল। তারপর চিন্তা না করেই পুনরাবৃত্তি করতে লাগলো – চার ছয় পাঁচ এক নয়… কি চাও? গলার স্বরটা মনে হলো তার মাথার ভেতর থেকে আসছে। ‘যদি তুমি কল করো তার মানে তুমি আমাদের সার্ভিস চাও’ – সে ভয় পেয়ে গেল আজকে বিশেষ মেনু চপ আর টক ভাত।
-নিশ্চয়ই।আমার খুব খিদে পেয়েছে – খুব জোরে চেঁচিয়ে বলে উঠলো।
-ঠিক আছে, খুব তাড়াতাড়ি আপনাকে ডাবল অর্ডার পাঠাচ্ছি। কল করার জন্য ধন্যবাদ।
টেবিলের ওপর বইটা রেখে, বাথরুমের দিকে গেল। তারপর খোলা কলের নিচে মাথাটা রাখল। এটা খুবই খারাপ হল। ভাবল। ততক্ষনে জল তার মুখ ভিজিয়ে দিয়েছে। ঘরে ঢুকে সে বইটার কাছেই গেল না। জোর করেই চোখ বন্ধ করে রাখল।
না, আমি পাগল নই। দরজায় ধাক্কা, তাকে আবার বাস্তবে ফিরিয়ে আনল।অন্যদিকে হাসি হাসি মুখে এক যুবক দাঁড়িয়ে আছে। সে তাকে একটা বাক্স দিল। তার ওপরে চাইনিজ সাইন রয়েছে। তার হাতে বাক্সটা দিয়ে বলল ‘উপভোগ করুন’। সে কিছু বলতে চেষ্টা করল, কিন্তু তার গলা দিয়ে কোন আওয়াজ বের হল না।
-চিন্তা করবেন না – বলল – আজ আমাদের কিছু কিছু ফ্রি দেওয়া হচ্ছে। কল করার জন্য ধন্যবাদ।
তার মধ্যে অদ্ভুত একটা ভয় কাজ করছিল। খেয়ে নেবার পর হয়ত খাবারটা উধাও হয়ে যাবে। আসলে এতই খিদে পেয়েছিল। পরে তার ঘুমের ভাব এল। আর কিছু বোঝার আগেই সে ঘুমিয়ে পড়ল।
জেগে উঠল পরের দিন। বাইরে বৃষ্টি পরছিল। টেবিলের ওপর পড়ে থাকা ময়লা দেখে সে বুঝতে পারল যে স্বপ্ন দেখেনি।
আবার বইটা হাতে নিল। সেই মেয়েটির কথা ভাবছিল। কিভাবে সে হেসেছিল, যখন তাকে ভিখারি আর খাবারের গল্পটা বলেছিল। …তার বড় একা লাগছিল। চোখ চলে গেল আরেকটা বিজ্ঞাপনের দিকে যারা সঙ্গীর খোঁজ দেয়। যা সে খুঁজছিল। তার সঙ্গে ঠিক করে কথাও বলতে পারিনি। সে এইসবই ভাবছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে সে রিচুয়ালটি আবার শুরু করল। তার আঙুল নম্বরগুলোর ওপর বোলাতে শুরু করল। দুই আট সাত তিন নয়…
-ওয়েল… হে ভগবান, সরি, ক্ষমা করবেন,বুঝতে পারছি। চিন্তা করবেন না। আপনার যা দরকার তা আমার কাছে আছে।
সে বুঝতে পেরেছিল যে এখনও পর্যন্ত সে মুখ খোলেনি। এইবার যখন দরজায় আওয়াজ হল সে বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ল। একজন সুন্দর দেখতে পুরুষ, সুবেশ, হাতে একটা ব্রিফকেস, দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখে কোন হাসি নেই।
প্রথমে সে ভেবেছিল, মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেবে। অথবা লোটকাকে দূর করে দেবে। কারণ তার মনে হয়েছিল যে লোকটা ধর্মযাজক। কিন্তু একটা শান্তভাব তার মনের মধ্যে কাজ করাতে সে লোকটাকে ভেতরে আসতে বলল।
লোকটিকে ছেলেই বলা যায়। ছেলেটি তার সামনে পাথরের মূর্তির মত বসেছিল। চেয়ারের ধারে। ছেলেটি চুপ করে বসেছিল, কোন কথা বলেনি। সে চেষ্টা করল কথাবার্তা চালু করতে। কিন্তু ছেলেটির উপস্থিতিই খুব অস্বস্তিকর। আর একই সময়ে তার মুখ বন্ধ করে দেয়।
সে বুঝতে পারছে তার নাড়ির গতি দ্রুত হচ্ছে। তার শ্বাস দ্রুত হচ্ছে। হাতের মুঠো একবার খুলছে, একবার বন্ধ হচ্ছে তার শ্বাসের সঙ্গে। ছেলেটি স্থির।
সে জোর করে তার পাশে বসল। তার হৃৎস্পন্দন বেড়ে গেছে। তার হাত ঘামছে। যে কথা বলতে চাইছে, কিন্তু অস্পষ্ট ঘর্ঘর আওয়াজ ছাড়া আর কিছুই তার গলা দিয়ে বেরল না।…আতঙ্ক বাড়ছে। লোকটিকে অন্যত্র দেখতে পেল, ক্রমশঃ বেড়েই চলেছে পুরো জায়গাটা ক্রমশঃ ভর্তি করে ফেলছে।
চোখ বন্ধ করেও নিজেকে সামলাতে পারছে না। তার মধ্যে একটা বাঁধ ভাঙা স্রোত অনুভব করছে। এমন হল যে সে আর নিতে পারছে না। শেষে কান্না আর চিৎকারে ভেঙ্গে পড়ল।দরজাটা বন্ধ হল জোরেই। সে চোখ খুলল। ছেলেটি চলে গেছে।
তার মধ্যে প্রচণ্ড দুঃখ বোধ কাজ করছে, সবই তার অনুভবে। বুঝতে পারছিল যে বেদনা ছাড়া কারও সাথে কোনরকম যোগাযোগ করতে পারবে না।
আবার বইটা হাতে নিয়ে, আগের নম্বরটাই খুঁজতে লাগল। খুঁজেই পেল না। তবে একটা নতুন বিজ্ঞাপন তার নজর কাড়ল। ‘আপনি কি সত্য জানতে চান’? সে ভাবল এটা বোধহয় কোন জ্যোতিষী। অনেক চেষ্টা করেও যখন সেই নম্বরটা খুঁজে পেল না তার চোখ তখন ওই ‘সত্য’শব্দটার ওপর আটকে গেছে।
সে আবার আগের মত কাজগুলো করল। দু ঘন্টা পরেও কিছুই হল না কেউ সাড়া দেয়নি।
এক ঢোঁক দরকার। সে নিজেরই ভয়ার্ত স্বর শুনতে পেল।
চলে এসো। সারারাত নেই আমার কাছে। ঘুরে দাঁড়াল। মনে হচ্ছে, সে দুটো চ্যানেলের কথা চিন্তা করছিল। একটা তাকে পরিচালনা করছে,আরেকটা নয়। সে শরীরের মধ্যে অদ্ভুত মুভমেন্ট যা বাইরে থেকে অনুভূত হচ্ছে। সে শুধু একজন দর্শক। তার নিজের পালাবার দর্শক। সে দেখল সে বেরিয়ে যাচ্ছে। রাস্তাটা পার হয়ে গেল। মাতালের মতো ক্যান্টিনের খোঁজ করা শুরু করল। তার খাওয়ার ইচ্ছা নেই, কিন্তু সে দেখতে পাচ্ছে তার অন্য ভাগটা মাতাল হয়ে গেছে, যতক্ষণ না রাস্তার পাশে শুয়ে পড়ল। তারপর সে বুঝতে পারল, সে তার শরীর থেকে বেরিয়ে এসেছে। যাবার জন্য সে শরীরের ভেতরে ঢোকার জন্য ব্যর্থ চেষ্টা করল। কিন্তু সে নিশ্চিত ছিল যে সে মারা যায়নি।
তার শরীর উঠে দাঁড়ালো। অস্থির ভাবে তাকে অনুসরণ করতে চেষ্টা করল। অনেক দূর পর্যন্ত হেঁটে নিজেকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করল। যখন ঘরে ফিরল, ফিরেই জ্ঞান হারা।
যখন তার ঘুম ভাঙল, সে অনুভব করল, তার বমি, মল মূত্রে মাখামাখি হয়ে পড়ে আছে। বাথরুমে ঢুকল চান করতে। তার জামা কাপড়ে এত দুর্গন্ধ যে তার নিজেরও আবার বমি পাচ্ছিল। বারবার ঘসে নিজেকে পরিষ্কার করে চান করে নেওয়ার পর, তার অনেকটাই ভাল লাগছে।
এইবার শুধু খাবারের জন্যই বইটা তুলে নিল।সে চাইনিজ খাবার খুঁজে পেল না, কিন্তু খুঁজে পেল পিৎজার দোকান।
-বলুন
একটা বড় পিৎজার অর্ডার, খুব সহজেই দিয়ে দেওয়া গেল।
-আপনার কোড কি?
-জানি না, মনে হয় আমার নেই।
-দুঃখিত তাহলে পাঠাতে পারব না।
রাগের চোটে বইটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে, মেঝেতে শুয়ে পড়ে শুরু হল তার কান্না।
তার দরজায় যখন ধাক্কা দিল, যে তখন চিৎকার করে উঠল। যখন সে দরজাটা খুলল অবাক হয়ে দেখল সেই ছেলেটি দাঁড়িয়ে আছে। তাকে ভেতরে ঢুকতে দিয়ে বলল
-আজ তুমি কি চাও? আমি একা পড়ে আছি।
ছেলেটি তার আগের জায়গায় বসল। কাঠ কাঠ।
-এইবার বল ওরা কে?
বলতে বলতে সে লোকটার চারপাশে ঘুরে নিল। তুমি কি বুঝতে পারছ না যে আমার খিদে পেয়েছে আর আমি একা?
সে লাথি মারল চারপাশের জিনিসে। হাত মুঠো করে ঘুঁসি পাকাল। শেষে আরম্ভ করল ফোঁপাতে। সে তার দিকে চেয়ে চিৎকার করল, অপমান করল,কিছুটা উত্তর ছাড়া। সে তার কাঁধ ধরে বলল,একেবারে কাঁচের গেলাসের মত ভেঙ্গে ফেলবে, একেবারে তারপর অদৃশ্য করে দেবে।
বেরিয়ে গেল ভীত হয়ে। পালিয়ে গেল বইটা হাতে নিয়ে। শহরের অর্ধেকটা ঘুরে বেড়াল না থেমে, না পিছন দিকে তাকিয়ে।
ব্যাঙ্কে ঢোকার মুখে সে লোকটাকে দেখতে পেল। যে ভয়ে ভয়ে যাচ্ছে, মুঠোর মধ্যে দেখে মনে হচ্ছে নোট।
সে, তার মুখোমুখি হল, এক মুহূর্তের জন্য। এটাই একমাত্র জিনিস যা সুখি করতে পারে। তারপরেই তার মাথায় মেরে টাকাটা ছিনতাই করল। ও আমাকে ধন্যবাদ দেবে। দৌড়ও। কেউ বুঝতেই পারেনি কি হল,তার মধ্যেই সে লোকের ভীড়ে মিশে গেল।
কোন একটা পার্কে যে এক মহিলার পাশে বসল। আর কোন ভয়, ভণিতা ছাড়া বলল
-একটা অদ্ভুত গল্প শুনবেন।
মহিলা ভয় পেয়ে উঠে দাঁড়াতেই,সে হাসতে শুরু করল হিস্টিরিয়ার মত। একহাতে টাকাটা আর একহাতে বইটা, চটকেই যাচ্ছে, চটকেই যাচ্ছে।
