বেদনাকে পোষ মানানো – এদুয়ার্দো খুয়ারেজ

এদুয়ার্দো খুয়ারেজ
Eduardo Juarez

গুয়াতেমালা সিটিতে ১৯৬৬ সালে জন্ম। তার বয়ঃসন্ধিকাল এবং যৌবনের একটা অংশ ক্যালিফোর্নিয়াতে অতিবাহিত করেন। যেখানে তিনি তাঁর পরিবারের সঙ্গে, নতুন করে শুরু করার জন্য চলে যান।

 তারপর তিনি মেসেঞ্জার, আবর্জনা সংগ্রাহক, লোকেদের খাওয়ার পর জায়গা পরিষ্কার, ট্রাক থেকে মাল নামানো, মোটর সাইকেলের পার্টস খোলার কাজ করতেন। পরে তিনি গুয়াতেমালায় ফিরে আসতে চাইলেন।

 তাঁর প্রথম বই ‘মারিপোসসে দেল ভার্তিগো’ ২০০৫। সহিংসতা, কোমলতা, হাস্যরস এবং হতাশার দ্বারা চিহ্নিত ধারাবাহিক গল্প। লেখিকা ভানিয়া ভার্গাস এইভাবেই বইটিকে বর্ণনা করেছেন।

 পরের বই ‘সেরেনাতাস আল আসতিও’ (২০০৭) এক্সপোসিসিওন দে আত্রোসিদাস ২০১০ এবং উপন্যাস ‘রেত্রাতো দে বোর্রাচ্চো কন পাইস’ ২০১২।

.

বেদনাকে পোষ মানানো
Domesticando al dolor

কখনও কখনও বিশেষ মুহূর্তে সাইকোলজিষ্টরা নিজেদের শুষ্ক সাইকোলজিষ্ট হিসাবে দেখেন আর অন্যেরা তাকে দেখে ইন্দোনেসিয়ার দৈত্য হিসাবে। বিস্ফারিত চোখ আর কান দিয়ে বিষাক্ত সাপ বেরিয়ে আছে। হঠাৎই একজন ছোটখাটো মহিলা, যার চোখে বড় কাঁচের গোল চশমা, যার মধ্যে একটা আবেগপূর্ণ অপরাধের ভাব আছে অথচ মায়ের মত, তার কাছে ফিরে গেল।

 মিল্টন, শ্বাস নিচ্ছিল অস্পষ্টভাবে, মানে বেশ কষ্ট করে। তার সমস্ত শক্তি দিয়ে ব্যাপারটা সে অবজ্ঞা করার চেষ্টা করল। আর ওই লো ভোল্টেজ আলোতে সে খুশী। ঘরটা কেমন যেন। জ্বরের মতো, জ্বর হলে যেমন হয়, কেমন একটা চটচটে, জিলেটিনের মতো। মিলটনের মত।

 সে সাহায্য করত অন্য সব তরুণদের যারা তার মত মানসিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ। তার নিজেরও যেমন এদেরও তেমন মনের মধ্যে কোথাও গণ্ডগোল হয়ে গিয়ে সবাই অস্বাভাবিক। তবুও তাদের যাতে দমবন্ধ ভাব না লাগে, তাদের অবিরত বাধ্যতামূলক উদ্বেগে (কমপালসিভ অবসেসিভ) এবং আবার যাতে তারা গুয়াতেমালার সমাজের মূলস্রোতে মিশে যেতে পারে, শুধু তাই নয়, এর জন্য তারা প্রয়োজনীয় সাহায্যও পায়।

 মিল্টন বিপুল পরিমাণে আতঙ্ককে মনের মধ্যে সাগ্রহে বরণ করে নিয়েছে, এক কথায় আতঙ্ক তাকে গ্রাস করেছে।

 দেওয়াল থেকে রং খসে পড়ছে। রয়েছে একটা ছোট টেবিল, যেখানে মিল্টন আর তার সঙ্গীরা, তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কাজ, যা তাদের নিজের নিজের আরোগ্যলাভের জন্য প্রয়োজন, করত। মিল্টন নিজেও মাঝে অবাক হয়ে যেত। তার পেটের মধ্যে, একটা ভয় মাঝেমাঝেই মোচড় দিত। সংবাদপত্রের কেটে রাখা অংশ, ছবি যা ‘আমাদের পত্রিকা’য় বেরোত, এই সব দিয়ে তার ধরণটা বোঝার চেষ্টা করছিল।

 সাম্প্রতিক সংবাদপত্রের কাটা ফটোগুলো জুড়ে, সম্প্রতি রুগিরা একটা কোলাজ তৈরির দায়িত্ব নিয়েছিল। লাল আর নীল আলোর ঝলক দেওয়া অ্যাম্বুলেন্স আর পেট্রল কার এর টহলের মধ্যে নার্সরা পেশাগত গম্ভীরমুখে থেরাপির কর্মশালা, শুরু করে দিল। নানা ধরণের জ্যামিতিক আকার বিচ্ছিন্ন ভাবে সবার মধ্যে ভাগ করে দিল।

 এই টুকরোগুলি তাকে বিভ্রান্ত করে। এবং একযোগে তার মনের মধ্যে কি চলছে, কত ধরণের হঠাৎ হঠাৎ পরিবর্তন হয় সে ব্যাপারেও দিক নির্দেশ করে। একটা এক্সরে তার বন্য বেদনাকে আরও ভালভাবে পোষ মানাবার চেষ্টা করে।একটা বৃত্ত হাতে তুলে নিল। সেই সঙ্গে সংবাদপত্রের প্রথম পাতা, যেখানে খবর- দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন, যে, এই হাসপাতাল এবং তার সুবিধাগুলি, সুন্দরভাবে এবং নতুন করে তৈরি করবেন।

 তিনি অস্বীকার করলেন। ঠিক যেমন কোকেন-এ আসক্ত লোক, প্রায় ওরাল সেক্স করার কাছে চলে গিয়েছিল, তার সঙ্গীদের সাথে। যারা আসক্ত ছিল দশ কোয়াটজেনের একটা পুরিয়ায়।

তারা যেমন সবকিছু অস্বীকার করে ঠিক তেমনই স্পষ্টভাবে অস্বীকার করছে যে ফেদেরিকো মোরা মানসিক হাসপাতাল একটা সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে।

তার চূড়ান্ত মতামত, হেঁটে চলেছে মানুষের বর্জ্যের মধ্য দিয়ে। যা ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে বছরের পর বছর ধরে সেইসব এজেন্টদের দ্বারা যারা আবোল তাবোল বকে, নাল পড়ে। দুর্গন্ধ, ধর্ষক, অবমাননাকারী, আবার কান্নাকাটিও করে, ধীরে ধীরে পৃথিবীকে ক্ষুদ্র করে গিলে ফেলে, এমন এক অন্ধকারে বসবাসকারী এরা। এদের সবকিছুই চূড়ান্ত এবং প্রচণ্ড। হাসপাতালকে আবার নতুন করে সুন্দর করা হবে।

সব চাইতে যে বড় বৃত্ত, তার জ্যামিতিক প্যাকেজের মধ্যে, তাতে এই ভদ্রমহিলার মুখ ফ্রেম করা আর পিছন দিকে একটা জ্বলন্ত নগ্ন মেয়ে, পালাতে চাইছে।তাদের বধ করা হয়েছে ভুল করে এবং পুরো শয়তানি করে। তখন ওই প্রায় চোদ্দ বছর বয়েস। সে ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখল। হাজার বছর ধরে সে তো দেখছে। মানুষ, মশাল আর ভাইস প্রেসিডেন্টের দিকে। এদিক ওদিক ঘোরান। তারা ঘুরে গেল।

মিল্টন লড়াই করছে যাতে আরো ডুবে যেতে না হয়। এই বিশাল আর বাচাল জাড্য, যা উপস্থিত নাগরিকদের মধ্যে। তাঁদের কাছে এই অত্যাচার বাস্তব। ‘আমাকে ঠকাতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত সে থিয়েটারের অভিনেতার মত হাসতে শুরু করল হাঃ হাঃ হাঃ’।

হঠাৎই তার নজরে পড়ল, নৃত্যরত ইঁদুর। একটা মিন্টের লাঠি নিয়ে, সাদা আর লাল। নাচছে ঘরের কোণে, টেবিলের নিচে, আর নার্সদের মাথার ওপরে।এদের মধ্যে একজন, আমার খবরের কাগজের আকারগুলোর বাগানে সূর্যের রশ্মি হিসাবে কাজ করবে।মিল্টন ভাবছিল,তার নাক দিয়ে গুস্তাতোইয়া নদীর মত তরল মিউকাস বয়ে চলেছে। সে হাসছে, দূরে কোথাও একটা কাঁচি দিয়ে চিন্তার সুতোগুলো কেটে দিচ্ছে, যেগুলো মিল্টন জোড়া দিতে চাইছিল।

একটা একঘেঁয়ে শব্দ তৈরি হচ্ছে – কর্কশ, জলের তলায়, দুটোই একইরকম বিরক্তিকর। কাঁচিগুলো তার চিন্তাকে কাটার নিস্ফল চেষ্টা করে চলেছে। যদিও সে কাঁচির শব্দ, যা জগতকে টুকরো টুকরো করতে চাইছে বা করবে, তাকে অবজ্ঞা করার চেষ্টা করল, তারপরই বুঝতে পারল ওই কাজের অর্থহীনতা। এটা আরেক ধরণের বোকামো। যত খারাপ খবরের কোলাজ তৈরি করা।

আমার খুবই মজা লাগে, বিশেষতঃ ওইসব লোককে লিখতে, যারা সত্যিই ঘৃণা করে। তারপর যা করে, ওই কার্ডগুলোকে ছোট ছোট টুকরো করে, আর নাচতে নাচতে আকাশে ছুঁড়ে দেয়। ওটাই চিকিৎসা। অথবা যখন বেলুন ফুলিয়ে তাতে চোখ, নাক, মুখ এঁকে তারা চিৎকার শুরু করল। পরে তাঁদের আওয়াজ হারিয়ে গেল। তাদের প্রচেষ্টা ও ক্ষতির কারণে তারা হতাশ হয়ে অজ্ঞান হয়ে গেল। এটা তাদের নতুন দিগন্তের দিকে পাঠিয়ে দিল। জ্ঞান ফিরলে তারা বেলুনের ওপর লাফিয়ে সেগুলোকে ফাটিয়ে দিল।

সেই মুহূর্তে কয়েক সেকেণ্ডের জন্য নিজেকে সুস্থ মনে হচ্ছিল।

বেলুনগুলোকে এত ক্ষতি করা হয়েছে, যে অনির্দিষ্ট কালের জন্য তাকে আটকান দরকার ছিল। গোলযোগের বারান্দায়, আরামদায়ক ভাবে ধ্যান করতে করতে সে বুঝতে পারল যে সূর্য শব্দটার মানেই ঠিকমত জানত না।

মিল্টন ঠিক করল, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজগুলো করা যায়।সে নিজেকে মোটেই নিরাপদ মনে করছে না, কারণ সূর্যের আকার। অথবা ওটা কি? এটা একটাই শব্দ। সূর্য। একটা আওয়াজ।জানার জন্য সে বেরিয়ে গেল, আকাশ দেখার জন্য।

প্রকৃত সূর্যের উজ্জ্বলতায় মিলটনের ভাষাগত যন্ত্রটি উবে গেল। যখন সে সূর্য শব্দটি উচ্চারণ করছিল, তা ওই মহতের সৃষ্টিকে চালিত করছিল। তার আত্মা একটা উজ্জ্বল আলোকচ্ছটায় বদলে গেল আর তার জিভকে কার্বনে বদলে দিল।

সে চিৎকার করে সূর্য শব্দটা বলতে বলতে মাটিতে গড়াগড়ি দেওয়া শুরু করলো। তার দাঁতের কিড়মিড়, নাকের থেকে ঝরা মিউকাস, তার মধ্য দিয়ে চিৎকার করে চলেছে অ্যাস্ট্রো রাজা থামছেই না। তার সব অঙ্গ যেন হেসে উঠল। উপলব্ধি করল যেন তার হাজার জোড়া হাত পা আছে।হাজার হাজার। অসীমত্ব বদলে গিয়েছে হাত আর পায়ে। অনন্ততা বদলে গেছে হাত পায়ে। চিরন্তন তৈরি করেছে অঙ্গবিন্যাস।তার অনুভবে লক্ষ লক্ষ মাথা ঝাঁকানো আর কোটি কোটি চোখের পলক। মৃদু বাতাস সংস্কৃতে ফিসফিস করে করছে গুঞ্জন।

মহাদেবী কালী আকাশ থেকে নেমে এসে তার বুকে স্থান পেতেছেন। তাকে উপহাস করে ভয় দেখিয়েছিলেন, তার মুখ চেপে ধরে। তার হাতের তরোয়াল থেকে রক্ত চুঁইয়ে পড়ছে। ছিন্ন মুণ্ড দিয়ে তৈরি তার গলার মালা। মিলটনের এক কানে তার চটচটে লম্বা জিভ আটকে রেখে অন্যের দিকে ধেয়ে গেলেন। চিরন্তন মন্দ থেকে রক্ষার জন্য প্রার্থনা করল মিল্টন। সে ভিক্ষা চাইল যাতে তার মাথাটা কেটে ফেলা হয়।

মিল্টনের কান থেকে জিভ সরিয়ে, তার চুলের মুঠি ধরে, একটা মহান তরোয়াল তুলে নিলেন। সেটা এতই উজ্জ্বল যে তাতে সে একটা মহাজাগতিক উত্তেজনা অনুভব করে চিৎকার করতেই থাকল। কিন্তু এসবের মধ্যেও তার মধ্যে নাটকীয়তা কম আর আনন্দও খুব বেশি হচ্ছে না।

এরই মধ্যে নার্সরা এসে জোর করে মিল্টনের গলায় কয়েকটি কার্যকরী,উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ঘুমের বড়ি ঢেলে দিল, আর সে গুলোকে গিলে নিল। ওষুধগুলো গোলাকার, অনেকটা ফ্রিসবির মতো দেখতে আর স্বর্গীয় রঙে উজ্জ্বল।

শক্তিশালী নার্সটি মিল্টনকে টেনে নিয়ে এল। মিল্টনের চোখের দৃষ্টিতে তখন শূন্যতা। বেশ কষ্ট করেই, তাকে টেনে নিয়ে এসে থেরাপির ঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হল। রোগীরা ওখানে কারণ ছাড়াই ভিড় করে ছিল। কোন ঘটনাই তাদের মনে কোনো রকম রেখাপাত করে না। এমনকি কয়েক হাত দূরেরও কোন কিছুই নয়।একটা দুর্বল নার্স তার পেটে একটা লাথি মারলো।

মিল্টন তার মাথাটা একবার ডান দিকে একবার বাঁ দিকে দোলাতে দোলাতে বিড়বিড় করে বলতে শুরু করল, আলোতেঙ্গোর প্রতিশ্রুত ভূমি এবং সান মার্তিন জিলোতেপেকের হারানো স্বর্গের কথা।

আবার যখন সে ট্রেনিং ঘরে এল, সে অনুভব করল যে সবকিছু ওই জ্যামিতিক আকৃতিগুলো একবার কাছে আসছে আবার পরমুহূর্তে দূরে সরে যাচ্ছে। ঠিক ঢেউয়ের মতো অথবা দোলনার মত।কোনকিছুই কিন্তু সরে যাচ্ছে না দুঃস্বপ্নের থেকে। সবকিছুই কেমন যেন ঘুর্ণির পাকে জড়িয়ে আছে।

মিল্টন এককোণে পড়ে আছে। তার সঙ্গীদের মধ্যে একজনও, কিছুই খেয়াল করেনি। তার সূর্যের সাথে লড়াই অথবা মা কালী তাকে যে ভয় দেখিয়েছেন কিংবা নার্সদের দুর্ব্যবহার, কোন কিছুতেই তাদের কোনো কিছু এসে যায় না। তারা তাদের কাজ নিয়েই ব্যস্ত। তারা সেই কাগজের কাটিং থেকে কোলাজ তৈরি করেই চলেছে।

হত্যাকারীদের আগ্নেয়গিরি, খুনের উপত্যকায়, ফুটবল খেলোয়ারদের আর বাড়ীর লোক, লেক, যৌনতা সহ মডেলদের শরীর। এইসব ছবি দিয়ে তৈরি হচ্ছিল কোলাজ।

প্রত্যেকেই তার নিজস্ব চিকিৎসা ব্যবস্থায় মগ্ন। যে অবিচার তাদের প্রত্যেক দিনের খোরাক, এসব কোন দিকেই তাদের কোন হুঁশ নেই। এটাই সেই হাসপাতাল, যার নাম ফেদেরিক মোরা মানসিক হাসপাতাল।

তার ঘরের সিলিং এ যে মিথ্যে আকাশটা রয়েছে, তার পুরো মনোযোগ সেখানে। সে অনুভব করছে, সিলিং এ কয়েকটা দাগ যেন চলন্ত। এই চলন অনিশ্চিত, আর কেমন যেন চাপা।

তার ভাবনায় ওটা পারদের মত। সে পারদ কিভাবে সচল হয়, কিভাবে সাজানো হয়, কিভাবে এটি আলাদা হয় এবং তারপর গোষ্ঠীভুক্ত হয়।

ওই দাগগুলোর মধ্যে একটা ঠিক তার মাথার ওপরে এসে থেমে গেল। একপাশে সে ঠাকুরমা পাত্রিসিয়াকে দেখতে পেল। সে আবার অত্যধিক মদ খাওয়ার জন্য মারা গিয়েছিলেন। তার মুখের কাছে মুখ নিয়ে হাজির হয়ে বিশ্রীভাবে হাসলেন। তারপর তার কাকা মিকো ওবান্দো। সেও নিজেকে অ্যালকোহলে উৎসর্গ করেছিল। আর শেষ হয়েছিল মামা পাতির রান্না ঘরের সিলিং থেকে ঝুলে পড়ে।

মিল্টনের মুখ থেকে লালা গড়িয়ে পড়ছিল। তারপর আরও বিশিষ্ট সব সুখ ও ব্যক্তিত্ব মিল্টনের প্রতি অনুরাগ দেখাচ্ছে, সে তখন মেঝেতে পড়ে গোঙাচ্ছে। তার মধ্যে সে দেখতে পেলো জিম মরিসন, পুরো মাতাল আর প্রায় নগ্ন। এল রে লিজার, ফেদেরিকো নিৎসে কে করেছিলেন। কাঁদছিলেন, হত্যা করা ঘোড়াটার গলা জড়িয়ে ধরে। সেটাই তার মানসিক নিয়ন্ত্রণের হ্রাসের কারণ।

আর জিসি হেন্ড্রিক্স যিনি সবার থেকেও উৎফুল্ল। তিনিও মিল্টনের দিকে তাকিয়ে হাসলেন আর তার একটা গীত উৎসর্গ করলেন।

প্রিয় আমার, সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে। যান্ত্রিকভাবে মনোবিজ্ঞানী সান্তনার কথা বলছিল, শুকনো আর কঠিন শব্দসহ, তখন একদল সাপ মিল্টনের উপর এসে পড়ছে। সেগুলোর কয়েকটি তাড়াতাড়ি রোগীদের প্যান্টের মধ্যে ঢুকে পড়লো। তাদের কোন হুঁশই নেই,তারা খেয়ালও করল না।তারা কোলাজ তৈরিতে এতই ব্যস্ত। তাই সাপগুলোর কয়েকটা আবার চলে গেল ওই নাচ করা ইঁদুরগুলোকে মারতে।

মনোবিজ্ঞানী বেচারা মিল্টনের মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেলেন।

-বাছা, সব ঠিক হয়ে যাবে একটু বিশ্রামে থাকো… ঘুমাও সোনা।মিল্টন সাইকোলজিষ্টের প্রতিটি কথা লক্ষ্য করল।যা বলা হলো সঙ্গে সঙ্গে ইউএফও(U.F.O) সেই কথাগুলোকে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিটি শব্দের জন্য একটা করে ইউএফও। ড্রইংরুমের মধ্যে একটা সুন্দর সুর বাজতে লাগল। হাততালি, পা ঠোকা, পেঁচার ডাক, ম্যাকাও এর প্রচণ্ড চিৎকার সবকিছু একসঙ্গে। ব্লাউজে নকশার মতো। হেলাখু, কোবান অথবা উয়েউয়েতেনাংগোতে। আর কুয়াশা ধীরে ধীরে গিলে নিল।সারা পৃথিবী লাইনচ্যুত হল প্রচণ্ড শিহরণে…।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *