সোমনাথ সুন্দরী – ২৭

২৭

রাজকন্যা রাজশ্রী আর থামেনি। সারারাত ঘোড়া ছুটিয়ে এক সময় নগরীর প্রান্ত সীমাতে যখন এসে উপস্থিত হল তখন বেশ বেলা হয়ে গেছে। সোমনাথ নগরীর প্রবেশ তোরণের সামনে সে উপস্থিত হয়নি। নগরীর যে স্থান দিয়ে বৃদ্ধ খগেশ্বর তাদেরকে নগরীর বাইরে নিয়ে গেছিল, সে স্থানেই উপস্থিত হল রাজশ্রী। আকাশের বুকে মন্দিরের চূড়াটাও নগরীর বাইরে থেকেই দেখতে পেল। তবে তা আর সূর্যকিরণে ঝলমল করছে না। মন্দির শীর্ষে স্থাপিত স্বর্ণ কলস, স্বর্ণ ধ্বজা সবই নামিয়ে নিয়েছে মামুদ বাহিনী।

এ সময় মন্দিরে ঘণ্টাধ্বনি হয়, যা নগরীর বাইরে দাঁড়িয়েও শোনা যায়। তেমন কোনও শব্দ শোনা যাচ্ছে না সেদিক থেকে। যবন হানার ভয়ে কি নিস্তব্ধ মন্দির? নাকি সে বাহিনী ইতিমধ্যেই প্রবেশ করেছে মন্দিরে? কিন্তু রাজশ্রীকে তো যেতেই হবে অঙ্গিরার খোঁজে।

সে সিদ্ধান্ত নিল নগরীতে প্রবেশ করে এমন কোনও লোক অথবা খগেশ্বরকে খুঁজে পায় কিনা, যে তাকে অঙ্গিরার সন্ধান এনে দিতে পারবে রাজশ্রীর শরীরে যেটুকু স্বর্ণালঙ্কার আছে তার বিনিময়। আর যদি তেমন কোনও লোকের সন্ধান না মেলে তবে সে নিজেই রওনা হবে মন্দিরের দিকে। তাতে তার ভাগ্যে যা আছে তা হবে। এ কথা ভেবে সোমেশ্বর মহাদেবের নাম নিয়ে রাজকন্যা রাজশ্রী প্রবেশ করল সোমনাথ নগরীতে।

নগরীর প্রবেশতোরণ গুলিতে প্রহরারত ছিল সুলতান বাহিনী। কিন্তু এ স্থানে কেউ নেই। তাই নগরীতে প্রবেশ করতে তাকে বাধার সম্মুখীন হতে হল না। মনে মনে সে শুধু বলতে লাগল, ‘হে সোমেশ্বর মহাদেব, তুমি যদি সত্যই থেকে থাকো তবে অঙ্গিরার কাছে, আমার ভালোবাসার কাছে আমাকে পৌঁছে দাও। তুমি রক্ষা করো আমাদের।’

কিন্তু নগরীতে প্রবেশ করে রাজশ্রী কাউকে দেখতে পেল না। জনশূন্য নগরী, নগরবাসী যারা ছিল তারা হয় নগর ত্যাগ করেছে অথবা মামুদ বাহিনীর হাতে প্রাণ দিয়েছে। নিষ্প্রাণ সোমনাথ নগরী। এগোতে লাগল সে। কিন্তু হঠাৎ-ই একটা বাঁকের আড়াল থেকে আত্মপ্রকাশ করল সুলতানের স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর একদল লোক। নগরীর আনাচে কানাচে কোনও সম্পদ খুঁজে পাওয়া যায় কিনা সে খোঁজেই তারা শূন্য নগরীতে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। রাজশ্রী তাদের দেখে আত্মগোপন করতে যাচ্ছিল কিন্তু তার আগেই যবন বাহিনী দেখে ফেলল তাকে।

অতীব সুন্দরী এক নারীকে দেখতে পেয়ে উল্লসিত ভাবে ছুটে এসে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরল রাজশ্রীকে। পালাবার পথ বন্ধ হল তার। এমন রূপসী কোনও কাফের নারীকে ইতিপূর্বে দেখেনি যবন তরুণরা। মুহূর্তের মধ্যে লোলুপ দৃষ্টি ফুটে উঠল তাদের চোখে। একজন তরুণ তাকে ঘোড়ার পিঠ থেকে হাত ধরে টেনে নামাতে যাচ্ছিল, কিন্তু রাজশ্রী দৃপ্ত কণ্ঠে বলে উঠল, ‘তোরা আমাকে স্পর্শ করবি না। আমি সাধারণ কোনও নারী নই, আমি রাজকন্যা।’

‘রাজকন্যা? কোথাকার রাজকন্যা?’ জানতে চাইল এক যবন।

রাজশ্রী আবার বলল, ‘হ্যাঁ, আমি রাজকন্যা। চালুক্য রাজকন্যা।’

চালুক্য দেশ কোন রাজ্য, কোন দেশ তা জানা নেই হিন্দ মুলুকে নবাগত যুবকদের। তবে এই নারী তার পরিচয় সত্যি-মিথ্যা যাই বলুক ‘রাজকন্যা’ কথাটা শুনে থমকে গেল যবনবাহিনী।

মনে মনে আতঙ্কিত হলেও তার বহিঃপ্রকাশ ঘটলে যে বিপদ নেমে আসবে তা বুঝতে পারল রাজশ্রী। মুহূর্তের মধ্যে সে ভেবে নিল তার যদি মৃত্যু নেমে আসে তা এখানেও আসতে পারে, মন্দিরে গেলেও আসতে পারে। অন্তত মন্দির পর্যন্ত যাবার চেষ্টা করা যাক। তাতে অঙ্গিরার সঙ্গে হয়তো মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে তার দেখা হয়ে গেল! একথা ভেবে নিয়ে সে রাজকন্যা সুলভ কর্তৃত্বের ঢঙে যবনদের উদ্দেশ্য বলল, ‘তোরা আমাকে মন্দিরে নিয়ে চল। আর আমাকে যদি তোরা স্পর্শ করিস তবে সে খবর সুলতানের কাছে পৌঁছলে সুলতান তোদের মুণ্ডচ্ছেদ করবেন।’

রাজশ্রী তার বলা শেষ কথাগুলোতে ছলনার আশ্রয় নিলেও তা শুনে ধন্দে পড়ে গেল অনভিজ্ঞ যবন তরুণরা। তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করল এই রূপসী নারীকে নিয়ে কি করা যায় সে বিষয়। এক সময় তারা সিদ্ধান্ত নিল, এ নারী সত্যি-মিথ্যা যাই বলুক না কেন, একে মন্দিরে নিয়ে যাওয়াই ভালো। অযথা ঝুঁকি নিয়ে লাভ নেই। শুধু এক যবন যাত্রা শুরু করার আগে রাজশ্রীকে প্রশ্ন করল, ‘সুলতান আপনাকে চেনেন নাকি?’

প্রশ্ন শুনে রাজশ্রী তাকে ধমকে উঠে বলল, ‘চুপ করো বেতমিজ। তিনি আমাকে চেনেন কিনা সেটা সেখানে গেলেই জানতে পারবি।’

এরপর আর কথা চলে না। এ নারী হয়তো সত্যি রাজকন্যা। সুলতানের পরিচিতও হতে পারে। নইলে সুলতান সৈনিকদের ধমকাবার সাহস পায় কোথা থেকে? যবন সেনারা আর বাক্যালাপ না করে রাজশ্রীর ঘোড়ার লাগাম ধরে তাকে নিয়ে এগোল মন্দিরের দিকে।

মন্দিরের কাছে পৌঁছতেই চারদিকের দৃশ্য দেখে হিম হয়ে গেল রাজশ্রীর শরীর। চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে অগণিত মানুষের মৃতদেহ, কর্তিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ! শ্বেত গৃধিনির দল উল্লাসে চিৎকার করে মৃতদেহ ছিঁড়ে খাচ্ছে তাদের বাঁকানো ঠোঁট দিয়ে। বীভৎস দৃশ্য! এখানে-ওখানে দাঁড়িয়ে আছে যবন সেনাদল। তারাও লোলুপ দৃষ্টিতে দেখছে রাজশ্রীকে, একটু সুযোগ পেলেই ওই শ্বেত গৃধিনিদের মতোই ছিঁড়ে খাবার জন্য।

রাজশ্রী কিন্তু তার আতঙ্কের ভাব বাইরে প্রকাশ না করে আরও দৃঢ় ভাব ফুটিয়ে তুলল তার মুখমণ্ডলে। ভগ্ন প্রবেশ তোরণের সামনে এনে ঘোড়া থেকে নামানো হল রাজকন্যা রাজশ্রীকে। তাকে যারা ধরে আনল তারা প্রবেশ তোরণের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা এক সৈন্যাধ্যক্ষর কাছে সমর্পণ করল রাজশ্রীকে। তাকে নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করল লোকটা। চারপাশে তাকিয়ে আরও আতঙ্কিত বিস্মিত হল রাজশ্রী। কয়েক রাতের মধ্যে একী অবস্থা হয়েছে আশ্চর্য সুন্দর সোমনাথ মন্দিরের! চারদিকে ছড়িয়ে থাকা মৃতদেহ তো আছেই, কোথাও ভেঙে ফেলা হয়েছে কারুকাজ মণ্ডিত শ্বেত পাথরের স্তম্ভ, কোথাও পড়ে আছে বিভিন্ন দেবদেবীর ভগ্ন মূর্তি! এমনকী দেওয়ালগাত্রের অলঙ্করণগুলোও নির্মমতার সঙ্গে চূর্ণ করা হয়েছে! সর্বত্রই শুধু মৃত্যু আর ভয়াবহ ধ্বংসলীলার চিহ্ন। যবন সৈন্যাধক্ষর সঙ্গে রাজশ্রী এগিয়ে চলল সুলতানের তাঁবুর দিকে।

দ্বিপ্রহরে তাঁবুতে কিছু পার্শ্বচরকে নিয়ে মখমলের গালিচায় বসেছিলেন গজনীবিদ। দিল খুশ তার। পরিশ্রম, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা সফল হয়েছে তার। তিনি চূর্ণ করে দিতে পেরেছেন কাফেরদের বিশ্বাস, জয় করেছেন কাফেরদের এই সোমনাথ মন্দির, ধ্বংস করেছেন বিগ্রহ। গর্ভগৃহর হীরকখচিত তোরণটা কাঠামো সমেত উপড়ে এনে রাখা হয়েছে সোপানশ্রেণীর নীচে। তাঁবু থেকে দেখা যাচ্ছে সেটা। সুলতান সেনারা এ মন্দিরের যেখানে যত সোনা, হিরা-জহরত ছিল তা খুবলে এনে হাজির করেছে সুলতানের কাছে।

সুলতান হিসাব করে দেখেছেন, ওই তোরণ, তোষাখানা আর বিভিন্ন দেবমূর্তির গা থেকে যে সম্পদ সংগ্রহ করা হয়েছে, তার আনুমানিক মূল্য হবে অন্তত পাঁচ কোটি স্বর্ণমুদ্রা। যা ইতিপূর্বে মামুদ এই হিন্দু মুলুকে যতবার লুণ্ঠন করেছেন তার সম্মিলিত মূল্যর থেকেও সহস্রগুণ বেশি। দিল খুশতো হবেই তাঁর। মাঝে মাঝে তিনি মৃদু মশকরাও করছিলেন তাঁর পার্শ্বচরদের সঙ্গে। তাঁবুতে বসে সুলতান একসময় বাইরে রাখা সেই কপাটটা দেখিয়ে তার পার্শ্বচরদের বললেন, ‘ভাবছি আমি ওই দরওয়াজাটা মহান খলিফাকে সওগাত দেব।’

ঠিক সেই মুহূর্তে সেই সেনাধ্যক্ষ রাজশ্রীকে নিয়ে হাজির হল সুলতানের তাঁবুর সামনে। আবার একজন নারীকে নিয়ে তারা তাঁবুতে উপস্থিত হল! কিছু সময় আগেই তো আরও একজন নারীকে নিয়ে হাজির হয়েছিল সুলতানের তাঁবুতে। সেই কাফের নারী নাকি মৃতদেহের স্তুপের মধ্যে খুঁজে বেড়াচ্ছিল তার আশিককে! সুলতান সে নারীকে স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর যুবকদের হাতে তুলে দিতে বলেছিলেন। তাঁর সামনে দ্বিতীয়বার আরও একজন নারীকে হাজির করাতে, এবং তাঁর কথাতে ছেদ পড়াতে সুলতান একটু রুষ্টভাবেই তাকালেন যে সেনাধ্যক্ষ রাজশ্রীকে সঙ্গে এনেছে, তার দিকে।

সেনাধ্যক্ষ সুলতানকে কুর্নিশ করে বলল, ‘গুস্তাখি মাফ করবেন মালিক। এই জেনেনাকে নগরী থেকে ধরে এনেছে স্বেচ্ছাসেবী যুবকরা। এই কাফের জেনেনা নিজের পরিচয় দিচ্ছে রাজকন্যা বলে!

রাজকন্যা! সুলতান তীক্ষ্ন দৃষ্টিতে তাকালেন রাজশ্রীর দিকে। সুলতান তাকে ভালো করে দেখে ভাবলেন ‘এই কাফের জেনেনা বহুত খুবসুরত ঠিকই, কিন্তু এখানে রাজকন্যা আসবে কীভাবে? রাজা, রাজকন্যা সবাই তো নগরী ছেড়ে পালিয়েছে আমার ভয়ে।’

এই জেনেনার কাছে রাজকন্যা সুলভ কোনও দামি জিনিস প্রমাণ স্বরূপ মেলে কিনা তা জানার জন্য সুলতান বললেন, ‘ওর তল্লাশি নাও।’

যবন সৈন্যাধ্যক্ষ রাজশ্রীর শরীর স্পর্শ করতে যেতেই রাজশ্রী ব্যাপারটা অনুমান করে তার পোশাকের ভিতর থেকে ঘুঙুর ছড়া দুটো বার করে হাতে নিল। আর তা দেখেই গজনীবিদের মনে হল, এ নারী নিশ্চয়ই মিথ্যা বলছে! যদি এই কাফের নারী রাজকন্যাই হয়ে থাকে ওর কাছে ঘুঙুর থাকবে কেন? এ নারী নিশ্চয়ই নর্তকী। এ মন্দিরের দেবদাসীও হাতে পারে!

সোমনাথ মন্দিরে যে রাজারাও তাদের পরিবারের কন্যাকে সমর্পণ করে তা জানা ছিল না সুলতানের। আর এ নারী যদি সত্যিই কোনও রাজকন্যাও হয়ে থাকে তবুও কোনও কাফের নারীকে সুলতান ক্ষমা করতে পারেন না। তাই গজনীবিদ মামুদ তার পার্শ্বচরদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘এই কাফের জেনেনা বহুত খুবসুরত। এই মন্দিরের শেষ কাফের নারী মনে হয় এই সুন্দরী। অন্য সব নারীদেরই তো স্বেচ্ছাসেবক তরুণদের দিলাম। আপনারা এই নর্তকীর নাচ দেখবেন নাকি? তবে এই শেষ নর্তকীর নাচ দেখে আপনারাও আনন্দ উপভোগ করুন। ও আবার নিজেকে রাজকন্যা বলছে। রাজকন্যার সঙ্গ উপভোগ করুন।’

সুলতানের ইঙ্গিতটা স্পষ্ট। তার কথা শুনে পার্শ্বচরদের কয়েকজন লজ্জিত ভাবে বলে উঠল, ‘আপনার যা হুকুম সুলতান।’ দীর্ঘদিন ধরে সুলতানের সঙ্গে ছায়ার মতো ঘুরছে নারী সঙ্গ বঞ্চিত অনুচররা। সুলতান তাই তাদের ইঙ্গিত দিল সুন্দরী কাফের নারীকে অন্যত্র নিয়ে যাবার জন্য। সুলতানকে কুর্নিশ জানিয়ে তার তাঁবু ত্যাগ করল অনুচররা। কিন্তু তারা সবাই সুলতানের ঘনিষ্ঠ পার্শ্বচর বলে কথা, তারা তো আর স্বেচ্ছাসেবী তরুণদের মতো দিনের বেলা সবার চোখের সামনে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন না। অতটা বেশরম হতে পারবেন না তারা। তাই তারা রাজশ্রীকে নিয়ে চলল একটু আড়ালে কোনও নির্জন স্থানের সন্ধানে মন্দিরের পিছন দিকে। তাদের সাথে চলতে চলতে রাজশ্রী ভাবতে লাগল, ‘তবে কি আমার আর কোনও দিন দেখা হবে না অঙ্গিরার সঙ্গে?’

সুলতানের অনুচরদের সঙ্গে এগোচ্ছিল রাজশ্রী। হঠাৎ সে দেখতে পেল যবনদের শিকার এক উলঙ্গ নারীদেহ পড়ে আছে কিছুটা তফাতে। শিউরে উঠল রাজশ্রী। তার পরিণতিও নিশ্চয়ই এমনই হতে চলেছে একথা ভেবে।

যবনদের সঙ্গে যখন সেই দেহের পাশ কাটিয়ে রাজশ্রী এগোচ্ছিল ঠিক সেই সময় হঠাৎ-ই উঠে বসল সেই ক্ষতবিক্ষত নারী! এ যে তার সহচরী দেবদাসী উত্তরা! কিন্তু কী বীভৎস রূপ ধারণ করেছে তার শরীর, মুখমণ্ডল! মৃত্যু পথযাত্রী উত্তরাও চিনতে পারল তাকে। রাজশ্রীর উদ্দেশ্যে সে বলে উঠল, ‘আছে, আছে, সে এখানেই আছে।’

যবনরা ভাবল, এই ধর্ষিতা জেনেনা মৃতদেহর স্তুপের মধ্যে যাকে খুঁজছিল তার কথাই বলছে মনে হয়। শুধু রাজশ্রী অনুমান করতে পারল উত্তরা কার কথা বলছে। কিন্তু এর পরই উত্তরা জীবিত আছে দেখে একদল তরুণ যবন উত্তরার দিকে ছুটে এল শেষ বারের মতো তার শরীর ছিড়ে খাবার জন্য। তারা ঘিরে ধরল উত্তরাকে। তাদের উল্লাসধ্বনিতে চাপা পড়ে গেল সোমনাথ মন্দিরের দেবদাসী উত্তরার শেষ আর্তনাদ। অসহায় রাজশ্রীর কিছু করার ছিল না। সে চলতে চলতে মনে মনে বলতে লাগল ‘অঙ্গিরা যদি এখানে থাকে তবে মৃত্যুর আগে শেষ বারের জন্য একবার যেন দেখে যেতে পারি তাকে। হে সোমেশ্বর মহাদেব। কৃপা করো, কৃপা করো আমাকে।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *