মহাসিন্ধুর ও’পার থেকে (মধ্যপর্ব : লাপিস লাজুলি)
সিরিয়া মরুভূমির প্রাচীন প্রবাদ :
১। ‘মাথার ওপরে সূর্য নিয়ে আর ঘাড়ের ওপরে মৃত্যু নিয়ে কেউ যদি প্রাণে বেঁচে ওই বালি পাহাড় টপকাতে পারে তা হলে সে জোড়া পাহাড় দেখতে পাবে। একমাত্র সেই দেখতে পাবে। আর কেউ পাবে না। জোড়া পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে এক সুন্দর পথ চলে গেছে মৃত্যুপুরীর দিকে। যেখানে এক বার গেলে কেউ ফেরে না। কেউ ফেরেনি। কিন্তু যদি কেউ ফিরে আসে সে মৃত্যুঞ্জয়ী হয়।’
২। ‘জীবনকে ছুঁতে পারলে জীবনের পিছু পিছুই এ দুনিয়ায় এসে পড়ে মৃত্যুপুরীর বাসিন্দারা। এই দুনিয়ার আলো-হাওয়ায় ওরা বেশিক্ষণ বাঁচতে পারে না। কিন্তু এক বার যদি এসে পড়ে সর্বনাশ! সব ছারখার করে দেয় ওরা।’
.
‘তবে এই ক’বছরে আমি শিখে ফেলেছিলাম আয়ুধটি ব্যবহারের গুপ্তবিদ্যা। আয়ত্ত করেছিলাম প্রাচীন এক তন্ত্র। যাতে দেবী ইনান্নাকে জাগিয়ে তোলা যায়। ইযুজ্জু ইনান্না। লোভ হয়েছিল আমার। মনে হয়েছিল, আবার বাইত আল হিকমাহ গড়ে তুলি। তার পর নিজেকে সংযত করেছিলাম। নিয়তিকে বদলানো যায় না। যা হওয়ার সেটাই হবে। যা রবার সেটাই রবে। নিজেকে প্রশ্ন করেছিলাম, এ বার এই মহাশক্তিধর আয়ুধটি নিয়ে আমি কী করব? অন্তর থেকে আমার আল্লাহ আমায় উত্তর দিয়েছিলেন। আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম, এত দিন ধরে যেমন ভাবে একে লুকিয়ে রেখেছিলাম, সে ভাবেই আবার লুকিয়ে রাখব। তবে হ্যাঁ, ইতিহাসকে মুছে ফেলা পাপ। তাই আমি সূত্র রেখে যাব। কিন্তু এই সূত্র উদ্ধারের একমাত্র চাবি বুদ্ধিমত্তা। তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর মেধা ছাড়া এই সূত্র অর্থহীন প্রলাপ ছাড়া আর কিচ্ছু নয়। যে বোঝার সে ঠিক বুঝবে।
৯ ফেব্রুয়ারি, ১২৬৫
মারাগেহ মানমন্দির, পারস্য।’
.
‘মহামহিম, আপনাকে স্বাগত। অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ করতে হালাকু খাঁ-র আত্মা নতুন দেহ ধারণ করবে। তিনি আবার জন্ম নেবেন এই দুনিয়ায়। আমি সেই ব্যবস্থাই করে যাচ্ছি।
‘একমাত্র তিনিই এই সমাধি খুঁজে পাবেন। তিনি আসার আগে অবধি আত্মারা এই সমাধি পাহারা দেবে এবং তাঁকে এই সমাধি অবধি পৌঁছে দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর থাকবে। আমি সেই ব্যবস্থাই করে যাচ্ছি।
‘নতুন হালাকু খাঁ-র জন্ম হবে আজ থেকে সাতশো বছর পরে। তাঁর বাইশ বছর বয়সে তিনি এই সমাধিতে আসবেন এবং জীবনের অর্থ খুঁজে পাবেন। হালাকু খাঁ-র শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য প্রয়োজন হবে দেবী ইনান্নার দণ্ড। খাঁ যা করতে চাইছেন তা ওই মহাশক্তিধর আয়ুধ ছাড়া সম্ভব নয়। নতুন হালাকু খাঁ তাঁর ষাট বছর বয়সের জন্মমাসেই দেবীর দণ্ডের সন্ধান পাবেন। আমি সেই ব্যবস্থাই করে যাচ্ছি।
‘সারাজীবন ধরে গ্রহ-নক্ষত্রেরা একটু-একটু করে তাঁকে তাঁর অভীষ্টের দিকে এগিয়ে দেবে। তিনি নতুন জ্ঞান অর্জন করবেন। হালাকু খাঁ-র শেষ ইচ্ছার সারবত্তা ও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবেন। আমি সেই ব্যবস্থাই করে যাচ্ছি।
‘নদ-নদীর দেশ থেকে দু’জন মানুষ আসবে। তারা সাহায্য করবে দেবীর দণ্ড খুঁজে পেতে আবার তারাই সবচেয়ে বড়ো বাধা হবে। এক মহাসাধকের হাতে নরকের দরজা খুলবে। এই ব্যবস্থা আমি করে যাচ্ছি না। এ আমি গণনায় দেখছি। এ পূর্ব নির্ধারিত।
৯ ফেব্রুয়ারি, ১২৬৫
শাহি দ্বীপ, উর্মিয়া হ্রদ।

ধন্যবাদ। বেশ ভাল লাগল। আলাদাই লেখা। ধন্যবাদ জানাই এই ধরনের লেখা পড়ার সুযোগ করে দেবার জন্য।
লোকনাথ আসছে । ভাদুড়ী স্যর জানেন দণ্ড চুরি করার জন্য লোকনাথ আসবেই। নিয়তিকে বদলানো যায় না। যা হওয়ার সেটাই হবে। যা রবার সেটাই রবে।
বিপদ যখন খুব বেশি করে ঘনিয়ে ওঠে তখন তার মধ্যে থেকেই উঁকি দেন বিপত্তারণ। আর সেই বিপত্তারণ হলেন ভাদুড়ী স্যর। ঠিক ব্যবস্থা হবে। হতে হবেই। কারণ নিয়তিকে বদলানো যায় না।
লোকনাথ গেনু কে চায়, তাই ওকে গেনুর কাছেই পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভাদুড়ী স্যর । আবার এক শিষ্য গুরু কৃপা লাভ করে চিরকালের জন্য প্রিয় মানুষকে পাবে।
সবই গুরুকৃপা।
মজা এখানেই যে,
যিনি চক্কোত্তি মশাই তিনিই ভাদুড়ি মশাই। মীরদার কথা বলছি
মধ্যপর্ব কী শেষ নাকি এরপর শেষ ভাগ আছে?