মড়ার মাথা কথা বলে – রবিদাস সাহারায়

মড়ার মাথা কথা বলে – রবিদাস সাহারায়

কলকাতার শহরতলীর হাসপাতালে মেডিকেল ছাত্রদের একটি হোস্টেল। গ্রীষ্মের ছুটিতে ছাত্রাবাস ফাঁকা। সকলেই যার যার বাড়িতে চলে গেছে। শুধু রয়ে গেছে তিনজন ছাত্র অমল, সুধীর আর নীহার। তারা ঠিক করেছে ছুটিটা নষ্ট না করে মন দিয়ে পড়াশোনা করবে। আগামী বার্ষিক পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করবে – এই তাদের সঙ্কল্প।

সত্যি তারা মন দিয়ে পড়াশোনা করছে। যে ছাত্রাবাস সব সময় ছাত্রদের হৈ- হুল্লোড়ে মুখরিত থাকত, তা এখন নীরব। কাজেই পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটাবার মত কোন উপদ্রব আর নেই। এত বড় ছাত্রাবাসে রয়েছে মাত্র দু’জন ভৃত্য ও একজন রাধুনি ব্রাহ্মণ। তারা গত পূজার ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিল, তাই এবার যায় নি। তাতে অমল, সুধীর আর নীহারেরই সুবিধা হয়েছে। কারণ তাদের খাবার কোন চিন্তা নেই। সময় মত দু’বেলা তাদের আহার জুটছে আর পড়াশোনারও সময় পাচ্ছে প্রচুর।

অনেক রাত পর্যন্ত তারা মাঝে মাঝে পড়াশোনা করে। এনাটমি বিষয়টা খুব জটিল। তাই পড়াশোনার সুবিধার জন্য একটি মরা মানুষের মাথার খুলি তারা সংগ্রহ করেছে। এই মাথার খুলিটা থাকে তাদের পড়ার ঘরের টেবিলে। কলেজের এনাটমি ডিসেক্সন রুমে যে কঙ্কাল রয়েছে – সেই কঙ্কালেরই এটা একটা অংশ। প্রফেসরের অনুমতি নিয়ে এটা কয়েকদিনের জন্য নিয়ে এসেছে।

বেশ ভালভাবেই পড়াশোনা চলছে তাদের।

সেদিন রাত্রে সুধীর ও নীহার একটু আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে। অমল একাই বসে বসে পড়ছে।

যখনকার কথা বলছি তখন সেই হোস্টেলে ইলেকট্রিক লাইট ছিল না। হ্যারিকেনের আলোয় ছাত্ররা পড়াশোনা করত।

রাত বোধহয় প্রায় বারোটা। চারিদিক নিঝুম নিস্তব্ধ। অমল একা একা পড়ছিল। তার ছোখেও বুঝি ঝিমুনি আসছিল একটু।

হঠাৎ একট! শব্দ শুনে অমল বই থেকে মাথা তুলল। ঘরে যেন কার পায়ের শব্দ। কিন্তু ঘরে তো কেউ নেই। সুধীর ও নীহার তাদের বিছানায় ঘুমোচ্ছে। মনের ভুল হয়েছে ভেবে অমল আবার পড়ায় মন দিল। চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে পড়ছে না, মনে মনেই পড়ছে অমল। অর্থাৎ বইয়ের পাতার উপর চোখ বুলিয়ে যাচ্ছে।

হঠাৎ কিছুক্ষণ পর আবার ঐ রকম একটা শব্দ শুনতে পেল অমল। পায়ের শব্দ। অমল আবার মুখ তুললো। কিন্তু আশ্চর্য, এবারও কোন লোক দেখতে পেল না।

ঠক্ ঠক্ শব্দ শুনতে পেল টেবিলের উপর। তাকিয়ে দেখল মড়ার মাথার খুলিটা টেবিলের উপর থেকে আস্তে আস্তে শূন্যে উঠে যাচ্ছে।

ব্যাপার দেখে স্তব্ধ হয়ে গেল অমল। মনে তার ভয়ও জাগলো। কি করবে ভেবে ঠিক করতে পারল না। একবার ভাবলো সুধীর আর নীহারকে ডাকবে, কিন্তু মুখের ভাষা যেন তার স্তব্ধ হয়ে গেছে। কোন কথাই তার মুখ থেকে বের হল না। অসহায়ের মত বসে বসে শুধু দেখতে লাগলো।

মাথার খুলিটা উপর দিকে উঠছে –আরও উঠছে। চলে যাচ্ছে দেওয়ালের দিকে–যেদিকে পায়ের শব্দ সে শুনতে পেয়েছিল, সেখানে মানুষের মাথার সমান উঁচু একটা জায়গায় গিয়ে সেটা স্থির হয়ে রইল। তারপর সেই খুলির মুখ থেকেই যেন কথা বেরিয়ে এল–অমল।

অমল! মাথার খুলিটা তার নাম ধরে ডাকছে। ভারি আশ্চর্যের ব্যাপার!

কৌতূহল আর ভয় জাগল অমলের চোখে মুখে। তবু তাকিয়ে রইল সেদিকে। মাথার খুলিটা বলছে– অমল, আমাকে মুক্তি দাও। আমাকে কেন এখানে এনে আটকে রেখেছ?

অমল হতভম্ব! তবু তার মুখ থেকে কথা বেরিয়ে এল– তোমাকে আটক  রাখিনি তো। তোমাকে তো টেবিলের উপরই রেখেছিলাম।

মাথার খুলিটা বলল আমার শরীরটা রয়েছে লেবরেটরীর ঘরে। কিছুদিন আগে কয়েকটি উচ্ছৃঙ্খল ছেলে আমার ধড় থেকে মুন্ডটা খুলে ফেলেছিল। কেউ আর সেটা জুড়ে দেয়নি। ঐভাবেই রয়েছে সেই থেকে। তারপর তুমিই তো সেদিন আমাকে এখানে নিয়ে এলে।

অমল বলল – তুমি কি আমাকে চেন? আমার নাম জানলে কেমন করে?

মাথার খুলিটা বলল – চিনব না কেন? এখানকার অনেককেই তো আমি চিনি। এই হাসপাতালেই এক বছর আগে আমার মৃত্যু হয়েছিল।

— কি বললে? এক বছর আগে তোমার মৃত্যু হয়েছিল এই হাসপাতালে?

— হ্যাঁ। আমার নাম ইয়াসিন। আমি ‘বি’ ওয়ার্ডে সাত নম্বর বেড-এ ছিলাম। ছুরি বেঁধা অবস্থায় আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিল পথের কয়েকজন লোক। তারপর আমার দলের লোকেরা খবর পেয়ে আমাকে হাসপাতালে দেখতে এসেছিল। যে ডাক্তারবাবু আমাকে চিকিৎসা করতেন তাঁর সঙ্গে তুমিও তো আমাকে দেখতে যেতে।

— তোমাকে ছুরি মেরেছিল কারা?

— আমাদের বিপক্ষ দল।

— বিপক্ষ দল মানে? তুমি কি পার্টি করতে নাকি? রাজনীতি করতে?

–না, ওসব নয়। আমাদের ছিল চোরাই মাল চালান করার পার্টি। আমিই ছিলাম লীডার। আমার কাছ থেকে আটঘাট শিখে নিয়ে দু’জন লোক দল ছেড়ে দিয়ে নিজেরা পার্টি করল। কিন্তু আমাদের সঙ্গে পেরে উঠল না। আমরা যেভাবে মালপত্র যোগাড় করতাম, সেভাবে যোগাড় করতে পারত না। তাই আমার উপর হল ওদের হিংসা।

–সেজন্য তোমাকে ছুরি মেরেছিল? তুমি পুলিশের কাছে ওদের নাম বলনি?

— হ্যাঁ, বলেছিলাম। কিন্তু পুলিশ ওদের খুঁজে পায়নি। ওদের কি কোন আস্তানার ঠিক আছে?

–তোমাকে মেরে ওদের লাভ হয়েছিল কি?

— না, হয়নি। আমি যার কাছ থেকে চোরাই মাল সংগ্রহ করতাম তার নাম ছিল বদ্রিলাল। আমার দল থেকে চলে যাবার পর নাসিম আর আমজাদ বদ্রিলালের কাছে সেই মাল সংগ্রহ করবার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বদ্রিলাল ওদের বিশ্বাস করত না। বদ্রিলাল খুব কম মালপত্র ওদের দিত। তাই নাসিম আর আমজাদ ভেবেছিল,আমিই ওদের পথের কাঁটা। আমাকে না সরালে ওদের উদ্দেশ্য সিদ্ধি হবে না। সেজন্যই মেরেছিল আমাকে।

–তারপর?

–আমি হাসপাতালে মারা গেলাম। আমাকে মর্গে পাঠানো হয়েছিল। আমার দলের লোকেরা সেখান থেকে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে গেল কবরখানায়। আমাকে কবর দিল।

কিন্তু ভাগ্যের কি খেলা। আমি যে চোরাই মালের কারবার করতাম, মরার পরও পড়ে গেলাম সেই চোরাইমাল পাচারকারীদের হাতে। আমার কঙ্কালটাও রেহাই পেল না। যেসব লোকেরা কঙ্কালের চোরা কারবার করে তারা একদিন আমার কঙ্কালটাও তুলে নিয়ে গেল। তারপর হাত বদল হয়ে আমার কঙ্কালটাও এসে গেল এই হাসপাতালে।

অমল স্তব্ধ হয়ে কথাগুলি শুনল। তারপর জিজ্ঞেস করল— তাহলে এখন সেই নাসিম আর আমজাদ খুব চোরাইমালের কারবার করছে?

ইয়াসিন বলল – না, সেই সুযোগ তাদের দেইনি। নাসিম হল দলের পান্ডা। তাকে একদিন রাত্রিবেলা পেয়ে গেলাম নির্জন জায়গায়। ধাপার মাঠের কাছে। তাকে গলা টিপে ধরলাম। সে অনেকক্ষণ ধস্তাধস্তি করল আমার সঙ্গে। কিন্তু পারল না। আমার সঙ্গে শক্তিতে সে পারবে কেমন করে? আমার গায়ের জোর চিরকালই ওর চাইতে বেশি। তবু লড়েছিল অনেকক্ষণ। ওর কাছে একটা ছুরি ছিল। সেই ছুরি নিয়েই সব সময় চলাফেরা করত। কিন্তু ছুরি দিয়ে আমাকে মারবে কেমন করে? ওর রক্ত মাংসের শরীর, আর আমি ছায়া হয়ে ওর সঙ্গে লড়াই করছি। এক সময় ওকে খতম করে দিলাম। ওর ছুরি দিয়েই শেষ করলাম।

অমল চমকে উঠে বলল–এ্যাঁ, বল কি?

ইয়াসিনের মাথার খুলিটা বলল হ্যাঁ। নাসিম এইভাবে খতম হল। এরপর আমজাদও একদিন ধরা পড়ল পুলিশের হাতে। একটা চোরাইমাল পাচার করতে গিয়ে হাতে হাতে ধরা পড়ল। জেল হল তার। তারপর থেকে আমজাদ এই কাজ ছেড়ে দিয়েছে।

অমল বলল – কিন্তু তোমার এই অবস্থা কেন? তুমি কি চাও আমার কাছে? ইয়াসিন বলল—আমি চাই মুক্তি।

–তোমাকে কিভাবে মুক্তি দেব আমি?

–শোন তাহলে। তোমাকে একটা গোপন খবর বলছি। তাতে তুমিও বেঁচে যাবে, আমিও ভালভাবে থাকতে পারব।

—বল, কি বলতে চাও তুমি?

–যে ঘরে কঙ্কালগুলি আছে সে ঘরের দারোয়ান কঙ্কালগুলিকে বিক্রি করে ফেলার মতলব করছে। যারা এইসব ব্যবসা করে তাদের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করছে সে। রাত্রে চোর হয়ে তারা চুরি করবে। তার আগে দারোয়ানকে বেঁধে ফেলবে তারা। তারা চুরি করবে কঙ্কাল আর দু’একটি মূল্যবান যন্ত্র। আমার কঙ্কালটাকেও বাদ দেবে না তারা। তাহলে আমি মুন্ডু ছাড়া হয়ে পড়ব।

–এই ব্যাপারে আমাকে কি করতে হবে?

–শোন, এই ছুটির সময়ে তোমাদের মেসে কোন ছাত্র নেই। তোমাদের টেবিলে আমার মুন্ডুটা আছে। কাজেই এই চুরির পর তোমাদের উপরও দোষ পড়তে পারে। আমি চাই না তোমরা কোন বিপদে পড়ো। তুমি খুবই ভাল লোক। আমি জানি, এই হাসপাতালের বিছানায় থাকার সময় তুমি খুব যত্ন নিয়ে তোমার ডাক্তারের সঙ্গে থেকে আমাকে দেখতে। তাছাড়াও মাঝে মাঝে আমার খবর নিতে। অনেক ডাক্তারই বড় নিষ্ঠুর, তাঁদের মায়া মমতা নেই। তাঁরা রোগীদের ভাল করে দেখেন না। তুমি সেই ধরণের লোক। তাই তোমাকে বাঁচাবার জন্য আমার এত আগ্রহ। তোমরা তিনজন এখানে আছ, এখনই তোমরা হাতে কোন অস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়ো। তবে তোমাদের কাছে অনুরোধ, আমার মুণ্ডুটা আমার কালের সঙ্গে জুড়ে দিও। তাহলে আমার আত্মা শান্তি পাবে। আমি এখন যাই।

ধীরে ধীরে মুন্ডুটা আবার বাতাসে ভাসতে ভাসতে এসে টেবিলের উপর হাজির হল। কিছুক্ষণ আচ্ছন্নের মত বসে রইল অমল। একটু আগে যে ঘটনাটা ঘটে গেল, সো সে নিজেও যেন বিশ্বাস চরতে পারছে না। তন্দ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে সে কি স্বপ্ন দেখছিল, না কি নিজেই এসব উদ্ভট কল্পনা করছিল।

বসে বসে ভাবতে লাগল অমল, এখন সে কি করবে? সুধীর আর নীহারকে জাগিয়ে তুলবে কি? যাবে কি সেই লেবরেটরী রুমের কাছে? ওদের জাগিয়ে তুলে বলবে কি নরমুন্ডের বিচিত্র কাহিনী? ওরা হয়তো বিশ্বাস করবে না। পাগল বলেই তার কথা উড়িয়ে দেবে।

কিন্তু … স্থির হয়ে বসে থাকতে পারল না অমল। তার মন চঞ্চল হয়ে উঠল। সে গিয়ে জাগিয়ে তুলল সুধীর আর নীহারকে। বলল–ওঠ ওঠ শীগগীর।

ধড়মড় করে উঠে বসল সুধীর তার নীহার। ঘুম ঘুম চোখেই বলল কি–হয়েছে রে অমল?

অমল বলল —চল, লেবরেটরী রুমের দিকে যাই। ওখানে চোর এসেছে।

–চোর? কে বলল?

— হ্যাঁ, আমি খবর পেয়েছি।

–লেবরেটরীর ঘরে চোর এসেছে তো আমাদের কি?

–কঙ্কাল চুরি করতে এসেছে চোর। কঙ্কাল চুরি হলে আমাদের উপর হয়ত দোষ পড়বে। চল, এখন গেলে চোরকে অড়ানো যাবে।

–চোর যদি আমাদের ঠেঙায়?

–সেজন্য তৈরী হয়ে যেতে হবে। লাঠি নিয়ে চল।

লাঠি নেওয়া সত্যি দরকার। কিনতু লাঠি কোথায় পাবে? হকি ষ্টিক ছিল, তাই তিনজন তিনটি নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।

লেবরেটরীর কাছে এস তারা তিনজনেই তাজ্জব। দেখল, সত্যি সেখানে চোর হানা দিয়েছে। দারোয়ানকে দড়ি বেঁধে বারান্দার এক পাশে ফেলে রেখে লেবরেটরীর দরজা চাবি দিয়ে খুলে ফেলেছে চোরেরা।

অমল, সুধীর আর নীহার হৈ হৈ করে শোরগোল তুলল। হকি ষ্টিক দিয়ে আঘাত করতে লাগল মাটির উপর—যাতে চোরেরা ভয় পায়। চোরেরা ভয় পেলেও বাঁচবার জন্য রুখে এল অমল, সুধীর আর নীহারের দিকে। কিন্তু তাতে সুবিধা করতে পারল না। হৈ চৈ শুনে ততক্ষণে এদিক ওদিক থেকে আরও লোক এগিয়ে এসেছ। তিনজন চোরই ধরা পড়ল।

মস্ত বড় একটা চক্রান্তের সূত্র ফাঁস হয়ে গেল। সেই সূত্রেই ধরা পড়ল কঙ্কাল চোরাকারবারীর দল।

দরোয়ান বুঝতে পারল তারও অব্যাহতি নেই। সে গোপনে দোষ স্বীকার করল অমল, সুধীর আর নীহারের কাছে। তাদের পায়ে ধরে কমা চেয়ে প্রতিজ্ঞা করল, আর কোনদিন সে এমন কাজ করবে না।

দরোয়ানের চাকরী রয়ে গেল। কিন্তু এসব কালকারখানার মূলে যে ইয়াসিনের প্রেতাত্মা, একথা সুধীর আর নীহার কিছুতেই বিশাল করতে চাইল না। তারা বলল, তুই নিশ্চয়ই স্বপ্ন দেখেছিলি। মরা মানুষের মাদার খুলি কথা বলো, আমরা তা বিশ্বাস করি কিভাবে?

অমলও বিশ্বাস করতে পারে না। কিন্তু এ ব্যাপার যে সত্যি ঘটেছিল। এ ব্যাপার না ঘটলে চোরের খবরই বা সে জানত কেমন করে?

অমলের কৌতূহল এরপর সত্যি খুব বেড়ে গিয়েছিল। সে হাসপাতালের খাতাপত্র ঘেঁটে বের করেছিল এক বছর আগে মহম্মদ ইয়াসিন নামে সত্যি একজন রোগী ছুরিকাঘাতে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। সে ছিল ‘বি’ ওয়ার্ডে সাত নম্বর বেডে। তিন দিন পর তার মৃত্যু হয়েছিল।

ঘটনা খুবই আশ্চর্য!

যাঁরা পরলোক বিশ্বাস করেন তাঁরা হয়তো বলবেন, যে ঘৃণ্য কাজ করত ইয়াসিন, সেই কাজের উপর তার বিতৃষ্ণা এসেছিল। সে নিজেও হয়েছিল সেই ঘৃণ্য ব্যবসায়ের শিকার। তাই তার অতৃপ্ত আত্মা ঘুরে বেড়াত সেই ঘৃণ্য ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দেবার জন্য।

অমন কিন্তু ইয়াসিনের প্রেতাত্মার অনুরোধ রক্ষা করেছিল। লেবরেটরী রুমে সে ভাঙা কঙ্কালের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিল তাঁর খন্ডিত মুন্ড। তাতে ইয়াসিনের আত্মার হয়ত তৃপ্তি হয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *