বিদুর – ৫

আর দু-প্রহর রাস্তা অতিক্রম করলে, আমরা কুরুক্ষেত্রে পৌঁছোব। সেই কুরুক্ষেত্র, মহারাজ কুরু যে ভূমি আবাদ করেছিলেন। যিনি এই বংশের নামপুরুষ। তাঁর পূর্বে এই বংশের নাম ছিল পৌরব বংশ। মহারাজ পুরু ছিলেন নহুষাত্মজ যযাতির কনিষ্ঠ পুত্র। যযাতি অধিক মাত্রায় কামাচারী ছিলেন এবং তিনি সম্ভবত পুরুর দয়িতার প্রতি কামপরায়ণ হয়ে তাঁকে বলেছিলেন, পুত্র আমার সম্ভোগবাসনা এখনও চরিতার্থ হয়নি। আমি এখন প্রৌঢ়াবস্থা প্রাপ্ত। স্বাভাবিকভাবে কোনো যুবতী আমাতে আকৃষ্ট হবে না। আমি তোমার দয়িতা শর্মিষ্ঠাকে যাচ্ঞা করি। প্রতিদানে যদু, দ্রুহু, অনু ইত্যাদি পুত্রদের অতিক্রম করে, আমি তোমাকে রাজপদ প্রদান করব। তারা কেউই তাদের দয়িতাদের প্রদানে আগ্রহী নয়। বৎস আমি হয়তো আর দশ বৎসর সকাম জীবনে সক্ষম থাকব। তুমি কি শর্মিষ্ঠাকে আমার অঙ্কশায়িনী করবে? পরিণামদর্শী পুরু তাই স্ব-যৌবনভোগ পিতাকে অর্পণ করেছিলেন। ফলত তিনিই পরবর্তীকালে রাজ্য লাভ করলেন এবং তাঁর বংশ পুরুবংশ বা পৌরব নামধেয় হল। কুরু বংশীয় প্রাককথার কিংবদন্তি শুনে আমার এরকমই এক বাস্তব ছবি মনে হয়েছে। একারণেই এবং রাজাবরোধের খবর যেহেতু প্রকৃতিপুঞ্জ কমই রাখে, তাই একসময় কিংবদন্তি সৃষ্ট হল যে পুরু তাঁর পিতার জরা গ্রহণ করে, তাঁকে তাঁর যৌবন প্রদান করেছেন এবং তিনি জ্যেষ্ঠদের অতিক্রম করে পিতৃরাজ্য লাভ করেছেন। আরও সব কাহিনি এর অনুষঙ্গ হিসেবে রচিত হল। যেমন দৈত্যগুরু শুক্রাচার্যের অভিশাপেই নাকি যযাতি অকালবার্ধক্য প্রাপ্ত হয়েছিলেন। প্রকৃত বিষয় হচ্ছে এই দেবযানীকে বিবাহ করার সময়ই যযাতি প্রৌঢ় ছিলেন। দেবযানীও নিতান্ত নাবালিকা ছিলেন না। শর্মিষ্ঠা কোনোদিনই যযাতির প্রতি অনুরক্ত হননি, বা তাঁর গর্ভে যযাতির কোনো পুত্র জন্মায়নি। শর্মিষ্ঠা বস্তুত পুরুর প্রতিই আকৃষ্টা ছিলেন। কুরুবংশীয় প্রাচীনদের কাহিনি শুনে আমার এরকমই মনে হয়েছে। পিতা বাদরায়ণিও বলেছেন যে যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠার ত্রিকোণাত্মক প্রণয়, পুরুর জরা গ্রহণ এবং যযাতির যৌবনাবস্থা প্রাপ্তি ইত্যাদি কাহিনিসমূহ বড়োই অনৈসর্গিক। আমি যে ব্যাখ্যা বিবৃত করলাম, তা আমার অনুমিত সিদ্ধান্ত। প্রকৃত সত্য যে কী তা জানার কোনো উপায় নেই।

এখন সূর্য অস্তাচলগামী। সার্থবাহদের সকলেই এই কুরুক্ষেত্রের প্রান্তরে তাদের নৈশ বিশ্রামশিবির লাঞ্ছিত করতে ব্যস্ত। এখানে কোনো গ্রাম বা জনপদ নেই। কিন্তু সন্ধ্যা নেমে এসেছে। তাই আর পথচলা সম্ভব নয়। শস্ত্রধারী রক্ষীরা দল উপদলে বিভক্ত হয়ে প্রহরায় রত হলে, আমরা সকলেই বিশ্রম্ভালাপে মগ্ন হলাম। নিকটেই সমস্তপঞ্চক হ্রদ। সেই হ্রদ থেকে হাহাকারের মতো হাওয়া এসে আমাকে যেন এক বিষণ্ণ মগ্নচৈতন্যে প্রোথিত করে। আমি যেন এই মহাসমরের অব্যবহিত পরবর্তী তাবৎ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে থাকি।

যে সার্থবাহটি আমায় বিবিধ খবরাখবর জানাচ্ছেন, তাঁর নাম যজ্ঞদত্ত। যজ্ঞদত্ত অহিছত্রের মানুষ। ভারত যুদ্ধের সময় তিনি কুরু পাণ্ডব উভয়পক্ষকেই খাদ্যাদি সরবরাহ করতেন। সে কারণে, ওই সময়কার নানাবিধ সংবাদ তাঁর জানা। যজ্ঞদত্ত বলছিলেন, ভদ্র, অন্ধরাজা ধৃতরাষ্ট্রকে অনেকেই দোষারোপ করে থাকেন এই বিপুল লোকক্ষয়ের জন্য। তাঁরা বলেন, তিনি যথাকালে দুর্যোধনকে পরিত্যাগ করে পাণ্ডবদের প্রাপ্য অধিকার দিলে, এই মহাপ্লব সংঘটিত হত না। কিন্তু আমার মনে হয় তাঁরা ভুল বলেন। যজ্ঞদত্তের কথায় মনে হল, তাঁর এ বিষয়ে কিছু ভিন্ন বিচার আছে। সে বিচার জানতে আগ্রহী হলেও আমি তাঁকে ধৃতরাষ্ট্র বা কুরুকুল সম্পর্কে বিশেষ কিছু আলোচনা করতে দিতে চাই না। এই মহাপ্লব সম্পর্কে বাইরের থেকে যতটুকু জানা বা বোঝা যায় তাই সব নয়। তাছাড়া এসব আলোচনা সাধারণ্যে হওয়ার কিছু বিপদও অবশ্য আছে। ধৃতরাষ্ট্রকে আমি যতটা জানি বা বুঝি, অন্য কারওর পক্ষেই ততটা জানা বা বোঝা সম্ভব নয়। রাজা ধৃতরাষ্ট্র পুত্রস্নেহে নিতান্তই একদেশদর্শী ছিলেন এবং তাঁরও রাজ্যকামুকতা কিছুমাত্র কম ছিল না। আমার মন্ত্রিত্বের সময় থেকেই আমি তাঁকে পরামর্শ দিয়ে এসেছি তিনি যেন দুর্যোধনকে পরিত্যাগ করেন। দুর্যোধন আমার অগ্রজের জ্যেষ্ঠ পুত্র। সে গান্ধারীর গর্ভজাত। গান্ধারীর গর্ভে তিনটি সন্তানের জন্ম হয়-দুর্যোধন, দুঃশাসন এবং দুঃশলা। বাকি সন্তানেরা গান্ধারীর গর্ভজাত নয়। ধৃতরাষ্ট্র যেমন, অন্ধত্ব হেতু রাজপদ লাভ করেননি, তাঁকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য, এর পরিবর্তে নানান উপঢৌকনে তাকে সন্তুষ্ট রাখার প্রয়োজন ছিল। সে কারণে প্রধান যে উপকরণ তাঁকে প্রদান করা হল, তা হল বিপুল সংখ্যক সুদৃশ্যা, সুগায়িকা পত্নী এবং দাসী। ধৃতরাষ্ট্র বহুকাল এই অপরিমেয় পত্নী এবং দাসীদের নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন। এদের গর্ভে অগ্রজ বহু পুত্রের জন্ম দিয়েছিলেন। প্রকৃতিপুঞ্জ জানত, গান্ধারীই এই সমুদায় পুত্রের, যাদের সংখ্যা শত অতিক্রম করেছে, জননী। কিন্তু বস্তুত তা নয়। গান্ধারতনয়া প্রধানা মহিষী ছিলেন বলে, দুর্যোধন, দুঃশাসন বিষয়ে এত প্রাধান্য।

এই মহিষী যে ধৃতরাষ্ট্রকে সর্বদা সেবা করার সুযোগ পেতেন তা নয়। গান্ধারীর একটি বৈশ্যা দাসী ছিল। সে ছিল তাঁর সর্বক্ষণের সহচরী। অগ্রজ অবরোধে প্রবেশ করলে, তাঁকে নির্দিষ্ট স্থানে হাত ধরে পৌঁছোনোর প্রয়োজন হত। এ কাজটি বরাবর সাধারণত গান্ধারীই করতেন। অন্তর্বর্তী থাকাকালে এই দায়িত্বটা তিনি ন্যস্ত করতেন তাঁর প্রিয় সহচরী এক বৈশ্যার উপর। সেই বৈশ্যা শুধু যে অন্ধরাজাকে হস্তধারণ করে গান্ধারী সকাশে নিয়ে যেত তাই নয়। পতিসেবার্থ গান্ধারী যে যে কর্ম করতেন, তার উপর সেই সমুদায় কর্মভারই অর্পিত হয়েছিল। সেই বৈশ্যার বয়ঃক্রম তখন বিংশ অতিক্রান্ত। এই সব ক্ষেত্রে যেমন হয় তার বিবাহাদির কোনো প্রশ্নই ছিল না। রাজাবরোধে সৈরিন্ধ্রী প্রভৃতিদের ঋতুরক্ষা সাধারণত রাজকুলান্তর্গত পুরুষপ্রবরদেরই অধিকার ছিল। ফলস্বরূপ সূতদের জন্ম হত। আমার জন্ম যে সেভাবেই হয়েছিল, তা পূর্বেই বলেছি।

বৈশ্যা জানত, তার কোনোদিনই বিবাহাদি হবার নয়। হস্তিনাপুর প্রাসাদে মধুলোভী পুরুষের অভাব ছিল না। বৈশ্যা আমার শূদ্রা মাতার ইতিহাস জানত। তার রুচি নিম্নগামী ছিল না। এ দেহকে যদি ভোগের সামগ্রী করতেই হয়, তবে শ্রেষ্ঠ রাজপুরুষটিই কেন সেই ব্যক্তি হবে না, অন্তত সেক্ষেত্রে সন্তান হলে যখন তার সূতবৃত্তি অবলম্বন করার অধিকারটা থাকবে, বৈশ্যা এমত ভেবেছিল। তাছাড়া ধৃতরাষ্ট্র শুধুমাত্র অন্ধই ছিলেন, দর্শনধারী হিসেবে তাঁর শালপ্রাংশুভুজ কদলীকাণ্ডের ন্যায় উরুস্থল, কবাটবক্ষ আর অপূর্ব সুন্দর কুঞ্চিত কেশ ও শ্মশ্রুগুম্ফ ইত্যাদি নয়নাভিরামই শুধু নয়, যেকোনো যুবতীকে অনঙ্গ পীড়িতা করার জন্যও অব্যর্থ ছিল।

প্রাকৃতিক নির্বন্ধে গান্ধারীর প্রথম গর্ভধারণ খুবই দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল। বৈশ্যার মন এই সময় খুব স্বাভাবিক কারণে মহারাজের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। নিরন্তর সান্নিধ্য অবশ্যই এ জন্য দায়ী ছিল। তাই একদা মহারাজকে হস্তধারণ করে গান্ধারীর কক্ষে আনয়ন কালে সে পথ পরিবর্তন করে। রাজা অনুভবে তা বুঝতে পেরে জানতে চেয়েছিলেন, সৈরিন্ধ্রী এ পথ তো গান্ধারীর কক্ষে যাবার পথ নয়। তুমি আমায় কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? বৈশ্যা বলেছিল, মহারাজ দেবী কুশলেই আছেন, আপনার চিন্তিত হবার কারণ নেই। আপনি আজ দাসীর কুটিরে খানিক বিশ্রাম করুন। ধৃতরাষ্ট্র বলেছিলেন, সুভগে আতপতপ্ত কায়াকে ছায়া প্রদান পরম ধর্ম। কিন্তু সেই কায়া যদি ছায়াকে অধিকার করে তবে ছায়া কি তাকে যথার্থ অনুগৃহীত করবে? বৈশ্যা বলেছিল, মহারাজ এ ছায়া সর্বদাই কায়ার অনুসারী। রাজ্ঞী গান্ধারী এখন প্রসূতিকাগৃহে আপনার প্রথম সন্তানের আবির্ভাবের জন্য অপেক্ষমাণা। সেখানে আপনার গমনের অধিকার নেই। আপনি আজ এই দাসীর কুটিরে আতিথ্য গ্রহণ করুন। আমি আপনার ভোজনের আয়োজন করছি। আর্যা, গান্ধারীর এ বিষয়ে সুস্পষ্ট স্বীকৃতি আছে জানবেন।

তারপর পরম প্রযত্নে বৈশ্যা সেই কন্দর্পকান্তি পুরুষকে স্নান শৌচাদি দ্বারা স্নিগ্ধ করলে। নানা গন্ধ দ্রব্য, ধূপ, অগুরু, চন্দনাদির সংস্কারে গৃহ আমোদিত করে, নানাবিধ স্বাদু পক্ব এবং অপক্ব খাদ্য মিষ্টান্ন মদ্যাদির দ্বারা তাঁকে পরিতৃপ্ত করল। এইভাবে সৎকৃত হলে রাজা তাকে বললেন, ভামিনি, আমি তোমার সৎকারে নিবিড় আনন্দলাভ করেছি। তুমি যদি আমার নিকট কিছু যাচ্ঞা কর আমি সাগ্রহে তা তোমাকে প্রদান করব। বৈশ্যা বলেছিল, মহারাজ, আপনার তৃপ্তিই আমার পুরস্কার। তবে আপনার মহিষীরা প্রায় সকলেই এখন অন্তর্বর্তী। আপনি যদি অনুকম্পা করেন, তবে প্রার্থনা এই যে আপনি আমার বর্তমান ঋতুরক্ষা করুন। আমি একটি সন্তানলাভে মানসী। আমি বর্তমানে বিংশোত্তীর্ণা, কিন্তু অদ্যাবধি কোনো উপযুক্ত ষণ্ডপুরুষ প্রত্যক্ষ করিনি-যে আমাকে উপযুক্ত অপত্য প্রদান করতে সমর্থ। মহারাজ, আপনার মহিষীরা আপনাকে যেমনই বিচার করুন, আমি আপনার প্রতি তদগতপ্রাণা। আমি আপনার রমণপ্রত্যাশী।

বৈশ্যা একথা বললে, ধৃতরাষ্ট্র অতি হৃষ্টমনে তার সঙ্গে বিবিধ প্রকারে রমণ করলেন, বৈশ্যা যথাকালে একটি অপত্য লাভ করল। সেই পুত্রেরই নাম যুযুৎসু।

অগ্রজের রাজ্যকামুকতা বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে যে এত সব কাহিনি বলতে হল তার কারণ হচ্ছে এই যে তিনি শুধু সিংহাসনেই বসতে পারেননি। নচেৎ একজন রাজা যা কিছু প্রত্যাশা করতে পারেন, তার সবই তিনি প্রভূত ভোগ করেছেন। তবু তাঁর রাজ-ক্ষমতার প্রতি লোভ এবং আকাঙ্খা কোনোদিনই যায়নি।

অগ্রজের একশত পুত্র এবং দুঃশলা নাম্নী এক কন্যাও ছিল। কিন্তু তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র দুর্যোধনই তাঁর প্রিয়তম। তিনি অন্ধত্বের জন্য সিংহাসন বঞ্চিত হয়েছেন, তাই তাঁর আকাঙ্খা ছিল, দুর্যোধন নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করুন। এ কারণে, দুর্যোধনের কোনো ত্রুটিই তিনি দেখতে পেতেন না। স্নেহ তাঁকে যেন মানসিকভাবেও অন্ধ করে রেখেছিল।

গান্ধারী আমাকে অত্যন্ত প্রীতির ভাবে দেখতেন। আমার ধীর, স্থির, নম্র স্বভাব, সংকটকালে আমার যুক্তিগ্রাহ্য পরামর্শাদি তাঁর রুচিসম্মত ছিল। তিনি প্রায়শই আমাকে বলতেন, ক্ষত্তা, দুর্যোধন দুঃশাসন পাণ্ডবদের বিষয়ে অত্যন্ত অসহিষ্ণু। সেকারণে, যাঁরা তাদের মঙ্গলাকাঙ্খী তাঁদের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল নয়। আমি জানি, আপনিও তাঁদের দুর্বিনীত আচরণে ক্ষুব্ধ এবং বিরক্ত। তথাপি আমার অনুরোধ, আমার এই জীবনযাপনের দুর্দৈবের বিষয় চিন্তা করে আপনি যেন তাদের প্রতি সদয় থাকেন, তাদের হিতার্থে উপযুক্ত মন্ত্রণাদি প্রদান করেন, এই কামনা। গান্ধারতনয়ার আন্তরিক দুঃখের বিষয় আমার অজ্ঞাত ছিল না। কিন্তু সেকথা প্রসঙ্গান্তরে আলোচনা করব। শুধু এইটুকুই বলি, তিনি যদি কুন্তীর ন্যায় স্বতন্ত্রা প্রকৃতির হতেন তবে বৈশ্যাকে অগ্রজের নিকট প্রেরণ করে, স্বয়ং আমার দ্বারা পুত্রলাভে কাঙ্খিণী হতেন। যুধিষ্ঠিরকে আমার স্বভাব প্রযুক্ত দেখে তিনি তার পিতৃবিষয়ে কিছু অনুমান অবশ্য করে থাকবেন। কিন্তু তিনি গান্ধার কন্যা এবং প্রকৃত আর্যবর্ণীয়া। এই সময় প্রকৃত আর্যবর্ণীয়রা তাঁদের একদার স্বতন্ত্র সংস্কৃতির সত্তা প্রায় পরিত্যাগ করে একপতি পরতন্ত্রতার সংস্কৃতি অবলম্বন করেছিলেন। প্রাচীন সংস্কৃতিগত ধারণা যেমন স্ত্রী গবী ইত্যাদিরা স্বাধীনা, স্বতন্ত্রা, এই মূল্যবোধ ক্রমশ তখন আর্য সমাজে পরিবর্তিত হচ্ছিল। কিন্তু মিশ্রবর্ণ বা অনার্য সমাজে তখনও এ প্রথা প্রচলিত।

গান্ধারী আমার বা যুধিষ্ঠিরের অনুরূপ একটি পুত্রলাভে ইচ্ছুক ছিলেন। কিন্তু এসব অভ্যন্তরীণ তথ্য তো যজ্ঞদত্তকে বলার নয়, তাই ধৃতরাষ্ট্র সম্পর্কীয় আলোচনায় আমি আর অধিক হলাম না। পরন্তু যজ্ঞদত্তের কাছ থেকে তাঁদের বর্তমান অবস্থার কথা এবং যুদ্ধশেষের ঘটনাবলি সম্পর্কে সংবাদাদি শ্রবণে ব্রতী হলাম।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *