তাও তে চিং (সঠিক পথের বৃত্তান্ত)

তাও তে চিং (সঠিক পথের বৃত্তান্ত)

অধ্যায় ১ – তাওয়ের স্বরূপ

যে তাও অনুসরণ করা যায় সেটা
চিরস্থায়ী এবং অপরিবর্তনীয় তাও নয়।
যে নাম ডাকা যায় তা চিরস্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় নাম নয়।

২.

নাম নাই ধারণার ভিত্তিতে সে স্বর্গ ও মর্ত্যের স্রষ্টা;
নাম আছে ধারণার ভিত্তিতে সে সকল বস্তুর জনক।

৩.

এর গভীর রহস্য বুঝতে হলে,
আমাদেরকে কামনা ত্যাগ করতে হবে;
কিন্তু কামনা যদি সর্বদা আমাদের মধ্যে থাকে,
এর বহিরাবরণই কেবল আমরা দেখতে পাবো।

৪.

এ দুই দৃষ্টিকোন থেকে এটা আসলে একই জিনিস;
কিন্তু ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষাপটে তা বিভিন্ন নাম পরিগ্রহ করে।
এগুলোকে আমরা একসাথে রহস্য বলে থাকি।
যেখানে রহস্য সবচেয়ে গভীর,
সেখানেই থাকে সূক্ষতা ও বিস্ময়ের ফটক।

অধ্যায় ২ – ব্যক্তির পুষ্টি

১. বিশ্বের সবাই সুন্দরের সৌন্দর্যের কথা জানে,
এবং এ-থেকে তারা ধারণা পায় অসুন্দর কেমন;
তারা সবাই দক্ষের দক্ষতা সম্পর্কে জানে,
এবং এ-থেকে দক্ষতার অভাব বিষয়েও ধারণা পায়।

২.

সুতরাং অস্তিত্ব ও তার অভাব
একে অপরের সম্পর্কে ধারণা দেয়;
সহজ ও কঠিন একে-অন্যের ধারণা সঞ্চারিত করে;
দৈর্ঘ্য ও হ্রস্বতা একটি অপরটির পরিমাপক।
উচ্চতা ও নীচত্ব একে অপরের বৈপরীত্য থেকে উদ্ভুত;
পরস্পরের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমেই
সঙ্গীতের সুর ও ছন্দ ভারসাম্যপূর্ণ হয়।
এবং সম্মুখ ও পশ্চাৎ হতে ধারণা পাওয়া যায়
একটি অপরটিকে অনুসরণ করছে।

৩.

তাই ঋষি কোনো কিছু না করেই তার কার্যাবলী সম্পন্ন করে,
এবং ভাষার প্রয়োগ ছাড়াই নির্দেশ প্রদান করে।

৪.

সকল জিনিসেরই আবির্ভাব ঘটে,
এবং একটি বস্তুও নেই যা নিজেকে প্রদর্শন থেকে নিবৃত্ত হয়;
তারা বৃদ্ধি পায়,
কিন্তু তাদের মালিকানা সম্পর্কে কোনো দাবি আসে না;
তারা তাদের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়,
কিন্তু ফলাফলের জন্য পুরস্কারের কোনো আশা থাকে না।
কাজ সম্পন্ন হলে বিশ্রামের (সফলতার পুরস্কার হিসেবে)
কোনো অবকাশ নেই।
কাজ সম্পন্ন হয়, কিন্তু কীভাবে কেউ তা দেখতে পায় না।
এভাবেই সেই শ্রান্তিবিহীন শক্তির সৃষ্টি।

অধ্যায় ৩ – মানুষকে বিশ্রামে রাখা

১.

শ্রেয় গুণাবলীর মানুষদেরকে মূল্য না দিয়ে নিয়োজিত না করা
একে অপরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে
বিরত রাখার একটি উপায়;
যেসকল বস্তু সংগ্রহ করা দুষ্কর, সেগুলোকে গুরুত্ব না দেওয়া
চোর হয়ে পড়া হতে রক্ষা পাওয়ার একটি উপায়;
যা দেখালে অন্যের কামনা জাগ্রত হয় তা প্রদর্শন না করা
অপরের মনকে বিশৃঙ্খল হওয়া থেকে রক্ষার একটি উপায়।

২.

তাই ঋষি সরকার পরিচালনাকারীদের মন শূন্য করেন,
উদর পূর্ণ করেন, ইচ্ছাশক্তি দুর্বল করেন,
এবং অস্থি মজবুত করেন।

৩.

তিনি তাদেরকে সরল ও কামনাশূন্য রাখতে
নিরন্তর প্রয়াস চালান,
এবং যেসব ব্যক্তির জ্ঞান আছে
তাদেরকে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত রাখেন।
প্রয়াস ব্যতীত ক্রিয়ার মাধ্যমেই শৃঙ্খলা হয় সাৰ্বজনীন।

অধ্যায় ৪ – ফোয়ারাহীন

১.

তাও হলো একটি পাত্রের শূন্যতার মতো,
কিন্তু পূরণ না করেই এটা অনাদিকাল ব্যবহার করা যায়।
এর প্রয়োগের সময় যাবতীয় পরিপূর্ণতা সম্পর্কে সাবধান হতে হবে।
এটা এত সুগভীর ও দুয়ে যে তা সকল বস্তুরই উৎস।

২.

আমাদের সকল শানিত বিন্দুকে মসৃণ করতে হবে,
বস্তুর জটিলতার রহস্য উন্মোচন করতে হবে;
নিজেদের উজ্জ্বলতা হ্রাস করতে হবে
এবং অন্যের অস্পষ্টতার সঙ্গে সমন্বয় ঘটাতে হবে।
তাওয়ের মধ্যে এমন এক বিশুদ্ধতা ও স্থিরতা আছে
যা অনন্তকাল বিরাজ করে!

৩.

আমি জানি না সে কার পুত্র।
তাকে আমাদের আদি পূর্বপুরুষের চাইতেও পূর্বেকার মনে হয়।

অধ্যায় ৫ – শূন্যতার প্রয়োগ

১.

স্বর্গ ও মর্ত্য হিতসাধনের আকাঙ্ক্ষা থেকে কোনো কিছু করে না;
খড়ের কুকুরের সাথে যেমন আচরণ করা হয়,
তারা সবকিছুর সঙ্গে তদ্রুপই আচরণ করে;
হিতৈষী হওয়ার কোনো বাসনা থেকে ঋষিরা কাজ করে না;
খড়ের কুকুরের সাথে যেমন আচরণ করা হয়,
তারা মানুষের সঙ্গেও তদ্রুপই আচরণ করে।

২.

স্বর্গ ও মর্ত্যের মধ্যবর্তী শূন্যতাকে কি হাপরের সাথে
তুলনা করা যায় না?
‘এটাকে খালি করা হয়, তবু তার শক্তি ক্ষয় হয় না;
এটাকে সরালে আরো বেশি প্রবাহিত হয়।
বেশি কথার মূল্য কম হয়;
তোমার ভেতরের সত্তাকে তাই কেন্দ্রমুখী কর।

অধ্যায় ৬ – বস্তুর আকার

১.

উপত্যকার আত্মার কখনো মৃত্যু হয় না;
রমনীয় রহস্য আমরা তাকেই বলি।
এর ফটক, যা থেকে মানুষ প্রথম নির্গত হয়,
তাকে বলা হয় সেই শেকড়, যা থেকে স্বর্গ ও মর্ত্যের সৃষ্টি।

২.

এটা ঝাপসা দেখা যায়, কিন্তু সর্বত্র বিরাজমান,
এর শক্তি থাকে সুবিস্তৃত এবং ভঙ্গুরতাবিহীন;
এ থেকে তুমি যত ইচ্ছা নাও, কিন্তু কখনো তা ফুরোবে না।

অধ্যায় ৭ – আলোর আবরণ

১.

স্বর্গ হলো দীর্ঘস্থায়ী, আর ধরিত্রী সুদীর্ঘকাল বিরাজ করে।
স্বর্গ ও ধরিত্রীর দীর্ঘকাল টিকে থাকার কারণ
তারা নিজে থেকে বা নিজের জন্য বাঁচে না।
এভাবেই তারা অস্তিত্ব বজায় রাখে এবং টিকে থাকে।

২.

ঋষি নিজেকে সবার শেষে স্থাপন করে,
তবু তাকে সর্বাগ্রে পাওয়া যায়;
সে নিজেকে এমনভাবে প্রত্যক্ষ করে যেন তা বাহ্যিক কিছু,
তবু সেই সত্তাটি সংরক্ষিত থাকে।
তার লক্ষ্যসমুহ অর্জিত হওয়ার কারণ কি
তার ব্যক্তিগত কামনার অনুপস্থিতি?

অধ্যায় ৮ – প্রসন্ন ও পরিতৃপ্ত প্রকৃতি

১.

সর্বোত্তম উৎকর্ষ হলো জলের অনুরূপ।
জলের উৎকর্ষ প্রদর্শিত হয় সকল বস্তুর মঙ্গলসাধনে,
কোনো প্রয়াস ব্যতীত (বরং তার উল্টো)
নীচু স্থানে বিরাজ করার মাধ্যমে
–যা মানুষের অপছন্দ।
তাই তার পথ তাওয়ের সন্নিকটে।

২.

একটি বাসস্থানের উৎকর্ষ নিহিত আছে স্থানটির উপযোগিতায়;
মনের উৎকর্ষ নিহিত আছে তার স্থিরতায়;
সঙ্গলাভের ক্ষেত্রে তা নির্ভর করে
গুণীদের সন্নিকটবর্তী হওয়ার উপর;
সরকারের ক্ষেত্রে তা শৃঙ্খলা বজায় রাখার উপর নির্ভরশীল;
ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তা নির্ভর করে দক্ষতার উপর;
আর যে কোনো পদক্ষেপ তার সময়োপযোগিতার উপর।

৩. যখন সর্বোৎকৃষ্ট কেউ তার নীচু অবস্থানের ব্যাপারে
অনুযোগ করে না,
তখন তার মধ্যে কেউ দোষ খুঁজে পায় না।

অধ্যায় ৯ – সাফল্যে পরিপূর্ণতা ও সন্তুষ্টি

১.

পরিপূর্ণ অবস্থায় বহন করার পরিবর্তে
একটি পাত্রকে অপূর্ণ অবস্থায় বহন করাই শ্রেয়।
কেউ যদি একটি ধারালো বিন্দুকেই বারবার স্পর্শ করে,
সে বিন্দু তার ধার বজায় রাখতে পারে না।

২.

যখন স্বর্ণ ও সবুজ পাথরে কক্ষ পূর্ণ থাকে,
তাদের মালিক সেগুলোকে নিরাপদ রাখতে পারে না।
যখন ঐশ্বর্য এবং সম্মান ঔদ্ধত্যের জন্ম দেয়,
তাতে অশুভেরই উৎপত্তি হয়।
কর্ম যখন সমাধা হয়, এবং কারো নামে যখন ব্যুৎপত্তি আসে,
তখন অখ্যাতির আড়ালে হারিয়ে যাওয়াই হলো স্বৰ্গীয় পন্থা।

অধ্যায় ১০ – লুক্কায়িত গুণ

১.

মাথায় সক্রিয় জীবনের বোঝা বহন করতে করতে
তুমি কি দেহ ও আত্মার সাথে নিজের আলিঙ্গন
ধরে রাখতে পারবে?
প্রাণশক্তির নিঃশ্বাসের উপর অখণ্ড মনোযোগ স্থাপন করে
তুমি কি তাকে নবজাত শিশুর মতো কোমল করতে পারবে?
নিজের ভেতরকার আয়না পরিষ্কার করতে গিয়ে
তুমি কি তাকে দাগহীন রাখতে পারবে?

২.

মানুষকে ভালোবাসতে এবং রাষ্ট্রকে শাসন করতে গিয়ে
তুমি কি চতুরতা ত্যাগ করতে পারবে?
স্বর্গের ফটক উন্মুক্ত ও রুদ্ধ করতে গিয়ে
তুমি কি মাতৃ-পাখীর মতো হতে পারবে?
তোমার অন্তর্দৃষ্টি দ্বারা চতুর্মাত্রিকতা ভেদ করার পর
তুমি কি সরল থাকতে পারবে?

৩.

মানুষের বাঁচার প্রয়াসে সহায়তা দাও; তার পুষ্টিবর্ধন কর।

৪.

তাও সবকিছু সৃষ্টি করে এবং সেগুলোকে পুষ্টি দেয়;
সবাইকে বাঁচতে সাহায্য করে,
কিন্তু তাদের মালিকানা দাবি করে না।
মঙ্গল সাধন করে, কিন্তু কোনো কৃতজ্ঞতা আশা করে না;
পথ-প্রদর্শন করে, কিন্তু কাউকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে না।
একেই বলে (তাওয়ের) লুক্কায়িত গুণ।

অধ্যায় ১১ – যার সুনির্দিষ্ট অস্তিত্ব নেই তার প্রয়োগ

১.

চাকার ত্রিশটি দণ্ড চক্ৰনাভিতে মিলিত হয়;
কিন্তু চাকার ব্যবহার নির্ভর করে
(অক্ষদণ্ডের জন্য) শূন্য স্থানটির উপর।
মাটি দিয়ে পাত্র প্রস্তুত হয়;
কিন্তু এর ব্যবহার নির্ভর করে ভেতরকার শূন্যতার উপর

২. একটি গৃহ তৈরির জন্য (দেয়ালে)
দরজা ও জানালা কাটা হয়,
কিন্তু এর ব্যবহার নির্ভর করে ভেতরের জায়গাটির উপর।
অতএব, যা আছে তা থেকে সুবিধা আদায় করা যায়,
আর যা নেই তা থেকে ব্যবহারোপযোগিতার সৃষ্টি হয়।

অধ্যায় ১২ – কামনা দমন

১.

রং-এর পাঁচটি ছটা চোখকে নিষ্প্রভ করে;
সুরের পাঁচটি ছন্দ কানে তালা ধরায়;
পাঁচ রকম গন্ধ মুখের স্বাদ ভোঁতা করে;
ঘোড়দৌড় ও শিকারাভিযান মনকে উন্মত্ত করে;
আর মূল্যবান বস্তু মানুষকে পাপের দিকে ধাবিত করে।

২.

ঋষি তাই পেটের ক্ষুধা নিবৃত্ত করতে সচেষ্ট হন,
চোখের চির-অতৃপ্ত দৃষ্টি নিয়ে মাথা ঘামান না।
তিনি দ্বিতীয়টিকে মন থেকে ঝেড়ে ফেলেন,
এবং প্রথমটিকে শ্রেয় মনে করেন।

অধ্যায় ১৩ – সমাদর, অপমান ও দেহের মালিকানা

১.

সমাদর ও অপমানকে সমভাবে ভয় পাওয়া বাঞ্ছনীয়।
দেহের মালিকানাবোধের কারণেও মহাসংকটের সৃষ্টি হয়।

২.

সমাদর ও অপমানকে ভয় পাওয়ার অর্থ কী?
সমাদর প্রাপ্তি হতে সৃষ্টি হয় তা হারানোর উদ্বেগ
আর অপমানিত হলে সৃষ্টি হয় আরো দুর্যোগের আশঙ্কা।
এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে সমাদর ও অপমান
উভয়কেই সমভাবে ভয় পাওয়া উচিত।

৩.

আর দেহ থেকে মহাসংকটের সৃষ্টি হওয়ার অর্থ কী?
যা তোমাকে হুমকির মুখে ফেলে তা হলো
তোমার শরীরের উপর মালিকানাবোধ (নিজের হিসেবে মনে করা)
এবং এ থেকে উদ্ভূত আত্মসচেতনতা।
নিজ দেহের মালিকানাবোধ থেকে মুক্ত একজন মানুষ
কখনো সংকটে পড়তে পারে না।

৪.

অতএব তোমার ব্যক্তিস্বার্থকে পরিপূর্ণভাবে বিসর্জন দাও।
নিজেকে যতটুকু ভালোবাস,
অন্যদেরকেও ঠিক ততোটুকু ভালোবেসো।
তাহলে স্বর্গের নীচে সব বিষয়ে তোমার উপর নির্ভর করা যাবে।

অধ্যায় ১৪ – রহস্যের প্রকাশ

১. আমরা তার দিকে তাকাই, তাকে দেখতে পাই না,
এবং তার নাম দিই ‘অপরিবর্তনীয়’।
আমরা তাকে শোনার চেষ্টা করি, কিন্তু শুনি না,
এবং তার নাম রাখি ‘অশ্রবণীয়’।
আমরা তাকে বোঝার চেষ্টা করি, কিন্তু তাকে ধরতে পারি না,
এবং তার নাম রাখি ‘নিগূঢ়’।
এ তিনটি গুণ নিয়ে, তাকে কোনো বর্ণনার বিষয়বস্তুতে
পরিণত করা যায় না;
ফলে আমরা সবকিছুকে একসাথে মেশাই এবং পাই একটি একক।

২.

এর উপরের অংশ উজ্জ্বল নয়, এর নীচের অংশ অস্পষ্ট নয়।
ক্রিয়ায় বিরতিহীন, তবু এর নাম দেয়া যায় না,
এটা আবার ফিরে আসে এবং অস্তিত্বহীনে পরিণত হয়।
একেই বলে নিরাকারের আকার, এবং অদৃশ্যের আভাস;
একেই বলে ক্ষণকালীন এবং অনির্ণেয়।

৩.

আমরা এর সাথে সাক্ষাৎ করি কিন্তু
এর সম্মুখভাগ দেখতে পাই না;
আমরা একে অনুসরণ করি, কিন্তু এর পশ্চাদ্ভাগ দেখতে পাই না।
আমরা যখন বর্তমানের বিষয় পরিচালনার জন্য
অতীতের তাওয়ের শরণাপন্ন হই,
এবং আদিতে তার রূপ সম্পর্কে জানতে পারি,
তখনই তাওয়ের যোগসূত্রের উন্মোচন হয়।

অধ্যায় ১৫ – গুণের প্রদর্শন

১.

(তাওয়ের) প্রাচীন ঋষিরা ছিল সুক্ষ,
রহস্যময় ও গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন:
তাদের গভীরতা মাপা যেতো না।
আমরা কেবল তাদের বাহ্যিক প্রতিকৃতির কথা বর্ণনা করতে পারি।

২.

তারা ছিল শীতের ঝর্ণা পাড়িদাতার মতো দ্বিধাগ্রস্ত;
তাদের ছিল সতর্ক দৃষ্টি, চারপাশের প্রতিবেশীদের ব্যাপারে সচেতন;
তারা ছিল বেড়াতে আসা অতিথির মতো অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল;
গলে যাওয়া বরফের মতো ছাড়দানকারী;
কাটা হয়নি এমন কাঠের মতো সরল;
উপত্যকার মতো উন্মুক্ত;
এবং কর্দমাক্ত পানির মতো অনুজ্জ্বল।

৩.

তারা ছাড়া আর কে-ই বা স্থির থেকে
কর্দমাক্ত পানিকে পরিষ্কার হতে দেবে?
আর কে-ই বা স্থিরতা বজায় রেখে
ধীরে ধীরে প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে?

৪.

যারা তাওয়ের পথে অটল থাকতে চায়,
তারা নিজেদেরকে উপচানো পাত্রের মতো পূর্ণ করতে চায় না।
পূর্ণতা প্রাপ্তির চেষ্টা না করায়
তাদেরকে একই সাথে ক্ষয়িষ্ণু ও নতুন মনে হয়।

অধ্যায় ১৬ – শেকড়ে প্রত্যাবর্তন

১.

শূন্যতার অবস্থাকে সর্বোচ্চ মাত্রায় উন্নীত করতে হবে, এবং স্থিরতাকে
ক্লান্তিহীন বলিষ্ঠতা দিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে।
প্রতিটি বস্তুই তার কর্ম-প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয় এবং (তারপর)
আমরা তাদেরকে পূর্বাবস্থায় ফিরে আসতে দেখি।
উদ্ভিদ জগতে কোনো বস্তু ফলবান প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর
শেকড়ে প্রত্যাবর্তন করে।
এই শেকড়ে প্রত্যাবর্তনকেই আমরা বলি স্থিরতার অবস্থা।
স্থিরতার মাধ্যমে মানুষ তার নিয়তি বা অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করে।
এর মাধ্যমে সে অপরিবর্তনীয়ের অংশ হয়।
এ বিষয়ে সচেতন হলে মানুষ জেগে ওঠে।

২.

প্রকৃতির রীতি হলো অপরিবর্তনীয়।
এ অপরিবর্তনীয় রীতির কথা জানলে সুগভীর অন্তর্দৃষ্টির সৃষ্টি হয়;
এটা না জানলে বিশৃঙ্খলা ও দুর্যোগ দেখা দেয়।

৩.

এ অপরিবর্তনীয় রীতির জ্ঞান
মনকে উন্মুক্ত ও হৃদয়কে উদার করে,
যা হতে সৃষ্টি হয় সকল বস্তুর সাথে একাত্মতার অনুভূতি।
এই একাত্মতাবোধ থেকে উদ্ভূত হয় রাজসিক চরিত্র;
এবং রাজসিক ব্যক্তি কালক্রমে হয়ে ওঠে ঐশ্বরিক।
ঐশ্বরিক রীতির সাথে সাযুজ্যতার কারণে
সে তাওয়ের অধিকারী হয়।
তাওয়ের অধিকারী হয়ে সে চিরকাল বেঁচে থাকে।
দেহের মৃত্যু হলেও তাওয়ের কখনো মৃত্যু হয় না।

অধ্যায় ১৭ – নির্ভেজাল প্রভাব

১.

তিনিই হলেন সেরা শাসক যার অস্তিত্ব মানুষ অল্পই টের পায়।
এরপর আসে তারা যাদেরকে মানুষ ভালোবাসে এবং প্রশংসা করে।
এরপর আসে সেসব শাসক যাদেরকে মানুষ ভয় পায়।
সবশেষে আসে তারা যাদেরকে মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।

২.

তুমি যদি কাউকে বিশ্বাস না কর,
তোমাকেও কেউ বিশ্বাস করবে না।

৩.

অকপট শাসকেরা হালকাভাবে শব্দ উচ্চারণ করে না।
যখন তাদের লক্ষ্য অর্জিত ও কাজ সমাধা হয়,
তখন জনগণ বলে, ‘এটা স্বাভাবিকভাবেই ঘটেছে’।

অধ্যায় ১৮ – আচরণের ক্ষয়

১.

যখন মহান তাও (পন্থা বা পদ্ধতি) দৃষ্টির বাইরে চলে যায়,
তখন হিতাকাঙ্ক্ষা ও ন্যায়নিষ্ঠার আবির্ভাব ঘটে।
 প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা আবির্ভূত হওয়ার পর শুরু হয়
ব্যাপক মাত্রার কপটতা।

২.

যখন পরিবারে কোনো সৌহার্দ্য থাকে না,
সন্তানদের আচরণেও তার প্রতিফলন দেখা যায়।
যখন রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তি দেখা দেয়,
তখন বিশ্বস্ত মন্ত্রিদের আবির্ভাব ঘটে।

অধ্যায় ১৯ – নির্ভেজাল প্রভাবে প্রত্যাবর্তন

১.

জ্ঞানী সাজা থেকে বিরত থাকলে
তোমার সমস্যা তিরোহিত হবে।
বিচক্ষণতা ও চতুরতা ত্যাগ কর,
তাহলে জনগণ শতগুণ উপকৃত হবে।

২.

হিতসাধনের সংকল্প এবং নৈতিক বিবেচনা পরিত্যাগ কর,
তাহলে জনগণ দায়িত্বশীল ও দয়ালু হয়ে উঠবে।

৩. ধূর্ততা ও লাভের ফন্দি-ফিকির বর্জন কর,
তাহলে চোর ও ডাকাতেরা বিলুপ্ত হবে।

৪.

উপরের তিনটি ভ্রান্ত ভূষণ
সুষ্ঠুভাবে জীবন নির্বাহের অনুকূল নয়।
এগুলোকে আরো মজবুত কিছু দিয়ে প্রতিস্থাপন কর।
সরলতা ও খাঁটি পন্থা অবলম্বন কর।
স্বার্থপরতা হ্রাস ও কামনা দমন কর।

অধ্যায় ২০ – সাধারণ মানুষের চেয়ে ভিন্নতর

১. আমরা যখন শেখা বন্ধ করি
তখন আমাদের কোনো সমস্যা থাকে না।
তাৎক্ষণিক ‘হাঁ’ এবং তোষামোদির ‘জ্বী’-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
শুভ এবং অশুভ’র মধ্যেই বা কতটুকু পার্থক্য?
অন্যেরা ভয় পেলে আমিও কি ভয় পাবো?
এসব প্রশ্নের বিস্তৃতি যে অসীম!

২.

অধিকাংশ মানুষকেই সন্তুষ্ট ও সুখী মনে হয়;
তারা এমন ভাব করে যেন একটি ভোজ উপভোগ করছে,
যেন বসন্তের একটি চূড়ার উপর তারা উপবিষ্ট।
আমি একাই যেন নিথর ও স্থির হয়ে আছি,
আমার বাসনা তাদের উপস্থিতির বিষয়ে
কোনো ইঙ্গিত দেয় না।
আমি একটি শিশুর মতো, যে কিনা এখনো হাসে নাই।
আমাকে মনে হয় হতাশ ও পরিত্যক্ত,
যেন আমার যাওয়ার কোনো বাড়ি নাই।
অধিকাংশ মানুষেরই পর্যাপ্ত আছে, এমনকি অতিরিক্তও।
আমি একাই যেন সবকিছু হারিয়েছি।
আমার মন একটি নির্বোধের মতো;
আমি এক বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকি।

৩.

সাধারণ মানুষকে মনে হয় উজ্জ্বল ও বুদ্ধিমান।
কেবল নিজেকেই আমার আঁধারে নিমজ্জিত মনে হয়।
তাদের পার্থক্য নিরুপণের ক্ষমতা আছে,
কেবল আমিই বোধহীন ও কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
মনে হয়, আমি যেন সাগরে ভেসে চলেছি,
যেহেতু আমার বিশ্রামের কোনো স্থান নাই।

৪.

সকল মানুষেরই কর্মের বলয় আছে,
কেবল আমিই যেন বোধহীন ও অক্ষম
এক রূঢ় প্রান্তজনের মতো।
(তাই) অন্যান্য মানুষের চেয়ে আমি ভিন্নতর;
তবুও আমি মহান (তাও) দ্বারা পরিপুষ্ট।

অধ্যায় ২১ – শূন্য হৃদয়

১.

তাও, এবং শুধুমাত্র তাওকে অনুসরণ করাই
সবচেয়ে বড় গুণ।
কে-ই বা তাওয়ের প্রকৃতি সম্পর্কে বলতে পারে?

২.

তাও আমাদের দৃষ্টি ও স্পর্শকে এড়িয়ে চলে,
অথচ এর মধ্যেই লুক্কায়িত আছে সকল বস্তুর অবয়ব।
এটা অত্যন্ত সুগভীর, তমসাচ্ছন্ন ও ঝাপসা;
তবু সকল বস্তুর নির্যাস সেখানে বিরাজ করে।
এই নির্যাসের মধ্যেই সত্য লুকিয়ে আছে,
সেটা কী, যখন দৃশ্যমান হবে তখন বলা যাবে।
এখন এটা এরকমই; অতীতেও তা-ই ছিল;
এর নাম– যা অপসৃত হয় না।
তাই, এর চমৎকার বিন্যাসে
বস্তুর সৃষ্টি হয় এবং কখনো ক্ষয় হয় না।

৩.

সৃষ্টির সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত
তাও-এর নির্দেশনা বলবৎ আছে।
কীভাবে জানবো জীবনের শুরুতে এটা কেমন ছিল?
আমার ভেতরে যা আছে তার মাধ্যমে।

অধ্যায় ২২ – বিনয়ের নিশ্চিত বিকাশ

১.

ছাড় দিলে জয় হয়; বাঁকা হলে সোজা হওয়া যায়।
শূন্যতা থেকে পূর্ণতা আসে; খয়ে যাওয়া বস্তু নতুনত্ব পায়।
অল্প পেলে লাভ হয়; বেশি পেলে বিভ্রান্তি আসে।

২.

তাই সত্যিকারের মানুষ একক সত্তাকে বরণ করে
এবং সবার জন্য আদর্শ হয়।

৩.

শুধু নিজের দিকে তাকিও না,
তাহলে অনেক কিছু দেখতে পাবে।
নিজের ন্যায্যতা জাহির কোরো না, তাহলে বিশিষ্টতা অর্জন করবে।
বড়াই কোরো না, তাহলে তোমার মেধা স্বীকৃত হবে।
গর্ব কোরো না, তাহলে তোমার কর্ম টেকসই হবে।

৪.

কোনো প্রয়াস না চালালে বিশ্বের কেউ তোমার সাথে
প্রতিযোগিতায় পারবে না।

৫.

প্রাচীনদের সেই উক্তি ‘ছাড় দাও এবং জয় কর’
কোনো ফাঁকা বুলি নয়।
জীবনের সাথে মিশে গেলেই সত্যিকারের পরিপূর্ণতা আসে।
সত্যিকারের একক হও, তাহলে সবকিছু তোমার দিকেই আসবে।

অধ্যায় ২৩ – পরিপূর্ণ শূন্যতা

১. কথা বলা থেকে যে বিরত থাকে সে তার প্রকৃতির স্বতঃস্ফূর্ততাকে
মান্য করে।
একটি ঝোড়ো বাতাস সারা সকাল জুড়ে প্রবহমান থাকে না;
হঠাৎ বৃষ্টি সারাদিন টিকে থাকে না।
এ-দুটো জিনিস কার কাছে বাঁধা? স্বর্গ ও পৃথিবীর কাছে।
স্বর্গ ও পৃথিবী যদি এ-ধরনের আকস্মিক ক্রিয়া
বেশিক্ষণ স্থায়ী রাখতে না পারে,
মানুষতো সে তুলনায় অল্পই পারবে!

২.

অতএব যখন কেউ তাওকে বিবেচনা ও অনুসরণ করে,
সে তাওয়ের সাথে একাত্ম হয়;
যারা তার পথের রূপায়নকে তাদের লক্ষ্য ধার্য করে,
তারাও তার সাথে একাত্ম হয়।
যারা গুণবান তারা গুণের স্পর্শ পায়;
আর যারা পথ হারায় তারা হয় ব্যর্থ।

৩.

ফলে, যারা তাওয়ের সাথে একাত্ম হয়,
তাও তাদেরকে স্বাগত জানায়।
যারা গুণের সাথে একাত্ম হয়,
গুণও তাদের মধ্যে বিরাজমান থাকে।
যারা ব্যর্থতার সাথে একাত্ম হয়,
ব্যর্থতাও তাদের সঙ্গী হয়।
যাদের নিজেদের মধ্যে যথেষ্ট বিশ্বাস নেই,
তাদেরকে বিশ্বাস করা হয় না।

অধ্যায় ২৪ – বেদনাদায়ক ভদ্রতা

১.

যে তার পায়ের আঙুলের উপর দাঁড়ায়,
সে স্থির হয়ে দাঁড়াতে পারে না;
যে তার পা’কে প্রসারিত করে, সে সহজভাবে হাঁটতে পারে না।
যে নিজেকে প্রদর্শন করতে চায়, সে দীপ্তিমান নয়;
যে তার নিজের মতামতকে জাহির করে, সে বিশিষ্টতা পায় না।
যে দম্ভ করে, সে তার মেধার স্বীকৃতি পায় না;
যে আত্মগরিমায় ভোগে তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয় না।

২.

তাওয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে এধরণের বৈশিষ্ট্য
মাত্রাতিরিক্ত খাদ্য অথবা শরীরের ফোঁড়ার মতো,
যা সবাই অপছন্দ করে।
অতএব যারা তাওয়ের পথ অনুসরণ করে,
তারা এগুলো পরিহার করে বা হতে দেয় না।

অধ্যায় ২৫ – রহস্যের ইঙ্গিত

১.

স্বর্গ ও পৃথিবীর পূর্বে অসংজ্ঞায়িত
এবং পূর্ণাঙ্গ কিছুর অস্তিত্ব ছিল।
সেটা ছিল স্থির ও নিরাকার, একাকী দণ্ডায়মান এবং অপরিবর্তনীয়,
সর্বব্যাপী এবং (নিঃশেষিত হওয়া থেকে) শংকামুক্ত!
সেটাকে সকল বস্তুর জন্মদাত্রী হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

২.

আমি তার নাম জানি না, এবং তাকে
তাও (পন্থা বা গতিপথ) নামে ডাকি।
তাকে নাম দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে বলি মহান।

৩.

এই মহান সত্তা অনন্ত প্রবাহে অগ্রসর হয়।
অগ্রসর হতে হতে তা দূরবর্তী হয়ে পড়ে।
দূরবর্তী হয়ে তা আবার ফিরে আসে।
অতএব তাও মহান; স্বর্গ মহান; জগৎ মহান; এবং মানুষও মহান।
মহাবিশ্বে চারটি মহান বস্তু আছে; মানুষ তাদের একটি।

৪.

মানুষ জগৎ থেকে তার বিধি-বিধান গ্রহণ করে।
জগৎ তার রীতি স্বর্গ থেকে পায়;
স্বর্গ তার বিধি তাওয়ের কাছ থেকে গ্রহণ করে।
তাওয়ের রীতি হলো সে যা তা-ই।

অধ্যায় ২৬ – মাধ্যাকর্ষণের গুণ

১.

শক্ত কিছুতেই আলোর শেকড় নিহিত;
স্থিরতাই গতিময়তার নিয়ন্ত্রক।

২.

তাই বিজ্ঞ ব্যক্তি সারাদিন হাঁটলেও
মালপত্র থেকে খুব বেশি দূরে যায় না।
যদিও তার সামনে চমৎকার সম্ভাবনারা উঁকি দেয়,
সে সেগুলোর ব্যাপারে নিরাসক্ত থেকে
যথাযথ অবস্থানই বজায় রাখে।

৩.

দশ সহস্র রথের মালিকের কি
একজন সাধারণ ভ্রমণকারীর চেয়েও হালকা আচরণ করা উচিত?
আলো হতে চাইলে শেকড় হারাতে হয়।
অস্থির হলে প্রভূকে হারাতে হয়।

অধ্যায় ২৭ – আচরণে পারঙ্গমতা

১.

কুশলী ভ্রমণকারী তার চাকা অথবা পায়ের ছাপ
পেছনে ফেলে আসে না;
সুযোগ্য বক্তা এমন কিছু বলে না
যাতে ত্রুটি থাকে অথবা দোষ খুঁজে পাওয়া যায়;
দক্ষ হিসাবরক্ষকের টালি ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না;
প্রাজ্ঞ প্রহরীর নাট-বল্টু বা দণ্ডের দরকার হয় না,
যদিও সে যা রুদ্ধ করে তা খোলার সাধ্য কারো নেই;
সুনিপুণ বাঁধাইয়ে কোনো তার বা গিঁট থাকে না,
তবু তা খোলা যায় না।

২.

একই ভাবে মানুষকে রক্ষায় ঋষি সিদ্ধহস্ত,
তাই সে কোনো মানুষকে পরিত্যাগ করে না।
সে দ্রব্যাদি সংরক্ষণে পারঙ্গম,
ফলে সে কোনো কিছু ছুঁড়ে ফেলে দেয় না।
একে বলা হয় ‘ভেতরের আলোকে অনুসরণ করা’।

৩.

ফলে যার দক্ষতা আছে, সে অদক্ষ মানবের শিক্ষক হয়।
আর যার দক্ষতা নাই, সে দক্ষ মানবের কাছে উপাদানের মতো।
তুমি যদি শিক্ষককে সম্মান না কর,
উপাদানকে গুরুত্ব না দাও,
তুমি বিভ্রান্তির পথে এগোবে।
এটা একটি অপরিহার্য সূত্র।

অধ্যায় ২৮ – সরলতায় প্রত্যাবর্তন

১.

পুরুষের অনুরূপ শক্তি অর্জন কর,
কিন্তু নারীর মতো ভদ্রোচিত জীবনযাপন কর;
মহাবিশ্বের ঝর্ণাধারায় পরিণত হও,
আর স্বর্গের নীচে সবকিছু গ্রহণ কর।
তুমি যদি তেমন ঝর্ণাধারা হও
তবে যাবতীয় গুণাবলি তোমার দিকে প্রবাহিত হবে,
আর তুমি পুনরায় সরল শিশুতে রূপান্তরিত হবে।

২.

কে না জানে সাদা কেমন আকর্ষণ করে,
তবু কালোর নীচে সে নিজেকে আগলে রাখে;
বিনয়ের রীতিকে সে প্রদর্শন করে,
আকাশের নীচে সবার দৃষ্টি-সীমানায়;
অপরিবর্তনীয় চমৎকারিত্বে সে স্থির থাকে,
মানবের আদিরূপে বারবার ফিরে যায়।

৩.

কে না জানে গৌরব কেমন দীপ্তিমান থাকে,
তবু সে কালিমার মধ্যে বাঁচে এর মলিনতা সত্ত্বেও;
বিস্তীর্ণ উপত্যকায় তার উপস্থিতি দেখা যায়,
যেখানে আকাশের নীচে সকল মানুষেরা আসে।
অপরিবর্তনীয় চমৎকারিত্ব তার গল্প সমাপ্ত করে;
তার মধ্যকার সরল শিশুকে আমরা সাধুবাদ জানাই।

৪.

অক্ষত বস্তুকে কেটে বা খোদাই করে
বিশেষ যন্ত্রপাতিতে রূপান্তরিত করা হয়।
কিন্তু সত্যিকারের মানব সম্পূর্ণ বস্তুটি ব্যবহার করে;
ফলে সে খণ্ডিত যন্ত্রপাতির প্রভূ হয়ে যায়।

৫.

তাই বলা হয়, ‘সবচেয়ে সুক্ষ খোদাইকারী অল্পই কাটে’।

অধ্যায় ২৯ – ক্রিয়া থেকে বিরত থাকা

১.

যে বিশ্বকে কব্জা করতে চায় সে সফল হবে না;
বিশ্ব একটি পবিত্র পাত্র এবং এতে হাত দেওয়া ঠিক নয়।
কেউ এতে হস্তক্ষেপ করতে গেলে তা নষ্ট হবে;
কেউ একে দখল করতে চাইলে তা হারিয়ে ফেলবে।

২.

তাই সময় আসে এগিয়ে যাওয়ার, সময় আসে পিছিয়ে থাকার;
কখনো হালকাভাবে শ্বাস নেওয়া যায়,
কখনো নিতে হয় গভীরভাবে।
কখনো হতে হয় তেজীয়ান, কখনো থাকতে হয় ভদ্রোচিত;
কখনো সময় হয় জোগাড় করার,
কখনো সময় আসে ছেড়ে দেওয়ার

৩.

তাই প্রকৃত মানব বা ঋষি চরমপন্থা, বাহুল্য
এবং অবাধ ভোগ-বিলাস থেকে বিরত থাকে।

অধ্যায় ৩০ – যুদ্ধের বিরুদ্ধে আইন

১.

যেসব মানুষ তাওয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে চলা
মহান ব্যক্তিদেরকে অনুসরণ করে,
তারা অস্ত্রের জোরে রাজ্যে প্রভুত্ব কায়েম করে না।
তাতে কেবল প্রতিরোধই সৃষ্টি হয়।

২.

যে অস্ত্র ব্যবহার করে সে অস্ত্র দ্বারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সৈন্যরা কোথাও তাঁবু গাড়লে তার চারদিকে
ঝোপ-ঝাড় ও কাঁটা গজায়।
পরাক্রমশালী সেনাবাহিনীর পশ্চাতেই আসে শস্য উৎপাদনে ধস।

৩.

একজন কুশলী ব্যক্তি চূড়ান্ত আঘাত করে থেমে যায়;
বিজয়জনিত সুবিধাজনক অবস্থার সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার সে করে না।
সে সমাপ্তি টানে, কিন্তু অহংকারী, দাম্ভিক বা উদ্ধত হয় না।
সে প্রয়োজনে আঘাত করে, যখন আর কোনো উপায় থাকে না।
সে সমাপ্তি টানে, কিন্তু তা সহিংসতার মাধ্যমে নয়।

৪.

যখন শক্তি প্রয়োগ করা হয়, তখন যৌবন-শক্তি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
একে তাওয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বলা যাবে না।
আর যা কিছু তাওয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়,
তার অচিরেই পরিসমাপ্তি ঘটে।

অধ্যায় ৩১ – যুদ্ধ থেকে বিরত হওয়া

১.

অস্ত্র সুন্দর হলেও তা অশুভের হাতিয়ার
এবং সকল জীবের কাছে ঘৃণ্য বস্তু।
তাই যাদের কাছে তাও আছে তারা এর প্রয়োগ অপছন্দ করে।

২.

উত্তম মানবেরা সাধারনত তাদের বাম হাতকে
সর্বাপেক্ষা সম্মানজনক অঙ্গ বিবেচনা করে।
কিন্তু যুদ্ধের সময় সেটা হয়ে পড়ে ডান হাত।
ধারালো অস্ত্র অশুভের বার্তা বহন করে
এবং তা উঁচুমানের মানুষের উপযুক্ত নয়;
একান্ত প্রয়োজন হলেই কেবল তা ব্যবহার করা উচিত।

৩.

প্রশান্তি ও নীরবতাকেই উত্তম মানব সবচেয়ে বেশি মূল্য দেয়;
অস্ত্রের জোরে বিজয় অর্জন তার কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত।
এটাকে কাঙ্ক্ষিত হিসেবে বিবেচনা করলে
তা মানুষ হত্যায় আনন্দিত হওয়ার সমতুল্য হতো;
আর যে মানব হত্যায় আনন্দিত হয়, সে রাজ্যে সফল হতে পারে না।

৪.

উৎসবের সময় বাম দিকে অবস্থান করাটাই কাঙ্ক্ষিত;
আর শোকের সময় ডানদিকে।
সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় অধিনায়কের স্থান বামে।
সেনা অধিনায়ক থাকেন ডান দিকে।
তার অবস্থানটি শোকের সময়ে কাঙ্ক্ষিত স্থানের সঙ্গে সমতুল্য।

৫.

যে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে,
তার উচিত তাদের জন্য গভীর শোকে কাঁদা।
যে সেনাবাহিনী মানুষ হত্যা করে
তাকে দুঃখের সঙ্গে বরণ করা উচিত।
আর বিজয়ীদেরকে বরণ করা উচিত শোকের আনুষ্ঠানিকতায়।

অধ্যায় ৩২ – প্রাজ্ঞোচিত গুণ

১.

অপরিবর্তনীয় হিসেবে বিবেচিত তাওয়ের কোনো নাম নেই।

২.

যদিও আদি সারল্যে তাকে ক্ষুদ্র মনে হতে পারে,
সমগ্র বিশ্বও তার প্রতিনিধিত্বকারী কারো সাথে
মোকাবিলা করার সাহস পায় না।
যদি কোনো সামন্তবাদী রাজপুত্র বা রাজা তাকে পাহারা দিত
বা ধরে রাখতে পারতো,
সকলে স্বতস্ফূর্তভাবে তার কাছে আত্মসমর্পণ করতো।

৩.

তার প্রভাবে স্বর্গ ও মর্ত্য একীভূত হয় এবং
নীচে শিশির প্রেরিত হয়।
এগুলো মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বপ্রণোদিত হয়ে
সর্বত্র সমভাবে পৌঁছে।

৪.

যখনই সে ক্রিয়াশীল হয়, তার একটি নাম থাকে।
তার যখন নাম থাকে, মানুষ তখন তাতে স্থির থাকতে পারে।
তারা যখন তাতে আস্থা রাখে,
সকল ব্যর্থতা ও ত্রুটির ঝুঁকি থেকে মানুষ মুক্ত হয়।

৫.

তাওয়ের সাথে সমগ্র বিশ্বের সম্পর্ক
বিশাল নদী বা সমুদ্রের বিপরীতে
উপত্যকায় প্রবাহিত ঝর্ণার সাথে তুলনীয়।

অধ্যায় ৩৩ – বিভিন্ন গুণাবলীর পার্থক্য নিরূপণ

১.

যে অন্য মানুষকে জানে সে প্রাজ্ঞ।
যে নিজেকে জানে সে বুদ্ধিমান।
যে অন্যকে অতিক্রম করে সে শক্তিশালী।
যে নিজেকে অতিক্রম করে সে পরাক্রমশালী।
যে নিজের ভাগ্য নিয়ে সন্তুষ্ট সে সম্পদশালী।
যে উদ্যম সহকারে কাজ করে যায়,
তার ইচ্ছাশক্তি মজবুত

২.

যে তার অবস্থানের চাহিদা অনুযায়ী চলতে ব্যর্থ হয় না,
সে দীর্ঘকাল বিরাজ করে।
যে মৃত্যুবরণ করেও নিঃশেষিত হয় না, সে দীর্ঘায়ু।

অধ্যায় ৩৪ – সিদ্ধিলাভ

১.

মহান তাও সর্বত্র বিস্তৃত!
তাকে বাম এবং ডান উভয় পাশেই পাওয়া যায়।

২.

উৎপাদনের জন্য সবকিছু তার উপর নির্ভরশীল;
সবাইকে সে দেয়, তবে তাকে নয় যে অবাধ্য থাকে।
তার কাজ যখন সমাধা হয়,
সে এর কৃতিত্ব দাবি করে না।
সে সবকিছুকে একই বস্ত্রে আবৃত করে,
এবং সে যে তাদের প্রভু এ-নিয়ে কোনো ভান করে না;
সবচেয়ে ক্ষুদ্রাকৃতির বস্তুতেও তার অবদান আছে।
সকল কিছুই তাদের শেকড়ে প্রত্যাবর্তন করে ও হারিয়ে যায়,
কিন্তু তারা জানে না তাদের কাজের পেছনে সে-ই নজরদারি করে;
সবচেয়ে বৃহৎ বস্তুতেও তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়।

৩.

তাই ঋষি (একইভাবে) তার বিশাল সফলতাসমূহ
অর্জন করতে পারে।
সে নিজেকে মহান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত না করেই এটা অর্জন করে।

অধ্যায় ৩৫ – পরহিতৈষীর গুণাবলী

১.

যে তাওয়ের (অদৃশ্য) সুমহান প্রতিচ্ছবি হস্তে ধারণ করে,
সমগ্র পৃথিবী তার নিকট শুদ্ধ হয়।
মানুষ তার কাছে যায়, কিন্তু কোনো আঘাত পায় না।
বরং সে খুঁজে পায় বিশ্রাম, শান্তি ও আরাম।

২.

সংগীত ও সুখাদ্য ভ্রমণরত মুসাফিরকে
কিছু সময়ের জন্য ধরে রাখে।
কিন্তু যদিও মুখ থেকে নির্গত তাওকে মনে হতে পারে
নীরস ও স্বাদহীন,
দৃষ্টি বা শ্রবণের অযোগ্য,
তার প্রয়োগ হলো অফুরন্ত।

অধ্যায় ৩৬ – আলোর ন্যূনতম মাত্রা

১.

যখন কেউ অনুপ্রেরণা পায়,
তখন সে নিশ্চিতভাবেই পূর্বের সবকিছুকে ছাড়িয়ে যায়;
যখন সে অন্য কাউকে দুর্বল করতে চায়,
তখন তাকে প্রথমেই নিজের শক্তি বৃদ্ধি করতে হয়;
যখন কেউ অন্যকে উৎখাত করতে যায়,
তখন তার নিজেকে জাগ্রত করতে হয়;
যখন সে অন্যকে নষ্ট করতে চায়,
তখন সে ব্যক্তিকে প্রথমে উপহার দিতে হয়:
একে বলে ‘আলো লুকিয়ে রাখা’র পদ্ধতি।

২.

নরম শক্তকে জয় করে; এবং দুর্বল শক্তিশালীকে

৩.

গভীর জল থেকে মাছ আহরণ করা ঠিক নয়;
রাষ্ট্রের সুরক্ষায় নিয়োজিত হাতিয়ার
জনগণকে প্রদর্শন করা সঠিক নয়।

অধ্যায় ৩৭ – প্রয়াসের অনুপস্থিতি

১.

তাও কখনো প্রয়াস চালায় না,
তবু কোনো কাজ অসমাপ্ত থাকে না।

২.

নেতারা যদি এই রীতি মেনে চলতো,
তবে সকল বস্তু নিজ থেকেই বিকশিত হতো।

৩.

তারা বিকশিত হওয়ার পর তাদের মধ্যে যদি
প্রয়াস চালানোর আকাঙ্ক্ষা জন্মায়,
তাহলে তাদের উচিত হবে এই কামনাকে
নামহীন অক্ষত কাষ্ঠখণ্ডে সমাহিত করা।

৪.

এই নামহীন সারল্য কামনা থেকে রক্ষা করে।
কামনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে শান্তি আসবে,
আর স্বর্গের নীচে সবাই বিশ্রামে থাকবে।

অধ্যায় ৩৮ – গুণাবলী বিষয়ক

১.

তাওয়ের গুণাবলী যাদের মধ্যে সর্বোচ্চ মাত্রায় আছে,
তারা তা প্রদর্শন করতে চায়নি;
ফলে তারা তা পূর্ণ মাত্রায় পেয়েছে।
যারা সেসব গুণাবলী অল্প মাত্রায় পেয়েছে,
তারা তা হারাতে চায়নি;
এবং ফলে তারা তা পূর্ণ মাত্রায় পায়নি।

২.

যারা সেসব গুণাবলী পূর্ণমাত্রায় পেয়েছিল,
তারা সেগুলো দিয়ে লক্ষ্যনির্ভর কিছু করেনি,
এবং তার কোনো প্রয়োজনও হয়নি।
যারা এগুলো অল্পমাত্রায় পেয়েছিল,
তারা সবসময় তা দিয়ে কিছু করেছিল,
এবং তা করার প্রয়োজনীয়তাও তাদের ছিল।

৩.

একজন অতীব গুণবান ব্যক্তি তার গুণের ব্যাপারে সচেতন নয়,
তাই সে তা পূর্ণমাত্রায় পেয়েছে।
একজন স্বল্পগুণের ব্যক্তি গুণবান হওয়ার প্রয়াস চালায়,
ফলে তার গুণের অভাব থাকে।
একজন অতীব গুণবান ব্যক্তি এ নিয়ে হৈ চৈ করে না;
ফলে তা দৃশ্যমান হয় না।
একজন স্বল্পগুণের অধিকারী সবসময় বাড়াবাড়ি করে;
ফলে তাকে দেখা যায়।
একজন সত্যিকারের ভালো মানুষ কখনো
দূরভিসন্ধি নিয়ে কাজ করে না।

৪.

একজন নীতিবান মানব ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা থেকে কাজ করে না।
একজন আচার পালনকারী সদাতৎপর থাকে,
কিন্তু মানুষ যখন তাতে সাড়া দেয় না
তখন সে হাত গুটিয়ে চলে যায়।

৫.

ফলে আমরা যখন তাওকে হারাই
তখন তার গুণাবলীর দিকে ঝুঁকি।
যখন তার গুণাবলীকে হারাই তখন পরহিতাকাঙ্ক্ষার দিকে ঝুঁকি।
যখন পরহিতাকাঙ্ক্ষা হারাই তখন নৈতিকতার দিকে ঝুঁকি।
আর যখন নৈতিকতা হারাই তখন আচারাদির দিকে ঝুঁকি।

৬.

আচারাদি হলো বিশ্বাস ও আস্থাশীলতার লঘু রূপ;
এবং বিশৃঙ্খলার শুরুও সেখান থেকে।
ত্বরিত শংকা তাওয়ের ফুলের মতো,
এবং বোকামির শুরুও সেখান থেকে।

৭.

অতএব মহান ব্যক্তিরা যা মজবুত তাকেই অনুসরণ করে,
আর যা ঠুনকো তাকে এড়িয়ে চলে;
তারা ফলের সাথে থাকে, ফুলের সাথে নয়।
তারা বাহ্যিককে ত্যাগ করে এবং ভেতরটা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে।

অধ্যায় ৩৯ – আইনের আদিকথা

১.

অতীতে যে-সকল বস্তু এক ও অদ্বিতীয় তাওকে পেয়েছে সেগুলো হলো:
স্বর্গ – যা তার দ্বারা উজ্জ্বল ও বিশুদ্ধ হয়েছে;
ধরিত্রী – যা তার দ্বারা মজবুত ও নিশ্চিত হয়েছে;
আত্মা – তার সরবরাহ করা শক্তি দ্বারা;
উপত্যকা – যার শূন্যতা সে পূরণ করেছে;
সকল জীব – যারা তার মাধ্যমে জীবিত রয়েছে;
রাজপুত্র ও রাজারা – যারা তার কাছ থেকে পেয়েছে
সেই আদর্শ যা সবাইকে তারা দেয়।

২.

এ সব কিছুই একক তাওয়ের ফসল।
স্বর্গ যদি এমন বিশুদ্ধ না হতো,
তবে তা দ্রুতই ভেঙে পড়তো;
ধরিত্রী যদি এত নিশ্চিত না হতো,
তবে তা ভাঙতো ও বেঁকে যেতো;
এই শক্তি ছাড়া আত্মা দ্রুতই ব্যর্থ হতো;
পূর্ণ না হলে খরায় উপত্যকা শুকিয়ে যেতো;
জীবন না থাকলে জীবের প্রয়াণ ঘটতো;
নৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব ছাড়া রাজপুত্র ও রাজারা,
যতোই মহিমান্বিত ও সুউচ্চ হোক, ক্ষয়ে যেতো।

৩.

অতএব মর্যাদাপূর্ণ আচরণের (মজবুত) শেকড়
প্রোথিত থাকে (পূর্ববর্তী) নিকৃষ্টতায়,
এবং উঁচুমানের স্থিরতা আসে নীচতা থেকে বিকাশের মাধ্যমে।
ফলে রাজপুত্র ও রাজারা নিজেদেরকে আখ্যা দেয় ‘এতিম’,
‘স্বল্প গুণের অধিকারী’ এবং ‘চালকহীন গাড়ি’ হিসেবে।

৪.

এটা কি সেকথার স্বীকৃতি নয় যে যারা নিজেদেরকে
নিকৃষ্ট বিবেচনা করে
তারা নিজেদের মর্যাদার ভিত দেখতে পায়?
ফলে একটি গাড়ির বিভিন্ন অংশের বিবরণ দিতে গিয়ে
কীভাবে তা গাড়ির লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে
তার উত্তর আমরা পাই না।
মহান তাওয়ের অনুসারীরা
সবুজ পাথরের মতো চমৎকার হিসেবে
নিজেদেরকে উপস্থাপন করতে চায় না,
বরং সাধারণ পাথরের মতো নিকৃষ্ট হিসেবে
নিজেদের তুলে ধরতে চায়।

অধ্যায় ৪০ -মাধ্যমের ব্যবহার

১.

তাওয়ের গতিময়তা বৈপরীত্যের মাধ্যমে অগ্রসর হয়।
ফিরে যাওয়া হলো তাওয়ের দিক;
আর আত্মসমর্পণ হলো তাওয়ের পথ।

২.

স্বর্গের নীচে সকল বস্তু তাও থেকে উদ্ভুত হয়েছে অস্তিত্বশীল এবং
নামধারী হিসাবে; সেই অস্তিত্ব তাওয়ে এসেছে অস্তিত্ববিহীন এবং নামহীন
আকারে।

অধ্যায় ৪১ – অনুরূপতা এবং পার্থক্য

১.

সর্বোচ্চ মানের বিদ্যার্থীরা তাওয়ের কথা শুনলে
তা ঐকান্তিকভাবে চর্চা করে।
মধ্যম মানের বিদ্যার্থীরা তাওয়ের কথা জানলে
একবার তা ধরে রাখে আরেকবার তা হারিয়ে ফেলে।
নিম্নমানের বিদ্যার্থীরা তাওয়ের কথা শুনে হাস্যরস করে।
এটা নিয়ে যদি এভাবে হাসাহাসি না হতো,
তাহলে তা তাওয়ের উপযুক্ত হতো না।

২.

অতএব প্রাচীন প্রবাদের বিবরণ অনুযায়ী:
‘তাওয়ের পথ যখন উজ্জ্বলভাবে দৃশ্যমান,
তখন তাতে আলোর স্বল্পতা আছে মনে হয়;
যে পথ সামনে অগ্রসর হয়েছে,
সে পথ পশ্চাতের দিকে যাচ্ছে বলে মনে হয়;
এর মসৃণ পথকে মনে হয় এবড়ো-থেবড়ো;
এর সফেদ রংকে মনে হয় কর্দমাক্ত;
এর সর্বোত্তম গুণকে মনে হয় ফাঁকা;
এর সর্বোচ্চ সৌন্দর্যকে মনে হয় দৃষ্টিকটু।

৩.

তাওয়ের বহুবিধ গুণকে মনে হয় অপর্যাপ্ত;
মজবুত গুণকে মনে হয় দুর্বল;
সত্যিকারের গুণকে মনে হয় অলীক।
নিখুঁত চতুর্ভুজের কোনো কোণা থাকে না;
বিশাল প্রতিভারা দেরিতে পরিপক্ক হয়;
সর্বোচ্চ মানের সুর শোনা অতি কঠিন;
সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিকৃতির কোনো আকার নেই।

৪.

তাও লুক্কায়িত থাকে এবং তার কোনো নামও নাই। কিন্তু কেবল তাওয়েরই সকল বস্তুকে প্রয়োজন অনুযায়ী পুষ্টি প্ৰদান এবং পরিপূর্ণ করার ক্ষমতা আছে।

অধ্যায় ৪২ – তাওয়ের বিবর্তন

১.

তাও একক সত্তার জন্ম দিয়েছিল;
এক থেকে দুইয়ের উৎপত্তি হয়;
দুই উৎপাদন করে তিন; তিন সকল বস্তু সৃষ্টি করে।
সকল বস্তু পেছনে ফেলে আসে অস্পষ্টতার ছায়া
বা মেয়েলি গুণ (যা থেকে তারা উদ্ভূত),
এবং উজ্জ্বলতা বা পুরুষালি গুণকে বরণ করার জন্য
সামনে এগিয়ে যায় (যার ভেতরে তারা প্রবিষ্ট হয়);
এই বিপরীতমুখী শক্তির নিঃশ্বাস মিশিয়ে
তাদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা হয়।

২.

মানুষের অপছন্দের তালিকায় আছে এতিম হওয়া,
গুণের স্বল্পতা, চাকা ছাড়া গাড়ি হওয়া;
এবং এসকল বর্ণনাই রাজা ও রাজপুত্ররা
নিজেদের বেলায় ব্যবহার করে।
এতে দেখা যায় কিছু জিনিস হ্রাস করার ফলে বৃদ্ধি পায়,
আর কিছু জিনিস বৃদ্ধি করার ফলে হ্রাস পায়।

৩.

অন্য মানুষ যা শেখায়, আমিও তা-ই শেখাই।
সহিংস ও শক্তিশালীদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয় না।
আমিও এটাকে আমার শিক্ষাদানের ভিত্তি মনে করি।

অধ্যায় ৪৩ – বিশ্বজনীন প্রয়োগ

১.

জগতের কোমলতম বস্তু কঠিনতম বস্তুর সংস্পর্শে এসে
তাকে ভেদ করে;
যার কোনো সারগত অস্তিত্ব নেই তা ফুটোহীন বস্তুতেও প্রবেশ করে।
তাই আমি কোনো প্রয়াস ব্যতীত কাজ করার মূল্য বুঝি।

২.

নীরবতার মাধ্যমে শিক্ষা এবং প্রয়াস ব্যতীত কর্মের মাধ্যমে
যে মঙ্গল আসে,
স্বর্গের নীচে অল্পসংখ্যক বস্তুই তার সমকক্ষ হয়।

অধ্যায় ৪৪ – সাবধানবাণী

১.

সততা নাকি শরীর,
কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
জীবন নাকি সম্পদ,
কোনটা বেশি মূল্যবান?
লাভ নাকি ক্ষতি,
কোনটা বেশি ক্ষতিকর?
কোন জিনিসটি দুঃখ ও ব্যথা ডেকে আনে?

২.

অতএব আমরা দেখতে পাই
যে ব্যক্তি খ্যাতি দ্বারা আকৃষ্ট হয়
সে আরো মহান বস্তুকে প্রত্যাখ্যান করে;
যে বিত্তকে ভালোবাসে
সে অধিকতর সমৃদ্ধ অবস্থাকে হারায়।

৩.

যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট থাকে
তার কোনো ভয় বা লজ্জা নেই;
যে থামতে জানে
সে বিপদের সম্মুখীন হয় না;
এভাবে বিপদমুক্ত হয়ে
 সে দীর্ঘকাল টিকে থাকে।

অধ্যায় ৪৫ – মহৎ বা পরিব্যপ্ত গুণ

১.

যে তার বিশাল সাফল্যকে সামান্যই গ্রাহ্য করে
তার উদ্যম সুদীর্ঘকাল বিরাজ করবে,
মহত্তম পরিপূর্ণতাকে যে রিক্ততা মনে করে
ক্লান্তি তাকে কখনো গ্রাস করবে না।
তার অতি সরলতাকে মনে হতে পারে বক্রতা;
বিশাল দক্ষতাকে মনে হতে পারে আনাড়িপনা,
এবং প্রখর বাগ্মিতাকে মনে হতে পারে তোতলামি।

২.

বিরামহীন ক্রিয়া শীতলতা কাটিয়ে ওঠে;
স্থিরতা উত্তাপকে অতিক্রম করে।
প্রশান্তি ও স্থৈর্য মর্ত্যের সকল বস্তুকে সঠিক বিধান দেয়।

অধ্যায় ৪৬ – কামনা বা আকাঙ্ক্ষার পরিমিতি

১.

তাও যখন জগতে বিরাজিত থাকে,
তখন সারের গাড়ি বহন করতে দ্রুতগামী অশ্ব প্রেরণ করা হয়।
তাওকে যখন জগতে অগ্রাহ্য করা হয়,
তখন যুদ্ধের অশ্বরা সীমান্তভূমিতে বংশবৃদ্ধি করে।

২.

উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে প্রশ্রয় দেওয়ার মতো বড় দোষ আর নেই;
নিজের ভাগ্যের প্রতি অসন্তুষ্ট হওয়ার মতো
বড় দুর্যোগ আর হতে পারে না;
প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষার মতো বড় ভুল আর নেই।
অতএব সন্তোষের পরিপূর্ণতা থেকে
টেকসই ও অপরিবর্তনীয় সন্তুষ্টি আসে।

অধ্যায় ৪৭ – দূরবর্তীকে প্রত্যক্ষ করা

১.

স্বীয় প্রাঙ্গণ থেকে বের না হয়েও মানুষ
জগতের পন্থা সম্পর্কে জানতে পারে;
জানালা দিয়ে বাইরে না তাকিয়েও স্বর্গের পথ দেখা যায়।
কেউ তার নিজের কাছ থেকে যত দূরে সরে যায়,
ততোই সে কম জানে।

২.

অতএব ঋষি ভ্রমণ না করেই গন্তব্যে পৌঁছে;
না দেখেই বুঝতে পারে; এবং প্রয়াস ছাড়াই লক্ষ্য অর্জন করে।

অধ্যায় ৪৮ – জ্ঞান ও কর্ম

১.

জ্ঞানলাভের প্রয়াসে প্রতিদিনই কিছু না কিছু যোগ হয়;
তাওয়ের সাধনা করলে নিত্যদিনই কর্ম হ্রাস পায়।

২.

ঋষি নিজের কর্ম হ্রাস করতেই থাকে
যতক্ষণ পর্যন্ত প্রয়াস ছাড়াই কাজ করার পর্যায়ে সে উপনীত হয়।
কর্মহীনতার এ পর্যায়ে আসার পর
এমন কোনো কাজ থাকে না যা সে সমাধা করে না।

৩.

সকল বস্তুকে যার যার গতিপথে চলতে দিয়ে
স্বর্গের নীচে সবকিছু জয় করা যায়।
উদ্দেশ্যমূলকভাবে হস্তক্ষেপ করে পৃথিবীকে শাসন করা যায় না।

অধ্যায় ৪৯ – সংযমের গুণ

১.

প্রকৃত মানবের নিজস্ব কোনো হৃদয় নেই;
সে অন্যদের হৃদয়কেই নিজের হৃদয় মনে করে।

২.

যারা আমার প্রতি দয়া দেখায়,
আমিও তাদের প্রতি দয়াশীল;
আর যারা আমার প্রতি দয়া দেখায় না,
আমি তাদের প্রতিও দয়াশীল।
ফলে দয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
যারা আমার সাথে আন্তরিক,
তাদের সাথে আমিও আন্তরিক;
আর যারা আমার সাথে আন্তরিক নয়,
আমি তাদের সাথেও আন্তরিক।
ফলে আন্তরিকতার মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

৩.

প্রকৃত মানব হলো নিরাসক্ত ও বিনয়ী;
কিন্তু জগতের কাছে তাকে মনে হয় বিভ্রান্ত।
মানুষ তার দিকে চোখ ও কান নিবিষ্ট করলেও
সে শিশুসুলভই থাকে।

অধ্যায় ৫০ – জীবনের মূল্য

১.

এক পথে অগ্রসর হলে মানুষ বেঁচে থাকে;
অন্য পথে এগোলে সে মৃত্যুবরণ করে।

২.

প্রতি দশজনের মধ্যে তিনজন জীবনের সহযাত্ৰী;
তিনজন মরণের সহযাত্রী।
আর তিনজন জীবনকে মূল্য দিলেও মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়।

৩.

এটা এরকম কেন?
জীবনকে প্রলম্বিত করার অতিরিক্ত আগ্রহের কারণেই
এটা ঘটে থাকে।

৪.

যে অল্প সময়ের জন্য প্রদত্ত জীবনের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষ,
সে গণ্ডার বা বাঘকে না এড়িয়েই মাটির উপরে হাঁটে,
এবং চামড়ার কোট ও ধারালো অস্ত্র ছাড়াই শত্রুপুরীতে প্রবেশ করে।
গণ্ডারেরা তার মধ্যে শিং প্রবিষ্ট করার কোনো জায়গা খুঁজে পায় না,
বাঘ তার মধ্যে দাঁত বসানোর স্থান খুঁজে পায় না,
আর অস্ত্রের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
কী কারণে? কারণ তার মধ্যে মৃত্যুর কোনো স্থান নেই।

অধ্যায় ৫১ – বস্তুর পুষ্টিতে তাওয়ের ভূমিকা

১.

জগতের সকল বস্তুই তাও দ্বারা সৃষ্ট
এবং তার বহিঃপ্রবাহে পরিপুষ্ট।
তারা নিজ নিজ প্রকৃতি অনুযায়ী আকার লাভ করে
এবং তাদের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরিপূর্ণতা পায়
অতএব সকল বস্তুই তাওকে সম্মান করে
এবং তার বহিঃপ্রবাহমূলক ভূমিকায় আনন্দিত হয়।

২.

তাওকে সম্মান করা এবং তার ভূমিকায় আনন্দিত হওয়া
কোনো বিধানের কারণে ঘটে না,
বরং তা স্বতঃস্ফূর্ত গুণমুগ্ধতার রূপ নেয়।

৩.

ফলে, এটা এমন হয় যে তাও সকল বস্তু সৃষ্টি করে,
তাদের পুষ্টি জোগায়, পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটায়, পরিচর্যা করে,
পূর্ণতা দেয়, পরিপক্কতা আনে, সংরক্ষণ করে
–এবং চতুর্দিকে ছড়িয়ে দেয়।

৪.

সে তাদেরকে সৃষ্টি করে কিন্তু তাদের মালিকানা দাবি করে না;
সে তাদেরকে যাবতীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যায়,
কিন্তু সেটা করতে গিয়ে নিজের ক্ষমতা নিয়ে দম্ভ করে না;
সে তাদেরকে পরিপক্ক করে, অথচ
তাদের উপর কোনো নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে না;
—একেই বলে তাওয়ের লুক্কায়িত ভূমিকা।

অধ্যায় ৫২ – উৎসে প্রত্যাবর্তন

১.

স্বর্গের নীচে সকল বস্তুরই একটি অভিন্ন অতীত ছিল।
যে তাও আসমানের নীচে সকল বস্তুর স্রষ্টা,
তাকে সকলের জননী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

২.

যখন জননী থাকে, তখন আমরা জানি
তার সন্তানদের কী হওয়া উচিত।
যখন কেউ জানে সে তার মায়ের সন্তান
এবং মায়ের গুণাবলী সংরক্ষণের জন্য অগ্রসর হয়,
জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত সে বিপদমুক্ত থাকে।

৩.

সে যদি মুখ বন্ধ রাখে ও নাসিকার প্রবেশদ্বার ঢেকে রাখে,
তার সারাটি জীবনভর কষ্টকর প্রয়াসের প্রয়োজন হবে না।
সে যদি তার মুখ খোলা রাখে
এবং বৈষয়িক উন্নতির পেছনে শ্বাস-প্রশ্বাস ব্যয় করে,
তবে জীবনভর তার কোনো নিরাপত্তা থাকবে না।

৪.

বস্তুর ক্ষুদ্রতা অনুভবের ক্ষমতাই স্বচ্ছ দৃষ্টিশক্তির রহস্য।
নরম ও কোমলকে আড়াল করে রাখার মধ্যেই
শক্তির রহস্য নিহিত।
যে তার আলোর সঠিক ব্যবহার করে,
এবং উজ্জ্বল উৎসের দিকে ফিরে যায়,
সে তার দেহকে সকল কলঙ্ক থেকে মুক্ত রাখবে,
এবং অপরিবর্তনীয়কে মানুষের দৃষ্টি থেকে আড়ালে রাখবে।

অধ্যায় ৫৩ – বর্ধনশীল প্রমাণ

১.

আমি যদি হঠাৎ বিখ্যাত হতাম এবং
তাওয়ের বিধান অনুযায়ী সরকার পরিচালনায় যেতাম,
যে বিষয়ে আমাকে সবচেয়ে ভীত থাকতে হতো
তা হলো দম্ভের প্রদর্শন

২.

মহান তাওয়ের পথ হলো সোজা ও মসৃণ;
কিন্তু মানুষ অলি-গলি পছন্দ করে।

৩.

তাদের আঙ্গিনা ও প্রাসাদ পরিপাটি থাকবে,
কিন্তু তাদের জমিতে ভালো উৎপাদন হবে না;
তাদের শস্যভাণ্ডার থাকবে শূন্য।
তারা সুন্দর ও অলংকৃত পোষাক পরবে,
কোমরে ধারালো তরবারি থাকবে,
খাদ্য ও পানীয় দ্বারা নিজেদেরকে তুষ্ট রাখবে;
এবং প্রয়োজনের তুলনায়
তাদের সম্পদ ও বিত্ত হবে বেশি।

৪.

এ-ধরনের রাজপুত্রদেরকে দস্যু বা দাম্ভিক আখ্যা দেওয়া যায়।
তারা নিশ্চিতভাবেই তাওয়ের বিপরীতে কাজ করে।

অধ্যায় ৫৪ – তাওয়ের চর্চা ও প্রভাব পর্যবেক্ষণ

১.

তাওয়ের সুদক্ষ কৃষক যা বপন করে
তা কখনো উপড়ানো যায় না;
তার কৌশলী হাত যা ধারণ করে,
তা কখনো স্থানান্তর করা যায় না;
বংশধরেরা দীর্ঘ সারিতে আসবে তার সমাধিতে উৎসর্গ করতে।

২.

তাওকে নিজের অভ্যন্তরে কেউ লালন করলে,
তার বলিষ্ঠতা বাস্তব রূপ পায়;
যে পরিবারে তা অনুসৃত হয় বিশাল বিত্ত সেখানে সঞ্চারিত হয়!
যে মহল্লায় তা বিরাজ করে প্রাচুর্য সেখানে ছড়িয়ে পড়ে;
যখন তা সারা রাজ্যে দেখা যায়, সৌভাগ্য সেখানে আবির্ভূত হয়;
সারা বিশ্বে এটা প্রয়োগ করলে চারিদিকে মানুষের উন্নতি হয়।

৩.

এভাবে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ব্যক্তি হিসেবে ব্যক্তিকে,
পরিবার হিসেবে পরিবারকে, গোষ্ঠী হিসেবে গোষ্ঠীকে,
রাজ্য হিসেবে রাজ্যকে ও বিশ্ব হিসেবে বিশ্বকে পর্যবেক্ষণ কর।

৪.

কীভাবে জানবো আসমানের নীচে সর্বত্র
এ প্রভাব নিশ্চিতভাবে কার্যকর থাকবে?
এটা জানা যাবে পর্যবেক্ষণের পন্থায়

অধ্যায় ৫৫ – রহস্যময় মায়া

১.

যার মধ্যে তাওয়ের গুণাবলী পর্যাপ্তভাবে আছে,
সে শিশুর অনুরূপ।
বিষাক্ত কীটপতঙ্গ তাকে কামড়ায় না;
হিংস্র জন্তু তাকে আক্রমণ করে না;
শিকারি পাখি তাকে ছোবল মারে না।

২.

শিশুর অস্থি হয় কোমল এবং মাংস হয় নরম,
তবু তার মুঠো হয় শক্ত।
সে নারী-পুরুষের মিলনের কথা জানে না,
তবু তার মধ্যে আছে দৈহিক পরিপূর্ণতা।
সারা দিন কাঁদলেও তার গলার স্বর কর্কশ হয় না;
এতে তার শারীরিক গঠনের ভারসাম্যই পরিস্ফূট হয়।

৩.

এ ভারসাম্যের কথা জানলে
অপরিবর্তনীয় তাওয়ের রহস্য উন্মোচিত হয়।
এই অপরিবর্তনীয়ের কথা জানলে প্রজ্ঞা জাগ্ৰত হয়।

৪.

সকল জীবন-বর্ধক পদ্ধতি অশুভের অনুসারী।
প্রাণশক্তির নিঃশ্বাস কেবল মনকে দগ্ধ করে;
এতে শক্তিক্ষয় হয় ও ক্লান্তি নেমে আসে।

৫.

বস্তুর বলিষ্ঠতা বেশি হলে তা বার্ধক্যে নিপতিত হয়,
যা কিনা তাওয়ের বিপরীত।
যা কিছুই তাওয়ের বিপরীত, তা দ্রুত সমাপ্ত হয়।

অধ্যায় ৫৬ রহস্যময় উৎকর্ষ

১.

যে তাওকে জানে সে এ-সম্পর্কে বলার প্রয়োজনবোধ করে না;
যে সর্বদা এ-বিষয়ে বলতে চায়, সে আসলে কিছুই জানে না।

২.

যে এটা জানে সে তার মুখ এবং নাসিকার-রন্ধ্র বন্ধ রাখে।
সে তার ধারালো কথা ভোঁতা করে
এবং বস্তুর অন্তর্নিহিত জটিলতা উন্মোচন করে;
সে তার উজ্জ্বলতাকে হ্রাস করে,
এবং অন্যের অখ্যাতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়।
একেই বলে ‘রহস্যময় ঐকমত্য’।

৩.

এমন ব্যক্তিকে পরিচিত বা দূরবর্তী হিসেবে
বিবেচনা করা যায় না;
সে লাভ বা ক্ষতি, মহত্ত্ব বা নীচুতার সকল বিবেচনা থেকে মুক্ত;
সে স্বর্গের নীচে মহত্তম ব্যক্তি।

অধ্যায় ৫৭ – প্ৰকৃত প্রভাব

১.

সংশোধনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে
একটি দেশ পরিচালনা করা যায়;
কুশলী নিপুণতার সাথে যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করা যায়;
কিন্তু ক্রিয়া ও আকাঙ্ক্ষা হতে মুক্ত থাকার মাধ্যমেই কেবল
রাজ্যে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা যায়।

২.

কিন্তু কীভাবে জানবো এটা সত্য?
নীচের বিবরণ থেকে তা পরিষ্কার হবে।
রাজ্যে নিষেধাজ্ঞামূলক বিধি-বিধানের সংখ্যাবৃদ্ধি
মানুষের দারিদ্র্য বাড়ায়;
মুনাফা বাড়ানোর পন্থা বৃদ্ধি পেলে
রাষ্ট্র ও গোষ্ঠীর মধ্যে বিশৃঙ্খলাও বৃদ্ধি পায়;
কুশলী ও নিপুণ ক্রিয়ায় মানুষ যত বেশি পারঙ্গম হয়,
ততো বেশি অদ্ভুত সব যোগ-সাজশ আবির্ভূত হয়।
আইন যত বেশি প্রদর্শিত হয়,
ততোই বৃদ্ধি পায় চোর-ডাকাতের সংখ্যা।

৩.

তাই এক ঋষি বলেছেন,
“আমি উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু করবো না,
এবং জনগণ নিজে থেকেই রূপান্তরিত হবে;
আমি স্থির থাকা পছন্দ করবো,
এবং মানুষ নিজে থেকেই সংশোধিত হবে।
আমি এ-নিয়ে কোনো ঝামেলা করবো না,
এবং জনগণ নিজেরাই ধনী হয়ে উঠবে
আমার কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকবে না,
এবং মানুষ নিজেরাই তাদের আদি সারল্য ফিরে পাবে”।

অধ্যায় ৫৮ – পারিপার্শ্বিকতা অনুযায়ী রূপান্তর

১.

যে সরকারকে বিচক্ষণ মনে হয় না,
অনেক সময় তার মাধ্যমেই জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণ হয়;
যে সরকার সর্বত্র নাক গলায়, হাত লাগায়,
তা কেবল খারাপ কাজই করে ও হতাশা নিয়ে আসে।

২.

বেদনা! তার পাশেই সুখ খুঁজে পাওয়া যায়!
সুখ! তার নীচেই যন্ত্রণা লুকিয়ে থাকে!
কে জানে, শেষমেষ এগুলোর পরিণতি কী হবে?

৩.

আমরা কি তাহলে সংশোধনের পথে যাবো না?
সংশোধনের পদ্ধতি কালক্রমে বিকৃত হয়ে পড়ে
এবং এর শুভ দিকটি হয়ে পড়ে অশুভ।
বস্তুত এ-বিষয়ে মানুষের ভ্রান্তি সুদীর্ঘকাল বিরাজ করছে।

৪.

অতএব ঋষি হলো চতুর্ভুজের মতো,
যা কোণ দ্বারা কাউকে ছেদ করে না;
কোণের মতো, যা ধার দ্বারা কাউকে আহত করে না।
সে সহজবোধ্য, কিন্তু নিজেকে কোনো প্রাধিকার দেয় না;
সে উজ্জ্বল, কিন্তু জ্বলজ্বল করে না।

অধ্যায় ৫৯ – তাওয়ের প্রহরা

১.

মানুষের বসতিকে বিধিবদ্ধভাবে নিয়ন্ত্ৰণ
এবং স্বর্গলোককে যথাযথ সেবাদানের জন্য
মিতাচার অপেক্ষা ভালো কোনো গুণ নেই।

২.

এই পরিমিতিবোধের মাধ্যমেই মানুষ
তার স্বাভাবিক পথে দ্রুত ফিরে যায়।
এই ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে তার মধ্যে
পর্যাপ্ত সদ্‌গুণের আবির্ভাব ঘটে
এই সদ্‌গুণের আধার কখনো পরাজিত হয় না;
যে সদ্‌গুণ পরাজিত হয় না তা অসীম।
এমন ব্যক্তিই নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত যার পর্যাপ্ত সদ্‌গুণ রয়েছে।

৩.

যে নেতা রাজ্যমাতার মালিকানা পায়,
সে বহুদিন শাসন করতে পারে।
তার উদাহরণটি একটি চারাগাছের মতো,
যার শেকড় থাকে মাটির গভীরে এবং পুষ্পবৃন্ত হয় মজবুত
এভাবেই তার টেকসই অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যায়।
জীবনের উপর সঠিকভাবে দৃষ্টিনিবদ্ধ করলে
তুমি অনেক দিন বাঁচবে।

অধ্যায় ৬০ – সিংহাসনে আরোহণ

১.

একটি বিশাল রাজ্য শাসন করা
ক্ষুদ্রাকৃতির মাছ রান্না করার অনুরূপ

২.

রাজ্যকে তাওয়ের বিধান অনুযায়ী শাসন করা হোক,
সেক্ষেত্রে দানব তার শক্তি প্রয়োগ করবে না।
এটা এমন নয় যে দানবদের শক্তি নেই;
তারা কেবল মানুষের ক্ষতি করতে এর প্রয়োগ ঘটায় না।
তারাই একমাত্র গোষ্ঠী নয় যারা ক্ষমতাশালী হওয়া সত্ত্বেও
মানুষের জন্য ক্ষতিকর কিছু করে না।
সত্যিকারের মানুষ জনগণের কোনো ক্ষতিসাধন করে না।

৩.

ক্ষতি করা না হলে তার শুভ প্রভাব
তাওয়ের সদগুণে একীভূত হয়।

অধ্যায় ৬১ – বিনয়ের গুণ

১.

একটি রাষ্ট্র নীচু, সমতল ও প্রবহমান ঝর্ণার মতো হলে
তা অসাধারণ হয়ে পড়ে;
এটা হয়ে যায় একটি কেন্দ্রের মতো,
যার প্রতি স্বর্গের অধীন সকল রাষ্ট্র অনুরক্ত থাকে।

২.

এ প্রসঙ্গে নারীদের উদাহরণ টানা যায়;
নারীরা তাদের স্থিরতা দ্বারা পুরুষদেরকে জয় করে।
যেহেতু তারা স্থির, তাই তারা নীচে অবস্থান করে।

৩.

ফলে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করে
বড় রাষ্ট্র লাভবান হয়;
আর ক্ষুদ্র রাষ্ট্র বড় রাষ্ট্রের কাছে নিজের ক্ষুদ্রত্ব জাহির করে
তাকে জয় করে।
একটি ক্ষেত্রে হীনতা প্রদর্শনের মাধ্যমে অনুসারী পাওয়া যায়,
অন্য ক্ষেত্রে এর মাধ্যমে আনুকূল্য অর্জন করা হয়।

৪.

ফলে একপক্ষ নীচু অবস্থানে নেমে সম্পদশালী হয়;
অন্যপক্ষ নীচু অবস্থানে থেকে প্রাচুর্য অর্জন করে।
মহান রাষ্ট্র শুধু আরো বেশি মানুষ চায়;
ক্ষুদ্র রাষ্ট্র কেবল তার জনগণের যাওয়ার জায়গা ও কর্মসংস্থান চায়।
তারা উভয়ে যা চায় তা পেতে চাইলে
মহান রাষ্ট্রকে নীচু অবস্থানে নামতে হবে।

অধ্যায় ৬২ – তাওয়ের অনুশীলন

১.

সকল বস্তুর মধ্যে তাওয়ের অবস্থান সবচেয়ে সম্মানজনক।
কোনো সম্পদই উত্তম মানবকে এমন চমৎকার মাধুর্য দেয় না;
অধম মানবকে এটা পাহারা দেয়
এবং তার কুপ্রভাব মুছে ফেলে।

২.

এর প্রশংসনীয় বাক্য মর্যাদা নিয়ে আসে;
এর প্রশংসনীয় ক্রিয়ায় কর্মীর কর্মক্ষমতা
অন্যদের অতিক্রম করে।
এমনকি যারা উত্তম নয়, তাদেরকেও এটা পরিত্যাগ করে না।

৩.

অতএব সূর্যসন্তান হিসেবে রাজা যখন তার আসন গ্রহণ
এবং তিনজন মন্ত্রী নিয়োগ করেন,
পূর্বলক্ষণ হিসেবে বহিরাঙ্গনে
অশ্বদল আবির্ভূত হওয়ার সাথে সাথে
রাজপুত্র যখন পদবির বিশাল গোলাকার প্রতীক গ্রহণ করেন,
এমন নিবেদনও বিনীতভাবে উপস্থাপিত তাওয়ের শিক্ষার সমকক্ষ হবে না।

৪.

প্রাচীন মানবেরা তাও-এর শিক্ষাকে এত মূল্য দিত কেন?
সেটা কি এ-কারণে নয় যে তুমি যা খুঁজছিলে
তা এর মাধ্যমে পাওয়া যায়,
এবং তোমাকে যা তাড়িয়ে বেড়ায়
তা থেকে এর মাধ্যমে মুক্ত হওয়া যায়?
এ-কারণেই এটা স্বর্গের নীচে সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু।

অধ্যায় ৬৩ – আদি দর্শন

১.

তাওয়ের পন্থা হলো প্রয়াস ছাড়াই ক্রিয়াশীল হওয়া;
হস্তক্ষেপ না করেই কাজ করা; স্বাদহীনের মধ্যে স্বাদ খুঁজে পাওয়া।
এর মাধ্যমে ক্ষুদ্রকে বড় করা হয়, অল্প হয় অনেক,
আর দয়া প্রদর্শনের মাধ্যমে আঘাতের হয় উপশম।

২.

এর উপর দখল আছে এমন ব্যক্তি কোনো কাজ সহজ থাকতেই
ও কঠিন হয়ে পড়ার পূর্বেই করে ফেলে,
আর কোনো কাজ বিশাল হয়ে পড়ার পূর্বে
ক্ষুদ্র থাকতেই সমাধা করে।
বিশ্বের যাবতীয় কঠিন বস্তু
নিশ্চয়ই এমন আদি অবস্থা থেকে এসেছে
যখন সেগুলো সহজ ছিল।
একই ভাবে যাবতীয় বিশাল বস্তুও ক্ষুদ্রাবস্থা থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
ফলে ঋষি মহান কিছু করার কোনো প্রয়াস চালায় না,
তবু সে মহত্তম কাজই সমাধা করে।

৩.

হালকাভাবে অঙ্গীকার করলে
অন্যের কাছে তা বিশ্বাসযোগ্য হয় না।
কোনো কিছু সহজভাবে করার চেষ্টা করলে তা কঠিন হয়ে পড়ে।
অতএব ঋষি সবকিছুকে কঠিন হিসেবে দেখে
এবং নিজের আরাম-আয়েশের দিকে নজর দেয় না।
ফলে কোনো সমস্যাই তার জন্য সমস্যা থাকে না।

অধ্যায় ৬৪ – ক্ষুদ্রের প্রহরা

১.

বস্তু স্থির থাকলে সহজেই শান্তি বজায় রাখা যায়।
গোলযোগ শুরু হওয়ার পূর্বেই ব্যবস্থা নিলে
পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যায়।
ভঙ্গুর জিনিস সহজে ভেঙে যায়;
যা অতি ক্ষুদ্র তা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

২.

কোনো সমস্যা আবির্ভাবের পূর্বেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।
বিশৃঙ্খলা শুরুর পূর্বেই শৃঙ্খলা ধরে রাখা প্রয়োজন।

৩.

যে বৃক্ষ চতুর্দিকে শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত করে,
তা বৃদ্ধি পায় ক্ষুদ্রতম অঙ্কুর থেকে।
এক স্তুপ মাটির উপরেই নয়তলার টাওয়ার গড়ে উঠে।
একটি মাত্র পদক্ষেপ দিয়েই হাজার মাইলের যাত্রার সুচনা হয়।

৪.

যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বা তড়িঘড়ি করে কোনো ক্রিয়ায় লিপ্ত হয়,
তার জন্য অপেক্ষা করে ব্যর্থতা।
যে একইভাবে কোনো বস্তু ধরে রাখে, তার মুঠো শিথিল হয়ে পড়ে।
ঋষি এভাবে কাজ করে না, ফলে সে ব্যর্থ হয় না।
সে কোনো কিছু ধরে রাখে না, ফলে সে কোনো কিছু হারায় না।

৫.

কিন্তু দৈনন্দিন কাজে মানুষ প্রায়শ‍ই
সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে এসে পরাজিত হয়।
শুরুর মতো তারা যদি শেষেও সাবধান থাকতো,
তাহলে এভাবে সুযোগ নষ্ট করতো না।

৬.

তাই ঋষি কামনা থেকে মুক্তি চায়,
আর অতি কঠিন কোনো কিছু অর্জনে আগ্রহী হয় না।
সে প্রয়াস ছাড়াই শিখে,
এবং মানুষ যা পাশ কাটিয়ে যায় সেখানে তাকে ফিরিয়ে আনে।
এভাবে সে সকল বস্তুকে নিজস্ব প্রকৃতি খুঁজে পেতে সাহায্য করে,
এবং নিজের কোনো উদ্দেশ্য সাধনে ব্রতী হয় না।

অধ্যায় ৬৫ – খাঁটি, অবিমিশ্র উৎকর্ষ

১.

যে-সকল প্রাচীন মানুষ তাওয়ের চর্চায় দক্ষতা দেখিয়েছিল,
তারা মানুষকে শিক্ষাদানের জন্য সেটা করেনি,
বরং নিজেদেরকে সরল ও অজ্ঞ রাখতেই তারা সেটা করেছিল।

২.

অতিরিক্ত জ্ঞান থাকার ফলেই
জনগণকে শাসন করার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়।
যে তার চাতুর্য দ্বারা রাষ্ট্র শাসন করতে চায়,
সে রাষ্ট্রের জন্য বিপদ ডেকে আনে;
অন্যদিকে যে সেই প্রয়াস চালায় না,
সে রাষ্ট্রের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ

৩.

যে এ দুটো জিনিস জানে,
সে এর মধ্যে নিহিত আদর্শ ও নিয়মও খুঁজে পায়।
এই আদর্শ ও নিয়ম জানার ক্ষমতাকেই আমরা বলি
একজন শাসকের রহস্যময় উৎকর্ষ।
এ ধরনের রহস্যময় উৎকর্ষ সুগভীর ও সুদূরপ্রসারী;
এটা অন্যদের কাছে এর অধিকারীর বৈপরীত্ব তুলে ধরে,
যা তাদেরকে তার সাথে সাযুজ্য আনতে
ও নিজেদের প্রকৃতি অনুযায়ী সমাধান খুঁজতে প্রয়াসী করে।

অধ্যায় ৬৬ – নিজকে সবশেষে স্থাপন

১.

নিজকে নিম্নে অবনমনে দক্ষতার কারণেই নদী ও সাগর
উপত্যকা হতে নির্গত ঝর্ণার শ্রদ্ধা ও নিবেদন পেয়ে থাকে;
এ কারণেই তারা সবার সেরা।
তাই ঋষি মানুষের উপরে থাকার জন্য
তার বাক্য দ্বারা নিজেকে মানুষের নীচে স্থাপন করে;
এবং তাদের সম্মুখে নিজেকে প্রতিষ্ঠার জন্য
 নিজের অবস্থান পেছনে নিয়ে আসে।

২.

এভাবেই তার অবস্থান মানুষের উপরে চলে আসে,
যদিও মানুষ তার ভার অনুভব করে না;
যদি তার স্থান মানুষের সামনেও থাকে,
তবু মানুষ তাতে ক্ষুব্ধ হয় না।

৩.

ফলে জগতের সবাই সানন্দে তার প্রশংসা করে
এবং তার কারণে ক্লান্ত হয় না।
সে যেহেতু নিজে প্রতিযোগিতা করে না,
তাই মানুষেরও তার সাথে প্রতিযোগিতা করার প্রয়োজন হয় না।

অধ্যায় ৬৭ – মূল্যবান তিনটি বস্তু

১.

কিছু লোক বলে, তাওয়ের শিক্ষা অর্থহীন;
আবার অন্যরা বলে এটা উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও অবাস্তব।
কিন্তু যারা নিজেদের অভ্যন্তরে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে,
তাদের কাছে এর অর্থহীনতা সম্পূর্ণরূপে অর্থপূর্ণ।
এবং যারা নিজের জীবনে এর প্রয়োগ ঘটায়,
এর আভিজাত্যের শেকড় তাদের গভীর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।

২.

আমার কেবল তিনটি জিনিস শেখানোর আছে:
সারল্য, ধৈর্য ও করুণা।
এ তিনটি জিনিস তোমার শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
কাজে ও চিন্তায় সরল থেকে
তুমি অস্তিত্বের উৎসে ফিরে যাও।
শত্রু এবং মিত্র উভয়ের সঙ্গে ধৈর্য-ধারণ করে,
তুমি বাস্তবতার সাথে সাযুজ্য বিধান কর।
সবার প্রতি করুণা প্রদর্শন করে
তুমি জগতের সকল জীবের সাথে সমন্বয়সাধন কর।

অধ্যায় ৬৮ – স্বর্গের সাথে তুলনীয়

১.

যে তাওয়ের সংগ্রামে কুশলী
সে কোনো সামরিক কৌশল অবলম্বন করে না;
যে সদিচ্ছার সাথে যুদ্ধ করে সে আক্রোশের শরণাপন্ন হয় না।
যে বিজয় অর্জন করে সে শত্রু হতে দূরত্ব বজায় রাখে;
জনগণ যার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে
সে মানুষের ইচ্ছা পুরণেই ব্রতী হয়।

২.

তাই আমরা বলি, সে কখনো প্রতিযোগিতা করে না,
এবং সেখানেই তার শক্তি নিহিত আছে।
তাই আমরা বলি, সে মানুষের ইচ্ছাকে প্রভাবিত করে
যাতে তারা তার সাথে একীভূত হয়।
তাই আমরা বলি, স্বর্গের অনুরূপ তার চূড়ান্ত লক্ষ্য,
প্রাচীন কোনো ঋষিই তার চেয়ে উজ্জ্বলতর নয়।

অধ্যায় ৬৯ – রহস্যময় (তাও)-এর প্রয়োগ

১.

সেনাধ্যক্ষরা একটা কথা বলে থাকে :
প্রথম চাল চালার চেয়ে পর্যবেক্ষণ ও অপেক্ষা করাই শ্রেয়।
এক ইঞ্চি অগ্রসর হওয়ার চেয়ে এক গজ পশ্চাদপসারণই উত্তম।
একেই বলে অগ্রসর না হয়েও সামনে এগিয়ে যাওয়া,
অস্ত্র ব্যবহার না করেও পেছনে ঠেলে দেওয়া।

২.

একেই বলে না সরেও সামনে এগিয়ে যাওয়া,
অস্ত্র উন্মোচিত না করেও আস্তিন গুটানো,
যুদ্ধক্ষেত্রে না গিয়েই শত্রুকে কব্জা করা,
এবং অস্ত্র ছাড়াই নিজেকে সুসজ্জিত করা।

৩.

আক্রমণ করে কোনো শত্রু খুঁজে না পাওয়ার মতো
বড় দুর্যোগ আর নেই।
এতে তোমার ধন-সম্পদই নষ্ট হবে।
যখন দুটি শক্তি একে অন্যের বিরোধিতা করে,
বিজয় সে-ই অর্জন করে
যে পরিস্থিতি যথাযথভাবে হৃদয়ঙ্গম করে।

অধ্যায় ৭০ – সঠিকভাবে জানার সমস্যা

১.

আমার বাক্যগুলো সহজেই জানা যায়,
এবং সহজেই চর্চা করা যায়;
কিন্তু জগতে একজনও নাই যে এগুলো
পুরোপুরি জানতে ও চর্চা করতে পারে।

২.

আমার বাক্যে বিধৃত আছে এক আদি ও সর্বদ্রষ্টা রীতি,
এবং সকল জিনিসের জন্য প্রযোজ্য কর্তৃত্বমূলক বিধি-বিধান।
মানুষ এসব জানে না বলেই আমাকে চিনে না।

৩.

যারা আমাকে জানে তারা সংখ্যায় খুব অল্প,
এবং এ-কারনেই আমার মূল্য আরো বেশি।
তাই ঋষি তার অন্তরে অলংকারখচিত আংটি পরিধানের পাশাপাশি
পশমের স্বল্প-বসন পরিধান করে।
আমাকে জানতে হলে অন্তরের গভীরে তাকাতে হবে।

অধ্যায় ৭১ – জানার রোগ

১.

জানা সত্ত্বেও জানি না মনে করা সবচেয়ে বড় গুণ;
না জানা সত্ত্বেও জানি মনে করা একধরনের রোগ।

২.

এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে সজাগ থেকেই
আমরা এ-থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারি।
ঋষির এ রোগ নেই;
সে জানে এ যন্ত্রণা দূর করা যাবে না, তাই তার এটা নেই।

অধ্যায় ৭২ – নিজেকে বোঝা

১.

মানুষের মধ্যে কোনো ভয় কাজ না করলে দুর্যোগ নেমে আসে।

২.

মানুষের কাজের পরিধি কমিও না।
কর্মক্ষেত্রে তাদেরকে হয়রানি কোরো না;
দমিয়ে না রাখলে তারাও তোমার প্রতি ক্লান্ত হবে না।

৩.

সত্যিকারের মানব নিজেকে ভালোভাবে জানে,
কিন্তু কোনো আত্ম-প্রচার করে না।
সে নিজের মূল্য বোঝে, কিন্তু এটা নিয়ে আনন্দ করে না;
সে বাহ্যিকের চেয়ে অন্তর্নিহিত গুণকেই বেশি গুরুত্ব দেয়।

অধ্যায় ৭৩ – পথ বেছে নিতে দেওয়া

১.

যে আইন লঙ্ঘনের সাহস দেখায়, তাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়;
যে তা করে না সে বেঁচে থাকে।
এ-দুটির মধ্যে একটি সুবিধাজনক আর অপরটি ক্ষতিকর।
কিন্তু যখন স্বর্গীয় রোষ মানুষকে আঘাত করে,
তখন কে তার কারণ নির্ণয় করবে?
প্রথমোক্ত ক্ষেত্রে করণীয়ের ব্যাপারে ঋষি সমস্যা অনুভব করে।

২.

স্বর্গীয় পন্থা হলো বিনা সংগ্রামে জয়ী হওয়া;
কথা না বলে কৌশলে জবাব আদায় করা।
তাও মানুষকে ডাকে না,
বরং মানুষই স্বপ্রণোদিত হয়ে তার কাছে আসে।
সে নীরব থাকে, তবু তার পরিকল্পনা হয় দক্ষ ও কার্যকর।
স্বর্গীয় জালের বুনন বিশাল ও সর্বত্র বিস্তৃত;
এর ফাঁকগুলো বড়,
কিন্তু কোনো কিছুই এ জাল ছিন্ন করতে পারে না।

অধ্যায় ৭৪ – ভ্রান্তিকে দমন

১.

তুমি যদি বুঝতে পারো সকল জিনিসই পরিবর্তনশীল,
তবে কোনো কিছুকেই ধরে রাখার প্রয়াস চালাবে না।
তুমি যদি মৃত্যুকে ভয় না পাও,
তবে এমন কিছু নেই যা তুমি অর্জন করতে পারবে না।

২.

ভবিষ্যতকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার অর্থ স্রষ্টার স্থান অধিকারের প্রয়াস।
তুমি যদি নিয়ন্ত্রণকারী প্রভুর যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে যাও,
তাহলে তোমার হাত কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

অধ্যায় ৭৫ – লোভ কীভাবে ক্ষতি করে

১.

মানুষ কেন উপোস করে?
কারণ তাদের নেতারা কর-শস্যের একটি বড় অংশই খেয়ে ফেলে।
এ কারণেই মানুষ উপোস করে।

২.

জনগণকে শাসন করা কঠিন হয় কেন?
কারণ তাদের নেতারা বেশি হস্তক্ষেপ করে।
এ কারণেই মানুষকে শাসন করা বড় কঠিন।

৩.

মানুষ কখন তার মরণকে হালকাভাবে নেয়?
যখন তার নেতারা জীবন উপভোগের প্রয়াসে মগ্ন থাকে।
এ কারণেই মানুষ মরণকে হালকাভাবে নেয়।

৪.

মানুষের কল্যাণে কাজ কর।
তাদেরকে বিশ্বাস কর;
নিজের মতো করে তাদেরকে কাজ করতে দাও।
বস্তুত জীবনকে বেশি মূল্য দেওয়ার পরিবর্তে
উপেক্ষা করাই বিচক্ষণতার পরিচায়ক।

অধ্যায় ৭৬ – শক্তির ব্যাপারে সতর্কবাণী

১.

জন্মের সময় মানুষ নরম ও দুর্বল থাকে;
মরণের সময় থাকে কঠিন ও শক্তিশালী।
সকল বস্তুর ক্ষেত্রেই কথাটি প্রযোজ্য।
বৃক্ষ ও উদ্ভিদ বেড়ে ওঠার সময় কোমল ও ভঙ্গুর থাকে;
মৃত্যুর সময় সেগুলো হয় শুষ্ক ও বিবর্ণ।

২.

অতএব কাঠিন্য ও শক্তি হলো মৃত্যুর সহগামী;
কোমলতা ও দুর্বলতা হলো জীবনের সহচর।

৩.

ফলে যে তার শক্তির উপর নির্ভর করে সে জয়লাভ করে না;
একটি বলবান বৃক্ষ কেবল
নিধনকারীর প্রসারিত বাহুকেই আমন্ত্রণ জানায়।

৪.

অতএব যা কিছু কঠিন ও শক্তিশালী তার অবস্থান নীচে,
আর কোমল ও দুর্বলের অবস্থান হলো উপরে।

অধ্যায় ৭৭ – স্বর্গের রীতি

১.

তাওয়ের স্বর্গীয় রীতিকে
তীর বাঁকানোর পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করা যায়।
তীরের যে অংশটি উপরের দিকে থাকে
তাকে নীচে নামানো হয়,
এবং যেটা নীচে থাকে তাকে উপরে ওঠানো হয়।
একইভাবে প্রাচুর্যকে স্বর্গ হ্রাস করে, আর ঘাটতিকে করে পূরণ

২.

স্বর্গের রীতি হলো প্রাচুর্য হ্রাস করা এবং ঘাটতি মিটিয়ে দেওয়া।
মানুষের রীতি তা নয়।
সে নিজের প্রাচুর্য বাড়াতে যাদের যথেষ্ট নেই
তাদের কাছ থেকেও কেড়ে নেয়।

৩.

কে সেই ব্যক্তি যে নিজের প্রাচুর্য
অন্যদের কল্যাণে নিয়োজিত করে?
এটা কেবল সে-ই পারে যে তাওয়ের পথ অনুসরণ করে!

৪.

অতএব ঋষি ফলাফল নিজের দাবি না করেই কাজ করে;
সে উৎকর্ষ অর্জন করে, কিন্তু তা-নিয়ে দাম্ভিকতার আশ্রয় নেয় না;
সে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করতে অনাগ্রহী।

অধ্যায় ৭৮ – যা বিশ্বাস করা উচিত

১.

জগতে পানির চেয়ে নরম ও দুর্বল আর কিছু নেই,
অথচ কঠিন ও শক্তিশালীকে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে
এর চেয়ে কার্যকর আর কিছু নেই।

২.

পৃথিবীর সবাই জানে যে কোমল কঠিনকে
এবং দুর্বল বলবানকে অতিক্রম করে;
কিন্তু বাস্তবে এটা কেউ প্রয়োগ করে না।

৩.

তাই জনৈক ঋষি বলেছেন,
“যে ব্যক্তি রাজ্যের ধুলা-ময়লাকে বরণ করে,
তাকে রাষ্ট্রের শস্য-মাটির বেদিতে নেতা হিসেবে গ্রহণ করা যায়।
যে রাজ্যের দুঃখ-কষ্টের বোঝা বহন করে,
তাকে শাসকের স্বীকৃতি দেওয়া যায়”।

৪.

যে-সকল বাক্য সোজা বা সত্য,
সেগুলোকে প্রায়শই বাঁকা বা স্ববিরোধী মনে হয়।

অধ্যায় ৭৯ – বিশ্বাসকে অনুসরণ করা

১.

যখন প্রবল শত্রুতার পর দুই পক্ষের মধ্যে
সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়,
এরপরও শত্রুতা কিছুটা হলেও থেকে যায়।
প্রশ্ন হলো, এটা কীভাবে হিতকর হতে পারে?

২.

এ পরিস্থিতে সত্যিকারের মানব সমঝোতার দায়টা
নিজের উপর নেয়,
কিন্তু অন্য পক্ষের উপর কোনো দাবি করে না।
যার সদগুণ আছে সে নিজের প্রাচুর্য
অন্যদের সাথে ভাগাভাগি করে।
যার তা নেই সে অন্যদের কাছ থেকে তা আদায় করে।

৩.

স্বর্গীয় রীতিতে কোনো পক্ষপাতিত্ব নেই;
এটা সবসময়েই ভালো মানুষের পক্ষে যায়।

অধ্যায় ৮০ – একা দণ্ডায়মান থাকা

১.

একটি ক্ষুদ্র রাজ্যের জনসংখ্যা কম।
যদিও এমন যন্ত্রও আছে যা মানুষের চেয়ে
দশ থেকে এক’শ গুণ দ্রুত গতিতে কাজ করতে পারে,
সেগুলোর এখানে প্ৰয়োজন নেই।
এখানে মানুষ মৃত্যুকে গুরুত্ব দেয়
এবং দূরে গমন করা থেকে বিরত থাকে।

২.

যদিও তাদের নৌকা ও ঘোড়ার গাড়ি আছে,
কেউ সেগুলো ব্যবহার করে না।
যদিও তাদের অস্ত্র-শস্ত্র আছে, সেগুলো তারা প্রদর্শন করে না।

৩.

এখানে মানুষ হাতে লেখার পরিবর্তে রশির গ্রন্থি ব্যবহার করে।
তাদের খাদ্য অতি সাধারণ, কিন্তু উপাদেয়।
তাদের পোশাক সুন্দর, কিন্তু সাদামাটা।
তাদের গৃহ থাকে নিরাপদ।

৪.

নিজস্ব জীবনধারায় তারা সুখী,
যদিও প্রতিবেশীদের দৃষ্টিসীমার মধ্যেই আছে বিরাজমান।
ওপারের পশু-পাখির আওয়াজও সীমান্তের এ-পাশে ভেসে আসে।
তবু তারা একে অন্যের সাথে লড়াই না করে বার্ধক্য পর্যন্ত বেঁচে থাকে,
এবং আমৃত্যু একে অন্যকে শান্তিতে থাকতে দেয়।

অধ্যায় ৮১ – সরলতার বহিঃপ্রকাশ

১.

আন্তরিক কথা সুন্দর নয়; সুন্দর কথা আন্তরিক নয়।
যারা তাওয়ে বিশ্বাসী তারা এ-নিয়ে তর্ক করে না;
বিতর্কগুলো এক্ষেত্রে কুশলী হয় না।
যারা তাওকে জানে তারা মাত্রাতিরিক্ত জ্ঞানী নয়;
যারা মাত্রাতিরিক্ত জ্ঞানী তারা এ-সম্পর্কে জানে না।

২.

ঋষি তার নিজের জন্য সঞ্চয় করে না।
সে অন্যের জন্য যতো ব্যয় করে,
ততোই তার সম্পদ বৃদ্ধি পায়।
সে অন্যকে যতো দেয়,
ততোই তার প্রাপ্তি ঘটে।

৩.

স্বর্গের রীতির তীক্ষা সত্ত্বেও তা ক্ষতের সৃষ্টি করে না।
ঋষি তার নিজস্ব পন্থায় যতোই কাজ করুক,
তাকে সংগ্রাম করতে হয় না।

Post a comment

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *