উত্তরকথন
একটা কথা প্রচলিত রয়েছে, ‘বোকাকে কেবল মৃত্যুই শোধরাতে পারে’। অবশ্য ব্যাপারটাকে আমি একটু আশাবাদীর দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয় বাক্যটা হওয়া উচিত “মৃত্যুর আগ মুহূর্তেই একজন বোকা তার বোকামি থেকে মুক্তি পায়।”
অবশ্য সোজাসুজি ‘বোকা’ বলাও ঠিক না, কারণ বোকার মধ্যেও অনেক প্রকারভেদ থাকে। তবে আমার সংজ্ঞা অনুযায়ী যারা নিজেদের নরক নিজের হাতেই তৈরি করে, তারাই বোকা। উদাহরণ হিসেবে ওরকম বোকাদের একটা বৈশিষ্ট্যের কথা বলা যায় : এরা মনপ্রাণ দিয়ে বিশ্বাস করে যে, তারা কখনোই সুখী হবে না। যখন তাদের অবস্থা আরও খারাপের দিকে মোড় নেয়, তখন তাদের চিন্তাধারা ‘আমার ভাগ্যে সুখ ছিল না’তে পরিণত হয়। ধীরে ধীরে তারা সর্বশেষ আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে উপস্থিত হয় : আমি সুখী হতে চাই না।
এ পর্যায়ে এসে তাদের পিছুটান বলে কিছু থাকে না। ততদিনে তারা দুঃখ-কষ্ট পেতে দক্ষ হয়ে যায়। তাদের পরিস্থিতি যতটাই সুখময় হোক না কেন, তারা দক্ষভাবে সেই সুখটাকে এড়িয়ে চলাতে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এই যে, তাদের এই মানসিক অবস্থা, এটা অবচেতন মনে ঘটে থাকে বলে তাদের কাছে মনে হয় এই দুনিয়াটাই আসলে নরক-কিন্তু সত্যিটা হলো, তারা যেখানেই যাক না কেন, সেটাকেই তাদের ব্যক্তিগত নরকে পরিণত করে।
আমি এ ব্যাপারে জোর দিয়ে বলতে পারি, কারণ আমি নিজেও ঐ দলের সদস্য। আমাদের মতো মানুষদেরকে খুব সহজে সুস্থ করা যায় না। যখন দুঃখ-কষ্ট তোমার ব্যক্তিত্বের একটা অংশ হয়ে দাঁড়ায়, তখন দুঃখে- কষ্টে না থাকলে নিজেকে সম্পূর্ণ আলাদা কেউ মনে হতে থাকে।
এ আমি হতে পারে না।
নিজেকে করুণার দৃষ্টিতে দেখার এই কাজটা কিন্তু আমাদের দুঃখ-কষ্ট সামলে নেয়ার জন্য সাহায্য করার কথা। কিন্তু আমরা সেটাকে আনন্দের উৎস বানিয়ে ফেলি। এমনকি তুমি স্বেচ্ছাতেই বেদনা খুঁজে বেড়াতে শুরু করবে, যাতে তুমি সেটা উপভোগ করতে পার।
কিন্তু উপরে যেটা লিখেছি সেটাও আমি মানি। আমার কাছে আসলেই মনে হয় যে এই বোকা মানুষগুলো মৃত্যুর আগমুহূর্তে সুস্থ হয়ে যায়। কিছু সৌভাগ্যবান থাকে যারা ঐ পর্যায়ে যাবার আগেই নিজেকে ঠিক করার একটা সুযোগ পায়। কিন্তু বাকিরা, মানে দুর্ভাগারা যখন টের পায় মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী, বেঁচে থাকার শিকলের বাঁধন থেকে তারা যখন অবশেষে মুক্তি পায়-এই বোকামি তাদের ছেড়ে চলে যায়।
আমি বলেছিলাম যে, আমার দৃষ্টিভঙ্গি আশাবাদী ধরনের, কিন্তু একটু ভেবে দেখলে অবশ্য সেটাকে একই সাথে নৈরাশ্যবাদী কথাবার্তা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা যায়। কারণ, যখন তারা এই দুনিয়াকে ভালোবাসতে শেখে, তার কিছু সময় পরেই তাদের এ দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হয়।
কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, যে মানুষগুলো একদম শেষ পর্যায়ে গিয়ে উপলব্ধিটা করে, তাদের কাছে দুনিয়াটা এতটাই সুন্দর একটা জায়গা মনে হতে থাকে যে বাকি কিছুতেই তাদের যায়-আসে না। অনুতাপ বোধটা যতটা গভীর হয়, যেমন—”এতদিন ধরে আমি এ অপূর্ব অসাধারণ জগতে বাস করে. এসেছি?” এবং “কিন্তু এখন আমি জানি কীভাবে আমার জীবনটাকে যেমন আছে, ঠিক সেভাবেই মেনে নিতে হবে,”–ততই নিষ্ঠুর কিন্তু মনোমুগ্ধকর মনে হতে থাকে সবকিছুকে।
আমি সবসময় এই মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের কথাটা লিখতে চেয়েছি। সত্যি বলতে কী, আমার ‘জীবনের মূল্য’ কিংবা ‘ভালোবাসার ক্ষমতা’ সম্পর্কে লেখার কোনো ইচ্ছেই নেই। সেটা ‘থ্রি ডেজ অব হ্যাপিনেস’ হোক কিংবা অন্য কোনো বই-কোনটাতেই আমি ওসব নিয়ে লিখতে ইচ্ছুক নই।
সুগারু মিয়াকি
***

The only comment I can is “This story was weirdly beautiful for me.” I laughed, I cried, I got angered, I enjoyed it fully. I eventually wanted ” Kusonoki” to die and at the same time I wanted him to find happiness. Thank you Miyaki-san. Sono monogatari kaite kurete Arigato.