হাটে বাজারে – বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
হাটে বাজারে – বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
[বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)-এর ‘হাটে বাজারে’ উপন্যাস তাঁর স্বাক্ষরধর্মী একটি ছোট কিন্তু গভীর অর্থবাহী সৃষ্টি। এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ডা. সদাশিব, যিনি একজন বিপত্নীক সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার। অবসর নেওয়ার পরও তিনি চাকরিতে থেকে যান না বরং গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে বেড়ে দরিদ্র-অসহায় রোগীদের সেবা করেন, তাঁদের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হন। সমাজের নানান স্তরের লোকজন—মন্ত্রী, পুলিশ, গ্রামের মেছুনি, দরিদ্র শ্রমজীবী—সবাই তাঁর রোগী। তিনি নিজেকে “ছোটলোকদের ডাক্তার” বলতে ভালোবাসেন, কারণ দরিদ্রদের জন্যই তাঁর সেবা সবচেয়ে বেশি উৎসর্গিত।
এই উপন্যাসের নাম ‘হাটে বাজারে’ কেন? সদাশিব বাবু নিজে শুধু ডাক্তারত্ব করেন না, বাজার করেন, তাজা দ্রব্য কিনে এনে নিজের ঘরে এবং প্রয়োজনীদের ভাগ দেন। তাঁর জীবনের অবসরটা কেটেছে সাধারণ মানুষ ও তাদের পরিবারগুলো নিয়ে—হাটবাজার যেন তাঁর হাসপাতাল, কর্মক্ষেত্র, পরিবার; গোটা সমাজের সাথেই মিশে তিনি এই বৃদ্ধকাল উপভোগ করেন। উপন্যাসটি কিছুটা ডায়েরির মতো, কিছুটা তৃতীয় পুরুষের বর্ণনায় রচিত, যার মাধ্যমে সদাশিব বাবুর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনদর্শন ফুটে ওঠে।
‘হাটে বাজারে’ বনফুলের নিজের চিকিৎসক জীবনের প্রতিফলনও। চিকিৎসক এবং মানুষ, এই দুই সত্তার মিলিত অস্তিত্ব এবং সমাজের নানামুখী বাস্তবতা, দরিদ্র মানুষের জীবনসংগ্রাম, আন্তরিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ—এসবই মনছোঁয়া ভাবে উপন্যাসে ফুটে উঠেছে। এই উপন্যাস অবলম্বনে একটি চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে।
সংক্ষেপে, ‘‘হাটে বাজারে’’ শুধু এক ডাক্তারের কাহিনি নয়, বরং চিকিৎসা-পেশার মানবিক দিক, সমাজের বাস্তব ছবি এবং লেখকের অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে এক অনন্য বাঙালি উপন্যাস।]


Shundor