মেসিয়ানার জ্যোৎস্নারাত – গৌতম ভট্টাচার্য
কী নেই কী আছে
গত ৩ বিশ্বকাপ ফুটবলের বিস্তারিত বর্ণনা ? না।
গত ৩ বিশ্বকাপের অভিনব স্ট্র্যাটেজির দলিল? না।
গত ৩ বিশ্বকাপের যাবতীয় টিমগুলোর রুদ্ধশ্বাস ওঠা-নামা? না।
গত ব্রাজিল থেকে গত দোহা-র পূর্ণাঙ্গ কাপ অমনিবাস? না।
গত ৩ বিশ্বকাপ জুড়ে লিওনেল মেসির চিরশ্রেষ্ঠ প্রেমকাহিনী? হ্যাঁ।
.
উৎসর্গ
প্রিয় প্রদীপ সেনগুপ্তকে—
সল্টলেক, শহর কলকাতা, দেশ এবং তারও বাইরে
ধারাবাহিক স্নেহশীল অভিভাবকত্বের জন্য।
.
যাঁরা না থাকলে বই হয় না
সৃঞ্জয় বোস
অশেষ পাল • শতদ্রু দত্ত
সুব্রত মুখোপাধ্যায় • জয়তী ও সুদীপ মৈত্র
ডাঃ কাঞ্চন ভট্টাচার্য • তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়
আশিস কাঞ্জিলাল • স্বর্ণালী কাঞ্জিলাল
একতা ভট্টাচার্য • ফেসবুকের বন্ধুরা
এবং
রায়া ভট্টাচার্য
.
অমূল্য আর্কাইভ সহায়তা
অরূপ পাল
দেবাঞ্জন নন্দী
.
ধন্যবাদ
আনন্দবাজার পত্রিকা
সংবাদ প্রতিদিন
ফেসবুক
.
তাহলে ‘গোট’ কে
মহা মহাতারকা হয়েও দুজনের কেউ আর শহরের বাসিন্দা নন।
একজন তিনি পেলে আপাতত নিজের জারণভূমি স্যান্টোস স্টেডিয়াম
থেকে এক কিলোমিটার দূরের মেমোরিয়াল ইকুমেনিকালে শায়িত। জীবদ্দশায় সকলকে পেছনে ফেলে নিজের পেশায় পয়লা নম্বর থেকেছেন। মৃত্যুর পরে রুটিন কেন বদলাবে? যে সমাধির দশতলায় তাঁকে দেখতে আসার জন্য পৃথিবীজুড়ে পর্যটকদের এত আগ্রহ সেই বিল্ডিংটা বত্রিশ তলার। বিশ্বের উচ্চতম সমাধি শুধু নয় সেখানে রক্ষিত ১৬ হাজার মরদেহ।
অন্যজন তিনি দিয়েগো মারাদোনা চিরবিশ্রাম নিচ্ছেন বুয়েনেস আইরেস শহরতলীর উপকণ্ঠে বেলা ভিস্তা সমাধিক্ষেত্রে। আর্জেন্টিনা আসা মানেই আর্জেন্টিনীয় রাজধানী ছাড়িয়ে পর্যটক এই চত্বরটা ঢু মারতে আসবে। তিনি তো শুধু কিংবদন্তী ফুটবলার নন। শুধু চ্যাম্পিয়ন নন। তার সঙ্গে অনেক কিছুর অর্থবহনকারী বিদ্রোহী চেতনা।
পেলে যে ভাবনার রূপায়ণে ক্যাপিটালিস্ট। মারাদোনা অবিকল সেই ভাবনার বিপরীতমুখী রূপায়ণে কমিউনিস্ট। দুজনেই মফস্বল শহরের সন্তান। মৃত্যুপরবর্তী ফিরেও গিয়েছেন সেই মফস্বলী ভূখণ্ডে। শুধু তাঁদের জীবিত অবস্থায় শুরু হওয়া একটা তর্ককে সঙ্গে করে সমাধিতে নিয়ে যাননি। দুজনের মধ্যে ‘গোট’ কে?
নাকি ওঁরা কেউ নন? আধুনিক প্রযুক্তি ও সুপার-ফিট ডিফেন্ডারদের সঙ্গে ক্লাব ও দেশ—যৌথ মঞ্চে যাঁর প্রতিনিয়ত সংঘর্ষ শেষ হয় মোটামুটিভাবে জিত দিয়ে—সেই লিওনেল মেসি।
‘গোট’ এক্সপ্রেশনটা খুব বেশিদিন লেখার জগতে বার হয়নি। হয়তো বছরতিনেক। কিন্তু এখন নেট দুনিয়ায় অহরহ চলছে। ‘গোট’ মানে গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম। সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে?
আজ পর্যন্ত যত বিশ্বমানের ফুটবলার ইন্টারভিউ করার সুযোগ পেয়েছি তার মধ্যে সবচেয়ে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষটি থাকেন ব্রাজিলের বেলো হরাইজন্তে শহরে। হোয়াইট পেলে বলা হয় তাঁকে। ফুটবলের মাইক ব্রিয়ারলি বললেও চলতো। যদিও দেশকে নেতৃত্ব দেননি কখনো। কিন্তু পেশায় ডাক্তার। অকালপ্রয়াত সক্রেটিস আর তাঁর টোস্টাওর কলাম—দুটোই আজ পর্যন্ত ব্রাজিল ফুটবলে সবচেয়ে সমাদৃত। সেই টোস্টাও গত ২০১৪ বিশ্বকাপের সময় দোভাষীর মাধ্যমে আমায় দেওয়া সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, ”পেলে ইজিলি গ্রেটেস্ট। কারণ ও সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ। দু’পায়ে বল নিয়ে যা ইচ্ছে করতে পারতো শুধু নয়। দুর্ধর্ষ ছিল পেলের হেডিং। মারাদোনা দুরন্ত। কিন্তু ওর স্প্যান এত লম্বা নয়। ও এত কমপ্লিটও ছিল না আমার দু’নম্বর বরঞ্চ মেসি।”
গ্যারি সোবার্সের অভিধান অনুযায়ী গ্রেটেস্ট অফ অল টাইম মাপলে মারাদোনার জায়গা তিন। সোবার্সের ব্যাখ্যায় গ্রেটনেস হল, দশ থেকে বারো বছর অবিরাম নিজের সেরা খেলাটা দিতে পারা। সেটাতে কোনো ড্রপ হলে চলবে না। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মোটামুটি সর্বসম্মত ব্যাখ্যা হল মারাদোনার সেরা সময় সাত বছর—১৯৮৪-৯১। এরপর নাপোলি তাঁকে রাখেনি শুধু নয়। ড্রাগ এমনভাবে গিলে ধরেছিল যে বহু চেষ্টাতেও নিজের সেরা ফর্ম আর ধারাবাহিক ফেরত পাননি। অনবদ্য সব ঝলকগুলো কখনো মাঠে ফিরত। কিন্তু গোটা ফিল্মটা নয়।
মেসি সেই তুলনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলে অনেক দীর্ঘজীবী। সতের বছর ধরে টানছেন। চোখ কচলে দেখার মতো। ফেডেরার-নাদাল যেমন শুধু প্রতিপক্ষ নয়। আধুনিক সময়ের আইটি রিসার্চ এবং তাঁদের কোর্ট মুভমেন্টের প্রতি সেকেন্ডের ভিডিও বিশ্লেষণকে ছিটকে দিয়ে বেরিয়েছেন, তাঁরাও তাই। তাঁরা মানে অবশ্যই মেসি-রোনাল্ডো। পেলের আমলে প্রাগৈতিহাসিক সব ক্যামেরা আর হাতে তৈরি চার্টে বিপক্ষকে মাপজোঁক হত। বেশিদূর যেতে হবে না। সৌরভের টিম ২০০১-এর ঐতিহাসিক ঘরোয়া সিরিজে স্টিভদের জন্য যে পরিকল্পনা করেছিল, তা সাইক্লোস্টাইলড শিটে প্লেয়ারদের বিলিয়েছিল। আজও আমার হেফাজতে ডকুমেন্টটা আছে যা দেখলে এখন মনে হয় জুরাসিক পার্ক।
এখনকার দিনে প্রত্যেক প্লেয়ারের মোবাইলে ওই অ্যাপটা ডাউনলোড করা থাকবে। টিম ফিজিওর ঘরে যাওয়ার মতো সে নিয়ম করে আইটি পেশাদারের সঙ্গে বসবে। কোথায় বিপক্ষের দুর্বলতা? কোথায় তার নিজের? কীভাবে হিসেব করে প্রতিটি ভগ্নাংশ সে এগোবে? রবিচন্দ্রন অশ্বিন আর এরাপল্লী প্রসন্ন-র সঙ্গে যদি ওঁদের প্রস্তুতির ধরণ নিয়ে কথা বলার সুযোগ পান, মনে হবে আপনার উল্টোদিকে একজন উত্তম কুমার। আর একজন নারায়ণ মূর্তি। ওঁরা যে এক খেলা এবং অফস্পিন নামক এক শিল্পের মানুষ— কে বলবে?
গোটে-র চূড়ান্ত বিচারে আধুনিক সময়ের এই ড্রাগনোচিত প্রতিদ্বন্দ্বীর কথা মাথায় রাখতেই হবে। যার নাম আইটি। প্রবীণ সাংবাদিক মুকুল দত্ত বলেছিলেন, ”পেলেকে পেলে করেছিল ‘ওয়ার্ল্ড সকার’ পত্রিকার একটা লেখা যে এই ফুটবলার এক ডজ দুবার এক ভাবে করেন না। এক ভাবে বিপক্ষকে ধোঁকা দেন না।” আজকের দিনে না এমন লেখা কেউ লিখবে। না এমন কিছু সম্ভব।
একই সঙ্গে মেসির বিশ্বজয়ে চার নকআউট ম্যাচের দুটোতে টাইব্রেকারের কাহিনী রয়েছে। রিও ফাইনালেও তো তাঁকে তুলেছিল টাইব্রেকার। দোহা-তে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের বিক্রম না ঘটলে মেসি নিয়ে কিছুতেই এমন বিশ্বব্যাপী ইউফোরিয়া ঘটে না। অদৃশ্য বিচারে রোনাল্ডোকে পেছনে ফেলে তিনি এগিয়ে যান না। মেসিয়ানার জ্যোৎস্নারাত কেউ প্রত্যক্ষ করে না। কে বলতে পারে দোহা-র টাইব্রেকার সেদিন ব্রাজিল জিতে গেলে এই বইয়ের প্রচ্ছদ বদলে যেত না? কভারে হয়তো থাকত নেইমারের ছবি। টাইব্রেকারে সুপারস্টারও এতটাই অসহায়।
মারাদোনার নব্বই ফাইনালে ওঠার পেছনে একটা টাইব্রেকার ছিল। কিন্তু ছিয়াশিতে ওই অবধি ব্যাপারটা যেতেই দেননি। পেলের সময়ে নিয়মটা ছিল না। কিন্তু তিনবারের একবারও লাগেনি। নক্ষত্রখচিত টিমে খেলেও সবসময় সবার আগে। পেলে ডকুমেন্টরিতে দেখিয়েছিল ‘জিঙ্গা’ মুভমেন্টটা। হঠাৎ করে অপটিক্যাল ইল্যুশনের মতো বল নিয়ে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া। হিন্দি সিনেমায় যেমন গাড়ি উড়ে যাওয়ার অবাস্তব সব দৃশ্য থাকে। পেলে তেমনি পেনিট্রেটিভ জোনে উড়ে যেতেন ফুটবল মাঠের বাস্তব ছবি হয়ে।
কোথাও যেন মনে হয় জাস্ট একটা বিশ্বকাপ। এটার ওপর জীবনমরণ সব নির্ভরশীল। নক আউটে হাট্টাগোট্টা সব বিপক্ষ। সেখানে মারাদোনা এক। পেলে—খুব কাছাকাছি থাকা দুই। মেসি তিন।
কিন্তু সর্বকালীন নিরিখে এবং সোবার্সের সেই মানদন্ডে, এক পেলে। মেসি—দুই। দিয়েগো তিন।
জি চব্বিশ ঘন্টার লাইভ শো চলাকালীন দীপ দাশগুপ্তকে এক দর্শকের করা মন্তব্যে ও কিছুটা অসন্তুষ্ট হয়েছিল। বলুন না কে সেরা? কোহলি না সচিন?
ক্রিকেট বিশ্লেষক হিসেবে অত্যন্ত উঁচু দরের দীপ ঝাঁজিয়ে উঠে বলেছিল,”সুপারডুপার দুজন প্লেয়ার। দুজনকেই এনজয় করুন না। সবসময় ভাগ ভাগ করে বিচার করতে হবে কেন?”
ওকে কী করে বোঝাই তর্কটা যে প্রজা থেকে বাদশা জীবনের সর্বস্তরে ভেসে থাকা একটা মজাও। ‘গোট’ মানে যে শুধু গরু নয়। ফেলুদার মগজাস্ত্রও।
কেন জানি না মনে হয় ‘গোট’-য়ের বিচার যত সময় যাবে তত নতুনভাবে হবে। আর তত রেটিং-য়ে উন্নতি করবেন লিও মেসি। হয়তো পেলেকে ছাপিয়ে পয়লা নম্বরে উঠেও আসবেন। দেশ এবং ক্লাব— লম্বা সময় একইসঙ্গে এরকম প্রাণান্তকর চাপ উদয়াস্ত নিতে হয়নি তাঁর পূর্ববর্তী দুই মহানায়ককে। এই যে গোটা বিশ্বের প্রতি মিলি সেকেন্ডে অনুবীক্ষণে দেখা, মারাদোনা পেরেছে, তুমি কি পারছ? মারাদোনাকে কোথায় এই বাড়তি চাপটা নিতে হয়েছে?
অমল দত্ত অসম্ভব আচ্ছন্ন ছিলেন স্যর স্ট্যানলি ম্যাথুজে। মুকুল দত্ত বারবার বিশ্বসেরা হিসেবে বলতেন ফেরেঙ্ক পুসকাসের কথা। ব্যক্তিগতভাবে আমার গত ৭৫ বছরের বিশ্ব ফুটবল ঘেঁটে মনে হয়েছে ‘গোট’-য়ের দাবিদার হিসেবে পাঁচজনের নাম আসা উচিত।
পেলে, মেসি, গ্যারিঞ্চা, মারাদোনা এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।
ঠিক যেভাবে টেনিস ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ছয় নির্বাচন ফেডেরার -নাদাল-জকোভিচকে বাদ দিয়ে সম্ভব নয়। এখানেও তাই। আইটি আর ভিডিয়ো টেকনলজির প্রতাপ সামলানো বাদ দিচ্ছি। মেসি-রোনাল্ডো এমন সময়কার মহানায়ক যখন ফুটবল মাঠে ফাঁকা জমি বলে কোনও বস্তু নেই। ভিড়ের জঙ্গলে এক ইঞ্চির মধ্যে নিজের জিনিয়াস প্রমাণ করতে হবে। পেলেরাও হয়তো সেই আপাত অসম্ভব বাধা সামলে নিতেন। কিন্তু সামলাতে যে হয়নি, ইতিহাস ধরে রেখেছে।
মেসি আরেকটা ব্যাপারে নমস্য। দেশের প্রতি তাঁর অবিশ্বাস্য আনুগত্যে। রিচি বেনো সেই ১৯৯২-তে বলেছিলেন, তেণ্ডুলকর হল টেস্ট ক্রিকেটকে জীবনের চুম্বন। মেসি একইভাবে ক্লাব ফুটবলের তুমুল আগ্রাসনের রকেট লঞ্চারের সঙ্গে লড়ে বিশ্বকাপ ফুটবলকে জীবনের প্রতিরক্ষা।
কাপ জিততে যে পরিমান বিনয় তিনি আকাশছোঁয়া তারা হয়েও দেখিয়েছেন। যে পরিমাণ গ্লানি, সমালোচনা আর ব্যর্থতার কাদাজলে স্নান করেও তাঁর অন্বেষণে বিরত হননি। সেটা ম্যাজিকের মতো।
যতদিন ফুটবল থাকবে। লিওনেল মেসির প্রেমকাহিনীও গোলাপ হয়ে ফুটবে। ‘গোট’ কেউ বলল কী না বলল, গোলাপের গন্ধে মাতোয়ারা অনুরাগীর মনেও পড়বে না।
দেশজ উচ্চচাকাঙ্খীর প্যাসন তখন হয়তো অদৃশ্য থাকবে ফুটবল মাঠে। মেসিকাহিনী তখন বলবে, হে আধুনিক পেশাদার তুমি রেট্রোসপেক্টিভ দেখছো। কিন্তু কখনো এটা সত্যি ঘটেছিল।
এই বইটা ভাগ্যবান। ফুটবলের বিশ্বশ্রেষ্ঠ প্রেমকাহিনীকে যে তুলে আনার সুযোগ পেয়ে প্রাণপণ চেষ্টা করেছে।
মেসির চূড়ান্ত ক্রমপর্যায় ভাবীকাল ঠিক করবে। কিন্তু তাঁর অমর প্রেমকাহিনীই তো ‘গোট।’
গ্রেটেস্ট অব অল টাইম!
গৌতম ভট্টাচার্য
কলকাতা
.
মেসিয়ানা
বিশ্বব্যাপী প্রত্যাখ্যান আর লোকলজ্জার নিষ্ঠুরতম আগুনে পুড়তে পুড়তে কী চমকপ্রদভাবেই না ফুটবল-স্বপ্নের আপাত মৃত্যু থেকে উত্থান। আধুনিক সময়ে রূপকথাকে বলা হয় মেসিয়ানা। জানতেন না?


why for me this book is blocked ?!!!
দুঃখিত, এখন দেখুন তো হয়েছে কি না। আর কিছু বই পাবলিক করা যায়নি, আবার লগইন করলে কিছু পড়া যায়।
অনেকদিন ভালো ভূতের বই পাইনা। একটি আপলোড করলে কৃতার্থ হই। আগাম ধন্যবাদ।
মিচ অ্যালবম এর লেখা ‘ মোরির সঙ্গে সেইসব মঙ্গলবার ‘ বইটা দেওয়ার অনুরোধ রইল।
8
Please some one upload the PDF of Anilabh Chatterjee’s book “Brazil theke bolchi”(Bengali)