বিষয় গজল – অজিত রায়
বিষয় গজল – অজিত রায়
BISHOY GHAZAL
A Complete Research-Work on Urdu & Hindi Ghazal
by
AJIT ROY
প্রথম প্রকাশ – সেপ্টেম্বর ২০২১
প্রচ্ছদ – নির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উৎসর্গ
ফিরাক গোরখপুরী ও দুষ্যন্ত কুমারকে
যাঁরা বুঝেছিলেন, এবং রাষ্ট্র যে-কথা বোঝে না, যে,
সমাজে সৃষ্টিশীল কাজই হচ্ছে সবচেয়ে ব্যবহারিক বিষয়৷
কেননা, সৃষ্টিশীল কাজগুলিই মানুষকে অটোলভাবে প্রতিফলিত করে৷
.
রাষ্ট্র কখনোই বোঝে না অথচ কবি বোঝেন, যে, অর্থোপার্জন অথবা নিজেকে পণ্ডিত কিংবা দানেশমন্দ জাহির করার মতো বেওকুফি আর হতে পারে না। কবি যা বোঝেন অথচ রাষ্ট্র বোঝে না, যে, সমাজে সৃষ্টিশীল কাজই হচ্ছে সবচেয়ে ব্যবহারিক বিষয়। কেননা, সৃষ্টিশীল কাজগুলিই মানুষকে অটোলভাবে প্রতিফলিত করে। মানুষের মধ্যে ইদানীং কলাকৌশলের প্রতি মনোযোগ বেড়েছে। মনোযোগটা শিল্পপ্রকরণের দিকে নয়। শিল্পসামগ্রীর দিকে। এই বিশেষ প্রবণতাকে লক্ষ্য রেখে বর্তমান গ্রন্থের পরিকল্পনা। প্রকৃতিস্থ মানুষের যে-বয়সে হাজার ডিং মেরেও দরজার ছিটকিনিতে হাত পৌঁছোয় না—সেই কৈশোর লগ্নে আমার মধ্যে কাব্যরোগের দারুণ দুর্লক্ষণ জাগে। এক খেরো খাতায় লেখা কিছু প্রেমমূলক উর্দু শের-এর হদিস পেয়েছিলাম। ব্যাধির প্রকোপ তখন থেকেই। খাতাটা ছিল আমার এক দূর-সম্পর্কীয় দাদার একান্ত গোপন বৈভব। তিনি যৌবনের মুগ্ধ প্রহরে নিরিবিলি পুষ্পকাননে শুয়ে ঘাসের ডাঁটি চিবোতে চিবোতে সুললিত স্বরে গজলের শের আবৃত্তি করে শোনাতেন তাঁর প্রেয়সীকে। ওইসব শের-এর স্তৈনপাঠ থেকেই শুরু হয়েছিল আমার গজলচর্চা। এবং এতদিন যা ছিল নিছক ব্যক্তিগত রসাস্বাদনে সীমিত, তাকেই সর্বজনীন রূপ দেবার অভিপ্রায়ে এই গ্রন্থ।
বাংলায় গজল নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা সম্ভবত এই প্রথম। আমার আলোচনা মূলত উর্দু ও হিন্দী গজল নিয়ে। অন্যান্য ভাষা, যেমন আরবি, ফারসি কিংবা গুজরাটি, পাঞ্জাবি, রাজস্থানি, মারাঠি প্রভৃতি ভাষায় যে-পরিমাণ এলেম থাকলে সে-সমস্ত ভাষার গজল নিয়ে চর্চা করা সম্ভব, সেহেন জ্ঞান আমার নেই। সাহিত্যের যে বিশেষ ফর্ম বা শৈলী আবহমান কাল ধরে উর্দু ও হিন্দী পাঠকমণ্ডলীর এক বিরাট অংশের রসতৃষ্ণা পরিতৃপ্ত করে চলেছে, তারই যথাসম্ভব সম্পূর্ণ ও প্রামাণ্য পরিচয় পরিস্ফুটনের চেষ্টা করেছি এ গ্রন্থে। গোড়ার পরিচ্ছেদগুলিকে সাজিয়েছি আঞ্চলিক শৈলীর ধারার ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের শাসকবংশের ক্রম অনুযায়ী এবং শেষের দিকে অনুসৃত হয়েছে শায়র ও শায়রীর ধারা। সংগীত-পিপাসুদেরও খুশি করতে বিন্দুমাত্র কসুর করিনি। সেকালের বাঈজীদের সঙ্গে গজলের সম্বন্ধ এবং একালের গজল গান, তার জনপ্রিয়তার উৎস, সারল্য ও ব্যর্থতা ইত্যাদি নিয়ে রয়েছে পৃথক আলোচনা। কিন্তু আমি যেহেতু কাব্যকাতর, তাই গজলের সংগীত ধর্মের চেয়ে সাহিত্যমূল্যের আলোচনাকেই তোল্লাই দিয়েছি বেশি।
আলোচনা অযথা উদ্ধৃতিতে অহেতুক কণ্টকিত করতে চাইনি। প্রবন্ধে ভূরি-ভূরি উদ্ধৃতি পাঠকের বিরক্তির কারণ হতে পারে এই আশঙ্কায় যেসব রচনার ঋণ নিয়েছি তাদের স্বীকৃতি গ্রন্থ শেষে সকৃতজ্ঞ সন্নিবেশিত হয়েছে। আলোচনাকে সজীব করতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই ‘আমি’ নামক ব্যক্তিটি চলে এসেছে। এড়াবার উপায় ছিল না—কারণ এতে এমন বহু শায়র ও গজলিয়ার কথা বলা হয়েছে, যাঁদের সঙ্গে এই ‘আমি’টির প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল বা আছে। যাঁরা নিজেদের বহুমূল্য সময় অপচয় করে আমাকে সাক্ষাৎকার ও চিঠি দিয়েছেন এবং যেসব সহৃদয় ব্যক্তির সহযোগিতা ভিন্ন এ রচনা সম্পূর্ণ হত না, ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁদের অকৃত্রিম প্রীতির মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করতে চাই না।
অজিত রায়
লেখকের অন্যান্য গবেষণা-গ্রন্থ
বাংলা স্ল্যাং : সমুচয় ঠিকুজিকুষ্ঠি (১ম সং ২০১২, ২য় সং ২০১৭)
ছোটলোকের শব্দলোক (২০০৫)
বাংলা স্ল্যাং (২০০৭)
যৌনতা : সমুচয় তত্ত্বতালাশ (২০০৬)
ধানবাদ ইতিবৃত্ত (১ম সং ১৯৯৬, ২য় সং ২০০৭, ৩য় সং ২০২১)
ঝাড়খণ্ড ইতিবৃত্ত (২০২১)
হাংরি জেনারেশন : গেরো-ফাঁসগেরো (২০০৫)


Leave a Reply