• Skip to main content
  • Skip to header right navigation
  • Skip to site footer

Bangla Library

Read Bengali Books Online (বাংলা বই পড়ুন)

  • Login/Register
  • Account

বাউল রশিদ উদ্দিন সমগ্ৰ

লাইব্রেরি » বাউল রশিদ উদ্দিন সমগ্ৰ
বাউল রশিদ উদ্দিন সমগ্ৰ
বইয়ের ধরন: গান / গানের বই

বাউল রশিদ উদ্দিন সমগ্ৰ

বাউল রশিদ উদ্দিন সমগ্ৰ
সম্পাদনায় – সাইফুল ইসলাম শাহীন
প্রকাশকাল – অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০

.

ভূমিকা

আবহমান কাল থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহের যে জেলাটি লোকসাহিত্যের ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে, সে হলো নেত্রকোণা জেলা। ড. দীনেশ চন্দ্র সেনের নির্দেশে নেত্রকোণার বাবু চন্দ্রকুমার দে সংগ্রহ করেন মৈমনসিংহ গীতিকার বিভিন্ন পালা, যা লোকসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ হিসেবে পরিগণিত। বাংলা লোকসাহিত্যের একটি অংশ হলো বাউলগান । বাউলগান মূলত বাউল সম্প্রদায়ের রচিত ও গীত গান। বাউলেরা উদার ও অসাম্প্রদায়িক সাধক। তাঁরা মানবতার বাণী প্রচার করেন। বাউলগানে বৈষ্ণবধর্ম এবং সুফিবাদের প্রভাব লক্ষ করা যায়। লালন ফকির অনুসারী বাউল ও ভাটি অঞ্চলের বাউলদের মধ্যে স্পষ্টতই কিছু ভিন্নতা আছে ৷ প্রকৃতপক্ষে লালন সাঁইজির অনুসারীরা ধর্মে বাউল। তাঁরা স্বতন্ত্র একটা দর্শন লালন করেন। সাঁইজির পদ ছাড়া নতুন কোনো পদ রচনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না, সাঁইজির পদই গেয়ে যান পরম্পরায় তাঁরা সাধারণত সংসারী নয় । অপরদিকে ভাটির বাউলরা গুরুর পদ যেমন গায়, সেই সঙ্গে নিজেরাও নতুন পদ সৃষ্টিতে সচেষ্ট হন । সংসার এবং গান চলে সমান্তরালভাবে। বাউলগান বৃহত্তর ময়মনসিংহ, সিলেট তথা সমগ্র বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। বৃহত্তর ময়মনসিংহে বাউলগানকে ‘বাউলা’ গান বলে। এখানে হাওরের লিলুয়া বাতাস এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানুষের মনকে উদাস করে। একসময় এখানকার মানুষের গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ ছিল, সবমিলিয়ে অভাব-অনটন তাঁদের স্পর্শ করতে পারেনি। সারাদিন পরিশ্রম করে সন্ধ্যায় তাঁরা গান-বাজনা নিয়ে মেতে উঠত। আসলে এখানকার প্রকৃতি মানুষকে ভাবুক হিসেবে তৈরি করে। তাইতো এ অঞ্চলে অনেক কবি সাহিত্যিকের জন্ম।

ভাটিবাংলার লোকগানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন বাউলকবি রশিদ উদ্দিন। নেত্রকোণা শহরের উপকণ্ঠে বাহিরচাপড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বাউলকবি রশিদ উদ্দিন। বড় ভাই এন্ট্রান্স পাস করে কেরানির চাকরি

দিয়ে জীবন শুরু করলেও রশিদ উদ্দিন ছিলেন উদাসীন প্রকৃতির মানুষ, স্কুল তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি, বড় ভাইয়ের নিকট প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করলেও তাঁর আর লেখাপড়া হয়ে উঠেনি ।

১৯৩৩ সালের ডিসেম্বর মাসে নেত্রকোণা শহরের গরহাট্টায় প্রথম তত্ত্বভিত্তিক এবং তর্কভিত্তিক মালজোড়া বাউলগানের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এর আগে বাউলগান বৈঠকি আসরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কালক্রমে সেই তত্ত্বভিত্তিক এবং প্রশ্নোত্তরভিত্তিক বাউলগানের নামই মালজোড়া গান হিসেবে প্রচলন করেন বাউলকবি রশিদ উদ্দিন । যার জন্য বাউল রশিদ উদ্দিনকে মালজোড়া গানের প্রবর্তক বলা হয়। রশিদ উদ্দিনের জীবন ছিল বড়োই বিচিত্র। গানই তাঁর একমাত্র সাধনা ছিল। তিনি একসময় সৃষ্টিরহস্য খুঁজতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে চলে যান শারফিনের মাজারে। তাঁর প্রধান শিষ্য ছিলেন আরেক কিংবদন্তি লোককবি জালাল উদ্দীন খাঁ। তিনি তাঁকে শারফিনের মাজার থেকে ফানাফিল্লা অবস্থায় আবিষ্কার করেন। রশিদ উদ্দিন ততদিনে মানবদেহ, প্রকৃতি, সৃষ্টিরহস্য, গুরুসাধন, নিগূঢ়তত্ত্ব, আত্মা-পরমাত্মা চিন্তায় পাগলপ্রায় । জালাল খাঁ তাঁকে সঙ্গে নিয়ে বালুয়াখালী ফিরে আসেন । সেই সময় তিনি ভাত না খেয়ে শুধু দুধ ও রুটি খেতেন। হঠাৎ একদিন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী থেকে আগত এক ল্যাংটা ফকিরের আবির্ভাব ঘটে এবং ১৯০৯ সালে তিনি তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তাঁর মধ্যে ভীষণ পরিবর্তন দেখা যায় । তিনি নিয়মিত গানের আসর বসাতেন । তাঁর শিষ্যদের মধ্যে উপস্থিত থাকতেন সিংহেরগাঁওয়ের জালাল খাঁ, তেলসিন্দুরের অন্ধ তৈয়ব আলী, অভয়পাশার মিরাজ আলী, বুড়িজুরির আলী হোসেন সরকার, কেন্দুয়ার মজিদ তালুকদার, সিলেটের শাহ আবদুল করিম এবং সহযোগী হিসেবে থাকতেন খালিয়াজুরির বাউলসাধক উকিল মুনশি । এঁরা প্রত্যেকে প্রথিতযশা বাউলকবি ।

শহরের মানুষ রশিদ উদ্দিনের ‘এই যে দুনিয়া কিসের লাগিয়া, এত যত্নে গড়িয়াছ সাঁই’ শিল্পী আব্দুল আলীমের দরাজ কণ্ঠে গানটি অনেকবার রেডিওতে শুনেছে, কিন্তু পরিতাপের বিষয় গীতিকার হিসেবে রশিদ উদ্দিনের নাম উল্লেখ সেখানে করা হয়নি। এটার একটা কারণ হয়তো হতে পারে, রশিদ উদ্দিন রেডিওতে তালিকাভুক্ত গীতিকার ছিলেন না, যার ফলে তাঁর নামটি বলা সম্ভব হয়নি। কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হুমায়ূন আহমেদ তাঁর ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে ‘মানুষ ধর মানুষ

ভজ/ শুন বলিরে পাগল মন’ গানটি ব্যবহার করেন। ১৯৯৯ সালে গানটির জন্য শ্রেষ্ঠ গীতিকার (মরণোত্তর) হিসেবে পুরস্কার পান রশিদ উদ্দিন । তারপর থেকে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর গান আগ্রহের সৃষ্টি করে। বাউল রশিদ উদ্দিন ছিলেন আত্মভোলা মানুষ। তাঁর গান বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গায়ক ভণিতায় তাঁদের নিজের নাম দিয়ে বির্তকের সৃষ্টি করেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম তাঁরই এক ছাত্র আব্দুল মজিদ তালুকদার। যা তাঁর মর্মবেদনার কারণ হয়। শেষে বাধ্য হয়ে তিনি লোকসাহিত্যের আরেক দিকপাল কবি রওশন ইজদানী সাহেবকে পত্র লিখে প্রতিবাদ জানান । এর প্রেক্ষিতে কবি রওশন ইজদানী মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায় ১৩৬২ বাংলা সনের আশ্বিন সংখ্যায় ‘বাউল সাধক রশিদ উদ্দিন’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লেখেন। প্রবন্ধে তিনি বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে তাঁর গান আরও বেশি হারিয়ে যেতে শুরু করে। কেউ কেউ নিজের নামে অথবা অনেকেই না জেনে অন্য সাধকের গান হিসেবে অদ্যাবধি গেয়ে চলছেন। বিষয়টি আমাকে ভীষণ পীড়া দেয়। ভাবতে অবাক লাগে, ঢাকা ফোকফেস্টের মতো একটি বিশাল আয়োজনে দেওয়ান আব্দুল হাই যখন বাউল রশিদ উদ্দিনের অত্যন্ত জনপ্রিয় গান “মাগো মা ঝি গো ঝি করলাম কি রঙ্গে/ ভাঙা নৌকা বাইতে আইলাম গাঙে’ পরিবেশন করেন, গানের ভণিতায় রশিদ উদ্দিনের নামের পরিবর্তে খালেক দেওয়ানের নাম উল্লেখ করেন, তখন প্রতিবাদ করতে না পারায় নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়েছিল। তারপর থেকে তাঁর গান নিয়ে একটি সমগ্র প্রকাশ করার তাগিদ অনুভব করি ।

বাউলকবি রশিদ উদ্দিনের জীবদ্দশায় একটি মাত্র বই স্বররাজ লহরী নামে ১৯২৯ সালে প্রথমবার এবং ১৯৩১ সালে পুনরায় দ্বিতীয় সংস্করণ হিসেবে নেত্রকোণা শহরের কালীবাবুর মালিকানাধীন রমা প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। সেই স্বররাজ লহরী বইটি আমি নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ, বৃহত্তর সিলেট এবং পশ্চিমবঙ্গের অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছি। বইটি পাওয়া গেলে অনেক সমস্যার সমাধান হতো। ভবিষ্যতে বইটি পাওয়া গেলে কিংবা কোনো গান বাদ পড়লে পরবর্তী সংস্করণে প্রকাশের ইচ্ছে আছে। রশিদ উদ্দিনের বাড়িতে তাঁর যে পাণ্ডুলিপি রয়েছে, সেখান থেকে অনেক গান উদ্ধার করা কঠিন ব্যাপার ছিল আমার জন্য।

এ বইটি প্রকাশে যেসব বইয়ের সহযোগিতা নিয়েছি, এর মধ্যে রয়েছে মরহুম গোলাম এরশাদুর রহমানের নেত্রকোণার বাউলগীতি, আবু দায়েনের বাউল সাধক উস্তাদ রশিদ উদ্দিন ও তার গান এবং অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার রশিদ গীতিকা। সংশ্লিষ্ট বইগুলোর সম্পাদকদের প্রতি এ সুযোগে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা রইল বর্তমান বাউল জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র বাবু সুনীল কর্মকারের প্রতি, তিনি ভীষণ ব্যস্ততার মধ্যেও আমাকে বাউলতত্ত্ব এবং গানের শুদ্ধ শব্দচয়নে সহযোগিতা করে ঋণী করেছেন। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি কবি তানভীর জাহান চৌধুরী, রশিদ উদ্দিনের কনিষ্ঠ পুত্র আবু আনসার কালা মিয়া, প্রবীণ বাউল কিতাব আলী, রহমান বয়াতি, বাউল আব্দুল হালিম খান, আব্দুস সালাম, মোঃ সোহেল মিয়া, আতাউর রহমান বাচ্চু, বাউল সবুজ মিয়া, বাউল ফকির চান, সাজ্জাদ মানিক। এঁরা এই বিশাল কর্মযজ্ঞে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। পরিশেষে বলব, বইটি নতুন প্রজন্মের কাছে বাউলকবি রশিদ উদ্দিনের গান শুদ্ধভাবে এবং তাঁর সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে সাহায্য করলেই আমার প্রচেষ্টা সার্থক হবে।

সাইফুল ইসলাম শাহীন
ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০২০

Book Content

বাউল রশিদ উদ্দিনের গান
বাউলকবি রশিদ উদ্দিন জীবনপঞ্জি
বাউলকবি রশিদ উদ্দিন এবং তার শিষ্যরা

ভাগবত পুরাণ (সংস্কৃত)

শোধ - শিবব্ৰত বৰ্মন  

শোধ – শিবব্রত বৰ্মন  

দিমেন্তিয়া - এম জে বাবু

দিমেন্তিয়া – এম. জে. বাবু

গীতিগুচ্ছ – সুকান্ত ভট্টাচার্য

Reader Interactions

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক

সিরিজ

বইয়ের ধরণ

বাংলা ডিকশনারি

বাংলা জোক্স

বাংলা লিরিক্স

বাংলা রেসিপি

বিবিধ রচনা

বাংলা হেলথ টিপস

Download PDF


My Account

Facebook

top↑

Login
Accessing this book requires a login. Please enter your credentials below!

Continue with Google
Lost Your Password?
এভারগ্রিন বাংলা লোগো
Register
Don't have an account? Register one!
Register an Account

Continue with Google

Registration confirmation will be emailed to you.