বাংলা ভাষায় সমাজবিদ্যাচর্চা : নৃতত্ত্ব ও সমাজতত্ত্ব ভাবনার ইতিবৃত্ত – প্রদীপ বসু
বাংলা ভাষায় সমাজবিদ্যাচর্চা : নৃতত্ত্ব ও সমাজতত্ত্ব ভাবনার ইতিবৃত্ত – প্রদীপ বসু
BANGLA BHASAY SAMAJVIDYACHARCHA
(A Collection of Essays on Anthropology and Sociology)
by Pradip Basu
প্রচ্ছদ : চন্দন বসুচন্দন বসু
প্রথম প্রকাশ : জুলাই ২০১১
প্রকাশক : দেবজ্যোতি দত্ত, শিশু সাহিত্য সংসদ প্রা. লি.
.
রাঘব-কে
.
বাঙালি সমাজতাত্ত্বিক ও নৃতাত্ত্বিকরা তাঁদের অনেক রচনাই বাংলা ভাষায় লিখতেন যাতে শুধু বিশেষজ্ঞরাই নন, সাধারণ মানুষও এইসব বিষয়ে আগ্রহী হন৷ কিন্তু বাংলা ভাষায় তাঁদের লেখার শৈলী, ভাষার প্রয়োগ, বিষয় নির্বাচন ইত্যাদির উপর কখনোই সেভাবে মনোযোগ দেওয়া হয়নি৷ কীভাবে এইসব রচনা মূলধারার ইংরেজি রচনা থেকে পৃথক সে-বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে কোনো গবেষণা হয়নি৷ এই বইটিতে তথ্য, ইতিহাস ও বাংলা ভাষায় জ্ঞানচর্চার অনুসন্ধানের মাধ্যমে সেই কাজই সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করেছেন লেখক৷ এই প্রসঙ্গে তিনি আলোচনা করেছেন ভূদেব মুখোপাধ্যায়, বিনয়কুমার সরকার, নির্মলকুমার বসু, ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, বিনয় ঘোষ এবং আরও অনেকের রচনা৷ এর ফলে শুধু ছাত্র-ছাত্রীরা নয়, শিক্ষক-শিক্ষিকারাও যে এ-বিষয়ে একটা অভাব অনুভব করেন, বইটি তাঁদের সেই অভাবপূরণ করতে সফল হবে৷ উৎসাহী সাধারণ পাঠকদের কাছেও বইটি সমানভাবে সমাদৃত হবে এই আশা রাখি৷
দেবজ্যোতি দত্ত
১ জানুয়ারি ২০২০
.
বাঙালি নৃতাত্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিকরা যেমন ইংরেজি ভাষায় লিখেছেন তেমনি বাংলা ভাষায়ও লিখেছেন৷ কিন্তু মূলস্রোতের ভারতীয় সমাজবিদ্যার বৃত্তান্তে, তা তত্ত্বমূলক বা বিবরণমূলক যাই হোক না কেন, তাঁদের বাংলা রচনাগুলি অন্তর্ভুক্ত হয়নি৷ যেহেতু এই ধরনের বই সাধারণত ইংরেজি ভাষায় সর্বভারতীয় পাঠক ও ছাত্র-ছাত্রীর জন্য লেখা হয়েছে এবং বেশিরভাগ লেখকই বাঙালি নন, তাই এই বর্জনের কারণ বোঝা যায়৷ কিন্তু এর ফলে ভারতের সমাজবিদ্যার ইতিহাস কখনোই পূর্ণতা পায়নি৷ সেইজন্য এই গ্রন্থের মূল কেন্দ্রস্থল হল বাংলা ভাষায় নৃতত্ত্ব ও সমাজতত্ত্ব চর্চা৷ কিন্তু লেখক বাংলা ভাষায় যা লিখেছেন তা অনেক সময় আরও স্পষ্ট করে বোঝাতে সেই লেখকেরই ইংরেজি রচনার সাহায্যে নিতে হয়েছে, ফলস্বরূপ লেখকের চিন্তাভাবনার এক সামগ্রিক রূপ প্রকাশ পেয়েছে৷
বাংলা ভাষায় সমাজবিদ্যা রচনা নিয়ে আগ্রহের এক গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক কারণও আছে৷ যেহেতু যেকোনো তত্ত্ব রচনা বা ডিসকোর্স ভাষার উপর নির্ভর, তাই সমাজবিদ্যার ক্ষেত্রেও ভাষার শক্তি বা সীমাবদ্ধতার এক জোরালো প্রভাব দেখি রচনার উপর৷ অন্যদিকে লেখক যখন ইংরেজিতে লেখেন তখন তিনি পেশাদারি অ্যাকাডেমিক ও জার্নালের জন্য লেখেন৷ কিন্তু বাংলায় লেখেন সাধারণ শিক্ষিত পাঠকদের জন্য, বিশেষজ্ঞদের জন্য নয়৷ যার ফলে বাংলা লেখার আঙ্গিক, তত্ত্বমূলক গঠন, প্রকাশভঙ্গি সম্পূর্ণ অন্যরকম হয়৷ যে কারণে সমাজবিদ্যার আকৃতি গড়ে ওঠে অন্যরকমভাবে৷ এই গ্রন্থে বাংলা ভাষায় সমাজবিদ্যা চর্চার মাধ্যমে সেই আকৃতিরই অনুসন্ধান করার চেষ্টা করেছি৷
নতুন সংস্করণে একটি নতুন বড়ো অধ্যায় যোগ করেছি, যা আগের সংস্করণে ছিল না৷ এই অধ্যায়টি হল ‘সমাজতত্ত্ব ও বঙ্গীয় সমাজবিজ্ঞান পরিষদ : বিনয়কুমার সরকার’, সঙ্গে যোগ হয়েছে বিনয়কুমারের সংক্ষিপ্ত জীবনী ও রচনাপঞ্জি৷ যদিও বিনয়কুমারের রাজনৈতিক ঝোঁক নিয়ে বিতর্ক আছে কিন্তু বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই৷ এই দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি ১৯৩৭ সালে ‘বঙ্গীয় সমাজবিজ্ঞান পরিষদ’ প্রতিষ্ঠা করেন৷ এই অধ্যায়ে বিনয়কুমারের সমাজতত্ত্বের পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিষদের কাজকর্মের সংক্ষিপ্ত বিবরণও উপস্থিত করেছি৷ পূর্বতন সংস্করণে বিনয়কুমারের অনুপস্থিতি বইটিতে একটা বড়ো ফাঁক সৃষ্টি করেছিল, নতুন সংস্করণে এই অধ্যায়ের মাধ্যমে সেই শূন্যস্থান পূরণ করার চেষ্টা করেছি৷
বইটির প্রথম সংস্করণ যে পাঠকের সমাদর লাভ করেছে এবং শেষ হয়ে গেছে এটা নিশ্চয়ই আনন্দের সংবাদ৷ এই পরিবর্ধিত সংস্করণে ছোটোখাটো নানা ভুলত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে, সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী ও রচনাপঞ্জি যোগ করা হয়েছে ও নানাবিধ পরিবর্তন সাধন করা হয়েছে৷ আশাকরি এই নতুন সংস্করণটিও একইভাবে সমাদৃত হবে৷
প্রদীপ বসু
১ বৈশাখ ১৪২৬


Leave a Reply