বঙ্গভাষার ইতিহাস (প্রথম ভাগ) – মহেন্দ্ৰনাথ চট্টোপাধ্যায়
বঙ্গভাষার ইতিহাস প্রথম ভাগ
প্রণেতা – শ্রী মহেন্দ্ৰনাথ চট্টোপাধ্যায়
গুপ্তযন্ত্র
কলিকাতা—২৪ মির্জ্জাফর্শ লেন
সম্বৎ ১৯২৮, জ্যৈষ্ঠ।
প্রায় এক বৎসর অতীত হইল, “বঙ্গ ভাষার ইতিহাস” নামক একটী প্রবন্ধ জ্ঞানদীপিকা সভার দ্বিতীয় বাৎসরিক অধিবেশন সময়ে মৎকর্ত্তৃক পঠিত হইয়াছিল। নানা কারণ বশতঃ এত দিন ইহা মুদ্রাঙ্কন করিতে সক্ষম হই নাই। এক্ষণে কতিপয় বন্ধুর উৎসাহে তাহার অনেক স্থান পরিবর্ত্তন ও সংযোজন পূর্ব্বক, সাধারণ সমক্ষে প্রচার করিলাম। মাদৃশ ব্যক্তির পক্ষে ইহা অত্যন্ত দুঃসাহসের কার্য্য হইয়াছে সন্দেহ নাই। কারণ ইতিহাস রচনা করা কতদূর ক্ষমতার আবশ্যক, তাহা বোদ্ধা মাত্রেই অবগত আছেন। সেই ক্ষমতার শতাংশের একাংশও এ গ্রন্থরচয়িতার আছে কি না সন্দেহ। বিশেষতঃ বাঙ্গালাদেশের ইতিবৃত্ত অত্যন্ত অস্পষ্ট। যেদেশের ইতিবৃত্ত অত্যন্ত অপরিজ্ঞেয়, সেই দেশ-প্রচলিত ভাষার আদিম বিবরণ তদপেক্ষা অধিক দুষ্প্রাপ্য, তদ্বিষয়ে বাক্য ব্যয় অনাবশ্যক। বহু অনুসন্ধান দ্বারা এই ক্ষুদ্র পুস্তকে বঙ্গভাষার ইতিহাসঘটিত কয়েকটী কথা লিখিত হইল। যশোলাভ বা অর্থোপার্জ্জনার্থ ইহা রচিত হয় নাই, ইহার দ্বারা বঙ্গ-সাহিত্যসমাজের কিঞ্চিন্মাত্র উপকার হইলেই আমার উদ্দেশ্য সাধিত হইবে। সাধ্যপক্ষে ইহা সাধারণের পাঠোপযোগী করিতে ত্রুটি করি নাই, তথাচ ইহাতে যেসকল ভ্রম রহিল, তাহা সজ্জনমণ্ডলীর উদার স্বভাবের উপর নির্ভর করিয়া নিশ্চিন্ত রহিলাম। অবশেষে সকৃতজ্ঞ হৃদয়ে প্রকাশ করিতেছি, প্রণয়াস্পদ বাবু প্রাণকৃষ্ণ দত্ত মহাশয় আমাকে বিশেষ প্রোৎসাহিত করিয়াছেন। বস্তুতঃ ইনি অংগ্রহ প্রকাশ না করিলে, আমি এই পুস্তক প্রচার করিতাম কি না সন্দেহ।
শ্রী মহেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়।
কলিকাতা, কুমারটুলি
১৯ নং জয়মিত্রঘাট লেন
সম্বৎ ১৯২৮, জ্যৈষ্ঠ।
এই পুস্তক রচনা সময়ে নিম্ন লিখিত ইংরাজী ও বাঙ্গালা পুস্তক ও পত্রের সাহায্য প্রাপ্ত হইয়াছিঃ—
Calcutta Review, Westminster Review, কবিচরিত এবং বিবিধার্থ সংগ্রহ।
.
(বইটি বইবিন্দুর সৌজন্যে দেয়া হল)




Leave a Reply